পৃথিবী এমন এক দল কুলশিত মানুষের হাতে বন্দি যারা প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করে। এক হাতের রক্ত শুকাতেই অন্য হাত রক্তে রঞ্জিত করে তোলে। তাদের উপর লানত। তারা পৃথিবীর শান্তিকে বিনষ্ট করে। শান্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আমরা। মানবতা যেখানে ভূলুন্ঠিত সেখানেই আমাদের কলম জেগে ওঠে।
ফিলিস্তন এমন এক ভূখন্ড যেখানে প্রতিনিয়ত হত্যাকারীদের হাতে রক্ত লেগে থাকে। তারা প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করে। মানুষ হত্যাকারী ইয়হুদীদের প্রতি আমাদের অভিশম্পাত। আর যে ইয়াহুদী শান্তি চায় তাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা। আমরা শান্তি পক্ষে। যেখানেই শান্তি সেখানেই আমরা আমাদের ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে আসি।
ফিলিস্তিনে যে হত্যা হচ্ছে তাকে যারা সমর্থন করে তারাও হত্যাকারী। তাদের প্রতিও লানত। আমরা ফিলিস্তিনিদের অধিকার চাই। যার যতোটুকু অধিকার তার ততোটুকু অধিকার ফিরে পাক এই আমাদের কামনা।
আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের ধর্য ও সাহস দিন। যাতে তারা হত্যাকারীদের প্রতিশোধ গ্রহণ করে পারে।
ইয়াহুদী হত্যাকারীদের বিপক্ষে দাড়িয়ে যে সকল কবি সাহিত্যিক তথা সৃজনশীল মানুষ কথা বলেছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
-আফসার নিজাম, সম্পাদক
……………………………………………

সূচীপত্র

আমি আমার বাবা-মার বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম আর আমি স্বপ্ন দেখছিলাম ওর বাড়িটা :: নজওয়ান দারবিশ :: সৃজনানুবাদ : আনিসুল হক
মেঘ :: নজওয়ান দারবিশ :: সৃজনানুবাদ : আনিসুল হক
আল কুদস :: আমিন আল আসাদ
বিজয়ের পতাকা আঁকবে :: মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর
ফিলিস্তিনী বীর :: আশরাফুল শরীফ
বিজয় সন্নিকটে :: আবদুল হামিদ
শান্তি আসুক নেমে :: মুহাম্মদ ইসমাইল
ইসরায়িল নিপাত যা :: মেজু আহমেদ খান
শোক স্তব্ধ সে রাত :: মুহাম্মদ ইসমাইল
আসবে নুতন ভোর :: আমিন আল আসাদ
পুলিশ কেবল পিডায় :: মেজু আহমেদ খান
……………………………………………

আমি আমার বাবা-মার বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম আর আমি স্বপ্ন দেখছিলাম ওর বাড়িটা
নজওয়ান দারবিশ
সৃজনানুবাদ : আনিসুল হক

যখন ঘুম ভাঙল
আমি দেখলাম আমার ভাইয়েরা
ঝুলন্ত
পুনরুত্থানের গির্জার ছাদ থেকে
সমব্যথী হয়ে প্রভু বললেন, এ আমার নিজেরই যাতনা
আমি ওই ঝুলন্ত মানুষটির অহংকারকে হেঁকে বললাম: ‘আমার মতে, এ আমাদের…’

বেদনা প্রতিভাত করে সব কিছু,
আর আমি একে ভালোবাসি দুঃস্বপ্নের চেয়ে বেশি

আমি উত্তরে পালিয়ে যাব না, ও প্রভু
আমাকে গণ্য করো না তাদের মধ্যে যারা ঠাঁই খুঁজে নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে

আমরা এই প্রতিবেদন পেশ করতে থাকব পরবর্তীকালেও
আমাকে এখন ঘুমুতে যেতে হবে।
সাবরা আর শাতিলাগামী দুঃস্বপ্নের গাড়ি আমি মিস করতে চাই না
……………………………………………

