পৃথিবী এমন এক দল কুলশিত মানুষের হাতে বন্দি যারা প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করে। এক হাতের রক্ত শুকাতেই অন্য হাত রক্তে রঞ্জিত করে তোলে। তাদের উপর লানত। তারা পৃথিবীর শান্তিকে বিনষ্ট করে। শান্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আমরা। মানবতা যেখানে ভূলুন্ঠিত সেখানেই আমাদের কলম জেগে ওঠে।
ফিলিস্তন এমন এক ভূখন্ড যেখানে প্রতিনিয়ত হত্যাকারীদের হাতে রক্ত লেগে থাকে। তারা প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করে। মানুষ হত্যাকারী ইয়হুদীদের প্রতি আমাদের অভিশম্পাত। আর যে ইয়াহুদী শান্তি চায় তাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা। আমরা শান্তি পক্ষে। যেখানেই শান্তি সেখানেই আমরা আমাদের ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে আসি।
ফিলিস্তিনে যে হত্যা হচ্ছে তাকে যারা সমর্থন করে তারাও হত্যাকারী। তাদের প্রতিও লানত। আমরা ফিলিস্তিনিদের অধিকার চাই। যার যতোটুকু অধিকার তার ততোটুকু অধিকার ফিরে পাক এই আমাদের কামনা।
আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের ধর্য ও সাহস দিন। যাতে তারা হত্যাকারীদের প্রতিশোধ গ্রহণ করে পারে।
ইয়াহুদী হত্যাকারীদের বিপক্ষে দাড়িয়ে যে সকল কবি সাহিত্যিক তথা সৃজনশীল মানুষ কথা বলেছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
-আফসার নিজাম, সম্পাদক
……………………………………………

সূচীপত্র

অর্কেস্ট্রা ফিলিস্তিন :: আবদুল হাই শিকদার
বেইত জালা-র বাড়ির একটি ছবি :: ঘাসসান জাকতান :: সৃজনানুবাদ : রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী
জগত জয়ের চাবি :: আসাদ বিন হাফিজ
নিপাত যাক জায়নাবাদ :: ফারুক নওয়াজ
আত্মজিজ্ঞাসা :: রোস শোমালি
সবাই বলো :: জগলুল হায়দার
ফিলিস্তিনের জন্য ভালোবাসা :: আনোয়ার রানা
গাজাবাসী :: নাথালে হান্দাল
যে হৃদয় ভালোবাসার কথা কয় :: আবুল খায়ের বুলবুল
বানোয়াট :: নজওয়ান দারবিশ :: সৃজনানুবাদ : আনিসুল হক
ঘৃণা :: রেদওয়ানুল হক
ফিলিস্তিনি :: সৈয়দ নাজমুল আহসান
রক্ত বরণ ঈদের চাঁদ :: আমিন আল আসাদ
আকসা আমার প্রাণের ঠিকানা :: মাসুদ কামাল
ছাড় ফিলিস্তিন :: দিল মুহাম্মদ
ইশ্বরের কান :: রহমান মাজিদ
স্বাধীন কর মুকাদ্দাস :: নাসরিন
পালা ইহুদি দুরাচার :: মো. হুমায়ুন কবির
মাজলুমে মার খেলে :: মেজু আহমেদ খান
বাঁচাও ফিলিস্তিন :: সৈয়দ ময়নুল কবরী
……………………………………………

অর্কেস্ট্রা ফিলিস্তিন
আবদুল হাই শিকদার

We will not give up : Palestine liberation is soon— Maryam Afifi

মারিয়াম আফিফি তোমার নামের নিচে আমি কোরবান হতে চাই
আর তোমার হাসির জন্য উৎসর্গ করতে পারি কয়েক বিলিয়ন নক্ষত্র খচিত আকাশ।
তুমি আবিষ্কার করে ফেলেছো বারুদকে নর্দমা করার আশ্চর্য রসায়ন।
এখন পাড়া মাথায় তোলা সারমেয়কুল লেজ গুটিয়ে
নত মুখে দাঁড়িয়ে আছে তোমার সামনে।

এখানকার সমস্যা হলো অন্য জায়গায়-
আমাদের অন্ডকোষ এই হাসি উৎপাদনের
মাল মশলার জোগান দিতে এখন অপারগ।
সঙ্গত কারণেই আমাদের জড়ায়ুগুলো শেখ জাররার দুপুর
কিংবা মিথিলার পূর্ণিমার বদলে উগড়ে দিচ্ছে
আত্মা বিক্রয়কারী দুর্গন্ধযুক্ত অযুত মাংস
এবং বেদুইনদের দুম্বার পাল-
যারা বিশ্বাস করে একটি রক্ত পিপাসু তরবারীকে ঘিরেই আবর্তিত হয় জগত জাহান।

স্বৈরতন্ত্র এখন লা জবাব রূপকথায় মহিমাময়।
ঘটনার পর ঘটনার ঘনঘটা
কাহিনীর গিঁটে গিঁটে ব্লাক ম্যাজিকের নানা কাহিনীর মরমীতন্ত্র।
—চাঁদমারীতে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখার ফুরসত রাখা হয় না কোথাও।

