[এ লেখাটি ‘ফররুখ একাডেমী’ (অধুনা ফররুখ গবেষণা ফাউন্ডেশন) আয়োজিত ১৬.০৪.২০০৭ তারিখের উদ্বোধনী সেমিনারে একমাত্র প্রবন্ধ হিসাবে পঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সংগঠনের পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফাউন্ডেশন সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে পঠিত বর্তমান প্রবন্ধটির উপর আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট গবেষক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর ফজলুল হক সৈকত, অধ্যাপক মুহাম্মদ মুজিবুল হক, এডভোকেট কে.এম. আশরাফ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন শামীম, অধ্যাপক আনিস রেজা এবং সভাপতি মুহম্মদ মতিউর রহমান। বিজ্ঞ আলোচকবৃন্দদের সূনিন্তিত মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে প্রবন্ধটি পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত।]

প্রারম্ভিকা :
শিল্প হচ্ছে মানুষের মানসলোকের সৌন্দর্য চেতনার বোধ ও অনুভূতিজাত বহিঃপ্রকাশ। আর সে নান্দনিকতার উত্তম এক মাধ্যম হচ্ছে কবিতা। কাব্যের রূপারূপে কবিরা আপন অন্তর্লোকের বিশ্বাস, ভাব-কল্পনারই নিবিড় উৎসারণ ঘটিয়ে থাকেন। তাঁর সে বিশ্বাসবোধ শব্দের গাঁথুনিতে, বিন্যাসে শিল্পমন্ডিত করে যখন বলা বা লেখায় প্রকাশ করেন, তখনই তা কবিতা হয়ে উঠে। যিনি বা যাঁরা প্রকৃত কবি, তাঁরা আপন অন্তরে জনলোকের স্পন্দন শুনতে পান। সে জনপদ-জনতার বোধ-বিশ্বাস, দৈন্যতা-সমৃদ্ধি, সমাজ-সংকট, আনন্দ-বেদনার বিশ্বস্ত দলিল হয়ে উঠে তাঁর সৃষ্টিসম্ভার। তখন তিনি কালের হয়েও হয়ে উঠেন কালান্তরের সেরা সম্পদ। ফররুখ আহমদ ছিলেন তেমনি এক বড় মাপের কবি।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান মৌলিক প্রতিভাধর কবি হিসেবে তিনি ছিলেন আপন মহিমায় ভাস্বর। যাঁর সৃষ্টির জগৎ জুড়ে রয়েছে জনলোক থেকে ভাবলোকে বিচরণজাত অন্তর্দর্শন; রয়েছে মরলোক থেকে অমরলোকের যাত্রা-অভিসার। অসীমালোকের আলোকের সন্ধান তিনি পেয়েছিলেন। যে আলোর পরশে স্নাত হয়ে তিনি মানুষকে, মানবসমাজকে আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছিলেন। মানবতার বিপর্যয়, মানবাত্মার ক্রন্দন তাঁকে পীড়িত করেছে, মানুষের নীচতা-হীনতা তাঁকে ব্যথিত করেছে। তারপরও মানুষের প্রতি তাঁর বিশ্বাস অবলুপ্ত হয়নি। তিনি স্বপ্ন দেখেছেন সুন্দরের, সমৃদ্ধির, মুক্তির। কবির সে সুন্দরের তৃষ্ণা, মানবতার সুপ্রতিষ্ঠার কামনা, জড়ত্বের দাসত্ব থেকে মুক্তির আকুতিই শব্দ-ছন্দের গাঁথুনিতে কবিতার শিল্পরূপে হাজির হয়েছিল পাঠক সমীপে। তিনি আপন নিবিষ্টতায় লিখে গেছেন- কাব্য, অনুবাদ কাব্য, কাব্য-নাট্য, মহাকাব্য, শিশু-কাব্য, শিশু-সাহিত্য, তীর্যক সাহিত্য, হামদ্-না’ত, গল্প, কথিকা, প্রবন্ধ ইত্যাদি।
কবি ফররুখ আহমদ একটি স্বাতন্ত্র্যিক পরিচয়ধারার নাম। তিনি স্বয়ং নির্মাণ করেছেন তাঁর সে পরিচয়ের আলোকিত আদল। যে আদলে নিত্য খেলা করেছে বিশ্বাসের স্বর্গীয় জ্যোতি। যদিও দারিদ্র্যের দুঃসহ দাহ তাঁকে দগ্ধ করেছে অহরহ; তবুও তাঁর বিশ্বাসের অবিচলতায় কোন আবিলতা ধরাতে পারে নি। বিত্তের দৈন্যতা তাঁর চিত্তের বৈভবকে ম্লান করতে পারে নি এতটুকু। ম্লান যে করতে পারে নি তা তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ থেকে জীবন ও কর্মজীবনের ক্যানভাস জুড়ে বাস্তবতায় ঋদ্ধ, প্রত্যক্ষিত।
জাতীয় চেতনার স্থবির, ভোঁতা অস্তিত্বে যিনি জাগরণের স্পন্দন তুলেছিলেন, রক্তকণিকায় জাগিয়েছিলেন আপন পরিচয়ের নবশিহরণ, তাঁর নাম ফররুখ। নবভূগোলের স্বতন্ত্র-পরিচয় বাংলার সাহিত্যাঙ্গনে যেখানে নানামুখী মতাদর্শ, চিন্তাস্রোত বিভ্রম উপত্যকায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, তিনি সেখানে প্রবল শক্তিমত্তা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন, শেকড়ঘনিষ্ঠ প্রকৃত পরিচয়ের শিল্পের আয়ুধ নিয়ে। ছদ্মবেশী সুবিধাবাদের বেড়াজাল থেকে স্বকীয়সত্তার বিপন্ন পরিচয় উদ্ধারে তিনি প্রবল বলিষ্ঠতা নিয়ে এগিয়ে আসেন। তাঁর এই স্বাতন্ত্র্যিক বোধ, বিশ্বাস, বিনির্মাণ-প্রয়াসের কারণেই একদার অনেক নিকটজনই হয়েছেন পর কিংবা নীরব প্রতিপক্ষ। পক্ষান্তরে তাঁর অজান্তেই সৃষ্টি হয়েছে সমকালীন কিংবা উত্তরপ্রজ ভক্তকুলও। তাই বাল্য, বিকাশ, যৌবন, মধ্যবেলা, পরিণত ও পরিণতিকালেও এ বাস্তবতা তাঁকে ও তাঁর সৃষ্টিকে মিশ্রতায় বরণ বা বর্জন প্রয়াস লক্ষণীয়। তবুও সত্য এই যে, তাঁর ব্যক্তিসত্তা ও সৃষ্টিসত্তার শক্তিমত্তার কাছে সুকৌশল উপেক্ষাকারদের অসৎ অশুভ মনোবৃত্তি হার মানতে বাধ্য হচ্ছে। ফররুখ চর্চায় আগ্রহ, অনুশীলনের বাস্তবতা তাঁর সৃষ্টিলগ্ন থেকে মহাপ্রায়ণিক উত্তরকালেও সক্রিয়, সরব ও সজীবতায় ক্রমসঞ্চরমান। এখানেই ফররুখ ও ফররুখ-সৃষ্টির বিশেষ্যত্ব।

