ইংরেজ বেনিয়াদের ষড়যন্ত্রের কাছে বাংলার শেষ নবাব সিরাজদ্দৌল্লাহ ২৩ জুন ১৭৫৭ সালের পলাশী যুদ্ধে হেরে যাবার পর বাঙালি মুসলমান সমাজের উপর নেমে আসে ঘোর অনামিশা। প্রথম দিকে হিন্দু সম্প্রদায় ইংরেজদের সমর্থন করে এবং তাদের আনুকূল্য লাভ করে শিক্ষা ও চাকুরিতে নিরঙ্কুশ প্রধান্য বিস্তার করে। মুসলমানরা যেমন ইংরেজদের নানা ষড়যন্ত্র ও নির্যাতনের শিকার হয়ে নি:স্ব হয়ে ওঠে তেমনি নিজেদের অদূরর্দর্শী সিদ্ধান্তের ফলে হিন্দু সম্প্রদায়ের তুলনায় একেবারে কোণঠাসা অবস্থায় চলে যায়। উনবিংশ শতাব্দীতে স্থানীয় হিন্দুদের একটি অংশ উপলব্দি করতে পারে ইংরেজরা ধর্মীয় প্রভাব বিস্তারে মিশনারীজদের মাধ্যমে নানা প্রয়াস চালাচ্ছে এবং হিন্দু ধর্মকে সংকুচিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে ১৮৫৭ সালে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে স্বাধীনতাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। বরং এ পরাজয়ের কারণে শুধু বাংলা নয় পুরো ভারতবর্ষ ইংরেজদের করতলে পদদলিত হয় এবং বৃটিশ রাজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইংরেজ রাজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও হিন্দুরা নানাভাবে এগিয়ে চলছিল। কিন্তু পশ্চাদপৎ মুসলিম সমাজকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কোন মুসলামনদের পক্ষ থেকে যেমন বড় কোন উদ্যোগ যেমন ছিলনা তেমনি বৃটিশ শাসকদেরও কোন কার্যকর ভুমিকা না থাকায় দিনে দিনে মুসলমানরা শেষ হয়ে যাচ্ছিল। ঠিক সে সময়ে অর্থাৎ ১৮৬৩ সালে নওয়াব আবদুল লতিফ মোহামেডান সোসাইটি গঠন করেন। এ সোসাইটি পিছিয়ে পড়া মুসলমান সমাজকে ফতোয়ার হাত থেকে মুসলমানদেরকে বের করে নিয়ে এসে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জগতেও মুসলমানদের এগিয়ে নেয়ার কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যার ফলশ্রুতিতে উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দু’দশকে বাঙালি মুসলমান তথা ভারতীয় মুসলমানরা বেশ ভালভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয় এবং নতুন করে মুসলমানদের এগিয়ে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ করার সুযোগ পায়।
১৯৩০ সালের ত্রিশের দশকে মোহামেডান স্পোর্টিং পরপর পাঁচ বছর ফুটবল লীগে বিজয়ী হয়। আর বিজয়ের ফলে “সারা বাংলার আকাশ-বাতাস তখন মোহামেডান স্পোর্টিং জিন্দাবাদ ধ্বনিতে মুখরিত। এদের খেলায় জয়লাভের জন্য গ্রামে মুসলমানদের রোজা রাখতে দেখেছি। খেলা দেখার জন্য দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া থেকে দলে দলে মুসলমানরা আসতো। বাংলার মুসলমানদের জাগরণের মূলে মোহামেডান স্পোর্টিং-এর খেলার অবদান যে কত বিরাট, ভবিষ্যতের ঐতিহাসিকরা নিশ্চয়ই সে কথা ভুলে যাবে না।’
নজরুল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরপর বিজয়কে নিয়ে ‘মোবারকবাদ’ নামে একটি সুন্দর কবিতা রচনা করেন। কবিতাটি নিম্নরূপ:
এই ভারতের অবনত শিরে তোমরা পরালে তাজ,
সুযোগ পাইলে শক্তিতে মোরা অজেয় দেখালে আজ।
একি অভিনব কীর্তি রাখলে নিরাশা-বাদীর দেশে,
আধাঁর গগনে আশার ঈদের চাঁদ উঠিল যে হেসে।
আনলে শুক্লা একাদশী তিনি একাদশ খেলোয়াড়,
আবার ঝলকি উঠিল খালেদ তারেকের তলোয়ার।
শুষ্ক মনের সাহারা যেন দজলা ফোরাত বহে,
পিঁজরার বুলবুল বসরার গোলাবের কথা কহে।
বিড়িওয়ালাও দেখিয়াছে যেন ফিরদৌসের সিঁড়ি।
যেন, মজনু দেখেছে লায়লীরে, ফরহাদ দেখেয়াছে শিরী।
বীর খেলোয়াড়ী মনোবৃত্তির দিলে নব পরিচয়,
মালা দিলে সেই বিজয়ীর, যার সাথে হল পরাজয়।
হিন্দু-মুসলমানদের তোমার ভারতে রেখেছ মান,
শক্তি যাহার দেখেছে মানুষ তাহাদেরি দেয় প্রাণ।
যে চরণ দিয়ে ফুটবল নিয়ে জাগাইলে বিস্ময়,
সেই চরণের শক্তি জাগুক আঁধার ভারতময়।
এমনি চরণ-আঘাতে মোদের বন্ধন ভয়-ডর
লাথি মেরে মোরা দূর করি যেন, আল্লাহ-আকবার।

