পৃথিবী এমন এক দল কুলশিত মানুষের হাতে বন্দি যারা প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করে। এক হাতের রক্ত শুকাতেই অন্য হাত রক্তে রঞ্জিত করে তোলে। তাদের উপর লানত। তারা পৃথিবীর শান্তিকে বিনষ্ট করে। শান্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আমরা। মানবতা যেখানে ভূলুন্ঠিত সেখানেই আমাদের কলম জেগে ওঠে।
ফিলিস্তন এমন এক ভূখন্ড যেখানে প্রতিনিয়ত হত্যাকারীদের হাতে রক্ত লেগে থাকে। তারা প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করে। মানুষ হত্যাকারী ইয়হুদীদের প্রতি আমাদের অভিশম্পাত। আর যে ইয়াহুদী শান্তি চায় তাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা। আমরা শান্তি পক্ষে। যেখানেই শান্তি সেখানেই আমরা আমাদের ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে আসি।
ফিলিস্তিনে যে হত্যা হচ্ছে তাকে যারা সমর্থন করে তারাও হত্যাকারী। তাদের প্রতিও লানত। আমরা ফিলিস্তিনিদের অধিকার চাই। যার যতোটুকু অধিকার তার ততোটুকু অধিকার ফিরে পাক এই আমাদের কামনা।
আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের ধর্য ও সাহস দিন। যাতে তারা হত্যাকারীদের প্রতিশোধ গ্রহণ করে পারে।
ইয়াহুদী হত্যাকারীদের বিপক্ষে দাড়িয়ে যে সকল কবি সাহিত্যিক তথা সৃজনশীল মানুষ কথা বলেছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। –আফসার নিজাম, সম্পাদক

সুচীপত্র
গাজার জন্য কবিতা :: রেমি কানাজি
গাজা :: নাথালে হান্দাল
শিশু হত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁদুক বসুন্ধরা :: লুৎফর রহমান রিটন
লানত :: মাঈন উদ্দিন জাহেদ
হে ফিলিস্তিন :: মুন্সি আব্দুল কাদির
ইমামের খুতবা :: তাজ ইসলাম
গাইড :: ঘাসসান জাকতান :: সৃজনানুবাদ : রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী
শিশুগুলো ভিজে যাচ্ছে ঘুমিয়ে পড়ছে :: সুমন আহমেদ
সংরক্ষিত :: নজওয়ান দারবিশ :: সৃজনানুবাদ : আনিসুল হক
অর্গাজম :: ফাতিনা আল-গররা
একটি বালক একটি ট্যাংক :: খলিল ইমতিয়াজ
মুক্তির জয়গান :: এম. তামজীদ হোসাইন
যে হৃদয় ভালোবাসার কথা কয় :: আবুল খায়ের বুলবুল
আক্কছা :: রেজা ফারুকী
ফিলিস্তিনের ঘরে ঘরে :: নুরুল ইসলাম বাবুল
রক্তে লাল ফিলিস্তিন :: রাজীব হাসান
রক্তে লাল ফিলিস্তিন :: রাজীব হাসান
জাগো বিশ্ব :: সৈয়দ ময়নুল কবরী
ফিলিস্তিনের পথে :: মজনু মিয়া
অকৃতজ্ঞ :: দিল মুহাম্মদ
……………………………………………

গাজার জন্য কবিতা
রেমি কানাজি

মৃত্যু চিনতাম না;
যদি না রিফিউজি ক্যাম্পে বোমা বর্ষণ না দেখতাম।
কাটা হাত-পা, মুণ্ডু, কবন্ধে
গর্ত ভরাট। মুখ নেই,
শুধু কান্না মুছে যাওয়ার ছাপ রয়ে গেছে।

ব্যথা কী, এটা বুঝতামই না;
যদি সাত বছরের মেয়েটা
আমার হাত আঁকড়ে ধরে
নরম বাদামি চোখে
উত্তরের জন্য অপেক্ষা না করত।

আমার কাছে কোনো উত্তর নেই।

শুধু শ্বাস বন্ধ করে
শুষ্ক কলমটা পেছনের পকেটে রেখেছি;
ওটা কোনো সিদ্ধান্ত লেখা বা
কোনো কিছু বোঝার যোগ্যতা হারিয়েছে।

মেয়েটির অন্যহাতে একটা চাবি;
দাদিমার বাড়ির। কিন্তু আমি
কারাগারের দরজা খুলতে পারছি না
যেখানে তার ভাইরা আটকে আছে।
ওরা চিৎকার করছে—
‘আমরা স্বপ্ন ছুড়ে দিয়েছি, যাতে অন্যপ্রান্তে পূর্বপুরুষের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়!’

