বৃষ্টির শব্দে

রাত-দুপুরে ঝম ঝম ঝম নামলো হঠাৎ বৃষ্টি
ভেসে এলো ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ মিষ্টি,
এই বৃষ্টি এই সৃষ্টির আওয়াজ ঐশী মেহেরবানি
ঝিমুনিতে কখন্ যেন তন্দ্রা একটুখানি
ঘিরে ধরলো, ঘুমের মধ্যে দৌড়াচ্ছি গ্রামে
মাটির মায়া মাঠের মায়া যেখানে গিয়ে থামে
এক টুকরো ভিটেমাটির উঠোন চাতাল দাওয়ায়,
সব ভিজে যায় বৃষ্টি-ছাটে ঝাপটা হাওয়ায় হাওয়ায়
বারান্দার বাঁশের খুঁটি জড়িয়ে খাড়া আছি
রম্য মধুর বৃষ্টিপতন আরো আরো যাচি
মনের মধ্যে, মাঠ যেন হয় অথৈ কুলুকুলু ।
মায়াময় এই রজনী-সভা ঝিমোয় ঢুলুঢুলু
জমিন আসমান বৃষ্টির গান গাইছে ঐকতানে
দিগ্বালারা নূপুর পায়ে নাচছে কি আসমানে ?
মেঘবালারা পাগলপারা ঢালছে বারি ধারা ?
আনন্দে আজ বান ডেকেছে ব্যাঙেরা আত্মহারা !
কা’রা যেন কোদাল হাতে যাচ্ছে ছায়া ছায়া
মাঠের পথে ভোর না হ’তেই, হায়রে মাঠের মায়া !
হারিয়ে যাচ্ছি আমি এখন চাষার মনোভূমে
সুন্দর এই শব্দরাজির বর্ষার মৌসুমে
ঢেউ তুলে যায়, মন দুলে যায়, প্রাণ খুলে আজ হাসি
ঘুমের মধ্যে স্মৃতির বাদ্যে আমি আজ মনভাসি।
কেউ যেন ক’য় এমন সময় — এতো বৃষ্টি এতো
পথঘাট সব ডুবে যাচ্ছে, আমি তো আত্মগত
শুনছি কেমন ঘোরের মধ্যে মায়াবী আড়ষ্টতায়
তামাম বসুন্ধরা হাসছে শব্দময়তায়।।

হঠাৎ স্মৃতির ঋণে

হঠাৎ ক’রে আকাশ আঁধার নামলো যেন রাত্রি
আমরা গুটাই জানলা কপাট অন্ধকারের যাত্রী
শুরু হলো ঝড়ের দাপট, অট্টহাসির বৃষ্টি
ফটফটফট শিলাবৃষ্টির রহস্যময় সৃষ্টি
মিষ্টি-মধুর সোঁদা বাতাস বইলো গুমোট কক্ষে
বিজলি চমকে’ বাজ পড়লে রইবে না আর রক্ষে !
কেউ অলক্ষ্যে ডাকছে, ‘খোকা যাসনে ওরে যাসনে
শিল কুড়াতে, সর্দ্দি হবে, বরফ-পানি খাসনে ‘ !
থমকে দাঁড়াই, স্মৃতিতে হারাই, বিচ্ছিন্ন শৈশব
শিল কুড়ানো আম কুড়ানো এটাই ছিলো বাস্তব
এমন দিনে, স্মৃতির ঋণে জর্জরিত আমি হে
হারিয়ে গেছি অনেক দূরের অতীতপুরের স্বগৃহে
বাধানিষেধ তুচ্ছ ছিলো তখন বেপরোয়া
শৈশব আর কৈশোর আজ এখন ধোঁয়া-ধোঁয়া
হঠাৎ আবার নীরব নিঝুম প্রকৃতির প্রলয়
রোদ উঠলো হালকা ফিকে, কিছুক্ষণ মলয়
বইলো ধীরে, নামলো ফিরে সন্ধ্যা আবহমান
অল্প রাতেই কালরাত্রি ঝিঁঝিঁপোকার গান
এখন কতো বিগত বিধুর স্মৃতির আনাগোনা
মায়ের গল্পে দাদির গল্পে টুকরো টুকরো সোনা
উঠে আসতো শুতে শুতে মনের আকাশ জুড়ে
আজকে তেমন লগ্ন বটে, যাচ্ছি আমি খুঁড়ে’
সেসব প্রত্ন রত্ন-খনি তারার চুনী-পান্না
ডাকছে কি কেউ ? শুনছি শুধু মায়ের স্নেহ-কান্না
……………………………………………

ছায়াধাম

মন খারাপ নিয়ে ব’সে থাকি
কতোবার ডাকি, হ্যাঁ, মৃত্যুকে ডাকি
কিন্তু সে ভুলেও আসে না এধারে
হয়তো আমার এখনো যাওয়ার সময় হয়নি
জীবনের পারে !