ব্যক্তিপর্যায়ে ফররুখ-চর্চা :
বিভিন্নজনের লেখায়, বর্ণনায়, স্মৃতিকথায় ফররুখের ব্যক্তিসত্তা, মানসলোক তথা ভাবলোক, তাঁর শিল্পের জগত তথা সৃষ্টির ভুবন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ফররুখের বাল্য-কৈশোরক টুকরো চর্চায় যাঁদের নাম পাওয়া যায়, তাঁদের মধ্যে কবির বড় ভাই সৈয়দ সিদ্দিক আহমদ, অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়, খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান অন্যতম। কবির অগ্রজের লেখায় তাঁদের গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কবির প্রথম স্কুল গমন ও পাঠ গ্রহণ বিষয়ে জানা যায়।১ পরবর্তীকালে কলকাতার মডেল স্কুল, বালিগঞ্জ হাইস্কুলে ভর্তি ও সেখানে পাঠ অসমাপ্ত রেখে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার কথা ঐ একই লেখা থেকে জানা যায়। সত্যজিৎ রায়ের ‘যখন ছোট ছিলাম’ গ্রন্থে বালিগঞ্জ হাইস্কুলে অধ্যয়নরত সহপাঠী ফররুখের রসবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।২ কামরুল হাসানের অভিজ্ঞতায় জানা যায়, কলকাতার মডেল এম.ই হাইস্কুলে ১৯৩০ সনে তিনি শিশু শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে উপরের শ্রেণীর ছাত্রবন্ধু হিসাবে পেয়েছিলেন ফররুখ আহমদকে। আর এ সময়ই ফররুখের কাব্যপ্রতিভার অনুশীলন পর্ব চলছিল। কবি খুলনা জেলা স্কুলে পড়াকালীন বিষয় জানা যায় তাঁর শিক্ষক আবুল হাশেমের লেখায়।৩ এরপর কলকাতা রিপন কলেজে পড়াকালীন সহপাঠী হিসাবে ফতেহ লোহানী, সুভাষ মুখোপাধ্যায় এবং আবারো সত্যজিৎকে পান। এঁদের মাঝে একটু বেশিই ঘনিষ্ঠতা ছিল সুভাষের সাথে, যা তাঁর ‘আমার বন্ধু ফররুখ’ শীর্ষক স্মৃতিচারণমূলক লেখায় জানা যায়।৪

পত্র-পত্রিকায় ফররুখ চর্চা :
ফররুখের সাহিত্যচর্চা এবং ফররুখ বিষয়ক চর্চায় পত্র-পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য। মুহম্মদ হাবীবুল্লাহ বাহার ও বেগম শামসুন্নাহার মাহমুদ সম্পাদিত ‘বুলবুল’ পত্রিকার শ্রাবণ ১৩৪৪ সংখ্যায় (১৯৩৭ খৃস্টাব্দ) ফররুখের ‘রাত্রি’ নামক সনেট কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সনে। এ গ্রন্থ প্রকাশের সাথে সাথেই তাঁর কবিত্বের স্বাতন্ত্র্য ও শক্তিমত্তা অবিভক্ত বাংলার বোদ্ধামহল অনুধাবন করতে পারলেন। অবশ্য এ গ্রন্থ প্রকাশের আগেই প্রাজ্ঞসমাজ তাঁর কবিত্ব শক্তির কিছুটা পরিচয় পেয়েছিলেন। এর প্রমাণ পাওয়া যায়, ‘সাত সাগরের মাঝি’ প্রকাশের কিছু আগে কলকাতা বেতারকেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত কবি-গবেষক আবদুল কাদিরের ফররুখ-বিষয়ক প্রথম প্রবন্ধ পাঠে। ফররুখ চর্চায় তাঁরই প্রথম পথিকৃতের মর্যাদা পাপ্য। প্রবন্ধটি পরে ১৩৫৪ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যা ‘সওগাতে’ ‘নবীন কবি ফররুখ আহমদ’ নামে প্রকাশিত হয়। এর কিছুদিন পর কথা-সাহিত্যিক আবু রুশ্দ ১৩৫৮ সনের ‘সওগাত’ ভাদ্র সংখ্যায় ‘আধুনিক কবিতা ও মুসলমান কবিগণ’ প্রবন্ধে ফররুখের কাব্য-প্রতিভা মূল্যায়ণের প্রয়াস পান।৬
চল্লিশের দশকের কবি হিসাবে ফররুখের আত্মপ্রকাশের সাথে সথেই, ঐ একই দশকের গোঁড়ার দিকে তাঁর সম্পর্কে যথেষ্ট আগ্রহ সৃষ্টি হয়। কবি সৈয়দ এমদাদ আলী, শান্তিরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, রবীন্দ্র মজুদার, নরহরি কবিরাজ, কবি আবদুল কাদির ছাড়াও কাজী আবদুল ওদুদ, সাংবাদিক মজিবুর রহমান খাঁ প্রমুখ তাঁর কাব্য-প্রতিভা ও শিল্পীসত্তা নিয়ে বিভিন্ন কাগজে প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা করেন। ‘সাত সাগরের মাঝি’ প্রকাশের এক বছর পর ১৯৪৫ সনে কলকাতা থেকে কবি আবদুল কাদির ও রেজাউল করিমের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘কাব্য-মালঞ্চ’ শীর্ষক কবিতা সংকলনের মুখবন্ধে ফররুখের কবিসত্তা নিয়ে মূল্যবান আলোচনা করেন। মাসিক ‘সওগাতে’ ১৩৫২ সনের বৈশাখ সংখ্যায় বসুধা চক্রবর্তী এবং ঐ একই সনে মাসিক ‘মোহাম্মদী’র জৈষ্ঠ্য সংখ্যায় ফররুখের ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যের মূল্যায়নধর্মী রচনা প্রকাশ করেন।
‘সাত সাগরের মাঝি’র দু’বছর পর ১৯৪৬ সনে প্রকাশিত হয় কবির দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘আজাদ করো পাকিস্তান’। এরপর দেশবিভাগোত্তর পূর্বাংশের রাজধানী ঢাকা থেকে ১৯৫২ সনে প্রকাশিত হয় তাঁর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘সিরাজাম মুনীরা’। ‘সাত সাগরের মাঝি’র রোমান্টিসিজমের রূপ-রস-গন্ধ ইতিহাস নিরিখে জারিত হয়ে এ কাব্যে উৎসারিত হয়। একে কেন্দ্র করেও ফররুখের সৃষ্টির মানসলোক বিশ্লেষণে এগিয়ে আসেন নবভৌগোলিক প্রেক্ষাপটের নতুন বার্তাবাহকেরা। একই সনে ‘সাত সাগরের মাঝি’র দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশিত হলে বিশিষ্ট দার্শনিক, গবেষক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ‘দ্যুতি’ নামক সাময়িকপত্রে লিখেন ‘বাংলা কাব্যে ফররুখ আহমদ।’
