জনমদুখী তুবা

জনমদুখী তুবার জন্য
কাঁদে না কার মনটা?
চার বছরেই মা হারালো
প্রিয় আমার বোনটা।

দুষ্ট লোকের ভুল শিকারে
হারায় প্রিয় মাকে
মা বলে আর এ সংসারে
ডাকবে তুবা কাকে?

ফুটফুটে এই শিশুর দাবি
মাকে এনে দাওনা
মায়ের সাথে থাকবো সুখে
তোমরা তা কী চাওনা?

ওরে অবুঝ সোনামণি
কেমন করে কাঁদে
অভিমানে মা যে তোমার
চলে গেছেন চাঁদে!
……………………………………………

বিশ্বকবি

পঁচিশ বোশেখ জন্মে ছিলেন
জোড়াসাঁকো বাড়ি
গান-কবিতায় রবীন্দ্রনাথ
বিশ্ব দিলেন পাড়ি।

মায়ের কথা মাটির কথা
মিষ্টি মধুর লেখা
পাখ-পাখালির কাকলিতে
অনুভবের দেখা।

ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বে সুনাম
গীতাঞ্জলির কবি
তের সালে নোবেল পেলেন
বাংলা ভাষার রবি।

ভাষার পাশে চারুকলা-
আঁকেন হরেক ছবি
বাংলা ভাষার বিশ্বজয়ে
মোদের বিশ্বকবি।
……………………………………………

দেই বাড়িয়ে হাত

বছর ঘুরে বর্ষা এলো
মাঠেঘাটে পানি
গাঁয়ের লোকের দুঃখ কতো-
আমরা তা কী জানি ?

ভেসে গেছে ক্ষেতের ফসল
জ্বলছে আগুন মনে
বেঁচে থাকার ভাবনা থেকে
ভেজে চোখের কোণে ।

নতুন দিনের স্বপ্ন দেখে
আসবে সুদিন কবে?
কোলের অবুঝ ছোট্ট শিশু
যে দিন বড় হবে !

ওদের মনে সাহস দিতে
আমরা না হয় ক’জন
প্রশস্ত হাত দেই বাড়িয়ে
আমি তুমি স্বজন।
……………………………………………

লাঞ্চিতা নারী মুক্তির স্বপ্ন

সেরা সৃষ্টি মানবজাতি
পুরুষ এবং নারী
পারস্পরিক পোশাক হেন
একাত্নতা তারই।

নারী-পুরুষ মিলেই এই
আলো সভ্যতার
দু’য়ের শ্রদ্ধা ভালোবাসায়
প্রগতি দুর্বার!

কিন্তু যদি মানুষরূপী
পশুর হাতে নারী
লাঞ্চিতা হয়, বঞ্চিতা হয়
কেমনে সইতে পারি?

সেই মা বোনের কী অপমান
আজকে পথে ঘাটে?
ডুকরে কাঁদে মানবতা
বুকটা তাদের ফাটে।

মূল্যবোধের সমন্নতি
করুণ কালের দাবি
সভ্য সমাজ কায়েম হবে
স্বপ্ন সুখের চাবি।
……………………………………………

আমার বোন

ভাইয়ের দরদ বোন ছাড়া আর
কেউ বোঝে না ভবে
বোনের মুখে ভাই বলে ডাক
শুনবো আবার কবে?

হয়না দেখা ইচ্ছে হলে
বোন থাকে বেশ দূরে
একটু খানি আদর পেতে
হ্নদয় আমার পুড়ে।

পাশে ছিল বোনটা যখন
আমার খবর নিতো
মজার খাবার তৈরি করে
আমায় খেতে দিতো।

মনে হলে সে-সব স্মৃতি
ভিষণ খারাপ লাগে
বোনটা যখন কাছে ছিলো
বুঝিনি তা আগে।

দোয়া করি বোনের জন্য
থেকো অনেক সুখে
কাটুক ভালো সারা জীবন
ফুটুক হাসি মুখে।
……………………………………………

এডিস মশা

এডিস নামের লেডিস্ মশা
কোথায় তোমার দেশ?
রক্ত খেয়ে অনেক মানুষ
করছো তুমি শেষ।

তোমার দ্বারা ডেঙ্গু জ্বরে
মরছে নানান লোক
সেই পরিবার আজকে দেখো
করছে কতো শোক!

