বৃষ্টিস্নাত সকাল বিকাল রাত। চারপাশে থই থই পানি। এমন সময় বাইরে কেউ নেই। কাকভেজা মানুষ উম খোঁজে প্রিয়ার হৃদয়ে। প্রকৃত প্রভু প্রেমিক ইবাতদে মশগুল হয়। কবি শিল্পী সাহিত্যিক আনমনা হয়। তাদের চিন্তায় খেলা করে নতুন সৃজন। বর্ষা মানে প্রকৃতির নতুন শিশু জন্মানোর কাল। বর্ষা শুরুর আগের শুরু হয় বর্ষা। আবার সময় চলে গেলেও অনেক সময় বর্ষার দেখা মেলে না। তারপরেও বাংলায় মেঘের আগমন ঘটে। শ্রাবণধারায় আন্দোলিত হয় প্রকৃতি। সে নতুন ভাবে সাজতে থাকে বৃষ্টির স্পর্শে। নদীর কোল জুড়ে চলে আসে নতুন শিশুর মতো নতুন পানি। মাছেরা অপার স্বাধীনতায় খেলা করে নতুন পানিতে। প্রকৃতির অপার প্রতীক্ষায় জেগে ওঠা বৃষ্টির ফোঁটায় বর্ষা ঝরে। বর্ষায় জেগে ওঠে প্রাণ। দূর হয় দীর্ঘদিনের অপরিচ্ছন্নতার কালিমা।

বর্ষা যাপনের জন্য যে হৃদয় উচাটন। সেই বর্ষা যাপনের সময় খুব একটা পায় না নগরবাসী। কংক্রিটের পাথর নগরী তখন জীবন ও জীবিকার অন্বেশনে বেতি ব্যস্ত। এবার বর্ষার সময় প্রাকৃতিক মহামারীতে বন্দি মানুষ। জীবিকার তাগিতে বাইরে যেতে হচ্ছে না। ঘরে তাদের বন্দি জীবন। লকডাউন তাদের বন্দি করে দিয়েছে। এই সময় বর্ষা এসে হাজির। সে তার হৃদয় খুলে ঢেলে দিচ্ছি পানি। মানুষ আজ প্রকৃতির দুই অবস্থানে দেখে সেজদাবনত হয়ে আছে। প্রকৃতির কাছে অসহার হয়ে প্রভুকাছে ধর্না দিচ্ছে। নিশ্চয় বর্ষার মতো একদিন আসবে করোনা মুক্ত সুন্দর দিন। তখন সৃজন ক্রিয়া হবে ভয় মুক্ত নতুন সৃজন। এতো বিষাদ জীবন নিয়েও লেখকরা বসে নেই লেখক, কবি, সাহিত্যিক, গায়ক, অভিনেতা সবাই নতুন উদ্যোমে তাদের সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরে জনমানুষের সামনে। বাংলার এই আদি প্রকৃতির আগমনকে উদযাপনের জন্য ‘মোলাকাত’ আয়োজন করেছে ‘বর্ষা সংখ্যা ১৪২৮’। লেখকদের লেখায় সমৃদ্ধ হবে এই সংখ্যাটি আমরা সেটাই আশা করি। লেখকদের ব্যাপক আগ্রহে আমরা যার-পর-নাই আনন্দিত। আফসার নিজাম, সম্পাদক-মোলাকাত
……………………………………………

সূচীপত্র

বৃষ্টি এলো :: বনশ্রী বড়ুয়া
মেঘের পরে বৃষ্টি :: শিরিন আফরোজ
বেহুলা :: মনোজিৎকুমার দাস
বৃষ্টি জলে হলুদ মেয়ে :: বিচিত্র কুমার
এমনি বরষা :: শম্পা মনিমা
কোনো এক বর্ষায় :: ইমরান খান রাজ
বর্ষা এলো :: জুনাইদ বিন মুহিব
বৃষ্টির ছড়া :: আনোয়ার হোসেন বাদল
বর্ষাকালের ছড়া :: অমিতাভ সরকার
রাত প্রহরীর কয়েকটি প্রশ্ন :: প্রেমাংশু শ্রাবণ
বৃষ্টির ঘ্রাণ :: ওমর অক্ষর
আষাঢ়ে বৃষ্টি :: রেজা ফারুকী
বর্ষার পানি :: রাজীব হাসান
অশ্রুসিক্ত গগন নয়ন :: মোহাম্মদ কফিল উদ্দীন
বর্ষার দিনে :: হাসান মাহমুদ
বর্ষা মঙ্গল :: কিশলয় গুপ্ত
বৃষ্টিবাদল :: মুহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন
আষাঢ় :: মুহাম্মদ ইব্রাহিম বাহারী
বৃষ্টি :: জাহাঙ্গীর আলম অপূর্ব
……………………………………………

