বৃষ্টিস্নাত সকাল বিকাল রাত। চারপাশে থই থই পানি। এমন সময় বাইরে কেউ নেই। কাকভেজা মানুষ উম খোঁজে প্রিয়ার হৃদয়ে। প্রকৃত প্রভু প্রেমিক ইবাতদে মশগুল হয়। কবি শিল্পী সাহিত্যিক আনমনা হয়। তাদের চিন্তায় খেলা করে নতুন সৃজন। বর্ষা মানে প্রকৃতির নতুন শিশু জন্মানোর কাল। বর্ষা শুরুর আগের শুরু হয় বর্ষা। আবার সময় চলে গেলেও অনেক সময় বর্ষার দেখা মেলে না। তারপরেও বাংলায় মেঘের আগমন ঘটে। শ্রাবণধারায় আন্দোলিত হয় প্রকৃতি। সে নতুন ভাবে সাজতে থাকে বৃষ্টির স্পর্শে। নদীর কোল জুড়ে চলে আসে নতুন শিশুর মতো নতুন পানি। মাছেরা অপার স্বাধীনতায় খেলা করে নতুন পানিতে। প্রকৃতির অপার প্রতীক্ষায় জেগে ওঠা বৃষ্টির ফোঁটায় বর্ষা ঝরে। বর্ষায় জেগে ওঠে প্রাণ। দূর হয় দীর্ঘদিনের অপরিচ্ছন্নতার কালিমা।

বর্ষা যাপনের জন্য যে হৃদয় উচাটন। সেই বর্ষা যাপনের সময় খুব একটা পায় না নগরবাসী। কংক্রিটের পাথর নগরী তখন জীবন ও জীবিকার অন্বেশনে বেতি ব্যস্ত। এবার বর্ষার সময় প্রাকৃতিক মহামারীতে বন্দি মানুষ। জীবিকার তাগিতে বাইরে যেতে হচ্ছে না। ঘরে তাদের বন্দি জীবন। লকডাউন তাদের বন্দি করে দিয়েছে। এই সময় বর্ষা এসে হাজির। সে তার হৃদয় খুলে ঢেলে দিচ্ছি পানি। মানুষ আজ প্রকৃতির দুই অবস্থানে দেখে সেজদাবনত হয়ে আছে। প্রকৃতির কাছে অসহার হয়ে প্রভুকাছে ধর্না দিচ্ছে। নিশ্চয় বর্ষার মতো একদিন আসবে করোনা মুক্ত সুন্দর দিন। তখন সৃজন ক্রিয়া হবে ভয় মুক্ত নতুন সৃজন। এতো বিষাদ জীবন নিয়েও লেখকরা বসে নেই লেখক, কবি, সাহিত্যিক, গায়ক, অভিনেতা সবাই নতুন উদ্যোমে তাদের সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরে জনমানুষের সামনে। বাংলার এই আদি প্রকৃতির আগমনকে উদযাপনের জন্য ‘মোলাকাত’ আয়োজন করেছে ‘বর্ষা সংখ্যা ১৪২৮’। লেখকদের লেখায় সমৃদ্ধ হবে এই সংখ্যাটি আমরা সেটাই আশা করি। লেখকদের ব্যাপক আগ্রহে আমরা যার-পর-নাই আনন্দিত। আফসার নিজাম, সম্পাদক-মোলাকাত
……………………………………………

সূচীপত্র

বর্ষার জলে মুছে যাক হিংসেরা :: মোস্তফা হায়দার
ঘন বরষায় :: তানজারীন ইফফাত স্বাতী
অশোকের সন্ধানে :: আইরিন সুলতানা লিমা
বিষণ্ন নিস্তব্ধতা :: পারভীন আকতার
আষাঢ়ের আগুন :: তৌহিদুর রহমান
বর্ষা :: প্রিয়াংকা নিয়োগী
আষাঢ়ে শ্যামা মেয়ে :: নূরজাহান শিল্পী
বৃষ্টিমধু :: মুস্তাফা ইসলাহী
আকাশের শেষে :: শরীফ আহমেদ
মনে প্রেম রাখো :: রতন বসাক
টাপুর টুপুর ছন্দে :: আল জাবিরী
সঞ্চার :: শুভজিৎ দাস
বর্ষা বর্ণন :: আবদুল আলীম তালুকদার
নাচে পুঁটি মা’য় :: মেজু আহমেদ খান
ঝুম বৃষ্টি হোক :: সৈয়দা উলফাত
……………………………………………

