নির্বাণ

জোনাকির ডানা বিছিয়ে চলছে অন্ধকারের অঘোষিত চোখ। অন্তত না দেখে একটা সবুজ বেদনা কেমন ভ্রম হচ্ছে। মাথার ভেতর এত যন্ত্রণার কফিন অঙ্কিত হচ্ছে তাতেও সড়কের সুপারিশ বাঁক নেয় পা টিপেটিপে। আমাদের ভুলভালগুলো আকাশ ছুঁয়েছে, তাদের ভেসে চলা গোপন কথা মেঘবাড়ির আড়ালে। এখানে পাতার পর পাতা উল্টে সকাল ঘেঁটে নামানো হয় লোকালয়। উড়ে এসে বসে নদী পরপারের মধ্যকাল। নেমে আসে জলছবি বাতায়নে সাবধানী কচি কচি সাঁতার। উদাস ঝিনুকের অশ্রু পুড়ে যায় জলের খোঁজে।
…………………………………………..

চুপকথা

ভিজে যায় মুখের বিচিত্র কোলাজ। কিছু নমনীয় পাথরের নীরবতা পালন করতে হয় স্বয়ং ধারণায়। ঘরের মাতাল ছায়া একাকী নিবিড় সহজপাঠে শ্রাবণ তুলে নাচে। পিটপিট করে তাঁকিয়ে থাকে নৌকার অবসাদ। প্রতিদিন স্থাপিত অভ্যাসের কাঠামোয় মাটির গন্ধ ডুব দেয় সহজ প্রলেপে। গভীর স্নেহাশীষ পাখিজন্ম আমাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ভূগোলের জরায়ুতে। তারপর পেরিয়ে যায় যৌবনহারা স্লোগান লাঙ্গলের ফলায়।
…………………………………………..

খোলাপিঠ

ইতস্তত ভাঙাচোরা ভোর নিয়েই থাকতে হলো সাধনার তলপেটে। অপূর্ণতার চন্দ্রবিন্দু এখন মারাত্মক সময়ের সন্ধানী। কোথাও কোনো ব্যাকুল চিহ্নের ছটফট লেগে নেই। খোলা দরজার রক্তধারা বয়ে চলেছে পাঁজরে পাঁজরে। শান্তিময় ধ্বনিতে বেঁধে ফেলেছি দূরত্বের নোঙর। একঝাঁক নির্জন খাঁচার মশগুলে খুঁজে পাই আমার বৃত্তের সাম্রাজ্য। এখানে ত্যাগী বাসনার বাঙ্ময়তা নিয়ে রাত্রি করি পার। তাই রব রব সাজে জনপদের সুবর্ণ কৌতুহলী। আজ এলেন শিকারে মৌলিক বনভোজনগুলি।
…………………………………………..

ফ্রেমবন্দী

কোনো কান্না আলোকপাত হয়না ফ্রেমবন্দী চোখের মহিমায়। ঘিরে আসে পালকের ঈষৎ ঢেউ কন্ঠস্বরে। নতজানু ক্ষমার কাহিনীতে শুধু বনমোরগ ডাকে। চমকে উঠি তীব্র কাটাকুটি ছবির ভিতর, জুড়ে থাকে মহুয়া বনের স্নিগ্ধ পরশ। অন্য কোনো বরফ সুরে যেতে পারিনা। সারাক্ষণ মুখ থুবড়ে পড়া কল্পনা সংকেত, আলুথালু বুক নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। অজানা অসুখের মতো হাতড়াতে থাকে মাটিদেশ। শুধু মন কুঁকড়ে পড়ে থাকি চাপা নিঃশ্বাসে।
…………………………………………..

ডাকে

স্বপ্নে দ্যাখি হেঁটে যাচ্ছি মৃত শহরের উপর দিয়ে, বাড়িগুলো হারিয়েছে শরীরী ভাষা প্রয়োগ। জেদি সোনালি ডানার চিল ছোঁ মারে সম্পূর্ণ আকাশটাকে। দূরগামী ট্রেন ধুঁকছে খুক খুক কাশিতে। বধির হয়ে আছে বাতাসের কান

আমি সাবধানে পা ফেলে ফেলে হাঁটছি পড়ে আছে যেখানে সেখানে যিশুর কঙ্কাল আর বিবসনা নারীর লাশ। আমি ভুলে যাই মুহূর্তে বেঁচে থাকার সমূহ অধিকার। তখনই আমার ঘুম ভেঙে গেছে মোরগের ডাকে
…………………………………………..