বৃষ্টি এলো
বনশ্রী বড়ুয়া

বৃষ্টি এলো কাশের বনে
বৃষ্টি টিনের চালে,
বৃষ্টি এলো মাঠের পরে
বৃষ্টি খুকুর গালে।

বৃষ্টি এলো দূরের গাঁয়ে
বৃষ্টি ছাদের পরে,
বৃষ্টি এলো সবুজ ঘাসে
বৃষ্টি অঝোর ঝরে।

বৃষ্টি এলো নদীর জলে
বৃষ্টি চোখে মুখে।
বৃষ্টি এলো শহর জুড়ে
বৃষ্টি রাঙায় সুখে।

বৃষ্টি এলো মামার বাড়ি
বৃষ্টি খুকুর মাথায়,
বৃষ্টি এলো উঠোন জুড়ে
বৃষ্টি দাদুর ছাতায়।
……………………………………………

মেঘের পরে বৃষ্টি
শিরিন আফরোজ

আকাশের কোল ঘেঁসে সুখের পালঙ্কে
বেড়ায় ধুসর কালো মেঘ
শান্ত হাওয়ায় দোলে মেঘের নীচে যাবতীয় সুন্দর
ভালোলাগার অনুভূতিগুলো তাল
ছন্দ ও সুরে খেলা করে হৃদয়ের আনাচে কানাচে
কানানে ফোটা ফুলগুলো সজীবতার হাসিতে
যেন বলে যায়, ভালোবাসি
বড্ড ভালোবাসি তোমায়
অবশেষে আসলে তুমি
ঘুম ভাঙা শহরে বৃষ্টির রিনিঝিনি নৃত্যে,
প্রতীক্ষার পরে আসলে তুমি
তুমি আসবে এটাই সত্য
সুখের পরশে তুমি তীব্রতার ঔষধ
ধুঁয়ে মুছে যাক পৃথিবীর মহা অসুখের শোক
মহা অসুখের শোক।
……………………………………………

বেহুলা
মনোজিৎকুমার দাস

ভাসিয়েছিলে ভেলা বাসর রাতের লাল বেনারসি পরে
নদীর স্রোতের উজান বেয়ে নিরুম্বু একা
গাঙুড়ের জলে বৈঠা বেয়ে ইন্দ্রালোকে যাত্রা
লক্ষ্মীন্দর স্বামী তোমার
প্রাণহীন দেহ তার। প্রিয়তম স্বামীর প্রাণ ফেরাতে তোমার অসাধ্য সাধনা
ইন্দ্রালোক সে তো বহু বহু দূরে-
কত নদীতট, কত নদীঘাট ছুঁয়ে চলেছিল তোমার ভেলা।
কল্কা পেড়ে লাল শাড়ি পরা মেয়েদের তুমি দেখেছিলে ঘাটে ঘাটে
ওই সব মেয়েদের নাম হয়তো লীলাবতী, সুদেষ্ণা, শঙ্খমালা কিংবা অন্য কিছু।
সুদর্শন উড়িতেছিল মাথার উপরে।
অসূর্যস্পর্শা বাসর ছেড়ে আসা সোনা আর হীরা জহরতে
মোড়া ভরা যৌবনকে সাথে নিয়ে তুমি ভেলা ভাসিয়েছিলে সেদিন।
কত জল, কত নদী, কত সাগর পেরিয়েছিলে দিনের রোদ্দুর
আর রাতের জোসনা ও অন্ধকারকে পেছনে ফেলে।
বাংলার মেয়ে বেহুলা
তুমি তো শাশ্বত বাংলার চিরন্তনী এক মেয়ে
অটল তোমার সংকল্প
অটল তোমার উদ্দীপনা
শত বাঁধা পেরিয়েও তুমি পৌছেছিলে ইন্দ্রালোকে।
মৃত স্বামীর কঙ্কাল সাথে নিয়ে ইন্দ্রালোকের রাজসভায় গিয়েছিলে।
নৃত্যগীতে ইন্দ্রালোককে মুগ্ধ করে মৃতস্বামীকে জীবিত করে
ফিরিয়ে এনেছিলে এই বাংলায় তাই তো আমাদের এই বাংলা
……………………………………………

