ভেসে যাবো জোছনার ঢলে

দূরাগত বাতাসের ফোঁসফাঁসে
কিছুটা বিব্রত হলেম না হয়…
জেগে আছে, জেগে থাক
ভালোবাসার কলঙ্ক চাঁদ
আমরা তো ভেসে যাবো জোছনার ঢলে…

চেনে গেছ কে সুজন- মনের আপন

হাতের আঙুলে বাজাও আনন্দ তুড়ি
চোখের আদরে পারো সময় সাজাও
সমকালে অনিবার্য
নায়ক দাঁড়িয়ে আছে
হৃদয়ের খোলা দক্ষিণায়… !

অবগাহনের সুর সপ্তমিতে মনখুলে গাও পাশাপাশি
জগত যন্ত্রণার বিপরীতে
অবারিত খোলা আকাশ এখানে
বিপ্লবের লাল, রাজ কূট চাল ভুলে

সব ভুলে ভরপুর আনন্দ আহ্লাদে
আমাদের একই অন্তর…
…………………………………………..

আসছে ফাগুনে তুই

তোর জন্য এখন আমার হৃদয় ধামাকা…
এ কেন রে কেন ? বিষয়- খামাখা !

দশ আনা দেখেছি তোরে, বাকীটা মিছা
এতেই আমার হাল হাকিকত এমন বেদিশা…

তোর ভুলগুলো ফুল ভাবি
আসছে ফাগুন- কী কী চাবি ?

ভাবতেই পারিস- পাবি পাবি
হাত বাড়ালেই বদ্ধ তালার আসল চাবি

এইযে যেমন
করতে পারিস তোকেই চুরির পাক্কা অভিযোগ
বুঝিস তো তুই প্রেমের গণিত- যোগ ও বিয়োগ?

মুলো চুরির দায়ে তো নয়, হৃদয় চুরির দায়
তোর হয়ে তোর পাশে আমি এগুচ্ছি দু’পায়…

চলার পথে ফুল-প্রকৃতি-নদী
দিয়েছে নীরব সায়

বুঝি তোকে, তোর আনন্দ ও হাঁসফাঁস
এতে আমার হতেই পারে
সেই মোতাবেক চক্রবৃদ্ধি হারে
‘তোর সাথে মোর একজীবন’
সশ্রম সাজার- কারা বারোমাস…
…………………………………………..

রাখিও স্মরণি বাঁকে, করিতে জিকির

কবিতার গন্দম ছুঁয়েছি
আমি।

হে দয়াল
আমাকে দেবে না জানি
এ কাল, ও কাল
সুখ ও স্বস্তির….

ও হে প্রভু
মহাকালের; স্মরণী
বাঁকে আমাকে রাখিও

এই অবাধ্য করিবো
শুধু তোমার জিকির…
…………………………………………..

ভালোবাসার পঙক্তিমালা

১.
তোমার জন্য একটি হৃদয়- রয় জেগে রয়
তার কাছেতো তোমার কোন নেই পরাজয়
২.
বিত্ত-বিলাস থাকুক যতো
এর প্রলেপে সারে নাতো হৃদয়-ক্ষত
৩.
যত্ন করে তোমার বুকে রাখলে আমার হাত
জাত সমাচার বুঝবে আমার, পাবে চন্দ্ররাত
৪.
নগ্ন দেহের ভাঁজ খুলে যাক- তোমার যখন চাওয়া
আমার দিকে তীব্র করো প্রেমের পুলক হাওয়া
৫.
জাতপুরুষের সবটা পাবে তোমার অধিকারে
এক জনমের গিঁট লেগে যাক- কেউ কারে না ছাড়ে
৬.
দূর আগত ট্রেনের গমোক কানে এসে লাগে
আসুক যতো ভয় ভয়ানক, ফণা তুলুক নাগে
৭.
কাজ হবে না, সবই ফানুস
আমরা দু’জন প্রেমের মানুষ
৮.
আমরা দু’জন আদম-হাওয়া
কালের চক্রে ছিটকে যাওয়া
৯.
এই এখানে হলো যখন হৃদয় সম্মিলন
প্রেত-দানব আর অসুর এলে বাঁধবে রক্ত-রণ!
১০.
তোমার জন্য আমার হৃদয় রয় জেগে রয়
এই হৃদয়ে তোমার কোন নেই পরাজয়।।
…………………………………………..

