পৃথিবী এমন এক দল কুলশিত মানুষের হাতে বন্দি যারা প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করে। এক হাতের রক্ত শুকাতেই অন্য হাত রক্তে রঞ্জিত করে তোলে। তাদের উপর লানত। তারা পৃথিবীর শান্তিকে বিনষ্ট করে। শান্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আমরা। মানবতা যেখানে ভূলুন্ঠিত সেখানেই আমাদের কলম জেগে ওঠে।
ফিলিস্তন এমন এক ভূখন্ড যেখানে প্রতিনিয়ত হত্যাকারীদের হাতে রক্ত লেগে থাকে। তারা প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করে। মানুষ হত্যাকারী ইয়হুদীদের প্রতি আমাদের অভিশম্পাত। আর যে ইয়াহুদী শান্তি চায় তাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা। আমরা শান্তি পক্ষে। যেখানেই শান্তি সেখানেই আমরা আমাদের ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে আসি।
ফিলিস্তিনে যে হত্যা হচ্ছে তাকে যারা সমর্থন করে তারাও হত্যাকারী। তাদের প্রতিও লানত। আমরা ফিলিস্তিনিদের অধিকার চাই। যার যতোটুকু অধিকার তার ততোটুকু অধিকার ফিরে পাক এই আমাদের কামনা।
আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের ধর্য ও সাহস দিন। যাতে তারা হত্যাকারীদের প্রতিশোধ গ্রহণ করে পারে।
ইয়াহুদী হত্যাকারীদের বিপক্ষে দাড়িয়ে যে সকল কবি সাহিত্যিক তথা সৃজনশীল মানুষ কথা বলেছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
আফসার নিজাম, সম্পাদক
……………………………………………

সুচিপত্র

আমি একজন আরব (ছাজ্জিল আনা আরবি) :: মাহমুদ দারবিশ
সৃজনানুবাদ : আদিল মাহমুদ
বন্ধ করো, ফেটে পড়ো :: শাহনাজ পারভীন
শোক :: মাঈন উদ্দিন জাহেদ
ফিলিস্তিন ও আল আকসার পদাবলী :: তাজ ইসলাম
কেন এমন হলো! :: দিল মুহাম্মদ
আল জিহাদু ওয়াল জিহাদ :: মাহবুব এনামী
বৈরুত, আগস্ট ১৯৮২ :: ঘাসসান জাকতান :: সৃজনানুবাদ : রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী
ফিলিস্তিনের জন্য ভালবাসা :: নাদির ইলিয়াছ
জেরুসালেম :: মুনির মাজেদ
ফিনিক্স শিশু :: সুমন আহমেদ
ফিলিস্তিন :: আমিন ইবনে করিম
মুভমেন্ট :: ফাতিনা আল-গররা
ফিলিস্তিন জিন্দাবাদ :: মোঃ আবদুল গনী শিব্বীর
ফিলিস্তিনের গান– ৪ :: শারমিন সুলতানা
ফিলিস্তিন :: রাবেয়া বশরী বর্না
রক্তাক্ত ফিলিস্তিন :: আর. কে. শাব্বীর আহমদ
ফিলিস্তিনের পঙতিমালা :: রেজা ফারুকী
মোনাজাত :: আবুল খায়ের বুলবুল
প্রশ্নবিদ্ধ মানবাধিকার :: এম. তামজীদ হোসাইন
……………………………………………

আমি একজন আরব (ছাজ্জিল আনা আরবি)
মাহমুদ দারবিশ
সৃজনানুবাদ : আদিল মাহমুদ

লিখে রাখুন!
আমি একজন আরব
আমার পরিচয়পত্রের নম্বর পঞ্চাশ হাজার
আট ছেলে-মেয়ে আমার
নবমটি পৃথিবীতে আসবে গ্রীষ্মকালে
তোমরা কি ক্ষুব্ধ হবে তাতে?

লিখে রাখুন!
আমি একজন আরব
শ্রমিকদের সঙ্গে পাথর ভাঙার কাজ করি
আট ছেলে-মেয়ের বাবা আমি
আমি ওদের জন্য
রুটি, জামাকাপড়, বইখতার ব্যবস্থা করি-
পাথর ভাঙার কাজ করে।
আপনাদের নাছদুয়ারে এসে ভিক্ষা চাই না
মাথাও নত করি না দোরগোড়ায়
তো আমার উপর মেজাজ গরমের কী হল?

