উষ্ণ অভ্যর্থনা আর আলোকসজ্জার শহর,ইস্তাম্বুল, কারুকার্যে শিল্পের আবরণে ঢাকা,ইস্তাম্বুল। ষোল শতাব্দির ইসলামের নিদর্শন ব্লু মসজিদের শহর, ইস্তাম্বুল। ঐতিহ্যের অহংকার হাজিয়া সোফিয়া যাদুঘর,ইস্তাম্বুল। হাতের বালা, নাকের নোলক আর লাল গালিচায় গ্রান্ড বাজার,ইস্তাম্বুল। শহরের শহর প্রাচীন শহর,আধুনিক পণ্যের সমাহারে সুসজ্জিত ইস্তাম্বুল।

ইস্তাম্বুলের সৌন্দর্য ঐতিহাসিক নীল মসজিদ। এটি মূলতো সুলতানি আমলের মসজিদ। দৃষ্টি নন্দন গুম্বজে এবং নীল রঙের টাইলসের কারণে বিশ্ব জুড়ে প্রশংসিত, সমাদৃত। ১৬০৯ থেকে ১৬১৫ সালে এটি নির্মাণ করা হয়। ব্লু মসজিদের ধারণ ক্ষমতা প্রায় দশ হাজার। এই তো সেদিন স্ব-পরিবারে এই মসজিদটি দেখা, ভেবেছিলাম এসেই কিছু লিখে, স্মৃতি গুলি অক্ষত রাখবো। কিন্তু না সময়ের সল্পতায় সাথে সাথে লিখতে পারলাম না। তবুও যেটুকু মনে পড়ছে তা আমার ডাইরির পাতায় লিপিবদ্ধ করতে চাই।

মুসলমান বিশ্বাসী এবং এই সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে সব সময়ই ইসলামের ইতিহাস সংস্কৃতি জানার এবং দেখার স্পৃহা কিংবা প্রবণতা কুরে কুরে খায়। ঠিক তেমনি সেদিন সেই ব্লু মসজিদটি দেখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলাম। কথা মতো দুপুরের খাবারের পরপরই রওনা দিলাম। হোটেলের সামনে দাঁড়ানো ছিলো হলুদ রঙের ট্রাক, সামনের সীটে আমার স্বামী আর পিছনের সীটে আমি বাচ্চাদের নিয়ে বসে পড়লাম। ট্রাক ড্রাইভার কিছুটা ইংরেজি ভাষা বুঝতে পারায়,তেমন সমস্যা হলো না গন্তব্যের কথায়। তাছাড়া ব্লু শব্দই তো ইংরেজি আর মসজিদ বিশ্ব জুড়ে মসজিদ বলেই খ্যাতি। বাব্বা লেফ্ট রাইট করতে করতে প্রায় পঁচিশ ত্রিশ মিনিটে পৌঁছে দিলো সেই কাঙ্খিত ব্লু মসজিদের বড় গেইটের সামনে। বাহ্ একপলকেই মুগ্ধ হলাম। সেই চার হাজার বছরের আগেকার নির্মাণ এখনো বহাল তবিয়তে দাঁড়িয়ে আছে। এখনো মানুষের মনে প্রাণে দৃষ্টি নন্দন করে যাচ্ছে। বিশাল আকৃতির গুম্বজ দেখে মনে হয় এ বুঝি সদ্য নির্মিতব্য, আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে নির্মাণযঞ্জ।

কিন্তু না তুরস্কের সভ্যতা সংস্কৃতির ঐতিহ্য সে যে অনেক আগের তা প্রমাণিত। এখনো বহাল তবিয়তে দাঁড়িয়ে আছে এই ব্লু মসজিদ। মুসলমানদের জন্য গৌরবের এবং ইতিহাসবিদদের আগ্রহের, আর ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য উৎফুল্লতার। কে বলবে আগেকার যুগের রাজা মহারাজা শুধু নারী পিপাষু ছিলো,কে বলবে আগেকার মানুষ সভ্য ছিলো না। অন্তত পক্ষে এমন একটি নিদর্শন দেখে আমার তো তা মনে হয়নি। ধীরে ধীরে মসজিদের ভেতরের খোলা অংশের সম্মুখে গেলাম। বাহ্ সে আরেক অপূর্ব নিদর্শন। নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। গল্প কবিতায় পড়লে বলতাম হয়তোবা,আচ্ছা ইত্যাদি। দুটি দিক দেখতে না দেখতেই মাগরিবের আজান হলো, অজু শেষে সেখানে নামাজ আদায় করলাম। দোয়া করলাম ইসলামের সেই মহাপুরুষদের জন্য। দোয়া করলাম আমার এবং আমার পরিবারের জন্য। দোয়া করলাম মুসলিম উম্মাহ’র জন্য। নামাজ শেষে ঐ মেইন গেইটে আশা পর্যন্ত বারবার পিছনে ফিরে চেয়েছি, মন বলছে আরও কিছুক্ষণ ওখানেই যেনো থাকি।