এরপর ১৯৫৩ সনে দৈনিক মিল্লাতের সাময়িকী পাতায় কবি শামসুর রাহমান লেখেন- ‘একজন আধুনিক কবি প্রসঙ্গে’ এবং মাসিক সওগাতে ‘পূর্ব বাংলার কবিতার ভবিষ্যৎ’ প্রবন্ধময়। উভয়টিতে ফররুখের কাব্য-প্রতিভা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ১৯৫৪ সনে সাপ্তাহিক কাফেলা পত্রিকার বিশেষ কবিতা সংখ্যায় কবি ফজল শাহাবুদ্দিন ও আবু হেনা মোস্তফা কামাল ‘পূর্ব বাংলার সাম্প্রতিক কবিতা’ শিরোনামায় পৃথক নিবন্ধে ফররুখের কাব্যকৃতি ও স্বাতন্ত্র্য কবিসত্তা বিষয়ে আলোকপাত করেন।৭ এরপর ১৯৬১ সনে ‘নৌফেল ও হাতেম’ কাব্যনাট্য এবং ১৯৬৩ সনে ‘মুহূর্তের কবিতা’ প্রকাশিত হলে ফররুখের প্রতি কাব্যামোদী সুধী সমাজের আরো ব্যাপক অংশের দৃষ্টি নিবন্ধ হয়। এদের মাঝে অন্যতম হলেন- মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আবদুল হাফিজ, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ। ফররুখের প্রকাশিত গ্রন্থের সমালোচনা ও মূল্যায়নধর্মী লেখাগুলো প্রকাশিত হয় মাহে নও, পূবালী, পরিক্রম, পাকিস্তানী খবর, সমকাল প্রভৃতি পত্রিকায়।৮
শুধু আলোচনা নয়, কবির বিচিত্র স্বাদের লেখা প্রকাশ করে তাঁকে জনসমক্ষে পরিচিত করে তোলার কাজে আরো অনেক পত্রিকাই অবদান রেখেছে যা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণযোগ্য। সেসব পত্র-পত্রিকার মাঝে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সম্পাদিত ‘সওগাত’, সিকান্দার আবু জাফরের ‘সমকাল’, আফসার উদ্দিন আহমদের (পরে কাজী মোতাহর হোসেন সম্পাদিত) ‘মৃত্তিকা’, মুহম্মদ হাবীবুল্লাহ বাহারের ‘বুলবুল’, আবদুল কাদিরের ‘মাহে নও’, সৈয়দ আলী আশরাফের ‘দিলরুবা’, মোহাম্মদ আকরাম খাঁর ‘দৈনিক আজাদ’, ‘মিল্লাত’, ‘নকীব’, ‘অগত্যা’, ‘মাসিক মোহাম্মদী’, বুদ্ধদেব বসুর ‘কবিতা’, লুৎফর রহমান জুলফিকারের ‘নওজোয়ান’, অজিত দত্তের ‘দিগন্ত’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘দৈনিক নবযুগ’, মোস্তাফিজুর রহমানের ‘মীনার’, কামরুল ইসলাম খানের ‘গুলিস্তাঁ’, সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদারের ‘অরণি’, খায়রুল কবিরের ‘পাক সমাচার’, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ও মুস্তফা নূরুল ইসলামের ‘পূর্বমেঘ’, ‘দৈনিক ইত্তেফাক’, ‘সাপ্তাহিক কৃষক’, সাপ্তাহিক পাকিস্তানী খবর’, জেব-উন-নিসা আহমদের ‘খেলাঘর’, ফারুক মাহমুদের ‘নিরিখ’, মহিউদ্দিন খানের ‘মাসিক মদীনা’, ‘সাপ্তাহিক আজ’, আবদুল গনি হাজারীর ‘মুক্তি’, ‘দ্যুতি’, ‘সাপ্তাহিক সৈনিক’, মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের ‘পূবালী’, আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘নজরুল একাডেমী পত্রিকা’, আবদুল মান্নান তালিবের ‘পৃথিবী’ প্রভৃতি।৯
সত্তর দশকে ঢাকা বেতার থেকে কবির চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে প্রথাবিরোধী তুখোড় লেখক আহমদ ছফা ‘দৈনিক গণকণ্ঠে’ লেখেন ‘ফররুখ আহমদের কী অপরাধ?’ শীর্ষক উপ-সম্পাদকীয়, যা ফররুখ জীবনের বেদনাদায়ক ইতিহাসের এক মর্মস্পর্শী দলিল। উক্ত লেখাটি ‘গণকণ্ঠে’ ১ আষাঢ় ১৩৮০ (১৯৭৩ খৃস্টাব্দ) সংখ্যায় প্রকাশের পর কবিকে বেতারের কাজে পুনর্বহাল করা হয়।১০
অবিচার, অবহেলা, উপেক্ষার হীন মানসজাত নিগ্রহের শিকার হয়ে ১৯৭৪ সনের ১৯ অক্টোবর কবি ফররুখ আহমদ চিরতরে হারিয়ে গেলেন জনলোক থেকে। এবার শোক সংবাদ জানাতে একযোগে সরব হল দেশী-বিদেশী পত্র-পত্রিকা। দৈনিক আজাদ লিখল সম্পাদকীয় ‘পরলোক ফররুখ আহমদ’ দৈনিক বাংলা ‘কাব্যলোকে তিনি মৃত্যুহীন প্রাণ’, দৈনিক সংবাদে ‘লোকন্তরে ফররুখ আহমদ’, দৈনিক গণকণ্ঠ ‘একজন কবির মৃত্যু’, ইধহমষধফবংয ঙাংবৎাবৎ ‘চড়বঃ ঋধৎৎঁশয অযসবফ’, সাপ্তাহিক চিত্রালী ‘জীবন সাগরের সিন্দাবাদ’ ঢাকা ডাইজেস্ট ‘আমাদের কথা’, মাসিক মদিনা ‘আমাদের কথা’ প্রভৃতি শিরোনামে সম্পাদকীয় প্রকাশ করে।১১
এগুলোর মাঝে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের ‘সওগাত’ (কার্তিক ১৩৮১) ও মোহাম্মদ শাকের উল্লাহর ‘ঊষালোকে’ (অক্টোবর ১৯৮৯) ফররুখ স্মরণ সংখ্যা বের করে। এছাড়াও মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী সম্পাদিত ‘মিছিল’ (ডিসেম্বর ১৯৭৪), মারুফী খান বক্সী সম্পাদিত ‘সূর্যসারথি’ (১০ জুন ১৯৭৫), জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী সম্পাদিত ‘পাঞ্জেরী’ (১৯ অক্টোবর ১৯৭৬), বদরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘বিবর্তন’ (অক্টোবর ১৯৮৫), ইসলামিক ফাউন্ডেশন ব্যবস্থিত ও আবদুল গফুর সম্পাদিত ‘অগ্রপথিক’ (১৬ অক্টোবর ১৯৮৬) প্রভৃতি সাময়িকপত্র বিশেষায়িত ফররুখ স্মরণ সংখ্যা বের করে।১২