লিখে রাখুন!
আমি একজন আরব
পদবিবিহীন আমার একটা নাম আছে
যেদেশে মানুষজন ক্ষুব্ধ-
সেই দেশে আমি এক সহিষ্ণু মানুষ।
যখন সময় জন্ম নেয়নি
যুগপ্রবাহ ফুলেফেঁপে ওঠেনি।
সাইপাস-জলপাই গাছের আগে
লতাগুল্মাদির বংশবৃদ্ধিরও পূর্বে-
আমি এদেশে শিকড় গেড়ে বসে আছি।

আমার আব্বা এসেছেন-
লাঙল-ঠেলা পরিবার থেকে
সম্মানিত বংশের কেউ নন তিনি
আমার আব্বার বাপও ছিলেন চাষী
বংশ পরিচয় চোদ্দ কুলের হাল-হাকিকত-
ভালো করে জানা আছে।

আমার ঘর-বাড়ি বলতে-
একটি দারোয়ানের কুঁড়েঘর
কঞ্চি পাটখড়ি এসবে তৈরি।
আমার এই পরিচয় কি আপনি খুশি?
আমার নাম আছে, কোন পদবি নেই।

লিখে রাখুন!
আমি একজন আরব
আমার চুলের রং মিশকালো
চোখের রঙ তামাটে
আমার একটি গ্রাম ছিল
এখন নিশ্চিহ্ন।
গ্রামের রাস্তাগুলো নামহীন
মানুষগুলো পাহাড়ে—
বা অন্য গ্রামে বাস করে
অনেকেরই হয়তো মনে নেই এই গ্রামের কথা
এতে তোমাদের মেজাজ গরমের কি হলো?

লিখে রাখুন!
আমি একজন আরব
আপনারা তো আমার পূর্বপুরুষের-
আঙুরক্ষেত দখল করেছেন
জমিও কেড়ে নিয়েছেন
যা আমি ও আমার ছেলেরা মিলে চাষ করতাম।
আমাদের নাতিপুতির জন্য-
আপনারা কিছুই অবশিষ্ট রাখেননি
শুধু এই পাথরগুলো ছাড়া।
জানি, এটাও আপনাদের সরকার কেড়ে নিবে

অতএব!
এক নাম্বার পাতার উপরে লিখে রাখুন
আমি মানুষকে ঘৃণা করি না
দখল করি না অন্যের জমি
কিন্তু যখন ক্ষুধার্ত থাকি-
জবরদখলকারীর মাংস হয় তখন আমার খাবার
সাবধান! সাবধান …
আমার ক্ষুধার ও রাগ থেকে দূরে থাকুন!
……………………………………………

বন্ধ করো, ফেটে পড়ো
শাহনাজ পারভীন

ফিলিস্তিনে বর্বরতার গণহত্যা বন্ধ করো
ফিরিয়ে দাও আবাসভূমি তাদের মতো, নিজের করে
দাও ফিরিয়ে কন্যা, শিশু, নারী, বৃদ্ধের স্থিরতা
স্বাভাবিক এক জীবন যাত্রা ফিরিয়ে দাও তাদের ঘরে।

বিশ্ববাসী টনক নড়াও, এক হয়ে যাও, এক হয়ে যাও
ইসরায়েলী বাহিনীর এই জঘন্যতম হামলা থামাও
বিরুদ্ধ সব মতবাদের ‘বিশ্বমত’ এক গড়ে তোলো
জায়নাবাদের বিরুদ্ধে আজ আগুন ঝরা শ্লোগান তোলো।

কোথায় গেলো জাতিসংঘ, কোথায় তোমরা বিশ্ব মোড়ল
রুখে দাঁড়াও, সোচ্চার হও প্রতিবাদে, প্রতিবাদে।
মিশর, কাতার, সৌদি রাজা আজব জিনিস, আজব কিসিম!
আঙুল চোষা পাকিস্তানও চুপ কেন আজ কোন আহ্লাদে?

মৃত্যূ থামাও, আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসো
বজ্র নিনাদ কাঁপন তুলে ছড়িয়ে দাও দিগ্বিদিকে
আকাশ বাতাস যাক ফুঁড়ে যাক, গুড়িয়ে যাক চতুর্দিকে
নিপিড়ীতের পাশে দাঁড়াক, নতুন করে একটু হাসো।

এই হামলা থামিয়ে দাও, আওয়াজ তোলো ফের নিনাদে
সোচ্চার হও ইন্দন সব বন্ধ করো, বন্ধ করো।
বিশ্ব মোড়ল বিবেক কেন বন্ধকী ফের, নতজানু
আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে আজ বেপরোয়া এমনতরো?

উপসনালয়, গণমাধ্যম, নারী, পুরুষ বাদ নেই কেউ
সবার ওপর উপচে পড়ে ঝলসানো এক নরকের ঢেউ
বিশ্ব যখন করোনাতে মৃত্যূমুখী, বিপর্যস্ত;
এমন সময়েও হারামজাদা হামলা করে বর্বোচিত
ফিলিস্তিনির দখলী ধারা চলতে আছে অব্যাহত
গণহত্যায় উঠলো মেতে অবিবেচক, অবিন্যস্ত।

এতিম শিশু কান্না করে ফিলিস্তিনের ঘরে ঘরে
বিধবা নারী অসম্মানে সকাল দুপুর গুমরে মরে
তাদের উপর পর্যুদস্ত মানবিক এই বিপর্যয়ে
আসবে নেমে গজব দেখো আকাশ ফুঁড়ে নতুন করে