এক মিস্ত্রি বাড়ি বানাচ্ছে
এমন এলাকায়, যেখানে সবাই বাড়ি-ছাড়া।
সেও পড়ে গেল, নিশব্দে!
একটা বুলেট তার কণ্ঠনালি ফুঁড়ে বেরিয়ে গেল।
দেয়ালের খুব কাছাকাছি
হাতুড়িটাও অবশ্যই একটা অস্ত্র।
পাহাড়ি বসতি আর জনমিতির অবৈধ বিস্তারে
সে নিজেও একটা অস্ত্র।

তাই তার মেয়ে গণিত পড়ছে :

৭টি বিস্ফোরণ x ৮টি মৃতদেহ = কংগ্রেসের ৪টি সিদ্ধান্ত।
৭টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার x ৮টি ফিলিস্তিনি গ্রাম = নিরকতা ও দ্বিতীয় নাকবা গণহত্যা।
আমাদের জন্মহার – তাদের জন্মহার = একটি সাগর ও ৪শ গ্রামের পুনর্নির্মাণ।
একটা রাষ্ট্র + দুটি মানুষ …
আর মেয়েটা কান্না থামাতে পারল না।

বিপ্লব না চিনে
অথবা না জেনে আসল সমীকরণ;
অশ্রু ঝরছে
সাদা কাগজেই উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে আঙুল।
শিক্ষক আকাশে আদমসুরত খোঁজেন
সেটাও মিলিয়ে যায়,
নরকের আগুন নিয়ে আসা রকেট হামলায়।

বাবাকে শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরার স্মৃতি
হাতড়াচ্ছে মেয়েটা। এখন সে,
কুয়া থেকে নোংরা জল তোলে।
এদিকে বসতি দখল হয়েছে, ভাগ হয়েছে।
আর তার বাবার হত্যাকারী
ইউরোপিয়ান স্বজাতির সাথে
সাগর সৈকতে বসে আছে।

এটা আমাদের মাটি, বলেই ফেলল
সাত বছরের মেয়েটা।
‘এটা আমাদের মাটি।’
তার ইতিহাস বইয়ের দরকার নেই
দরকার নেই ক্লাস টিচারেরও।
তার এই দেয়াল আছে, আছে আকাশ!
আর তার রিফিউজি ক্যাম্প।

আসল সমীকরণ মেয়েটা জানে না,
তবে আমার শুষ্ক কলম দেখেছে।
আমার জবাবের অপেক্ষায় না থেকে
দাদিমার চাবি হাতেই
কালি খুঁজতে বেরুল মেয়েটা।

[রেমি কানাজি : জন্ম ১৯৮১, নিউইয়র্ক। বাবা-মা ফিলিস্তিনি শরণার্থী। ইসরায়েলবিরোধী সক্রিয় কর্মী। ইংরেজিতে লেখালেখি করেন। কবি হিসেবে আরববিশ্ব পরিচিত।]
……………………………………………

গাজা
নাথালে হান্দাল

একদা এক ছোট্ট উপত্যাকায়
কালো গর্তগুলো হৃদয় গিলে ফেলছে।
আর এক শিশু আরেকটা বলল,
দম ছেড়ে দাও বন্ধু;
যখন আর স্বপ্নভূমিতে
রাতের বাতাস থাকছেই না।

[নাথালে হান্দাল : ঈসা (আ.) যে বেথলেহেমে জন্মেছিলেন, সেই পবিত্রভূমির সন্তান নাথালি হান্দাল। যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসী ফিলিস্তিনি এই কবি ফ্রান্স ও লাতিন আমেরিকায় বেড়ে উঠেছেন, পড়াশোনা করেছেন যুক্তরাজ্য আর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে।]
……………………………………………

শিশু হত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁদুক বসুন্ধরা
লুৎফর রহমান রিটন

