পৃথিবী এমন এক দল কুলশিত মানুষের হাতে বন্দি যারা প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করে। এক হাতের রক্ত শুকাতেই অন্য হাত রক্তে রঞ্জিত করে তোলে। তাদের উপর লানত। তারা পৃথিবীর শান্তিকে বিনষ্ট করে। শান্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আমরা। মানবতা যেখানে ভূলুন্ঠিত সেখানেই আমাদের কলম জেগে ওঠে।
ফিলিস্তন এমন এক ভূখন্ড যেখানে প্রতিনিয়ত হত্যাকারীদের হাতে রক্ত লেগে থাকে। তারা প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করে। মানুষ হত্যাকারী ইয়হুদীদের প্রতি আমাদের অভিশম্পাত। আর যে ইয়াহুদী শান্তি চায় তাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা। আমরা শান্তি পক্ষে। যেখানেই শান্তি সেখানেই আমরা আমাদের ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে আসি।
ফিলিস্তিনে যে হত্যা হচ্ছে তাকে যারা সমর্থন করে তারাও হত্যাকারী। তাদের প্রতিও লানত। আমরা ফিলিস্তিনিদের অধিকার চাই। যার যতোটুকু অধিকার তার ততোটুকু অধিকার ফিরে পাক এই আমাদের কামনা।
আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের ধর্য ও সাহস দিন। যাতে তারা হত্যাকারীদের প্রতিশোধ গ্রহণ করে পারে।
ইয়াহুদী হত্যাকারীদের বিপক্ষে দাড়িয়ে যে সকল কবি সাহিত্যিক তথা সৃজনশীল মানুষ কথা বলেছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
-আফসার নিজাম, সম্পাদক
……………………………………………

সূচীপত্র

ফিলিস্তিনে রক্তগঙ্গা :: নাসির হেলাল
জাগো :: আহসান হাবিব বুলবুল
হয়তোবা ঈদ কোথাও এসেছে :: মতিউর রহমান মল্লিক
রক্তে ফুটবে গোলাপ :: আমিরুল মোমেনীন মানিক
জেগে উঠুক বিশ্ববিবেক :: নাসিরুদ্দীন তুসী
দৃষ্টি :: রোস শোমালি
ফিলিস্তিন :: আমিন আল আসাদ
ছোট পা :: নাথালে হান্দাল
কবিতা নয় ঘৃণা :: মামুন সুলতান
জাগো বিশ্ব :: সৈয়দ ময়নুল কবরী
ফিলিস্তিনের পথে :: মজনু মিয়া
মানুষ মারার খেলা :: আবু সাইদ কামাল
ফিলিস্তিনের কান্না :: মোঃ আমিনুল ইসলাম
হৃদয়ে আলআকসা :: মুহাম্মদ ইসমাইল
ফিলিস্তিনকে মুক্ত করি :: মোহাম্মদ উল্লাহ ইমরান
ফিলিস্তিনের শিশু :: মোহাম্মদ উল্লাহ ইমরান
কী খেলা খেলিছো শূন্যপুরে বসে :: গোলাম রববানী
জ্বলছে আশার ধুপ :: মো: জোবাইদুল ইসলাম
বিজয় সন্নিকটে :: আবদুল হামিদ
জাদা ইসরায়িল :: মেজু আহমেদ খান
……………………………………………

ফিলিস্তিনে রক্তগঙ্গা
নাসির হেলাল

ফিলিস্তিনে রক্তগঙ্গা গাজায় চলে গুলি
নারী-শিশু মরছে শত উড়ছে মাথার খুলি।

মানবতার ধ্বজাধারী বলছে হেসে হেসে
অস্ত্রপাতি দিচ্ছে ঠিকই শয়তানেরই বেশে।

আত্মরক্ষার অধিকারে মারছে মানুষ কিছু
ঘটনা নয় ভীষণতরো তাই নিয়েছে পিছু।

পিঁপড়ার মতো ওদের জীবন পায়ের তলে পিষে
যাবে ওরা চিরতরে মাটির সাথে মিশে।

বিশ্ব মোড়ল ঢেকুর তোলে গুলির চালান দিয়ে
খেলছে খেলা রক্তের হোলি হাজার জীবন নিয়ে।

ষোলকলা পূর্ণ হলে পড়বে ধরা যেদিন
নাম নিশানা যাবে মুছে বুঝবে সেদিন বেদ্বীন।
……………………………………………

জাগো
আহসান হাবিব বুলবুল

ফিলিস্তিনে রক্ত ঝরে
বহে শত শহীদের ফল্গুধারা
শিশুর মাথার খুলি উড়ে যায়
মায়ের বুকের তাজা রক্তে ভাসে
আল আকসার সবুজ জমিন।

মজলুম মানবতার আর্তনাদে
ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস।
রক্তখেকো শয়তান ইজরাইল জায়োনিস্ট!
ওদের রুখে দেয়ার সময় এসেছে এবার।

জাগো জনতা
সিপাহসালার ইসলামের।
কোথায় সালাহদিন
কোথায় শহীদ তিতুমীর
কোথায় ইবনে কাসিম
বখতিয়ারের উত্তরসুরীরা!
বদর ওহুদ বালাকোটের রণতূর্য নিনাদ তোলো
জাগো এবার নিশান বরদার
শেরেখোদা আলী
খালিদ বিন ওয়ালিদের বংশধররা জাগো…
……………………………………………

হয়তোবা ঈদ কোথাও এসেছে
মতিউর রহমান মল্লিক

হয়তোবা ঈদ কোথাও এসেছে
কোথাও আসেনি ঈদ
কারো জীবনের চারপাশে মরু
অন্য জীবনে অজস্র উদ্ভিদ।

অন্য জীবনে মৌমাছি গুন গুন
অন্য জীবনে পাতারাও প্রজাপতি
অন্য জীবনে স্বপ্নেরও সম্মতি

কোথাও ঈদের ফলাফল কাশ্মীর
ঈদের চাঁদের নাম ধরে ডাকে
ক্ষত-বিক্ষত ঝিলামের দুই তীর

কোথাও ঈদের চাঁদ শুধু আঁকে
রক্ত আখরে তপ্ত পাথরে ফিলিস্তিনের
তসনস করা পৈত্রিক বস্তির
ছায়া আর ছবি।
কোথাও বা ঈদ রেখা রং স্বস্থির।
……………………………………………

রক্তে ফুটবে গোলাপ
আমিরুল মোমেনীন মানিক

আল আকসার ঝাড়ুদার হতে চাই
বুলেটে রাঙাতে চাই বুক
আমার রক্তে বধির পৃথিবীর
সেরে যাবে কানের অসুখ।।

মৃত্যুর অজগর গিলছে মানুষ
গাজায় রক্ত তবু বিবেক বেহুশ
ফিলিস্তিনিদের মানবতা নেই নেই
মোড়ল হায়েনারা হারাচ্ছে সব খেই।।
অদৃশ্য অভিশাপ এবার পড়ুক…

শিশুর রক্তে জানি ফুটবে গোলাপ
শেষ হবে শয়তানি সকল প্রলাপ
জাতিসংঘকে বলছি দৃপ্ত সুরে
তোমার জায়গা নেই মানুষের অন্তরে।।
কোটি আবাবিল তাই এবার আসুক…
……………………………………………

জেগে উঠুক বিশ্ববিবেক
নাসিরুদ্দীন তুসী

কোথায় এখন বিশ্ববিবেক?
ঘুমায় মানবসত্তা,
ইসরাইলি জঙ্গি দানব
করছে গণহত্যা!

অন্ধ বধির বোবার বিশ্বে
কেউ শোনে না আর্তি,
নিজের দেশে ফিলিস্তিনি
কেন শরণার্থী?
চাঁদের মতো ফুলের মতো
শিশুর অস্থি মজ্জায়,
ইসরাইলি জান্তা দানব
মানব খুলির স্যুপ খায়।

তলের কাপড় ঢলে নিলো
ঘোমটা পরে লজ্জায়?
সৌদি শেখের বিবেক জাগে
বৌদি, ফুলশয্যায়!
ওআইসি আজ আইসিইউতে
মরণ ঘুমে মগ্ন,
আরব লীগের পার হয়েছে
বেঁচে থাকার লগ্ন।

বিশ্বদাদা, ঘেটু-গাধা,
আর জনমের হংসী,
ইসরাইলি বানর নেতা…
বাজায় নীরোর বংশী।
বিশ্বভাশুর অসুরগণের-
পশুর মনোভঙ্গি;
স্বাধীনতাকামীরাও
তাদের চোখে জঙ্গি।

মানুষ আছে বিশ্বজুড়ে
নেইতো সুবাস ফুলটায়,
নরের সাজে বানরেরা
কালের পুরাণ উল্টায়।
মানবাধিকারের আহা!
কর্তিত সেই অঙ্গ…
দুচোখ বোজা বিশ্বখোজা
নীরব জাতিসংঘ!

