কবিতার জন্মকাল কখন? এক অর্থে কবিতার জন্ম ভাষার জন্মের আগে। সে অর্থে কবিতা মানুষের সমান বয়সী। বলা যায় শ্রমই আদি মানুষকে মানুষ বানিয়েছে। পরিশ্রম করার সময় শ্বাস প্রশ্বাসের ঝোঁক বা ঘাতের সঙ্গে উচ্চারিত হয় কিছু ধ্বনি। সে ধ্বনিগুচ্ছ যখন উচ্চারিত হয় নির্দিষ্ট পর্যায়ে বিরতিতে তখন তৈরী হয় এক ছন্দোস্পন্দিত ধ্বনির মালা। ধ্বনির সমন্বয়েই যেহেতু গড়ন পেয়েছে শব্দ, আর শব্দই যখন কবিতার অন্যতম কাঁচামাল। সেহেতু ওই ছন্দোস্পন্দিত ধ্বনি মালাই কবিতার আদি রূপ, ভ্রণাকার। আজ পর্যন্ত কবিতা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ও সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা সমালোচকগণ না দিতে পারলেও কবিতা সৃষ্টির সেই প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত তাঁরা এর উত্তর সন্ধান করছেন। কবিতার অন্তর্গত বিষয়, তার সৃষ্টিরহস্য ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কবিতা বোদ্ধাগণের প্রচুর মতভেদ ও মতান্তরের অন্ত নেই। কবিতার সৃষ্টিরহস্য নিয়ে মতভেদ থাকলেও কবিতা ও অকবিতা সম্পর্কে তাঁদের কোনো সংশয় ছিল না- এ দুটি বিষয়ের পার্থক্য তাঁরা সবাই বুঝতে পারতেন। আনুমানিক ৯৫০ সালে বাংলা ভাষার প্রথম লেখ্য রূপের সন্ধান পাওয়া যায়। নেপালের রাজ সভায় পাওয়া চর্যাপদই বাংলা কবিতার আদি নিদর্শন। মধ্যযুগে উল্লে¬খযোগ্য কাব্য বড়– চন্ডীদাশের শ্রীকৃষ্ণ কীর্ত্তন কাব্য। যার স্থান হাজার বছরের বাংলা কবিতায় চর্যাপদের পরেই। চন্ডীদাশ ও বিদ্যাপতি ছিলেন সে যুগের শ্রেষ্ঠ কবি। ঈশ্বর বা দেবতার উপস্থিতি ছাড়া কাব্য রচনা সম্ভব নয় বলে মনে করতেন মধ্যযুগের কবিরা। উনবিংশ শতাব্দির গোড়ার দিকে কবিতার বড়ই দুরাবস্থা গিয়েছে। তথাপি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ইশরায় বাংলা পদ্য কালের ইঙ্গিত পেয়েছিল। যে প্রেরণায় তিনি প্রাচীন কবিদের পুনরুজীবিত করতে চেষ্টা করেছেন, তারই বশে তিনি নবীন কবিদের তৈরী করতে চেয়েছিলেন। এই হিসেবেই তিনি যুগসন্ধিক্ষণের কবি। অত:পর তাঁরই শিষ্য রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কাব্যে দেশপ্রেমের বিষয়টি সংযুক্ত করলেন। রঙ্গলালের পদ্মিনী উপাখ্যান আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্য। তাঁর দ্বিতীয় কাব্য কর্মদেবী প্রকাশের পূর্বেই মধুসূদন নবীন কবিতায় যুগান্তর ঘটিয়েছেন। মধুসূদন প্রদর্শিত পথ অবলম্বনে হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীনচন্দ্র সেন কবিতার যথাসাধ্য নতুনত্বের দিকে ঝৌঁক দিয়েছিলেন। যদিও তাঁদের পদ্ধতি ছিল গতানুগতিক। সে সময়ে বিহারীলাল চক্রবর্তী যখন অন্তরঙ্গ গীতিকাব্যের নতুন পথ ধরলেন তখন প্রায় কেহই তাঁর কবিতার তাৎপর্য গ্রহণ করতে পারেনি। উক্ত শতাব্দির আশির কোঠা শেষ হবার পূর্বেই রবীন্দ্র প্রতিভার উদয় হয়। তা না হলে গতানুগতিকতার চক্রাবর্তে অন্তরঙ্গ কবিতার নবীন তরী হয়ত তখনই তলিয়ে যেতো। তিনি আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের সংকীর্ণ ও অকিঞ্চিৎকর বহি বিকাশের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে জীবনের তলদেশে যে নিভৃত ফল্পুধারাটি তা দেখিয়ে দিলেন। দেখালেন সেখানে ঘরের কোণে, নদীর ঘাটে, তুচ্ছ পরিচিত ও আবেষ্টনে কত সহস্র তুচ্ছ ঘটনা খুঁটিনাটি উপলক্ষ করে আমাদের জীবনের বিচিত্র আশা আকাক্সক্ষা অবিরত স্পন্দিত হয়, অসংখ্য ক্ষুদ্র্র বিক্ষোভে আন্দোলিত হয়। দেখলেন যে আমাদের দৈনন্দিন কার্যের মধ্যে সুগভীর ভাবরসে বিধৃত হয়ে আছে। আমাদের বৈচিত্রহীন বাহিরের জীবন কিভাবে বৈচিত্রে ভরপুর করে আবেগে চঞ্চল করে তোলা যায়। রবীন্দ্রনাথ তার কাব্যচিত্তের অপূর্ব সুগভীর সহজানুভূতি ও অর্ন্তদৃষ্টি দিয়ে আমাদের জীবনের এই নিভৃত গোপন প্রবাহটি আবিষ্কার করে তাকে আপন ভাব ও কল্পনায়, রূপে ও রসে আমাদের সামনে মেলে ধরলেন। আমাদের একটি নতুন জীবন ও জগতের সন্ধান দিয়ে বিমুগ্ধ করে তোলেন।
তিনি তাঁর কবিতার জন্মকথা ও উদ্দেশ্য নির্দেশ করে বলেন-
‘অন্তর হ‘তে আহরি বচন
আনন্দলোক করি বিরচন
গীতরসধারা করি সিঞ্চন
সংসার-ধুলিজালে।
অর্থাৎ কবি নিজের অন্তর হতে ‘বচন; বা শব্দসম্ভার সংগ্রহ করে আনন্দলোক সৃষ্টি করেন। অতি সাধারণকে অসাধারণ সৌন্দর্যমন্ডিত করেন এবং যা শুধু ভাবময় ও বিদেহী, তাকে শরীরী বা রূপময় করে তোলেন।
অবশ্যই মাইকেল ও রবীন্দ্রনাথের পাশপাশি হাজার বছরের বাংলা কবিতার সুদীর্ঘ নির্মাণ যাত্রায় যে তৃতীয় নামটি এককভাবে শনাক্তযোগ্য তা হলো কাজী নজরুল ইসলাম। বাঙালির নিজস্ব কাব্যমন্ত্র- “সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই” মানবিক শক্তিমত্তার এই যন্ত্রসঙ্গীতের বাস্তব রূপকার নজরুল বাঙালির সার্বিক মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টাই কেবল নন। তিনি তাঁর প্রান্তমুক্ত ও সম্প্রসারণশীল কাব্যভাষার মাধ্যমে বাংলা কবিতাকে ভবিতব্যের জন্যে অমিত সম্ভাবনাময় করে গেছেন।
তিনি ভালোবাসতেন মানুষকে। মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই নহে কিছু মহিয়ান। কবি বিশ^াস করতেন মানুষ তার অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকুক। জীবন সুখী হোক, সুন্দর হোক, আনন্দময় হোক- এই ছিল তার কামনা। তার সমস্ত কবি জীবনের সদাজাগ্রত সবচেয়ে দীপ্তপ্রেরণার উৎস ছিল শোষণহীন, পীড়নহীন সমাজ। যে সমাজের ন্যায্য প্রতিনিধি মানবতাবোধ সম্পন্ন মানুষ। মানুষের ভেতরই তিনি সন্ধান করেছেন সত্য ও সুন্দরের। তাঁর মানুষ কবিতার কিছু উল্লেখযোগ্য উদ্ধৃতি-তোমাতে রয়েছে সকল ধর্ম সকল যুগাবতার/তোমার হৃদয় বিশ^দেউল/ সকল দেবতার/কেন খুঁজে ফেরো দেবতা ঠাকুর/মৃত পুঁথি কঙ্কালে?/হাসিছেন তিনি অমৃত হিয়ার/নিভৃত অন্তরালে।/ বন্ধু বলিনি ঝুট/ এইখানে এসে লুটাইয়া পড়ে/ সকল রাজমুকুট।/ এই হৃদয়ই যেন নীলাচন, কাশী, মথুরা, বৃন্দাবন/বুদ্ধগয়া এ জেরুজালেম এ / মদিনা কাবাভবন/ মসজিদ এই মন্দির এই/গীর্জা এই হৃদয়/এই খানে ঈশা মুছা পেল/ সত্যের পরিচয়।
