সূচিপত্র

হে মানব :: তৈমুর খান
আগস্ট : অনিশেষ দুঃখ :: মাঈন উদ্দিন জাহেদ
লড়াইয়ের অপর নাম স্বাধীনতা :: আফসার নিজাম
হে বঙ্গবন্ধু :: ইভা আলমাস
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব :: নীলিমা আক্তার নীলা
মুজিব নামের শান্তির দেশে :: মোস্তফা হায়দার
ফুল ফোটানোর নেতা :: ফরিদ সাইদ
নৈঃশব্দের যতিচিহ্ন :: বিমল মণ্ডল
খোকা :: শাহীন খান
বঙ্গবন্ধু :: সারিয়া আফরিন স্বর্ণা
মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব :: প্রবীর রায়
মুজিবনামা :: সেতু সরকার
ফিরে এসো জাতির পিতা :: তাহেরা খাতুন
মুজিব মানে :: এম ইব্রাহীম মিজি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর :: পলাশ চন্দ্র দাস
মুজিবের অবদান :: কবির কাঞ্চন
মুজিব বর্ষ :: মুহাম্মদ ইমদাদ হোসেন
মহান নেতা :: শেখ একেএম জাকারিয়া
বিশ্ববন্ধু :: সৈয়দ আছলাম হোসেন
বত্রিশ নম্বর বাড়িটি :: শুভঙ্কর দাস
বঙ্গবন্ধু :: নুর ইসলাম বাদল
শেখ মুজিব :: মো: ইউসুফ

হে মানব
তৈমুর খান

তোমার আহ্বান আজও শুনি
মহাকাল-স্রোতে জেগে উঠি

আমার সমূহ পরিচয়, আবেগ অভিমান
প্রিয়স্বপ্ন, কাঙ্ক্ষিত আকাশ আর ভাষা-গান

ঊর্ধ্বে— আরও ঊর্ধ্বে উঁচু হয় শির
শফথের দৃঢ় মুঠি দৃপ্ত-সম্মোহন ভাষা পায়
যে ভাষা তোমার ভাষা, ঐক্যমন্ত্রের সাধনা
স্বাধীনসত্তার কাছে আমাদের দীপ্ত স্বাধীনতা

কে শেখাবে এই প্রেম? কে দেবে ত্যাগের প্রেরণা?
তুমি সেই অবিনশ্বর আলো, অনন্ত সূর্যোদয়
মানবিক প্রাচুর্যের পথে সভ্যতার শাশ্বত সন্তান
জন্মান্তর ফিরে ফিরে পায় যুগ-যুগান্তর…

মৃত্যুও বাঁচার প্রতিধ্বনি, এই রক্তে তাই লিখে গেছ
ইতিহাস থেকে আমরা তোমাকে তুলে আনি
হৃদয়ে বসাই আমাদের আর চেয়ে চেয়ে দেখি
আমাদেরই রক্তে তোমার সঞ্চরণ, অনির্বাণ পরমায়ু…

আগস্ট : অনিশেষ দুঃখ
মাঈন উদ্দিন জাহেদ

ব্যক্তি আমাকে ছোঁয় না, ছোঁয় না ইতিহাসের খেরোপাতা;
চিরকাল অনেতিহাসের হালখাতা ছুঁতে চেয়েছি-
কবিতার চিবুক।
ইজেলে এটে, ফ্রেমে, তুলির আঁচড়ে- বাধের বাড়ি-
তুমিও তাড়াতাড়ি ঘোমটা আঁটো আমার আড়াআড়ি;
রহস্যের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আর হয় না দেখা আমার-তোমার,
এ কেমন বেচইন মন, মুখচ্ছবি প্রেম, হয় না আঁকা তোমাকে।
তোমার বিরহ কাহিনী গাথার শেষ সংলাপ-
‘এবারের সংগ্রাহ স্বাধীনতার সংগ্রাম…’
আমরা নিরন্তর স্বাধীনতার কথা বলে বলে ক্লান্ত হই;
আগস্ট মানে তো অনিশেষ দুঃখ- তোমার-আমারও।