ফররুখের মৃত্যু পরবর্তীকালে ’৮০ ও ’৯০-র দশকে এবং চলমান একবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভিকে বিভিন্ন দৈনিক ও সাময়িকপত্রেও ফররুখ বিষয়ক বিভিন্ন রচনা প্রকাশ পাচ্ছে। ফররুখ বিশেষায়িত একমাত্র পত্রিকা হিসাবে মুহম্মদ মতিউর রহমান সম্পাদিত ‘ফররুখ একাডেমী পত্রিকা’ নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিককালে জাতীয় পত্র-পত্রিকায় যাঁরা ফররুখ-বিষয়ক প্রবন্ধাদি লিখে চলেছেন, তাঁদের মাঝে মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, আবদুল মান্নান সৈয়দ, শাহাবুদ্দিন আহমদ, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, মুহম্মদ মতিউর রহমান, ডক্টর সদরুদ্দিন আহমদ অন্যতম।

ফররুখ চর্চায় গ্রন্থরূপ :
ফররুখ রচিত অর্ধশতক গ্রন্থের কথা এ পর্যন্ত জানা গেছে। এগুলোর মাঝে পঁচিশটির মতো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলোতে বিষয় হিসাবে রয়েছে কাব্য, কাব্যনাট্য, শিশুসাহিত্য, গান পাঠ্যবই প্রভৃতি। বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রকাশনী ছাড়াও বেশ ক’টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমী, শিশু একাডেমী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ফররুখ একাডেমী (অধুনা ফররুখ রিসার্চ ফাউন্ডেশন) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান। প্রকাশিত গ্রন্থগুলো ছাড়া বাকি গ্রন্থগুলো পান্ডুলিপি আকারে এখনো রয়ে গেছে। অপ্রকাশিত পান্ডুলিপির মাঝে ব্যঙ্গ কবিতা, গান অনুবাদ, সাহিত্য, নাটক, গীতিনাট্য গল্প এবং প্রবন্ধও রয়েছে।
ফররুখের স্বরচিত গ্রন্থাবলী ছাড়াও তাঁর প্রতিভা, কবিকৃতি, সৃষ্টিশৈলীর আনুপুঙ্খ বিশ্লেষণধর্মী বেশ কিছু মূল্যবান গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এসবে তাঁর ব্যক্তিসত্তা ও সৃষ্টিসত্তার সবিস্তার পরিচয় পাওয়া যাবে। সেগুলোর মধ্যে ফররুখ বিষয়াবলির নানা সঙ্গ-অনুষঙ্গ, উপাদানের খোঁজখবর রয়েছে, যা আগ্রহী পাঠককে ফররুখকে নিবিড়ভাবে জানতে বুঝতে সহায়তা করবে।১৩
ফররুখের জীবন ও কৃতি মূল্যায়ণে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বই সুনীলকুমার মুখোপাধ্যায়ের ‘কবি ফররুখ আহমদ (১৯৬৯)।’ গ্রন্থটি কবির জীবদ্দশায়ই প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় গোলাম মঈনুদ্দিনের ‘কবি ফররুখ আহমদ ঃ ঐতিহ্যের নবমূল্যায়ন (১৯৮০)’, শাহাবুদ্দিন আহমদ সম্পাদিত ‘ফররুখ আহমদ : ব্যক্তি ও কবি (১৯৮৪)’, আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘ফররুখ আহমদ (১৯৮৮), একই গ্রন্থাকারের ‘ফররুখ আহমদ জীবন ও সাহিত্য (১৯৯৩)’, অনীক মাহমুদের ‘জীবনের কবি ফররুখ আহমদ (১৯৮৯)’, ‘মুহম্মদ মতিউর রহমানের ‘ফররুখ প্রতিভা (১৯৯১)’, শাহাবুদ্দিন আহমদের ‘কবি ফররুখ আহমদ : তাঁর মানস ও মনীষা (১৯৯৪)’, ‘উপমাশোভিত ফররুখ আহমদ (২০০১)’, ‘মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ (২০০২)’, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহর ‘বাংলা কাব্যে ফররুখ আহমদ : তাঁর শক্তি ও স্বাতন্ত্র্যের স্বরূপ (২০০৩)’, ‘সদরুদ্দিন আহমদের ‘ফররুখের নির্বাচিত কবিতার নিগুঢ় পাঠ (২০০৬)’, মুহাম্মদ জাফর উল্লাহর ‘চিরসংগ্রামী ফররুখ আহমদ’, ‘ছোটদের কবি ফররুখ আহমদ’, শরীফ আবদুল গোফরানের ‘ছোটদের ফররুখ (১৯৯৬)’, আলী ইমামের ‘ফররুখ আহমদ’, আসাদ বিন হাফিজের ‘নাম তার ফররুখ আহমদ (১৯৯৭)’ প্রভৃতি গ্রন্থ। এসব গ্রন্থ ফররুখ চর্চায় যারপরনাই জোরালো ভূমিকা রেখে চলেছে।১৪
এগুলো ছাড়াও বিভিন্ন লেখক-গবেষক তাঁদের সাহিত্য-বিষয়ক গ্রন্থাদিতে ফররুখ প্রসঙ্গ যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে উপস্থাপিত হয়েছে। সেগুলোর মাঝে মুহাম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান সম্পাদিত ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত’ (১৯৬৮), ডক্টর কাজী দীন মুহাম্মদের ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ (১৯৬৮), হাসান হাফিজুর রহমানের ‘আধুনিক কবি ও কবিতা’ (১৯৬৮) আজহার ইসলামের ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস আধুনিক যুগ’ (১৯৬৯), আশরাফ সিদ্দিকীর ‘যা দেখেছি যা পেয়েছি’ (১৯৭৬), আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘করতলে মহাদেশ’ (১৯৮৯), ‘বিবেচনা পনর্বিবেচনা’ (১৯৯৪), রফিকউল্লাহ খানের ‘বাংলাদেশের কবিতা সমবায়ী স্বতন্ত্র স্বর’ (২০০২) প্রভৃতি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করা যায়।১৫

বিদ্যালয়ের পাঠ্যতালিকায় ফররুখ চর্চা :
