কাঁদে নাফ নদী

এক নারী; কষ্ট যার বুকের চেয়ে বড়
জীবনের আশায় শক্ত হাতে আকড়ে ধরা অবুঝ শিশু-
পিছনে স্বামীর বুলেটে ঝাঝরা নির্বাক নিথর দেহ
সামনে কেবল অন্ধকার অমানিশা।
অন্ধ মানবতা অসহয়ের জন্য কাঁদে না ; কাঁদে নাফ নদী-
নদী কাঁদে শ্যাওলার মত ভেসে থাকা শিশুর জন্য।
কাঁদে ভাসমান অগণিত শিশু, রৃদ্ধা, নারী আর
স্বপ্নচারী যুবকের লাশের জন্য; যে যুবক স্বাধীনতার –
স্বপ্ন বুনেছিল বঞ্চিত মানুষের চোখে
লাশ আর লাশ, লাশের কোন পরিচয় নেই
বানভাসীর ত্রানের মত লাশ খুবলে খায় শকুন
অসহয়ের ত্রান ভাগ করে খায় আমলা নেতা আর মুখোসী শয়তান
অভুক্ত থাকে বুভূক্ষ মানুষ।
অসহয় ধুসর দৃষ্টিতে অদৃষ্টের দিকে তাকিয়ে আছে বৃদ্ধা
যার সামনে নিস্পাপ মেয়েকে ধষন করে হত্যা করেছে
উর্দিধারী একদল জানোয়ার।
নির্বাক ই তার স্ববাক প্রতিবাদ
একবিংশ শতকের একদল আদুল মলিন শিশু
দাড়িয়ে আছে একমুঠো মুড়ির আশায়- চাতকের মতন
ক্ষুধিত পাষাণী তার বোনের জন্য
এ যেন শিশু কাসেম, কারবালায় বুকের ছাতি ফাটে পানির আশায়
এ যেন নিষ্ঠুর মানবতা জীবন বাঁচাতে এসে জীবন ই যাচ্ছে চলে।
…………………………………………..

নিরুদ্দেশ মানুষের শিশুরা

সে সব স্বপ্নবাজ মানুষের নাম ইতিহাসে কিভাবে লেখা হবে
হয়ত জন্মক্ষণ লেখা হবে মৃত্যুকাল অজানাই রয়ে যাবে।
যেন কালকূটের মেঘদূত, ঠিকানাহীন মেঘের নিরুদ্দেশ যাত্রা
গল্পের জলদৈত্য যেমন গিলে খায় নৌকা সমেত নাবিক,
এক ছোঁতে চিলের নখরে নিরুদ্দেশ নির্বোধ মুরগি ছানা।
তেমনি শনির ছোবলে দিন দিন ভারী হয় নিখোজ
মানুষের তালিকা; যেন শিকারী শকুন-
ছিড়ে খায় ছিন্ন ভিন্ন শবদেহ।

হ্যাঁ আমি গুম হ্ওয়া মানুষের কথা বলছি,
ঠিকানাহারা নিরুদ্দেশ মানুষের কথা বলছি,
কষ্টের পাথর বুকে নিয়ে বোবা কানøায় যে সন্তান
বাবার পথ চেয়ে থাকে, আশার দোলাচালে;
আমি স¦প্নের অপমূত্যুর মহাকাব্যর কথা বলছি।
কফিনের উপরে আছড়ে পড়ে শোকের পাহাড়
হিম শীতল লাশ ছুয়ে শেষ পরশ নেয় শিশু,
সে ত বরণ ভালো ক”দিন কানøায় হালকা
হয়ে আসে বুকের পাথর, গলে যায় বরফ;

কিন্তু নিরুদ্দেশ মানুষের নিষ্পাপ শিশু?
ফিরে পাবার প্রতিক্ষার প্রহরের প্রজ্জলিত রেখা,
রুখে দেয় রাতের নিকষ অন্ধকার,
নিরাশায় নিরুদ্দেশ নিঃশেষ হয়ে নিভে যায়
ডুবু চরের মত জেগে ওঠা আশাজাগানিয়া আলো।

তারপর কেবল অন্ধকার…
প্রতিদিন জানাজার হাহাকার বুকের ভিতর
প্রতিদিন শ্মশানের অসহ্য আগুন।
…………………………………………..