আসমানে যেমন একজনই মালিক মুখতার
তেমনি এশিয়ার জলাভূমিতেও থাকবে একটিই প্রতিমা।
সেই ভজন, কীর্তনের ভঙ্গি ও বিহবলতায় আমরা যখন মেদুর
সেই ফাঁকে মহান গোয়েবলসের শালিকারা
চল্লিশবার ঝাঁটা পেটা করে আজিমপুরে দাফন করেছে আমাদের মনুষ্যত্ব।
আর এখন গাঙ্গেয় বদ্বীপ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে উলঙ্গ পাঁঠার উদ্ধত যৌনাঙ্গ।
তারা ফেরি করে পোশাক পরিধানই এক মারাত্মক অশ্লীলতা।
কুকুরটিকে খারাপ নাম দিয়ে রচিত হচ্ছে মাল্টিডাইমেনশনাল বধযোগ্য বাহারি বিধান।

মারিয়াম, আমরাও হাসতে পারতাম।
কাশ্মিরের নাফিসার মতো আমাদেরও অনেক মূল্যবান অশ্রু ছিল।
কিন্তু বিপদাপন্ন ভূগোলে সিরিয়ার শিশুটির আল্লাহ এখন
রামাই পন্ডিতের রূপান্তর প্রক্রিয়ায়
ঈশ্বরের দস্তাবেজ রচনা প্রতিযোগিতায় ব্যাকুল।
আর পোঁদের জ্বালায় দিগ্বিদিক জ্ঞানশূণ্য হয়ে
আমাদের জ্ঞানীরা এক ক্রুর কাপালিকের লিঙ্গবাহিত
মূত্র সেবনের আশায় লাগিয়েছে দীর্ঘ লাইন।
আর পশ্চিমের পুরন্দর পুঁজ পান করছে গেলাসে গেলাসে।
—জান্নাত লাভের এই লাগসই টেকনোলজিকে
পরিত্যাগ করে
এতো বড় গাধা তাদের কেউ বলতে পারবে না !
আমাদের আধমরা সত্যের উপর স্থান পেয়েছে তাদের কড়কড়ে জুতা।
যার চামড়া সরবরাহ হয় পাবলিকের পৃষ্ঠদেশ থেকে।

মারিয়াম, তোমার জন্য পদ্মার সব পানি ফি সাবিলিল্লায় দান করতে পারতাম—
কিন্তু সে আবাগীর অবস্থা এখন সৌদী মরুভূমির মতো জঘন্য।
তার পশ্চাৎদেশ মেরে দিয়েছে অহিংসার লেলিহান জিহ্বা।

তোমার সামনে মুসার কালামের উপর পা রাখা দৃশ্যমান
একটা ইসরায়েল।
আর আমাদের সদরে অন্দরে, অফিসে আবাসে, মনে মগজে, পাড়ায় মহল্লায়, ল্যান্ডে আইল্যান্ডে, গানে উদ্যানে, মুখরে অমুখরে, বচনে নির্বচনে, বনে নির্বাচনে, মলে মূত্রে
হাজার হাজার দৃশ্য ও অদৃশ্য ইসরায়েল
পোকার মতো কিলবিল করছে।

আমাদের সামনে আগুনের পাহাড়
পেছনে তাড়া করছে আগুনের এরিয়ান দৈত্য
ডানে বায়ে উপরে নিচে
সীমানা প্রাচীরের কোণায় কোণায় মহিষাসুরের দাঁতের ঘষটানি।
এ অবস্থায় তোমার লাল হিজাবের সম্মানে আমাদের লক্ষ লক্ষ শহীদের ভালোবাসা পাঠিয়ে
আরও ১২ টা মামলা খাওয়ার ঝুঁকি নেই কি করে—

এদিকে আম্রপালির ভ্রুর ভঙ্গিমার গোয়ালে
আমাদের পুরুষ বকরীগুলো
সব দায় ও দায়িত্ব উপরওয়ালার ঘাড়ে চাপিয়ে
নিজেরা জাবর কাটার নির্ভার আনন্দে নফসি নফসি বলে, বসে বসে নিতম্বের খূঁজলি চুলকাচ্ছে।

মারিয়াম, তোমার হাসি ক্রমাগত আরও প্রশস্ত হচ্ছে কেন ?
কেন টাইফুন আছড়ে পড়ছে সবুজ গ্লোবের কূলে উপকূলে ?
কেন হিংস্র এ্যাটম বোমার চাইতেও ভয়াবহ বিকিরণ ঘটাচ্ছে জিনতত্ত্বে ?
কেন মোনালিসার ১৮০ ডিগ্রি উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তোমার রহস্যময় তরঙ্গ ?
কেন তোমার হাসির সামনে বলির পাঁঠার মতো কাঁপছে ত্রিকাল ?
তুমি কি ফিলিস্তিনী না কি তুমিই ফিলিস্তিন ?
—যা এখন তীব্র তীক্ষ্ণ বল্লমের মতো ঢুকে যাচ্ছে জায়নবাদের কলিজায় !

তোমার জন্য কেন আমার হৃদয়—
হামাস যোদ্ধাদের ইউনিফর্ম চাপাতে চায় শরীরে ?
আর নাম লেখাতে চায় তোমার অর্কেস্ট্রা দলে ?