জেগে উঠুক বিশ্ববিবেক,
জাগো মানবসত্তা…
ফিলিস্তিনের নারী-শিশু
চাইছে নিরাপত্তা!
……………………………………………

দৃষ্টি
রোস শোমালি

নীরবতার দেয়ালে প্রজেক্ট করা
আমাদের সব ইভেন্টে চোখ।
পাখিটার বাসা একই জায়গায় আছে।
এরপরও আমরা বুঝছি না
কেন মৃত্যু সূর্যের আলো থেকেও পরিষ্কার?

[রোস শোমালি: ফিলিস্তিনের রামাল্লা শহরে থাকেন। খ্রিস্টান ধর্মবিশ্বাসী আরব। ফেসবুকে আমার সাথে প্রায় বছর পাঁচেকের যোগাযোগ। কবি হিসেবে আরববিশ্বে জনপ্রিয়।]
……………………………………………

ফিলিস্তিন
আমিন আল আসাদ

ফিলিস্তিন হে ফিলিস্তিন
সবুর করো আসবে সুদিন।
আসবে ফিরে স্বপ্ন ঘিরে
তোমার নীড়ে, লাল আবীরে
একটি যুবক মুক্ত স্বাধীন
ফিলিস্তিন হে ফিলিস্তিন।

ফিলিস্তিন হে ফিলিস্তিন
সবুর করো আর ক’টা দিন
যায়নবাদের ধারক যারা
ডাকাত তারা দেশ লুটেরা
উচিত সাজা পাবেই তারা
ফুরিয়ে যাবে ওদের দিন
ওই দেখো ওই আসছে নবীন

ফিলিস্তিন হে ফিলিস্তিন
সবুর করো আর ক’টা দিন
এক জামাতে সকল মুমিন
এক সাথে হাত রাখবে যেদিন
শাহাদাতের নেশায় পাগল
ইমাম হোসেন বীরের বেশে
আসবে ছুটে ভাঙতে আগল
ফৌজে খোদা মরুর দেশে

স্বাধীনতা আসবে ওদিন
জাগবে দেশে বীর সালাদিন
আসবে ফিরে আসবে সুদিন
ফিলিস্তিন হে ফিলিস্তিন।
……………………………………………

ছোট পা
নাথালে হান্দাল

এক মা আরেকজনের দিকে তাকালেন।
চারপাশে ছোট ছোট মৃতদেহ
পোড়া বা অঙ্গছেদে
ছড়ানো ছিটানো লাশের সাগর।
মা প্রশ্ন ছুড়লেন,
বলো কীভাবে আমরা শোক পালন করব?

[নাথালে হান্দাল : ঈসা (আ.) যে বেথলেহেমে জন্মেছিলেন, সেই পবিত্রভূমির সন্তান নাথালি হান্দাল। যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসী ফিলিস্তিনি এই কবি ফ্রান্স ও লাতিন আমেরিকায় বেড়ে উঠেছেন, পড়াশোনা করেছেন যুক্তরাজ্য আর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর তিনটি ছোট ছোট কবিতা Gaza, The Gazans এবং Tiny Feet-এর বাংলা]
……………………………………………

কবিতা নয়: ঘৃণা
মামুন সুলতান

ঈগলের উড়ন্ত ডানায় রাখি ঘৃণার মিসাইল
থুথুর মাইন ছেড়ে দিই বাতাস-বহরে
ক্ষেপণাস্ত্রের গতিতে ছুটে যাক ইসরাইল সীমান্তে

অবাক পৃথিবী জুড়ে ঘৃণা জমে আছে- জমুক
ঘৃণায় কাঁপে না জানি পাষাণের বুক
থুথুর ছিটায় নিভে যাবে না দূরপাল্লার জ্বলন্ত বারুদ
তবু ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ুক দখলদারি জান্তার ডেরায়

মানুষ মারার দেশে হায়েনা-উচ্ছ্বাস দেখে
হু হু করে কেঁদে ওঠে নিরীহ নদী পাখি অরণ্য
শস্য বিনাশের মত মানুষ মারছে ইসরাইল