লড়াইয়ের অপর নাম স্বাধীনতা
(বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পাঠ শেষে)
আফসার নিজাম

প্রিয়পুত্র
আমরা দুশ বছর লড়াই করেছি
পৈত্রিক রাজ্যত্ব পূনরুদ্ধারের জন্য
আমরা নীল বিদ্রোহ করেছি
করেছি সিপাহী বিপ্লব
যুদ্ধের সেনানীবাস হিসেবে গড়েছি বাঁশেরকেল্লা
অতপর আমাদের ক্ষুধা দারিদ্র আর
রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হলো আজাদী
আহঃ আজাদী
আনন্দে আমরা চিৎকার করে শ্লোগান দিয়েছি
পাকিস্তান জিন্দাবাদ
জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ

প্রিয়পুত্র
আজাদীর আনন্দ আকাশ রাঙিয়ে তুলতে না তুলতেই
ঘনআঁধার করে আকাশ ছেয়ে গেলো কালোমেঘ
অবিচার আর বৈসম্যে সৃষ্টি হলো অবিশ্বাস
পিতা-পুত্রের সম্পর্কে- অনিবার্য হলো লড়াই
রাষ্ট্রভাষার লড়াই হয়ে উঠলো রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন

প্রিয়পুত্র
নির্যাতন আর নিপীড়ন যখন রাষ্ট্র চালনার হাতিয়ার হয়
বিপ্লব তখন অনিবার্য
তারুণ্যের চোখে সৃষ্টি হয় মুক্তির নেশা
তখন একজন নেতার অাঙ্গুলের ইশারা আর বজ্রকণ্ঠ
হয়ে ওঠে যুদ্ধের হাতিয়ার
‘এবারে সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’
তারপর রক্ত আর ইজ্জতের বিনিময়ে
লাশের মিছিল শেষে হেঁটে আসে স্বধীনতা
আহঃ স্বধীনতা
আনন্দে আমরা শ্লোগান দেই
জয় বাংলা, জয় বাংলা।

প্রিয়পুত্র
লড়াই থেমে গেলে- থেমে যায় উন্নয়ন
প্রগতির চাকা হয়ে যায় স্তব্ধ
অতএব তুমি লড়াইয়ের ময়দানে হাজির হও
‘মনে রাখবা’
লড়াইয়ের অপর নাম আজাদী
লড়াইয়ের অপর নাম স্বাধীনতা।

হে বঙ্গবন্ধু
ইভা আলমাস

এবারের সংগ্রাম
আমাদের মুক্তির সংগ্রাম…
এবারের সংগ্রাম
স্বাধীনতার সংগ্রাম…
হে মুজিব হে বঙ্গবন্ধু,
আর কি করা যায়না এমন
উদাত্ত আহবান
ওই স্বাধিকারের মুষ্টিবদ্ধ তর্জনী
আরো একবার উঠাও হে বঙ্গরূপকার ।
স্বপ্নদ্রষ্টা চিরঞ্জীবী নেই বলে
দিকে দিকে আজ প্রলয় নাচন
ঘুণ পোকারা দ্রষ্টব্য কাঠ ঠোকরার বেশে
উদ্দাম উল্লাসে বিভৎস বহুরূপী
কত শত আহবানের নীচে স্বজাতীয় নগ্নতা,
তোমার সাজানো বাগানে শুধুই কেউটের বিলাস !
হে দিশারী, হে অভিভাবক
অভিমান ভুলে ফিরে এসো
তোমার ঘর-সংসার আর
ষোল কোটি সন্তানের ভার
তোমাকেই নিতে হবে হে মহাপ্রাণ।
এ দেশ এ মাটি আজ চেয়ে দেখো ম্লান
তুমিহীন পথহারা পথিকেরই সমান….