কতো জটিলতা জীবনের, সর্বোপরি স্বার্থপরতা
আর ভেদবুদ্ধি কুরে কুরে খায় সরল সততা
সংসার সমাজ রাষ্ট্র যায় কম কিসে ?
সর্বথায় বিষাক্ত বাতাবরণ আমিত্বের বিষে !

কতো সংগ্রাম কতো বিফলতা কিছু সফলতা, সার্থকতা কই ?
শুধু দুঃখ কষ্ট বেদনা অসুখ নিয়ে বেঁচে থাকা, জরাজীর্ণ হই ।
অপূর্ণতা খুঁজি না আর, পূর্ণতার অংশটুকু খুঁজি
সুখ যেন উড়ো পাখি, অসহায় জীবনের
সারতত্ত্ব বুঝি।

সর্বদাই তৈরী আছি বুকে নিয়ে বিশ্বাস ও বিনয়
প্রভু, সদয় না হও যদি, হইয়ো না নির্দয়
ভয় যেন পরাস্ত না করে কভু আমার সততা
ভয় করি শুধু শেষ-জীবনের পর-নির্ভরতা !

আমাকে গাছের মতো করো প্রভু, দেখি চারিপাশ
রেখে যেতে চাই শুধু যতোটুকু মনের বিভাস
দাসানুদাস পারিনি হ’তে, পারিনি ডিঙোতে
জগতের মায়াধাম, মাটি-মা’র ছায়াধাম দিও সুড়ঙ্গতে ।।
……………………………………………

স্বপ্নপাখি

হঠাৎ হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ি ক্লান্ত অবসন্ন
সারা দিনের খাটাখাটুনি, প্রয়োজন নগন্য
থাকা খাওয়া পরার জন্য প্রাণপাত সংগ্রাম
তবুও সুখ কুলায় না যে, মর্ত্য ধরাধাম
কঠিন কঠোর প্রহেলিকা, সমস্ত সম্পদ
ধনিক শ্রেণীর কুক্ষিগত, আমরা বশংবদ
গোলাম খাটি কলুর বলদ, গদগদ প্রসন্ন
খাটুনি শেষে ঘুমিয়ে পড়ি ক্লান্ত অবসন্ন।

অবসন্ন স্বপ্নে আসে বিমর্ষ প্রচ্ছন্ন
ইচ্ছাগুলোর অতীন্দ্রিয় বিমূর্ত অনন্য
উপত্যকা সবুজ-ঢাকা ক্যানভাস ঘরবাড়ি
বাচ্চাগুলো খেলে বেড়ায় উঠানে দুদ্দাড়ি
পরিচ্ছন্ন পরিচ্ছদে সুস্থ উৎফুল্ল
খুললো তারি করিডরে পরীর রাজ্য খুললো
দুলে’ উঠলো মনের বিতান পরম নিশ্চিন্ত
সবুজ বনে পাখির গানে আনন্দে অচিন্ত্য
লক্ষ লক্ষ প্রজাপতির ডানার রামধনু
রাঙিয়ে দিল পরিবেশকে নিমেষ-শুভ্রতনু
সুন্দরীরা ঝর্নাতটে গাইছে সামগান
জনজীবন ধনধান্যে পূর্ণ, বহমান
সুখতটিনী চিনি চিনি ওই অলকানন্দা
মৃদুমন্দ ছন্দে আসে স্বর্ণচাঁপাগন্ধা
সন্ধ্যাগুলো, ধূলোশূণ্য পরিপূর্ণ শান্তি
কাজের গুঁতো একসুতো নাই, উধাও কর্মক্লান্তি ।
হাঁপিয়ে ওঠা জীবনটা হয় প্রশান্ত সমুদ্র,
আবার ভোরে চাগিয়ে উঠি স্বপ্নপাখি ক্ষুদ্র ।।
……………………………………………