মেঘ
নজওয়ান দারবিশ
সৃজনানুবাদ : আনিসুল হক

আমার কোনো ভাই নেই যে আকাশের বোঝাটা সরাবে আমার পিঠ থেকে
নেই কোনো কন্যা যে আমার বৃক্ষগুলোকে উপশম দেবে
আমার কোনো নাতি নেই যে আমার সরোবরগুলোর উত্তরাধিকারী হবে
নেই কোনো শিখা যে আমার অগ্নিকোণকে প্রজ্বলিত করবে
নেই কোনো সহূদয় স্বজন যে জল দেবে নীল ফুলের গোড়ায়
কিছুই নেই আমার কেবল ওই গৃহহারা মেঘ দল ছাড়া

যারা একদিন হাঁটবে আমার শবযাত্রায়
……………………………………………

আল কুদস
আমিন আল আসাদ

‘বিশ্বের সব মুসলমান যদি ঐক্যবদ্ধ হতো, আর সকলে মিলে প্রত্যেকে যদি এক বালতি পানিও ইজ্রাইলের উপর ঢেলে দিতো তবে ইজ্রাইল বানে ভেসে যেতো’ -ইমাম খোমেনী র.

আল কুদস
পবিত্র ওই প্রথম কিবলা মুক্ত হবে একদিন
সন্দেহ নাই আমার বিশ্বাসে কোন
একদিন জেগে ওঠবে বিশ্ব-মুসলেমিন
বিস্ফোরণ্মোখ ভিসুভিয়াসের ন্যায়
এ জাতি ঘুমাবার নয়
বিপ্লবী নবীর সা. চেতনা লুক্কায়িত হৃদয়ে যাদের
আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে যারা শির করে না নীচু
লক্ষ বীরের শোনিত যাদের হৃদয়ে বহমান
থাকবে না কখোনো ঘুমিয়ে ওরা
সহসা সম্বিৎ ফিরে পাবে তারা
যেমন বজ্রাঘাতে সম্বিত ফিরে পায় উত্তাল তরঙ্গ!
ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ জলোচ্ছ্বাস আসে তেড়ে
ডুবিয়ে দেয় নগর বন্দর জনপদ
ঠিক তেমনি
নিথর নিঃশব্দ থাকবে না ওরা
অপ্রকাশিত মাহদীর সৈনিকেরা ওঠবে জেগে
ভেঙে দেবে জায়নবাদী কালো হাত
তাগুতের হিংস্র থাবা
ছিন্ন হবে ফ্যাসিবাদী চক্রান্তের জাল
দখলদারের দম্ভ হবে চুর্ণ।
প্রিয় নবীর সা. পদধূলিতে ধন্য আল- কুদস
মুক্ত হবে একদিন
মুক্ত হবে একদিন
……………………………………………

বিজয়ের পতাকা আঁকবে
মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর

ফিলিস্তিন আমাদের ছিল আছে থাকবে
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম হকের পথে ডাকবে
জালিম শাহির জুলুমবাজি রুখতে আজি
জোয়ান বুড়ো কিশোর কচিরাও জাগবে।

জুলুমের তো শেষ হবে একদিন জানি
মুসলমানের দখলেই আসবে সব মানি
আফগান কাশ্মীর আরাকান আমাদের
সাদা কুত্তা ইহুদিরাও একদিন ভাগবে।

দিকে দিকে চারদিকে জুলুমের থাবা
কারা মাজলুম আর কারা খেলে দাবা
বয়োবৃদ্ধ শিশু আর নারীদের লাশ-
জেগে উঠে একদিন দীনের পথে হাঁকবে।

আর বেশি বাড়িস না তৈরি আছি মোরা
লড়াই করে বাঁচি মরি মনে রাখিস তোরা
জীবন দেয়া নেয়ার যাত্রা হয়নি তো শেষ
তৌহিদী জনতা বিজয়ের পতাকা আঁকবে।
……………………………………………

