পৃথিবী এমন এক দল কুলশিত মানুষের হাতে বন্দি যারা প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করে। এক হাতের রক্ত শুকাতেই অন্য হাত রক্তে রঞ্জিত করে তোলে। তাদের উপর লানত। তারা পৃথিবীর শান্তিকে বিনষ্ট করে। শান্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আমরা। মানবতা যেখানে ভূলুন্ঠিত সেখানেই আমাদের কলম জেগে ওঠে।
ফিলিস্তন এমন এক ভূখন্ড যেখানে প্রতিনিয়ত হত্যাকারীদের হাতে রক্ত লেগে থাকে। তারা প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করে। মানুষ হত্যাকারী ইয়হুদীদের প্রতি আমাদের অভিশম্পাত। আর যে ইয়াহুদী শান্তি চায় তাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা। আমরা শান্তি পক্ষে। যেখানেই শান্তি সেখানেই আমরা আমাদের ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে আসি।
ফিলিস্তিনে যে হত্যা হচ্ছে তাকে যারা সমর্থন করে তারাও হত্যাকারী। তাদের প্রতিও লানত। আমরা ফিলিস্তিনিদের অধিকার চাই। যার যতোটুকু অধিকার তার ততোটুকু অধিকার ফিরে পাক এই আমাদের কামনা।
আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের ধর্য ও সাহস দিন। যাতে তারা হত্যাকারীদের প্রতিশোধ গ্রহণ করে পারে।
ইয়াহুদী হত্যাকারীদের বিপক্ষে দাড়িয়ে যে সকল কবি সাহিত্যিক তথা সৃজনশীল মানুষ কথা বলেছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। –আফসার নিজাম, সম্পাদক
……………………………………………

সুচীপত্র

কাঁদছে ফিলিস্তিন :: আফরোজা অদিতি
পাহাড় বেয়ে নেমে আসে এক শত্রু :: ঘাসসান জাকতান :: সৃজনানুবাদ : রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী
ফিলিস্তিনি :: সৈয়দ নাজমুল আহসান
ফিলিস্তিনের কান্না :: আমিনুল ইসলাম
অস্ত্রবিরতি :: রোস শোমালি
ফিলিস্তিনের ছড়া :: হাসান রুহুল
কাঁদছে ফিলিস্তিন :: মেজু আহমেদ খান
ফিলিস্তিনের জন্য :: আমিন আল আসাদ
কবিতা নয়: ঘৃণা :: মামুন সুলতান
রক্তে লাল ফিলিস্তিন :: রাজীব হাসান
আমাদের ফিলিস্তিন :: রানা জামান
ফিলিস্তিনে জ্বলছে আগুন :: খোরশেদ আলম
আমার ফিলিস্তিন :: মাসুদ কামাল
মনুষ্যত্ব হার মেনেছে :: তানজারীন ইফফাত স্বাতী
নিজেকেই তাই দেই ধিক্কার :: গোলাম কবির
বিজয় নিশান :: এম. তামজীদ হোসাইন
জ্বলছে ফিলিস্তিন :: হাসনাইন সাজ্জাদী
ইসরাইলি-রা কখনো’ই আর- মানুষ হবে-না ? :: মনিরুজ্জামান প্রমউখ
রক্তাক্ত ফিলিস্তিন :: অধ্যাপক আর. কে. শাব্বীর আহমদ
বাঁচাও ফিলিস্তিন :: সৈয়দ ময়নুল কবরী
……………………………………………

কাঁদছে ফিলিস্তিন
আফরোজা অদিতি

জ্বলছে ফিলিস্তিন, লকলকে বহ্নিজিহ্বা ছুঁতে
চাইছে ফিলিস্তিনের আকাশ! কাঁপছে মাটি!
কাঁদছে ফিলিস্তিন! কাঁদছে বাতাস! কাঁদছে
অসহায় শিশু, নারী; বিলাপরত সর্বহারা
স্বজনহীন মানুষ!