শিরোনামহীন কবিতা
(ফিলিস্তিনের বীর আবু সালেহের স্মরণে)

মুসলিম তুমি আরব নেতা মদে মাতাল মত্ত।
মদ নয় ঢালছো গলায় ফিলিস্তিনির রক্ত।

বৃদ্ধা, শিশু, নারী আর অগণণন মানুষের ফরিয়াদ,
ফিরে আসে তোমার বেহুলার বাসরের মত নিছিদ্র
রঙমহলের দেওয়ালে লেগে। অথবা তোমার নর্তকীর
নাচের নিক্কন ধ্বনির সাথে মিলিয়ে, ফেলেছ মিলিয়ে
ফেলেছো নিপিড়িত মানুয়ের হাহাকার;
তুমি সাবধান হও।

আর ওহে তোমরা যারা ছদ্মবেশী সাধু;
সাধনার ছলে সাধ করে তাকিয়ে আছ
আসমানে।ভাবছো আসমান থেকে আসবে
সাহায্যকারী, সামলাবে খোদার ঘর আর
নিপিড়ত মানুষ, আর তোমরা ?
সুখের সাগরে সাতরাবে সারাবেলা…

জেনে রেখ, তোমরা কুফাবাসি কিংবা দ্বিচারিণী নারীর মতন।
পকেটের পেট্রো ডলার আর শাণিত অস্ত্র জালিমের হাতে দিয়ে
জমা, মজলুমের জন্য কেবল অশ্রু ফেলছো বেকার;
তুমি সাবধান হ্ও

উর্বশী নারীর ভয়ে যেমন ভীত নূপুংসক পুরুষ
ইষিত ইগলের ভয়ে লুকোয় ভীরু কবুতর,
যেমন নেকড়ের ভয়ে ভেড়া,
তেমনি নগণ্য কোটিখানেক ইহুদী শুয়োরের ভয়ে-
শতকোটি সিংহ শাবক তুমি মুসলিম; কে বলে তুমি
সিংহের জাতি? তুমি ভীত,কাপুরুষ,ইদুর;
তুমি সাবধান হও।
আসমান থেকে আবাবিল ঐ এলো বলে থাক বসে,
আবু সালেহদের গুলতি পাথর জমা হয়ে হয়ে শেষে,
বোমা হয়ে হানবে আঘাত ঘরে ঘরে দেশে দেশে
…………………………………………..

সুখের সন্ধানে

চৌ্ত্রের মাঠফাটা রৌদ্দুরে পুড়ে এক নিরুপায় চাষা
হারিয়ে হালের বলদ হারিয়েছে দিশা
ঘুরছে সে মাঠ পেরিয়ে মাঠ।

রোদে পোড়া তামাটে শীণ˝শরীর তার ভিজিতেছে ঘামে
চুল চুয়ে,কাধ ছুয়ে, বুক বেয়ে চলছে ঘামের স্রোত
যেন অবিনশী বন্যার কালো জল
ধেয়ে এসে গিলে খায় ফসলের মাঠ,
মেঠো পথ কিশোরীর খেলার উঠোন

দিশাহারা চাষা খুজে ফেরে হালের বলদ
যেন প্রান নাথের প্রান শঙ্কায়
নাকের নিখোজ নোলক খোজে গায়ের নারী

আমি ও হারিয়েছি সুখ জাতিস্বরে
জন্মান্তরের তৃষিত চাতকী আমি
জীবনসমুদ্রে ডুবুরীর মত ডুব পাড়ি
মুক্তর মতো সুখ হাতিয়ে খুজি আশায়,
যে সুখ হারিয়েছি দুর অজানায়
…………………………………………..

প্রার্থনা

কার্তিকের কুকুরের মত কি কুকর্মে মেতেছে মানুষ-
মানুষ কত নির্লজ্য নিষ্ঠুর নির্মম হলে
নিজ কন্যর উপর ঝাপিয়ে পড়ে ধর্ষক বাবা(?)
ছাত্রীর উপর শিক্ষক, বোনের উপর ভাই
নাতির উপর বৃদ্ধ নানা কিংবা দূর্বলের উপর সবল।
কে বলে তুমি পুরুষ?তুমি নূপুংসুক মাংসাশী পশু।
হে মহানাধিপতি
তুমি বিনাশ করো এই শিকারী কুকুর অথবা
আমাকে বিনাশ করো পুত্রের হাতে মায়ের ধর্ষিতা হবার আগে।
…………………………………………..

অচেনা তর্জনী

তোমার উদ্ধত তর্জনীকে খুব ভয় পাই আমি
তোমার রক্ত চাহনীতে সর্বসত্তা আমার
শামুকের মত গুটিয়ে যায়।
বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচলে
শংকিত শোষক আমি।

যে কোমল হাতে আমাকে জড়িয়ে তোমার
আস্থায় দূর্গম পথচলা,
আজীবন নির্ভরতার শফতে আকড়ে ধরা
সে হাতের তর্জনী কি উদ্ধত হতে পারে
ভালবাসার নির্মলতাকে মাড়িয়ে?

সুকোমল শিল্পিত শোভিত ফুলের দেহে পা চালায়
কেবলই পিশাচ।
কেবল হন্তারকের মাঝে আমি-
রক্তচক্ষুর উদ্ধত তর্জনী দেখি।
ভালবাসার অভিধায় বড় অচেনা লাগে
উদ্ধত তর্জনী।
অবিশ্বাসের পৃথিবীতে নিঃসঙ্গ নিমগ্নতা চাই
নতুন করে আমাকে জানতে চাই।
…………………………………………..

