পৃথিবী জুড়ে ঋতু বৈচিত্রের প্রভাব রয়েছ। একেকটি ঋতুর বৈশিষ্ট্য একেক রকম। একেকটার সৌন্দর্য একেক রকম।ঋতু বৈচিত্রের এই সৌন্দর্য সমগ্র পৃথিবী ব্যাপী। যদিও আমাদের দেশে বর্ষা গ্রীস্ম শরৎ হেমন্ত শীত ও বসন্ত এই ছয়টি ঋতু রয়েছে কিন্তু পৃথিবীতে এই ছয়টির নাম থাকলেও মূলত সারা পৃথিবীতে দুইটি ঋতুরই প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।শীত ও গ্রীস্ম। বসন্ত ঋতুটিকে
গ্রীস্ম ঋতুতেই ধরা হয়,শরৎকে বর্ষার ভিতর ধরা হয়।হেমন্ত ঋতুকে শীতে ধরা হয়।এটি মূলত ঋতুর পরিবর্তন নয় আমাদের পৃথিবীর মানুষের কারণেই ঋতুর এই অবস্থার জন্য দায়ী।কার্বোডাই অক্সাইড বেড়ে যাওয়া আবার বৃক্ষ নিধন ও বনায়নসহ বৃক্ষ রোপন অভিযান কম থাকার কারণও এই ঋতুতে পরিবর্তন আসার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।আমাদের আবাসযোগ্য এই পৃথিবীটি আমরাই ক্ষয়িষ্ণু করে তুলছি শুধু আমাদের নির্লজ স্বার্থবাদীতার কারণে।টনে টনে বোমা নিক্ষেপ করে পৃথিবীর মানুষের যতটুকু ক্ষতি হয়েছে ও হচ্ছে তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে ও হয়েছে এই পৃথিবীর ও পৃথীবীর বিভিন্ন জীব জন্তুর ও প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্রের উপর ।বর্জ পদার্থ যত্র তত্র নিক্ষেপ করা,পরিস্কার পরিচ্ছন্ন না রাখা, ইট পোড়ানোসহ নানাহবিধ বস্তু অবস্তুর সুষ্ঠু ব্যবহার না করার কারণেই আজিকার ঋতু বৈচিত্রে এই প্রভাব দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।পৃথিবীতে রুক্ষতা ক্ষয়িষ্ণুতা ও নির্মমতার এক মুঠো ঘাম ঝরানোর আশীর্বাদ হিসেবে প্রকৃতিতে আসে বর্ষা।বর্ষার প্রবল বৃষ্টিধারা ঘামায়িত ক্লান্ত শরীর শান্তনা খুঁজে পায় এবং কঠিন রৌদ্রময়তার থেকে হাপ ছেড়ে সুখ পায় মানুষ।জীবন্ত মানুষের রাগ বিরাগ নিমিষেই থেমে যায় এই বর্ষণমুখর বৃষ্টিধারার মধ্য দিয়ে। খা খা রৌদ্র ফাটা মাটির জমিন মুঠো মুঠো বৃষ্টির প্রত্যাশায় যেন হাত পেতে রয় সৃষ্টি কর্তার কাছে।পুরো জমিন যেন ঘামিয়ে রয়েছে সেই মাসের পর মাস,তাই বৃষ্টি প্রয়োজন আর এই বৃষ্টি যখন কাকের পাখায় ভর করে পৃথিবীতে নেমে আসে,তখন মাটির সারল্য বুকে আনকোরা নতুনের স্বপন বুনে জিরোয় আর সুনি:শ্বাসে শোকরিয়া আদায় করে মহান রবে প্রতি।জমিনের মাটিরা অকৃতজ্ঞতা বুঝে না বলে প্রতিটি ক্ষণটে আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায় করে তাঁর প্রতি সুপ্রশংসা আদায় করে।রাব্বুল আলামিন তাই এই মাটিকে সম্মান দিয়েই তাতে মানুষের জন্য ফসল ফলান,পুষ্প ফলান নানাহ ফলের সম্ভারে মাটিকে সম্মানিত করেন।শুধূ কি তাই?তিনি এই মাটি দিয়েই আমাদেরকে বানিয়েছেন।প্রথম নবী আদম (আ:)কে তিনি এই মাটি দিয়েই তৈরী করেছেন।এর পর আমরা যারা এসেছি ও যারা চলে গেছেন সবাইকেই তিনি এই মাটি দ্বারাই তৈরী করেছেন।