আহত-নিহত সাধারণ নারী-শিশু-পুরুষ!
কেন? ওরা কি মানুষ নয়? আর শিশুরা!
স্বর্গের পুষ্প ওরা! তারা কোন দলের নয়!
কেন কাঁদছে ওরা? কেন সর্বস্বান্ত নিরাপরাধ
অসহায় ফিলিস্তিনি?

যারা সাতেপাঁচে নেই তাঁদের হয়ে বলছি,
যুদ্ধংদেহি মানুষ মানবিক হও, মানবিক হও
শিশুদের প্রতি, সর্বোপরী সকল মানুষের
প্রতি মানবিক হও; বন্ধ করো এই
অস্ত্রনিক্ষেপের খেলা।
……………………………………………

পাহাড় বেয়ে নেমে আসে এক শত্রু
ঘাসসান জাকতান
সৃজনানুবাদ : রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী

যখন সে নেমে আসে
কিংবা তাকে দেখা যায় নেমে আসতে
যখন সে আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় যে সে নেমে আসছে।

অপেক্ষা আর নীরবতা

তার সমস্ত অভাব
যখন সে গাছগাছালির সামনে দাঁড়িয়ে শোনে।

নেমে আসবার সময়ে তার সতর্কতা
চুপ চুপ বলে মুলতবি রাখার মত,
আর তার সত্তা যা “আমরা” নই
আর যা “এখানে” নয়
মৃত্যু ঘনায়।

সে একটি ফুল নিয়ে আসে
আর কিছু নয়, শুধু একটি ফুল
যেটির কোনো দানি নেই, নেই কোনো ইচ্ছে।

পাহাড় থেকে, তার চোখে পড়ে ফৌজি চৌকি, ছত্রীসেনা,
চকিতে সে দেখে নেয় জবরদখলকারীদের, পর্বতের কিনারা, আর একমাত্র রাস্তা
যেখানে তাদের পা ছাপ রেখে যাবে পাথরে, কাদায়, আর জলে।

অভাবও হাজির হবে পাহাড় থেকে
প্রচেষ্টাবিহীনভাবে পরিত্যক্ত।

আর ছায়ার মধ্যে ভঙ্গুরতা,
লম্বা গোঁফঅলা ইহুদি লোকটি
যাকে দেখতে এখানকার মৃত আরবদের মতন লাগে।

পর্বতের কিনারা থেকে, সমস্ত গুহাকে শান্তিপূর্ণ লাগবে
আর রাস্তাটিকে মনে হবে যেমনটা তা ছিল।

নেমে আসছিল সে যখন
গুহাগুলি অবিরাম চোখ মেলে তাকালো
আর ঠাণ্ডায় মিটমিট করল।
……………………………………………

ফিলিস্তিনি
সৈয়দ নাজমুল আহসান

জ্বলছে গাজা
রক্ত তাজা
ফিলিস্তিনি।
নারকীয় দৃশ্য
দেখে বিশ্ব
হচেছ ঋণি।
নিশ্চুপ মুসলিম
জাগবে না
কোনদিনি।
থামাতে বেদনা
প্রয়োজন চেতনা
খালিদ সালাউদ্দিনি।।
……………………………………………

ফিলিস্তিনের কান্না
আমিনুল ইসলাম

ফিলিস্তিন
প্রথম কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাসসহ পবিত্র ভূমি
এখানে আজ রক্তপিপাসু হায়েনাদের উদ্ধত পদচারণা।
মায়ের বুক থেকে শিশুকে কেড়ে নেয়ার মতো এখানে আসন গাড়ল
শেকড়বিহীন বহিরাগত অভিশপ্ত ইয়াহুদ ইসরায়েল।