তিনি কাব্য রচনায় স্বতন্ত্র মহিমার স্বাক্ষর রেখেছে। ভাষার ঐশ^র্য্য,ে বিষয় বৈচিত্রে, শৈল্পিক নৈপুণ্যে, সর্বোপরি সৃষ্টি মাহাত্মে তাঁর কবিতা সত্যিই মাধুর্যমন্ডিত। বাইরের জগতে মাঝে মাঝে যেমন ঝড় ওঠে মানুষের মনের জগতেও তেমনি। এবং ওঠে একই কারণে।
কোথাও কোন উত্তাপ যখন অস্বাভাবিক ও অসহ্য হয়ে উঠে তখন ঝটিকার প্রচন্ডতার ভেতর দিয়েই অন্তর ও বহিঃপ্রকৃতি তার স্বাভাবিক সামঞ্জস্য ফিরে পাবার প্রয়াস পায়।
প্রেম ও বিদ্রোহের সমন্বয়ে তিনি লিখেছেন- টর্পেডো, ভীম, ভাসমান মাইন এবং শ্যামের হাতের বাঁশিও। তাঁর মাঝে ছিল প্রেম, বিরহ, বিদ্রোহ, সাম্যবাদীতার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। তিনি নিজেই বলেছেন-আমি শুধু সুন্দরের হাতে বীণা, পায়ে পদ্ম ফুলই দেখিনি তার চোখে চোখভরা জলও দেখেছি। শ্মশানের পথে, গোরস্তানের পথে তাকে ক্ষুধা দীর্ণ মত্তিতে ব্যতিত পায়ে চলে যেতে দেখেছি। যুদ্ধভূমিতে দেখেছি, কারাগারের অন্ধকূপে তাকে দেখেছি।

নজুরলের পর বাংলা কবিতার সুদীর্ঘ স্রোতটি এই বিভিন্ন বাঁক ঘুরে ঘুরে এসে পড়েছেন ত্রিশের জীবানন্দনীয় দর্শনের পঞ্চপান্ডব নামে খ্যাত সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে, অমিয় চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন মিত্র প্রমুখ কবিদের হাতে। তাঁদের সোনালী হাতের যাদুর স্পর্শ নিয়ে কবিতার এই স্রোতটি চলে আসে পঞ্চাশ ও তার পরবর্তী দর্শকের কবি বাংলাদেশ পর্বে শামসুর রহমান, আল মাহমুদ, শহীদ কাদরী, সৈয়দ শামসুল হক, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, আলা উদ্দিন আল আজাদ, ফজল শাহাবুদ্দিন, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, আবু বকর সিদ্দিক, ওমর আলী, রফিক আজাদ, হাসান হাফিজুর রহমান, নির্মলেন্দু গুণ, সমুদ্র গুপ্ত, বেলাল চৌধুরী, আসাদ চৌধুরী,অরুণাভ সরকার, অসীম সাহা, আবদুল মান্নান সৈয়দ, আবুল হাসান, আলতাফ হোসেন, আল মুজাহিদী, আসাদ চৌধুরী, ইমরুল চৌধুরী, কাজী রোজী, খালেদা এদিব চৌধুরী, ফরহাদ মজহার, মহাদেব সাহা, মাকিদ হায়দার, মাশুক চৌধুরী, মাহবুব তালুকদার, মুহম্মদ নুরুল হুদা, মোহাম্মদ রফিক, রবিউল হুসাইন, সানাউল হক খান, সযযাদ কাদির, সিকদার আমিনুল হক, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, হায়াৎ মাহমুদ, হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ুন কবির, হেলাল হাফিজ, আবিদ আজাদ, আবিদ আনোয়ার, আবু হাসান শাহরিয়ার, আলম তালুকদার, আসাদ মান্নান, কামাল মাহমুদ, খালিদ হাসান, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, জাহিদ হায়দার, তপঙ্কর চক্রবর্তী, তিতাশ চৌধুরী, ত্রিদিব দস্তিদার, দাউদ হায়দার, দিলারা হাফিজ, নাসিমা সুলতানা, নাসির আহমেদ, ফরিদ আহমদ দুলাল, বিমল গুহ, মতিন বৈরাগী, ময়ূখ চৌধুরী, মাহমুদ কামাল, মোহন রায়হান, মিনার মনসুর, মুস্তাফা মহিউদ্দিন, রবীন্দ্র গোপ, রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ, শাহাবুদ্দীন নাগরী, শিহাব সরকার, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, সোহরাব