মা ও বাবার মুখ

ছোট্টকালে আমি যখন টু-থ্রি-তে পড়ি
স্কুল ড্রেসের সঙ্গে আমার হাতে ছিল ঘড়ি।
খাকি রঙের স্কুল ড্রেস- পাঁচ টাকা যার দাম
ভালো ছাত্রের ভালো পোশাক স্যাররা নিত নাম
রাত্রি জেগে পড়াশোনা- পড়তে পড়তে ভোর
খুব সকালে সূর্য তখন খুলত ঘরের দোর।
সব কাসে প্রথম ছিলাম- সব বিষয়ে ভালো
তাইতো ছিলাম মায়ের প্রিয় বাবার চোখের আলো।
খাবার ঘরে ঢুকে বাবা বলতো হেসে মাকে-
আমাকে নয়- বড় মাছটা দিয়ো কিন্তু তাকে।
ভালো পোশাক ভালো খাবার ভালো জুতা জোড়া
দামি টেবিল দামি চেয়ার এবং বেতের মোড়া
না চাইতেই দিতেন বাবা- একটা শুধু শর্ত
দেখে শুনে চলতে হবে- সব ধরনের গর্ত!
বাবার স্নেহ মায়ের আদরে তাই করেছি আমি
আকাশ দেখে পাখির মতো উড়ছি দিবস যামী।
আর মেতেছি শব্দ খেলায়- শব্দ আমার সুখ
শব্দ আমার জীবন মরণ মা ও বাবার মুখ।
……………………………………………

আলোকিত অভিধায়

শরতের কাশ ফুল
পেজা তূলো-সাদা চুল,
দোল খেলে- কবিমন
মেঘ হয়ে উড়ে
ঘন নীল নীলিমায়
লাখো পরী উড়ে যায়
জোছ্নায় রঙ মেখে
দূর থেকে দূরে।

শাপলারা দোল খায়
ধান শীষ বোল পায়,
কথা কয় ফিস্ ফিস্
বাতাসের কানে
হেসে উঠে বন বীথি
পাখিদের গানে প্রীতি,
শিউলীর মালা গেঁথে
খুকু মাতে গানে।

বাউলেরা গান গায়
দাদী নানী পান খায়,
মা মাসীর প্রাণে সুখ
জাগে উল্লাস!
গড়ে উঠে খেলাঘর
পুতুলের আসে বর,
শিশিরেরা চম্কায়!
বায়ে দোলে ঘাস।
প্রীতি মাখা দিন তাই
নেই কোন চিন্তা-ই
সুখ সুখ অনুভব
সেরা দিন ক্ষণ
ভাব অতি মাত্রায়
ভাবনারা সাঁত্রায়,
আলোকিত অভিধায়
নাচে প্রাণ মন!
……………………………………………

ছড়া

এক.
ছোট্টকালে ছোট্ট কথা
ছোট্ট হাসি আকুলতা
কথায় হাসি কথায় গান
মায়ের হাসি অফুরান।
ছোট্ট মুখে ছোট্ট ছড়া
ছড়ায় প্রিয় ছবির পড়া,
ছবির পড়া মায়ের মুখ
মায়ের হাসি পরম সুখ।
ছোট্ট দেশ ছোট্ট মাঠ
মাঠের শেষে কথার হাট
কথার হাট পাখির বন
মায়ের হাসি জুড়ায় মন।

দুই.
খোকার মুখে মায়ের ছড়া
খুকুর মুখে ছবির পড়া
ছবির পড়া ছন্দে গড়া
মায়ের প্রিয় হাসি ভরা।

উৎসবে রঙিন

চৈত্র মাসের শেষ বিকেলে
রাঙিয়ে আকাশ খানি
নতুন দিনের আগমনী সুর
জাগায় আশার বাণী।
বট পাতাতে দাওয়াত নামা-
আল্পনা হয় আঁকা
ঝড়ো হাওয়ায় বাতাস করে
লক্ষ তালের পাখা।
শখের খাবার পান্তা ইলিশ-
গানে জমে মেলা
যোগ-বিয়োগের হালখাতাতে
গল্পে কাটে বেলা।
আম মউ মউ দিনের আভাস-
জাম মউ মউ দিন
বাঙালিদের বর্ষবরণ
উৎসবে রঙিন।
……………………………………………

বিজলী ফুল

হাওয়ায় উড়ে মেঘের চুল
মেঘের চুলে বিজলী ফুল
বিজলী ফুলের রঙটা কড়া
হাত দিয়ে যা’ যায় না ধরা
যায় না ধরা বোঁটা তার
ধর্ম নাকি ওটা তার।
……………………………………………

পাহাড়ী ঢল

পাহাড়ী ঢল বৃষ্টিতে
কথা ও সুর সৃষ্টিতে
শৈল প্রপাত ছলাৎ ছল
দিচ্ছে ঢেলে শীতল জল
পাহাড়ী জুম কৃষ্টিতে।
……………………………………………

চিম্বক পাহাড়ে

ওই চিম্বক পাহাড়ে
ভিজছে কারা আহারে!
বৃষ্টি পড়ে জ্যান্ত ছাতায়
পাহাড়ী ঢল পাহাড় মাতায়!
সেই বৃষ্টিতে গল্প জমায়
ফুলের সাথে নাহারে।
……………………………………………

বিজয়ের জন্য

বিজয়ের ইতিহাস বিজয়ের তন্ত্র
আমাদের বুকে বুকে বিজয়ের মন্ত্র
বিজয়ের মালা নিতে মরে হই ধন্য
মরে মরে বেঁচে থাকি বিজয়ের জন্য।
……………………………………………

চিত্র

দেশ যখন কারাগার
পথ খুঁজি ফের দাঁড়াবার।
স্বাধীন জীবন-ঘূর্ণি ঝড়
সবাই আপন সবাই পর।
আপন পরের চিত্রশালা
দেখে মনের বাড়ে জ্বালা।
……………………………………………

তন্ত্র-মন্ত্র

কণ্ঠে ঝাঁজ রক্তে আগুন
ঘরে ঘরে ক্রোধের ফাগুন
ঝড়ের বেশে আবার আসুক
এ মাটি মা আবার হাসুক।
তন্ত্র মন্ত্র বুঝের বাজি
মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী।