ভয়

বেঁচে থাকার ভয়ে মানুষ
মহামারিকে ডেকে আনছে৷

সাদা কালো নিয়ন্ত্রিত পীতবর্ণ পোশাকের ভয়,
জন্ম হলেই মৃত্যুর ভয়
উত্থান এবং পতনের ভয় ৷

ভয় এখন জাতীয় শুয়োপোকা
শেকলে বন্দী মানুষ অসহায় জন্মভূমি৷।
…………………………………………..

সাবস্ক্রাইব করে বেল বাজিয়ে দাও

যদি ভালোবাসো
তবে সাবস্ক্রাইব করে বেল বাজিয়ে দাও!
তোমায় দেখাবো কতটা ফুলেছে পাস্তুরিত দুধের বেলুন।

কি ভাবছো! শুধু সাবস্ক্রাইব করবে ,বেল চাপবেনা!
একবার চেপেই দ্যাখো
তোমায় আপডেট দেব বুজুর্গদের বৈঠকখানায়
মৃত মুরগির জন্য কিভাবে বসে আছে একটি কুকুর!

মানব জনমের কী খবর
সেই কবে একটি ফল খেয়ে
মহাশূণ্যের অসীম আদম আলোকবর্ষ থেকে
উড়তে উড়তে টুপ করে পড়ে সৌরজগতের এই গ্রহে,
এরপর নগ্নতায় শুধু খুন গুমের ধারাবাহিক অনুষ্ঠান
আর প্রতি ব্রাউজে ধর্ষিত বাংলার মুখচ্ছবি।

যদি গুম গুজবের খবর চাও
তবে সাবস্ক্রাইব করে বেল বাজিয়ে দাও!!
…………………………………………..

আকাশটা ছুঁড়ে মারো রাত্রির দিকে

আকাশটা ছুঁড়ে মারো একবার রাত্রির দিকে!
শুঁকে দ্যাখো একবার
কত পোড়া পোড়া গন্ধ মিশে আছে
আকাশের গায়ে!
চেয়ে দ্যাখো একবার
কত ছোট ছোট ধূলিকণা মিশে আছে বাতাসের নিঃশ্বাসে!

কত মেঘ!
কত আবেগ!
কত জমা রাখে দুঃখবতী কষ্টের জল!

কত গল্প!
কত আকল্প বারুদের হাট!
কত না বলা কথা ডুবে যায় অথৈ অতল!

শুধু একবার আকাশটা ছুঁড়ে মারো রাত্রির দিকে!
কে বেশী কালো?
কে কাঁদে বেশী আজও গোপনে?
কে নিরুপায়!
কে অসহায় সময়ের কাছে!
কারা ছেড়ে গেছে নির্মল আলো
কারা ছেড়ে গেছে পথের সাথীকে!

তবু একবার ওই আকাশের হৃদয়টা দ্যাখো,
শুধু একবার,
কালো পাষাণ হিংসুটে রাত্রির চেয়ে
সে আজও কতটা উদার!!
…………………………………………..

বিসুবিয়াসের গান

মরে যাইনি আজো
দৃশ্যতো বেঁচে আছি নৈঃশব্দের আস্তাবলে
শুধু অন্যায়-অবিচার
স্বাধীনতার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার ।

রাজনীতি নেই
বিপ্লব নেই
ভালোবাসাও উড়ে গেছে
ফলবতী দারিদ্রের প্রসব বেদনায়!
কেবল টগবগানো শুনছি
বাংলা গানের গলিতে কিছু কাক
ভাতের জন্য করছে বিচরণ!

অসংখ্য শ্রোতা বিমুখ বসন্তের আশায়
পায়চারী করছে হৃদয়ের জানালায়
অথচ কেউ গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রায়
গাইলোনা বিসুবিয়াসের গান।।
…………………………………………..

ক্লাউন নও, ভাঁড়

প্রেম যেন বিবর্তনের তৈলাক্ত বাঁশ
নিয়ন্ত্রিত ট্রেডিশনে চলা যৌবনাশ্রমের স্বপ্ন বিলাস
আমি ক্লাউন তুমি ভাঁড়
আমি প্রেম, তুমি ঘৃণা৷

প্রেম ফুরালেও প্রেমের পথ ফুরায় না
নদীমাতৃক এই দেশে
বাসা বেঁধে আছে কতো আবাসিক ইলিশ ৷

সরকারি দপ্তরে মেহেদি মাখা দাঁড়ির আফিসার
লোকটি ঘুষ খায়!
চূড়ান্ত অসৎ হয়ে সৎ জাহিরে
চালায় ধর্মের স্পীড আবরণ
সন্তানের দুধের টাকা বেতন থেকে
আলাদা রাখার ভাঁড়ামিতে করে নির্লজ্জ রসিকতা ৷

এই স্বর্গোদ্যানে তুমি সামুদ্রিক রাক্ষস
তুমি ক্লাউন নও আপাদমস্তক ভাঁড়, ক্লাউন নও,ভাঁড়৷।
…………………………………………..

কুৎসিত সুন্দর

মাতৃগর্ভের অন্ধকার নেমে এসেছে
স্থবির বৃক্ষের মতো শব্দহীন
কি নিদারুন বিষাদে মানুষ মৃত্যুশাসিত চারপাশ
একাই বয়ে চলছে দৃশ্যমান রক্তস্রোত।

কেউ সুস্থ হচ্ছে আল্লাহর অলৌকিকতায়
কেউবা আত্মগরিমায়
বিকলাঙ্গ করছে শিল্পকলার হৃদয় ।

আমি উৎপীড়িত বলেই
তোমার চোখ এতো কুৎসিত সুন্দর!!
…………………………………………..

লিবারেল আন্দোলন

আজকাল পর্বতের দিকে দৃষ্টিপাত করে বিস্মিত হই!
কিভাবে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করছে,
অথচ মানুষ সূর্যকলঙ্কে মেঘাচ্ছন্ন আকাশের নিচে
কতটা স্বৈরতান্ত্রিক এই প্যাকেজ সময়৷
কতটা পাপাশ্রয়ী তোমার মন৷

আফসোস হৃদয়ের দাম বুঝনা তুমি!
ছলনায় ভরে দাও প্রেমের বাগান৷

একদিন প্রলয়ঙ্কারী ঝড় হবে লিবারেল আন্দোলন।।
…………………………………………..

বিশ্বাসের বারুদ

প্রেমের কবিতা লিখে আঙুল পচে গেছে
গলেনি এক অবিশ্বাসী হৃদয়ের
বিজ্ঞাপন ভীমরতি ৷

কেউ স্বপ্ন বুনছে সূর্যোদয়ের
কেউবা সূর্যাস্তের কালো জলাশয় দেখে বলে
এখন সময় অন্ধকার নারী পুরুষত্বহীন চারপাশ ৷

বুকের ব্যারাকে আছে বিশ্বাসের বারুদ
একদিন এসিড বৃষ্টি হবে এই অসভ্য শহরে৷।
…………………………………………..

মিথ্যাই সুন্দর

বুকের আগুন ঢেকে
এই পোড়া দেশে সত্য জেনে লাভ নেই বন্ধু,
মিথ্যাই শান্তি,মিথ্যাই স্বস্তি!

সত্যের অসীম যন্ত্রণা বহন করে
তোমার মিথ্যা সহচার্যের দিকে তাকিয়ে
নিজেকে কেবল ফাঁকি দিয়েই চলছি হৃদয়হীন৷

এই দেশে মিথ্যাই জয়ী হয়, মিথ্যাই পরম সুন্দর৷।
…………………………………………..

শিল্পকলায় হেরার চরিত্র

আজকাল তুমি বড্ড সেলফিস!
তোমার চলন বলন হাসি কান্না সবই বিশ্বাসের পরিপন্থী
আমাকে আর নতজানু করেনা তোমার চোখ।

প্রেমের পথে হেরেছি বলে
নেই অতীত বর্তমান ভবিষৎ
যতটুকু পথচলা জানবো মানুষের কল্যাণ।

আমি দলদাসের উদভ্রান্ত নই
চির সত্য ও সুন্দরের পূজারী
দূরদর্শনে এক সম্ভাবনাময় দরদী সমাজ কারিগর।

আমার হূদয়টা উর্বর মাটিতে সমৃদ্ধ
তুমি বিচরণ কর বিশুদ্ধ চিত্তে
পাবে সোনালি আওয়াজ।

আমি বরাবর ডাক দিয়ে যাই আত্মপরিচয় হারানো
এক সম্প্রদায়ের হারানো শিল্পকলার মন্ত্রে
তুমি নির্মল হও
আমি হেরার চরিত্রে আবির্ভূত হই
আমি হেরার চরিত্রে আবির্ভূত হই।