ইজরায়েলের মানুষ নামের হিংস্র জন্তুগুলি
ছোট্ট শিশুর বুকেও চালায় মেশিনগানের গুলি!
প্যালেস্টাইনে শিশুর রক্তে ভিজলো মাটি পাথর
হাসপাতালে কাঁদছে শিশু যন্ত্রণাতে কাতর
সারিবদ্ধ রক্তমাখা শিশুর নিথর দেহ!
বিশ্ববাসী ঘুমিয়ে আছে হয় মনে সন্দেহ।
এরপরেও বসুন্ধরায় কেম্নে গোলাপ ফোটে?
শিশুর আর্তনাদে খোদার আরশ কেঁপে ওঠে!
কোথায় তুমি জাতিসংঘ? ঘুমিয়ে কেনো তুমি?
রক্তস্নাত শিশুর হাঁড়ে বাজাচ্ছো ঝুমঝুমি!
মানবতার চোঙ্গা ফোঁকা বিরাট সংস্থাগুলি–
এই বিষয়ে মূক ও বধির, দুচোখ জুড়ে ঠুলি!
অন্ধ এমিনেস্টি! তারও দুই ঠোঁটে আজ তালা
(আম্রিকা হয় তার দুলাভাই সৌদিরও সে শালা!)
ইজরায়েলি দানবগুলোর নৃশংশতার বলী
হতভাগ্য এই শিশুদের জন্যে শোকাঞ্জলি…
চোখের জলে লিখে গেলাম বিষণ্ণ এই ছড়া
শিশু হত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁদুক বসুন্ধরা…
……………………………………………

লানত
মাঈন উদ্দিন জাহেদ

প্রতিটি মানুষের আতর্নাদ, প্রতিটি শিশুর জীবন দান
জিয়ুসদের জন্য অভিশাপ হোক- অভিশাপ হোক;
মজলুমের ভাষা আরশ কাপুক, লানত হোক- লানত হোক
গণতন্ত্রের যে সব কুপমুন্ডুক কুলুপ এটেছে প্রতিবাদে-
আজ তাদের উপরও লানত হোক- লানত হোক
১৩.০৭.২০১৪
……………………………………………

হে ফিলিস্তিন
মুন্সি আব্দুল কাদির

হে ফিলিস্তিন
তুমি নির্যাতিত যুগ যুগ ধরে
তুমি ক্ষত বিক্ষত
পৃথিবীর সব শকুনেরা
তোমার মসৃন বক্ষে ধারালো আচড় দেয়
তোমার কাতরানো দেখে নরপশুরা হাসে।

তবে
তুমি অনেক অনেক সাহসী
তুমার অকুতোভয় সাহসে
ওদের ভেতর ঠিকই কম্পন ঊঠে।
দীর্ঘ পচাত্তর বছরেও তোমাকে
শেষ করে দিতে পারেনি
তুমি অজেয় তুমি নির্ভিক
সব হারিয়েও তুমি কিছুই হারাওনি
জালেমেরা সব কিছু পেয়েও কিছু কি পেয়েছ?
তোমার বক্ষে ইমান
মুখে তাকবীর
হাতে জুলফিকার
তুমি আকসার মান রেখে চলেছ
জালিমের রক্ত চক্ষু
তোমার কাছে জান্নাতি সওগাত।

হে ফিলিস্তিন
আমি কাপুরুষ
আমি মোনাফেক
আমি গাদ্দার
যুলুমের বিরুদ্ধে আমার হুংকার নেই
তোমার প্রতি আমার সহানুভুতি নেই
একটু আক্ষেপ নেই
চোখের কোন ভিজে উঠে না
আমার এই মুখ আটা জুলুমে
একটু ঘৃনা প্রকাশ করে ক্ষান্ত
মনে মনে ভাষন বিবৃতিতে বলি অনেক করেছি।

আমি ঠিক হলে
ইসরাইল বানের পানিতে ভেসে যেত
বল, তোমার দিকে চোখ লাল করে তাকানোর সাহস কার?
আমাকে আমি আমি প্রশ্ন করি
আমি কি মুসলিম!!!

হ্যা আমি মুসলিম
ভোটার তালিকায়
কিংবা বায়োডাটায়
অথবা নিজের আরবী নামে।

তুমি জান ফিলিস্তিন
তারপরও তোমার ব্যাথায় আমি কাঁদি
আমি যে একজন ব্যক্তি মাত্র
আমি কোন শাসক নই
কোন ওজির আমলা নই
তুমি আমাকে
ক্ষমা করো ক্ষমা করো।
……………………………………………

ইমামের খুতবা
তাজ ইসলাম

আমরা লাইলাতুল কদর খুঁজতে গিয়েছিলাম মুসলমানের প্রথম কেবলায়
কদর খোঁজতে খোঁজতে আল আকসায় পেয়ে গেছি কাঙ্ক্ষিত শাহাদাত।