এই কথা এই জন্য বললাম যে আল্লাহর প্রতি যে বা যারা যেভাবে যত বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে মহান রব তাকে বা তাদেরকে ততো বেশি সম্মানিত করেছেন।আবার মাটিকে তিনি পাওয়ারও দিয়েছেন খুব বেশি।আমাদের যারা কবরে গিয়েছেন কেউ যাবেন সবাইকে এই মাটি চিবুবে খুব কঠিনভিবে তবে মোমিনদের প্রতি ঐ রকম চিবুবে না যেমনটি চিবুবে মুনাফেক দোযখীকে।সে যা হোক, যে কথা বলতে চেয়েছি বৃষ্টিকে নিয়ে।বৃষ্টি রবের বিরাট রহমত।বর্ষায় বৃষ্টি প্রকৃতিতে নানন্দনিকতা সৃষ্টি করে।শুকনো নদী জলে ভরে যায়।জল ভরা নদী যেন নব যৌবনা বলে মনে হয়,তার বুকে চলে নব নব পাল তোলা নৌকো।মাঝিরা রাত বিহানে গান গেয়ে যায় দূর বহুদূর।বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে মাঝিরা গান গায় নদীতে মাছ ধরে আর সেই মাছ ধরে বিক্রি করে তারা তাদের জীবন জীবীকা নির্বাহ করে।বর্ষায় খাল বিল হাওর জলাশয় অনিনন্দ সৌন্দর্য ধারণ করে,বৃষ্টির জলের উপর ঢেউ খেলে যায় যেন আঁকা বাঁকা সর্পিল গতিতে চলে জলের ধারা।জলের মাছদের ছুটোছুটি এক দারুণ চমৎকার দৃশ্যের সুঅবতরণা বৈকি। জলাশয়ে পুকুর খাল বিলে শাপলা ফোটে শিশু কিশোর তরুণ শাপলা তুলে আনে পানিতে নেমে আর পানিতে ডুব দেয় আনন্দ আহ্লাদবোধ করে।বর্ষ মৌসুমে নানা ফুল ফোটে কদম এই সময় বেশি মন কাড়া ফুল।লোবান সুবাস না থাকলেও ঐ ফুলের মধ্যে কাঁটা কাঁটা সাদা রঙ রয়েছে তা দেখতে আত্যন্ত মনোহর-অতি আকর্ষণীয় লাগে।সাধারণত শিশু কিশোররা এই ফুল নিয়ে খেলা করে পথে ঘাটে কিম্বা বাড়ির ওঠোনে।এই সময় ফোটে কেয়া ফুল -ফোটে বেলি ফুল শিউলি ফুল এই সব ফুলের সমারোহে আমাদের চির চেনা আবহমান বাঙলার সর্বত্রই একটা সুন্দরের আমেজ খেলে যায়।ফুলের এমন ফোটা এমন সৌন্দর্য দেখেই হয়ত বীর কবি শেলী ঠিকই বলেছেন
“THE RAINY DAY
THE CLOUDY SKY
AND THE DOWLFUL WIND
DO I DISTRUB THE UNIVERSE?”
ঠিকই বর্ষার ভারী বর্রষণে যখন প্রকৃতিকে নীরবতায় নিয়ে আসে ঠিক তখনই মানুষের মনে ফেলে আসা অতীত স্মৃতি এসে হাজির হয়।মানুষ তখন প্রচন্ড ভাবে বিশেষ করে কবি সাহিত্যিক হলেত আর কথাই নেই।জীবনের ডাঙ্গুলি খেলা থেকে শুরু করে কখনো প্রণয়ের প্রেমের ছোঁয়া তাকে নিয়ে আসে আশৈশব কিম্বা যৌবনের দ্বার প্রান্তে।হয়ত নজরূলের ভাষায় বলতেও দ্বিধা করে না”অতীত দিনের স্মৃতি
কেউ ভোলে না কেউ ভোলে” প্রচ্ছন্ন মন বিরহক্লিষ্ট হয়ে ওঠে আর রিম ঝিম বৃষ্টির ভেতর মনের অজান্তে বলে ওঠে”তুহি মেরে মঞ্জিল তুহি মেরে পূজা,তুহি আসিকাহো তুহি দেবোতা হো”জীবনের এই ক্ষণটে সত্যিই মনের গহিনে তা ধরা দেয়।তাই বর্ষা ঋতু মানূষের শুকনো জীবনকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও জিয়ে দেয়।বর্ষায় যদিও মাঠ ঘাট ডুবে রায় বা পথ পিচ্ছিল হয় কিন্তু সব কিছুর জন্য তা আবার আর্শীবাদ হয়ে আসে।