জর্ডান নদী অথবা মৃত সাগরের জলে মিশে আছে ফিলিস্তিন ভাইদের লহু।
শহরের আর গ্রামের বালুকণায় শুকিয়ে
শহরের আর গ্রামের বালুকণায় শুকিয়ে আছে রক্তের প্রলেপ।
গাজা, রামাল্লা আর জেরুজালেম আজ অশ্রু আর কান্নার নগর
তাদের আর্তনাদে ভূমধ্যসাগরের গর্জনও থেমে যায়।
জাতিসংঘ আর ওআইসি যেন নির্লিপ্ত, নিরব দর্শক।

দখলকার পরাশ্রিত তস্কর এখন মালিককে তাড়ায়, হিংস্র নরাধম জায়নবাদি ইয়াহুদ
ইংল্যান্ড আমেরিকার মানবতাবাদী শক্তি
দখলদার ইহুদিদের স্বার্থের ভেতরই মানবতা খুঁজে পায়।
দুর্বল নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের নারী ও শিশুদের রক্তে তারা অপরাধ খুঁজে পায়না।
শক্তিশালী আয়রন ডোমের বিপরীতে পাথর আর সাধারণ রকেট দিয়ে প্রতিরোধে নামে
দেশপ্রেম আর ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান ফিলিস্তিনি মুসলিম।

বৃহৎ রাষ্ট্রসমুহের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা তো তাদের আছে
ফিলিস্তিনিদের এমন কিছু আছে কি?
এখন ইয়াসির আরাফাত নেই, শক্তিশালী
এখন ইয়াসির আরাফাত নেই, শক্তিশালী নেতা নেই
এখন মাহমুদ দারবিশ নেই মজলুমের পক্ষে সেরকম কবিতাও নেই।

স্বার্থের বেড়াজালে আবদ্ধ আরব প্রতিবেশী বা স্বধর্মী মুসলিমরা নিরব।
অথচ মিসর, জর্ডান আর সিরিয়া তো কাছেই ছিলো!
স্বজাতির কষ্ট আড়াল করে দেয় বস্তুগত স্বার্থের পুরু আবরণ।
মজলুম মানুষের আর্ত চিৎকার তাদের কানে প্রবেশ করে না।
ক্ষমতা আর আধিপত্য আকাঙ্খা তাদের
কর্ণকুহর আবদ্ধ করে রেখেছে।
তাহলে শেখ ইয়াসিন, ইয়াহিয়া আয়াশ আর আবু সালাহ’র রক্তের কি কোন দাম নেই?

আর দূর হতে আমরা সমবেদনা জ্ঞাপন আর মিছিল সমাবেশ ছাড়া আর কিছুই করতে পারছিনা।
কেউ আবার তাও করতে পারে না
বুকের ভেতরে মর্মজ্বালা নিয়েই কাটায় পাথর সময়।
আমরা অনেকেই “চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিদাও করিতে পারিনা চিৎকার”।

হে নির্যাতিত নারী, শিশু, এতিম আর বিধবাগণ
তোমরা নিরাশ হবে না, আরও একটু ধৈর্য ধরো
ফিলিস্তিন আবার তোমাদের হবে
দখলদার অভিশপ্ত ইহুদীরা বিতাড়িত হবে
ভূমধ্যসাগর ঘেঁষে কালেমার পতাকা উড়বে
ইবাদাতের জন্য নিঃশঙ্ক, নিরাপদ হবে বায়তুল মুকাদ্দাস
জর্ডান নদী আর মৃত সাগর আবার সজীব হবে
জেরুজালেমের আকাশে পতপত করবে শহিদের রক্তমাখা স্বাধীন ফিলিস্তিনি পতাকা।
……………………………………………

অস্ত্রবিরতি
রোস শোমালি

প্রতিটি যুদ্ধের পর
আবারও নির্মাণযজ্ঞ!
ধ্বংসস্তূপ ফুঁড়ে আবারও
আশাবাদী নতুন কনস্ট্রাকশন!
আবারও!
সুবিন্যস্ত সামরিক
নৃশংস অগ্রযাত্রা। ধ্বংসপুরাণ।
মৃত্যুখেকো যুদ্ধে কেঁপে ওঠে মরুগ্রাম,
গোগ্রাসে গিলে খায়
স্বাভাবিক জীবনযাত্রা!