হে মুসলিম ভ্রাতৃবৃন্দ
আগামী কদরের রাতে
প্রার্থনায় তোমরা কাঁদবে
নিজের ও পরিবারের কল্যাণের জন্য, দেশ ও সমাজের নিরাপত্তার জন্য
সে দোয়ায় আমার মুসুল্লিদের স্মরণে রেখ।

তোমরা প্রার্থনায় রোগ মুক্তির রোনাজারি করবে
গোনাহ মাফির জন্য বিগলিত হবে
আর আমিও আমার মুসল্লিরা আল কুদস
মুক্তির সংগ্রামে কুরবানী দেব
আমাদের সবকিছু।

আগামী সাতাশ রমজানে তোমরা তালাশ করবে পবিত্র লাইলাতুল কদর
কিন্তু আমরা তালাশ করব
আল কুদস মুক্তির সুবর্ণ ক্ষণ।

বিশ্বমুসলিম!
আমরাতো একটি দেহের মত
অথচ ইসরায়েলের বর্বর কুকুর
আমাদের সালাতরত পিঠ কামড়ে করেছে ক্ষতবিক্ষত
সিজদারত কপালে বিঁধিয়ে দিয়েছে বুলেট
আল্লার পায়ে সেজদা দিতে আসা
সম্মানিত বোনদের বেইজ্জতি করেছে
ইসরাইলী পিচাশ
কদরের রাতে ফেরেশতার মত
নিষ্পাপ শিশুদের পিষ্ট করেছে ইসরাইলী পাপিষ্ঠ বুট
তবু অবশ দেহের কোথাও
বেদনায় উহ করেনি
প্রতিবাদে মোচড় দিয়ে উঠেনি মুসলিম বিবেক।
প্যারালাইজড রুগীর মত অনুভূতিহীন
বিশাল বিশ্বমুসলিম দেহ!

আল আকসার জমিন নিরিহ মুসুল্লির রক্তে লাল
রক্তের শপথে কদম কদম এগিয়ে চলছি
বায়তুল মোকাদ্দাসের অযুখানায় অযু করে
প্রতি ওয়াক্তে সমবেত হব
অনাগত ছাব্বিশ দিবাগত রমাদানে
এই মিনার থেকে সমবেত গেয়ে উঠব
আল আকসার বিজয়ের গান।
……………………………………………

গাইড
ঘাসসান জাকতান
সৃজনানুবাদ : রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী

সে আমাদেরকে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিল…
এদিকে।
এরপর মিলিয়ে গেল
বাড়িঘরগুলির ধ্বংসাবশেষে
বিস্ফোরণের পর
দেয়ালের ফাঁকে তার আঙুলগুলি
এখনো দিকনির্দেশনা দিচ্ছে:
এদিকে…
এদিকে।
……………………………………………

শিশুগুলো ভিজে যাচ্ছে ঘুমিয়ে পড়ছে
সুমন আহমেদ

দ্যাখো দ্যাখো শিশুর তাজা রক্তে
খসে যাচ্ছে পৃথিবীর মানবিক মানচিত্রগুলো।
ওদিকে অবলীলায় মুছে যাচ্ছে ভূগোল ও নৃতত্ত্ব!

প্যালেস্টাইনের আকাশ আজ উদার ভীষণ
সেখানে নেই ঈশ্বরের কোনো ছাদ
তাইতো বুলেট বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে ঘুমন্ত শিশুগুলো
আর ঘুমের মধ্যেই তারা ঘুমিয়ে পড়ছে পুনরায়!

এদিকে একদল পিতা ঘুমন্ত শিশুদের হাড়গোড়,
অস্থিমজ্জা, রক্তমাংস বুক ভর্তি তুলে নিয়ে
ছুটে পালাচ্ছে দিগ্বিদিক, পাথরের গুহায়।

পাথরগুলো গলে যাচ্ছে, খুলে যাচ্ছে; আর –
শিশুগুলো ভিজে যাচ্ছে, ভিজে ভিজে
ক্রমশ ঘুমিয়ে পড়ছে পুনরায়।
……………………………………………

সংরক্ষিত
নজওয়ান দারবিশ
সৃজনানুবাদ : আনিসুল হক

একবার আমি বসতে গিয়েছিলাম
আশা নামের খালি আসনটিতে,
কিন্তু ‘সংরক্ষিত’ কথাটা সেখানে হাঁটুমুড়ে বসে ছিল
একটা হায়েনার মতো
(আমি সেখানে বসিনি, কেউ বসেনি সেখানে)
আশার আসনগুলো সব সময়েই থাকে ‘সংরক্ষিত’
দুঃস্বপ্নের গাড়ি