পরিসর

মৃত্যু ও জন্মের পাশে দাঁড়িয়ে সামান্যতম সারমর্ম লিখে গেল কবি। বেশ তর্ক জমেছিল ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে —সভ্যতার হৃৎপিণ্ড ডিঙিয়ে সংস্কার অবধি। নক্ষত্রের সংযম ঠোঁটে লেপে মিলিয়ে গেছে দীর্ঘ অস্তিত্বখানি। আত্মক্ষয়ের ভেতর ফড়িংয়ের উচ্ছ্বাস বিনির্মাণে টপকে গেছে দ্বিখণ্ডিত সীমা অবাক অসীম।

সাফল্য ছুটে গেছে অন্তহীন অপেক্ষার বুক ঘেঁষে। প্রতিঅরণ্যের বলয়ে ভেঙে পড়ে সরলমুখ। কিছু নতমুখের নির্ভুলগুলি ডুবে যায় অপঠিত অতীতে

শোকগ্রস্ত শূন্যতল পুনরায় করতলে অমৃত চুম্বন রেখে গুটিয়ে নেয় মহাবিশ্বের অনুশাসনবিধি। রঙবেরঙের দীর্ঘশ্বাস গর্জে ওঠে বিরামচিহ্নের পরিসরে ; পাশ দিয়ে হেঁটে যায় স্যাঁতস্যাঁতে উড়ান।
…………………………………………..

জন্মদিন

বৃক্ষের এত সবুজ শীতল পরিশ্রম কোথায় ছুটছে ? যদিও একথা ভাবতে ভাবতে একটা অরণ্যমন চুমু খায় বাতাসের কুসুমিত ঠোঁটে। দূরত্ব রাখি বিপন্ন ছায়ার ফাঁকে। তুলে নিই খুঁটে খুঁটে কিছু হিজল নিরিবিলি।

উড়ে এসে বসে পাড়ি জমানো ডানার পরিযায়ী আনন্দ। ঘন হয়ে এলো যত পালকের ওম্। খাবি খেতে খেতে আমাকেও হাতরাতে থাকে পাওয়ার সীমান্তে মনখারা …

হে সুদূর, তুমি ঢেলে দাও মৃত্তিকার কান্নায় বৃক্ষের জন্মদিন…
…………………………………………..

পূর্বপুরুষের মাটি

মৃত ভরসার তীক্ষ্ণ নিশিরোল। উবে যায় ছলচাতুরি অন্ধ পরিজন। এখানে ঠিক কাচের দুঃখ জুড়ি। উপমায় বইছে উচ্চাসন। গভীরে তার হলুদ জার্নাল পাখি

নিশ্চিত কোনো কীর্তনের বালকসুর। ঢেউ দিচ্ছে দেওয়াল। কৌতুকে আজ বৈতরণী বাকি। এরাও জানে খিদের সুনামি …

ঘুমের পৌষে উঠলো ফুটে পূর্বপুরুষের মাটি…
…………………………………………..

বিনিময়ে

বিনিময়ে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় যথাযথ বুনোহাঁসের গোপন ভেসে গেল। সে মুহূর্তের ভাঁজে দূর্বাঘাসের স্বীকারোক্তি নিজেকে সাজায় একঝাঁক নবীন দ্বিপ্রহরে। আমি মেনেছি পায়ে পায়ে তীব্র ঘামফুলের সম্মতি। সমুদ্রগ্রীবায় জলকাহিনি আরোহণ বেজে ওঠে। আজ অনেকটা সুবিধায় পাহাড়ের উপদ্রবের যুবক হয়ে উঠি। যা আমাকে শোনায় শালের দরজার প্রাচীন পরিধি । প্রাচীর গেয়ে ফিরে যাচ্ছে বনপথের পলাতক। সহ্য হচ্ছে না কারো ঠিকঠাক লাজুক সভাগৃহ। অনতিদূর সে নির্মাণ দশদিক। কেউ প্রকাশ্য রাখলো না ভিক্ষার ঝুলিটির সংস্কার। স্নানঘর ছুঁড়ে দেয় সাবানের অঢেল শৈশব। যেহেতু পারস্পরিক নয় ইঁদুরের সংজ্ঞা। রটে গেছে গাছ পড়শি রং তুলিতে। বর্ষার প্রচ্ছদে ততবার ঢেলে নাও মেঘের দু’মুঠো উদার দিবস।
…………………………………………..

নিবিড় সওয়ার

অজস্র পায়ের অভাব মুছে এসে বসলো ফেরিঘাট। তার সমস্ত না বলা কথার পিঠে প্রকাশ করি আমার গোপনগুলো। সে বিছিয়ে চলছে একটা সফেদ রাস্তা। রাস্তার আলিঙ্গনে একটা মোটামুটি ডায়েরি লেখা যায়। কিন্তু আমার হয়ে ওঠেনা একটা লাইনও। কুড়িয়ে চলেছি পরজন্ম কথা, সাঁকো ও তাঁর জলতরঙ্গ ব্যথা। দুলে ওঠে ভীষণ চিন্তিত নদী। আমি কি পারি তাঁর জলে ভেসে থাকতে, ছড়িয়ে যাচ্ছে অতলে সীমানা ও তার নোলকের নিঃশ্বাস। এলোমেলো আটকে যাচ্ছে জুতো জোড়া, না পারছি ফেলে যেতে কোলাহল ছবি, আবার কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে ঘাসের গান, কান পেতে শুনি। দু’একটা পাখির ডাক শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ি। ক্লান্তির ছাপ গোগ্রাসে গিলে নিচ্ছে জলফড়িঙের নিবিড় সওয়ার।