বৃষ্টি না হলে ভূমি মরুতায় পরিণত হয়ে ওঠে। বৃষ্টির ধারায় সকল জীবই নব যৌবন নিয়ে জিয়ে ওঠে। এই সময় মানুষ গৃহে বন্দি থাকে প্রায়শ কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে এই সময় মোমিন মুসলমান আল্লাহকে নিরিবিলি ডাকার প্রয়াসী হয় আর পুণ্যের পসরা গ্রহণ করে তারা পরিপুষ্ট হয় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছ থেকে। বর্ষা ঋতুটি হঠাৎ করে আসে অজস্র বৃষ্টি নিয়ে তাই এই ঋতুটার কথা মানুষের মনে বেশি থাকে।প্রমথ চৌধুরীর ভাষায়””আমাদের দেশে কিছুরই হঠাৎ বদল হয় না,ঋতুরও নয়।বর্ষা কেবল কখনো কখনো বিনা নোটিশে একেবারে হুড়মুড় করে এসে গ্রীস্মের রাজ্য জবরদখল করে নেয়।এই ঋতুর চরিত্র কিন্তু আমাদের দেশের ধাতের সঙ্গে মেলে না।প্রাচীন কবিরা বলে গেছেন,বর্ষা আসে দিগ্বিজয়ী যোদ্ধার মত আকাশে জয়ঢাক বাজিয়ে,বিদ্যুতের নিশান উড়িয়ে,অজস্র বরণাস্র বর্ষণ করে এবং দেখতে না দেখতে আসমুদ্রহিমাচলয় সমগ্র দেশটার উপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে।এক বর্ষাকে বাদ দিলে, বাকি পাঁচটা ঋতু যে ঠিক কবে আসে আর কবে যায় ,তা এক জ্যোতিষী ছাড়া আর কেউ বলতে পারে না।”সুতরাং বর্ষায় ঋতুচক্রের এক শ্রেষ্ঠ অধ্যায়। বর্ষাবিহীন প্রকৃতি জুবুথু নিষপ্রাণ বলে প্রতীয়মান হয় বলে মনে হয়।প্রকৃতির ঘর্মমাপ্লুত শরীর বর্ষার ভারী বর্ষণে ধুয়ে দেয় এবং নবরুপে সাজে পুরো প্রকৃতি। ধূলো বালিকে মিশিয়ে দিয়ে একটা আনকোরা নতুনের আমেজ সৃষ্টি করে দেয় পৃথিবীকে।বর্ষায় রাতের বৃষ্টি ধারা মানসপটে অতীত স্মৃতি মৈথন করে।বেলা অবেলায় জড়ানো সমগ্র স্মৃতি তখন জীবন্ত হয়ে দেখা দেয় মনের মুকুরে। স্বপ্নবিহারী কবি শেলী’র কন্ঠে তাই শুনি-

“GOOD NIGHT? AH!NO,THE HOUR IS ILL
WHICH SEVERS THOSE IT SHOULD UNITES
LET REMAINS TOGETHER STILL
THEN IT WILL BE GOOD NIGHT,
HOW CAN I CALL THE TONE NIGHT GOOD
THOUGH THEY SWEET WISHES WINGS ITS FLIGHT
BE IT NOT SAID, THOUGHT, UNDERSTOOD-
THEN IT WILL BE GOOD NIGHT,
TO HEARTS WHICH NEAR EACH OTHER MOVE,
FROM EVENING CLOSE TO MORNING LIGHT
THE NIGHT IS GOOD BECAUSE MY LOVE
THEY NEVER SAY GOOD NUGHT.””
ভাবনার এক ঝাক স্মৃতি জীবন্ত হয়ে ধরা দেয় মানসপটে মানুষ তখন খেই হারিয়ে ফেলে নিজকে।জীবনের পেলে আসা দিন স্নেহ মমতা ও ভালোবাসার চিত্র বর্ণালী রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। এইত গেলো মানুষের কথা।বর্ষায় আকাশে সাদা ও কালো মেঘের আনাঘোনা হতে থাকে।আর এক সময় সেই সাদা ও কালো মেঘ বৃষ্টি হয়ে প্রকৃতির জমিন ভাসিয়ে দেয়।প্রকৃতির বিশুষ্কতাকে সানন্দে রুপ দিয়ে থাকে।তাই বর্ষা একদিকে সৌন্দর্যের প্রতীক অন্য দিকে বর্ষা প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ ঋতু যার মধ্য দিয়ে খুঁজে পায় আত্মাময় জীবন ও প্রকৃতির নব রুপ।