আমার নিঃসঙ্গতা

জানি না কি চাই!
অশান্তি? নাকি শান্তির জীবন?
পরম সুখ? নাকি নির্জন মরন?
জানি না কিসে এতো অস্থীরতা!
কার জন্য গুনে যাই হাজার প্রহর!
জেগে জেগে পার করি সমস্ত নিশী-
কেন মিছিমিছি!
আমি জানি না।
শুধু জানি, আমি বেঁচে আছি।
শুধুই থাকি এক অজানা ঘোরে,
নিশ্চুপে আসে যায় স্মৃতি অগোচরে,
নিদারুন খেলে যায় চঞ্চলতা।
বসে বসে দেখি আমি ও
…আমার নিঃসঙ্গতা
…………………………………………..

উপদ্রুত উপকূলের কান্না

নদী নিবাসী নির্ভয়া নারীর মতন
আজো নির্ঘুম রাত কাটে নিমগ্ন ভাবনায়
আমার জলমগ্ন জন্মভিটা বাস্তুহারা মানুষের ব্যাথাতুর
হতাশা, হারাম করে তোলে আমার রাতের ঘুমঘোর।

উপদ্রুত উপকূলের মানুষ ঘুমোয়কি
নরম বিছানায়,শীতাতাপ ঘেরা ঘরে?
আমার মতন আয়েসে পরামানন্দ ভরে?
তারা কি গায়ে তোলে নিপাট পোষাক?
নাকি অখন্ড অবসরে বিলাসী ভাবনা
জুড়ে থাকে নারীর নিটোল দেহ?

রোদে পুড়ে যায়, ভিজে বরষায়,
লোনা বিষজলে সাতরায়ে দিনযায়,
দুমুঠো খাবার আশায়, রাতযায়।

অর্ধ শতাব্দী ভূতপূবর্কালে,
স্বাধীনতার শত্রুরা সেটেছিল শাণিত প্রাচীর
শঙ্কাহীন শান্তির প্রয়াসের নিশান।
মাটি আর মানুষের জন্য,
ফল আর ফসলের জন্য, শস্য ও শ্যামলের জন্য।

এখন আমরা স্বাধীন, সুখি ও শান্তির কথা বলি,
উপছে পড়া দেশি ব্যাংকের বেষ্টনি বাড়িয়ে
বিদেশী ব্যাংকে বুনেছি বিত্তের বলবান আবরণ।
খাদের কিনারায় ক্ষয়িষ্ণু চরিত্রের মত হায়
বিত্তের জন্যই কেবল গিলে খাই নদীর বাধ
মুছে দিতে মানুষের বেঁচে থাকার সাধ।

ধর্মের ধার ধারেনা এমন ধারার বন্ধুরা এলো
ধীরে ধীরে সিড়ি মাড়িয়ে রবীন্দ্রনাথের মত
ধীর,সাম্য ও শান্ত ছিল তারা।
চকচকে কামানো নয়, চাপদাড়ি মুখে
বোধির মত, যেন নতুন ধারণার বোধোদয়।

করোনায় কাছ থেকে মৃত্যকান্ড দেখে কেঁদেছে
নিরবে, নিরুপায়, নির্বাক নিথর হয়ে,
যেমন প্রমত্ত পদ্মার পেটে বিলীন হয়
ফসলি জমি, স্কুল, মেঠোপথ, অথবা স্মৃতির মিনার
অবলিলায় চেয়ে থাকে অসহয় মানুষ ।

ধারার আগমনের ক্রমানুসারে যাওয়ার
ক্রম হয়ত হয়না, তবু ত থাকে ধারা,
সবধারা, পরম্পরা মাড়িয়ে গেল, রথি-
মহারথি, চন্ডান ভিক্ষুক, আইন সভার নেতা
ডাক সাইডের মন্ত্রী কেউ রেহাই পেলোনা.
…………………………………………..

তাহার জন্য প্রার্থনা

গভীর রাতের নিস্তব্দতা ভেঙ্গে আমি বনপোড়া হরিণের মত
ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে যাই, বুক ভরে শ্বাস নেবার আশায়।
অন্ধকারের চাদর ছিড়ে আমার ঠিকানা তখন ওভার ব্রীজে
রাস্তার লাইট পোস্টের মত, চিতার শশ্মানের মত,
দাবদাহের আগুনের মত,নিরন্তর আমার অন্তর পোড়ে,
পোড়ে আমার সর্বসত্বা।

আমার কোঠরাগত চোখের অশ্রু নয়, সাগরের
একমুখি স্রোত হয়ত পরাজিত হবে হৃদয়ের
দাবদাহের তীব্রতার কাছে:
এলোমেলো পা ফেলে যখন ফিরে আসি তখন
সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ে শহরের ব্যস্ত মানুষের মত।

আমি প্রার্থনা করি তার শুভকামনায়,
যে সর্বনাশা আগুন আমাকে জ্বালিয়ে ভম্ম করে
নিঃস্ব ভিখারি করে, আমি প্রার্থনা করি তার
অবিরাম সুখের জন্য; আনমনে প্রার্থনা করি
ভাল থেকো তুমি