বর্ষার জলে মুছে যাক হিংসেরা
মোস্তফা হায়দার

প্রতিদিন বালিশের রঙে তোমাদের গন্ধ পাই
গন্ধরা অনেকটা মাতাল পদ্যে গদ্য সাজায়।
স্রোতের মাতাল হাওয়ায় জীবনের স্বাদ খুঁজি
কদমফুলের বিমুগ্ধতায় বরষার জলে চোখ বুঝি।

ঘর্মাক্ত বালিশের পিঠে তোমাদের ঘ্রাণ ছুটে বেড়ায়
জলের খোপায় সোঁদাগন্ধে বেদনারা ফানসি ওড়ায়।
ইচ্ছের কাছে নতজানু হতে কার না ভালো লাগে!
প্রতিটি ভোরের আলো ভালোবাসায় সবুজ বাগে।

স্নিগ্ধ এক উড়াল হাওয়ায় কবিতারা গন্ধ ভালোবাসে
বর্ষার জলে মুছে যাক হিংসেরা সব আনাচে কানাচে!
ক্ষমতারা নড়েবড়ে বসুক পাতাল পুরীর ইচ্ছে ভুলে
আমি না হয় বালিশ ভুলে সুখ খু্জিবো তোমার চুলে।

তোমরা যারা পার পেয়েছো ইচ্ছে রেখে বোতল মুখে
সবুজ ঘাসে ভেসে উঠবো দুঃখ ভুলে আপন সুখে!
……………………………………………

ঘন বরষায়
তানজারীন ইফফাত স্বাতী

নামিলো ঘন বরষা
চৌদিকে ঘোর আঁধার
পথ নাহি পাই,
চিরচেনা পথঘাট ভেজা
শ্যাওলায় ঢেকে গেছে ডোবাগুলো,
ঘন বরষায় যেন ছাতাটাও সামলে উঠতে পারছে না।
খুব করে হেঁটে চলেছি জোড় কদমে,
পৌঁছুতে হবে!
বাড়ি থেকে বের হয়েছি এক ঝুম বরষায়।
ভেজা শাড়ি ছুপছুপ করছে,
কোথায় যেন বাজছে ঢাক,
পুড়ছে ধূপ।
ধূপের গন্ধ আর মাটির গন্ধ মিলেমিশে একাকার,
অন্তরও পুড়ছে আজ,
এই বৃষ্টি যেন থামছেই না
আরো কিছু পথ হেঁটে যেতে হবে
আজ আমায় গ্রহণ করবে তো?
……………………………………………

অশোকের সন্ধানে
আইরিন সুলতানা লিমা

এখন আষাঢ় মাস
স্নানে স্নানে বেলা ফুরায় তোমার।
তোমার তো তামার শরীর,
আর্দ্রতায় সবুজ প্রলেপ মাখে-
ঢেকে রাখে তোমাকে।
আমি তো খুঁজে খুঁজে নাকাল…
এত সবুজ পৃথ্বী! এত ভিড় সবুজের,
কোথায় যে তোমাকে পাই!
কেন যে এত বৃষ্টিপাত তোমার ওপর?
কেন যে এত অশ্রুপাত আমার ভেতর?
……………………………………………

বিষণ্ন নিস্তব্ধতা
পারভীন আকতার

মাঝে মাঝে এমনিতেই কান্না কিঙ্কর আর্তনাদ করে উঠে।
কোথাও যেন কেউ নেই!
বড়ই একা; নিস্তব্ধতায় বিড়াল লোম উষ্ণ নিঃসঙ্গতা।
অপলক চেয়ে থাকে সাইবেরিয়ার বরফ গলা নদীর মতো।

উদ্ভট ভাবনায় উতালপাতাল যেন সবকিছু ভেঙ্গে ফেলে
অবচেতন ক্ষরিত অভিমান, রুদ্ধ করে দেয় মন কপাট।
কখনোই থামে না বৃষ্টির জলমহলের ঝিরিঝিরি শব্দ।
আঘাতটা বড়ই হৃদয় বিদীর্ণ করা, বিরহের কঙ্কালে গড়া।
বাসনার মায়াকাননে বুনছে বীজ, জোড়া গোলাপ।

হায় অধীষ্ট! কতো বিরহ লেখা আছে ললাটে!
এতো বিরাগ কেন, কী মূলে?
বিরহ মরীচিকা মালঞ্চে আসীন
মেঘ গুড়গুড় বইছে ভারী হাওয়া।
বিষণ্ন আকাশ, মন লোহিত সাগর বুকে বহতা নদী।
অপেক্ষার পালা মুছুক ধূমায়িত রেখা।
উর্বরা ভূমি ভরুক একরাশ ভালোবাসার নির্যাসে।
……………………………………………

আষাঢ়ের আগুন
তৌহিদুর রহমান

হে আষাঢ়!
কি নিয়ে আবার তুমি ফিরে এলে
যা নিয়ে গিয়েছিলে, তাই?

আমি সুনামি দেখতে চাই
আমি দেখতে চাই নুহুর মহাপ্লাবন
আমি দেখতে চাই ভাঙন
দেখতে চাই আষাঢ়ের উন্মত্ততা
হে আষাঢ়!
নতুন কিছু আছে তোমার কাছে?

আর জনগণ !
তাদের সামনে তো বিস্তীর্ণ কবর প্রান্তর!

হে আষাঢ়!
কতই না ভালো হতো,
যদি থাকত তোমার সামনে
ধ্বংসের পর ধ্বংস।

ধ্বংসের পলির মাঝেই তো গর্জে ওঠে
নবজীবনের পুষ্প-পল্লব!
……………………………………………

বর্ষা
প্রিয়াংকা নিয়োগী

এলো বর্ষার পালা,
আষাঢ়ে ও শ্রাবণে ভাসে গা,
চলবে ব্যাঙেদের নাচ ও গানের ধারা,
গাছেদের এখন ভালো করে স্নান করার পালা,
চতুর্দিক জল থৈ থৈ এর আশঙ্কা,
এর মাঝে চলবে ধান বোনা।

বর্ষা মানেই বৃষ্টির পরশ মনে গাথা,
বৃষ্টিতে ভেজা,
ভেলায় চরে একটু মজা।

বর্ষা মানেই,
মেঘলা আবহাওয়ায়
মেঘলা প্রেমে মাতাল হওয়া।
……………………………………………

আষাঢ়ে শ্যামা মেয়ে
নূরজাহান শিল্পী

আষাঢ়ের বরিষণ ভরে ফোঁটায় ফোঁটায়
এমন বাদলা দিনে দমকা হাওয়া আমায় ছুঁয়ে যায়।

বৃষ্টি ধূমল চৌকাঠের চিত্রপটে হলদে ছাতা মাথায়
শ্যামা মেয়ে নেচে উঠে বৃষ্টির ধারায়।

আকাশ স্বাগত জানায় রূপমায় আষাঢ়ের গল্পে,
টুপটাপ শব্দটিপ শুনি বিন্দুর পাতায়
অঙ্গুলির স্পর্শের অল্পে;

অলস দুপুর কেটে যায় শিথিল প্রাণমন বাদলের তানে,
বর্ষায় বিহ্বল শ্যামা মেয়ের নূপুর ভিজে যায় অসময়ের দহনে

উঠোনে বয়ে আষাঢ়ে জলের চরণতলে
ভিজে যায় কদম কেতকী রমণীর চুলে

বৃষ্টির গানে গানে শ্যামা মেয়ে হাসে কদমের অলীক প্রেমে।
পথঘাট বন-বনান্তে ছন্দ জাগানিয়া আষাঢ়ি ঢল নামে

দূরন্ত মেঘপুঞ্জে হরেক কল্পনা এঁকে যায়
শ্যামা মেয়ের নিভৃত নয়নে;
জলপাই রঙ জড়িয়ে আঁচলে আলোর কথন খুঁজে মেঘ কাননে।

সৌর সংসারে বোধের খেলায় হেরে যায় বিরুদ্ধ সময়
তির্যক পথের শেষে স্পৃহার আলিঙ্গনে খুঁজে নেয় উষ্ণ অভিধায়
……………………………………………

বৃষ্টিমধু
মুস্তাফা ইসলাহী

রিমঝিম বৃষ্টির কণা
কবিমন করে আনমনা।
ভাবনার রংধনু দোলে
খসে পড়ে কাগজের কোলে।
কতো ভাবি নেই কোনো মানা
মনে মেলে কবিতারা ডানা।
ভাব ভাষা ছন্দের ঘ্রাণ-
দিয়ে আঁকি কবিতার প্রাণ।

কবিতারা প্রিয়তমা, বধূ
তাই বলি, বৃষ্টিটা মধু।
……………………………………………

আকাশের শেষে
শরীফ আহমেদ

চলো যাই
চলো আমরা হেঁটে যাই
ওই ধূসর মাটির মেঠোপথ ধরে…

চলো যাই বিকেলে ছায়াপড়া
ওই মাঠের মাঝখানে
বসি একসাথে
পাশাপাশি আমরা
বিকেলের শেষে
নীরব স্বপ্নের মতো
শুকনো ঘাসের উপর
তারপর চেয়ে থাকবো আকাশের শেষে…
চলো—
সব কাঁটা পেছনে ফেলে
জীবনের ছবি আঁকি
সারাটা মন জুড়ে
গোধূলির মায়া মাখি।
……………………………………………

মনে প্রেম রাখো
রতন বসাক

ভালোবাসা মমতায় বাঁধা আছে সব
ছেড়ে চলে যেতে হবে মিছে করি রব,
থাকি মোরা মিলেমিশে মন খুলে হেসে
দুখ পেলে কাঁদি আর সুখে যাই ভেসে।

মানবতা নিয়ে চলি পাশে থাকি রোজ
দেখা করে কথা বলে নিই তাঁর খোঁজ,
দিন আসে রাত যায় ভব মাঝে খেলা
গায়ে খেটে কাজ করে কেটে যায় বেলা।

বাধা কভু পেলে পথে স্মরি নাম করে
কিছু ক্ষণ পরে দেখি দুখ যায় সরে,
ভরসাটা বড় কথা ভয় রাখো দূরে
ভাল কাজে ভাল দিন আসে ঠিক ঘুরে।

বিভেদ নয়তো মনে রাখো প্রেম ভরে
সময় হলে পরেই যেতে হবে মরে,
তবে কেন ভাবো এত বাঁচো মন খুলে
দান দাও সেবা করো বিভেদটা ভুলে।

হাসি খুশি রোজ দিন কেটে যাক চলে
পর সুখে নিজ মনে কেন ওঠো জ্বলে?
প্রেম শুধু দিয়ে যাও মন খুশি রবে
আমরা সবাই এক জেনো এই ভবে।
……………………………………………

টাপুর টুপুর ছন্দে
আল জাবিরী

আষাঢ় মাসে বৃষ্টি আসে
টাপুর টুপুর ছন্দে
বৃষ্টি আসে সবুজ দেশে
কদম কেয়ার গন্ধে।

বৃষ্টি আসে সকাল দুপুর
বৃষ্টি আসে রাতে
বৃষ্টি এসে খেলা করে
খোকা খুকুর সাথে।

রিনিক ঝিনিক বৃষ্টি যেন
মিষ্টি মধুর গান
বৃষ্টি দিনে ভেসে আসে
কুহু কুহু তান।

বৃষ্টি আসে বৃষ্টি ঝরে
বৃষ্টি করে খেলা
ঝুমুর ঝুমুর বৃষ্টি দিনে
হরেক ফুলের মেলা।
……………………………………………

সঞ্চার
শুভজিৎ দাস

“বৃষ্টিস্নাত এক বালক ছুটে আসে
গামছার জন্য অপেক্ষা করে।

জলাভূমি সেদিন রাতে বটচারা বুকে বেঁধে রাখে,
পোকা, কাদা, ঝঞ্ঝার থেকে
স্তিমিত অঙ্গে শুধু জলকনা দলীয়ভাবে জমাট বাঁধে;
মেঘেরা ছুটির দিনে বাড়ি ফেরে,
রোদ আসে
সঞ্চার ঘটায় জলীয় বাষ্পের,
শরীরটা কাগজে পরিনত হয়
কাগজটা ধীরে ধীরে ঘাস হয়ে যায়
জলচক্রে যেমন হয়।। “
……………………………………………

বর্ষা বর্ণন
আবদুল আলীম তালুকদার

বৃষ্টি এলো রিম্ ঝিমিয়ে বৃষ্টি পড়ে ঝুম্
খোপের ভেতর পায়রাগুলো ডাকছে বাক্ বাকুম।
উঠোন জুড়ে দুটো মোরগ ঝুটি নেড়ে নেড়ে
জীবন-মরণ করছে লড়াই কে নেয় বিজয় কেড়ে।
ডালিম গাছে চড়ুই ভিজে করছে কিচিরমিচির
বৃষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে পূবালী বয় ঝির্ ঝির্ ।
নিয়ে দলবল বলাকার দল দূরদেশে উড়ে যায়
নিমিষেই তারা আকাশ নীলের দিগন্তে হারায়।
কদম ডালে মাছরাঙাটা তাক্ করে বসে ঠাঁয়
ডোবার জলে ছুঁ মেরে যদি একটা পুঁটি পায়।
কাকেরদল করে কোলাহল পাকা কাঁঠালের ঘ্রাণে
উড়ে উড়ে ঠোকর দিয়ে পেট পুরে মনে প্রাণে।
পুকুর জলে বৃষ্টির ফোঁটা টুপটাপ ঝরে পড়ে
পদ্মপাতায় ব্যাঙের ছানারা কেবলই নড়েচড়ে।
এমনি দিনে রাখাল ছেলেরা চড়ায় গরুর পাল
জেলের দল ধরতে মাছ ফেলছে নদে জাল।
খানিক দূরে সবুজ মাঠে তরুণ যুবার দল
মনের সুখে ভিজে নেয়ে খেলছে যে ফুটবল।
বৃষ্টি এলো শন্ শনিয়ে চারিধার কালো করে
গোধূলিক্ষণে আম কুড়িয়ে শিশুরাও ফিরে ঘরে।
রাত্রি নামে সারা গাঁওময় থামেনা বৃষ্টিধারা
পল্লীজননী বর্ষার সাথে রাত জাগে ঘুমহারা।
……………………………………………

নাচে পুঁটি মা’য়
মেজু আহমেদ খান

আজ সারা দিনভর
ঝর-ঝর ঝর-ঝর
বারিধারা ঝরছে,
টিপটিপ টুপটাপ বৃষ্টির ফোঁটাগুলি
অবিরত পড়ছে
ঝরছে তো ঝরছে।

সূর্যের দেখা নাই সারা দিনমান
গাছ পালা তরু লতা
মাঠ জুড়ে ঘাস মাটি করিছে সেনান।

আষাঢ়ে বাদল নেমে-আসিয়াছে গাঁয়
থৈ থৈ খাল ও বিলে
ছানা পোনা সব মিলে
স্বোল্লাসে গান ধরে নাচে পুঁটি মা’য়।
……………………………………………

ঝুম বৃষ্টি হোক
সৈয়দা উলফাত

তির তির তির
জলের নাচন
সবুজ কচু পাতায়,
বৃষ্টি ফোঁটা খেলছে দেখো
দুষ্টু শিশু মাথায়।
করতলে জলের ফোঁটা
বৃষ্টির ধারাপাত,
তরুণীর মনে বর্ণচ্ছটা।
স্বপ্ন বাড়ায় হাত,
ডালে বসে কাঁপছে দেখো
বৃষ্টি ভেজা জলজ বাতাস,
মনটা ছুঁয়ে যাক
নোনা জলের শোক।