—মারিয়াম আফিফি তুমি আমিন আমিন বলবে না ?
……………………………………………

বেইত জালা-র বাড়ির একটি ছবি
ঘাসসান জাকতান
সৃজনানুবাদ : রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী

সেই জানালাটা বন্ধ করার জন্য তাকে ফিরতে হবে,
এটা ঠিক পরিষ্কার নয়
এ-কাজটা তাকে করতেই হবে কি না,
এখন আর সবকিছু পরিষ্কার নয়
যেহেতু সে ওগুলিকে হারিয়ে ফেলেছে,
আর মনে হয় তার মধ্যে কোথাও একটা চিড়
ধরতে শুরু করেছে।

ফাটল ভরাতে ভরাতে সে ক্লান্ত,
বেড়া সারানো
শার্সি মোছা
ঝোপ-ঝাড় সাফ করা
আর ধুলো দর্শন যা দেখে মনে হয়, যেহেতু সে সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে,
তার স্মৃতিকে তামাসা আর ছল-চাতুরির লোভ দেখায়।
এখানে তার বালকবেলা হাজির হয় যেনবা এটা এক কৌশল!
দরজাগুলি নেড়েচেড়ে দেখতে দেখতে সে ক্লান্ত,
জানালার খিল
গাছপালার হাল
আর ধুলো মোছা
যে-ধুলো এখনো উড়ে উড়ে ছড়িয়ে পড়ছে
কামরায়, বিছানায়, চাদরে, হাঁড়িতে
আর দেয়ালে ঝোলানো ছবির ফ্রেমে

সে ওগুলিকে হারিয়ে এখন বন্ধুদের সঙ্গে থাকে
যাদের সংখ্যা এখন আগের চেয়ে কম,
তাদের বিছানায় ঘুমায়
যা এখন আগের চেয়ে আরও সরু
এখন যখন ধুলো তার স্মৃতিকে কুরে কুরে খায় “ওখানে”

…সেই জানালাটা বন্ধ করার জন্য তাকে ফিরতেই হবে
দোতলার জানালা যা সে প্রায়ই ভুলে যায়
সিঁড়ির শেষটায় যেখান দিয়ে ছাদে ওঠা যায়

যেহেতু সে ওগুলিকে হারিয়ে ফেলেছে
সে হাঁটে নিরুদ্দেশ
আর দিনের ছোট ছোট কাজগুলিও
আজ আর পরিষ্কার নয়।
……………………………………………

জগত জয়ের চাবি
আসাদ বিন হাফিজ

নেই পরণে ঈদের জামা, নেই গায়ে তার বস্ত্র
একহাতে তার দুধের বোতল অন্য হাতে অস্ত্র।
এমন শিশুর বুকেই থাকে জগত জয়ের চাবি
রে দুরাচার, রে সন্ত্রাসী কোথায় তোরা যাবি?

ভুলে গেলি বদরের মাঠ, তিন শ তেরো বীর
কোথায় গেল অস্ত্রদাপট, কোথা গেল তীর।
হাতি, ঘোড়া, হাজার সেনা, মানলি তবু হার
ঈমানের যে অস্ত্র তাকে, হারায় সাধ্য কার?

লক্ষ্য সেনার বিশাল বহর, হারিসনি কি তবু?
সেই সব কথা বলতো দেখি, মনে পড়ে কভু?
মুমীন শুধু জিততে জানে, হারতে জানে না
সামনে যত বিপদ আসুক, কিছুই মানে না।

পুরাণ দিনের সেসব কথা, একটু মনে কর
বাঁচতে চাইলে তওবা করে নবীর রাস্তা ধর।
……………………………………………

নিপাত যাক জায়নাবাদ
ফারুক নওয়াজ

ফেলছে বোমা রাত্রিদিন
ভাসছে খুনে ফিলিস্তিন
মারছে মানুষ পাইকারি
হিসেব নিকেশ নাই তারই
ধংসলীলা চলছে রোজ
লাশের ওপর করছে ভোজ
করছে খালি মায়ের কোল
ইয়াংকিদের উল্টো বোল
নাটের গুরু ব্রিটিশ রাজ
মৃত্যু দেখে হাসছে আজ।…

হারামজাদা ইসরায়েল
করতে তাদের বিষ ঘায়েল
এই জগতে নাই কি কেউ…
সবাই তোলে কথার ঢেউ!
জাতিসংঘ আজব মাল
বাত্তি জ্বেলে ছিঁড়ছে বাল।
চুসছে আংগুল সৌদিকিং
মিশর কাতার খাচ্ছে হিং?
ফালতু চেঁচায় তুর্কিরা…
পাকিস্তানি মুর্গিরা।
মিটিং করে আইএলও
ভাবটা যেন খাইয়ে ল!…

রাখ মিয়ারা খাওয়া রাখ…
ইটিং মিটিং চুলোয় যাক।
সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়…
জায়নাবাদের নিপাত কর।
দে গুঁড়িয়ে শেল হেনে…
ছিঁড়বেটা কী বাইডেনে?
আরব জাহান গর্জালে
কাজ হবে না তড়পালে!..

শির উঁচু রাখ পিএলও…
সাহসে শান দিয়ে ল।
সংগে মিলে হামাসের
ঘাতক বিমান নামা ফের।
দে জ্বালিয়ে শত্রুট্যাংক
বাঁচুক গাজা, ওয়েস্ট ব্যাংক।
বাঁচুক মানুষ, মা- শিশু
দেখবে চেয়ে তা যীশু।…
ওরাই যীশুর হন্তারক
ইতিহাসের ঘিনঘাতক।
পাপের জাতক ইসরায়েল;
কর তাদের সব বিষ ঘায়েল।

নিপাত যাক জায়নাবাদ
দে মিটিয়ে হায়নাস্বাদ
নিপাত যাক তেলআবিব…
বন্যশূকর ঘৃণ্যজীব…
নিপাত যাক জংগীরা…
ইসরায়েলের সংগীরা।
আসবে ঠিকই, আসছে দিন
মুক্ত-স্বাধীন ফিলিস্তিন!
……………………………………………

আত্মজিজ্ঞাসা
রোস শোমালি

‘নিজেকেই প্রশ্ন করলাম;
কোনটা ভালো—শুরু নাকি শেষ?
দুর্ঘটনা বাতিল হয়ে যাওয়ার মতো
আশ্চর্য অবস্থানে
প্রতিটি উত্তর দুলছে;
আনন্দ-বেদনার জটিল সমীকরণে!’