এখানে নজরুল কেবল খেলায় বিজয়ী হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশে সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ভারতে দীর্ঘকাল হিন্দু-মুসলমানদের ভ্রাতৃত্বের জয়গান যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৃটিশ ঔপনিবেশবাদীদের হটিয়ে ভারত থেকে বিতাড়িত করার অনুপ্রেরণাও দিয়েছেন।

এমন অসংখ্য গান নজরুল রচনা করেছেন যেখানে তিনি স্থানীয় মুসলমানদের সামান্য সাফল্য ও উদ্যোগকে স্বাগত এবং উৎসাহ জানিয়ে জাগরণের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে সত্য কলকাতার গ্রামোফোন কোম্পানিসহ ভারতীয় সব কোম্পানি ইসলামী সঙ্গীত বা মুসলমানদের প্রশংসাসূচক কোন অনুষ্ঠান প্রচারে অনীহা দেখিয়েছে। শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ ও কাজী নজরুল ইসলামের কারণে গ্রামোফোন কোম্পানি যখন তার ব্যবসায়িক সাফল্যের শিখরে তখনও তারা অনীহা দেখিয়েছে। তখন কোম্পানির হেন আচরণের হেতু মূল্যায়ন করে আসাদুল হক বললেন, ‘বিষয়গুলোকে এভাবে তুলনা করা যায় : ১. সমকালে বৃটিশ বেনীয়া পরিচালিত গ্রামোফোন কোম্পানি হলেও যাঁরা কর্মকর্তা তাঁরা ছিলেন হিন্দু-তাঁরা কিছুতেই চান নি ইসলামী গান প্রসার লাভ করুক ২. কেমন করে গান দু’টো রেকর্ডে বাণীবদ্ধ করা হয়েছিল ৩. গানের সাথে শুধু হারমোনিয়াম আর তবলা ব্যবহার করা হয়েছিল।’ (আসাদুল হকঃ ইমলামী ঐতিহ্যে নজরুল সঙ্গীত, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা, জানুয়ারি ২০০০: ৫)

ইসলামী সঙ্গীত রচনা করে গ্রামোফোনকে ব্যবসায়িক সাফল্য এনে দেয়া বা নিজেকে সবার কাছে পরিচিত করে তোলা নজরলের লক্ষ্য ছিল না। তিনি অর্ধচেতন বাঙালী মুসলমানকে জাগাবার জন্য লিখলেন:
১. আজি কোথায় তখত্-তাউস
কোথায় সে বাদশাাহী
কাঁদিয়া জানায় মুসলিম
ফরিয়াদ ইয়া এলাহী॥
২. দিকে দিকে পুনঃ জ্বলিয়া উঠেছে
দীন-ই-ইসলামী লাল মশাল
ওরে বে-খবর, তুইও ওঠ জেগে
তুইও তোর প্রাণ-প্রদীপ জ্বাল্॥

তবে আব্বাসউদ্দীন আহমদের বক্তব্য মতে কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম ইসলামী সঙ্গীত হচ্ছে ‘ও মন, রমজানের ঐ রোজার শেষে/ইসলামের ঐ সওদা লয়ে’। এ গানটি প্রকাশিত হবার পর বাঙ্গালী মুসলমান এমনভাবে জেগে উঠেছে হাটে ঘাটে সর্বত্র কেবল মুখে মুখে এর গুন গুন সুর বেজে উঠল। হৃদয়ের স্পন্দন এমনভাবে জেগে উঠল, যার ফলে যে বাঙালি সমাজ ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রদের কারণে চুড়ান্তরূপে পশ্চাদমূখী হয়ে গিয়েছিল তারা নতুন রাস্তার সন্ধান ফেল। সুতরাং এ গানটি নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ করে বাঙালি মুসলমানকে অধিকার আদায়ে রাজনৈতিক কৌশল প্রণয়নে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