কোলের অবুঝ ছোট্ট শিশু
নেই কোনো দোষ যার
কেমন করে কোন বিবেকে
খাও যে রক্ত তার!

বলছি এডিস তাই তোমাদের
আটলান্টিকে যাও
হাঙর তিমি যতো পারো
ইচ্ছে মতো খাও।
……………………………………………

চিরকালের ঘাঁটি

পাহাড় সমান অট্রালিকার
হিড়িক পড়েছে
জাতির ঘাড়ে কারা এমন
খামছে ধরেছে ?

বিবেক বেচে যেমনেই হোক
ফেলাট-বাড়ি চাই
হঠাৎ তুমি মরে গেলে
কী হবে রে ভাই ?

কোথায় পেলে এতো টাকা
দিলে কারে ধোঁকা
সঠিক হিসেব করে দেখি
আস্ত তুমি বোকা !

তোমার জন্য খুব প্রয়োজন
অল্প কিছু
মাটি
জনম-জনম সেটাই তোমার
চিরকালের
ঘাঁটি ।
……………………………………………

মনটা আমার

আমি থাকি ঢাকা শহর
মনটা থাকে দূরে,
আমায় রেখে মনটা কেনো
এদিক সেদিক ঘুরে?

আকাশ যেমন ঘটা করে
বদলে ফেলে রঙ,
আকাশের ন্যায় তেমনি করে
মন চলে ঢং ঢং।

আমি যখন পড়তে বসি
মন থাকেনা পাঠে,
মন যে আমার ঘুরেফিরে
শুধু খেলার মাঠে।

মনটা আমার বহুরুপী
রুপের ও নেই শেষ,
বহুরুপী মনটা আমার
ঘুরে সারা দেশ।
……………………………………………

জীবনটাকে গড়ি

আমরা যারা ছোট্ট শিশু
পড়ালেখা করি
জেনে-বুঝে জ্ঞানের শাখায়
জীবনটাকে গড়ি।

বলেন যেমন পিতা-মাতা
তাঁদের মতো চলি
চলার পথে সকল কাজে
সত্য কথা বলি।

ভুলে থাকি মান-অভিমান
আছি মিলেমিশে
গড়বো নতুন সুখের সমাজ
ভাবনা আবার কিসে?

দু-হাত বাড়াই দেশের জন্য
দেখবো সবার হাসি
জন্মভূমি সোনার স্বদেশ
অনেক ভালোবাসি।
……………………………………………

মায়ের সুবাস

যাই যেখানে দেশ-বিদেশে
সুখ থাকে না পাশে
হয় না বলা মনের কথা
মা’কে বারো মাসে !

মা যে সুখের মহাসাগর
এখন আমি বুঝি
লাল টমেটো মাছের ঝোলে
মনেমনে খুঁজি ।

মায়ের সুবাস বারেবারে
আমার কাছে আসে
অনুভবে অনুরণে
বুকের ভেতর ভাসে ।
……………………………………………

প্রিয় কবি
(কবি আল মাহমুদকে নিবেদিত)

কাব্য লেখেন ধানশালিকের
মায়ের ভাষার ছন্দে
পাখপাখালির ভাষা আঁকেন
হিজল বনের গন্ধে।

মাঠ পেরিয়ে ঘাট পেরিয়ে
ছুটে চলা চঞ্চল
ছাড়েন হঠাৎ গাঁয়ের নিবাস
চিরচেনা মফস্বল।

মায়ের মুখের ভাষার জন্য
ফেরার হলেন কবি
লেখাতে যার স্বপ্নে বোনা
আপন দেশের ছবি।

সোনার দেশের সোনার ছেলে
ঘুরেন সারা দেশে
স্বাধীনতার যুদ্ধে গেলেন
দেশকে ভালোবেসে।

গাজীর বেশে পাতায় পাতায়
সাজান কথার মালা
শাসকদলের রোষানলে
জোটে বন্দিশালা।

শিল্পিত মন শিল্পকলায়
বঙ্গবন্ধুর ডাকে-
কলম যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন
রুখবে কে যে তাঁকে?

লেখায় দেখান আলোর মিছিল
ভাষাজ্ঞানে বুঁদ বুঁদ
চেনে সকল বিশ্বলোকে
আমাদের আল মাহমুদ।