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নানা ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান। সেগুলোর মাঝে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি অন্যতম। স্কুল পর্যায়ে শিক্ষায় প্রধানত দু’টি স্তর। একটি হচ্ছে প্রাথমিক ও অন্যটি মাধ্যমিক। প্রাথমিক স্তরের প্রথম শ্রেণীতে বাংলাদেশ স্কুল টেক্সট বুক বোর্ড প্রকাশিত ‘আমার বাংলা বই’ প্রথম ভাগে ফররুখ আহমদের ‘ঝুমকো জবা’ কবিতাটি পাঠ্যভুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণীতে পাঠ্য আমার বাংলা বইয়ের দ্বিতীয় ভাগে এ কবির কোন কবিতা পাঠ্য নেই। তৃতীয় শ্রেণীতে পাঠ্য বাংলা বইয়ে কবির ‘বৃষ্টির ছড়া’ লেখাটি পাঠ্য রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠ্য ঐ একই মূলনামের বইয়ের চতুর্থ ভাগে ফররুখের ‘ভাষার গান’ কবিতাটি পাঠ্য রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণীতে পাঠ্য বইটির পঞ্চম ভাগে এ কবির কোন কবিতা নেই।
এবারে আসা যেতে পারে মাধ্যমিক স্তরে। এ স্তরের প্রখম ধাপ ষষ্ঠ শ্রেণীতে বাংলা বই হিসাবে পাঠ্য রয়েছে ‘চারুপাঠ’। এ বইয়ে ফররুখ আহমদের কোন লেখা পাঠ্যভুক্ত নেই। সপ্তম শ্রেণীতে পাঠ্য রয়েছে ‘সপ্তবর্ণ’। এ বইয়ে ফররুখের ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি পাঠ্যভুক্ত আছে। অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বই ‘সাহিত্য কণিকা’য় পাঠ্যসূচীভুক্ত রয়েছে ‘ধানের কবিতা’। আর নবম-দশম শ্রেণীর ‘মাধ্যমিক বাংলা সংকলন কবিতা’য় রয়েছে ‘সাত সাগরের মাঝি’র অংশ বিশেষ।
এবারে আসা যেতে পারে কলেজ পর্যায়ে। কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক স্তর তথা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা সংকলন গ্রন্থে পাঠ্যভুক্ত রয়েছে কবির বিখ্যাত ‘পাঞ্জেরী’ কবিতাটি। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পাস ও সাবসিডিয়ারি পর্যায়ে বাংলা সাহিত্য সংকলনের কবিতা অংশে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ‘সাত সাগরের মাঝি’, ‘ডাহুক’, ‘লাশ’- এ তিনটি কবিতা। এ চিত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা অনার্স ও প্রিলিমিনারী কোর্সের কোন পত্রেই ফররুখ সাহিত্যের ছিটেফোঁটাও নেই।

সাম্প্রতিক ফররুখ চর্চা :
বর্তমানে ফররুখ চর্চায় ঘনিষ্ঠ অবদান রেখে চলেছে ‘ফররুখ একাডেমী’, যা সাম্প্রতিক সময়ে ‘ফররুখ রিসার্চ ফাউন্ডেশনে’ রূপলাভ করেছে। সংগঠনটি এ নতুন নামে বাংলাদেশ সরকারের ‘সোসাইটিজ অ্যাক্টে’র আওতায় ২০০৬ সনের ১৯ ফেব্রুয়ারি নিবন্ধন লাভ করে। সংগঠনের সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক-গবেষক মুহম্মদ মতিউর রহমানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সংগঠনটি ফররুখের জন্ম-মৃত্যু দিবস নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করে যাচ্ছে। সেমিনার, আলোচনা, আবৃত্তি, সংগীত, নিয়মিত সংকলন প্রকাশ- এসব কর্মসূচির অন্যতম।
এ সংগঠন ২০০০ সনের জুন মাস থেকে বছরে দু’টি করে চলতি ২০০৬ সনের অক্টোবর পর্যন্ত ‘ফররুখ একাডেমী পত্রিকা’র মোট ১৩টি সংখ্যা প্রকাশ করেছে। ফররুখ একাডেমী ২০০৪ সনের ২৩ এপ্রিল দেশের বাইরে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ-আমেরিকান ইসলামিক সোসাইটি (বেইজ)-এর উদ্যোগে সেখানে নজরুল-ফররুখ বিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক, গবেষক, ফররুখ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান।১৭
আধুনিক গতিময় বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ফররুখ চর্চাকে আরে সুবিস্তৃত ও বেগবান করার জন্য আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ফররুখ একাডেমীর (বর্তমান ফররুখ-গবেষণা ফাউন্ডেশনের) পৃষ্ঠপোষকতায় ২০০৩ সন থেকে িি.িভধৎৎঁশযধপধফবসু.হবঃ নামে একটি ওয়েব পোর্টাল পরিচালনা করে আসছে। যে কেউ এখানে লগ্ ইন করে ফররুখ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় জানতে পারবে।১৮
এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় ইলেকট্রনিক প্রচার মাধ্যম ও বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে সীমিত পর্যায়ে হলেও ফররুখ দিবসে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ২০০১ সনের ১৯ অক্টোবর কবির মৃত্যু দিবসে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কবির মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ঐ একই বছরের ২১ অক্টোবর বাংলা একাডেমী কবিকৃতির উপর আলোচনার ব্যবস্থা করে। ফররুখ একাডেমীর অনুরোধে ২০০৬ সনেও বাংলা একাডেমী কবির মৃত্যু বার্ষিকীতে আলোচনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এছাড়া, বিটিভি, এনটিভি, আরটিভি প্রভৃতি ইলেকট্রনিক মিডিয়া কবির জš§ দিবসে আলোচনা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে আসছে।