[রোস শোমালি : ফিলিস্তিনের রামাল্লা শহরে থাকেন। খ্রিস্টান ধর্মবিশ্বাসী আরব। ফেসবুকে আমার সাথে প্রায় বছর পাঁচেকের যোগাযোগ। কবি হিসেবে আরববিশ্বে জনপ্রিয়।]
……………………………………………

ফিলিস্তিনের ছড়া
হাসান রুহুল

শিশুর চোখে পানি দেখে
হাজার কাফের হাসে
তাইনা দেখে জাতিসংঘ
খুশুর খুশুর কাশে।

মারছে শিশু মরছে মানুষ
ফিলিস্তিনে আজ
সারা বিশ্ব জেগে উঠো
সাজরে রণের সাজ।

মার লাথি মার ভাঙ্গে ফেলরে
ইসরাইলের দোর
লক্ষ যুবক জাগছে আবার
ভয় কী আছে তোর।
……………………………………………

কাঁদছে ফিলিস্তিন
মেজু আহমেদ খান

বিশ্বজোড়া মুসলিম অ ভাই কই ঘুমালি কই?
ফিলিস্তিন আজ গুমরে কাঁদে
মা শিশুদের নেই কোলাহল
স্তব্ধ যে হইচই!

কই কোরানের অনুসারী ওমর সালাদিন
কোথায় খালিদ হামজা দ্যাখ ঐ কাঁদছে ফিলিস্তিন।

ঘুমাসনে আর মুমিন যারা মর্দে মোজাহিদ
আল্লাহু আকবার বলে ওঠ ভেঙ্গে মরার নিদ।

কোথায় আলী মায়াজ মোয়াজ দ্বীনের রণবীর
সব তাগুতের যম সেজে আয়
গগনফাটা আওয়াজ দে বোল লিল্লাহি তাকবীর।
……………………………………………

আমিন আল আসাদ
[ফিলিস্তিনের নিহত নিপীড়িত অসহায় মানুষদের নিয়ে]

ইরান ছাড়া কেউ আসে না
ইহুদিবাদের সাজায়
দোস্তি হলো ইহুদি আর
আরব বাদশা রাজায়

তেমন কোন জোর দেখিনা
তুর্কীদেরো মাজায়
কারণ তারা ন্যটোভুক্ত
কি করবে আর খাজায়?

ই’রুপ আমেরিকার বারণ
ওদিক যেনো না যায়
কি আর করে, করবেটা কি
তুর্কী দেশের রাজায়?

ভাষণ শেষে রুহানিকে
করছে টেলিফোন!
একারণে মার্কিনীরা
শাসায় তারে ‘ শোন’
আর কোন দিন ইরান দেশে
দিবি যদি ফোন —–!!!
খারাপ হবে তাদের যারা
তোর জ্ঞ্যাতি ভাই বোন!!!

যায় পিছিয়ে ভরকে গিয়ে
বহুজাতিক দেশ
এমনি ভাবে জাতিগুলোর
ঈমানদারী শেষ।

জর্ডানও তার সীমানাকে
সিল করেছে শেষে
জর্ডানিরা মরছে ক্ষোভে
নিজেই নিজের দেশে

মিশর দেশে স্বৈরাচারী শাষক
বসে আছে
মালয়েশিয়া কুছ বলেনা
চড়লো গিয়ে গাছে

পাকিস্তানও রাও করে না
আগের মতো আর
বাংলাদেশও জানিয়েছে
নিন্দা বারেবার

ইরান ছাড়া কেউ দেখিনা
ফিলিস্তিনের পাশে
এই কথাটা কোন ভাইয়ের
মুখ দিয়া না আসে

কোন কারণে কোন বা ঘৃণায়
কেউ কি জানাবেন?
যার যতটুক সাধ্য আছে
সবটুকুই – দেন!!!!!”
……………………………………………