[রোস শোমালি : ফিলিস্তিনের রামাল্লা শহরে থাকেন। খ্রিস্টান ধর্মবিশ্বাসী আরব। ফেসবুকে আমার সাথে প্রায় বছর পাঁচেকের যোগাযোগ। কবি হিসেবে আরববিশ্বে জনপ্রিয়।]
……………………………………………

সবাই বলো
জগলুল হায়দার

বিশ্ব চিনে বুলেট বোমা
মানুষ চিনে কয় জনে?
মরছে মানুষ তাই অসহায়
হিংসা ঘৃণার পয়জনে।

মানুষ মরে মরুর বুকে
আস্ত কবর গাজা
মানুষ মারা অসুরকে তাও
কেউ বলে না- যা যা।

হায়রে মানুষ মরবে কতো
পুড়বে কতো আরো
সবাই এবার গর্জে বলো-
মানুষ মারা ছাড়ো।
……………………………………………

ফিলিস্তিনের জন্য ভালোবাসা
আনোয়ার রানা

বুকে জ্বলছে তপ্ত আগুন, জ্বলছে দ্রোহ দাবানল। শিরায় শিরায় রক্ত কণিকায় ধমনিতে তীব্র ঘৃণার বিস্ফোরক বারুদ মিশাইলে প্রকম্পিত হচ্ছে পুরো তনুমন।
বাংলাদেশের প্রান্ত হতে নিক্ষেপ করছি;
হিংসা ঘৃণা প্রতিবাদের রকেট বোমা হানাদার দস্যু ইসরায়েলের সেনাদপ্তরে।
আমি বিচার চাই দুনিয়ার বিবেকের কাছে;
মজলুম অসহায় নিরস্ত্র নারী শিশু আবালবৃদ্ধবনিতা হত্যার।
আমি তাদের বিচার চাই যারা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই ভস্মীভূত করছে আমাদের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতবাড়ি…!
আমি তাদের বিচার চাই, যারা আমাদের স্বপ্ন সারথি কর্ণধার ফুলকুঁড়িদের স্বপ্নগুলোর বুকে বন্দুকের নল তাক করে দুমড়ে মুছড়ে বুটের জুতোর তলায় নাশ করেছে পিষে…!
মসজিদুল আকসা মুসলমানদের প্রথম কেবলা, আমাদের হৃৎপিণ্ড, প্রতিটি বিশ্বাসী হৃদয়ে আছে আঁকা যাঁর গৌরবদীপ্ত নকশা….
ফিলিস্তিন, যার আরেক নাম ভূস্বর্গময় ভালোবাসা…
আমার ভালোবাসায় মসৃন কায়ায় যারা করেছে আঘাত, ফেলেছে বোম;
যারা নিয়েছে কেড়ে লক্ষ লক্ষ বনিআদম মজলুমের চোখের ঘুম,
সেই অমানবিক অমানুষ ইসরায়েলী সেনাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জানাচ্ছি তীব্র ঘৃণা প্রতিবাদ;
শহীদী শোণিত ধারায় হবেই হবে কাঙ্ক্ষিত ফিলিস্তিন আজাদ।।
……………………………………………

নাথালে হান্দাল
গাজাবাসী

বেঁচে থাকার আগেই মরেছি আমি
একদা কবরের মধ্যেই থাকতাম।
এখন শুনলাম, সব মৃত্যু ধরে রাখার জন্য
এটা যথেষ্ট নয়।

[নাথালে হান্দাল : ঈসা (আ.) যে বেথলেহেমে জন্মেছিলেন, সেই পবিত্রভূমির সন্তান নাথালি হান্দাল। যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসী ফিলিস্তিনি এই কবি ফ্রান্স ও লাতিন আমেরিকায় বেড়ে উঠেছেন, পড়াশোনা করেছেন যুক্তরাজ্য আর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর তিনটি ছোট ছোট কবিতা Gaza, The Gazans এবং Tiny Feet-এর বাংলা]
……………………………………………

যে হৃদয় ভালোবাসার কথা কয়
আবুল খায়ের বুলবুল

কষ্টের ব্রাশ ফায়ারে ফেটে গেছে হৃদয়ের জমিন
ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে সাজানো ফসল,
হিংসার বাতাসে নিয়ে গেছে ভালোবাসার বীণ
মাঠে ঘাটে ছড়িয়ে আছে জরাক্লিষ্ট পত্র সকল।

বিশ্বাসী হাত কেটেছে স্নেহের হৃদয়
অবিরল ধারায় ঝরেছে যেন রক্ত,
মমতার চোখ রাঙানোতে লেগেছে মনে ভয়
জানি না কখন পেরিয়ে গেছে অক্ত।

ভালোবাসায় আগলিয়ে রাখা বুকের মানুম
ছোরার আঘাতে নিজকে করেছে ক্ষত বিক্ষত,
আনন্দে সানন্দে কত জন উড়িয়েছে ফানুস
সেই গানের সাথে সুর মিলিয়েছে শতশত।

আদরে চুম্বন করা ঠোঁট গুলো দেখিছি যতবার
ব্যথার গরলে তারা দিয়ে ছিলো চিৎকার,
সচল কর্ণযুগল বধির হয়ে গেছে ততবার
মাঝে মধ্যে চেতনাবোধ দিয়ে ছিলো ধিক্কার।