বিশ্বাসেই আমার স্বাধীনতা

শহীদী আত্মারা শান্তি পাবে, যে দিন অর্জিত হবে
মানবিক বাংলাদেশ।

উবে যাবে সব ঘৃণার কাঁটা।
ডান-বাম ভেদে ঘৃণার ছুরিতে আমাকে কেটে
টুকরো করো না চরম অমানবিকতায়!

মেহনতি মানুষের সারাজীবনের লড়াই সংগ্রামে
আমি লাল পতাকা হাতে

অবাক দু’চোখে সামনে তাকাই
দু’পায়ের তলা হয় প্রসারিত- নির্ভরতার
অনুভূমের আদিগন্ত সবুজ সবুজ…

বিশ্বাসের আজান ভোরের বাতাসে ছড়ালে
বিগত ক্লান্তির সব ভুলে অনন্তের পরম প্রশস্তি গেয়ে
আমি যে উঠে দাঁড়াই অনন্তের যাত্রী…

কালোর আগল ছিড়ে আগত সূর্যকে মুক্তি’র প্রতীকী মনে করে দৃপ্ত স্যালুট জানাই।

চে’র সাইকেলে বিশ্ব ঘুরে আসি আমি
আর এখানেই হই থিতু-
এই যে বাংলাদেশে। এখানেই নাভিকাটা আমার রয়েছে পোঁতা।
এখানে আমাকে সঙ্গ দিয়ে
সূর্য দা, প্রীতিলতা সবসময় পাশে থাকে।
পাশে থাকে ফরাজীর দুদু,সাহসের তিতু
স্বাধীনতা হারাবার ভয়ে তাই আমি নই ভীতু

মহামতি চে’
তোমার লাল ক্যাপটি আমার ভীষণ পছন্দের
তবে, আমারও আছে স্বদেশী তালের টুপি-
সেই টুপি সমেত ভাসানী ও তার সফেদ পাঞ্জাবি
শান্তির ও প্রগতির
আমাদের আজ অনুরূপ কিছু খুব প্রয়োজন।

শান্তির নিপাট সামিয়ানা তলে একসাথে
দাঁড়াতে তাবৎ ঘৃণার বিপরীতে…
…………………………………………..

কৃষাণ রফিক ও আমার জন্মগ্রাম

সবুজ প্রকৃতি মাঠ, আর জন্মগ্রাম
অহর্নিশ ডেকে নেয়- মন হেঁটে যায়
কেউ না তা টের পায়!

রফিক কৃষাণ; সে আমার কতো চেনা
চিনি তার বাহুবল, প্রাণের আগল
চিনি তার কোমল হৃদয়ে ফলা
ফসলের শোভিত প্রান্তর…

স্মৃতিঘেরা পথ থেকে পথে যাই হেঁটে-
আত্মার আপন যারা
হৃদয় দুয়ার খুলে খুব কাছে আসে
জানায় তাদের যাপিত জীবন
কষ্ট ক্লেশ আর যেটুকু সুখদ…

ভূ-গোলে গতির ঘোরে, পৌরপ্যাঁচ কষে
শত ব্যস্ততার কতোসব প্রতারণা
জন্মগ্রামে ফেরার এটুকু ফুরসত আমাকে দেয় না…

স্মৃতিপথ ছেড়ে মন, চেতনে ফিরিলে হই একা
চৌদিকে দেয়াল তোলা বাধ্যতার রূঢ় ব্যবধান !
…………………………………………..

তড়িতচুম্বন

বৈদ্যুতিক পাখা;
অবিরাম ঘূর্ণনের
বৃত্তাবদ্ধ তড়িত চুম্বনে
তীব্র অস্থিরতা-
ছুঁতে পারে না, যাকে ছোঁবার !

চুম্বক চুম্বন নেশায় অস্থির-
ঘুরে ঘুরে বাতাসের নিরবতা ভাঙে
বাতাস বলয় ভেঙে টুকরো টুকরো
অস্থিরতা ছুঁয়ে যায় তাপিত গতর
সর্বব্যাপী নেমে আসে স্বস্তির শীতল…

তালপাখার বাতাসে অতৃপ্ত গতর;
সে যখন সুখে দিন কাটে
শরীরি প্রেমের পরখ বিদ্যায় বুঝি-

‘তড়িত চুম্বন’ শব্দজোড় ভীষণ নিভৃতবাদী
এই চুম্বনে শাস্ত্র স্বীকৃত কোনো পাপ নেই !
…………………………………………..