কবিতা নয়: ঘৃণা
মামুন সুলতান

ঈগলের উড়ন্ত ডানায় রাখি ঘৃণার মিসাইল
থুথুর মাইন ছেড়ে দিই বাতাস-বহরে
ক্ষেপণাস্ত্রের গতিতে ছুটে যাক ইসরাইল সীমান্তে

অবাক পৃথিবী জুড়ে ঘৃণা জমে আছে- জমুক
ঘৃণায় কাঁপে না জানি পাষাণের বুক
থুথুর ছিটায় নিভে যাবে না দূরপাল্লার জ্বলন্ত বারুদ
তবু ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ুক দখলদারি জান্তার ডেরায়

মানুষ মারার দেশে হায়েনা-উচ্ছ্বাস দেখে
হু হু করে কেঁদে ওঠে নিরীহ নদী পাখি অরণ্য
শস্য বিনাশের মত মানুষ মারছে ইসরাইল

গাজার আর্তনাদ কী করুণ! শিশুর কান্নায় ভারি…
শিশুদের হত্যা করে নারীকে আহত করে
রক্তে তৈরি ভিটা কোনোদিন স্থায়ী হবে না
জেনে রাখো ইজরাইল তোমার আণবিক চুল্লিতে
আত্মঘাতী আগুন জ্বলবে জ্বলতেই হবে; জ্বলবেই।
……………………………………………

রক্তে লাল ফিলিস্তিন
রাজীব হাসান

দেখো চেয়ে মুসলিম বিশ্ব
মরছে শত শত মুমিন
স্বদেশটাকে রক্ষা করতে
আকড়ে ধরেছে জমিন।

ঈমান তাদের অটুট আছে
বিজয় আসবে একদিন
সেদিন আর বেশি দূরে নয়
বাজবেই সুখের বীণ।

মুসলিম বিশ্বের অ-পারগতায়
রক্তে লাল ফিলিস্তিন
জেগে ওঠো আজ মুসলিম বিশ্ব
আসবে ফিরে সুদিন।

বিশ্বের কাছে মুসলিম মানে
জঙ্গি আর উগ্রবাদ
মুসলিম মানে সন্ত্রাসী আজ
করো যদি প্রতিঘাত।
……………………………………………

আমাদের ফিলিস্তিন
রানা জামান

ফিলিস্তিন!
তোমাদের জয়ী হতে হবে এই অস্তিত্বের যুদ্ধে
জয়ী হয়েছেন ইউসুফ নবী
দাউদ সোলায়মান এবং
আখেরি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম

তোমরা লড়াই করো দিনের চব্বিশ ঘন্টা
শিশুরা হাত-পা ছুড়ে যাক
বালক-বালিকা নুড়ি ছুড়ুক গুলতি দিয়ে
আর তোমরা থাকো সন্মুখ কিংবা গেরিলায়

ফিলিস্তিন! ওহে ফিলিস্তিন!
তোমরা বসে থেকো না কারো আশায়
আল্লাহ ভরসা বলে লেগে থাকো যুদ্ধে
তোমাদের রক্তে মানচিত্রে ফিলিস্তিন দেশ
ফিরে আসবে একদিন সগৌরবে

ফিলিস্তিন! ইসলামের ফিলিস্তিন!
……………………………………………

ফিলিস্তিনে জ্বলছে আগুন
খোরশেদ আলম

ফিলিস্তিনে জ্বলছে আগুন
চারিদিকে লাশের সারি
ঘাতক এসে মারছে গুলি
কি করে তা ভুলতে পারি?