শরীরে আকড়িয়ে ধরে থাকা পশমরাজি
সৌন্দর্যে না থেকে হয়েছে কিম্ভূতকিমার,
ঘেমে যায় আনকোরা বৃক্ষে ফোটা পত্ররাজি
অসময়ে কোত্থেকে আসে রৌদ্র আবার।

সুক্ষণে থাকা সময় যায় না ধীরে বহে
অসময়ের নিদ্রা যাচে আমায়-
ক্লান্ততা কিসে হয় কি করে যায় সহে
এখন আর কখনই তা কাজ করে না রক্ষায়।

চোখের ভরা নদী জলহীন হয়ে গেছে বহু আগে
শুকনো নদীতে আবার নেমে আসে প্লাবন,
ইচ্ছে করেও আটকিয়ে রাখা যায় না ফুল ফুটা বাগে
আচমকা নেমে আসে জীবনে বর্ষা শ্রাবন।

উদ্যমী মন শ্লথ হয়ে গেছে কষ্টের প্রহারে
ধারালো সিকল ভোঁতা হয়ে যায়-
হয় নি বলা হাজারো কথার আছাড়ে
ম্লান হয়ে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে ক্ষয়ে ঝরে যায়।

হৃদয়ের রোনাজারিতে কাঁদে সহজ সরল
ছিন্ন মূলের গোঙগানীতে ফাটে মাটি,
বিপদগামির হাতে বন্দী থাকে প্রায় অবিচল
আমাদের জীবন ও ভালোবাসা খাঁটি।

তবু মুজাহীদ জেগে থাকে জেগে রয়
শোনে আসসালাতু খাইরুনমিনান্নাঊম,
সুবিহ সাদিকে হাঁটে মসজিদ প্রার্থনায়
তীব্রতায় ছুটে চলে শীতে রাখে গায়ে উম।

এই পথ চলা থামবে না কখনই -কোনদিন
হয়ত কিছুক্ষণ থাকবে ঝিম,
জেগে ওঠার আহ্বানে আবার আসবে সুদিন
বাজাবে আবার হয়ত আল্লাহু আকবার ভীম।।
……………………………………………

বানোয়াট
নজওয়ান দারবিশ
সৃজনানুবাদ : আনিসুল হক

পুরো জিনিসটাই বানোয়াট। আমি কখনোই এই গল্প বিশ্বাস করি না যে তোমাকে জবাই করা হয়েছিল। আর তোমার রক্ত ঝরে পড়ছিল ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত পুরোটা পথ, কেবল সাগরের খাদ্য হওয়ার জন্য। আমি নিশ্চিত পুরো জিনিসটাই বানোয়াট। রোজ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে টেলিভিশন উপস্থাপক দ্বয়— মেরিয়াম কারশেনবম আর শ্লোমো গানোর।
আলহারা, ‘স্বাধীন’ [স্যাটেলাইট চ্যানেল], আল আরাবিয়া, ‘আরবি’, আলজাজিরা, ‘অন্তরীপ’ । তিনটা একসঙ্গে করলে দাঁড়ায় “স্বাধীন আরবি অন্তরীপ”। মেরিয়াম কারশেনবম আর শ্লোমো গানোর। আমি নিশ্চিত, এরা বানোয়াট।
আমার ডাকবাক্সে বিল ভরে দিয়ে গেছেন যে ব্যক্তি, তাকে আমি চিনি না। আমার বংশের নাম তিনটা ভিন্ন ভাষায়। সেসবও বানোয়াট। আমাকে ইমেইলে ভালোবাসে এই নারীটি।
হাইফা, সেও বানোয়াট। এই কারণে আমি রাস্তায় বের হই না। এবং আমি সমুদ্রের দিকে তাকাই লম্বভাবে। আমাদের বন্ধুত্ব কারও অ্যাকাউন্টেই নাই। এটাকে বানোয়াট করে তোলার মতো সময় কেউ ব্যয় করেনি। এই কারণে এটা সত্য রয়ে গেছে। ওহ, বলতে ভুলে গেছি, সব সত্য বানোয়াট। এই কারণেই আমি পছন্দ করি আপনাদের সঙ্গে শুরা, আপেল, বাদাম ইত্যাদি ভাগ করে নিতে।
আমাকে কিছুই চাপে ফেলে না। এ কারণেই আমি ভেঙে পড়ি না, যখন আমি দেখি আমাদের দেশ আমাদের কাছ থেকে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ডাকাতিটা বানোয়াট, চেকপয়েন্টগুলো বানোয়াট, আর সৈন্যরা তো কতগুলো শিশু যারা এখনও তাদের কাপড় ভিজিয়ে ফেলে। মুরুব্বি গ্রিক অর্থোডক্স মহিলা যারা এই সকালবেলা বেথলিহেমের ভেতরে যাচ্ছেন চেকপয়েন্ট পেরিয়ে, তারাও বানোয়াট। বানোয়াটভাবে বলা হচ্ছে—‘ক্রুশের নামে’। গুড ফ্রাইডে বানোয়াট। নাজারেথের ম্যারোনটাইন গির্জার বাইজেনটাইন সুর বানোয়াট। আমার শত্রুরা বানোয়াট। আমার আত্মীয়রা বানোয়াটের প্রতিমূর্তি। নরক বানোয়াট। স্বর্গ আরও নিপুণ ও অগণিতভাবে বানোয়াট। (ধুর। গায়িকা ফাইরুজের কণ্ঠস্বর কি বানোয়াট!)
দুঃস্বপ্ন আমাকে তাড়া করে না, দুঃস্বপ্ন বানোয়াট। আমার দেহ ঘড়ির ওলটপালট আমাকে ভোগায় না। সূর্যের সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নাই। আমার জন্মগত প্রকৃতির কারণে আমার কোনো ভোগান্তি নাই… এই সবই বানোয়াট উপাধি।