কাঙাল

মাঝরাতে জানলা খুলে দেখি, বারান্দায় বসি
খোলা বাতায়নে শ্বাস নিই, জগতের রূপ
আঁধারে অবলোকন করি, খোলা আসমান
প্রাণ খুলে’ ছড়িয়ে দিয়েছে তার বিশাল বিস্তার
সেখানে চিন্তার কোনো ভাঁজ-টাঁজ
বিবর্তন চোখে তো পড়ে না, শুধু
পৃথিবীতে সুনশান গুহাচিত্র আঁকা আছে
বাঁকা চাঁদ বিরহের বিষণ্ণ প্রতীক।
ততোধিক পীড়া দ্যায় বিভিন্ন রিপোর্ট
হতাশা বেড়েছে খুব মানুষের মনে
পর্নো দ্যাখা বেড়ে গেছে ভয়ঙ্করভাবে
বোতলের জন্য সব মুখচূণ ঘরে, মহিলা-প্রজাতি
আরো বেশী বেশী সন্তানসম্ভবা হবে অচিরেই
কাজ হারানোর ভয়, মহামারী দুর্ভিক্ষের ভয়
যতক্ষণ বেঁচেবর্তে আছো এই স্বজন -সভায়
দায়হীন দীক্ষাহীন আস্বাদন ক’রে যাও
যতোখানি পারো যতো দ্রুত পারো সবটুকু
তারপর ধুঁকতে ধুঁকতে ঢ’লে পড়ো করোনার বিচিত্র ছোবলে
ত্রাসের সংক্রমণ শুধু গ্রাস ক’রে আছে
এ জীবন বাঁচে কি না বাঁচে, শেষ ক’রো কাজ
প্রতিটি প্রহর সাজো সাজো !
বেঁচে আছো ? লকডাউনে যাও
নিজেকে বিচ্ছিন্ন করো তৃষ্ণা ক্ষুধা সংসার
সমাজ থেকে। বেঁকে বসে মনের শঙ্খচিল
তার অবাধ উপনিবেশ ভেস্তে যাবে একতিল
ভাইরাসের দৌরাত্ম্যে ? তা কখনো হয় ?
মনোবল বাড়াও কবি, হও নিঃশঙ্ক নির্ভয় ।

বিষণ্ণ আঁধার বাতায়নে বারান্দায় নিরাপদ শ্বাস খুঁজি
দেউড়ি ফটক বাড়িঘর সমাজ শহর শ্বাস খুঁজে
দেওয়াল তুলে ঘুমন্ত পুরীর মতো পাহাড়ের মতো
প্রার্থনা জানায় এক বিমুক্ত সকাল।
অন্তরালে হাসে যেন মহাকালের খেয়াল
মানবজাতিটা আজ বড়োই বড়োই এতো
প্রাণের কাঙাল !!
……………………………………………

বিষণ্ণতার ঘুমের মহল

স্বপ্নগুলো কেঁচিয়ে যায়, ইচ্ছেরা সব শুকিয়ে যায়
আজকাল এই জীবনধারায় চোরাবালির পরশ পাই
খাই বা না খাই, কা’র কী-বা যায় ? শব্দজীবির শূণ্য উঠান
ঝিমিয়ে থাকে ঝরা পাতার আলিম্পনে ক্ষুণ্ণ বিরাণ
শ্মশানভূমি, গোঁয়ার্তুমির ছল-ছলনা ললনাহারা
পথের বাঁকে তাকিয়ে থাকে, বিরাত্রিকে দ্যায় পাহারা
কোথাও কারও সাড়াশব্দ নাই, জব্দ যেন মানুষজন
দূষণ দূষণ রব্দগুলোও ঘুমিয়েছে কি অন্যমন ?
অন্যমনের অনেক কথা ভাবালুতা-রা আজ অতীত
ভূত তাড়াতে ব্যস্ত সবাই, গ্রীষ্মকালে জ্বরের শীত
লাগছে ওরে, ভাঁড়ার ঘরে কাঁদছে অনাহারের মুখ
ভুখ-পিয়াসার থেকেও কঠিন গুমরে’-মরা বুকের অসুখ
খুক খুক খুক্ কাশির কখন্ ধরছে ঘিরে উপদ্রব
ভাল্লাগে না কোনো কিছুই, চুঁইয়ে পড়ছে ঘোর গুজব
সব রটনা ঘটনা নয়, তবু মনে ঝিমুনি আসে
শুনতে শুনতে প্রহর গণি, যাই না কেন বনবাসে ?
পরিহাসে ভাগ্য হাসে, ভাইরাসের কী ত্রাসের রাজ—
কোথায় যাবে বাছাধনেরা ফেলে জীবনের এত্তো কাজ !
ঘিরে ধরছে বিষণ্ণতা, ঝিমোয় মনের কুঁড়িকুসুম
ঝিমোতে ঝিমোতে ঘুমিয়ে পড়ি, বস্তুতঃ তাই সোহাগ-চুম !
কঙ্কুমে সে রাঙায় আবার ঘুমের মহল শ্রমের মহল
স্বপ্নজীবির ওসরা -দাওয়ায় ঢেউ ভেঙে যায় সমুদ্রজল
কলকোলাহল উপল-নুড়ি মৎস্যপরীর মাতাল নাচ
চাগিয়ে দ্যায় জাগিয়ে দ্যায় ভালবাসার জীবন-গাছ ।।
……………………………………………