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
নীলিমা আক্তার নীলা

জাতির পিতা শেখ মুজিব
আজকে তোমার জন্মদিন
উড়ছে আকাশে পাখির দল
তোমার আনন্দে সারাদিন।
আজকে তোমার জন্মদিন
জাতির পিতা শেখ মুজিব
আজকে তোমার জন্মদিন।
তোমার বাংলায় তোমার আঙ্গিনায়
ভরে যাবে আজ ভালোবাসায়
খুশিরই দল করছে কোলাহল
দাঁড়িয়ে তোমার ছায়ায়।
জাতির পিতা শেখ মুজিব
আজকে তোমার জন্মদিন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
তুমি আছো থাকবে চিরদিন
এই দেশটা তোমারি গড়া
জানিয়ে দেবে প্রতিদিন।

মুজিব নামের শান্তির দেশে
মোস্তফা হায়দার

এক যে ছিল রুপোর দেশ
আমার সোনার বাংলাদেশ।
সে দেশেতে জন্মে ছিল এক বোকা
সবাই বলে সে আমাদের খোকা।

খোকা যখন যোদ্ধা হলো রাজার পথে
জাগরণে বাজছে বাঁশি বিজয় রথে।
বাঁশির সুরে গর্জে উঠে বাংলাবাসী
সুরের ছন্দে সবার মুখে ফুটল হাসি।

হেসে হেসে দিন যাচ্ছে স্বপ্নপানে
কুচক্রীরা শেষ করে দেয় রক্তবানে।
খোকা ছিল খোকার মতো বোকার দেশে
মধ্যরাতে মৃত্যুর স্বাদ পেল বীরের বেশে

সে আমাদের প্রাণ পুরুষ শেখ সাহেব
স্বাধীনতা দিয়ে তাঁকে করলো গায়েব!
জাতির দোহাই করে তারা করলো বজ্জাতি
বিশ্ববাসী হারিয়ে ফেলল সোনার বটছাতি।

হারিয়ে যাওয়া খোকার দেশে বাড়ছে ফাজলামী
বঙ্গবাসী পিষিয়ে দেবে আছে যত আঁতলামী।
মুজিব নামের শান্তির দেশে নয়তো একা!
সবাই ঐক্য হলে পাবো তবে শান্তির দেখা।

ফুল ফোটানোর নেতা
ফরিদ সাইদ

দেশের নেতা
দশের নেতা
এই জাতিকে মুক্ত করার
বিশাল নেতা।

উড়ুক পাখি
দলে-দলে
মৎস ছুটুক
জলে-জলে।

শোষণ থেকে বাঙালীরা
বাঁচুক
দূর আকাশে মেঘের শিশু
নাচুক।

স্বাধীনতা তিনি
চেয়েছিলেন
কোন্ অভাগা তাকে
মেরেছিলেন?

দেশ-বিদেশে সবাই চিনি
আমরা হলাম ঋণি
বাংলাদেশের ইতিহাসে
ফুল ফোটালেন যিনি।

নৈঃশব্দের যতিচিহ্ন
বিমল মণ্ডল

আমি জেনেছি- তোমার কতসব নির্মাণ
আমি দেখেছি- তোমার কবিতার পরিশ্রম
তুমি জ্যোতিষ্কলোকে
সিঁড়ি দিয়ে উঠে যাও
কত জন্মের ভাবান্তরে

আমি জেনেছি-একটা মানুষকে
আমি দেখেছি- শূন্যের দিকে উঠে যেতে
তোমার ছড়ানো অক্ষরে অক্ষরে