বৃষ্টি জলে হলুদ মেয়ে
বিচিত্র কুমার

হঠাৎ সেদিন বৃষ্টি জলে নিত্য করে হলুদ মেয়ে
অসংখ্য সবুজ পাতার ফাঁকে মিষ্টি হাসি মুখে,
সে যেন সেজে রয়েছে সাদাপারা হলুদ বর্ণ শাড়িতে,
এলোমেলো চুলে কাজল মাখা দু’চোখে।

কী অপরূপ লাগচ্ছিলো তুলতুলে গা দুলচ্ছিল
পাপড়ি গুলো উড়চ্ছিলো হাওয়ায় হেসেহেসে,
গুনগুনিয়ে ভ্রমরেরা গায়চ্ছিল বৃষ্টি জলে ভিজে
ফুল কলিদের সাথে আনন্দে নাচে আর উল্লাসে।

বৃষ্টি পড়ে টাপুরটুপুর মন করে হায় ব্যাকুল
ঘোলা জলে ব্যাঙেরা সব কাদা মেখে খেলে দোল,
পাতিহাঁস সাঁতার কাটে বৃষ্টির জলে এমন মধুর ক্ষণে
কুটিকুটি হাসে কদম ফুল একাই বনে আর জঙ্গল।

বৃষ্টি পড়ে আকাশ থেকে হিমেল হাওয়ায় উড়ে সে
দূর আকাশে চায় যেতে মায়ায় বাঁধা কদম গাছে,
হঠাৎ সে চায় আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে
লজ্জায় তার লাল মুখটি ঢাকে রঙধনুর পাশে।
……………………………………………

এমনি বরষা
শম্পা মনিমা

রিমঝিম ঘন সুন্দর ভোরে
তুমি এসেছো আমার নীড়ে
ঘুমের মধ্যে পাই তোমার স্নিগ্ধতা
সিক্ত পায়ে কুড়িয়ে রাখি তোমার মুগ্ধতা

ঝরঝর বরষায় আঁখি চাহে
মরমে প্রেম উতলিয়া আসে
বিজলী চমকায় আকুলি কন্যা চপলতা
লাজুক দোলনচাঁপা প্রকাশিত তার মধুরতা

আমিও ঝড়ের মতো বয়ে যেতে যেতে
গুমরি সুর খেলে বেলা অবেলায় এসে
তোমায় ভালোবেসে জাগে আবেগ কোমলতা
বকুল গন্ধে মালা পাঠিয়ে দিলাম বিরহী অধিরতা।
……………………………………………

কোনো এক বর্ষায়
ইমরান খান রাজ

কোনো এক বর্ষায়
মনের সকল জড়তা কাটিয়ে,
তোমাকে সাথে নিয়ে,
ভিজতে চাই সবুজ মাঠে।

যদি তুমিও চাও
এই মহা সুযোগটি লুফে নিতে,
তবে বৃষ্টির আগ মুহূর্তেই-
চলে এসো ! হাত রেখো এই হাতে !
……………………………………………

বর্ষা এলো
জুনাইদ বিন মুহিব

এই তো আকাশ ঝলমলে আর
দারুণ ছিলো নীলে,
কাঠফাটা রোদ সূর্য ছিলো
জল ছিলো না বিলে।

হঠাৎ আকাশ মেঘের বেলায়
ঘোর হয়েছে কালো,
সূর্যিমামার তাপদাহ তেজ
দূর হয়েছে আলো।

টুপুরটাপুর বৃষ্টি এলো
ঝড় বাতাসও শিলে,
অথৈজলে ছলাৎছলাৎ
হাওর খালও বিলে।

গুড়ুম গুড়ুম মেঘের ডাকে
আকাশ হলো ভারী,
বর্ষা এলো জানান দিলো
সাদা বকের সারি।
……………………………………………