কবরী এবং

কানাকানির কাজল-রেখায় চোখের কোণায় তুলির টান
ঘর-ছাড়া মন অধীর উধাও, শিরায় শিরায় স্রোতের বান
সকাল -সাঁঝের তোয়াক্কা নাই, বৃষ্টিবাদল চুলোয় যাক
রাত দুপুরে বাজছে বুকে বিনোদিনীর বেণীর ডাক

কৃষ্ণ-সায়র কবরীতে ফুলের ফোঁটায় চুলের ঢেউ
আষাঢ় মেঘের চুলবুলি গো কাক-ভোরে কি দেখলো কেউ ?
কেউ দ্যাখেনি ঘোর কুয়াশায় উন্মনা সেই শীতের পরী
একলা আমিই নসীবওয়ালা সেই বিরহে
মরি, মরি !

জরীর ফিতে হীরের বালা নাকছাবি কি সোনার হার
রূপোর বিছে বাজুবন্দ পায়ের তোড়া নকশী পাড়
ছিলো কিনা, চোখ ছিলো না মন ছিলো না কোনোটাতেই
বিভোর দু’জন হৃদয়-মনের আলিম্পনের পাঠ নিতেই

রুদ্ধশ্বাস দিন রজনী হাট মাঠ ঘর নব্য পাঠ
একটু দেখা একটু ছোঁয়ায় অনুভূতির চাঁদের হাট
বসতো বুকে, বৃষ্টি-উঠোন হাসতো সুখে সুছন্দ
অনবরত কথা বলার ফুলঝুরিতে আনন্দ।

দ্বন্দ্ব-দ্বিধাও দাগ কেটেছে আনন্দের সে ক্যানভাসে
চোরা স্রোতের রেখার মতো, উদ্বেগ আর উচ্ছ্বাসে
তাকিয়ে আছি তাকিয়ে আছি দূরে কোথাও ঝাপসা চোখ
অবিশ্বাস্য চোরাবালির চাঁদমারি কি স্বপ্নলোক ?
……………………………………………

বুনো

“না! আমি কক্ষনো ছোঁব না তোমাকে আর আজ থেকে
দেখে নিও”, তৌবা ক’রে বললাম বিব্রত বিবেকে ।
” তাই নাকি? কবে থেকে?” ব’লে তুমি খিলখিল হেসে
মন দিলে রান্নায়, তোমার দৃষ্টির তির্যক শ্লেষে
তোমার হাতের আনাজপাতির মতো কুচি কুচি
মনে হ’লো ঘরময় ধ্বস্ত স্নায়ুর বিধ্বস্ত শুচি।

কুন্ঠিত লজ্জায় নাড়ি বইখাতা খবর -কাগজ
ইতস্ততঃ, একাগ্র হয়না মন, বিরক্ত মগজ
ঘুরে ফিরে হাতড়ায় ছাপছোপ কুটো বিজ্ঞাপন
উদ্দীপক নারীর ভঙ্গীতে মাতে ব্যাচেলর মন
বয়সের ঝোঁক এড়াতে পারেনা চোখ, ইদানীং বেশী
লুদ্ধ মনে হয় দৃষ্টি, ক্ষুদ্ধ পেশী সৌজন্য-বিদ্বেষী।

যৌবনের রুক্ষতা মাড়িয়ে আমি অস্থির ভীষণ
কাম-সন্ধির সংকট ইচ্ছে হয় করি উন্মোচন
ভিক্ষে-করা প্রেমে । তাই বুঝি সংক্রামক হতাশায়
অকস্মাৎ টেনে নিই তোমাকে আবার, মুছে যায়
শপথ বিবেক কিংবা ধর্মাধর্ম, আর সে সময়
ফুটে উঠে সত্ত্বার আদিম শুধু বুনো পরিচয় ।।
……………………………………………