আমায় কুঁড়ে নিতে দাও
অজস্র নক্ষত্রের ভীড়ে
আমি যেন তোমায় ছুঁতে পারি

তোমার প্রতিটি জন্মদিনে
একটি শব্দাংশ যা নৈঃশব্দের যতিচিহ্ন।

খোকা
শাহীন খান

একটি খোকা জন্ম নিলো
টুঙ্গিপাড়া গ্রামে
হাসতো খেলতো সেই খোকাটি
যেতনা বিশ্রামে।
মায়ায় ঘেরা ছিলো তাহার
ছোট্ট অবুঝ মন
দুখি যারা ভাবত তারা
তাকে আপন জন।
দিনে দিনে সেই খোকাটি
যখন বড়ো হয়
সেই খোকাটি সবার হৃদয়
জয় করিলো জয়।
বাসলো ভালো সেই খোকাটি
বাংলা মাকে নিত্য
দেশের তরে কাঁদলো তাহার
হৃদয় এবং চিত্ত।
পাকসেনারা চাইলো যখন
স্বাধীনতা কাড়তে
বিনা দোষে দেশের মানুষ
চাইলো ওরা মারতে।
প্রতিবাদে জ্বলছে ওঠে
খোকার বারুদ প্রাণটি
শিল্পী হয়ে গাইলো সে যে
স্বাধীনতার গানটি।
তাহার গানে সুরে মেতে
দেশটা জেগে উঠলো
পাকটাকি লেজ গুঁটিয়ে
পাকিস্তানে ছুটলো।
সেই খোকাটি আর কেউ নন
তিনি জাতির পিতা
শেখ মুজিবুর নামটি তাহার
সবার তিনি মিতা।
মিতার আজ জন্মদিনে
শুভেচ্ছা আর সালাম
তাহার তরে পড়েন সবাই
আলকোরআনের কালাম।

বঙ্গবন্ধু
সারিয়া আফরিন স্বর্ণা

বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা
বঙ্গবন্ধু মহান
বঙ্গবন্ধুর জন্যই আজ দেশ
পেয়েছে প্রাণ।

আমরা ছিলাম তো পরাধীন
আজকে আমরা স্বাধীন,
সবকিছু তো তারই জন্য
কেমনে শোধ করবো ঋণ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু
বিশাল বড় বুকটা,
আমরা তাঁকে স্মরণ করি
করি সারাবেলা।

তিনি ছিলেন তিনি রবেন
থাকবেন যে চিরদিন,
রবেন বাংলায় চির অম্লান
বাঁচবো না তোমায় ভিন।

জাতির পিতা হয়ে রবেন
চিরসত্য যিনি,
বীর বাঙালির মহান নেতা
বঙ্গবন্ধু তিনি।

তাঁর মতো তো মহান নেতা
আর পাবে নাকো দেশ,
তার কারণে স্বাধীন দেশে
আছি মোরা তো বেশ।

দেশ বাঁচাতে দিয়েছিলেন
স্বাধীনতার ঐ ডাক,
সেই ডাকে গেরিলা যুদ্ধ
হার মানে বাহিনী পাক।

তিনি আছেন সবার মনে
থাকবেন তো চিরকাল,
বঙ্গবন্ধুর এই প্রতিদান
ভুলবে না মহাকাল।

মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব
প্রবীর রায়

বিশ্বের একজন বাঙালির শ্রেষ্ঠ
শেখ মুজিবুর রহমান
পরাধীন বাংলাকে স্বাধীন করে
নিয়েছ সবার উপরে স্থান।

তুমি আছ বাঙালির অন্তরে
আছ প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে
মিশে আছ বাঙালির সত্ত্বায়
থাকবে গৌরবে-গর্বে-বিশ্বাসে।

তুমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি
তোমার অমর কীর্তির জন্য
জানাই তোমায় শ্রদ্ধাঞ্জলি।

তুমি ইতিহাস-তুমি বাংলার ঐতিহ্য
তুমি বাংলার গৌরব-বাঙালির গর্ব
তোমার জন্য পেয়েছি মোরা
এই ভুবনে বাংলা নামক স্বর্গ।