নজরুলের এ জয়জয়কার সাফল্যে হিন্দুরাও আকৃষ্ট হয়েছিল ব্যপকভাবে। এ প্রসঙ্গে আসাদুল হকের প্রামাণ্য প্রণিধানযোগ্য। তার মতে, ‘নজরুল রচিত বাংলা ইসলামী গান বাঙালি মুসলিম সমাজের উপরে প্রভাব বিস্তার করে এবং এ ধরনের গানের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তখনকার দিনে বাংলা ইসলামী গান রচনা করার মতো কোন গীতিকারও ছিল না, তাছাড়া মুসলমান শিল্পী-সংখ্যাও ছিল কম। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় যে হিন্দু কোন গীতিকার দ্বারা বাংলা ভাষায় ইসলামী গান রচনা করার কোন প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়নি। হিন্দু গীতিকাররা কোন গান রচনা না করলেও হিন্দু শিল্পীরা তাদের নাম বদল করে বাংলায় রচিত মুসলিম ঐতিহ্যপূর্ণ গান গাইতে শুরু করেন। অনুসন্ধান করে জানা যায় ধীরেন দাস নাম লিখেন ‘গণি মিয়া’, ‘চিত্ত রায়’ সাজলেন ‘দেলোয়ার হোসেন’, ‘আশ্চর্যময়ী দাসী’ নাম নিলেন ‘আমিনা বেগম’, ‘হরিমতী’ হলেন ‘সকিনা বেগম’, গিরীন চক্রবর্তী হলেন ‘সোনা মিয়া’ এবং ‘সুজনমাঝি’। আরো জানা যায় নীলিমা ব্যানার্জী হয়েছিলেন ‘নিলিম খাতুন’, ‘দুলী বিবি’ নাম নিয়েছিলেন ঢাকার শিল্পী ‘সীতা দেবী’। এ সব নাম ছাড়াও কলকাতা বেতারের মুখপাত্র বেতার জগতের পাতা থেকে বেশ কয়েকজন মুসলমান শিল্পীর নাম পাওয়া যায়। এরা সত্যি মুসলমান ছিলেন কিনা তা সঠিক জানা সম্ভব হয়নি। হতে পারে কোন হিন্দু শিল্পী ইসলামী বাংলা গান প্রচারের সময় তিনি মুসলমান নামে তাঁর গান প্রচার করতেন। যে নামগুলো বেতার জগতের পাতায় পাওয়া যায় যথাক্রমে ১. লালীয়া বিবি ২. নান্নী জান ৩. রাবেয়া খাতুন ৪. দুদু মিয়া ৫. ফতে মোহাম্মদ ইত্যাদি। এভাবেই বাংলা ইসলামী গান গাইবার শিল্পী সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।’

নজরুল তাঁর কাব্য ও সঙ্গীতের মাধ্যমে বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে ঘুমন্ত বাঙালি মুসলিম জাতিকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন। ঠিক সমভাবে তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষ করে বাংলায় দীর্ঘকাল ধরে হিন্দু-মুসলমানদের যে ঐক্যবদ্ধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান ছিল যা বৃটিশ কূটচালে তছনছ হয়ে যায় তা পুনোরুদ্ধারে কাজে লাগিয়েছেন। তিনি এটি মানবতাবাদী হয়ে নয় বরং ইমলামী জ্ঞানের তথা শিক্ষার আলোকে করেছেন। কেননা ইসলাম সাম্যবাদ ও সহাবস্থানকে সমর্থন করে। নজরুল নিজেও এমন দাবী করে বলেন, ‘আমাদের গভীর বিশ্বাস হিন্দু-মুসলমানের মিলনের প্রধান অন্তরায় হইতেছে এই ছোঁয়াছুয়ির জঘণ্য ব্যাপারটাই। ইহা যে কোন ধর্মের অঙ্গ হইতে পারে না, তাহা কোন ধর্ম সম্বন্ধে গভীর জ্ঞান না থাকিলেও আমরা জোর করিয়া বলিতে পারি। কেননা একটা ধর্ম কখনো এত সংকীর্ণ অনুদার হইতে পারে না। ধর্ম সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং সত্য চিরদিনই বিশ্বের সকলের কাছে সমান সত্য। এখানেই বুঝা যায় যে, কোন ধর্ম শুধু কোন এক বিশিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য নয়, তাহা বিশ্বের। আর এই ছুৎ মার্গ যখন ধর্মের নয়, তখন নিশ্চয়ই ইহা মানুষের সৃষ্টি বা খোদার উপর খোদ্কারী। মানুষের সৃষ্টির শৃঙ্খলা বা সমাজ বন্ধন সাময়িক সত্য হইতে পারে কিন্তু তাহা তো শাশ্বত সত্য হইতে পারে না।’