নিজের বাড়ি নিজের ঘরে
থাকতে দিলো যাঁরা
খুনির ভয়ে আজকে শুধু
তাঁরাই দিশেহারা।

ভয় পেয়োনা ভয়ে পেয়োনা
বিজয় হবে জানি
পূণ্যভূমি স্বাধীন হবে
আল-কুরনের বাণী।

প্রাণ দিয়েছে নারি-পুরুষ
মায়ের কোলে লাশ
মরবি তোরা জালিম পশু
দেখবো সর্বনাশ।
……………………………………………

আমার ফিলিস্তিন
মাসুদ কামাল


আজ আকাশের মুখটা দেখ ভার
নেই তারাদের আলো লাখ মোমিনের হৃদয়পুড়ে উড়ছে ধোঁয়া কালো

কিসের ব্যথা বন পাহাড়ে পাখির কুহু ডাকে
ফুলগুলো সব মলিন কেন পাতার ফাঁকে ফাঁকে ?
রাতগুলো সব তাকিয়ে আছে
আসবে কখন দিন ? মুক্ত হবে শত্রু হতে আমার ফিলিস্তিন
……………………………………………

মনুষ্যত্ব হার মেনেছে
তানজারীন ইফফাত স্বাতী

ফিলিস্তিন আজ হাহাকার করছে একটু মানবতার জন্য,
কোথায় বিশ্ব মুসলিম?
নেই মানুষে মানুষে সহানুভূতি
নেই নৈতিকতা
হানাদারেরা পিশাচবাহিনী,
ওদের রুখতে হবে।
কেন আজ আমরা অসহায়?
কেন নির্বিচারে হামলা?
জবাব আছে কোন?
মুখে আল্লাহ্’র নাম শিশু থেকে বৃদ্ধ মোদের সকলের।
মোদের কবর খুরেছিস তোরা
অনাহারীর পেটে দিয়েছিস লাথি
মোরা ছিলাম মসজিদে
রোজাদার ছিল শত মুসলিমে
অন্যায় অবিচারে আজ হায়না তোরা
রোজহাশরে নয়–
এই দুনিয়ার বুকেই ভাসবে তোদের মুখ।

হত্যাকারী যালেম তারা হারিয়ে মনুষ্যত্ব,
সভ্যতার লাগাম ছিড়ে দুনিয়ায় মত্ত,
সূর্যতাপে জ্বলবে জগৎ
দিন বদলে যাবে,
মনুষ্যত্ব বুঝি হার মেনেছে, তোদের অপরাধে।
……………………………………………

নিজেকেই তাই দেই ধিক্কার
গোলাম কবির

মানুষের হৃদয় এখন হয়ে গেছে
যেনো অনুভূতিহীন কালো এক প্রস্তর খন্ড!
এতো মানুষ মরছে পৃথিবীর বুকে –
কেউ করোনা অতিমারীর ছোবলে
আবার মরছে একদমই নিরিহ শিশু
থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়সীরা গাজা উপত্যকায়
ইসরাইলী সেনাদের ছোঁড়া
গোলার নিক্ষেপে পাখির মতো!
অথচ বিশ্বের সমস্ত মোড়লেরা চুপ
করে বসে বসে তামসা দেখছে,
কেউ আবার বিবৃতির মাধ্যমে প্রতিবাদের শব্দ উচ্চারণই যথেষ্ট মনে করে নির্বিকার!
অথচ এমন তো হবার কথা ছিলো না,
যেখানেই নির্যাতন নেমে আসবে সেখানেই প্রতিবাদ,
প্রতিরোধে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে না দিলে
মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ কোথায়?
একজন কবি হিসেবে আমি তো শুধু
কবিতা লিখেই আমার ঘৃণার কথা জানাতে পারি,
এই গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে
জনমত গড়ে তুলতে সাহায্য করতে,
এর বেশি কিছু তো আমি পারছি না,
নিজেকেই তাই দেই ধিক্কার!
……………………………………………