ফিরে দেখা ইস্তাম্বুল

করোনা ক্রান্তি অবসাদ মন,
আমার ধূসর শহরের আজ ভারী অভিমান।
নৈঃশব্দের দুয়ার খুলে,
ফিরে দেখি ইস্তাম্বুলের নীলচে গোলাপি আসমান।
উষ্ণ অভ্যর্থনা
আর আলোকসজ্জার শহর, তুরস্কের ইস্তাম্বুল।
কারুকার্যে শিল্পের আবরণে ঢাকা, ইস্তাম্বুল।
ষোল শতাব্দির ইসলামের নিদর্শন ব্লু মসজিদের শহর, ইস্তাম্বুল।

হতবিহ্বল আমার বিচরণ, ইতিহাসের সেই পাতায় ।
দেখেছি দৃষ্টিনন্দন গম্বুজে নীল রঙের টাইলস।
দেখেছি বর্ণিল আলোকসজ্জার রোশনাইর উদ্ভাসন।
দেখেছি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন।
দেখেছি সেই চার হাজার বছরের নির্মাণ বহাল তবিয়তে দাঁড়িয়ে আছে।
ধারণক্ষমতা প্রায় দশ হাজার।

গল্প কবিতায় পড়লে বলতাম হয়তোবা, আচ্ছা, অপুর্ব ইত্যাদি।
নিজ চোখে এ যে অপার মহিমা অবলোকন।

ইসলামের মহীয়সী নারী হাজিয়া সোফিয়ার মসজিদ।
যেখানে আমি আমার আত্মজরা প্রভুর নৈকট্য লাভের অনুগ্ৰহে কপোল ছুঁয়ে চুমে দিয়েছিলাম লাল জায়নামাজ।

দেখেছি ঐতিহ্যের অহংকার হাজী সোফিয়া মহীয়সী নারীর মিউজিয়াম সযত্নে রাখা ইসলামের নিদর্শন।

একাগ্রতা নির্জনতায়,
সঙ্গীর আরোগ্য প্রার্থনায় উঠেছে হাত
সুলেমানি মসজিদে।

নূরে-ই মসজিদ দেখে অভিভূত নয়ন অজস্র স্বপ্ন ছড়ায় খোয়াবনামায়।
সৃষ্টির সেরা জীবের শ্রেষ্ঠ নিপুন শিল্পের খাঁজে খাঁজে
নিবিষ্ট স্বর বেজে ওঠে অবিরত।
ফিরে দেখা ইতিহাসের
বিখ্যাত গ্রান্ড বাজার
হাতের বালা, নাকের নোলক আর লাল গালিচায় গ্রান্ড বাজার, ইস্তাম্বুল।
নরেসীমা মসজিদে জন্মদাত্রীর মমতার ঋণে উঠেছিল হাতদুটো অশ্রুসিক্ত নয়নে।
প্রিয়জনের মঙ্গল কামনার্থে।

সুলতান আহমেদের অলিগলি
ছুঁয়েছি আকাশ বাতাস
গোধূলির রং মেখে নীলে নীল আভা-উজ্জীবন।
বার্তা পাঠিয়েছি বিশ্ব উম্মার ঐক্য শান্তি সংহতির সঠিক পথের কল্যানের।

নূরে-ই মসজিদে আযানের আহবানে অপার্থিব মূর্ছনায় হৃদয় পুলকিত যখন,
রজনীর শেষ প্রহরে খুঁজেছি স্রষ্টার সত্তার বিশালতাকে।
মহান রাব্বুল আলামিনের নৈকট্যে পেয়েছি আমি পূর্ণতা।