আমি দেখলাম তারা আমার চাচিদের থলেয় ভরছে
ব্যাগের কোণা বেয়ে ঝরছে তাদের উষ্ণ রক্ত
(কিন্তু আমার কোনো চাচি নেই)
আমি জানি তারা আমার তিন বছরের মেয়ে নাতাশাকে মেরে ফেলেছে
(কিন্তু আমার কোনো মেয়ে নেই)
আমাকে বলা হলো তারা আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে সিঁড়ি দিয়ে ছেঁচড়ে টেনে নিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখেছে
(কিন্তু আমার বিয়ে হয়নি)
তারা বুটের নিচে যা মাড়াচ্ছে তা নিশ্চয়ই আমার চশমা
(কিন্তু আমি চশমা পরি না)
……………………………………………

অর্গাজম
ফাতিনা আল-গররা

যখন মৃত্যু আসে
আমি তার প্রিয়তম প্রেমিকার মতো নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই
মোমবাতি জ্বেলে সারাঘর আলোকিত করি
কুটিল দৃষ্টির চোখ এবং আমার মধ্যে পর্দা টেনে দেই
শরীর ধুই আস্তে আস্তে
লাজুকভাবে
সুগন্ধি দিয়ে তা স্নিগ্ধ করি
আস্তে এবং সতর্কতার সাথে তেল মাখি
কালো ফিতের নাইটগাউনে পিছলে পড়ি
এবং আবহ সঙ্গীতে উদ্দীপ্ত হই
জীবনের চুম্বন আঁচ করতে

একজন বেশ্যা হিসেবে আমি তার জন্য প্রস্তুত হতে চাই
তার অ্যাপার্টমেন্ট লাল আলোয় রাঙিয়ে
তার শরীরে তেল মেখে
কোনদিন ফিরে না আসা পুরুষের স্মৃতি মুছে ফেলে
সস্তা সুগন্ধির মিশ্রনে সুবাসিত করে
তার সমস্ত দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে
সেই মুহূর্তের জন্যে
দোড়গোড়ায় প্রতীক্ষা করে যখন সে
তার ট্রাউজার খুলতে প্রবেশ করে এবং তার কাজ শুরু করে

আমি মৃত্যুকে একজন স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করবো
শুক্রবার রাতে বাচ্চাদের এলোমেলো করা ঘর গুছিয়ে
তারপর গোসল করে
আলতো করে কিছু সুর্মা ও গোলাপি লিপিস্টিক লেপে
আরামদায়ক পাজামা পরে
এবং বিছানার মাঝখানে শুয়ে
আমি তার কর্তব্যের জন্য প্রস্তুত হই।

আমি মৃত্যুকে একজন তপস্বীনীর মতো গ্রহণ করবো
বাতাস ভর্তি ধূপ ছড়িয়ে
নিস্তব্ধতার ভাসমান ঘ্রাণ দিয়ে
সেই অবকাশ, অন্যকিছুর কোন স্থান নেই
আমি প্রসারিত করবো/ পূজাবেদিতে
অনুগত এবং ক্ষমতাহীন
এবং নির্মম মন্থরতার সাথে আমার
দেহকে মাদকে আহ্লাদিত করবো
শূন্যে, সান্দেহের কোন দাগ ছাড়াই
আমি শুয়ে পড়বো যেভাবে কখনোই
এখজন পুরুষের জন্য শুই নি
তাকে দাও যা তার প্রাপ্য

একজন মিসট্রেস তার প্রেমিকের জন্য প্রস্তুত হয়
তার কড়া নাড়ার জন্য জানালার পাশে অপেক্ষা করে
যখন সে মদ ঠাণ্ডা ক’রে
সিগারেট ও সঙ্গীত প্রস্তুত করে
প্রিয় গান এবং ভিডিওগুলো তাদের হাসায়
যতক্ষণ না চোখ পানিতে ভরে ওঠে

হালকা-পা আনন্দে খানিকটা নাচতে থাকে
তারপর আঙুল কাজ শুরু করে
ধীরে ধীরে …
……………………………………………

