অপূরনীয় আকাঙ্খা

শুনছো?চোখের দিকে তাকাও
দ্যাখো না সমুদ্রের ধেয়ে আসা স্রোতের মতো
ধেয়ে আসছে দুচোখের নোনা জল!
হয়তো তোমার ছোঁয়ায় শান্ত হবে—
ধেয়ে আসা উত্তাল ঢেউ।

হঠাৎ কি, একটি কাক ডাকা ভোর আসতে পারে না!
ঘুম ভেঙেই দেখতাম—
ভালোবাসা এসে কড়া নাড়ছে আমার দরজায়।
কিংবা ঘুম ভাঙতে পারে না, মুঠোফোনের হাহাকারে!
কোন এক অপরিচিত জানাবে,
ভালোবাসা ফের ফিরছে আমার শহরে।
অথবা দখিনা হাওয়া কানে কানে ফিসফিস করে বলবে,
সে ফিরছে সে ফিরছে! এমন কী হতে পারে না!

আচ্ছা আকাশ তো জানে আমাদের সব কথা,
প্রায়-ই বলেছি আনমনে।
আকাশ কি পারে না আমাদের ভিতরকার দূরত্ব মেটাতে!
না কি সেও আমার মতো মেনে নিয়েছে,
দূরত্ব এমন কি হয়েছে—
এই আকাশের নিচেইতো আমাদের বসত!

দ্যাখো না বলতে বলতে দুচোখের নোনা জল
দু’গাল গড়িয়েছে—
অথচ তোমার ছোঁয়ার নাম নেই!
…………………………………………..

এবার যদি দেখা হয়

এবার যদি দেখা হয়
যদি দেখা হয় কোনো এক অবেলায়
চোখে চোখ রেখে—
ভালোবাসি কথাটা বলেই ফেলবেন কিন্তু!

অভিমান গুলোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে,
দূরত্বকে ভালোবাসার চাদরে মুড়িয়ে
হাতে হাত রেখে— এ শহর চষে বেড়াব আমরা।
একটু খানিও ক্লান্ত হবো না!

এবার যদি দেখা হয়
আপনার কাঁধে মাথা রেখে আকাশ দেখার জন্য,
ইঞ্চি খানেক জায়গা করে দিয়েন প্রিয়।

এবার যদি দেখা হয়
চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করার মতো,
ভরসা যোগ্য মানুষটি হয়ে থাকবেন কিন্তু!

এবার যদি দেখা হয়
একটু না হয় বেশিই ভালোবাসতে দিয়েন!
ভালোবাসার জন্য এক জনমটা যে—
বড্ড ছোটো প্রিয়।

সব অভিযোগ ভুলে গিয়ে না হয় একটু খানি
আগলে রাখবেন প্রিয়।
…………………………………………..

এ কেমন আপনিময় চাওয়া

এ কেমন চাওয়া!
পাওয়ার করিডোরে আপনিময় চাওয়া গুলো
ঘোর বিদ্রোহ ঘোষনা করেছে।
অথচ আপনি আটকালেন না,
তাদের এসে বললেন না ভালোবাসি!

দূরত্বের ছোবলে আহত ভালোবাসা আমার,
আপনি ঘোচালেন না দূরত্ব, না ঘোচলো সেই ক্ষত!

ব্যথার সুরে গাঁথা আপনিময় চাওয়া গুলো,
আমি নিজেকে বুঝাতে চেয়েও পারিনি!

আয়নায় নিজের অবয়বের দিকে তাকিয়ে
জিজ্ঞেস করতে পারিনি আমি কেমন আছি!
কী করেই বা জিগ্যেস করি!
ঐ যে আপনাকে চেয়ে একদম ভালো নেই আমি।

অথচ এই ভালো না থাকার ভীড়ে—
আপনাকে চেয়ে চেয়ে বহুকাল কেটে গেলো।
…………………………………………..

যদি কখনো খুঁজে না পাও

যদি কখনো খুঁজে না পাও আমাকে,
চিঠি লিখে ঝড় তুলে দিও তোমার আমার সেই চেনা শহরে।
মধ্য রাতের তারার ভিড়ে না হয় একটু খানি খুঁজে দ্যাখো।

আমার প্রিয় বেলি ফুলের মালা এনে
অভিমানী প্রেমিকের মতো মখুভার করে চিরকুট লিখে –
আকাশে উড়িয়ে দিও,
লিখে দিও জমানো সব অভিযোগ
আমাকে ছাড়া তুমি ভালো নেই।
একদম ভালো নেই।

সমুদ্রের ধেয়ে আসা স্রোতের মতো
বিশাল এক অভিমান করে না হয় একটু বলে দিও,
এভাবে না বলে কেউ কিভাবে হারিয়ে যায়!

আমিও দেখবে আচমকাই আকাশ জয়ী—
এক দুষ্ট হাসি দিয়ে তোমার সামনে দাঁড়াবো,
তোমার চোখগুলো বিস্ফোরিত হয়ে ওঠার আগেই
ঝাপটে ধরে বলবো,
তোমার এমন অভিমানী শাসনেইতো আমার ভালোবাসা বাঁচে।
তুমি খুঁজবে বলেই তো আমি এমন সহস্রবার হারাতে চাই।
…………………………………………..

যদি মন ভাঙার শব্দ হতো

যদি মন ভাঙলে শব্দ হতো!
আশে পাশে মানুষ গুলোর মন ভাঙার বিকট শব্দে
বধির হয়ে যতেন হতো,
তবে হয়তো বুঝতেন মন ভাঙার কি অসহ্য কষ্ট।

যদি মন কাঁদলে প্রলয় শুরু হতো!
তবে দেখতেন সে প্রলয় কেমন করে সব লন্ডভন্ড করে দেয়,
বুঝতেন বাইরের প্রলয় যেমন সব লন্ডভন্ড করে দেয়—
ভেতর ঘরেও ঠিক তেমনই হয়।

যদি মন পুড়লে একটা আস্ত নগর পুড়ে যেতো!
তবে দেখতেন সে নগরে কতো হাহাকার কতো লাশ পোড়া ছাই,
বুঝতেন মন পোড়া মানুষটি ভেতরে কতোটা হাহাকার নিয়ে রয়।

যদি মন ভাঙার শব্দ হতো!
যদি মন কাঁদলে প্রলয় শুরু হতো,
যদি মন পুড়লে একটা আস্ত নগর পুড়ে যেতো,
তবেও কি মানুষ মন ভাঙা মানুষটির দিকে তাকিয়ে
বিদ্রুপ এর হাসি হাসতো!
নাকি তার আত্মচিৎকার শুনবার চেষ্টা করতো?
…………………………………………..

বিচ্ছেদের পরে

কি বলে সম্মোধন করবো আপনাকে প্রিয় নাকি অপ্রিয়?
আপনিতো প্রিয় কিংবা প্রিয়র বিপরীত অপ্রিয় কোনটাই নন।
আপনিতো প্রিয়-অপ্রিয়র মাঝখানে ঝুলে থাকা—
অসহ্য কর মানুষটা।
আর প্রাক্তন! প্রাক্তন শব্দটাও কি যোগ করবো?

আমি তো চেয়েছিলাম আমাদের একটা ঠিকানা হোক,
শত অবহেলা,অভিমান,অভিযোগে,
রাগ-অনুরাগের পরেও যেখানে ফিরতে চাইবে মন।
আমিতো চেয়েছিলাম আমাদের সম্পর্কের একটি নাম হোক।
আমিতো চেয়েছিলাম আমাদের ছোট্ট একটি সংসার হোক।
কই! কখনোতো বিচ্ছেদ চাইনি।
আর আপনি! হাহাহা…

বিচ্ছেদের পর, যেদিন প্রথম আপনাকে দেখেছিলাম,
না চোখ ফেরাতে পারিনি একদম চোখ ফেরাতে পারিনি
একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে আপনাকে দেখছিলাম।
আচ্ছ আপনার কি একদমই আমার কথা মনে পড়ে না!
একটু দেখার তৃষ্ণায় হৃদপিণ্ডটা ছটফট করে না?
আকাশ দেখতে গিয়ে দুচোখ ঝাপসা হয়ে আসে না!
আর চায়ের কাপে চুমুক দিতে গিয়ে মনে পড়ে না
কেউ একজন — আপনি চায়ে চুমুক দেওয়ার আগেই
এঁটো করে দিতো।

পুরনো স্মৃতিরোমন্থন করতে গিয়ে চোখদুটো
জলে ঝাপসা হয়ে এসেছিলো,
তবে তাদের যে গড়িয়ে বাইরে পড়া বারণ।
আমি জেনে গিয়েছি যে যেতে চায় তাকে যেতে দেওয়া উচিৎ।
আমিও মনকে হাজারো বাহানায়—
শক্ত করে সামনের দিকে এক পা দু পা করে এগিয়ে ছিলাম,
হ্যাঁ! এগিয়ে ছিলাম আমাকে যে এগোতেই হবে।
…………………………………………..

তাকে বলা হয়নি ভালোবাসি

একসঙ্গে কতোটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি
গোধূলি পেরিয়ে সন্ধ্যা— সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমে এলো,
অথচ, তাকে বলা হয়নি ভালোবাসি।

তাকে ভেবে আনমনে চায়ের কাপে ঠোঁট দিতে—
ঠোঁট পুড়েছে অজস্র বার,
অথচ,সহস করে তাকে বলা হয়নি ভালোবাসি।

থার্মোমিটারে জ্বর যখন একশো এক, জ্বরের প্রভাবে বিলাপে বকেছি তাকে ভালোবাসি,
অথচ, সামনাসামনি দাঁড়িয়ে মুখ ফুটে তাকে বলা হয়নি ভালোবাসি।

সহস্রবার ভেবেছি এবার সামনে আসলেই—
চোখে চোখ রেখে চিৎকার করে বলে দেব ভালোবাসি,
অথচ, সামনে এসেছে চোখে চোখ রেখে কোনো এক অজানায় হারিয়ে গিয়েছি শুধু তাকে বলা হয়নি ভালোবাসি।
…………………………………………..

শুধু আপনি চলে যাননি

শুধু আপনি চলে যাননি সাথে নিয়ে গেছেন—
হাসি, আনন্দ, শব্দ, সুর…
দিয়ে গেছেন কান্না,ব্যথা,বেদনা,নিরবতা।

শুধু আপনি চলে যাননি নিয়ে গেছেন—
আমার প্রতিটি স্নিগ্ধ সকাল,দুপুরের ভাতঘুম,গোধূলি বিকেল,
চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া নীলাভ সন্ধ্যা।
দিয়ে গেলেন বিষন্নতায় মোড়ানো সকাল,
সহস্র হাজার বছরের মতে দীর্ঘ এক একটি রাত।

শুধু আপনি চলে যাননি—
নিয়ে গেছেন ভালোবাসার চাদরে জড়ানো সকল অনুভূতি,
আমার ভালোবাসার নীলচে আকাশ।
দিয়ে গেলেন বিষাদে টইটম্বুর জীবন,
ভয়ংকার কালো মেঘে ঢেকে যাওয়া আকাশ।

শুধু আপনি চলে যাননি,
নিয়ে গেছেন সকল ভালো থাকা,
দিয়ে গেলেন আমার মন খারাপের প্রতিটি বেলা—
আমার মন খারাপ যেন আর ফুরায় না,
চোখ থেকে ঝরে পড়া ছন্নছাড়া বর্ষার মতো অশ্রু যেন থামে না।

শুধু আপনি চলে যান নি—
দিয়ে গেছেন আপনিহীনা নির্বাসিত জীবন।
…………………………………………..

কথা রাখেননি

আপনি কথা রাখেননি বলে,
আমার শহরে কৃষ্ণচূড়া ফুটে অকালেই ঝরে গেছে অভিমানে।

কথা রাখেননি বলে,
আপনাকে লেখা চিঠি গুলো স্মৃতি হয়ে হৃদপিন্ডের সর্বাংশ দখল করবার আগেই পুড়িয়ে ফেলেছি।

আপনি কথা রাখেননি বলে,
আর নিদ্রাহীন রাত কাটাইনি—
আপনাকে হারানোর অজানা ভয়ে
নিজেকে জড়সড় করে নেই নি।

জানিতো কথা রাখা ঠিক আপনার সাথে যায় না।

জানি কথা রাখবে না বলেইতো,
ভালোবাসার অজুহাতে অ-ত অধিকার ফলাতে যাইনি।
মুক্ত পাখির মতো আপনাকে ছেড়ে দিয়েছি।

ভালোবাসায় যে জোর করে আটকে রাখতে নেই।

জানি কথা রাখবেন না,
তাই তো আপনার কথা না রাখার কষ্ট গুলোকে
চোখের জল হয়ে গড়িয়ে পড়তে দেইনি।

কথা না রাখা মানুষের জন্য আবার কিসের কান্না কিসের বেদনা!
…………………………………………..

ফিরে এলে আবার নতুন করে ভালোবাসবো

চলুন প্রিয়তম,
আমাদের মাঝে থাকা দূরত্বটাকে দীর্ঘপথ না করে
কাছাকাছি চলে আসি,
এই দূরে থাকা আর কত কাল?

ব্যস্ততম শহরে আমরা আমাদের নিঃসঙ্গতাকে বিক্রি করে
প্রেমের বীজ বুনি,
শ্রাবনের মাঝামাঝি নতুন চারা ধরবে
কচি পাতায় চারপাশে সজীবতা ছড়াবে।

নামি-দামি রেস্টুরেন্টে যাওয়ার দরকার নেই আমাদের,
ফুটপাতের দোকান থেকে লিকার দেওয়া চায়ে—
ভালোবাসা খুঁজে নেবো,
চিনি একটু কম পড়লেও চলবে
আপনার একরাশ মুগ্ধ করা হাসি মিশিয়ে খেয়ে নেবো।

আমাদের সহস্র স্মৃতি বহন করা নদীর
ধারে রাধাচূড়ার নিচে বেঞ্চিটার কাছে,
এই বর্ষার দিনে ছন্নছাড়া বর্ষার প্রচন্ড বর্ষণে
ভিজলেও সর্দিকাশিতে বেশি দিন ভোগার ভয় নেই —
নীড়ে ফেরা পাখির মতো নীড়ে ফেরার আগে একপাতা প্যারসিটামল কিনে নেবো।

চলুন না প্রিয়তম,
আমাদের ভালোবাসার শরতের আকাশে হঠাৎ জমা হওয়া মেঘটাকে ভালোবাসা দিয়ে সরিয়ে ফেলি।
ভালোবেসে আমৃত্যু একসাথে পথ চলায় অঙ্গিকার বদ্ধ হই।