রুখে দাঁড়াও, হামলে পড়ো ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদে
মানবতার অপমানে সব ভুলে আজ এক হয়ে যাও
এগিয়ে আসো ভাইয়ের এমন বিপর্যয়ে দেশ ও জাতি
ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে এক হয়ে যাও, এক হয়ে যাও।
এক হয়ে যাও, বিশ্ব একক বিভেদ ভুলে সকল জ্ঞাতি
ফেটে পড়ো জঘন্য এই অপরাধের প্রতিবাদে,
ফেটে পড়ো জঘন্য এই অপরাধে সকল জাতি।
……………………………………………

শোক
মাঈন উদ্দিন জাহেদ

শোক-১
ভোগের রাজ্যে দ্বীন ও দুনিয়া দুই ই গেছে, কে আজ মুমিন কে সাধারণ?
ব্রাজিলও মরেছে ফুটবল মাঠে, ইজরাইলী বোমারু বিমান নেয় শত প্রান

শোক-২
এ কোন পূণির্মা? আমিতো বিবাগী আধাঁরে
বরিষো ধারাতো চাই আমার ভেতরে বাহিরে
বেকুল হয়ে আছি অকুল পাথারে
এ কোন পূণির্মা ? আমাকে কাঁদালে
স্পশর্ চাই স্পশর্ চাই হয়েছি পরশের কাঙ্গাল
পৃথিবী ব্যাপি শোক- আমিতো তোমার রাখাল
১০জুলাই-২০১৪

শোক-৩
এ কোন সভ্যতা? বুলেটের লক্ষ্য হয়েছে এখন শিশু ও কিশোর,
ফিলিস্তিন ! মা আমার, আমিতো তোমার পুত্র বোধহীন নপুংষক
ব্রডসিট টেবু সফট কিংবা হাড- মিডিয়ার সবখানে নেইমার মেসি দ্রকবা
বিবেকজীবীরা এখন উল্লম্ফনে- কেন হারলো ব্যাখ্যা – কার কীবা;
হেরেছি পুত্র আমি – ভোগের কাছে হায় ফিলিস্তিন !
করির কাছে স্বপ্ন বেচেছি – কবে শেষ হয়েগেছেপ্রতুল মুখাজরীর দিন
১১জুলাই-২০১৪ রাত-১২.২২

শোক-৪
একোন মৃতু্যপুরি সভ্যতার অভিশাপ?
শিশুদের মগজ খুলে খায় জিয়ুস শকুন;
আমাদের নির্লিপ্ততায় বাড়ে অভিশপ্ত দিন
রাগা আলুর দোলমা খেয়ে কেটে যায় বুদ্ধিজীবীতাদিন
১২ জুলাই-২০১৪
……………………………………………

ফিলিস্তিন ও আল আকসার পদাবলী
তাজ ইসলাম

মুসলমানরা জাগো ভাই

নামাজরত মুসুল্লিদের
দেহের তাজা রক্তে
আল আকসা রঞ্জিত হয়
যেন প্রতি ওয়াক্তে।

ফিলিস্তিনে বোমা পড়ে
রক্ত ঝরে রক্ত
বিশ্ব মুসলমানের এখন
জেগে ওঠার ওয়াক্ত

ফিলিস্তিনের ভাইরা আমার
নিরস্ত্র এক কাফেলা
রক্তে ভেজা মাতৃভূমি
যায় না রক্তে পা ফেলা।

নারায়ে তাকবীর বলে
ইমানদাররা জাগলে
ভ্রাতৃ খুনের প্রতিশোধে
রক্তে আগুন লাগলে

ইসরাইলের কুত্তাগুলো
পথ পাবে না পালাবার
এখন সময় মুসলমানের
রক্তে আগুন জ্বালাবার।

মুসলমানরা জাগো ভাই
আর ঘুমাবার সময় নাই।

২.
জঙ্গী ইসরায়েলের কাছে
মানুষ মানার অস্ত্র আছে
ফিলিস্তিনের নাই ভরসা
কেবল আল্লাহ ছাড়া।

মনে অসীম সাহস নিয়েই
রুখে দাঁড়ায় তারা
ফিলিস্তিনীর নাই ভরসা
আল্লাহ তুমি ছাড়া।

আল্লাহু আকবার
আল্লাহু আকবার
মালিক তুমি শক্তি দিও
রুখে দাঁড়াবার।
……………………………………………

কেন এমন হলো!
দিল মুহাম্মদ

হিটলার থেকে প্রাণ বাঁচাতে ইস্রাইলিরা আসলো ভেসে
যেমন করে রোহিঙ্গারা আসলো রে এই বাংলাদেশে।
বড় করে কোকিল বাচ্চা ফাঁসলো রে কাক অবশেষে
মানচিত্রটা কামড়ে ধরলো কাকের বাসায় কোকিল এসে।
ঘোর বিপদে আশ্রিত-জন আশ্রয় পেয়ে হলো ধন্য
আশ্রিত জন মালিককে কয়, এই ঘর আমার তুই যা অন্য!
তখন ঘরের মালিক বলে, তুমি তো ভাই সেই মেহমান
হিটলার থেকে বাঁচতে চেয়ে আশ্রয় পাওয়া এ সে ঘরখান।
দুধকলাতে কালসাপ পোষে মরে কাঁদে আজ ফিলিস্তিন
ইসরায়েল সেই সর্প মানব বুঝিয়ে দিচ্ছে দুধের কী ঋণ।
অনেক বছর পেরিয়ে গেলো শান্তি চেয়ে ইট-পাথরে
বুটের পাড়ায় রক্ত মাড়ায় জুলুমের ওই ভিত কাতরে।
যখন সাপে মানুষ কাটে তখন জীববৈচিত্র্য সব
মানুষ যখন সাপকে মারে পশু অধিকার হয় সরব!
দংশনে সাপ মানুষ মারে তাতে কারও চেতনা নেই
মানুষ যখন বাধ্য হয়ে সাপকে মারে সন্ত্রাসী সেই।
আজকে যদি জেরুজালেম আকসা’টা হয় ওই জালিমের
মক্কাবাসী তুমিও একদিন ভোগবে এইদিন নিরব ঋণের।
……………………………………………

আল জিহাদু ওয়াল জিহাদ
মাহবুব এনামী

শব্দের যদি দৃশ্যরূপ থাকতো তবে আমাকে
রূপায়িত করতে হতো না জিহাদ মানে–
মুজাহিদের ঘোড়ার খুরধূলিতে ঝড়ের পূর্বাভাস
মুসলিম তরবারির ঝিলিকে বিদ্যুৎ চমক
লিল্লাহি তাকবীরে বজ্রের প্রতিধ্বনি আর
শত্রুর ধ্বংস স্তুপে আসাদুল্লাহর বিচরণ মাঠ।
জিহাদ শব্দের নিরূপিত এই রূপ আমার দেয়া নয়
এ হলো ইহুদি নাসারাদের চোখে মুসলিম ত্রাসের সংজ্ঞা।

হে পৃথিবী, শুনো আমাদের ধর্মে জিহাদের মূলনীতি–
আমরা তোমাদের জানাই আসলিম তাসলিম
অন্ধ হৃদয়ে জ্বালি সত্যের মশালে বিশ্বাসের আলো
আমাদের গায়ের জোর বা শামশীরের আঘাতে
কভু উড়েনি সবুজ পতাকার সাদা কালিমা
এই ঝাণ্ডা আমাদের কাছে রাসূলের সম্ভ্রম বস্ত্র
যা মায়ের ইজ্জতের চেয়েও বেশি দামি
একে অবদমিত করতে এসো না
আমরাও জিহাদি হতে জানি।
তোমাদের আঘাতে আমাদের প্রতিঘাত,
অবরোধের জবাবে প্রতিরোধ যদি হয়ে উঠে উগ্রবাদ
তবে লিল্লাহি তাকবীরে বরণ করে নিলাম
জঙ্গি আগ্রাসী অপবাদ “আল জিহাদু
ফি সাবিলিল্লাহি ওয়াল জিহাদ।”
……………………………………………

বৈরুত, আগস্ট ১৯৮২
ঘাসসান জাকতান
সৃজনানুবাদ : রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী

যদি সে বেঁচে যেত
যে মরে গেল বুধবারের হামলায়

নাজলাত আল-বাইর দিয়ে সে খুঁড়িয়ে নামছিল
গৌরকেশি এক তরুণ
সে ছিল উত্তর ইরাকের নদীবর্তী লোকদের মত

ধৈর্যের সাথে… “নির্বোধ” এক মায়ের মত
সেই গ্রীষ্মে যুদ্ধ বুনছিল তার উল
যেমনটা এখন!

রেডিয়োতে কিছু গান বাজে: “ওহ্ বৈরুত”
আর গানটা বাড়িটাকে গুমগুমিয়ে তোলে
কারামাহ্-এ আমার বাবার বাড়ি
কিংবা বেইত জালায় তার আগের বসতবাড়িটা
যে-বাড়িটা আমি গিয়ে কখনোই খুঁজে পাই না।

ওহ্ গানগুলি আমাদের যা যা বলেনি!