উসমানীয় শাসনের পতনের পর থেকেই মুসলমানরা বিশ্বে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। এ পড়ার কারণ তিনি বেশ কয়েকটি কবিতায় উল্লেখ করেন। ‘ভুবন জয়ী তোরা কি সেই’ গানে বললেন,
ভুবন-জয়ী তোরা কি হায়, সেই মুসলমান।
খোদার রাহে আন্ল যারা দুনিয়া না-ফরমান।।

এশিয়া য়ুরোপ আফ্রিকাতে যাহাদের তক্বীর
হুঙ্কারিল, উড়ল যাদের বিজয়-নিশান।।

যাদের নাঙ্গা তলোয়ারের শক্তিতে সেদিন
পারস্য আর রোম রাজত্ব হইল খান্ খান্ ।।
. . .
যাদের নবী কম্লিওয়ালা শাহানশাহ হয়ে
আজকে তা’রা বিলাস-ভোগের খুলেছে দোকান।।

সিংহ-শাবক ভুলে আছিস্ শৃগালের লে,
দুনিয়া আবার পায়ে কি তোর হবে কম্পমান।।

একই ধারাবাহিকতায় তিনি রচনা করলেন ‘কোথা সে মুসলমান’ গানটি। যেখানে তিনি মুসলমানদের জন্য আক্ষেপ করে বললেন,
আল্লাহ্তে যাঁ’র পূর্ণ ইমান, কোথা সে মুসলমান
কোথা সে আরিফ, অভেদ যাঁহার জীবন মৃত্যু-জ্ঞান।।
যাঁর মুখে শুনি’ তৌহীদের কালাম
ভয়ে মৃত্যুও করিত সালাম;
যাঁর দীন্ দীন্ রবে কাঁপিত দুনিয়া জিন্-পরী ইন্সান।।
স্ত্রী-পুত্রে আল্লারে সঁপি জেহাদে যে নির্ভীক
হেসে’ কোরবাণী দিত প্রাণ হায়, আজ তা’রা মাগে ভিখ্!
কোথা সে শিক্ষা আল্লাহ্ ছাড়া
ত্রিভুবনে ভয় করিত না যা’রা,
আজাদ করিতে এসেছিল যা’রা সাথে ল’য়ে র্কোআন।

‘আমরা সেই সে জাতি’ গানে তিনি আরও বললেন,
ধর্ম্মের পথে শহীদ যাহারা আমরা সেই সে জাতি।
সাম্য মৈত্রী এনেছি আমরা বিশ্বে করেছি জ্ঞাতি-
আমরা সেই সে জাতি।।
. . .
কেবল মুসলমানের লাগিয়া আসেনি’ক ইসলাম
সত্যে যে চায়, আল্লায় মানে, মুস্লিম তা’রি নাম।
আমির-ফকির ভেদ নেই, সবে ভাই সব এক সাথী।
আমরা সেই সে জাতি।।
নারীরে প্রথম দিয়াছি মুক্তি নরসম অধিকার
মানুষের গড়া প্রাচীর ভাঙিয়া করিয়াছি একাকার,
আঁধার রাতের র্বোখা উতারি’ এনেছি আশার বাতি।
আমরা সেই সে জাতি।।

বাঙালি মুসলমান যখন ঔপনিবেশক বৃটিশ ও স্থানীয় হিন্দুদের আক্রোশে দিশেহারা এবং সেখান থেকে মুক্তির জন্য কিছু মুসলিম নেতা বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিরোধের কাজ করছিলেন তখনই নজরুলের ধুমকেতুর মত আর্বিভাব ঘটে। তিনি বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে ইসলামের ঐতিহ্যকে তুলে ধরেনযেন তারা ধীরে ধীরে জেগে ওঠে। পরবর্তীতে সবার প্রয়াসকে আলোকিত করে উদ্দীপন সৃষ্টি করেন যেন জাগরণ সৃষ্টি হয়। সে জাগরণ লুপ্ত জাতীয়তাবাদকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যায়। যার প্রেক্ষিতে বাঙালি মুসলিম আজ স্বাধীন।