পৃথিবী নামক পুষ্পকাননে
তুমি ছিলে এক প্রস্ফুটিত ফুল
ঘাতকেরা তোমায় হত্যা করে
করেছিল এক চরম ভুল।

মরেও অমর তুমি ধরনীর বুকে
তোমার কীর্তি রবে সবার মুখেমুখে
তুমি ছিলে তুমি আছ তুমি থাকবে
বাঙালি চিরদিন তোমায় স্মরিবে।

মুজিবনামা
সেতু সরকার

মুজিব তুমি, শেখ মুজিবুর রহমান
তুমি না থাকলে হয়ত মুছে যেত এই বাংলাদেশের নাম।
কে দিত তোমার মত করে বজ্রকণ্ঠে ভাষণ?
আর কে দেখাত এত সাহসের পরিচয়?
কে বলো এক অঙ্গুলি নির্দেশে কাঁপাত পশ্চিম পাকিস্তানের ভিত্তি?
তোমার নেতৃত্বে পেয়েছি বাংলাদেশ, আর কোটি কোটি বাঙালির অধিকার।
হারিয়েছি আমরা ৬০ লক্ষ ঘর আর ৩০ লক্ষ প্রাণ,
তবুও তো বেঁচেছে বাংলাদেশ,
নয়ত চিরতরে মুছে যেত এই সোনার বাংলার নাম।
ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট, ছয়দফা,গণঅভ্যুত্থান,
মুক্তিযুদ্ধসহ সকল ক্ষেত্রেই তো তোমার নেতৃত্ব সর্বেসর্বা।
তোমার সাহস, তোমার বীরত্বে ভরা বিংশ শতাব্দীর বাঙালির ইতিহাস,
তাইতো আজো স্বাধীন মনে বাঙালির এই সোনার বাংলায় বসবাস।

ফিরে এসো জাতির পিতা
তাহেরা খাতুন

এরা কারা?
চেনো তুমি হে পিতা?
তারাই নাকি রক্ষা করবে তোমার বাংলা
সম্মান বাঁচাবে সোনার বাংলার?

তোমার বাংলা আজ তামাটে
তাজা রক্তে রঞ্জিত কচি মুখের
মায়ের কান্না আর বোনের আহাজারি
ভয়ে কাঁপে বুক,আসবে কি ফিরে ঘরে?

মহিয়সী কন্যা তোমার
লড়ে যাচ্ছে দিনেরাতে
কিছু ক্ষমতার অপব্যবহারে
কচি প্রাণের বিয়োগে হাসে দানবে।

এখনো কেন আছে বসে সংসদে
কেন দিচ্ছে না হুকুম তোমার মতো
কেন হাহাকার মায়ের বুকে
তোমার বাংলা কি তবে আজ পরাজিত?

ফিরে এসো পিতা, তুমি ছাড়া বাংলা অসহায়
দাও সেই একতা দাও সে সান্তনা
এসো ফিরে ঘরে ঘরে, নব শক্তিতে
এসো নব রুপে অন্য কোন মানবে।

মুজিব মানে
এম ইব্রাহীম মিজি

মুজিব মানে আর কিছু নয়
পাথর চাপা কান্না,
পিতৃহারা শোকের জলে
ভাসবো কভু আর না।

মুজিব মানে আর কিছু নয়
ভয়াল কালো রাত্রে,
বীর পুরুষের ফিরে আসা
মরণ কুয়া সাতরে।

মুজিব মানে আর কিছু নয়
বন্দি জাতির মুক্তি,
ইয়াহিয়ার সঙ্গে করেন
হার না মানা চুক্তি।

মুজিব মানে আর কিছু নয়
স্বাধীনতার পক্ষে,
ইতিহাসের পেরেক ঠুকে
স্বৈরাচারের বক্ষে।

মুজিব মানে আর কিছু নয়
কালজয়ী এক নাম,
বুকের মাঝে অঙ্কিত যার
স্বাধীনতার সংগ্রাম।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
পলাশ চন্দ্র দাস