যুদ্ধের গরীব মহল্লায়
একটা সরু রাস্তা
গ্রীষ্ম আর ফাইটার জেটবিমান ছাড়া
যেটাকে আর সবকিছু ফেলে রেখে গেছে

গান বাজে
আর উত্তর ইরাকের তরুণটি তখন
মৃত্যুতে খুঁড়ায়…
গৌরকেশি…
যে আমাকে ভেবেছিল গ্রাম থেকে আগত এক মরক্কান
মিলিয়ে যায় না
বাতিঘরে কিংবা স্মৃতিতে।

টীকা:
বৈরুত, আগস্ট ১৯৮২— ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকালে ১৯৮২ সালের আগস্টে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অতর্কিতে আক্রমণ চালিয়েছিল ইসরাইলিরা।
নাজলাত আল-বাইর— একটি জায়গার নাম, যার শাব্দিক অর্থ কুয়োর দিকে নেমে যাওয়ার পথ।
কারামাহ্— জর্দান নদীর পূর্বে অবস্থিত একটি ফিলিস্তিনি আশ্রয় শিবিরের নাম। এ-শিবিরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল কবি ঘাসসানের পরিবার, বেইত জালা থেকে নির্বাসিত হয়ে।
বেইত জালা— পশ্চিম তীরের পশ্চিম প্রান্তে, জেরুজালেম থেকে ছয় মাইল দক্ষিণে, হেব্রোন-এর কাছে এ-জায়গাটিতেই কবি ঘাসসানের পরিবার প্রথমবারের মত আশ্রয় নিয়েছিল ১৯৪৮ সালে জাকারিয়ার মূল ভিটা থেকে উৎখাত হয়ে।
……………………………………………

ফিলিস্তিনের জন্য ভালবাসা
নাদির ইলিয়াছ

আমাদের সভ্যতার উষর ভূমি,
আমাদের আবেগ-ভালবাসার শহর,
ফিলিস্তিনের জেরুজালেম।

আজ এক রক্তাক্ত প্লাবন বয়ে যাচ্ছে,
গুলতির বদলা যখন কামানে নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিটি বাড়ি যখন লাশ দাফনে ব্যস্ত।
স্বজন হারানোর বেদনায় যখন নীলাভ মুখ।
প্রিয়জনের অপেক্ষায় যখন ইফতার হয় নুনপানিতে।

ঠিক তখনি বিরাট ভূরিভোজে
তোমার সংযম পালন হচ্ছে।

হে মুসলমান, কেমনে পারো
এত নিষ্ঠুর হতে?

ভাইয়ের রক্তের দাগ যখন
ফিলিস্তিনের মাটির গন্ধ বদলে দেয়।

তখন কেমনে পার মুসলমান
রকমারি ইফতার, মাটন, বিরিয়ানি, হালিম খেতে?

পৃথিবীর এ প্রান্তে তুমি তার খবর দেখ।
শত ব্যস্ততা তোমার, কাউকে নিয়ে-
ভাববার সময় কয়?

এ বিশ্বগ্রামে আজ যা ঘটেছে ঐ বাড়িতে,
কাল তা হানা দিতে পারে তোমার বাড়ি।

এভাবে অনেক জাতীয় চিন্তার খপ্পরে,
মুসলিম হারিয়েছে গৌরব চিরতরে।

সময় থাকতে তাই হও সাবধান
ভাব তাঁদের নিয়ে আপনার ফাঁকে।
দিয়ে কিছু সময়, শ্রম কিংবা ঘাম।

আজিকে আমার প্রশ্ন জাগে অনেক,
আমরা কি তব মুসলমান নই!
আমরা কি সকলে ভাই ভাই।

অনেক হাতড়িয়ে ইতিহাস চিরে
উত্তর খোঁজে পাই।

সমগ্র বিশ্বের মুসলিম যবে এক হবে
উৎপীড়িতের ক্রন্দন তবে হাওয়ায় মিলে যাবে।

তাই আসুন সকলে মিলে
ভালবাসা বাড়াই
ফিলিস্তিনের তরে।
……………………………………………

জেরুসালেম
মুনির মাজেদ

ওহে জেরুসালেম,
সৃষ্টির শুরুতে এখানেই
আপনার সূর্যের নিচে
জান্নাতের শিশির আর মাটির সুঘ্রাণে
গোসল করেছিলেন ফেরেশতারা।

[মুনির মাজেদ : নির্বাসিত ফিলিস্তিনি। শরণার্থী হিসেবে রোমানিয়া থাকেন। আরবি ও ইংরেজি—দুই ভাষায়ই লেখালেখি করেন। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা শত ছাড়িয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকায় পড়াশোনা করা এই কবিকে মুক্তচিন্তার কারণে জর্ডান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।]
……………………………………………

ফিনিক্স শিশু
সুমন আহমেদ

এরপর মৃত মায়ের গর্ভাশয় হতে
বেরিয়ে আসলো অসংখ্য ফিনিক্স শিশু
তাদের দুধ মুখগুলোতে ফুটে উঠলো
অনিবার্য প্রতিশোধ চিহ্ন।

ফিনিক্স শিশুরা লাল লাল রক্তে
দৃঢ় প্রতিবাদ এঁকে প্রতিজ্ঞা করলো
মাতৃভূমিকে স্বাধীন না করে ও মুখগুলো

ছোঁবে না আর মাতৃস্তন।
……………………………………………

ফিলিস্তিন
আমিন ইবনে করিম

ফিলিস্তিন! হে ফিলিস্তিন!
সবর কর আসবে সুদিন।
আসবে ফিরে স্বপ্ন ঘিরে

তোমার নীড়ে লাল আবিরে,
একটি যুবক মুক্ত স্বাধীন
ফিলিস্তিন! হে ফিলিস্তিন!