পাশা প্রমুখের মধ্যে। আর পশ্চিমবঙ্গের শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শঙ্খঘোষ, অলোকরঞ্জন দাশ গুপ্ত, আব্দুল গণি হাজারী, সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত, অমিতাভ দাশ গুপ্ত, বিনয় মজুমদার, অতীন্দ্রিয় পাঠক, অনন্ত দাশ, অঞ্জন কর, অনাময় দত্ত, অভিসেন গুপ্ত, অমরেন্দ্র চক্রবর্তী, অর্ধেন্দু চক্রবর্তী, অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়, অরুণেশ ঘোষ, অশোক চট্টোপাধ্যায়, অশোকদত্ত চৌধুরী, আনন্দ ঘোষ হাজরা, আশিস সান্যাল, উত্তম দাশ, উত্তর বসু, কবিরুল ইসলাম, করুণাসিন্ধু দে, কার্তিক, কালিকৃষ্ণ গুহ, কেদার ভাদুড়ী, গীতা চট্টোপাধ্যায়, চিন্ময়গুহ ঠাকুরতা, তুলসী মুখোপাধ্যায়, তুষার চৌধুরী, তুষার রায়, দীপালি রায়, দীপেন রায়, নির্মল বসাক, নিরেন্দ্র হাজরা, পবিত্র মুখোপাধ্যায়, পরিমল চক্রবর্তী, পরেশ মন্ডল, প্রভাত চৌধুরী, ফিরোজ চৌধুরী, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, বিজয়া মুখোপাধ্যায়, মলয় রায় চৌধুরী, রবীন্দ্র গুহ, রতেœশ^র হাজরা, শংকর দে, সজল বন্দ্যোপাধ্যায়, অজয় নাগ, অজয় সেন, অজিদ বাইরী, অনন্য রায়, অঞ্জন সেন, অনুরাধা মহাপাত্র, অপূর্ব দত্ত, অভিজিৎ ঘোষ, অভিরূপ সরকার, অমল কর, অমিতাভ গুপ্ত, অমিতাভ চৌধুরী, অমিতাভ দাস, অমিতাভ মৈত্র, অমৃত মাইতি, অরণি বসু, অরুণকুমার চক্রবর্তী, অরূপ চৌধুরী, অলোকনাথ মুখোপাধ্যায়, অলকেশ ভট্টাচার্য, অশোক মহান্তী, অশোক রায়চৌধুরী, আবুল বাশার, একরাম আলী, কমল চক্রবর্তী, অসীম কুমার বসু, আবদুস শুকুর খান, জয় গোস্বামী, জ্যোর্তিময় দাশ, তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, তরুণ চৌধুরী, তুষার চৌধুরী, দীপক রায়, নির্মল বসাক, নীর্মল হালদার, পংকজ সাহা, প্রদীপ রায় চৌধুরী, মলয় সিংহ, মৃদুল দাশগুপ্ত প্রমুখের মধ্যে।

আশি ও নব্বই এর দশকে এসে বাংলা কবিতার গভীরে প্রবেশ করেন কিছু কবি। তারা বিশ্ব সাহিত্যের একনিষ্ট পাঠক হয়ে ওঠেন। তাঁরা কবিতাকে জীবনের সার্বক্ষণিক সাথী করে তুলেন এবং অধিক শিল্পসম্মত কবিতা রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। কবিতার শৈলী নন্দন ব্যঞ্জনায় যাদের কবিতা পাঠকদের ভাবিয়ে তুলেছে তাঁরা হলেন বাংলাদেশ পর্যায়ে সমরেশ দেবনাথ, ফরিদ কবির, খোন্দকার আশরাফ হোসেন, রিফাত চৌধুরী, গোলাম কিবরিয়া পিনু, রেজাউদ্দিন স্টালিন, মারুফুল ইসলাম, শফিকুর রাহী, মুহম্মদ সামাদ, আসলাম সানী, সরকার মাসুদ, কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌমিত্র দেব, অঞ্জন সাহা, অমিতাভ পাল, অসীম কুমার দাস, আনিসুল হক, আমিনুর রহমান সুলতান, আবদুল হাই শিকদার, কচি রেজা, কাজল শাহনেওয়াজ, কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ার, খালেদ হামিদী, খালেদ হোসাইন, জাহিদ মুস্তাফা, ঝর্ণা রহমান, তসলিমা নাসরিন, তারিক সুজাত, তাহমিনা কোরাইশী, দারা মাহমুদ, পুলক হাসান, ফরিদ কবির, বদরুল হায়দার, মজিদ মাহমুদ, মারুফ রায়হান, মুহম্মদ সামাদ, রহিমা আখতার কল্পনা, শফিক ইমতিয়াজ, শান্তনু চৌধুরী, শামসুল আরেফিন, শামীমা চৌধুরী, শাহীন রেজা, শিমুল মাহমুদ, শিহাব শাহরিয়ার, শুচি সৈয়দ, শোয়েব শাদাব, সরকার মাসুদ, জয়দুল হোসেন, সাজ্জাদ আরেফিন, সাজ্জাদ শরিফ, সালেম সুলেরী, সুজন হাজারী, সুব্রত আগাস্টিন গোমেজ, অদিতি ফাল্গুনী, অনন্ত জাহিদ, আমীর আজম খান, আমীর খসরু স্বপন, আলফ্রেড খোকন, আহমেদ নকীব, আহমেদ মুজিব, আহমেদ স্বপন, কামরুজ্জামান কামু, খলিল মজিদ, খোকন মাহমুদ, গাজী আলমগীর, গাজী লতিফ, চঞ্চল আশরাফ, জহির হাসান, জাকির আবু জাফর, জাফর আহমেদ রাশেদ, জামশেদ ওয়াজেদ, জুনান নাশিদ, তপন বাগচী, তুষার গায়েন, পরিতোষ হালদার, ফাহিম ফিরোজ, ব্রাত্য রাইসু, বদরে মুনীর, মতিন রায়হান, মাসুদ কবির, মুজিব ইরম, মুজিব মেহেদী, আমির হোসেন, রনজু রাইম, শাকিল রিয়াজ, শান্তা মারিয়া, শামীম রেজা, শামীমা সিদ্দিকী, অনিকেত শামীম, শাহনাজ মুন্নী, শাহীন মোমতাজ, শিবলী মোকতাদির, শৌমিক ছাত্তার, শিবলী সাদিক, শোয়াইব জিবরান, সমর চক্রবর্তী, সরকার আমিন, সাইমন জাকারিয়া, সৈকত হাবিব, সৌমিত্র দেব, আমিনুল ইসলাম, খুরশীদ আলম বাবু, মিলু শামস, রায়তুল্লা কাদেরী বীরেন মুখার্জী, রহমান হেনরী, নয়ন আহমেদ, সায়ীদ আবু বকর, ওমর বিশ^াস, অর্ধেন্দু শর্মা, মহিবুর রহিম, মনসুর আজিজসহ আরো অনেক।
আর ভারত পর্যায়ে অদীপ ঘোষ, অনীক অঞ্জলি দাশ, অপাবৃতা লাহিড়ী, অমর চক্রবর্তী, অমলেন্দু বিশ্বাস, অমিতেশ মাইতি, অরুণাংশ ভট্টাচার্য, অলোক বিশ্বাস, আলিঙ্গন চক্রবর্তী, ঈশিতা ভাদুড়ী, কমলকুমার দত্ত, কাজল চক্রবর্তী, কুমারেশ চক্রবর্তী, দীলিপ দাস, গৌতম কুমারদে, গৌতম ঘোষদস্তিদার, গৌতম দত্ত, গৌতম হাজরা, চিত্তরঞ্জন হীরা, চৈতালী চট্টোপাধ্যায়, জয়দেব বসু, জহর সেন মজুমদার, তরুণ গোস্বামী, তাপস রায়, ধীমান চক্রবর্তী, নরেশ দাস, নাসের হোসেন, নুরুল আমিন বিশ্বাস, পিনাকি ঠাকুর, বিকাশ গায়েন, বিজয় সিংহ, মলয় গোস্বামী, মল্লিকা সেনগুপ্ত, মিহির সরকার, মৃণালকান্তি দাস, রফিক উল ইসলাম, রবিশংকর বল, রূপা দাশগুপ্ত, শেখর আহমেদ, অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়, অধীর কৃষ্ণ মন্ডল, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, অহনা বিশ^াস, অর্ঘ্য মন্ডল, অর্ণব সাহা, অংকুর সাহা, অংশুমান কর, অনিকেত পাত্র, অনিন্দ্য রায়, অনির্বাণ ঘোষ, অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়, অভিজিৎ মিত্র, অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, অভীক মজুমদার, অমিত নাথ, অরিন্দম নিয়োগী অরিন্দম মুখোপাধ্যায়, আবীর সিংহ, আশিস গিরি, আশিস মিশ্র, এস মহিউদ্দিন, কল্যাণ লাহিড়ী, কানাইলাল জানা, কামরুজ্জামান, কুন্তলা মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গুড়িয়া, কৌশিক চক্রবর্তী, চন্দ্রিমা দত্ত, চিরঞ্জিব বসু, ছন্দা চট্টোপাধ্যায়, জয়দীপ চক্রবর্তী, জয়ন্ত বিশ্বাস, জয়ন্ত ভৌমিক, ঠাকুর দাশ চট্টোপাধ্যায়, তমাল লাহা, তরুণ কান্তি বারিক, তাপস কুমার লায়েক, তৈমুর খান, দীপিকা বিশ্বাস, দীপঙ্কর বাগচী, দীপশিখা পোদ্দার, দেবব্রত দত্ত, দেবাশিস প্রধান, নয়ন রায়সহ আরো অনেক।