গাজার আর্তনাদ কী করুণ! শিশুর কান্নায় ভারি…
শিশুদের হত্যা করে নারীকে আহত করে
রক্তে তৈরি ভিটা কোনোদিন স্থায়ী হবে না
জেনে রাখো ইজরাইল তোমার আণবিক চুল্লিতে
আত্মঘাতী আগুন জ্বলবে জ্বলতেই হবে; জ্বলবেই।
……………………………………………

জাগো বিশ্ব
সৈয়দ ময়নুল কবরী

জাগো আজ বিশ্বের মানবতা
ভুলিয়া সকল ভেদাভেদ তথা
বাঁচাও ফিলিস্তিন।

জাগো আজ হে বিশ্বের মুসলিম
ইসলাম আজ করো হে কায়িম
শোধাও তাঁদেরঋণ।

জাগো বিশ্বের ঘুমন্ত বিবেক
ন্যায়ের ওই ঝান্ডাধারী শেখ
হচ্ছে আজও ক্ষীণ।

দেখো বিশ্বের মানবতা শক্তি
অন্যায়ের পায়ে দিচ্ছে ভক্তি
মানবতা চির বিলিন।

ঈসরায়েলের এ ভয়াল থাবায়
মানবতাবাদ রয়েছে কোথায়
নেই তো ধৈর্যের দিন।

ফিলিস্তিনের মুসলিম আজও
পায়নি শান্তি স্বস্তির খোঁজও
কোথায় মোসলেহীন!

মুশরিকদের তাণ্ডবের বলী
মুসলিম নিস্পাপ শিশু গুলি
বাঁচাও ফিলিস্তিন।

দ্বীন ইসলামের ঝান্ডাধরে
বীরের বেশে যোদ্ধলড়ে
কায়েম করো দ্বীন।
……………………………………………

ফিলিস্তিনের পথে
মজনু মিয়া

কান্নার ধ্বনি শুনি কানে
কে না তা জানে?
ফিলিস্তিনদের মারছে ওরা
একেবারে জানে!

মুমিন মুসলিম জাগো আবার
সয়তানদের করতে বদ্,
উড়াও সেই ইসলামের ঝাণ্ডা
উড়াও শূন্যে পতপত!

কাফের ইহুদি অমানুষ
করিস না আজ সেই হুঁশ,
নাঙ্গা গায়ের আশ্রয় দিছে
ওরে ও বেদ্দুমিশ!

যে পাতায় খাস তাকেই ছিঁড়িস
ইবলিশের দল ওরে,
বুকের উপর বসে খাবলাশ
কি আর বলব তোরে!
……………………………………………

মানুষ মারার খেলা
আবু সাইদ কামাল

শিশুদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে ইসরায়িলি বোমায়,
ওরা এখন পরপারে-কবরদেশে ঘুমায়।
সন্তানহারা মা-বাবারা বুক চাপড়িয়ে কাঁদে,
শোক প্রকাশেও পিলে চমকায় ফের বোমার নিনাদে।
ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশু মারছে ফিলিস্তিনে,
ইসরাইল তো ছূঁড়ছেই বোমা রাতে কিংবা দিনে।
মানববিশ্বে হিংস্র দৈত্যের দাপট এত বেশি,
মারণাস্ত্রের হামলায় থাকে বর্বরতার রেশই।
মহাদৈত্য আমেরিকাÑ ইসরাইল তার চেলা,
মধ্যপ্রাচ্যে জমিয়েছে মানুষ মারার খেলা।
ক্রমেই ওরা মেতে উঠছে ভয়াল ধ্বংসলীলায়,
যোদ্ধাক্রান্ত মানব-আর্তি শূন্যেতে তাই মিলায়।
পৃথিবীতে মানুষ ছিল মানুষ গেলো কই?
মানুষ এবার জেগে ওঠো চলো সরব হই!
যুদ্ধ কেবল মৃত্যু এবং ধ্বংস আনে ডেকে,
চলো সবাই পরিত্রাণ চাই এমন যুদ্ধ থেকে।
……………………………………………

ফিলিস্তিনের কান্না
মোঃ আমিনুল ইসলাম

ফিলিস্তিন
প্রথম কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাসসহ পবিত্র ভূমি
এখানে আজ রক্তপিপাসু হায়েনাদের উদ্ধত পদচারণা।
মায়ের বুক থেকে শিশুকে কেড়ে নেয়ার মতো এখানে আসন গাড়ল
শেকড়বিহীন বহিরাগত অভিশপ্ত ইয়াহুদ ইসরায়েল।