ফিলিস্তিন! হে ফিলিস্তিন!
সবর কর আর ক’টা দিন।
যায়নবাদের ধারক যারা
ডাকাত তারা দেশ লুটেরা,
ফুরিয়ে যাবে ওদের দিন
ওই দেখ ওই আসছে নবীন।

ফিলিস্তিন! হে ফিলিস্তিন!
সবর কর আর ক’টা দিন।
এক জামাতে সকল মুমিন
এক সাথে হাত রাখবে যেদিন।
শাহাদাতের নেশায় পাগল
খালিদ তারিক মুসার বেশে,
আসবে ছুটে ভাঙতে আগল
ফৌজে খোদা মরুর দেশে।
স্বাধীনতা আসবে ওদিন
রইবে না আর ওদের অধীন,
আসবে ফিরে আসবে সুদিন,
ফিলিস্তিন! হে ফিলিস্তিন!
……………………………………………

মুভমেন্ট
ফাতিনা আল-গররা

১.
যৌন-লালসা একটি পাগলাটে অভিযাত্রা
রাস্তায় একটি সংগ্রাম

২.
এড়িয়ে যাওয়া হল মেঘের সাথে ‘ওয়ালটজ’ নাচা
যার মুদ্রাগুলো ঘুঘুর পালকের উপর অদৃশ্য হয়ে যায়

৩.
সমুদ্রের গুঞ্জন: একটি অভিশপ্ত শহর
এবং চাঁদ ঠাট্টাচ্ছলে হাসে
শুধু পানিই জানে ডুবে যাওয়ার রহস্য
এবং ঢেউ তা উদ্ভাবনের ওস্তাদ

৪.
রাস্তা নগ্ন হলে
বৃষ্টি হিংস্র হয়ে ওঠে

৫.
সব সময় গল্প করো
যতক্ষণ না তা আমরা রক্ত থেকে নিষ্কাশন করতে পারছি

৬.
যখন আমরা কামনা দ্বারা বেষ্টিত হই
অ্যাড্রেলিন আমাদের আচ্ছন্ন করে।

৭.
আপনি কি আমার মুঠ খুলতে পারবেন
একটি চুম্বন
অথবা একটি বোমা ব্যতিত?

৮.
আলতো চাপুন… আলতো চাপুন প্লিজ… আলতো চাপুন
এখন থেকে, এই শহরে
কোন দরজা নেই।
……………………………………………

ফিলিস্তিন জিন্দাবাদ
মোঃ আবদুল গনী শিব্বীর

ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন
জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ
ইজরাইল ইজরাইল
মুর্দাবাদ মুর্দাবাদ।

চলছে আজ ইনকিলাব
সবার মুখে এক আওয়াজ
ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন
জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ

রক্ত কেন জীবন যাক
ফিলিস্তিন মুক্তি পাক
বিশ্ব মুসলিম দিচ্ছে ডাক
ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন
জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ।

বিশ্ব মুসলিম অস্ত্র ধরো
প্রথম কেবলা মুক্ত করো
মারো সবাই হাঁক আওয়াজ
ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন
জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ।

বাঁচাও শিশু বৃদ্ধ ও নারী
থামাও বোনের আর্তনাদ
ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন
জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ।

হানাদারের দন্ত নখর
উপড়ে ফেল সবাই আজ
ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন
জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ।

ইহুদীদের দাও হটিয়ে
মুক্ত করো আকসা আজ
কায়েম করো খোদার রাজ
ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন
জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ।
……………………………………………

ফিলিস্তিনের গান– ৪
শারমিন সুলতানা

কিছুই প্রায় শিখিনি তুলনাহীন শুধুমাত্র অবিরাম গুলির শব্দের মধ্যে জীবনটাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া ছাড়া
ঘটনাবৃত্ত শেষ পর্যন্ত প্রতিমুহূর্তের সংঘাত আর হত্যাকান্ডের ‘নৈতিক’ ষড়যন্ত্রে
সম্পর্কহীন এক সম্পর্কের প্ররোচনায় বন্দী করল
সব চেয়ে বিষ্ময়করভাবে
আমাদেরই নিজস্ব ভূমিতে
আমাদের সন্তানদের ।
কিছুই প্রায় শিখিনি তুলনাহীন শুধুমাত্র অবিরাম গুলির শব্দের মধ্যে জীবনটাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া ছাড়া
আমার মায়ের সেলাই করা জানালায় ঝুলন্ত
জেরুজালেমের নকশায় যেখানে যীশু দাড়িয়ে ছিলেন
অবিরাম বোমা বর্ষণের দিনগুলোতে
পর্দার পোড়া কালচে সেই নকশাটায়
লাল সবুজ শাদা রঙগুলো এটকুও ক্ষয়ে যায়নি
উজ্জ্বল এখনো ।
শুধুমাত্র যীশু পুড়ে ছাই ‘পবিত্র’ যুদ্ধের মুর্খতায়!
কিছুই প্রায় শিখিনি তুলনাহীন শুধুমাত্র অবিরাম গুলির শব্দের মধ্যে জীবনটাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া ছাড়া
হাতভর্তি রং পেন্সিল
আর
পুরোটা ফিলিস্তিন কাগজ
শিশুরা অবিরাম এঁকে চলেছে
অধিকার
আর
আর্তনাদ
কিছুই প্রায় শিখিনি তুলনাহীন শুধুমাত্র অবিরাম গুলির শব্দের মধ্যে জীবনটাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া ছাড়া
আধিপত্য আর অপরাধে পক্ক এ নির্লজ্জ সভ্যতায় এর চেয়ে শ্লেষাত্নক প্রতিরোধ আমাদের নেই।।
……………………………………………

