ছুরিভীতি

রিমির হাতে চাকু,
নয়ত রিমি ডাকু।
মনটা নাকি তবু
করে আকুপাকু।
বসিয়ে দিতে ঘা,
ভাসিয়ে দিতে গা
রক্তের গঙ্গায়।
এমন শংকায়
চমকায় সে দেখলে কোন ছুরি
যেন তা আস্ত ভূতের পুরি।
……………………………………………

দিনলিপি

দিনলিপিটা ভইরা গেছে
আজে-বাজে কাজে।
ইজি কাজে বিজি থাকি
সকাল-বিকাল-সাঁঝে।
আধেক বেলা আরো কাটে
ভেক ধরা ও সাজে।
এই আমি নই তো সেই আমি
কেউ বুঝে না তা যে।
……………………………………………

দন্তশূল

দাঁতের বেজায় শূল
পাইনা কোন কূল।
লবণ পানির গড়গড়া
এবং পাতলা শর্করা
খেয়ে কাটাই দিন
উধাও রাতে নিন।
দেখালাম আজ ডাক্তারে,
ফেলতে হল দাঁতটারে।
মাড়ি ফুলে
অধিক শূলে
খাইনা এখন ভাতটারে।
……………………………………………

ইচ্ছে

ইচ্ছে আছে ভালো হবার
তোমার হাতে দুহাত রাখার
নতুন চোখে স্বপ্ন দেখার
ইচ্ছে আছে শুধরে নেবার।
ইচ্ছে আছে যুদ্ধে যাবার
রক্ত দিয়ে শুদ্ধ হবার
তোমার প্রেমে ঋদ্ধ হবার
এমন অনেক ইচ্ছে আমার।
……………………………………………

নাইট

আবার নাইট,
মশার বাইট;
যমের সাথে জমবে ফাইট।
আবার নাইট।

আবার নাইট,
বন্ধ লাইট;
ভূলুন্ঠিত হিউম্যান রাইট।
আবার নাইট।

আবার নাইট,
কারফিউ টাইট;
ফায়ার অন পাবলিক সাইট।
ব্লাডি নাইট।
……………………………………………

চনাবুট

চনাবুট
কুট কুট কুট
যতক্ষণ,
পিরিতির
সুখ বন্ধে
ততক্ষণ।
……………………………………………

হঠাৎ কবি

হঠাৎ বনে যাওয়া কবি!
চারদিকে তার ব্যাপক লবি,
কবি – অকবি -স্বকবি
পাতিকবি -নেতাকবি
দিয়ে টইটম্বুর তার মজলিশ ;
দু লাইন বলেই পান বকশিস।
রাতারাতি খ্যাতি আসে
চান্দা তোলেন বই প্রকাশে।
……………………………………………

বিষ্টির সকালে

হঠাৎ বিষ্টির সকালে
গাড়ি-ঘোড়ার আকালে
অবশেষে পৌঁছুলাম।
অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে,
মাথায় বিষ্টি গড়িয়ে,
পায়ে কাদা মাড়িয়ে।
কিলোখানিক তো হেঁটে,
বাড়তি ভাড়ায় বাস সেঁটে
পৌঁছুলাম অফিস লেটে।
……………………………………………

পৌষ মাসে

বর্ষা এলে জমির আলে
হাঁটুখানি পাঁক,
বৃষ্টি শেষে পৌষ মাসে
গজায় তাতে শাক।
শিশির পড়ে পথের ধারে
ঘাসের শিরে তাজ,
ভেড়ায় ঘুরে কম্বল পরে
ঠান্ডা বেজায় আজ।
……………………………………………

পথ

পথের মানুষ পথে নামি,
পথেই করি বাস।
পথের মাঝে জীবন গড়ি,
পথেই দেখি লাশ।
পথের শেষে সুখ জানি,
পথের বাঁকেই দুখ।
পথের টানে ঘুরে বেড়াই,
খুঁজি প্রিয় মুখ।
পথের মানুষ পথে নামি,
পথে করি বাস।
পথের মাঝেই দিন বদলের
স্বপ্ন করি চাষ।
পথের সাথে পথ মিলে
দীর্ঘ রাজপথ,
পথ থেকে বিপথ হলে
রুদ্ধ সব পথ।
পথের টানেই ঘর বিবাগী,
পথই আমার ঘর্।
পথের দিশায় পথে থাকি
তবু হারাই পথ।