একটি বালক একটি ট্যাংক
খলিল ইমতিয়াজ

ঝলসে ওঠা ঘৃণার দলা
মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভেতর ঢিল বানিয়ে ছুঁড়বেই সে
একটি বালক, একটি ট্যাংক
একটি ঘৃণার, প্রতিশোধের, একটি জবাব
চারটি শিশুর মুখের ছবি
কান্নাবিহীন নিরব ছবি
দুই বছরের, চার বছরের, ছয় বছরের
আরও ছোট্ট, হয়তো বড়
শতেক হাজার লক্ষ ছবি
দৃঢ়ভাবে, স্থিরভাবে,
রক্তে ভেজা নিষ্পলক এক দৃষ্টি দিয়ে
খামচে ধরে ইসরায়েলী পাপ-পতাকার ষড়ভুজে
সাহস নামের শক্তিটাকে মুঠো করে ছুঁড়ে দিলো
একটি শিশু, একটি ট্যাংকে, একটি দেশকে,
জুজুর মতো ভয় দেখানো অবৈধ সে ইসরায়েলকে।
……………………………………………

মুক্তির জয়গান
এম. তামজীদ হোসাইন

মসজিদুল আল আকসার পবিত্র প্রাঙ্গণে নামাজরত
ফিলিস্তিনের নিরীহ মুসলমানের মায়াভরা ঐ মুখ
ইসরায়েলের দস্যুদের অন্যায় অত্যাচারের খবর শুনিয়া
ক্রন্দনে ফাটিয়া উঠে বিশ্ব মুসলমানদের হাহাকার বুক

ইসরায়েল নামক নব্য জাহেলিয়াতের পাষাণ হৃদয়ে
তীব্র দাহনে মুসলমান নিধনের লাগি মিশন চলে অবাধ
অস্ত্রে নয় ফিলিস্তিনের পতাকা উদয় করিতে খোদার নিকট
হাজার হাজার মুসলমানদের দু’হাত তুলিয়া ফরিয়াদ

অভিশপ্ত ইহুদী জাতির তাণ্ডবলীলা দেখে হতবাক তামাম দুনিয়া
মুসলমানদের ঘর ভেঙে দখলদার ইহুদী গড়ে আবাসভূমি
গোপনে গোপনে শক্তি সঞ্চয় করে চালায় অতর্কিত হামলা
ঈমানী শক্তিতে ফিলিস্তিনি মুসলমান হয়ে উঠবে দুর্জয় সংগ্রামী

শত বাঁধা আসলে আসুক হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আসবে
ইসলামের কালিমা খচিত পতাকার অনিবার্য বিজয়
পূর্ব গগনে ভোরে উদিত সূর্য্যের তেজস্ক্রিয় আলো সন্নিকটে
মজলুম ফিলিস্তিনের ভাই বোনদের শাশ্বত মুক্তির সময়।
……………………………………………

যে হৃদয় ভালোবাসার কথা কয়
আবুল খায়ের বুলবুল

কষ্টের ব্রাশ ফায়ারে ফেটে গেছে হৃদয়ের জমিন
ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে সাজানো ফসল,
হিংসার বাতাসে নিয়ে গেছে ভালোবাসার বীণ
মাঠে ঘাটে ছড়িয়ে আছে জরাক্লিষ্ট পত্র সকল।

বিশ্বাসী হাত কেটেছে স্নেহের হৃদয়
অবিরল ধারায় ঝরেছে যেন রক্ত,
মমতার চোখ রাঙানোতে লেগেছে মনে ভয়
জানি না কখন পেরিয়ে গেছে অক্ত।

ভালোবাসায় আগলিয়ে রাখা বুকের মানুম
ছোরার আঘাতে নিজকে করেছে ক্ষত বিক্ষত,
আনন্দে সানন্দে কত জন উড়িয়েছে ফানুস
সেই গানের সাথে সুর মিলিয়েছে শতশত।

আদরে চুম্বন করা ঠোঁট গুলো দেখিছি যতবার
ব্যথার গরলে তারা দিয়ে ছিলো চিৎকার,
সচল কর্ণযুগল বধির হয়ে গেছে ততবার
মাঝে মধ্যে চেতনাবোধ দিয়ে ছিলো ধিক্কার।

শরীরে আকড়িয়ে ধরে থাকা পশমরাজি
সৌন্দর্যে না থেকে হয়েছে কিম্ভূতকিমার,
ঘেমে যায় আনকোরা বৃক্ষে ফোটা পত্ররাজি
অসময়ে কোত্থেকে আসে রৌদ্র আবার।