শুধু রাজধানী-নগরীই নয়, মফস্বলীয় এলাকা থেকেও ফররুখ-বিষয়ক নানাবিধ কর্মতৎপরতার খবরও পাওয়া যায়। সেসব স্থানে বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফররুখের জন্ম-মৃত্যু দিবসে বিবিধ রকমের কর্মসূচি পালন এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এর মাঝে উল্লেখ করা যায়, চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্রের কথা। এ সংগঠনটি ফররুখ স্মরণে আলোচনা অনুষ্ঠান এবং সাহিত্য ক্ষেত্রে কৃতি ব্যক্তিদের মাঝে ‘ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করে থাকে। এ পুরস্কার প্রতি দু’বছর পর পর দেয়া হয়। সূচনা থেকে জুন ২০০৪ পর্যন্ত এ সংগঠন ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে ‘ফররুক স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করেছে। তাঁরা হচ্ছেন- কবি-গবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৯১), কবি-গবেষক শাহাবুদ্দিন আহমদ (১৯৯৩), কবি আল মাহমুদ (১৯৯৫), কথাশিল্পী মুহম্মদ শাহেদ আলী (১৯৯৭), কথাশিল্পী আবু রুশ্দ (১৯৯৯), কবি-সমালোচক সৈয়দ আলী আহসান (২০০১), কবি-গবেষক মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ (২০০৪)।১৯
সাংগঠনিক তৎপরতার পাশাপাশি মফস্বলের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং সাময়িকীও ফররুখ-বিষয়ক বিভিন্ন আঙ্গিকের রচনাদি প্রকাশ করে থাকে। সেগুলোর মাঝে নরসিংদীর ‘সাপ্তাহিক দেশসন্দেশ’ পত্রিকা ২০০৩ সনে ফররুখের স্কেচ এবং কবিতা সম্বলিত একটি ক্যালেন্ডার প্রকাশ করে, যা সম্ভবত এ জাতীয় প্রথম উদ্যোগ। এছাড়া, কিশোরগঞ্জের অধুনালুপ্ত ‘সাপ্তাহিক মণিহার’, বাজিতপুরের দ্বি-মাসিক সাহিত্যপত্র ‘ধমনি’ প্রভৃতি কাগজে ফররুখ-বিষয়ক রচনা প্রকাশ পেয়েছে।২০

ফররুখ চর্চায় সমস্যা :
ফররুখ চর্চায় উপেক্ষা ও বৈরিতার বাতাবরণ শুরু হয় সত্তর দশকের সূচনায়। এ সময় ঢাকা বেতারের চাকরিকালে ফররুখের পেশাগত ও ব্যক্তিগত সততায় অসন্তুষ্ট ঊনচক্র সক্রিয় হয়ে উঠে ক্ষমতা-রাজনীতির গাঁটছড়ায়। যদিও ফররুখ বিশেষ কোন রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন না। ঐ সময়কালে তাঁকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত এবং পরজীবী বন্ধকী বুদ্ধিজীবীদের সুচতুর উন্নাসিকতায় ফররুখকে, তাঁর সৃষ্টিকে পাদপ্রদীপের বিপরীতে ঠেলে দেয়ার মানসকৃতি বিরল ছিল না। এই হীন মানসজাত প্রবণতার ধারকদের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশে আরে শক্তিমান কবি আল মাহমুদ আবিষ্কার করেছেন ‘ফররুখের কবরে কালো শেয়াল’, যা তাঁর এ নামধেয় কবিতায় উৎসারিত হয়েছে।
ফররুখকে প্রচ্ছন্ন করার, উপেক্ষা করার যে বাতাবরণ-প্রয়াস বুদ্ধিবৃত্তিক অতি-চাতুর্যে পরিচালিত হয়েছে, তার জের অনেককালই সচল থেকেছে। ফররুখ চর্চার পথে সক্রিয় সচেতনতা, বৃহত্তর গণমানসে সুবিস্তৃতকরণ- এখনও তেমন ব্যাপক হয়ে উঠেনি। শিক্ষিত সমাজেরও বিপুল অংশ এখন পর্যন্ত কবি বলতে রবীন্দ্র-নজরুল-জসীম উদ্দীনকেই বুঝেন; ফররুখকে তেমন নয়। আর ফররুখ চর্চাও যেন কেবলমাত্র গুটিকয়েক ফররুখ গবেষকের উচ্চমার্গীয় লিখন-কথন তথা ‘টেবিলটকে’র ঘরোয়া আলোচনায়ই সীমাবদ্ধ মনে হয়। একদল তাঁকে সামগ্রিক মানবতার প্রবক্তা কবি হিসাবে না দেখে বা উপস্থাপন না করে, কেবলমাত্র ইসলামী কবির পোশাক জড়িয়ে তাঁকে বৃত্তাবদ্ধ করে ফেলেন। এতে তাঁর সামগ্রিক কবিসত্তা যেমন খন্ডিত হয়ে পড়ে, তেমনি স্ববোধিত ও স্বপ্রকাশিত মুক্তবুদ্ধিও মানুষেরা তাঁকে নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখান না। ফলে ব্যাপকতর সাধারণ মাপের গণমানুষের কাছে ফররুখ পরিচিতি পৌঁছতে পারে না।
বিভিন্ন স্তরের বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে ফররুখের কিছু কিছু উপস্থিতি থাকলেও উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাঁকে কোনঠাসা করে রাখার এক ধরনের মিচ্কে প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। প্রগতিবাদের নামে স্বকীয় সত্তার বর্জন-প্রয়াস, শেকড়ের ধারক-বাহক কবি ফররুখকেও অপাংক্তেয় করে রাখার মনোবৃত্তি এক্ষেত্রে অনুঘটক হিসাবে কাজ করে- এটাও অস্বীকার করার ‘জো’ নেই। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফররুখ সাহিত্য করুণার শিকার। লুটেরা সামন্তবাদের ঘাড়ে চেপে সাম্যবাদের ধুয়া আউড়ে সুবিধাবাদের এঁটেঝুঁটা লুণ্ঠন সুকৌশল ভন্ডামি বটে ! এর আরেক মানে শেকড় ছেঁড়ায় উদগ্র প্রতিযোগিতা। অন্যকথায়, আত্মপরিচয়কে গ্লানিকর ভাবা। এ ধরনের পলায়নী মনোবৃত্তিও ফররুখ চর্চার পথে অন্তরায় বৈ কি।