ফিলিস্তিন
রাবেয়া বশরী বর্না

কাঁদছে মানুষ
মরছে মানুষ
দেখার কেউ কি আছে?
আল্লাহ আছে, করবে বিচার
কোনোএকদিন।
মানুষরুপী অমানুষগুলো
থামবে বোধহয় সেদিন।
……………………………………………

রক্তাক্ত ফিলিস্তিন
আর. কে. শাব্বীর আহমদ

কতো মা বাবা ভাই বোনের
রক্তে রঞ্জিত ফিলিস্তিন
লাখো মুসলিম আজ শত্রুর
বোমার আঘাতে নিশ্চিহ্ন।
আহা কতো ইয়াতীম শিশু আর
ধর্ষিতা নারীর আর্ত চীৎকারে
ভারী হয় আকাশ বাতাস।
জেগে ওঠো একশো ষাট কোটি
মুসলিম জনতা, প্রতিবাদী মিছিলে
আগুয়ান হও। লড়াই করো প্রাণপণে
মুক্ত করো ফিলিস্তিন, মুক্ত করো
মাসজিদুল আকসা।
ইন্নামাল মু’মিনুনা ইখওয়াহ্
মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই
আল্লাহর এ বাণীর প্রতিফলন ঘটাও!
বাঁচাও লাখো কোটি মুসলিম মানবতাকে।
ইহুদিবাদী জায়নবাদী মুশরিক হায়েনাদের
পতন হবে জাগ্রত মুসলিমের ভ্রাতৃত্ববোধ
আর ঈমানী চেতনায়। বিড়ালের মতো নয়
বাঘের মতো হুংকার ছাড়ো। দালালি ছাড়ো।
আয়েশি জীবন ছাড়ো। নইলে ছারখার হবে
লণ্ডভণ্ড হবে বিশ্ব মুসলিম, শাসকের জাতি
মুসলিম তোমরা হবে ভিক্ষুকের জাতি!
সাবধান হও হুশিয়ার হও-সময় এখনো
ফুরোয়নি। ঐক্যবদ্ধ হও!
রক্তাক্ত ফিলিস্তিনকে বাঁচাও!
স্বাধীন করো পরাধীন মুসলিম জনপদকে!
……………………………………………

ফিলিস্তিনের পঙতিমালা
রেজা ফারুকী

আমার ঈদ বেদনায় ভরা সময়
শবে ক্কদরের রাতে জ্বলছিলো বায়তুল মোকাদ্দস
ফিলিস্তিন গাজা পশ্চিমতীর
মূহুর্মূহ বিমান হামলায় ভিটে স্কুল হাসপাতাল বাতাসে বাতাসে হলো লীন
হামলাকারীর কোন দোষ খুঁজে পায়নি কো ব্লিঙটন
নেতা নিয়াহুর প্রেতাত্মা হয়ে ধরেছিলো আলাপণ
রকেট কেন ছুড়লো গাজাবাসী
তাতেই পাপ রাশি রাশি
হে গুল্ডামায়ার শ্যারন বিগান নেতানিয়াহু
একটি কথা জিগাবারে চাই
ফিলিস্তিনে
দু জেনারেশনের বসত ভিটে ছিলো
এর উত্তর দেবার কি পারবাই
রোমান সেনাপতি টিটোস কে যদি পাইতাম
জিগাইতাম তুমি কেন ইয়াহুদিদের করেছিলে বিতারণ
হিটলারের দেখা হলে বলতাম
কিসে দোষ আছে ঐ জাতের
বেলফোর্ডের
ইউরোপ
ল্যাটিন
আফ্রিকা গ্রহন করেনি
পরম মমতায় ঠাঁই দিয়েছিলো ফিলিস্তিন
তারই মূল্য কষছে আজ
জীবন করে বিলীন
শিশুদের কি অপরাধ থাকে
কেন হত্যা করো পথে ঘাটে
নারীদের কি অপরাধ থাকে
নিপীড়ণ করো
উলঙ্গ করো খোলা মাঠে