সুক্ষণে থাকা সময় যায় না ধীরে বহে
অসময়ের নিদ্রা যাচে আমায়—-
ক্লান্ততা কিসে হয় কি করে যায় সহে
এখন আর কখনই তা কাজ করে না রক্ষায়।

চোখের ভরা নদী জলহীন হয়ে গেছে বহু আগে
শুকনো নদীতে আবার নেমে আসে প্লাবন,
ইচ্ছে করেও আটকিয়ে রাখা যায় না ফুল ফুটা বাগে
আচমকা নেমে আসে জীবনে বর্ষা শ্রাবন।

উদ্যমী মন শ্লথ হয়ে গেছে কষ্টের প্রহারে
ধারালো সিকল ভোঁতা হয়ে যায়-
হয় নি বলা হাজারো কথার আছাড়ে
ম্লান হয়ে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে ক্ষয়ে ঝরে যায়।

হৃদয়ের রোনাজারিতে কাঁদে সহজ সরল
ছিন্ন মূলের গোঙগানীতে ফাটে মাটি,
বিপদগামির হাতে বন্দী থাকে প্রায় অবিচল
আমাদের জীবন ও ভালোবাসা খাঁটি।

তবু মুজাহীদ জেগে থাকে জেগে রয়
শোনে আসসালাতু খাইরুনমিনান্নাঊম,
সুবিহ সাদিকে হাঁটে মসজিদ প্রার্থনায়
তীব্রতায় ছুটে চলে শীতে রাখে গায়ে উম।

এই পথ চলা থামবে না কখনই -কোনদিন
হয়ত কিছুক্ষণ থাকবে ঝিম,
জেগে ওঠার আহ্বানে আবার আসবে সুদিন
বাজাবে আবার হয়ত আল্লাহু আকবার ভীম।।
……………………………………………

আক্কছা
রেজা ফারুকী

আমার প্রথম ক্কিবলা
আমার পরিচয়ের মহান মিনার
কালকে অতিক্রম করে স্বগৌরবে
তাওহিদের ঘোষনা করছে অবিরত
বায়তুল মোক্কাদ্দাস

হাজারো নবীর পদচারনায় সিক্ত ভূভাগ
মুহাম্মাদ দঃ’র উর্দ্ধ গমনের প্রথম ধাপ
নবী আলাইহিমুস্সালাম গনের মহাসম্মীলনে মহান ইমাম
মুহাম্মাদ সাল্লুল্লাহু আলাই হি ওয়াস্সালাম

ক্রসেডের প্রলয়
বক্ষে লয়ে দিগ্বিজয়ী শহীদি কাফেলার
রক্তে লাল
মহান মিনার
ওহির স্মারকে লেখা নাম
চির অম্লান সাইন্গড

সুবহানাল্লাজি আসরা বি আবদিহি
লাইলাম মিনাল মাসজিদিল হারাম ইলা মাসজিদিল আকছাল্লাজি বারাক না হাওলাহু লিনুরিয়াহু মিন আয়াতিনা
ইন্নাহু হুসাস্সামিউল বাসির।

যায়াল হাক্কু ওয়া যাহাকাল বাতিলু
ইন্নাল বাতিলা কানা যাহুকা।

আমার প্রথম ক্কিবলা
আমার পরিচয়ের মহান মিনার
গতির রহস্যকে আগলে রেখে
রক্তের সিড়িতে
হৃদ পিঞ্জিরার কপাট খুলে
তাওহিদের পতাকা উড়বেই উড়াবেই

জান্নাতের পথ দেখবেই দেখাবেই

বায়তুল মোক্কাদ্দাস-
তোমায়
নিযুত ছালাম নিযুত ছালাম।
……………………………………………

ফিলিস্তিনের ঘরে ঘরে
নুরুল ইসলাম বাবুল

ফিলিস্তিনে জ্বলছে আগুন জ্বলছে
ইসরাইলের বর্বরতা ভীষণভাবে চলছে,
ফিলিস্তিনের ঘরে ঘরে নেইকো ঈদের হাসি
সন্ত্রাসীদের আক্রমণে কান্না রাশি রাশি।

কোথায় মানুষ? মানবতা ভূলুণ্ঠিত আজকে
কোন সাহসে বল সঠিক ঘৃণ্য তাদের কাজকে,
বিশ্ববিবেক জেগে উঠো, ভাঙো তোমার নিদ
ফিলিস্তিনের ঘরে ঘরে আসুক খুশির ঈদ।
……………………………………………

রক্তে লাল ফিলিস্তিন
রাজীব হাসান

দেখো চেয়ে মুসলিম বিশ্ব
মরছে শত শত মুমিন
স্বদেশটাকে রক্ষা করতে
আকড়ে ধরেছে জমিন।

ঈমান তাদের অটুট আছে
বিজয় আসবে একদিন
সেদিন আর বেশি দূরে নয়
বাজবেই সুখের বীণ।

মুসলিম বিশ্বের অ-পারগতায়
রক্তে লাল ফিলিস্তিন
জেগে ওঠো আজ মুসলিম বিশ্ব
আসবে ফিরে সুদিন।

বিশ্বের কাছে মুসলিম মানে
জঙ্গি আর উগ্রবাদ
মুসলিম মানে সন্ত্রাসী আজ
করো যদি প্রতিঘাত।
……………………………………………

রক্তে লাল ফিলিস্তিন
রাজীব হাসান

দেখো চেয়ে মুসলিম বিশ্ব
মরছে শত শত মুমিন
স্বদেশটাকে রক্ষা করতে
আকড়ে ধরেছে জমিন।

ঈমান তাদের অটুট আছে
বিজয় আসবে একদিন
সেদিন আর বেশি দূরে নয়
বাজবেই সুখের বীণ।

মুসলিম বিশ্বের অ-পারগতায়
রক্তে লাল ফিলিস্তিন
জেগে ওঠো আজ মুসলিম বিশ্ব
আসবে ফিরে সুদিন।

বিশ্বের কাছে মুসলিম মানে
জঙ্গি আর উগ্রবাদ
মুসলিম মানে সন্ত্রাসী আজ
করো যদি প্রতিঘাত।
……………………………………………

জাগো বিশ্ব
সৈয়দ ময়নুল কবরী

জাগো আজ বিশ্বের মানবতা
ভুলিয়া সকল ভেদাভেদ তথা
বাঁচাও ফিলিস্তিন।

জাগো আজ হে বিশ্বের মুসলিম
ইসলাম আজ করো হে কায়িম
শোধাও তাঁদেরঋণ।

জাগো বিশ্বের ঘুমন্ত বিবেক
ন্যায়ের ওই ঝান্ডাধারী শেখ
হচ্ছে আজও ক্ষীণ।

দেখো বিশ্বের মানবতা শক্তি
অন্যায়ের পায়ে দিচ্ছে ভক্তি
মানবতা চির বিলিন।

ঈসরায়েলের এ ভয়াল থাবায়
মানবতাবাদ রয়েছে কোথায়
নেই তো ধৈর্যের দিন।

ফিলিস্তিনের মুসলিম আজও
পায়নি শান্তি স্বস্তির খোঁজও
কোথায় মোসলেহীন!

মুশরিকদের তাণ্ডবের বলী
মুসলিম নিস্পাপ শিশু গুলি
বাঁচাও ফিলিস্তিন।

দ্বীন ইসলামের ঝান্ডাধরে
বীরের বেশে যোদ্ধলড়ে
কায়েম করো দ্বীন।
……………………………………………

ফিলিস্তিনের পথে
মজনু মিয়া

কান্নার ধ্বনি শুনি কানে
কে না তা জানে?
ফিলিস্তিনদের মারছে ওরা
একেবারে জানে!

মুমিন মুসলিম জাগো আবার
সয়তানদের করতে বদ্,
উড়াও সেই ইসলামের ঝাণ্ডা
উড়াও শূন্যে পতপত!

কাফের ইহুদি অমানুষ
করিস না আজ সেই হুঁশ,
নাঙ্গা গায়ের আশ্রয় দিছে
ওরে ও বেদ্দুমিশ!

যে পাতায় খাস তাকেই ছিঁড়িস
ইবলিশের দল ওরে,
বুকের উপর বসে খাবলাশ
কি আর বলব তোরে!
……………………………………………

অকৃতজ্ঞ
দিল মুহাম্মদ

কত বড় ইহুদি তুই
অকৃতজ্ঞ বেঈমান,
ঘোর বিপদের বন্ধুকে দিস্
যন্ত্রণাময় দুখ দান!

যাঁরা তোদের প্রাণ বাঁচালো
তাঁদের প্রাণনাশ করে,
কেমনে তোরা পারিস্ থাকতে
ঘর করে সেই স্তরে !

তোদের জন্য হিটলারই ঠিক
ওষুধ ছিলো একদম,
যদিও আমরা ঘৃণা করি
হত্যা জুলুম হরদম।