মানুষ চিনো মানুষ ভজো

টুকটাক কথাবার্তা, চুপচাপ তালে গম্ভীরতা
নেটে আসে সবুজ বাতি
কি যেন কি কথা হয়, প্রেমী’রা পাগল সদাশয়
কথায় ভিতরেই ঘাটতি ?
সততার নেই বালাই, আছে শুধু নিজকে দাঁড়াই
স্বভাবটায় যেন মহামতি !

যেন এক বাদাম খোসা, টিপে বাদাম খেয়ে খাসা
এটাই কি চরিত্রের গতি ?
এক মুখে রঙবেরঙ কথা, সময়ের ব্যবধানে বৃথা
মুখোশধারী’র ভীমরতি
নাকি মানুষ না অমানুষ,চোখ নাক মুখ রূপে মানুষ,
সংগত কারণেই পিরিতি !

ধর্মের মর্মে চলমান কর্ম, মিল-অমিল অহেতুক বর্ম
বহুরূপ চলনে ঘরপতি
চোখ ইশারা এমনি ধারা, অভিনয়ে মানুষকে মারা
এই হলো চরিত্র সারথি
যুগযুগান্তর দেখি অন্তর, মানুষ খোঁজতে দেশান্তর
সামনে যিনি তিনিই সাথি !
…………………………………………..

সাদা কালো রঙের ভেলা

সাদা-কালো সাম্পানে লাগছে ঢেউ
উথালপাতাল রঙখেলা
হোলি উৎসব চলছে, অবেলা সুসভ্যা ঊর্মিলা নাচে
দাঁত বের করা গোপীমোহন,
ভ্রু কুঁচকে সাদা চামড়ায় সোনালী ঢেউ
নদী থেকে নদী, নদী থেকে সাগরে রক্তগঙ্গা
ঢেউ থামেনি, ঢেউয়ে সখ্যতা অনেক পুরানো কথা
দামাল লড়াকু লড়ে যায়, অধিকারের শৈলী ব্যাথা।

বাচাল ধাঁধায় দামামা’য় সভ্যতার ভাঙা ঢোল
বাউলিয়ানা খেলায়,
শ্বাসচাপে নাকে রক্ত, মুখে রক্ত, দম বন্ধ ঢেউ।
হিমাগারে ঘুমায় শান্তি’র ফাইল
লাল ফিতায় বন্দী করা বিশ্বশান্তি কেবিনেটে
সাদা ঘরে ফিনকি রক্তের ছিটায়
ভরে যায় মানবতার সাদা শার্টখানি।

ন্যায্য-অন্যায্য, পতিত-দলিত, অপার্থিব নির্যাতন
সংখ্যালঘু, কালো মানুষ কালো চোখভাষা শোধন,

পদলেহিত পাচাটা, অবগুণ্ঠিত সভ্যতার অধঃপতন
দানব পৈশাচিক কত আর সংখ্যালঘু হবে নির্যাতন
বিশ্ব মানববুদ্ধি কূটকচালে বিব্রত বিভ্রাট মানবতা
ন্যাংটা অত্যাচার নির্বিচার আজব উৎসবে বর্বরতা।

সময় আছে এখনো প্রিয়ে
একটু মিশানো মানব ঘি’য়ে
সাদা-কালো রঙের ভেলা
ভাসাও আজি সুসভ্য ঢালা।
…………………………………………..

পাপের কাহিনী

মনের খোরাক ক্ষুধায় নয়তো
একেবারে টাসটাস স্পৃহা
ভাতের অভাব নয়তো কাঙাল
সুখের মরীচিকা বিদিশা।

স্বজন পোষণ নেটে ভাইরাল
শুভঙ্কর আরব্য রজনী
রাতের শোষক অনিদ্রা যাপন
দিবাকর বাসর চাঁদনী।

সুধীজন মরে গণ্ডমূর্খে রতি
চলে রোদওঠা কানাকানি
অভিষিক্ত মন সন্ধের প্রদীপ
নিষ্প্রভ প্রকাশে জানাজানি।

পাপের সিন্দুক খুলবে যখন
ভাসবে ভাসবার কাহিনী
সত্যতা ভজন কঠিন তপস্যা
শতকষ্টে পায় অন্তর্যামী।
…………………………………………..