জর্ডান নদী অথবা মৃত সাগরের জলে মিশে আছে ফিলিস্তিন ভাইদের লহু।
শহরের আর গ্রামের বালুকণায় শুকিয়ে
শহরের আর গ্রামের বালুকণায় শুকিয়ে আছে রক্তের প্রলেপ।
গাজা, রামাল্লা আর জেরুজালেম আজ অশ্রু আর কান্নার নগর
তাদের আর্তনাদে ভূমধ্যসাগরের গর্জনও থেমে যায়।
জাতিসংঘ আর ওআইসি যেন নির্লিপ্ত, নিরব দর্শক।

দখলকার পরাশ্রিত তস্কর এখন মালিককে তাড়ায়, হিংস্র নরাধম জায়নবাদি ইয়াহুদ
ইংল্যান্ড আমেরিকার মানবতাবাদী শক্তি
দখলদার ইহুদিদের স্বার্থের ভেতরই মানবতা খুঁজে পায়।
দুর্বল নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের নারী ও শিশুদের রক্তে তারা অপরাধ খুঁজে পায়না।
শক্তিশালী আয়রন ডোমের বিপরীতে পাথর আর সাধারণ রকেট দিয়ে প্রতিরোধে নামে
দেশপ্রেম আর ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান ফিলিস্তিনি মুসলিম।

বৃহৎ রাষ্ট্রসমুহের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা তো তাদের আছে
ফিলিস্তিনিদের এমন কিছু আছে কি?
এখন ইয়াসির আরাফাত নেই, শক্তিশালী
এখন ইয়াসির আরাফাত নেই, শক্তিশালী নেতা নেই
এখন মাহমুদ দারবিশ নেই মজলুমের পক্ষে সেরকম কবিতাও নেই।

স্বার্থের বেড়াজালে আবদ্ধ আরব প্রতিবেশী বা স্বধর্মী মুসলিমরা নিরব।
অথচ মিসর, জর্ডান আর সিরিয়া তো কাছেই ছিলো!
স্বজাতির কষ্ট আড়াল করে দেয় বস্তুগত স্বার্থের পুরু আবরণ।
মজলুম মানুষের আর্ত চিৎকার তাদের কানে প্রবেশ করে না।
ক্ষমতা আর আধিপত্য আকাঙ্খা তাদের
কর্ণকুহর আবদ্ধ করে রেখেছে।
তাহলে শেখ ইয়াসিন, ইয়াহিয়া আয়াশ আর আবু সালাহ’র রক্তের কি কোন দাম নেই?

আর দূর হতে আমরা সমবেদনা জ্ঞাপন আর মিছিল সমাবেশ ছাড়া আর কিছুই করতে পারছিনা।
কেউ আবার তাও করতে পারে না
বুকের ভেতরে মর্মজ্বালা নিয়েই কাটায় পাথর সময়।
আমরা অনেকেই “চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিদাও করিতে পারিনা চিৎকার”।

হে নির্যাতিত নারী, শিশু, এতিম আর বিধবাগণ
তোমরা নিরাশ হবে না, আরও একটু ধৈর্য ধরো
ফিলিস্তিন আবার তোমাদের হবে
দখলদার অভিশপ্ত ইহুদীরা বিতাড়িত হবে
ভূমধ্যসাগর ঘেঁষে কালেমার পতাকা উড়বে
ইবাদাতের জন্য নিঃশঙ্ক, নিরাপদ হবে বায়তুল মুকাদ্দাস
জর্ডান নদী আর মৃত সাগর আবার সজীব হবে
জেরুজালেমের আকাশে পতপত করবে শহিদের রক্তমাখা স্বাধীন ফিলিস্তিনি পতাকা।
……………………………………………

হৃদয়ে আলআকসা
মুহাম্মদ ইসমাইল

যে রক্তের শ্বাস আমার বিশ্বাস
পবিত্র আলআকসায় গ্রথিত শিকড়
চওড়া শীতল সুবিস্তৃত ছায়াতল
শান্তির শিশিরে সুসজ্জিত সে ইতিহাস।
যুগযুগান্তর খ্যাত বীর পয়গম্বর
আজন্ম সভ্য সভ্যতার পথপ্রদর্শক
রাসুলের মেরাজ যাত্রার স্টেশন
বোরাকের বাহন সে তো চিরভাস্বর।
পুণ্যভূমির স্বর্গীয় উন্মাদনা হৃদয়ে
ঝাঁকে ঝাঁকে ঈমানের শ্বেত পারাবত
আসবেই ছুটে অনন্ত কাল…
ভয়-মৃত্যুর সীমানাকে ছাড়িয়ে ।
……………………………………………

ফিলিস্তিনকে মুক্ত করি
মোহাম্মদ উল্লাহ ইমরান

উড়ে এসে জুড়ে বসে দখল করে দেশ
ফিলিস্তিনের দুঃখের কথা হবে নাকো শেষ
নিজের দেশে গোলাম বেশে নির্যাতিত হয়
জুলুম করে ঢুকে ঘরে দেখায় তাদের ভয়।

পাখির মত ইচ্ছেমতো মানুষ হত্যা করে
ইজরায়েলের রাক্ষসেরা যায় নিয়ে রোজ ধরে
বোমা মেরে জীবন কেড়ে আনন্দ পায় ওরা
জায়নবাদীর পাষাণ হৃদয় হিংস্রতাতে ভরা।

জায়নবাদী ইজরায়েল চায় করতে আকসা ধ্বংস
আকসা হলো মুসলমানের প্রাণের একটা অংশ
অনেক নবীর পরশ পেয়ে আকসার মাটি ধন্য
জীবন দিতে চায় যে মুমিন প্রথম কিবলার জন্য।

পা চাটা ঐ রাজা বাদশাহ যোগায় তাদের শক্তি
গদির লোভে ইজরায়েলকে যায় করে তাই ভক্তি
ভয় পেয়ো না ফিলিস্তিনের বীর যুবারা আগাও
জীবন দিয়ে শয়তানের ঐ চেলাদেরকে তাড়াও।

বিভেদ ভুলে ঐক্য গড়ে চালাও যদি লড়াই
ধ্বংস হবে হঠাৎ করে ইজরায়েলের বড়াই।
ফিলিস্তিনকে সবাই মিলে করি এসো মুক্ত
দোয়া করে সাহস দিয়ে নামটা করি যুক্ত।
……………………………………………

ফিলিস্তিনের শিশু
মোহাম্মদ উল্লাহ ইমরান

মা-বাবা কে হারিয়ে শিশু করছে আহাজারি
চোখ থেকে তাই এই শিশুটির পড়ছে ঝরে বারি
ইজরায়েলের আগ্রাসনে ধ্বংস হলো সব
খাবার কিছু নেই যে এখন নেইকো আঠা যব।

ইজরায়েলের বিমান হামলায় নিল সবই কেড়ে
নিঃস্ব এখন কাকে বলবে গলার আওয়াজ ছেড়ে
কার কাছে সে পেতে কিছু ধরবে এখন বায়না?
মা-বাবা কে ছাড়া যে আর অন্য কিছু চায়না।

কোথায় গেল এই শিশুটির আপন খেলার সাথি?
হঠাৎ করে একে একে নিভে গেল বাতি
অজানা এক আশংকাতে কাটছে যে দিন রাত
ফুরসত নেই তার বিছানাতে হবে একটু কাত।

কথা ছিল এখন যে তার খেলতে পুতুল খেলা
মুহুর্মুহু বোমার শব্দে যায় কেটে তার বেলা
পেটের ক্ষিধে যায় চলে তার আতংক আর ভয়ে
ছোট্ট থেকে হচ্ছে বড় এসব সয়ে সয়ে।

এমন অনেক হাজার শিশু ফিলিস্তিনে আছে
বুকে সাহস দিতে তাদের কে যাবে ভাই কাছে?
নির্যাতিত শিশুর পাশে কে দাঁড়াবে বলো?
ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে সম্মুখে যাই চলো।
……………………………………………

কী খেলা খেলিছো শূন্যপুরে বসে
গোলাম রববানী

বড় সাধ জাগে
গো দয়াল বড় সুখে আত্মঘাতী হতে!
আমার ইচ্ছে করে আজ আত্মঘাতী হতে।

ইচ্ছে ছিলো জগৎটারে দেখবো ভবে
ইচ্ছে গেছে ডুবসাগরের পাতালপুরীর বনে

দেখছি তো কাঙ্গালটারে আষ্টেপৃষ্ঠে কুরে কুরে খাচ্ছে
মৎস্যন্যায়ের মতন এক দেশ আরেক দেশের চাচ্ছে
তাই নিয়ে ভাই বড় ভায়েরা কী দারুণ হাততালি দিচ্ছে!
আমার বড় ঘৃণা হয় ঘৃণায় যে মরে যেতে ইচ্ছে হয়
ঘৃণার ভয়াল থাবা দিলেম ছুঁড়ে পক্ষের পরাশক্তির গায়!
নিশ্চিত জেনে রেখো ফিলিস্তিনের হবে জয় হবে জয়
ওরা আমার নবী-রাসুল আর আল কুরআনের অনুসারী তাই
অন্তর্যামীর হিসেব মিলানো সত্যিই বড় দায়! হবে জয়! হবে জয়।

শিয়াল কুকুর হায়েনা কিংবা
হিংস্র জন্তু জানোয়ার খেলে তো কোনো কথা নয়
ওহে বুদ্ধিজীবীর দল বলো তো কী করে হবে আজ মানবতার জয়!
চারিদিকে আজ ক্ষয় ক্ষয়ে যায় যে মানবতার অবক্ষয়!
চারিদিকে আজ জয় ইহুদি আর বিধর্মীদের বিজয়কেতনের জয়! ওরা শুধু ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যায়!
কিন্তু দেখানো জয় যে হাওয়াতেই গুলিতে যায়!
বে আইনকে আইন করলেই কী সত্য চেপে যায়;
সত্য যে সূর্যের মতন চিরকাল আলো ছড়িয়ে যায়।

কে কবে চিরকাল ক্ষমতার দাপট দেখাতে পেরেছে এ দুনিয়ায়!!

এক নিমিষেই দেখো উলোট পালোট করে দেবে ঈশ্বর অব্যয়!
চারিদিকে শান্তির পতাকা আর ফোয়ারা উড়বে ঝরছে নিশ্চয়!

আমার বড় ঘৃণা হয় ঘৃণায় গায়ে গা লাগিয়ে কোথায় চলে যায়?
ওরা আজ আস্তো গিলে গিলে খাচ্ছে
আজ মানুষ মানুষের রক্ত কী করে খাচ্ছে?
ওরা কী মানুষ! ওরা আসলে মানুষ নামের জানোয়ার!
খাচ্ছে আরো আরো তো চাচ্ছে; অবাক পৃথিবী শুধু তাকিয়ে দেখছে! দূর প্রতিবাদ করে কতটুকু সমাধান হচ্ছে?
যাও না এগিয়ে ওরে ওরে আমার জাতভাই।
ওদের লাগি সমস্ত পূতাত্মা কাঁদে ওরা যেঁন পাই ঠাঁই।
আজকের দিনে আর কিছু চাওয়া নাই ওগো ও সাঁই!

ওরা তো রক্ত খেকো
ভ্যাম্পায়ার আর রক্তচোষা বাদুড়ের মতো
বেবি শিশুর মতন ফিডার টেনে টেনে খাচ্ছে
আর আরাম সারাম পাচ্ছে
দুধের বদলে গরম গরম রক্ত শুধু টেনে টেনে খাচ্ছে
আমার মায়ের রক্ত খাচ্ছে
আমার বাবার রক্ত খাচ্ছে
আমার বোনের রক্ত খাচ্ছে
আমার সন্তানের রক্ত খাচ্ছে
আমার স্বজনের রক্ত খাচ্ছে
আমার পড়শীর রক্ত খাচ্ছে।

ওদের পেট আর কতো বড় হবে!
আমি অম্বলের রোগ হয়ে ওদের বিস্ফোরিত হাওয়াতে অভিশাপ দিয়ে দেবো
ওরা বিলিয়ে গুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে
আমি বিশ্ব মানচিত্র সুদ্ধ খেয়ে ইজরায়েলের মুখে একদম বমি করে দেবো
আমি সপ্তসাগর জল পান করে করে ওদের চিহ্ন বমি করে সত্যিই ভাসিয়ে দেবো

আমার বড় ঘৃণা হয় ঘৃণায় যে মরে যেতে ইচ্ছে হয়

সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে প্রিন্ট মিডিয়া
অথবা ইলেকট্রনিক মিডিয়া মিলেমিশে আজ কী খবর আনছে
খবর দেখে মান হৃদয় পুড়ে পুড়ে গোরস্তান হয়ে যাচ্ছে।