বিজ্ঞাপন

এটি শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপিত হওয়ার মিতো
যোগ্য
মা-বাবা সবার ভাগ্যে হয় তো জোটে না।

শ্রেণী সপ্তমে আমি যখন
দীর্ঘদিনের গৃহশিক্ষক চলে গেল
ভেবে ভেবে ভাবে ভাবান্তর-
তাঁকে অনেক অনেক কষ্ট
বেহুদা দিয়েছি আমি বিবিধ সময়…

দূর পানে কানে-কানে কথা
বলার প্রযুক্তি ছিল না তখন।
একদিন বাবা চাইলেন, শিক্ষককে পত্র লিখি।
সেই পত্র লিখতে লিখতে চিনি তারে
ভালোবাসার এক বিরহী বালক !
লেখা পত্রটি পড়েই বাবা’র কেন যে হৈচৈ-
আরে এ তো চিঠি নয়, কবিতা কবিতা…
চোখে-মুখে অপূর্ব বিস্ময় !

বাবার স্বগতোক্তির এই ক্ষণ বুকপকেটের অর্ধপুরান পাঁচ টাকার নোট
আমার কিশোর হাতে নগদ ইনাম…

তারপর, লিখি নি লিখেছি- এমন সময়
কেটেছে অনেক
কৃষ্ণ হতে পারি নি, মথুরা গমনে ছেড়ে যেতে বৃন্দাবন
পারি নি নবী ইউসুফের পথে এগুতে;
লালাভেজা পথ শরম লুকিয়ে ডাকে-
সময় বিভ্রম
তখন কবিতারা অন্যরকম !

কর্মজীবনে এসে তুমুল এক ঘূর্ণিঝড়ে
জীবন যখন যায় যায়, কবিতাও পালায় পালায়…
আবার ঘুরে দাঁড়াবারর নামে সব ভুলে যাবার কালে, বাবাই কাছে ডেকে বুঝিয়ে দিলেন- কবিতা আমার অন্তর্গত…
আমৃত্যু যেন আমি তার হয়ে যাই !
অধিকার যেন ঠিক ঠিক সত্তার আদায় করি।

আমার মা তার উল্টোটা বলেন-
কোরআনে এসেছে, কবিরা বিভ্রান্ত
এরা বনেবাদাড়ে ঘুরে বেড়ায়…

কত্ত করে বুঝিয়ে বলি যে মা’কে-
নবী তো কবিকে দিয়েছেন উপহার
তাঁর দামী পশমী চাদর…
…………………………………………..

এখানে প্রসঙ্গ তুমি

মুগ্ধতা ছড়ালে রূপে
দুই চক্ষু- জোড়া দিঘী
সাঁতারে সাঁতরে শেষে
গাঙচিল হলো ডানার উড়াল ;
দেখ
তোমার ঐ ভ্রু যুগল….

গোলাপ ফোটালে দু’ঠোঁটে তোমার
কেড়ে নেওয়া এ যেন হৃদয় আমার

উড়াল ভ্রু; মাঝখানে পরেছ যে টিপ
একটি প্রাণের বিন্দু ওটা ;
উড়ে উড়ে পাবে কি সে
তোমার মনের স্থলরেখা- স্বপ্ন অন্তরীপ…
…………………………………………..

সূর্যভোরের মুক্তি

আলোর আকাশ মেঘে, মেঘে ঘনীভূত, রাত্রি অন্ধকার
সর্বব্যাপে ক্ষ্যাপে কেঁপে
বারুদের বিস্ফোরণে বিভৎস বিদঘুটে।
রাজত্ব বিস্তারে হয় প্রয়োজন অস্ত্র-বারুদের
তাহলে কি এ আকাশ তারই অনুসারী?

ঈগল ডানায় কেউ মেলার সুযোগ পাবেনাকো ছাই
মুহূর্তেই সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে সবাই
মুখর স্লোগান –

ও আকাশ, অশুভ আকাশ
রক্তচোখ যতই পাকাস
ভয় করি না, করি না ভয়

রাতের আকাশ নিপাত যাক
পাতাল পারদ সূর্যভোর মুক্তি পাক।

সূর্য নাকি গুম হয়েছে; ঘোমট ভোরে তাই
যেই রাখি পত্রিকায় হাত
এই কি খবর-
‘গোটা দেশ এখন একটি কারাগার’।