আঁটটকোরা গোধূলী

আঁটকোরা গোধূলী বেপরোয়া রঙ
চোখে ভাষায় ধরে সঙ
আস্তিক-নাস্তিক মিলেও পাচ্ছেনা
চরিত্র শিরোনামহীন ঢং।

হেমলক পেয় জীবন্ত যুবক নাচা
জলসায় ত্রিভঙ্গ সাধনা
দিনদিন প্রতিদিন চলে গবেষণা
পায়না খোঁজ ঠিকানা।

মগজভর্তি অহল্যা রূপসী নারী
সংবাদে কলঙ্ক মালিনী
ত্যক্তলাজে ধ্বংসলীলায় তরঙ্গ
বয়ে স্রোতোবহা মর্দিনী।

গায়ত্রী মন্ত্র শ্রবণা গোয়ালিনী
শুনশান নীরব চারণ
রক্তপিপাসু অধর্ম লালাময়
ঝরা তীক্ষ্ণ অভিশ্রবণ।

পিত্তাশয় ব্যথায় মরে অলক্ষ্য
অলক্ষণ রহস্য বলয়
ধবধবে সাদা কাপড়ে কালো
ছিটায় শুদ্ধতা নিলয়।

হে অজাতশত্রু’র ডেকোরেশন
টলমল সদা মুখাবয়ব
চিহ্নিত করোনা করে করুণায়
দাবিত রন্ধ্রে গায়েব।
…………………………………………..

কবিতার এপিটাফ

কথা’র ভাবার্থ যথার্থ কাব্য
ছন্দিত নন্দিত কবিতা
ভাবনা সাধনা যাতনা সভ্য
কবিত্ব কহন সেই যথা।

পূতিগন্ধ কবিতা তীক্ষ্ণ চেষ্টা
ফসিল দেখে অনুপ্রাণ
কাল্পনিক ভাব সজীব জাগা
কবিতা জাগনা অম্লান।

পাগলামি মনে শব্দে’রা খেলে
কলম আসে সেই শব্দ
পূতি গানে বাউলিয়ানা আসে
পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতে জব্দ।

হরেক রকম পাঠক সমার্থক
কবিতাভক্ত মনকথা
কবিতা যাহা বলে তাহা যেন
পাঠক মনে মর্মব্যথা।

কবিও লুকায় শব্দের প্রাচীর
খোঁজে পাঠক অধ্যয়ন
যথার্থ কৃতার্থ সমীরণ লাগে
কবিতা’র স্রোত শয়ন।

অমুগ্ধ হয় কবি যা লিপিকার
লিখনে কাব্যে পরিতাপ
নীরবতায় ঝরে কবি’র আঘাত
বিদায়ে লিখে এপিটাফ।
…………………………………………..

মেঘবালিকা

তোর বৃষ্টিস্নাত মনটা আমাকে দিবি
খুব ইচ্ছে হয় আমি শৈশবে চলে যাই
হারিয়ে যাই অজানায় দূর সীমানায় গাঁয়ে
সকাল সাঁঝে মেঘের সাথে বায়ু বহে অদেখা বিজনে।

তোর সাঁতার কাটা- এক পাড় থেকে ওপাড়ে
তোর ঝড়ে পড়া থোকা আমগুলো জামায় রাখা
তোর অবাধ বিচরণ স্কুলের খেলার মাঠে
মনে আছে সবগুলো ?

হঠাৎ তুই হারিয়ে গেলি বৈশাখের শেষটায়
খোঁজে আর পাইনি তোকে ,
একদিন জানলাম অল্প বয়সেই ঘর বেঁধেছিস
সুখের সংসারে তোর আগমনে চলে গেল সব চঞ্চলতা।

আজ ঝড় বহে গেল- এই বিকেলে
মনে গেল তোর শৈশবের সবটুকু
কিন্তু পুরো মুখটি পরিষ্কার করে মনে নেই
শুধু মনে পড়ে তোর বৃষ্টিভেঁজা মেঘবালিকার অবয়ব।
…………………………………………..

সাহস

সব ‘সাহস’ গুলো জেগে উঠলো
গগনবিদারী মিছিলের শব্দগুলো রক্তে ভেঁজা
পাড়ার সব ‘যৌবন’ যেন সদা জাগ্রত
ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ার আগাম প্রাক প্রস্তুতি পর্ব
সব ভাবনার ফসল তোলার আয়োজন
“এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”
দীক্ষিত বাণী বুকে গভীরে সমুদ্র মন্তর অহরহ
যৌবনোদয় সব আলো মানচিত্র রক্ষায় আত্মাহুতি
হাতে হাত ভেদাভেদ ভুলে মুক্তি হাতিয়ার
গর্জে উঠা সব ‘ধ্বনী’ অলিন্দ নিলয়ে কোলাহল
দু’শ বছরের বিদেশী শাসনের যাতাপেষা ‘সাহস’
সংখ্যা লগিষ্ট রক্তচোষা শোষকের নির্যাতনে “সাহস”
শোষিত নির্বাক আবেগী ঐক্যতান
ভাষা কেড়ে নেয়ার সংগ্রাম, রক্তাভ শ্লোগান
পদ্মা মেঘনা যমুনা গোমতী ধলেশ্বরী সুরমা কুশিয়ারা
রক্তস্রোত বিশ্বকাঁপানো ঢেউগুলো “সাহস’ আজ উতাল
“যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলায় “সাহস”
জাগো বাঙ্গালী জাগো
জেগে জেগে যুদ্ধ কর
তোমার আমার ঠিকানা
পদ্মা মেঘনা যমুনা ” -শ্লোগান আর গুলির শব্দে রাজপথ
লাল সবুজের পতাকা ঘরে ঘরে বাতাসে দোলা
“সাহস’ আজ সত্যি সাহসী ভূমিকায় চেতনায় একবন্ধন।
…………………………………………..