বাংলা একাডেমী, শিশু একাডেমী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- এগুলোর মতো জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ফররুখের জন্ম-মৃত্যু দিবসে নিয়মিত কর্মসূচি পালন না করায় কিংবা অন্য সময়েও এ সংক্রান্ত বিশেষ কোন কর্মসূচি না নেয়ায়ও ফররুখ-চর্চা বিঘি্নত হচ্ছে। হাতে গোণা দু’একটি ছাড়া বেশির ভাগ পত্র-পত্রিকায় তাঁর সম্পর্কিত কোন ফিচার, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, আলোচনা প্রকাশ না করায় ফররুখ-চর্চা বাধাগ্রন্থ হচ্ছে। রেডিও-টিভি, স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে ফররুখ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানাদির অপর্যাপ্ততাও এক্ষেত্রে দায়ী।
বাংলা সাহিত্যের এ অসামান্য মৌলিক প্রতিভাধর কবির নামে আজ পর্যন্ত কোন প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা কিংবা সড়কের নামকরণ না করায়, তাঁর পরিচয় ব্যাপক হচ্ছে না। এ পর্যন্ত তাঁর নামে তেমন উল্লেখযোগ্য পদক চালু না হওয়ায় এবং সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা-পরিচর্যার অভাবে চিন্তাক্ষেত্রে ফররুখ-বিষয়ক নতুন গবেষক-প্রতিভার খুব বেশি দৃশ্যমান নয়।
কবির সমুদয় পান্ডুলিপির প্রকাশ না হওয়া, প্রকাশিত গ্রন্থাবলির পুনর্মুদ্রণ না হওয়াজনিত দুষ্প্রাপ্যতা, বিভিন্ন পাঠাগারে তাঁর গ্রন্থের দুর্লভতা ফররুখ-চর্চার ক্ষেত্রে অন্তরায়। কবির শিশুতোষ গ্রন্থাবলির দুষ্প্রাপ্যতা, বাকি পান্ডুলিপিগুলোর পুস্তকাকারে প্রকাশ না পাওয়া, কিশোর উপযোগী কবির জীবনী সহজলভ্য না থাকা ইত্যাদি কারণে ব্যাপকতর শিশুদের কাছে তিনি অস্পষ্ট ও অপরিচিত।

সংকট উত্তরণ-প্রস্তাবনা ও ভবিষ্যৎ :
ফররুখের নিরাপোষ আদর্শ, পবিত্রতা, ত্যাগ, ব্যক্তিক, আবেগিক, ভাবগত, বিশ্বাসগত সৃষ্টির প্রতি যদি ভালোবাসা থাকে অথবা সৃষ্টি হয়, তাহলেই কেবল সম্ভব-ফররুখ চর্চার পথে সমস্যার উত্তরণ। ফররুখ-বিষয়ক সংকট উত্তরণে কতিপয় সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপিত হচ্ছে, যেসবের বাস্তবায়নের মাধ্যমে আশা করা যায়, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ সম্ভব হবে। প্রস্তাবগুলো হচ্ছে-
ক) অবিলম্বে কবির অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি প্রকাশের ব্যবস্থা নেয়া। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কবির অগ্রন্থিত লেখাগুলোকে সংগ্রহ করে গ্রন্থাবদ্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া।
খ) ইতোপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে অথচ বাজারে নেই, এমন গ্রন্থাদির পুনর্মদ্রণের ব্যবস্থা করা।
গ) কবিকে শিশুদের কাছে পরিচিত করে তোলার জন্য তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থাদির আশু মুদ্রণ ও সহজলভ্যকরণ। এসব গ্রন্থাদি যাতে স্কেচ-ইলাস্ট্রেশনের বর্ণিলতায় সুমুদ্রিত ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপিত হয় সেদিকে খেয়াল রাখা।
ঘ) কবির শিশুতোষ কবিতার আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। শৈল্পিক কণ্ঠের অধিকারী আবৃত্তিকারদের দ্বারা আবৃত্তির সিডি, ছড়ার অ্যানিমেশন কিংবা কবিতার সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবেশের চিত্রায়নযুক্ত ভিসিডির প্রকাশ। উদাহরণস্বরূপ ‘পাখির বাসা’ কাব্যের পাখির চিত্র সহযোগে রেকর্ডিং, হরফের ছড়ার অ্যানিমেশন করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে ফররুখ অনুরাগী কোন দক্ষ অডিওভিজ্যুয়াল সেন্টারের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।
ঙ) বাংলা একাডেমী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বইমেলাসহ ফররুখ-বিষয়ক আলোচনাস্থানে কবির ও কবিসংশ্লিষ্ট গ্রন্থাবলির সম্ভাব্য প্রদর্শনী ও বিক্রয়ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
চ) ফররুখের জন্ম, বিকাশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ ও পারিবারিক জীবন, সৃষ্টিসম্ভার, মৃত্যু ও তৎপরবর্তী প্রতিক্রিয়া, সংবাদকাটিং, গ্রন্থপ্রচ্ছদ সংযোজিত ডকুমেন্টারি ভিসিডি প্রকাশ।
ছ) উপযুক্ত সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে ‘হাতেম তা’য়ী কাব্য’ অথবা ‘নৌফেল ও হতেম’ কাব্যনাট্যসহ অন্যান্য নাটকের অভিনীত সিডি বের করা যায়। তাঁর লিখিত গল্পের নাট্যরূপ রেডিও-টিভিতে সম্প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
জ) কবির তীর্যক রচনাবলির সময়োপযোগী অংশের বৃন্দ আবৃত্তি, বর্ণিত চরিতাবলির মঞ্চরূপায়ন করা যায়।
ঝ) ফররুখ রিসার্চ ফাউন্ডেশন কিংবা অন্য কোন ব্যাংক, বীমা, সংস্থা কর্তৃক ফররুখের ছবি দিয়ে কিংবা রঙিন স্কেচ দিয়ে ক্যালেন্ডার মুদ্রণ।
