আত্মঅহং

অহংকারী নখের ভেতর জঞ্জাল
ধীর গতির পচন এক নৈঃশব্দ্য ঘাতক।

সূর্যের দিকে তাকালে বোঝা যায়
তার আগুন-সত্য , চিরন্তন।

আত্মঅহংকার এক প্রকার ক্ষয়রোগ,
অকাল পতনের কারণ।
…………………………………………..

বৃথা বিলাপ

স্থাবর অস্থাবর জ্ঞান ধর্ম
সব মুখ লুকিয়ে গৃহকোণে
এখন হিসেব নিকেশ বৃথাই।

যুদ্ধ শেষে খাঁ খাঁ কুরুক্ষেত্র। অবশিষ্ট
মহাশ্মশান আর গান্ধারীর কান্না।

হয়তো ছিলো চোখ থাকতেও অন্ধ
সেজে থাকবার আত্মবিলাপ।
…………………………………………..

অর্জিত বেদনা

কৃত্রিম শহরের জানালায় ঠিকরে পড়ছে
অযথা ফুর্তির ভেঁপু। আবার কোথাও
অব্যর্থ জলে বান ডেকে
লুটেপুটে নেওয়া আদবকায়দা।

বকধার্মিক যুগাবতার, ক্ষেতের পঙ্গপাল।

গভীর শ্বাস টেনে হ্যামলিনের বাঁশি
সুর তলিয়ে যাচ্ছে অতলে।
…………………………………………..

অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা নেই
আছে নীরব বেদনা।

মৃত্যুর পর শ্মশানযাত্রা
অতঃপর বৃদ্ধাশ্রম-যাত্রা।
একই রঙ্গমঞ্চ,
আজ অন্য পালাগান।

রক্তের যত্ননিন অপেক্ষারত মৃত্যু
দরজার বাইরে ভ্রু কুঁচকে।
…………………………………………..

শেষ পর্যন্ত

মৃত্যু কিন্নর বেজে ওঠে কালের দেয়ালে
এ জীবনমৃত্যু রাগরাগিনীর নৃত্য
যে মিলনের পর স্তব্ধতা নামে চরাচরে।

নৈঃশব্দ্য সীমারেখা অতিক্রম করে
গোপন সুড়ঙ্গে ধাতব হৃৎপিণ্ড।

প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবো শেষ দৃশ্যে
যবনিকা হবে অদৃশ্য শত্রুর।
…………………………………………..

নিরাপদ দূরত্ব

রক্তাভ মেঘ শাসন করে
ভীরু পদক্ষেপ, ক্ষত রক্ত ঝরায়…
আপ্রাণ চেষ্টা নৌকোটা ভাসিয়ে নিয়ে
যাওয়া নিরাপদ দূরত্বে।

বিষাদের সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে
আতঙ্কে থাকি,
ঘোরের তালা ভেঙে কবে শুনো
শতভিষা’র গান ?
…………………………………………..

দূরত্বকে ভালোবেসে

মিঢ়’এর গমকে চলকে ওঠে সরগম
মায়া-সুতোয় পড়ছে টান,
এখন গভীর রাত
অশ্রু চাদরে এঁকে নিচ্ছি প্রিয় মুখ।

ধোঁয়াশাচরে মুখোমুখি বিপন্ন জীবন
মাঝে কঁকিয়ে ওঠে ক্ষুধার দহন।
…………………………………………..

ক্ষোভ

হে জনগণ ঈশ্বর
তোমার কানুন দেখেছি।
দেখলাম চোখ বাঁধা তুলাদণ্ডে
অসংখ্য ছিদ্র।

ছিদ্রপথে ঢুকে পড়েছে বিষাক্ত গরল।
…………………………………………..

সমর্পণ

হায়, এ রাতদিন কর্মহীন দ্রোহ
খসখস ঝরে পড়ে মৃতপাতা।

চোখের রক্তাল্পতায় অনন্ত ত্রাস।
পাতা থেকে শেকড়ে নাভিশ্বাস।

অশুভ আঁতাতের অস্থিরতা পেরিয়ে
করাল মুক্ত আয়নায় দেখবো মুখ
ক্লোরোফিলে বোনা পৃথিবীর সুখ।