ফিলিস্তিনী বীর
আশরাফুল শরীফ

বিদ্যুৎ চমকালে আমরা শিউরে উঠি,
বজ্রপাত হলে কানে আঙুল গুঁজে দেই,
ভয় উৎকণ্ঠা আমাদের খাবু করে !
অথচ—
ওরা নির্ভীক, বুকে সাহসের দামামা,
রক্ত চক্ষুতে চষে বেড়ায়,
বাজায় যুদ্ধের আমামা ৷

ওরা—
ওরা নির্ভীক, নির্ভয়, আল্লাহর প্রেমে সদাশয় অটুট,
শত্রু বক্ষে চড়ে, আটকে ধরেছে হায়নাদের ঠোঁট ৷
শিশু অথবা জোয়ান সবাই আগুয়ান, ধরেছে জীবন বাজি,
প্রভুর প্রেমে তারা আত্মা বিলিয়ে দিতেও রাজি ৷
আল্লাহু আকবার হুংকারে শত্রু বক্ষ করে চৌচির,
ভেঙে দিতে শত্রু সদন ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনী বীর ৷
শত্রুরা হেরে যাবে, ধ্বংস হবে তাদের সমস্ত সাম,
ইসলামের হবে জয়, বিশ্ব জুড়ে হবে ইসলাম কায়েম ৷
……………………………………………

বিজয় সন্নিকটে
আবদুল হামিদ

রক্ত যদি যায় ফুরিয়েও
ইমান ঠিকই রবে-
ইমানের জোর বোমারু ঠিক
যুদ্ধ চালায় তবে।

ইমানের জোরে সালাউদ্দীন
জাগে কাশেম বখতি,
পারমাণবিক বলের চেয়েও
ইমান দ্বিগুণ শক্তি।

বার্মা ভারত চীন ফিলিস্তিন
কাশ্মীর আরো যত,
ইমানের জোরে মুসলমানেই
আনবে বিজয় শত।

মুসলমানের পক্ষ নিবেই
ফেরেশতাদের লাঠি,
তাগুদের দল কাঁপবে ভয়ে
ধ্বংস হবে ঘাটি।

দিন দূরে নয় সন্নিকটেই
আকসা হাসবে ঠিকই,
মুসলমানের উড়বে ঝাণ্ডা
পৃথিবীর চারদিকই।
……………………………………………

শান্তি আসুক নেমে
মুহাম্মদ ইসমাইল

আর কত রক্ত ঝরবে?
আর কত শিশু অনাথ হবে?
আর কত মানুষ পঙ্গু হবে?
আর কত ধ্বংসের আগুন জ্বলবে?
কেনো ন্যায্য অধিকার মাথা কুটে মরবে?
কেনো ইবলিশের দল নরকের দাঁত ফোটাবে?
শান্তির আঙিনায় বিষাক্ত গোলাবর্ষণ হেনে
নারকীয় উন্মাদনায় খিলখিল করে হাসবে?
না, আর নই, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন আর নই,
জালিমের অত্যাচার আর নই
শান্তিকামী মানুষ, শান্তিকামী বিশ্বের প্রতিরোধ চাই
অবাধ্য- অবৈধ সন্তানের শিক্ষা দেওয়া চাই
চাই, ঐক্যবদ্ধ হোক বিশ্ব মানবতা
ঐক্যবদ্ধ হোক বিশ্ব অশান্তি বিনাশে
শান্তির সুশীতল বাতাস বয়ে যাক আকাশে৷
নির্ভয়ে শ্বাস নিক বিশ্বের প্রতিটি প্রাণ!
……………………………………………

ইসরায়িল নিপাত যা
মেজু আহমেদ খান

জাহেল ইসরাইল নিপাত যা,
যেতেই হবে নিস্তার নাই
তুই হাবিয়ার চিপাত যা।

দানব শুয়ার হারামজাদার দল,
নিযুত কোটি ঘেন্না তোদের
হত্যাকারী মানব মারার কল।
……………………………………………

শোক স্তব্ধ সে রাত
মুহাম্মদ ইসমাইল

“লাইলাতুলকদর” পবিত্র সে রাত
খোদাভিরু মুসলিম হয়েছিল জমায়েত
পবিত্র আলআকসার আকাশ বাতাস
গুনগুন কুরআনের ছড়িয়ে সুবাস
অগুনিত মুসলিম দাঁড়িয়ে সারি সারি
প্রার্থনায় কাতর করে আহাজারি
“ক্ষমা করো প্রভু, মাফ করে দাও
কলঙ্ক মুছে দিয়ে সাফা করে নাও… “
হঠাৎ পেছন থেকে হানাদারদল
হিংস্র পশুর মতো করে অত্যাচার
গুলি আর শেল ছুঁড়ে অবিরাম
নিরীহ মানুষ মারা যায়নবাদীর কাম
নিমেষেই নিথর হলো তাজা তাজা প্রাণ
শতশত আহত বিক্ষিপ্ত লোকজন
হাহাকার কান্নায় স্তব্ধ সে রাত
কালের অভিশাপে ভাঙবেই সে হাত!
……………………………………………

আসবে নুতন ভোর
আমিন আল আসাদ

[পবিত্র জুমাতুল বিদা এবং আল কুদস দিবস উপলক্ষে আল কুদস মুক্তি ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা কামনা সহ বিশ্বের নির্যাতিত নিপীড়িত মুসলিম গণমানুষের মুক্তি কামনায়]

দিনের পরে রাত্রি আসে রাতের পরে দিন
রক্ত দিয়ে রঞ্জিত হয় আরব ফিলিস্তিন
দিনের পরে রাত্রি আসে রাতের পরে দিন
তেল আবিবে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে প্রতিদিন
যায়নবাদী দস্যুগুলোর আক্রমণে রোজ
লেবানন ও ফিলিস্তিনী শিশু এবং নারী
দিচ্ছে জীবন বিশ্ববাসী কেউ রাখো কি খোঁজ?
বোমার ঘায়ে ধবংশ হলো কত্তো বসত বাড়ি
আর কতকাল ঝরবে লহু আর কত জীবন?
ঝরবে ধুসর মরুর বুকে ভাঙবে কত মন?
এরও একটা অন্ত আছে এরও আছে শেষ
ইমাম হোসেনের সাথীরা ভয় পেয়ো না ভয়
দাও মিটিয়ে যায়নবাদের নাম নিশানা লেশ
আধাঁর কালো অমানিশা হটবে সুনিশ্চিয়
হামাস এবং হিজবুল্লাহ ঐক্য গড় ভাই
উপড়ে ফেলো যায়মবাদী বর্বরতার মূল
ঐক্য এবং ঈমানদারির বিকল্ল যে নাই
অব্যহত লড়াই থেকে নড়ো না এক চুল
চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের এবার জবাব দেয়া চাই
যায়নবাদের হোতাগুলো পায়না যেনো ঠাই
দিনের পরে রাত্রি আসে রাতের পরে দিন
এই নিয়মে কাটবে কালো অন্ধকারের ঘোর
অগণিত মানবশিশুর রক্তধারার ঋণ
ঘুচিয়ে দেবে বিপ্লবীরা আসবে নুতন ভোর।
……………………………………………

পুলিশ কেবল পিডায়
মেজু আহমেদ খান

রাস্তায় যদি নামি
খুঁজতে খাবার আমি
পুলিশ কেবল পিডায়;
এই আমি আর আমগোর উপর জুলুম করেই
হেরা এদের মনের খাহেশ মিডায়!

আল্লারে তুই কই?
বেবাক চায়া রই।

রিক্সাগুলো উল্ডাইয়া দেয় পুলিশ
পেডের দায়ে হইছি বেবাক ফুলিশ।

খাবার নাইগ্গা ঘরে,
পুলিশ লাডি চালায় পিডের পরে!
ও আল্লাহ তুই কই-যামু আঁই বল
চোহের পানি ঝরছে অনর্গল…

একটা উপায় দে না মাবুদ বাঁচতে পারি যাতে
নইলে আমগো মরণ সাবুদ লেইখা দে এক সাথে।