দেশ দেশের খাচ্ছে
আকাশ আকাশের খাচ্ছে
ভূমি ভূমির খাচ্ছে
সীমান্ত সীমান্তের খাচ্ছে
প্রাচীর প্রাচীরের খাচ্ছে
কাঁটাতারের বেড়া কাঁটাতারের খাচ্ছে
গুষ্টিসুদ্ধ রকেট স্পিডে আস্তো খেয়ে একদম
উদ্ধার করে দিচ্ছে!
করোনা করোনার খাচ্ছে
অদৃশ্য অদৃশ্যের খাচ্ছে
তবুও খাওয়াখায়ির দুনিয়ায় পেটটা কী ভরছে?
মনটা কী ভরছে?
শুধু শুধু হৃদয় পুড়ে যাচ্ছে!
আর অন্তর পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে।
এ কেমন জ্বালা দিয়ে পাঠালে ওগো দয়াময় অন্তর্যামী
কেউ সুখী নেই ওগো বিধাতা ধরিত্রীর কোনো মানব-মানবী!

কেমন সুখের পৃথিবী পেলাম বলুন তো আজ হাতে?
ওগো খোদা তোমার রাজ্যে সবকিছু তো তোমার-ই হাতে!
তবে এ কেমন খেলা খেলিছো তুমি শূণ্যপুরে বসে??

আমার ইচ্ছে করে আজ আত্মঘাতী হতে
খোদা ক্যানো বলো না আত্মহত্যার অধিকার আছে!
……………………………………………

জ্বলছে আশার ধুপ
মো: জোবাইদুল ইসলাম

আজ ইসরাইলি বুলেট-বোমায়
মরছে মানুষ শত
বীরের মতো লড়ে যাবো
করবো না মাথা নত।

বুলেট-বোমা ভয় করি না
আল্লাহ মোদের রব
চাইলে তিনি বিজয় দিবেন
ধ্বংস করে সব।

চারিদিকে আজ কান্নার রোল
কামান-গোলা কত
প্রতিবাদে নামবো মোরা
নিজে নিজের মত।

লাল কার্ড দেখিয়ে তোদের
করেছি তো চুপ
বিজয় আসবে একদিন মোদের
জ্বলছে আশার ধুপ।
……………………………………………

বিজয় সন্নিকটে
আবদুল হামিদ

রক্ত যদি যায় ফুরিয়েও
ইমান ঠিকই রবে-
ইমানের জোর বোমারু ঠিক
যুদ্ধ চালায় তবে।

ইমানের জোরে সালাউদ্দীন
জাগে কাশেম বখতি,
পারমাণবিক বলের চেয়েও
ইমান দ্বিগুণ শক্তি।

বার্মা ভারত চীন ফিলিস্তিন
কাশ্মীর আরো যত,
ইমানের জোরে মুসলমানেই
আনবে বিজয় শত।

মুসলমানের পক্ষ নিবেই
ফেরেশতাদের লাঠি,
তাগুদের দল কাঁপবে ভয়ে
ধ্বংস হবে ঘাটি।

দিন দূরে নয় সন্নিকটেই
আকসা হাসবে ঠিকই,
মুসলমানের উড়বে ঝাণ্ডা
পৃথিবীর চারদিকই।
……………………………………………

জাদা ইসরায়িল
মেজু আহমেদ খান

হারামজাদা ইসরায়িল আর ইসরায়িলের সঙ্গী
ঘাতক দানব শুয়ার পশু
এরাই আসল জঙ্গি।

ফেলছে বোমা রাত্রি দিনে গাজায় ফিলিস্তিনে
দেদার মানুষ মারতেছে রোজ
হিসেব নিকেশ বিনে!

সঙ্গী এদের জাতিসংঘ জায়নাবাদের সাথী,
আরব ভূবন এক হলে ওর
থাকবে বুকের ছাতি?

ফিলিস্তিন আজ রক্ত সাগর ভাসছে লাশের সারি
মুসলিম আমি মুমিন এসব
সহ্য করার পারি?

তাই তো ছড়ায় যুদ্ধ জিহাদ
প্রতিবাদের তীর
চালিয়ে যেতে কলম আমার
যায় হয়ে অস্থির।

ইয়াহুদীদের ধ্বংস করে
অচিরেই একদিন
ইনশা আল্লাহ মুক্তি পাবেই
আবার ফিলিস্তিন।