জেগে উঠো

জাগে উঠো বাংলাদেশ
পাশে তোমার সব সন্তান
একাত্তরের একাগ্রচিত্তে সবাই
আছে পাশে দল মত নির্বিচার
প্রার্থনায় আমরা
প্রেরণায় আমরা
একদিন জেনেছি তলাবিহীন ঝুড়ি
আজ জেনেছি শীর্ষে তুমি তালমিলাতে
এবার হবে ছাড়িয়ে সবাইকে বিশ্বরূপী।

লাল রক্ত ভেজা শার্ট আজ যে পতাকা
আকাশে উড়ে বিশ্বদুয়ারে অবাক করা
আবেগ নয় কাজের মাঝে পরিচয় দাও
দাও তোমার অদম্য আগ্রহ
দাও তোমার অদম্য চেতনা
একদিন দাড়াবেই সবার আগেই কর্মযজ্ঞে
আজ তোমার অনবদ্য শুভেচ্ছা হোক নিরন্তর।
…………………………………………..

রক্তলেখা

গহীনে স্বাধীন নেশা
রক্তাক্ত উক্তি
একাত্তরে গর্জেউঠা
বাঙ্গালীর মুক্তি
রেসকোর্স ময়দান
ভরে গেল লক্ষজনতা
যুদ্ধে তার সমাধান।

রক্তে ভেঁজা পতাকা
উড়ছিল ঐক্যতা
এক ধ্যানে এক প্রাণে
বীর বাঙ্গালী অস্ত্রের সত্যতা।

পদ্মা মেঘনা যমুনা
জয় বাংলার নমুনা
জয় বাংলা বলে যুদ্ধ করে
দেশ বিজয়ে একতা।
…………………………………………..

পুরোহিতগিরি

পরমা
সেই সাত সকাল থেকে
তোমার অধম্য ক্লান্তিহীন দৌড়াত্ব
মূল্যহীন প্রেমের দশদিগন্ত কর্মসূচী
অনাগত দিনের পরম পিপাসী তুমি এক কাব্য।
হে পরমা
অস্তিত্ব গুলো সেঁটে রেখেছো নগ্নরূপে
শৈশবের ভাবনাগুলোকে চুরমার করে
কৈশোর আর নবোদয় যৌবনের আবাদি জমিতে
স্যাঁতস্যাঁতে দেয়াল পুরানো গন্ধে ভরা আবাস
তোমার সেই স্মৃতিপট অগ্নিময় দিনগুলো
আজ তোমার কাছে বড়ই হাস্যকর।
পরমা
বাবার আদরের ছটছপটে তুলতুলে পুতুল
মায়ের আঁচলে লুকাবার আগেই অন্তর্দাহ
তুমি দহিতে দহিতে
মায়ের আদর বঞ্চিত বালিকা আজ এক মা
প্রেমের পুলকিত শরীরপোষণে তুমি
চঞ্চলা বিকশিত চারণে ভূবন গড়েছিলে
তোমার বিলাশীরাজ্য,
উননে দহনে অশ্রুজল গড়েছিল কপোল কত
বেহিসাব পুতুল জীবিকার্জনে
এক সিঁড়ি থেকে আরেক সিঁড়ি ভেঙ্গে ক্লান্ত।
পরমা
হাত পেতে প্রেমের ভিক্ষে চায়
তারুণ্য লুলুপ চোখে আজ চারিদিকে-
তীর্যক চোখগুলো তীর্থেরকাক গুলো চেয়ে চেয়ে
তোমার শরীরী চারুতায়
পুতুল হয়ে অমৃত মা বাবার আদুরে পরমা
তুমি জানতে একসময়
বাবার ঘরই তোমার
জানতে স্বামীর ঘরই মূল নিবাস
আজ জানলে-
সবকিছুই তোমার নয়, সব পুরোহিতগিরির।