বিজয় নিশান
এম. তামজীদ হোসাইন

মসজিদুল আল আকসার মিম্বারে
শোনা যায় মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনি
সালাতরত মুসলমানে ভরপুর উঠোন
শোনা যায় সুমধুর কণ্ঠে কুরআনের বাণী

হিংসে লাগে হিংস্র ইয়াহুদীর হৃদয়ে
অতর্কিত হামলা করিল মুসল্লীর উপর
ক্ষত-বিক্ষত হলো ফিলিস্তিনি মুসলমান
হয়তো এবার কেটে যাবে অমানিশির ঘোর

সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর শাসিত জেরুজালেমে
বহুকাল চলিল হায়েনার জবরদস্তি দুঃশাসন
ফিলিস্তিনের মা বোনদের ইজ্জত কেঁড়ে নিয়ে
শিশুদের এতিম করে মজা নেয় তারা ভীষণ

পৃথিবীর শক্তিধর রাষ্ট্র নেতারা ঘুমিয়ে আছে
জেরুজালেমের মুসলমানদের রক্তেমাখা দেহ
ভাষাহীন হয়ে কেঁদে রবের আরশে নালিশ দেয়
হয়তো বা একদিন কেটে যাবে দুনিয়ার মোহ।
……………………………………………

জ্বলছে ফিলিস্তিন
হাসনাইন সাজ্জাদী

স্থলপথ আকাশপথ সবপথেই জ্বলে উঠছে অত্যাচারের ফসফরাস
রক্তাক্ত আজ একটি জনপদ
ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে আজ একটি জাতি
হায় ফিলিস্তিন!
মানবতা ধুকছে ইতিহাস পুনরাবৃত্ত
অনুযোগের জায়গায় বসে নেই বিচারক
শিশুটি বড়ো হয়ে জানছে তাকেও মরতে হবে একদিন
জায়েনবাদী ইসরায়েল তাক করে রেখেছে তার দিকে
কামান মর্টার আর বিমান হবেই বোমা বর্ষণে উড্ডীন।
শিশুকন্যা জানে তাকে বড়ো হয়ে খরচ যোগাতে
মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে হবে দিকবিদিকশুন্য হয়ে
তার অর্জন দিয়ে চলবে স্বাধীনতা যুদ্ধ
তাকেও হতে হবে মুক্তিযুদ্ধে বিলিন
আর তাদের পুত্রসন্তান হয়ে ওঠে বীর, বদন মলিন।
ইয়াসির আরাফাত থেকে হামাস
রক্ত থেকে রক্তের পাহাড়ে চড়া
প্রাণ থেকে প্রাণে ছড়িয়ে দেয়া ইনতিফাদা
মুক্তির মিছিল দীর্ঘ হওয়া মানে
লাশের পর লাশ আরো লাশের কফিন।
……………………………………………

ইসরাইলি-রা কখনো’ই আর- মানুষ হবে-না ?
মনিরুজ্জামান প্রমউখ

মানুষ নিজে’ই জানে-না তারা কি চায় !
কি তার জীবন, পৃথিবী’র প্রতি অভিপ্রায় ৷
ব্যক্তি, সমাজ, জাতীয় ও আন্তর্জাতীয় পর্যায়-
কোনো মানুষ’- এর ধ্বংস-যজ্ঞ বাঁচা’র টিকা-
হতে পারে-না, শান্তি তার- উহ্য রয়ে’ই যায় ৷

জানি-না, ভালোবাসা’র হাত কেনো- এতো হেয় !
অথচ- ওখানে’ই জীবন’- এর স্বর্গ-রাজ্য ৷
ঘুম ভেঙ্গে গেলে, পাখী’র ডাক- কামনা ৷
ফিলিস্তিনি-দের ললাটে রয়েছে, কেনো এতো- কান্না ?
জন্ম হতে’ই শুনেছি ইসরাইলীয় আধিপত্য-কথা ৷

বাচ্চা, নারী, বৃদ্ধ সবাই তাদের বন্দুক’- এর নলে, বিদ্ধ ৷
প্রতিশোধ, প্রতিরোধ নয়, মনুষ্যত্ব সব-চেয়ে বড়ো ৷
সমাজ নিয়ামক নির্ধারণ করে, বেড়ায়- যারা ?
তাদের হৃদয়’- এর উদ্ভাবন’ কেনো এতো- হারা ?
জয়, পরা-জয় নয়, সেতু-বন্ধনে হয়-না, কেনো- মাতোয়ারা ??
……………………………………………

রক্তাক্ত ফিলিস্তিন
অধ্যাপক আর. কে. শাব্বীর আহমদ

কতো মা বাবা ভাই বোনের
রক্তে রঞ্জিত ফিলিস্তিন
অগণিত মুসলিম আজ শত্রুর
বোমার আঘাতে নিশ্চিহ্ন।
আহা কতো ইয়াতিম শিশু আর
ধর্ষিতা নারীর আর্ত চীৎকারে
ভারী হয় আকাশ বাতাস।
জেগে ওঠো একশো ষাট কোটি
মুসলিম জনতা, প্রতিবাদী মিছিলে
আগুয়ান হও, লড়াই করো প্রাণপণে
মুক্ত করো ফিলিস্তিন, মুক্ত করো
মাসজিদুল আকসা।
ইন্নামাল মু’ মিনুনা ইখওয়াহ
মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই-
আল্লাহর এ বাণীর প্রতিফলন ঘটাও!
বাঁচাও লাখো কোটি মুসলিম মানবতাকে।
ইহুদিবাদী জায়নবাদী মুশরিক হায়নাদের
পতন হবে জাগ্রত মুসলিমের ভ্রাতৃত্ববোধ
আর ঈমানী চেতনায়।
বিড়ালের মতো নয় বাঘের মতো
হুংকার ছাড়ো । দালালী ছাড়ো।
আয়েশী জীবন ছাড়ো। নইলে
ছারখার হবে, লণ্ডভণ্ড হবে বিশ্ব মুসলিম।
শাসকের জাতি মুসলিম তোমরা হবে
ভিক্ষুকের জাতি।
সাবধান হও, হুশিয়ার হও-
এখনো সময় ফুরোয়নি
রক্তাক্ত ফিলিস্তিনকে বাঁচাও
স্বাধীন করো পরাধীন মুসলিম জনপদকে!
……………………………………………

বাঁচাও ফিলিস্তিন
সৈয়দ ময়নুল কবরী

জাগো আজ বিশ্বের মানবতা
ভুলিয়া সকল ভেদাভেদ তথা
বাঁচাও ফিলিস্তিন।

জাগো আজ হে বিশ্বের মুসলিম
ইসলাম আজ করো হে কায়িম
শোধাও তাঁদেরঋণ।

জাগো বিশ্বের ঘুমন্ত বিবেক
ন্যায়ের ওই ঝান্ডাধারী শেখ
হচ্ছে আজও ক্ষীণ।

দেখো বিশ্বের মানবতা শক্তি
অন্যায়ের পায়ে দিচ্ছে ভক্তি
মানবতা চির বিলিন।

ঈসরায়েলের এ ভয়াল থাবায়
মানবতাবাদ রয়েছে কোথায়
নেই তো ধৈর্যের দিন।

ফিলিস্তিনের মুসলিম আজও
পায়নি শান্তি স্বস্তির খোঁজও
কোথায় মোসলেহীন!

মুশরিকদের তাণ্ডবের বলী
মুসলিম নিস্পাপ শিশু গুলি
বাঁচাও ফিলিস্তিন।

দ্বীন ইসলামের ঝান্ডাধরে
বীরের বেশে যোদ্ধলড়ে
কায়েম করো দ্বীন।