আমিও বানোয়াট। আমি কে, তা নয়, সব ধরনের সর্বনাম হলো বানোয়াট।
আমি দালালদের ঘৃণা করি না। দেখো আমি কীভাবে তাদের সংবাদ ভাষ্য শুনি কিন্তু বমি করি না।
আমি অ্যালার্ম ঘড়ি, এইডস কিংবা আণবিক অস্ত্র ভয় পাই না। আমি ঘণ্টাধ্বনি, কিংবা টেলিফোনের রিংয়ের শব্দে আতঙ্কে ভুগি না। আগামীকাল দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে না। এসবই বানোয়াট খবর।
আমি একুশ শতাব্দীর রোমান্টিকতায় ক্লান্ত। রোমান্টিকতা সব সামাজিক শ্রেণীর ভোক্তাদের গুয়ে মাখা। বেঁচে থাকতে হলে তোমাকেও এসবের সঙ্গেই মিলেমিশে থাকতে হবে। এটাও আরেকটা বানোয়াট তত্ত্ব।
আনন্দ করো, ফুর্তি করো। তোমার পিতামহের বিছানার নিচে পরাজয়ভরা বাক্সগুলো বানোয়াট। আর তোমরা এত বছর ধরে চিত্কার করে কাঁদছ তোমাদের ভূমি হারানোর দুঃখে। বন্ধু। (ওহো! যেমন বলে ধ্রুপদি ভঙ্গিতে) হারানো বানোয়াট। একটা বিরাট মিথ্যা তোমাদের অস্তিত্ব লুটেরারা বানিয়ে তুলেছে।
মেরিয়াম কারশেনবম আর শ্লোমো গানোর। আলহারা আল আরাবিয়া আলজাজিরা এবং অচ্ছুত ব্যক্তিটি, যার হাতে রিমোট কন্ট্রোল।
আরশোলা আর দালালরা চমত্কার জীব। দেখো, একটা কী ভদ্র, আরেকটার কদর্যতাও কী মিষ্টি।
তারা সস্তাপনা বিষয়ে আমাদের যে গতানুগতিক ধারণা—তাও বানোয়াট।
ঘুমে পাওয়া একদল লোক ড্রয়িংরুমে বসে ইজরাইলি ভাষ্য শুনছে। একদল শ্রদ্ধেয় মহিলা সালাদ বানায় আর আমাদের গণ মর্যাদাকে কবরস্থ করার পরবর্তী অবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা করে। ভেবো না, এ সবই বানোয়াট।

আমরা আমাদের বাড়ির সামনের কয়েকটা বৃক্ষকে শ্রদ্ধা করতে পারি না, আমাদের ঘুমের মধ্যে যারা জাল পাতে তাদের জন্যে ছেড়ে দিতে পারি না পর্বতগুলোকে।
১৯৪৮ সালের ২২ এপ্রিল হাইফা আত্মসমর্পণ করে। তারিখটা বানোয়াট। ১৯১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর কয়েকজন এফেন্ডিস তাদের সাদা পতাকা বয়ে নিয়ে যায় এবং জেরুজালেম সমর্পণের ছবি তোলা হয়। এই ঘটনা সত্যি ঘটেছিল কিন্তু ছবিটা বানোয়াট। তুমি, যেকোনো নির্ধারিত সময়ে, কিছু সংখ্যক এফেন্ডিসকে জড়ো করতে পারো, তাদেরকে বলতে পারো সাদা পতাকা নিয়ে জাফা তোরণ পর্যন্ত যাত্রা করতে, যাতে একটা ছবি তোলা যায়। সময়টা ছিল ২০১০ সালের ১১টা ৩০, দুপুরের ঠিক আগে আগে। প্রত্যেকে ঘুমিয়ে পড়েছিল এবং জেগে উঠেছিল। আমিও জেগে ছিলাম। বালিশগুলো বানানো। দুই সপ্তাহের মধ্যে আমি বৈরুতে যাব। ভিসা খুবই প্রকটভাবে বানোয়াট প্রতিবন্ধকতা। ও আমাদের লেবাননের ভদ্রমহিলা, আমাদের জন্যে প্রার্থনা করুন (যদিও আমরা জানি, আপনার প্রার্থনাও বানোয়াট)
অল্পক্ষণের মধ্যেই আমি ঘুমুতে যাব, যখন আমার আমুদে বান্ধবী নাজারা থেকে বাসে চড়বে। হিব্রু শব্দগুলো তার চারপাশে ভনভন করে উড়ছে কারণ সে মনে করে শত্রুর ভাষা একটা লাশের মতো, তাই আমি তাকে বলি, তার এই ধারণা বানোয়াট, শত্রুর ভাষা লিঙ্গহীন রোবটের মতো। সে একটা লাস্যময় বানোয়াট হাসিতে ফেটে পড়ে। ও খোদা, আমরা মরব না। আমরা চলে যাব অনন্তের দিকে, আমাদের হাওয়াই চপ্পলে শব্দ তুলে। অমরত্ব বানোয়াট। যা কিছু আগে ভাগে ঘটছিল তার সবই বানোয়াট। যা কিছু আসবে সবই বানোয়াট। এবং প্রতিটা জীব বৃক্ষের মতো বাহু মেলে দাঁড়াচ্ছে এই বানোয়াট কবিতাটিতে।
……………………………………………

ঘৃণা
রেদওয়ানুল হক

ঘৃণা ঘৃণা ঘৃণা
তীব্র ভীষণ ঘৃণা
অত্যাচারীর মুখের উপর
সকল ক্ষোভের তৃণা।

ঘৃণা ঘৃণা ঘৃণা
যতোই ফুলাক সিনা
দখলদারির জন্য আমার
বন্ধ কপাট, ফ্রি না!

ঘৃণা ঘৃণা ঘৃণা
কালো অতি, শ্রী না!
জনম ভরে করছো ক্ষতি
এটাই কিন্তু প্রি না।

ঘৃণা ঘৃণা ঘৃণা
যারা হৃদয়হীনা!
মানবতার ধ্বংস দেখে
হাসতে থাকে কিনা?

ঘৃণা ঘৃণা ঘৃণা
কিসের খানাপিনা?
আগ্রাসীদের জন্য আমার
আজকে মরণ-বীণা।
……………………………………………

ফিলিস্তিনি
সৈয়দ নাজমুল আহসান

জ্বলছে গাজা
রক্ত তাজা
ফিলিস্তিনি।
নারকীয় দৃশ্য
দেখে বিশ্ব
হচেছ ঋণি।
নিশ্চুপ মুসলিম
জাগবে না
কোনদিনি।
থামাতে বেদনা
প্রয়োজন চেতনা
খালিদ সালাউদ্দিনি।।
……………………………………………

রক্ত বরণ ঈদের চাঁদ
আমিন আল আসাদ

[আল কুদস, ফিলিস্তিনের শহীদানদের স্মৃতির প্রতি নিবেদিত]

এবার ঈদের রঙটা ভিষণ লাল
রক্ত নদী বইলো গতকাল

পবিত্র আল কুদস ও ফিলিস্তিনে
ইহুদিরা মারলো রোজার দিনে
খুন করলো! অনেক মানুষ খুন!!
জ্বলছে মনে দগদগে আগুন

এবার ঈদের রঙটা ভিষণ লাল
রক্ত নদী বইবে কতকাল?
আর কতকাল সুখে সেমাই খাবে?
দুর্গতের কথা কি কেউ ভাবে?

উম্মাহ হলো একটি দেহের রূপ
কিন্তু মুমিন কোথায় দিলো ডুব?
ভাইয়ের ব্যথায় কাঁদে না তার প্রাণ!
এটাই কি তার বিশ্বাস ও ঈমান?

এবার ঈদের রঙটা ভিষণ লাল
রাখবে স্মরণ কাল ও মহাকাল
কোন লজ্জায় কোরমা পোলাও খাও?
ভাইয়ের ব্যথায় ব্যথা নাহি পাও?

এবার ঈদের রঙটা ভিষণ লাল
একদিক এই করোনা আকাল
অপর দিকে অনৈক্যেরি বীজ
কুমির ডেকে আনছে কেটে খাল

প্রশ্ম করেছিলাম গতকাল
রক্তবরণ চাঁদ ওঠেছে-লাল?
তোমরা আবার কিসের মুসলমান?
বুকের ভেতর থাকছে কি ঈমান?

মুসলমানের বক্ষগুলো চিরে
ইহুদিরা বের করছে হৃদ
ন্যুন্যতম ব্যাথিত নও তুমি!
কেমনে তুমি করছো সুখের ঈদ?

অন্যায় অপরাধকে চোখে দেখে
নিরবে যে সহ্য করে রয়
তারা আবার কিসের ঈমানদার?
তাদেরকে কেউ মুসলিম কি কয়?

কিসের তবে ঈদের খুশি-ঈদ?
মেকি এসব পোশাকী সাজ সজ্জা
করছো দাবী তুমি মুসলমান
নাই কি তোমার মোটেও লাজ লজ্জা?

এবার ঈদের রঙটা ভিষণ লাল
রক্তবরণ চাঁদ ওঠেছে কাল।
……………………………………………

আকসা আমার প্রাণের ঠিকানা
মাসুদ কামাল

ঐ দেখ শিশু নারীরা কাঁদছে
পুড়ছে দালান বাড়ি
বোমার আঘাতে উঠছে হয়ে
আকাশ বাতাস ভারী
কথায় কথায় যুদ্ধ বাঁধায়
দেয় উস্কানি ওরা
সন্ত্রাসী ওরা আগ্রাসী ওরা
জানে তা বিশ্ব জোড়া
আর কতকাল সইতে হবে
ওদের এই বাড়াবাড়ি
আকসা আমার প্রাণের ঠিকানা
শান্তি ও ভালোবাসা
কেন বারবার কেড়ে নেয় ওরা
আমার সকল আশা
তুমি ছাড়া আর শুনবে কে আজ
তাদের এই আহাজারি
তোমরা ছিলে আশ্রয়হীন
ভাসমান এক জাতি
আজ তোমাদের আস্ফালনটা
বড়ই আত্মঘাতি
বুকের মাঝে চাপা কষ্ট
সইতে যে না পারি
বিশ্ব বিবেক চুপ থেকো না
জাগো এইবার জাগো
চতুরদিকে আওয়াজ তুলো
ভাগো ইহুদি ভাগো
আসবে সুদিন নয় বেশি দূরে
সকল বাঁধা মাড়ি।
……………………………………………

ছাড় ফিলিস্তিন
দিল মুহাম্মদ

ছাড় ফিলিস্তিন ইহুদির দল
ওঁরা বাঁচুক শান্তিতে,
তোদের জন্য ফিলিস্তিনটা
জ্বলছে আজও ভ্রান্তিতে।

শয়তানিটা জানিস ভালোই
ধ্বংস করার লীলাতে,
সুদের লাভের পাহাড় দিয়ে
ফিলিস্তিন পাস্ কিলাতে।
……………………………………………

ইশ্বরের কান
রহমান মাজিদ

কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা
টেবিলের উপর ছড়ানো, আন্তর্জাতিক পাতা
বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ছবি
ঝাপসা, ধোঁয়া মলিন।

সামেরীর শিশ্নজাত নেতানিয়াহু
চোখে তার আগুনের হলকা
প্রক্ষিপ্ত শিখায় পুড়ে খাক আপেলের বন
নিকটে পড়ে আছে নিথর
কয়েক ফালি টুকরো চাঁদ।

এখানে আলো আছে
সে আলোয় দেখা যায়না পথের সীমানা
সূর্য ওঠে, শুকনো সলতের মতো নিস্প্রভ
বাতাসের বিনিময়ে চুকাতে হয় মাথার খুলি।

ইশ্বরের কান বড়োই সজাগ
শুনতে পান তিনি জলনিমগ্ন শ্যাওলার ধ্বনি
উচ্চকিত আল আকসার গম্বুজ
শোনেনা তবু মৃতের আজান ধ্বনি।
……………………………………………

স্বাধীন কর মুকাদ্দাস
নাসরিন

ফিলিস্তিনি মা বোনেরা
স্বজন করছে কোরবান,
চোখে তাদের জয়ের আগুন
মনে তাজা ঈমান।।

বোরকা গায়ে, নেকাব পড়ে,
পতাকা হাতে নিল তুলে
বক্ষে তাদের অসীম সাহস,
স্বাধীন করবে বায়তুল মুকাদ্দাস।

সংগ্রাম তাদের নয়কো একার,
সুযোগ এল পাশে থাকার,
হাল ছেড়োনা মুসলিম ভাই,
হ্যাশট্যাগ বোমার প্রচার ঘটাই।।

উড়িয়ে দাও ইহুদিদের
বর্জন কর পণ্য,
হাশর মাঠে পাব বিনিময়
হয়ে নিরব সৈন্য।।

কোথায় মোদের আভিজাত্য
কোথায় মোদের ইতিহাস!!
উড়িয়ে দাও, গুড়িয়ে দাও,
ইহুদি কর বিনাশ।।

স্বাধীন কর ফিলিস্তিন,
রক্ষা কর প্রথম ক্বিবলা,
রক্ষা কর বায়তুল মুকাদ্দাস।
……………………………………………

পালা ইহুদি দুরাচার
মো. হুমায়ুন কবির

প্রতিরোধের পূণ্যভূমি গাজা
ভুমধ্যসাগর পাড়,
বিশ্বের বড় কারাগার
মৃত্যুপুরীতে বাঁচার অঙ্গিকার।

চারদিকে কঠিন অবরোধ
পথ নাই বের হবার,
বোমা বর্ষণে সব একাকার
তবুও নতি নাই আত্মমর্যাদার।

পাথর ছুঁড়ে শুরু প্রতিবাদ
তবু নাই নিস্তার,
তাই পাথর পরিহার
এখন পালা রকেট ছোঁড়ার।

ভন্ডামী ও গুন্ডামি শেষ
বাদশা-আমীর ও আমেরিকার,
পালা ইহুদি দুরাচার
মানচিত্র মুছে যাবে এবার।
……………………………………………

মাজলুমে মার খেলে
মেজু আহমেদ খান

জালেম আর মাজলুম ছিলো আছে থাকবেই,
মাজলুম মার খাবে জালেমেরা মারবেই?
মাজলুম মার খেলে বাড়ে ব্যথা বুকে
সহেনা পরানে খোদা জল আসে চোখে।

আর কতো মার খাবে মাজলুম এ দুনিয়ায়!
আর কতো নেবে প্রাণ লালে লাল খুনিয়ায়?

মাজলুম জালেমেরও স্রষ্টা তো তুমি
মাজলুমে মার খেলে থাকো খোদা ঘুমি?
তুমি তো ঘুমাওনা জানি প্রভূ সরকার
বিশ্রাম ও ঘুম আহার চিরদিন নেই তব তারও দরকার।

তবে কেনো এ কান্না থামাওনা শুনি…
আর কতো কাল শেষে মাজলুমে দয়া দেবে
ওগো চির দয়াময় করুণার মায়াজাল বুনি?
……………………………………………

বাঁচাও ফিলিস্তিন
সৈয়দ ময়নুল কবরী

জাগো আজ বিশ্বের মানবতা
ভুলিয়া সকল ভেদাভেদ তথা
বাঁচাও ফিলিস্তিন।

জাগো আজ হে বিশ্বের মুসলিম
ইসলাম আজ করো হে কায়িম
শোধাও তাঁদেরঋণ।

জাগো বিশ্বের ঘুমন্ত বিবেক
ন্যায়ের ওই ঝান্ডাধারী শেখ
হচ্ছে আজও ক্ষীণ।

দেখো বিশ্বের মানবতা শক্তি
অন্যায়ের পায়ে দিচ্ছে ভক্তি
মানবতা চির বিলিন।

ঈসরায়েলের এ ভয়াল থাবায়
মানবতাবাদ রয়েছে কোথায়
নেই তো ধৈর্যের দিন।

ফিলিস্তিনের মুসলিম আজও
পায়নি শান্তি স্বস্তির খোঁজও
কোথায় মোসলেহীন!

মুশরিকদের তাণ্ডবের বলী
মুসলিম নিস্পাপ শিশু গুলি
বাঁচাও ফিলিস্তিন।

দ্বীন ইসলামের ঝান্ডাধরে
বীরের বেশে যোদ্ধলড়ে
কায়েম করো দ্বীন।