ঞ) কোন ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল, সংস্থা বা বিত্তশালী ব্যক্তির স্পন্সরে ‘ফররুখ সাহিত্য পদক’ বা ‘ফররুখ গবেষণা পদক’ চালুকরণ।
ট) সারা দেশব্যাপী বা প্রাথমিক পর্যায়ে মহানগরকেন্দ্রিক শিক্ষার্থী কিংবা আগ্রহী লেখকদের মাঝে রচনা প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাকরণ এবং বিজয়ীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার বিতরণ।
ঠ) ফররুখ পাঠক, লেখক, গবেষকদের জন্য ‘ফররুখ রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ কার্যালয়ে কবির রচিত এবং কবি সম্পর্কে অন্যান্য ব্যক্তিদের রচিত গ্রন্থাদি, ফররুখ সংশ্লিষ্ট পুরনো ও নতুন পত্র-পত্রিকার নির্ভরযোগ্য সংগ্রহ গড়ে তোলা।
ড) অন্য ভাষায় ফররুখ গ্রন্থাবলি অনুবাদকরণ।
ঢ) দেশের বাইরে প্রবাসীদের মাঝে ফররুখ চর্চা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাঝে-মধ্যে অনুষ্ঠানাদির ব্যবস্থা করা।
ণ) ফররুখকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য তাঁর কবরটি নিশ্চিহ্ন হওয়ার আগেই, তা পাকাকরণ এবং তাতে তাঁর পরিচিতিমূলক এপিটাফ সংযোজন।
ত) ফররুখ স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ইস্কাটনস্থ তাঁর বাসভবনের সামনের রাস্তাটিকে ‘কবি ফররুখ আহমদ সরণি’ করার জন্য নগর কর্তৃপক্ষের কাছে জোরদার দাবি জানানো।
থ) ফররুখের জন্মজেলা যশোরের পৌর এলাকার একটি প্রধান সড়কের নামকরণের জন্য প্রচেষ্টা চালানো।
দ) কবির জন্মভিটার পৈত্রিক আবাসকে ‘ফররুখ স্মৃতি কেন্দ্র’ বা ‘ফররুখ স্মৃতি সাহিত্য কেন্দ্র স্থাপন।
প্রস্তাবিত এ প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ফররুখ স্বজন বা অনুরাগীদের নিয়ে মাঝে-মধ্যে ফররুখ-বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।
এসব প্রস্তাবনার সম্ভাব্য ক্রম-বাস্তবায়ন সম্ভব হলে, আশা করা যায়, ফররুখ চর্চা বর্তমান তুলনামূলক স্বল্প পরিসর থেকে আরো ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করবে। আর এসবের ভেতর দিয়েই ফররুখ চর্চার পরিধির বিস্তৃতি ও তাঁর মানস-প্রতিভার যথার্থ মূল্যায়ন সম্ভব হবে। সকলের অন্তরে এ শুভতার সুদৃঢ়তা জাগুক।

সহায়ক সূত্র :
১. শাহাবুদ্দিন আহমদ সম্পাদিত ‘ফররুখ আহমদ ব্যক্তি ও কবি’, পৃ. ১৮-১১৯
২. আবদুল মান্নান সৈয়দ ‘ফররুখ আহমদ জীবন ও সাহিত্য’, পৃ. ৩৮
৩. শাহাবুদ্দিন আহমদ ‘প্রাগুক্ত’, পৃ. ৬-১০
৪. সেবা প্রকাশিত ‘ফররুখ আহমদ’, পৃ. ৯১-৯৪
৫. মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ‘বাংলা কাব্যের ফররুখ আহমদ ঃ তাঁর শক্তি ও স্বাতন্ত্র্যের স্বরূপ, পৃ. ৩৫৮
৬. আবদুল মান্নান সৈয়দ ‘প্রাগুক্ত’, পৃ. ৬০ ও ২৭১
৭. আবদুল মান্নান সৈয়দ, ‘প্রাগুক্ত’, টীকা, পৃ. ৬০
৮. মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ‘প্রাগুক্ত’, পৃ. ৩৫৯
৯. শাহাবুদ্দিন আহমদ ‘প্রাগুক্ত’, পূর্বলেখ, পৃ. ২১-২২
১০. আবদুল মান্নান সৈয়দ ‘প্রাগুক্ত’, পৃ. ২৪০-৫৯
১১. আবদুল মান্নান সৈয়দ, ‘প্রাগুক্ত’, পৃ. ১০-১১
১২. সেবা ‘প্রাগুক্ত’, পৃ. ১৩৮-৫৬
১৩. আবদুল মান্নান সৈয়দ ‘প্রাগুক্ত’, পৃ. ৩৫১-৫৬
১৪. মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ‘প্রাগুক্ত’, পৃ. ৩৬২-৬৫
১৫. সেবা ‘প্রাগুক্ত’, পৃ. ২২৪
১৬. বিভিন্ন তথ্যসূত্র অবলম্বনে প্রাবন্ধিকের ব্যক্তিগত অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য
১৭. প্রাগুক্ত
১৮. সংশ্লিষ্ট পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুসারে প্রাবন্ধিকের নিজস্ব অনুসন্ধান
১৯. ‘ফররুখ একাডেমী পত্রিকা’, ত্রয়োদশ সংখ্যা, জুন ২০০৬
২০. ফররুখ একাডেমী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য
২১. ‘ফররুখ একাডেমী পত্রিকা’, নবম সংখ্যা, জুন ২০০৪
২২. প্রাবন্ধিকের ব্যক্তিগত অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য

গ্রন্থপঞ্জি :
১. কবি রচিত বিভিন্ন গ্রন্থাবলি
২. সুনীলকুমার মুখোপাধ্যায় ‘কবি ফররুখ আহমদ’, নওরোজ কিতাবিস্তান, ঢাকা, ১৯৬৯।
৩. শাহাবুদ্দিন আহমদ সম্পাদিত ‘ফররুখ আহমদ ঃ ব্যক্তি ও কবি’, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ঢাকা, ১৯৮৪।
৪. সেবা প্রকাশিত ‘ফররুখ আহমদ’, ঢাকা, ১৯৮৭।
৫. আবদুল মান্নান সৈয়দ ‘ফররুখ আহমদ জীবন ও সাহিত্য’, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ১৯৯৩।
৬. মোহাম্মদ শাকেরউল্লাহ সম্পাদিত ‘ঊষালোকে, ফররুখ স্মরণ সংখ্যা’, ঢাকা, অক্টোবর ১৯৮৯।
৭. মুহম্মদ মতিউর রহমান সম্পাদিত ‘ফররুখ একাডেমী পত্রিকা’, ৬-১৩ সংখ্যা, অক্টোবর ২০০২ – জুন ২০০৬।
৮. মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ‘বাংলা কাব্যে ফররুখ আহমদ তাঁর শক্তি ও স্বাতন্ত্র্যের স্বরূপ’, ফররুখ একাডেমী, ঢাকা, ২০০৩।