বৃষ্টির ছড়া
আনোয়ার হোসেন বাদল

বৃষ্টি এলে মিষ্টি করে
ফুলগুলো সব হাসে
বৃষ্টি এলে নদীর জলে
হাসগুলো সব ভাসে।

বৃষ্টি এলে খোকাখুকুর
খুশীর সীমা নাই
বৃষ্টিদিনে সকল গাছে
ফল ফলাদি পাই।

বৃষ্টিদিনে ব্যাঙব্যাঙাচি
উচ্চ স্বরে গায়
বৃষ্টি হলে এত্তো খুশী
কোথায় তারা পায়?
……………………………………………

বর্ষাকালের ছড়া
অমিতাভ সরকার

১.
মেঘ এল ঘনিয়ে,
বেগ দিল শুনিয়ে।
আশপাশ ধাঁধিয়ে,
জোর গলা সাধিয়ে,
শিশুমন কাঁদিয়ে,
ঝড়জল বাঁধিয়ে,
বারি ঝরে আকাশে,
মেঘ কালি-মাখা সে।

২.
কপাটেতে ঘা-দিয়ে,
সপাটেতে হাঁকিয়ে,
চার দিক জাঁকিয়ে
মেঘ বলে কড়কড়,
ভেক জলে সর সর,
গাছপালা মড় মড়,
শাখী পাখী চল ঘর।

৩.
মাঠঘাট নির্জন,
নেই সেই গুঞ্জন,
মন আজ উন্মন,
ভুলছি তো দিনক্ষণ!

৪.
ছাদে জল, বাদে চল,
দাঁড়া ওখানে।
সাড় কাজ, ফের আজ,
ঘর যেখানে।
ঘড়া জল, টলমল,
পুকুর পারে,
ছাওয়া পেয়ে, খাওয়া দাওয়া
কুকুর সারে।

৫.
থালা বাটি এঁটোকাটা,
নেই মাজা, সব ভেজা।
সব ঘাঁটা, মিছে খাটা,
কলটা ভিজে,
দেই আজ, সেই কাজ,
মাজ তা নিজে।
বাসনের কন কন
বৃষ্টির ঝন ঝন,
জল এখানে,
মন তাজা, খাই ভাজা,
চল দোকানে।

৬.
ধূলো সরে বাতাসে,
তুলো ওড়ে একা, সে।
রোদ নেই আকাশে,
আজ সব ফ্যাকাসে,
কেউ নেই ও পাশে,
পিছোল আজ এ ঘাসে।

৭.
হাওয়া সরে শন শন,
কান করে টন টন।
পাখা নড়ে বন বন,
মশা করে ভন ভন।

৮.
প্রাণী খোঁজে প্রাণপণ,
আস্তানা এই ক্ষণ।
বিদ্যুত গর্জায়,
যমদূত তর্জায়।
ভাঙা ওই দরজায়,
ডাকে সই ঘর আয়।

৯.
বর্ষার বৃষ্টি,
কি অনাসৃষ্টি!
তবু বেশ ভালো,
মেঘ হোক কালো।

১০.
বর্ষায় চলে যা তা!
সব মাথা গোল ছাতা।
ভরসায় ফলে আতা,
জবা, ধান, কলা, পাতা।
শতদলে, কত ফলে
ভরে মাঠ, হাট, পাট।

১১.
আনারস, আমড়া,
ভালো পাই আমরা।
জুঁই, চাঁপা, পেয়ারা,
বর্ষারই চেহারা।
শাপলা- শালুক নীল,
ভর্ ঝিল, খাল-বিল।
কেতকী, কদম, কেয়া,
বর্ষাকালেরই দেয়া।

১২.
আউস, আমন ধান,
এ মাটির স্নেহ দান।
সোনার এই ধান্য,
পৃথিবীর অন্ন।
কৃষিতেই ভরসা,
বাংলার বর্ষা।
চিরদিন শোধে ঋণ,
সব্বার জন্য।

১৩.

বাণ নয়, প্রাণভয়,
শোক রোগ, দূর্ভোগ,
যাক সব, দূর হোক।
শুদ্ধুই ভালো কাজ
রেখে থাক বর্ষা,
মল্লার সুর ভাঁজ,
সা নি পা মা রে সা।
……………………………………………

রাত প্রহরীর কয়েকটি প্রশ্ন
প্রেমাংশু শ্রাবণ

অনুভূতির আঁচলে মুড়ে তুলোট অন্ধকার
সোনার পালঙ্কে কাঁদে সুপ্ত সকাল।
মেঘলা আকাশের এলোকেশি দুরন্ত মেঘবালিকার চুলে লেগেছে আষাঢ়ী আয়োজন।
ইলশেগুঁড়ি আলোর মাঝে হিমেল পরশ,
মনের কালিমায় লাগে স্বপ্নপাপ মোচনের আগুন।
যায় বুঝি বেলা, বর্ষার আলতো ছোঁয়ার….
সে কেনো বোঝেনি?

হিমাদ্রীর বনবাসী মন, বিশ্রামহীন লাঙল কাঁধে মাঠে।
আহা, ফসলের গান, মুচকি হাসির ঘোমটা মাখা মুখ,
ভেজা পদ্যের গালে লেপটে থাকা একবিন্দু বর্ষাজল!
সকাল গড়িয়ে দুপুর, মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে সাতরঙ…
সে আসেনি বলে ভিজবো না?

বিকেল হাসে ভেজা ঘাসের রঙে,
বোধহীন সময়টাকে বাঁধতে ঘড়ির কাঁটায়,
মনের আকালে কষ্টের বালিয়াড়ি…
একাকী কাঁদছে সদ্য ফোটা কদম,
মোহনায় বুদবুদ তোলে ইলশে স্বপ্ন।
নীল টিপ ভিজে যায় অশ্রুজলে…
সে খোঁজে নাকি হিসাবের খাতা?

পোয়াতি জোছনায় সেরে স্নান, বর্ষার আদলে অবগাহন, অরাত্রিকার চোখে!
কোথাকার বৈরাগী সুর হারিয়ে যায় -তাল, লয়, স্বপ্ন ছাড়িয়ে।
মেঘের মতো মন, চোখ মুখ গুজে বালিশে
খোঁজে জোছনার রঙ।
কালবেলা বুঝি ভোর হয়, সূর্যের ডাকে পাখিরা ওঠে এখনো ঘুম থেকে…
সে বুঝি দেখিনি জোছনার রঙ?

ইকুয়েশন গুলো খুঁজে ফেরে জটিল ব্যাখ্যা।
ফাইল বন্দি লেখনির ভিড়ে ধুলোপড়া সমাধান!
রাতের আঁধারে ফাঁসি হয় বোধের প্রহরীর
মিথ্যার জয়ে হাসে ফণা তোলা বাস্তব…
সে চোখ কি অন্ধ হয়ে গ্যাছে?

মায়াবী আলো স্বপ্নের গোটা গোটা অক্ষরে
প্রেমের চিঠি।
মৃত স্বপ্নের মতো এক শিশি ড্রাগ!
তুমি নেই তাই পৃথিবীটা কালো,
প্রেমের নদীতে আজ হাঙরের চাষাবাদ।
নীল কষ্টের আঁচলে কাঁদে টুকরো সুখ…
সে ভাসেনি স্বপ্নের নোনাজলে?

নির্বাক গন্ধ ওড়ে হাওয়ায়, মর্গের ষ্ট্রেচার থেকে।
চোখের কোণে লেগে থাকা শুকিয়ে যাওয়া অশ্রুজল!
বেওয়ারিশ হয়ে শুয়ে থাকা ওয়ারিশের সাদা কাপনে
বুকের ক্যানভাসে আঁকা তার মানুষ নামের সার্টিফিকেট।
ছোট ছোপ ছোপ রক্ত কণিকা,
পাজর মগজ আর স্মৃতি…
সে কি শ্রেনীহীন সমাজের বুকে?
……………………………………………

বৃষ্টির ঘ্রাণ
ওমর অক্ষর

তোমার হাসির বিলাস
ভারী নিঃশ্বাস, মিষ্টি মৃদু কথা
দুষ্ট অঙ্গুলি খুঁজতে যে চাই
নাভীর গভীর গভীরতা!

তপ্ত ঠোঁটে মাখতে চাই নাসিকায়
জমে থাকা শিশিরবিন্দু গুলো
তৃষ্ণায় আশ্লেষে আমিতে তুমিতে
হতে চাই এলোমেলো!

যখন তখন মৃদু বাতাসে
চুল সামলানো তোমার দায়
তখন নীতি বালাই সিথিল করে
কাঁধে নাক ডুবিয়ে ঘ্রাণ নিতে চাই!
কমল কায়ায় প্রেমের মায়ায়
নরম বিছানায়
তোমার ঘামের জলসিক্তে
আমি বৃষ্টির ঘ্রাণ পাই!
……………………………………………

আষাঢ়ে বৃষ্টি
রেজা ফারুকী

গানের সুরের তাল তুলে
বৃষ্টি পড়ে ঝুমাঝুম
ফুল বাগানের গাছ গুলো সব
বাজনা শুনে মুগ্ধ মনে,

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
নূপুরের সুর রিনি ঝিনি
ছল ছলাছল কাঁপণ তুলে
নিলয় মাঝে গিটার বাজে,

বৃষ্টি তুমি ধানের খেতে
সবুজ পাতা দাও রাঙিয়ে
তোমার প্রেমের স্পর্শ পেয়ে
বেলে দোঁয়াশ হল্লা খেলে,

আষাঢ়েতে বৃষ্টি এলে
মরা গাঙে জোয়ার আসে
ব্যাঙেরা সব কিল বিলিয়ে
রেণু ছাড়ে খালে বিলে,

বৃষ্টি শুধুই জলধারা নও
বার্ক শকতি বয়ে বেডা়ও
জীবনেরে সতেজ করে
আশার স্বপন জালিয়ে যাও ৷৷

……………………………………………

বর্ষার পানি
রাজীব হাসান

বর্ষার পানি থৈথৈ করে
পুকুর ডোবা খালে
মস্তবড় শিং মাছ ধরে
গফুর মিয়া জালে।

বর্ষার পানি ডোবায় জমে
জমে খালে বিলে
বর্শা হাতে উজানে যায়
সোনা মিয়ার ঝিলে।

বর্ষায় নদী ছলছল করে
দুকূল ছাপে জলে
জমি-জমা ফসলের মাঠ
ভাসে বর্ষার জলে।
……………………………………………

অশ্রুসিক্ত গগন নয়ন
মোহাম্মদ কফিল উদ্দীন

আজ পহেলা আষাঢ়,
তাকিয়ে রই কখন নামবে আসার,
দেখা নেই তার
তবু জ্বলছে প্রদীপ আশার।

কেয়া বনে কেয়াফুল খুলে অবগুণ্ঠন,
শাখে শাখে কদমফুল বিলায় চুম্বন
কবি কুল ব্যাকুল গাহিতে বর্ষা কীর্তন।

অশ্রু বাষ্পে ধূমায়িত গগন নয়ন,
আমার উঠোনে এখনো নামেনি শ্রাবণ।
তৃষিত নয়ন অপেক্ষায় অনুক্ষণ
লভিতে সলাজ সরস শ্রাবণ বরিষণ
বিরাণ ভুতলে জাগাতে প্রাণের শিহরণ।
……………………………………………

বর্ষার দিনে
হাসান মাহমুদ

বর্ষার দিনে বিরহের গান দুঃখের তরঙ্গ তুলে হৃদয়জুড়ে।
বর্ষায় বৃষ্টির ঘন ঘন ফোটায় কৃষ্ণচূড়া যেমন ক্ষত
হয়ে ঝরে পড়ে—
এমনই করে আমার চোখ থেকে ঝরে পড়ে
বেদনার নোনাজল টুপটাপ করে।

বর্ষা আসে আমার চোখে কেবলই বিরহের
অশ্রু ঝরাতে। বর্ষার দিনে বর্ষার কথা মনে হলে
মজনুর বিরহ বিলাপের কথা মনে পড়ে।

আমি বর্ষায় বিলাপ করি বর্ষার লাগি—
বর্ষা মানে— আমার প্রেয়সী বর্ষার বিরহে
অশ্রুবিন্দুর ঘন বর্ষা শুধু অশ্রু ঝরায়…
……………………………………………

বর্ষা মঙ্গল
কিশলয় গুপ্ত

এত বৃষ্টি সব ধুয়ে সাফ
পিছু ভুল আর কিছু ফুল পাপ
পোড়া মন হয় যখনই খারাপ
ভাবি শ্বাস নাই

দুঃস্বপ্ন মাথা ঠুকছে
রাজপথে ওই হাঁটা রুখছে
হায় পড়শী নাকে শুঁকছেন
মহা আশনাই

মেঘে মেঘে ঠিক কথা বলছে
হিসাবের হাত কাজে চলছে
ভুলে মূল নাম কান মলছে
পোড়া রোদ্দুর

ভাটি গাঙ চোখ কেউ গাইছে
কূলে রমনী সুখে নাইছে
দূরে মুসাফির বুকে চাইছে
আয় সাতসুর

এত রাত যায় সুখে শয্যায়
তবু নতশির যুগ- লজ্জায়
……………………………………………

বৃষ্টিবাদল
মুহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন

বৃষ্টিবাদল ভিজে দিলো
আমার দেশের মাটি,
সজীব হলো তরুলতা
লাগছে পরিপাটি।
কেটে গেলে মরার খরা
ধরায় সজীব হাসিল
জমিন যেনো নববধূ
হৃদয় সুখে ভাসি।

চারিদিকে সবুজ শ্যামল
জুড়ায় মনো প্রাণ,
পাখি ডাকে কিচিরমিচির
ফসল ভরা ঘ্রাণ।
সোনার ফসল উঠলে ঘরে
কৃষক বেজায় খুশি,
নতুন করে ফলায় ফসল
স্বপ্ন রাশি রাশি।
প্রকৃতির এই স্বপ্ন দোলায়
চলছে বিধির লীলা
ঋতুবদল আমার দেশে
খেলছে ভাগ্য খেলা।
……………………………………………

আষাঢ়
মুহাম্মদ ইব্রাহিম বাহারী

আকাশ মাঠে মেঘ ছুটে যায় বৃষ্টিঝরা ক্ষণ
তপ্তজমিন ঠাণ্ডা এখন সবুজ হলো বন।
মাঠের পরে মাঠ ভিজে যায় বাদল বাদল দিন
টিনের চালে নুপুররবাজে বাজে রিনিক ঝিন।

মেঠো পথে কাদা জমে পা চলে না পা
ধানের চাষে ব্যস্ত কৃষক জেগে ওঠে গাঁ।
জল ছুটে যায় নদীর পানে কীযে মনের মিল
অগাধ জলের ছড়াছড়ি উপছে ওঠে বিল।
……………………………………………

বৃষ্টি
জাহাঙ্গীর আলম অপূর্ব

টাপুর টুপুর পড়ে বৃষ্টি
দেয়ার একটু ডাকে,
পুকুর নদ হয় উল্লসিত
সোনাব্যাঙের হাঁকে।

সোনাব্যাঙ আর কুনোব্যাঙ ভাই
ব্যাঙের নানা জাতে,
সাঁতার কাটে এদিক সেদিক
ছোট্ট দুটো হাতে।

দেয়ার ডাকে ময়ূর নাচে
ঐ না ঘরের কোণে,
ঝড়ের তোড়ে গাছপালা সব
ভাঙে গহীন বনে।

বৃষ্টির শেষে রংধনুর রঙ
আকাশ জুড়ে পড়ে,
দেখার জন্য শিশুরাসব
সুদীর্ঘ লাইন ধরে।

বৃষ্টির পরে প্রকৃতি তার
নব রূপে সাজে,
তাইনা দেখে ব্যাঙের মনে
খুশীর বাদ্য বাজে।