ইউরোপ ম্যারিকা তোমাদের সভ্যতা
ওদের চিন্তার কর্ষন
তাতেই হয়ছো ঋণী
অথবা
কর্ষন করো হরহামেশা ক্রুসেডের যোগ বিয়োগ
লয় হোক শাম ইয়েমেন লিবিয়া
আরো মজলুম জনপদ যত
ভোগ করবে কিছু নর
আর সব রবে
শক্তির ভরে ডুবিয়া
তাই কি হয়
প্রেত্রা ডেডসি নমরুদ ফারাওদের
দেখে নিও
দুচোখ ভরিয়া
হিসেব কষিও আক্কল খাটাইয়া

ধ্বংম যজ্ঞ
দেখছে সকল
মূর্ত বিমূর্ত দরদী মন
আরো
দেখছেন
বায়তুল্লাহ’র মালিক আরশে বসিয়া।
মজলুমের সামর্থ যায় যেথা ফুরাইয়া
মহান রব
মজলুমের পক্ষ নেন
লুত, নূহ আঃ ইতিহাস দেখিও পড়িয়া ।
জয় তো হয়
রক্তিম আভায়
নিপীড়িত মানবতা
ঠাঁই পায়।
……………………………………………

মোনাজাত
{ফিলিস্তিনী মুসলমানের জন্য উৎসর্গ)
আবুল খায়ের বুলবুল

ইয়া আল্লাহ শোন ফরিয়াদ
শোন হৃদয়ের আর্তনাদ
অশ্রু ভেজা চোখে তোলা হাত
কবুল করো মোনাজাত-
শোন হৃদয়ের আর্তনাদ।
ইয়া আল্লাহ শোন ফরিয়াদ-
অশ্রু ভেজা চোখে তোলা হাত
কবুল করো মোনাজাত।।

বিচার সুবিচার হয়েছে বিলীন
হিংসার আগুনে পোড়ায় জমিন
জালিমের শত আঘাতে আবার
ভয় থাকে না তোমার পথ হারাবার
আবাস হারা হয়ে পথ বেপথে
কাটাতে হয় জীবন কত দিন রাত-
শোন হৃদয়ের আর্তনাদ-
ইয়া আল্লাহ শোন ফরিয়াদ-
অশ্রু ভেজা চোখে তোলা হাত
কবুল করো মোনাজাত।।

জুলুমের হাতিয়ার আর থামে না
তুমি ছাড়া নোয়াতে কেউ পারে না
আবার তুমি দাও এনে আবাবিল
পাথর বৃষ্টিতে ধুয়ে দাও মন আবিল
স্নেহের ফুল সুখের বাতাসে ছড়ায়
স্নিগ্ধ সুবাস নিয়ে করি মোলাকাত-
শোন হৃদয়ের আর্তনাদ
ইয়া আল্লাহ শোন ফরিয়ান
শোন হৃদয়ের আর্তনাদ
অশ্রু ভেজা চোখে তোলা হাত
কবুল করো মোনাজাত।।
……………………………………………

প্রশ্নবিদ্ধ মানবাধিকার
এম. তামজীদ হোসাইন

হে বিশ্ব বিবেক,
তোমরা কি দেখ না ইসরাইলী জঙ্গি বিমান?
দেখ শুধু ফিলিস্তিনের নিরীহ মুসলমানদের শব্দ বোমা
তোমরা কি দেখ না সন্ত্রাসী ইহুদী সেনার হত্যাযজ্ঞ?
দেখতে কি পাও না ফিলিস্তিনি শিশুর রক্তস্নাত জামা?

হে বিশ্ব মানবতার অগ্রদূত,
তোমরা কি মানবতার সংজ্ঞা বদলে দিয়েছো?
নয়তো কি করে সহ্য কর ইহুদীর চরম ঘৃণ্য বর্বরোচিত রক্তপাত?
তোমরা দেখ না ইহুদীর হাতে গড়া গাজা উপত্যকার উন্মুক্ত কারাগার?
দেখতে পাও না ইহুদী জঙ্গির আল আকসায় নির্মম অত্যাচার?

হে বিশ্ব মানবাধিকার কর্মী,
তোমরা কি মানবাধিকার কি তা ভুলে গিয়েছো?
নয়তো কি করে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের খাদ্য, পানি, শিক্ষা কেড়ে নেয়?
তোমরা দেখ না আন্তর্জাতিক যুদ্ধ নীতি ভঙ্গ করে ইসরায়েলের জঙ্গি তৎপরতা?
দেখতে কি পাও না তারা কিভাবে জাতিগত নিধনের অপচেষ্টার মহা পরিকল্পনা হাতে নেয়?

হে মুক্তির দর্পন সংবাদকর্মী,
তোমরা কি দেখ না ইসরায়েলের জঙ্গি তৎপরতা?
দেখ শুধু ফিলিস্তিনের মুসলমানদের মশাল হাতে আন্দোলনের করুন দৃশ্য
তোমরা কি করে প্রতিবাদের ভাষাকে জঙ্গি তকমা দাও?
দেখতে কি পাও না ইসরায়েলের উন্মুক্ত সন্ত্রাসী কার্যকলাপের দৃশ্য?