এখনো এখনও থেমে থাকেনি বাংলা কবিতার গতিপথ। এরপর কবিতার খরস্রোতা নদীটি নিয়ত বয়ে যাচ্ছে শূন্য দশক ও তার পরবর্তী বর্তমান চলতি দশকের কবিদের কলমের পথ ধরে। শূন্য ও চলতি দশকের কবি বাংলাদেশ পর্যায়ে শান্তনু চৌধুরী, বিষ্ণু বিশ্বাস, সুরাইয়া খানম, সেজুতি বড়–য়া, সানাউল হক, চঞ্চল আশরাফ, টোকন ঠাকুর, সমর চক্রবর্তী, প্রত্যয় জসীম, বিজয় আহমেদ, উবায়েদ আকাশ, রুদ্র আরিফ, অচিন্ত চয়ন, অতনু তিয়াস, অদ্বিত্ব শাপলা, অনন্ত সুজন, অনিন্দিতা ইসলাম, অপূর্ব সোহাগ, অবনি অনার্য, অভিজিৎ দাশ, আপন মাহমুদ, আফরোজা সোমা, আমজাদ সুজন, কাফি কামাল, আরণ্যক টিটো, আসমা বীথি, আহমেদ ফিরোজ, ইমতিয়াজ মাহমুদ, ইমরান মাঝি, ইসলাম রফিক, এমরান কবির, কাজি নাসির মামুন, কাফি কামাল, চন্দন চৌধুরী, জাহানারা পারভিন, জাকির জাফরান, জুননু রাইন, তুষার কবির, নওশাদ জামিল, নিতু পূর্ণা, নির্লিপ্ত নয়ন, পিয়াস মজিদ, বদরুন নাহার, সৈম্য সালেক, রফিকুজ্জাম রনি, মনিরুল মনির, এহসানুল ইয়াছিন, রবিউল আলম নবী, শাদমান শাহিদ, কাজী বর্ণাঢ্য, মোহন্ত কাবেরী, মানস সান্যাল, মাসুদ পথিক, মাসুদ হাসান, সীমান্ত মাহমুদ, মুস্তফা তারেক, রুদ্র আরিফ, শুভাশিস সিনহা, সজল আহমেদ, সজল সমুদ্রসহ সম্ভাবনাবান আরো আরো অনেক।
আর ভারত পর্যায়ে অদিতি বসুরায়, অর্ণব পন্ডা, অনাময় কালিন্দী, অনির্বাণ কর, অনির্বাণ দাস, অনির্বাণ পাল, অনির্বাণ মন্ডল, অনিমিখ পাত্র, অনুপম মুখোপাধ্যায়, অনুরাধা বিশ্বাস, অভিজিৎ দাশগুপ্ত, অমিতাভ দাস, অরিত্র সান্যাল, অরিন্দম রায়, অরুণ পাঠক, ইনা রায়, উৎস রায়চৌধুরী, উজ্জ্বলকান্তি প্রামাণিক, ঋত্বিক ত্রিপাঠী, ঐশিক দাসগুপ্ত, কিশোর ঘোষ, কুন্তল মুখোপাধ্যায়, কৃতিসুন্দর পাল, চিন্ময় কুমার দাস, জিয়া হক, জিশান রায়, তারেক কাজী, দীপান্বিতা সরকার, দীপ্তিপ্রকাশ দে, দেবর্ষি সরকার, নির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, পলাশ দে, প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত, মুহম্মদ সামিম, মানিক সাহা, মুজিবর আনসারী, মেঘনাদ ঘোষাল, রজত শুভ মজুমদার, রাজিব ঘোষাল, রাতুল চন্দ্র রায়, শান্তনু প্রধান, শায়ক মুখোপাধ্যায়, শুভাশিস চক্রবর্তী, শুভাশিস ভাদুড়ী, শোভন ভট্টাচার্য, শ্যামল হালদার, সব্যসাচী মজুমদার, সোমনাথ ঘোষাল, সোনালী বেগম, সোমেন মুখোপাধ্যায়, সৌম্য চক্রবর্তীসহ আরো বেশ কিছু উত্তর আধুনিক কবিদের হাত ধরেই বয়ে যাচ্ছে বাংলা কবিতার স্রোতটি।
ধারাবাহিক এই স্রোতধারার প্রবাহে বাংলা কবিতা যেখানটিতে এসে পৌছেছে সেখানে কেমন হবে তার গঠন শৈলী, রীতি প্রকৃতি, পোশাক পরিচ্ছদ, কিংবা তার ঢং উপমা উৎপ্রেক্ষা, তাল লয়, ছন্দ ইত্যাদি। এখনকার কবিতা ঠিক বুঝতে পারিনা। কবিতার বিরুদ্ধে এই অভিযোগের শুরু সেই তিরিশের দশক থেকে। রবীন্দ্রনাথও অনেক কবিদের বলতেন, তোমাদের কবিতা ঠিক বুঝতে পারিনা। একই অভিযোগ নাকি ছিল তিরিশি কবিদেরও পঞ্চাশের
কবিদের বিরুদ্ধে। এর অর্থ সম্ভবত পরের প্রজন্মর কবিদের কাব্য ভাষা বুঝতে পারছিলেন না তাঁরা। কেন পারছিলেন না? আমুল বদলে গিয়েছিল পঞ্চাশের কবিতা তিরিশের কবিতা থেকে? এ বিষয়ে সংশয় আছে। আজ পঞ্চাশের দশক থেকে পঞ্চাশ-ষাট বছরেরও বেশি সময় অতিক্রমের পর এ কথা বলতে পারা যায় নির্দিধায় যে, তিরিশের কবিতা থেকে পঞ্চাশের কবিতার তফাৎ এতোটা ছিল না যে সব কবিতা কমিউনিকেট করতো না তিরিশি কবিদের কাছে। বরং এটা এখন পরিস্কার যে পঞ্চাশের দশকে রচিত অধিকাংশ কবিতা তিরিশি কবিতার সম্প্রসারণ। তারপরেও কেন তিরিশি কবিরা পঞ্চাশের কবিদের বুঝতে পারেননি সে এক রহস্য! অথচ পঞ্চাশের দশকের নব্বই শতাংশ কবিই ছিলেন জীবনানন্দ প্রাণ। অন্যরা কেউ কিছু বুদ্ধদেব কিছুটা সুধীন, কেউবা জীবনানন্দ, বুদ্ধদের ও সুধীন দত্তের যৌগিক।
পঞ্চাশের দশকে মৌলিক কবিতার আর্বিভাব হয়নি। কিন্তু এখন সমস্যাটি আরো মারাত্মক হয়ে উঠেছে। তোমাদের কবিতা বুঝতে পারিনা-এমন পর্যায়ে আর নেই পরিস্থিতি। কবিতায় যখন কবিতারই অভাব হয় তখন সচেতন পাঠক মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য কবিতা থেকে। প্রায় সকল কবিই চাইছেন তার কবিতা আলাদা হয়ে উঠুক অন্য কবিদের চাইতে। হয়ে উঠুক ভিন্ন ধরনের। কেননা তার সময় বদলে গেছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে মানুষের অনেক চারিত্রিক বৈশিষ্টা, বদলে গেছে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি। এমন পরিস্থিতিতে এ সময়ের একজন কবি নতুন ধরনের কবিতা লিখতে চাইছেন এটাই স্বাভাবিক। আর এর ফলে এমনকি যে সব প্রথা কবি এক সময় বিরোধীতা করেছেন নতুন কবিতার তাদেরও অনেকে মেতে উঠেছেন কবিতার ভাষা বদলানোর বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে। তৈরি করেছেন জগৎ ও জীবনের রহস্যকে সুন্দরভাবে রসস্নিগ্ধ করে মনের ভাব, কল্পনা, অনুভূতি যথাবিহিত শব্দ সম্ভারে বাস্তব সুষমামন্ডিত চিত্রাত্মক কবিতা। যেহেতু কবি মন চিরদিনই তরুন। তাই বার্ধক্যের যে লক্ষণগুলো সম্পর্কে আমরা সচেতন-চিন্তার জাড্যতা, নিরীক্ষাবিমুখিতা, স্মৃতিকাতরতা, সর্বোপরি ব্যাপক ঝুঁকি গ্রহণে অপরাগতা এসব লক্ষণগুলি প্রকৃত কবিকে আক্রান্ত করতে ব্যর্থ হয়। তাই নির্মোহ বর্জন আর সাহসি অর্জনের মধ্যে দিয়ে প্রকৃত কবির যাত্রা। এখানেই তার তারুণ্য। অবিরাম অনুসন্ধানী সে। আমরা জানি যে ভাষার বিবর্তন কোনো আকস্মিক ব্যাপার নয়। এটা একটা সময় সাপেক্ষ দীর্ঘ প্রক্রিয়া। বাংলা কবিতার হাজার বছরের পথ পরিক্রমায় আমরা দীর্ঘদিন পরপর এক একটা ব্যাপক পরিবর্তন দেখতে পাই। যে পরিবর্তন মূলত বিষয় নির্বাচনের এবং ভাষাভঙ্গির রচয়িতা বিভিন্ন জন হলেও চর্যাপদের ভাষা একরকম। মঙ্গল কাব্যের ভাষা একরকম। বিষ্ণুর কবিতার ভাষা একরকম এবং রবীন্দ্র প্রভাবিত অনেক কবি যখন রাবীন্দ্রিক ভাষায় প্রচুর কবিতা লিখলেন, তখন সেটাও একটা রকম হিসেবে অবস্থান নিলো।