দ্রষ্টব্য

শরীর পুড়ছে ভীষণ গরমে শরীর পুড়ছে
বন্ধুরা তবু দ্রষ্টব্যের প্রত্ন খুঁড়ছে
দারুণ দু’বেলা উত্তেজনার সকল দিবস
মনটা আমার তাদের সঙ্গে সুদূরে উড়ছে
গা ঝেড়ে ওঠার মন করতেই শরীর বেবশ।

বলে ঘরকুনো আমাকে নবীশি মহল-শুদ্ধ
তাই বিরুদ্ধ সময়ের সাথে করবো যুদ্ধ
বলতেই, ওরা ভীষণ শব্দে ধরলো খড়্গ
একি ভালো ছেলে হচ্ছে হঠাৎ এমন লুদ্ধ
ফাঁকি দিয়ে ওরা স্বর্গ খুঁজছে নগর-বর্গ ।

কেউ সতীর্থ সঙ্গিনী -সহ সুখের গন্ধ
খাচ্ছে আড়াল কামের কাঙাল কাতর অন্ধ
মাছির মতন উড়ছে বেতাল ওদের মধ্যে
ভিনদেশিনীর মন যোগাচ্ছে বেহায়া ছন্দ
মাতাল রাত্রে গল্প শুনছি লোলুপ গদ্যে।

সখ্যতা-হারা হাঁটছি যখন খুঁজছি সঙ্গ
চক্ষে আমার যুবতী নারীর নধর অঙ্গ
ঢেউ তোলে শুধু, ধু-ধু সংযম হয় বিপন্ন।
স্বপ্নে খুঁজছি বন্য নিবিড় গোপন রঙ্গ
হাঁটছি নগরে নীল বিহঙ্গ দেখার জন্য।

শরীর পুড়ছে ভীষণ গরমে শরীর পুড়ছে
বন্ধুরা তাজা দ্রষ্টব্যের প্রত্ন খুঁড়ছে
উত্তেজনায় আহত দুষ্ট কামুক রক্ত
দেখার জিনিস ওই একটাই নগরে ঘুরছে
মুখোমুখি তার দাঁড়াতেই একি, শরীর শক্ত !

ভক্তরা বলে, এ অবরুদ্ধ বধির উষ্ণ
আদিম ইচ্ছা, রক্ত-লোলুপ জঙ্ঘা শিশ্ন
পুরুষ-নারীর মুক্ত-সঙ্গম সরল যুক্তি
গহন জঘন গুহার ফাটল করছে প্রশ্ন
পাবো কি তাতেই রক্তে আমার বিরল মুক্তি ?

ভীষণ গরমে শরীর পুড়ছে মিথ্যা-সত্যে
হইনি লিপ্ত কোনো গর্হিত কর্মে কথ্যে
মোহন দৃশ্যে ভাঙছি গড়ছি প্রেমের মূর্ত্তি
বংশ-তৃষ্ণা ডাকছে নিত্য দার-অপত্যে
ঢাকছে চিত্ত নগ্ন নতজানু ফতুর ফূর্ত্তি।

উদর-পূর্তির আসব খুঁজতেই জীবন যাচ্ছে
সহজ স্বপ্ন রূঢ় বাস্তবে ধাক্কা খাচ্ছে
খুঁড়ছি তবুও সরল দৃশ্যে বিরল প্রত্ন
মগ্ন চক্ষে নগ্ন লক্ষ্মীর লক্ষ্য নাচছে
জ্বলছে এ-কোন্ আঁধার গুহায় প্রেমের রত্ন ?
……………………………………………

হিমাচল

হিমাচলে যাচ্ছি, রোমাঞ্চ পাচ্ছি সর্পিল সড়কে
নীচে তাকাচ্ছি, গোঁত্তা খাচ্ছি ক’লজের ধড়কে
বিচিত্র ঝোপ ছোপ ছোপ ছোপ পুষ্প-পসরা
সাজিয়েছে, তায় বিহ্বল-প্রায় আঁকছি খসড়া
পাহাড়গুলোকে কল্পনালোকে লাগছে অশ্ব
ছুঁবে অম্বর, উড়ছে ধূসর ধূমোল ভস্ম
দূর বলয়ে, কোন্ লোকালয়ে যাচ্ছি এভাবে
হিমেল আমেজে যাচ্ছি ভিজে ভিজে পাহাড়ী প্রভাবে
কোন্ রহস্য খুলবে দৃশ্য ভাবছি নীরবে
সব ভাবনা আনন্দ-বেদনা আকাশে ঘুমোবে ।।