বলে শেষ করা যাবে না
বীর তোমার গুণগান,
বঙ্গবন্ধু তুমি মহান
সইবো না অপমান।

মহান ছিলো তোমার কীর্তি
জন্মেছো এই বাংলায়,
মোদের মুক্তি দেয়ার জন্য
সয়েছো তো অন্যায়।

স্বাধীনতার বীজ বপনে
করেছো কারাবরণ,
বাংলা মাকে করতে স্বাধীন
গড়েছিলে আন্দোলন।

অন্ধকারের পূব আকাশে
উঠাতে দিনমণি,
কত সংগ্রাম করে গেলে
মানলে কত অশনি।

তোমার নীতি ও আদর্শ
থাকবে মাথার পরে,
তোমায় মোরা ভুলবো না
রাখবো মনে ধরে।

মুজিবের অবদান
কবির কাঞ্চন

মুজিব ছিলে অন্তর্গামী
বাঙ্গালির অন্তরে
বাংলাদেশকে দিলে তুমি
বিজয় মুকুট পরে।

তব অবদান বাঙ্গালিরা
ভুলবে না কভু পরে
তুমি থাকবে চিরঅম্লান
বঙ্গবাসীর তরে।

জনক হারিয়ে বাঙ্গালিরা
হাউমাউ করে কাঁদে
বলো মাগো, মুজিব আবার
ফিরে আসবে কবে?

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি
আজ স্বর্গে তব বাস
শত্রুরা ফের পরাতে চায়
মোদের গলে ফাঁস।

এনেছিলে তুমি সঙ্গে করে
তব মৃত্যুহীন প্রাণ
বাঙ্গালিরা গাইবে সদা
তোমারি জয়গান।

প্রাতের শেষে বিজয় মিছিল
হবে যখন বঙ্গে
‘জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান মোদের
থাকবে তখন সঙ্গে।

মুজিব বর্ষ
মুহাম্মদ ইমদাদ হোসেন

শেখ মুজিবুর জন্ম শত
বর্ষ পালন হচ্ছে এবার
দেশজুড়ে
তাঁরই প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা
ভালোবাসা আছে সবার
হৃদপুরে।

এই বছরটা মুজিব বর্ষ
করতে পালন ঘোষণাটা
সরকারি
তাঁরই কর্ম তাঁরই কীর্তি
দেশ প্রীতিটা আলোচনা
দরকারি।

শেখ মুজিবুর মহাননেতা
খুব সাহসী ভাষণ ছিলো
কড়কড়ে
মুজিব ছিলেন এমন নেতা
যার ভাষণে কাঁপতো মঞ্চ
থরথরে।

শেখ মুজিবুর বিরল নেতা
উৎসর্গ যাঁর জীবন যৌবন
দেশ তরে
মুজিব ছিলেন তুলনাহীন
দুশমনরা যাঁর স্বপরিবার
শেষ করে।

শেখ মুজিবের স্বপ্ন যতো
কীর্তি কতো লিখে নাতো
শেষ হবে
তাঁর চোখে যে স্বপ্ন ছিলো
পূরণ হলে সোনার বাংলা
দেশ হবে।

মহান নেতা
শেখ একেএম জাকারিয়া

একটি ছেলে জন্মেছিল
টুঙ্গিপাড়ার বুকে,
সে খবরটা সেদিন ছিল
সবার মুখে মুখে।

সে ছেলেটাই বড় হয়ে
হলো জাতির পিতা,
সবাই ডাকে বঙ্গবন্ধু
সবার পরম মিতা।

সে ছেলেটাই ভাষণ দিল
দুঃসাহসী বুকে,
ভাষণ শোনে আগুন জ্বলে
সব বাঙালির চোখে।

ঝাঁপিয়ে পড়ে যুদ্ধে সবাই
পেয়ে নেতার সাড়া,
স্লোগান তুলে মুখে সবাই
‘পাকবাহিনী তাড়া।’

দীর্ঘ ন’মাস যুদ্ধ শেষে
স্বাধীন মায়ের ভূমি
মহান নেতা শেখ মুজিবুর
মুক্ত আমি তুমি।

বিশ্ববন্ধু
(মুজিব শতবর্ষে শত লাইনের কবিতা)
সৈয়দ আছলাম হোসেন

বাঙ্গালীরা সবাই যাকে
বঙ্গবন্ধু ডাকে,
স্রদ্ধা ভরে স্মরন করি
তার বাবা মা কে।

বা;লা মায়ের আচল খানি
সোনার চেয়ে খাটি,
স্বাধীনতার বীজ ফুটিল
টুঙ্গিপাড়ার মাটি।

যেই মাটিতে জন্ম নিলেন
শেখ মুজিবুর রহমান,
বিশ্ববাসীর সোনার খাতায়
থাকবে লেখা বহমান।

উনিশ শত বিশ সালে
সতের মার্চে,
নবীনরা সব জানতে পারে
ইতিহাস সার্চে।

সাত মার্চ ভাষন দিলেন
রেসকোর্স ময়দানে,
পশ্চিমারা পালিয়ে গিয়ে
বাধ্য হল জয় দানে।

দেশের সকল আম জনতা
যুদ্ধে গেল ঝাপিয়ে,
রক্ত দিল জীবন দিল
মাতৃভুমি কাপিয়ে।

স্বপ্ন ছিল স্বাধীনতার
সাহস ছিল মনে,
দেশের তরে শহীদ হলেন
মানুষ প্রতিক্ষণে।

ছোটো বড় নাই ভেদাভেদ
অস্ত্র নিল হাতে,
পশ্চিমারা দেশ ছাড়াতে
চেষ্টা দিনে রাতে।

মুজিব ছিলেন মহান নেতা
বা;লা মায়ের ছেলে,
মরনেরই ঝুকি নিয়ে
জীবন কাটে জেলে।

বারে বারে গেলেন জেলে
নেইতো মনে ভয়,
অবশেষে বাঙ্গালীরা
ছিনিয়ে নিল জয়।

পচাত্তরের আগষ্ট মাসের
পনের তারিখ ঢুকে,
কুচক্রিরা চালায় গুলি
জাতির পিতার বুকে।

মহান নেতা খুন করিল
নিমকহারাম দল,
সারা দেশে শোকের ছায়া
সবার চোখে জল।

শেখ হাসিনা শেখ রেহেনার
দু:খের সীমা নাই রে,
ভাগ্যজুরে বেচে গেলেন
ছিলেন দেশের বাইরে।

খুনিরা সব খুনের নেশায়
রক্ত মেশায় জলে,
দেশের মানুষ প্রানের ভয়ে
সবাই নিরব দলে।

অনেক বছর পেরিয়ে গেল
খুনিদের দখলে,
দোষ চাপাতে ব্যস্থ হলেন
ইতিহাস নকলে।

সত্য নামের বীজটা ফুটে
সূর্যদ্বয়ের সাথে,
স্বাধীন দেশের দায়িত্ব এল
শেখ হাসিনার হাতে।

পালিয়ে গেল সব খুনিরা
কেউবা গেছে কবরে,
দেশের মানুষ সবাই জানে
মেওয়া ফলে সবরে।

সব খুনীদের বিচার হল
শেখ হাসিনার হাতে,
কারো বিচার দিন দুপুরে
কারো বিচার রাতে।

দেশের মানুষ সবাই খুশি
ইতিহাসটা জেনে,
নইলে দেশে মিথ্যা বানী
সবাই নিত মেনে।

দেশের টাকা লোটে কেহ
বিদেশ কিনে বাড়ি,
গরিব দু:খির টাকায় কিনেন
কোটি টাকার গাড়ি।

দেশের তরে দিলেন যারা
হাসি মুখে প্রান,
বিজয় নিশান অমর রাখে
লাল সবুজের ঘ্রাণ।

যাদের ছেলে জাতির পিতা
ধন্য তারা ধন্য,
হাজার সালাম এমন ছেলে
জন্ম দেয়ার জন্য।

দেশের তরে সারা জীবন
ভোগেন যিনি সাজা রে,
এমন নেতা ঘুমিয়ে আছেন
টুঙ্গিপাড়ার মাজারে।

বিশ্ববাসী সবাই ভাবে
শেখ মুজিব নিয়ে,
তাহার তরে দোয়া জানাই
টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে।

জাতিসংঘ তুমায় দিল
বিশ্ববন্ধু নাম,
শত বছর পরে আজ ও
বাড়ছে তুমার দাম।

বত্রিশ নম্বর বাড়িটি
শুভঙ্কর দাস

স্বাধীনতার কোনো সহজিয়া পথ হয়!
রক্তেরাত্রির কোনো সবুজশ্যামল প্রভাত!
আগুনের শেষে কোনো আকাশ,যার রঙ নীলিমায় নীল!

তা সত্যিকারের হয়, একদিন দেখেছিল সারা পৃথিবীর মানুষ,
একজন মানুষ মায়ের ভাষার দেশ পেতে রক্তচোখকে উপেক্ষা,
বজ্রকন্ঠকে স্থবির আর বন্দুকের নলকে তুচ্ছ করতে পেরেছিলেন!
তিনি বঙ্গবন্ধু, তাঁর সেই বত্রিশ নম্বর বাড়িটি একদিন একটা দেশের আকার নিয়েছিল,
তিনি রক্ত দিয়ে,জীবন দিয়ে,কম্বুকন্ঠে বাংলা বলে বুঝিয়ে ছিলেন,
একটা জীবন যদি মায়ের জন্য আগুনে যায়,তাহলে সে আগুন আলো হয়ে ওঠে!

একটা মানুষ শুধু বাংলা বলে একটা দেশে পরিনত হয়েছিলেন,
একথা জানতেই একদিন সমগ্র পৃথিবীকে একদিন

সেই বত্রিশ নম্বর বাড়িটির সামনে মাথা নত করে দাঁড়াতে হবে!

বঙ্গবন্ধু
নুর ইসলাম বাদল

১৭-ই র্মাচ তুমি এসেছিলে ভবে
মায়ের কোল জুড়ে,
টুঙ্গিপাড়ার সবুজ ছায়ায়
মধুমতির তীরে।
তুমি বাংলা মায়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান।
তোমার অবদান প্রতিটি গৃহে
হয়ে আছে অম্লান।
তোমারই জন্য এই বাংলা
স্বাধীন র্সাবভেীম রাষ্ট্র।
তুমি মৃত্যুঞ্জয়ী,চিরজীবি
র্সবদা তাই তোমার জয়গান।

শেখ মুজিব
মো: ইউসুফ

এ দেশে এক রত্ন আছে,
আছে খাঁটি সোনা,
নাম তাঁর শেখ মুজিব
সকলের তা জানা।

রত্ন সে তো- রত্ন ভাণ্ডার
ভালোবাসার ছবি,
আমার জীবনের প্রিয় মানুষ,
প্রিয় একজন কবি।

যার কলমে লিখেছি এ দেশ,
আমার মাটি- আমার ঘাঁটি
সোনার বাংলাদেশ।

আশ্চর্য তাঁর সেই ভাষণ,
কোমল হৃদয়ের শাসন।
করে সবার মন জয়,
হবে নাকো তাঁর ক্ষয়।

যতোদিন এ দেশের মানুষ
পৃথিবীতে থাকবে,
ততোদিন, ততোদিন শেখ মুজিব অন্তরেতে বাঁচবে।