এক জন নারী অথবা গোপনবালিশ

মনের আর্তনাদ কখনো কখনো উজ্জ্বল সূর্যের মতো চিৎ হয়ে ঘুমায়,প্রাচীতম মানুষের খুলির পাশে। আত্মঘাতী ক্রোধ এখনও বুঝি পাড়ার সুন্দরী নারীটির পাশ দিয়ে হেঁটে যায় অরণ্যের প্রাণময় অপার রহস্যের দগ্ধ যৌবন মুগ্ধতার টিভির সিরিয়াল হয়ে কিংবা শিশুসুলভ সন্ধ্যা ধপাস সাঁতার কাটে ভাটফুলের ঘ্রাণ মেখে কর্পোরেট হাউজে ।

জানি না,বিন্দুর দূরত্ব¡ কতটুক জ্যামিতিক
বালিশ বুকে যে মেয়েটি বিকেলের কথা ভেবে
আলস্য চোখে ফোটায় বৃষ্টিফুল
তাকেই শরীরবিদ্যায় মেলে দিতে হয় গোপন নগ্নতার আগ্রাসীদেহ
…………………………………………..

একজন মা অথবা পিতৃকালীন ধানশীষ

ধরো,
এক মুঠো গলিত শৈশব
রাস্তার ঐপাশে
ঘাটলা বিজয়ের পিতৃকালীন বিকেল
তুমি আর আমি
ধর্মের মিছিলে
নিরব দর্শক
মায়ের স্তনের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে
তুমি বলতে ভেবে দেখো
ভ্রুণের শীৎকার কি করে
ল্যাপ্টে যাওয়া যৌবন চুষে নেয়
অবলুপ্তির সীমারেখা ।
এভাবেই হয়তো মুছে যায়
আমার তোমার আমাদের ধানশীষ ঘ্রাণ ।
…………………………………………..

হারানো পা অথবা ঝলসে যাওয়া নূপুর

আমার দীর্ঘদিন ধরে এক অসুখ, পায়ের কাছে কুয়াশার মেঘ হামাগুড়ি খায়, সন্ধ্যা তারারা চোখের কার্ণিশে জমা করে মৃতের ধবলজোসনা তবুও আমি আজ ছায়ামুখি মৃত মানুষ। জিন্দার শরীরে মুর্দার বেশ ধরে নিরব গাছের মতো নিখোঁজ চোখে তোমার পানে চেয়ে থাকি, এলোমেলো বাতাস আজ বখাটে বালিকা সেজে নগ্নতাকে নখে করে উড়ে যায় স্তব্ধতার দেহে। বেড়ে ওঠা স্তন দুটো চরের কাছে লাভ-ক্ষতির দিনে উপমার লাগাম ধরে টানে… তোমার গন্ধমাখা চুলে হাত রেখে আজো খুঁজে ফিরি,গাঙ্গের কূলে হারিয়ে ফেলা সময়…তোমার লাল পেড়ে শাড়িতে বেশ ভালো মানায়,পায়ে নূপুর। যে রাতে চাঁদ উঠে ডুবে যায় সে রাতেই হারিয়ে গেল কামিজের শূন্যফল, পা-এক মৃত শরীর…

নরম আলোয় ঝুলে থাকে শূন্যতার পাপেট।
…………………………………………..

নিষিদ্ধ ফুল

আঙ্গুল মেপে চলে আঙ্গুলের দূরত্ব। শয্যার পাশে আঙ্গুলের মাঘীচাঁদ চোখ বুজে খুঁজে নেয়-দীর্ঘ কালো ফসিলের হাড়। অসমাপ্ত কুনোবুড়ির হাতে রাখা কদমেরচিঠি- রাস্তার চৌদিকে প্রহরীর নির্জীব বিষণœসন্ধ্যা ছুঁয়ে যায় বুড়োদের শেওলাশরীর।

রাস্তার মোড়ে রাত্রির শবদাহ পথ ধরে হেঁটে যায় গোধূলির পরিজাত শিথানের বালিশ, লজ্জাদের ধুলো… মৃত্তিকার পদচ্ছাপ জলকেলি করে মিয়াবাড়ির বন্দেগাছ। ঝিনাইদহের পায়রারা উড়ে যায় বৃন্দাবনের কারাগারে…অগ্নিঘুম শুকিয়ে গেলে অরণ্য পার করে বিবর্ণ সময়।

গ্রামের এক আলাভোলা ছেলে রাত গভীর হলে ক্ষয়প্রাপ্তদেহে নিষিদ্ধ ফুলের ঘ্রাণ মাখে…
…………………………………………..

পাখি রাজ্যে সকলেই পাখিচাতক

গন্ধময় পৃথিবীর কোলের কাছে প্রেমিকার নিটোল বিষণœবোধ। জানালার শরীরে এক ক্ষুধার্ত নাবিকের আর্তনাদ। রোগশয্যায় শোনালেন- বেদনার কারণ- পাখিরাজ্যে সকলেই পাখির চাতক। মধ্যবর্তীশরীর রাস্তা মাপে ধানের চিরধরা মাঠে, প্রাচীন দূরবর্তী পাঠশালায় যাচ্ছে রাজন্যঘোড়া, অবগুণ্ঠনে পাতালের মাদি ছাগলের দল দৃষ্টিমান্দাসে রমণী সাজে- পুকুরের বাঁশঝাড়ে কানাকুয়ার পিছনফেরাভোর।

মাদুরে মোড়ানো দেহ টুকরো করে কাটা, মাটিরঘ্রাণ এতো সুন্দর কেন ? বিরহের রাত বিপ্লব দেবে দৃষ্টির পূর্ণতায় …
…………………………………………..

রোমালে থাকে কৃষকের রক্ত ঘামের ঘ্রাণ

অন্ধতা গভীর হলেই দীর্ঘশ্বাস অভিমান জড়ানো বুকে ঢেলে দেয় ক্লান্তির ট্রেন, দৃশ্যেরবুনট চোখের কার্ণিশে কুয়াশাউঠোন জুড়ে খেয়ে নেয় ধানের দরদী আদর। শালিকের তেড়ে আসা পিঁপড়াজীবন দাঁড়িয়ে থাকে কুমার নদের মাঝিদের বুকের কাছে, চোখের পাতায়…কুমারের মৃৎপাত্রে জমা হয় কৃষকমাটির মাংস পোড়া রোমালে ঘ্রাণ।

জন্মসূত্রে তোমায় শস্যকামী বলে জানি… তুমি ধূলোমেঘ চাষার অবারিত স্বপ্নের ক্ষেতপোড়াধান…
…………………………………………..

মুগ্ধ নির্জতায়- হোসেন লিপি

কামারশালার নিভন্ত যৌবনে যে কবি বুনে যায় মুক্তিযুদ্ধের গান তাঁর কবিতা খাতায় জমা হয় বিসর্জনের চরিত্র। কখনো পাড়ার বউরা মাথার ঘোমটা তুলে যশোদার ছেলের হাতের কাছে রেখে যায় লোবানের ঘ্রাণ। স¤্রাট ঘুমায়- আমলকী বাগান নিমজ্জিত হয়। একদা মাঠের সোনালী আঁশ বুকে রেখে বুক সাধুহাটির মানুষদের হয়ে বিনিদ্রায় কাটায় রাত। রাত নিজের মানচিত্রকে চিনিয়ে দেয়। গায়েনের মুখে বিমর্ষস্বদেশ। পা-ুল হয়ে আছে মাটির উত্তপ্ত পৃথিবীবায়ু।

ভেতরে ভেতরে গহীন হাহাকার। ক্ষয়ে যায় জুতার তালু। নতমুখে যে কবি নাগরিক আলোয় দেখে নেই- সন্ন্যাসীমুখ। বদলের হাওয়ায়- কখনো কখনো বদলে দেয় প্রিয় বধূর উন্নাসীচোখ। গত রাতেও জেগে জেগে গল্পের প্লট সাজিয়ে ধানচারারা আগাম বার্তা পাঠায় মরালের কাছে- কী করে আয়নায় দেখা যাবে মুখ? মরালের জ্বর। কফিনে মোড়া গল্প আড্ডায়, শোনা যায় ডাক- হোসেন, হোসেন, হোসেন…
…………………………………………..

গ্রাম

সীমানার চৌদিকে ভাঙ্গা ত্রাস দাঁড়িয়ে আছে নিঝুম বৃষ্টির অন্ধ বধিরতাকে মাতার প্রাচীনমাদুলি সঙ্গী করে। কিছু দূর এগিয়ে গেলেই পড়ো মাঠ, ধূ ধূ জমিন, পড়ে থাকে বুকে শতবর্ষী শূন্যতা আর কৃষক রক্তবীজ দ্বৈরথে রেখে হৃদয়ে রোপে মহাজানিক দুঃখ। জীবনের একটি সময়, একটি রাত পোয়াতি হলে পাখির ডানায় ঝরে গরিবিচিঠি-ভাষার সঙ্গে বাক্যের জোনাই রক্ত ঢালে শতাব্দী বাসর।

মুখোমুখি আমি তুমি দাঁড়িয়ে
ধুলো ওড়ার রৌদ্রে কাঁপনে
মুহুর্তে ভীষণ যন্ত্রণা বুকে অন্ধ অবিশ^াস

ব্যথিত করে ভাতঘুমে ছেড়ে আসা ধানের প্রহরশোভিন গ্রাম।
…………………………………………..

শম্ভুনাথ জ্বালিয়ে দেয় লণ্ঠনের গ্রাম

রূপালীচাঁদের নিঃশব্দ্যে চলে যাওয়া ছায়া স্রোত হয়ে যায় নদীর বুক।

শূন্যতা নদীর জলে নিশ্চিহ্নের সহসা আফছা আলোয়, ঘুমন্ত গাছের শরীরে তোলে দীর্ঘের আয়ু…তীব্রতার খেলাঘর আজো তোলে বুকের মাঝে, চোখের কোণে ভৈরবীসুর। বিধ্বস্ত দুপুরে দৃশ্যের জাল বুনে যায় প্রান্তিক চাষীর গোলাঘরে লুকিয়ে রাখা ঘরকুনো ব্যাঙ ।

কালো ছায়ারা জাহাজের পাটাতনে লুকিয়ে রাখে রাত্রির নিঝুম রহস্য…

অনির্দিষ্টের রাতেরা ভয় হয়ে বর্ষাকালীন সর্পের সাজ মেখে রাস্তার মোড়ে মোড়ে লতার অন্ধকার ছুঁয়ে যায় কল্পনার জাহাজ। এবাদতনামার অন্ধ আকাশও বধির…
দরোজার পিঠে দাঁড়িয়ে দরোজা অন্ধকার। নক্ষত্রের শরীর ছুঁয়ে শ্মশানীইঁদুর
জ্বালিয়ে দেয় লণ্ঠনের গ্রাম…
…………………………………………..

শীতবুড়ি মৃতের ঘুম ঘুমিয়ে ছিল

সন্ধ্যারাত পার হতেই পায়ের নিচেই ধানের মলিন শৈশব -উচ্ছ্বাসের বিছানা মেলে ধরে। সোনাবউ মুগ্ধতার পুতুল হয়ে হাঁস পুষে রাখে চোখের পাতায় আর আগুনের জলে পাখিপাড়া কুমারি হয়ে নদীতে সাঁতরে মরে।

এতো এতো চিত্র, এতো এতো অনুভূতি
সবই মিছা কথা-কহনের মানুষ নাই
ফাঁসির সেলে যে মেয়েটা ধর্ষিত হয়
সেও নাকি বিছানায় শুয়ে মাসিকের রক্ত চেখে ছিল আর
শীতেরবুড়ি দৃশ্যের সাঁতার কেটে রোদ্দে দাঁড়িয়ে বেওয়ারিশ লাশদের কফিন গুনতে গুনতে মৃতের ঘুম ঘুমিয়ে ছিল…

এসব গেল ছাই চাপা আগুনের গল্প
এবার বিশুদ্ধ ঈশ্বরদের গল্প শুনতে শুনতে
বিবস্ত্র হলো- কতিপয় নারীর অসমাপ্ত দৃশ্যের পাইথন।
…………………………………………..

বৃষ্টি মেয়ে

বৃষ্টি মেয়ে -তুমি
যদি বুঝতে
হারানো সকাল কি করে লুকিয়ে যায় বুকের মধ্যে
মাকালের মৌন ফেনায় হাফিয়ে ওঠে চৈতালী মন

প্রেম মূলত না পাওয়া জীবন ।

গান্ধারীর আয়না ভেঙ্গে গেলে
তুমি তুলে নিও বিষণ্ন বিকেল ।

এখানে মেয়ে আর মায়ের আজন্ম বিভেদের বেড়া ।

হাত বাড়ালেই
মেধাবী পাইথনের বর্ষাকদম
পুলকিত হয় -হাজার ইতিহাসের বেদনার্ত ঘোড়া ।
…………………………………………..

হ্যাঙ্গারে ঝোলানো আছে রিপনের অন্ধ মার্বেল

নিরুদ্দেশযাত্রায় তুমি অনেকটা হেরেই গেলে রিপন। হাতুড়ির জীবনে শুধু জমা হয় জীবনের গ্লানি। ঝাপসাচোখে দেখে নেও মুক্তির নেশা গোলকনগর টু চড়িয়ারবিল বাজার। অভিধানে তোমার নামের প্রাগৈতিহাসিক মানে হয়তো নেই, তবু নিতান্তই এক অশালীন দুঃখ লুকানো আছে রাসায়নিক অক্টোপাসের জলতৃষ্ণায়…

জঠরের বড়ভাইকে বেদনার সাগর না দেখিয়ে তুমি তুলে রাখো স্বপ্নের মত করে শরমের পাশপোর্ট। নুড়ির বিনিময়ে হয়ে ওঠো গাড়াগঞ্জের উন্মাদ,ক্ষত-বিক্ষত মদনের চুষে খাওয়া লজেন্স …

কত তৃষ্ণা তোমার এক নিঃশ্বাসে, হয়তো লোবান সন্ধ্যায় জ্বালিয়ে দেবে পাশের আলমডাঙ্গা বাজার কিংবা ফুলহরির মাঠে অন্ধকার মিশিয়ে ঘুমিয়ে পড়া সহপাঠীদের করুণ চোখের বিক্ষিপ্ত ভাটইবাজার। স্মৃতির বিস্ময়ে মুগ্ধতা দেখে গোলাকার পতঙ্গের মত হাবড়ে চালাও বন্ধুত্বের লাঙ্গল ।

একাকিত্বের নামহীন চিঠি তুমি লিখে যাও বন্ধুর কাছে … কেমন আছিস ? সন্ধ্যাগুলো কি এখনো পুরাতন সেটঘরের কাছে ঘুড়ি বানিয়ে উড়িয়ে আসিস না কি তোর গ্রন্থের রুমে আমাদের রাত্রির ঘুমন্ত ছন্দহারা এলোমেলো মানুষ ভাবিস ।

কৈশোরের প্রেম মহাগভীরতায় আবুলের অদ্ভুদ অভিমান আমাদের না হয় একটু সাধুখালী মুখি করেই ছিল, তাতে কি একাল এখনো চাবুকের সেকাল হয় …এখনো বুকের মধ্যে পুষে রাখি ডুবন্ত গৃহহারা বন্ধুর ধর্ষিত বোনের পবিত্র মাবে
…………………………………………..

টুকে নেও জীবন নোট

নিঃসঙ্গ পৃথিবীর রোগশয্যায় মহাপিতা, ঐশ্বর্যের প্রতীক ঝুলিয়ে দৌঁড়ে গেলেন মাঠের দিকে- জানা নেই বিষাদের ভাষা কিংবা স্মৃতির মিনারে অপ্রকাশ্য আকাশপাখির সময় হারানো সুলতার চিঠি, স্বপ্নচাঁপা কুসুমরাত্রির নদী হয়ে যাওয়া গল্প…

বাঁশির সুর চুরি করে পাখিদের ঠোঁটে ওঠে মাউথওয়ার গানের চাঁদবুড়ির চর্কাকাটা গল্পের বিম্বিত আয়নার উঠপাখি,প্রশস্ত যাত্রার গাড়ি দাঁড়িয়ে যায় পিতার কাচারীঘরে
প্ল্যাকার্ড দুঃখের পল্লবিতশোভায় মগ্ন হলো শশীবৃক্ষেরপিতা…অলিন্দে আরশিনগরের পড়শি ফিস ফিসিয়ে বলে- টুকে নেও জীবনের নোট।
…………………………………………..

হেঁটে যাবো দুজন পথ

প্রিয় এক স্বদেশী ফটো চোখের সামনে ধরে- ভাবি বহুদূর ভবিতব্য ভাষা। গহীন অরণ্যের অসম্ভব কষ্টের হাসিও হেসে ভুলিয়ে দিতে চেয়েছি বুকের ভার। বিস্মৃতির পাহাড় বুকের কোণে আলপিন হয়ে হেঁটে চলে নৈপূর্ণ্যরে ছলে। গতবছর রমজান মাসে তোমার শরীরী ঘ্রাণ পেয়েছি ফুলের টবে, গ্রামের গাছে কিংবা আমার বিছানা- শার্টে।

অদ্ভুত ঘ্রাণ- স্তনের ডগায় চাঁদের ফোঁটা অবিরাম ভেঁজায় আমার যৌবনকাল। যখন বোনের ঘামাচি ভেবে গেলে দিয়েছি লালচে জাদুভেলকির বাকসবন্দি সকাল। তবুও তুমি অবারিত দুঃখ বুকে চেপে মমতায় ছুঁয়ে গেছো আমার শরীর।

এখন আমি ভাবি- ভেবো না তুমি, আবার আমরা হেঁটে যাবো দুজন পথ…
…………………………………………..

ভুলের শহর

জানালার হাওয়ায় নড়ে ওঠে গাছের পাতা। আমার ঘুমের ঘোরে-শীতের আর্তনাদ কাঁপন তোলে। লুকিয়ে রাখি মনের গোপন অসুখ। চোখের পাতা ভারী হয়ে ওঠে। প্রিয়তীর ভুলের শহর। অন্ধজোছনাও মিটিমিটি জ্বলে। কুয়াশার সেলবন্ধু-দেখে যা আমি দিব্যি আছি। শুধু তোর জন্য দুঃখ হয়, জানলি না – কী সত্য কিংবা কতটা। এখন আমি চড়াদামে বলতে পারি- অনেক অনেক ভালো হয়ে গেছি,সেই জোছনাজ্বলা নেংটাবালক ।

কেমন হারামি রে তুই- বুঝলি না কোনটা রাগ কিংবা অভিমান। তুই বলেছিলি-যোগাযোগ রাখবি না, দেখ আজ আমি অনেক ভালো হয়ে গেছি, হাঁটি না ভুলের পথ। তোর কাছে না এলে কখনো জানতে পারতাম না – কেন গাছেরা বুকের মধ্যে নিঃসঙ্গতা পুষে রাখে। কেনই বা মানুষ একা হয়ে যায়। সব তুই-ই বুঝিয়েছিস,আর নিজের অন্তরে আগলে রেখেছিস বিচ্ছিন্নতার বারোয়ারি অসুখ…
…………………………………………..

খোলস

গাঁদাফুলের জেগে থাকা রাত নামলে তোমার মাথার পাশে এলোমেলো স্বপ্নেরা ছুঁয়ে যায় চোখের পাতা। ধুত্তর, টিকটিকির থামিয়ে চলা শব্দের আওয়াজ আর পুবের আকাশে ছিনালী চাঁদের সোমত্ত শরীর বেয়ে দেবী নামে হাওয়ার সূতো ছিড়ে ডাঙায়। পোঁয়াতি চাঁদের জরায়ুতে জন্ম যে আমার, সেই আমি এতদিনে শিখে নিয়েছি জরায়ু ছেদনের বিদ্যা। দেখেছি, বাঁকা চাঁদ হেলে গেলে মরে যায় রাত। এ রাতের আঁধারেই জেনেছি – সাপ আর ব্যাঙ আমার পরিচিত। তিতিয়া ঐতিহাসিক সত্য- আমরা জন্মগত অনার্যপুত। সাপ বড় জেদি- ভুলে যায় জন্মগত অধিকার, ভুলতে চাই জমি বিভাজনে ক্ষেত পরিমাপের আইল। তবুও প্রতিরাতে সাপ আর ব্যাঙ পালা করে যায় শীত নিদ্রায়।
…………………………………………..

আস্ফালনটুকু মিথ্যেয় ছিলো

আগুন জ্বেলে নাগরিক মেয়ে জ্বালিয়ে দেয় পৃথিবীর শীত। জ্বলন্ত সূর্যও আগুনকন্যার চিরন্তর চোখের মধ্যে জাকপ্রেভের কিংবা সিমন দ্যা বোভোয়ারের জীবন তুলে দৃশ্যের পর দৃশ্য সাজিয়ে স্বজনের নাম ধরে ডাকে- নারীও চোখে রাখে বেঁচে থাকার পয়গম্ব, যতক্ষণ না আন্নার বাড়িতে ফোঁটে বিষণে্নর নিষ্ঠুর নাক্ষত্রিক বোকা আয়ভান।
…………………………………………..

অসহায় রক্তের দাগ

তোমার জন্য নিজেকে গাছ করে রোপেছি। দরগায় সিন্নি দিয়ে জল ভেজা চোখ নিয়ে নিজের অজান্তে চিৎকার করে কেঁদেছি। আমি এখন নিজের পাশে সানিলিওনের ছবি নিয়ে ঘুমায় আর পর্ণের সম্রাট হয়ে পাড়ায় পাড়ায় কাঙ্গাল ঈশ্বরদের হাতুড়ি পেটা জীবনে -অসহায় রক্তের দাগ গোরস্তানে সপি ।

এখন আর নিজেকে নিঃসঙ্গ রাখতে পারি না। মাঝে মাঝে কথারকম্পে নারীদের সহযোগী হয়ে সিদুর -চন্দন মাখি ঘুম কিংবা মরণ ভেবে ।
…………………………………………..

জীবন কেমন ছিলো

হাঁসপাখির ক্ষুধার্ত পেট তুলে ধরে কাঁপনের গ্লাস। শঙ্খধ্বনির ঝাঝালো সুর- কথা বলে উজান অশোকের দৌঁড়ে যাওয়া নেশাগ্রস্ত বাবুটির সাথে। স্মৃতির অতীত গেরুয়াপ্রলাপ কানে গোজে হলুদের জলভরা প্রেম- মন্দিরে মন্দিরে আঁছড়ে মারে জলউদ্ভিদের কৃষাণীজীবন।

কাকতাড়–য়াকে দেখলে মাঝে মাঝে আমার কাকতাড়–য়া হতে ইচ্ছে করে। অনেকে আমাকে স্বপ্নবাজ পাগল কিংবা অচিন জীবনের উল্টো বাড়িও ভাবতে পারেন ।

ধানক্ষেতে বাবার জীবন্ত ভুলে যাওয়া মাঠ এখন স্থিরনয়নে মার্বেল খেলে ।
…………………………………………..

নিঃসঙ্গ নদীর বুকে জলের নৌকা

কাঠের চৌদিকে নদীদের ঠোঁটের শেষ প্রান্তে- পাখিদের ফল খাওয়া আলোয় ঘুমায় টেবিলের ঘুমন্ত শৈশব আর ময়নাপাগলের মাজারে লোবানজ্বেলে কায়েসপাগলা দৃশ্যের অভিনয় করে- বাহুর চৌদিকে চাদর ঝুলিয়ে- শ্রীযুক্ত শ্রমজীবী-মাইলের পর মাইল হেঁটে বুকের মন্দিরে জ্বালায় বাবার আরশিকদহন- বাবা স্বপ্নচৈত্রের মাঠ।

লোকমুখে শুনেছেন- ঠোঁট তার জীবন্ত কুমড়ো ডালের বড়া। সন্ধ্যারাতে স্বজনহারা পাখির ঘরে ফেরা হাহাকারী জীবনেও ক্লান্তির হাসি- মুছে ফেলে কারিগরি চোখের পাতা- মাকে বলে শাড়ির নীচের জীবন লুকিয়ে রাখিস- পাহাড়ও ইতিহাস বদলে বাজতে পারে নিঃসঙ্গতার ভূমিনূপুর।
…………………………………………..

বালিকার জলে বৃষ্টি ঝরে

তোমাদের পানাপুকুর জুড়ে মাছদের বাস হলেও, ক্ষমতাশালীদের পাতা মোড়া দেহ ভেসে থাকে জলের ওপর আর বৃষ্টিস্নাত সকাল ফেরি করে পাড়ার বালিকাদের কান্না ঝরা চোখের জল… বৃষ্টির মেলে ধরা শরীর বালিকার নিরেট চেহারা ভাঁজে নির্জনতার পাহাড় হয়ে, কণ্ঠে ধরে বৈরাগ্যের ফিকির…

অভিজ্ঞ পুকুর সর্বনাশা বর্ষণে
পাতার শরীরে তোলে শিশ্নের আবেগী চুম্বন

শরীর থেকে খুলে নিলে শরমের তাজ নিষিদ্ধ আমেজ মায়ের কাছে সুগন্ধি ছড়ায়। মায়ের পবিত্র শরীর আজও নিজেকে আড়ালে রেখে পাল্টে দেয় সন্তানের শ্রাবনীদিন…অতি গোপনে মায়ের বকনি খেয়ে ঘুমিয়ে আছি বহু দিনমান ।