এরপর রবীন্দ্র ভাষার সেই সুদঢ় বলয় কেটে বেরিয়ে যাবার মেধাবী চেষ্টা এবং তার স্বার্থকতার কথাও আমরা জানি। আলংকরিক অপ্রচলিত সংস্কৃত ঘেষা শব্দাবলীর ব্যাপক বর্জনের মাধ্যমে রবীন্দ্র পরবর্তী ভাষাও বদলে যাওয়ার সুস্পষ্ট লক্ষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি। কবিতার জন্য সরল-সুপ্রচলিত শব্দগুলি বেছে নিলে আঞ্চলিকতা বা অবোধ্যতার দোষ কাটিয়ে সার্বজনিন হয়ে উঠবে। আমাদের কবিতা সেদিকেই যাচ্ছে। পথটা নতুন। তাই আমাদেও সতর্ক হতে হবে। সরলতার ফাঁদে পরে আমাদের কবিতা যেনো অতি সরল না হয়ে পড়ে। কারণ আমাদের কবিতার নারী
হবে-বাহুল্যবর্জিত নিরাবরণ, কিন্তু বিব¯্র নয়, বাঁকে বাঁকে কিছু রহস্য তার থাকবেই। একাডেমী কবিতা বোঝেনা, ছন্দের মাপঝোখ বোঝে। তাই ছন্দবিদরা একাডেমির সাথে বোঝাপড়া সেরে নিক। আমাদের বোঝাপড়া শুধু কবিতার সাথে ।
যেসব পঙতির ঝড় আমাদের চেনা ধারনাকে, আকড়ে থাকা দৃষ্টিভঙ্গীকে, অভ্যস্থ অনুভবকে নাড়িয়ে দেয় নাড়িয়ে
দিতে পারে, সেসবই আমার কাছে নতুন কবিতা। তা হতে পারে ২০০ বছর আগের অথবা সাম্প্রতিক কোন কবির রচনা।
আর পুরনো কবিতা আমি তাকেই বলব যা আমাদের নাড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হয়।
একটি কবিতার কোনদিক থেকেই একজন পাঠকের মর্মস্পর্শ করছেনা: শব্দ ব্যবহার, উপমা, উৎপ্রেক্ষা, চিত্রকল্প, বিষয়ের অভিনবত্ব, চেতনার আশ্চর্য উৎসারণ কিংবা অনুভূতির উজ্জ্বল উপস্থিতি, কোন কিছুতেই না, এটাকে বার্ধক্য বা জরাগ্রস্থিতা বলা যেতে পারে। মূলত কবিতায় প্রয়োজন পাঠককে কবিতার ভেতরে প্রবেশ করানোর ক্ষমতা। তার মানে এই নয় যে অভিধান ঘেঁটে শব্দকে জটিল করে তোলা। কবিতা যান্ত্রিক নয়। কবিতা হৃদয় নিঃসৃত। অভিধানিক, যান্ত্রিক, প্রাণহীন কবিতার পক্ষে আমি নই। মোট কথা যে কবিতাটি পূর্ণগঠিত নয় অর্থাৎ তিরিশ বছর আগে যেভাবে লিখা হয়েছিল এখনো অনেকটা সেভাবেই, সেই ঢঙেই লেখা হয়েছে সেটাই পুরোনো কবিতা। সমকালীন বিষয়ের মধ্য দিয়ে, নতুুন চোখে, নতুন চিন্তায় অতীতকে দেখার নামই নতুনত্ব। সময়ের নির্মম আঘাতকে সামলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সে কবিতাই নতুন। সার সংক্ষেপে বলতে পারি কবিতার এতসব রং-ঢং, চলন-বলন, গঠন শেলী, উপমা, উৎপ্রেক্ষা, ধরন, চিন্তাশীলতা, বাঁক পরিবর্তনের স্রোতধারা বুঝতে হলে আমাদের পড়তে হবে প্রচুর। সেই চর্যাপদ থেকে শুরু করে মধ্যযুগের শ্রী-কৃষ্ণ লীলা, মঙ্গল কাব্য, বৈষ্ণব কাব্য, মাইকেল,
রবীন্দ্রনাথ, তিরিশের পঞ্চপান্ডবদের কবিতা, পঞ্চাশ ও তার পরবর্তী দশকের কবিদের কবিতা, শামসুর রাহমান, শঙ্খ ঘোষ, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, আল মাহমুদ, শহীদ কাদরী, সৈয়দ শামসুল হক, আবু জাফর উবায়ল্লাহ, আলাউদ্দিন আল আজাদ, ফজল শাহাবুদ্দিন, সুনীল গঙ্গাপাধ্যায় সহ শূন্য ও বর্তমান চলতি দশকের কবিদের লেখা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন দৈনিকের প্রচুর সাহিত্য পাতা ও লিটল ম্যাগাজিনগুলি। অর্থাৎ নিয়মিত পাঠাভ্যাসই একজন কবিকে পৌঁছে দিবে তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে।