প্রেম ঘোড়ারোগ

বড়লোক যারা প্রেম করে তারা
গরীবের তাতে কী-
ছোটলোক তোরা মুখচোখ পোড়া
পান্তায় খাস ঘি ৷

যার আছে গাড়ি সুন্দর বাড়ি
প্রেম সেদিকেই ছুটে
রঙচটা দেহ অদ্ভুত গেঁয়ো
কপালে গোবর ঘুঁটে ৷

শখ আছে বটে প্রেম যানজটে
ফিটফাট বডি চায়
বাজে গোঁফদাড়ি ভাঙা ঘরবাড়ি
পড়শীরা করে হায় !

হোক মন তার যতই উদার
দারুণ প্রেমসাগর
ওপরের তলা যতো হোক ঘোলা
সেখানেই প্রেমাদর ৷

চল ভাই চল থামা টলমল
এখানে ওসব মানা
ওঁদের হাত বড় তোরা জড়সড়
তোদেরটা সব জানা ৷
……………………………………………

ফাও জীবন

মন খারাপের দেশে আমার
মন পবনের নাও
বনবাদাড়ে ছুটে বেড়ায়
গোটা জীবন ফাও ৷

প্রেম ছিলো এক ঝটকামারি
বায়না শত শত
ঠোঁট ভরা তার মুচকি হাসি
দেখতে রাধার মতো ৷

এখান সেখান ঘোরাঘুরি
নেই পিছুটান নেই
হারিয়ে গেছে আমার রাধা
কালা এলো যেই ৷

বাউল হবো না কবি হবো
ভাবতে জীবন গেলো-
কার কাছে বা করব নালিশ
সব ব্যাটারাই কেলো ৷

ভাঙা নাওয়ে ভাটির টানে
চলছি ভেসে ভেসে
ষোলআনার জীবন নাটক
কাটলো কেশে শেষে ৷
……………………………………………

বসন্ত কাব্য

শেষ ফাল্গুন জাগায়ে আগুন
চৈত্রের পথে ধায়
আলোড়ণ তুলে শিহরণ ভুলে
পিছনের দিকে চায় ।

বসন্ত বাতাস দিয়ে আশ্বাস
সুদূর সন্মুখে ডাকে
গাছের ছায়ায় অজানা মায়ায়
খেলে রৌদ্রের ফাঁকে ।

রোদে ঝিলমিল হাসে খিলখিল
কিশোরী ওখানে ওই
মাটির গন্ধে সকাল সন্ধ্যে
মিলেছে সকল সই ।

করে খুনসুটি হেসে লুটোপুটি
মাটিতে অঙ্গ মাখি
খুশিতে পাগল শুধু কলরোল
দোলে ফুলবনে শাখি ।

বালকেরা বুঝি বেড়িয়েছে খুঁজি
সঙ্গী সাথীর দল
শুধু সারাবেলা দলবেঁধে খেলা
মিছে পড়ালেখা ছল ।

নৌকার পালে ধীবরের জালে
জীবনের ছবি আঁকা
মুকুল বাহারে শোভা আহারে
রাখালের বাঁশি বাঁকা ।

মাঠে কৃষকেরা সবুজে ঘেরা
বুকভরা আশা নিয়ে
কিষাণীর বুকে স্বপ্নের সুখে
সুধা দেয় মিশিয়ে ।

কুমার- কামার নাপিত- চামাড়
একই সাথে মিলেমিশে
একই আকাশে একই বাতাসে
একই দোয়েলের শিষে ।
……………………………………………

শেষ কথাটি

সময় হলো এই প্রভাতেই
ডুববে বুঝি বেলা
শেষ হলো তাই রঙের মেলা
সারাদিনের খেলা ৷

ফাগুনের এই ধুলোর ঝরে
মলিন চোখে জল
প্রিয়ার বুকে পাথরচাপা
শিশির টলমল ৷

এইতো সেদিন এমনই ভোরে
মায়ের ব্যথার হাসি
সবার মনটা খুশি খুশি
কপালগুণে রাশি ৷

গল্পে গল্পে হেলেদুলে
সকাল বিকেল গেলো
সন্ধ্যাশেষে কঠিন সে রাত
ভোরের কাছে এলো ৷

শেষ হয়েও হলোই না শেষ
শেষ কথাটি বলা
একটু সময় নাহয় দিতেই
থামতো কী সব চলা -!
……………………………………………

না বললেই নয়

একটা কথা না বললেই নয়
পিঠ ঠেকেছে দেয়ালে
এখনও সেই খেয়ালে
করলে এমন কিভাবে কী হয় ?

একটা কথা না বললেই নয়
মানুষগুলো বদলে গেছে
রঙ চেহারা একই আছে
মনের আসল রূপের শুধু ক্ষয় ।

একটা কথা না বললেই নয়
বড়রা সব বড় নেই
কথায় এরা হারায় খেই
সবটাতেই মানে পরাজয় ।

একটা কথা না বললেই নয়
উন্নতিটা কিসের যেন
প্রশ্ন এসব আসে কেন
পূবের বাতাস দক্ষিণে যে বয় ৷

একটা কথা না বললেই নয়
টেকো মাথা মোটা ভুরি
দিনের আলোয় পুকুরচুরি
চাপাবাজির সেরা গুডবয় ।

একটা কথা না বললেই নয়
জ্ঞানের কথা গুণের কথা
যা ইচ্ছে তাই যথাতথা
মনে তবু দুঃস্বপ্ন ভয় ।

একটা কথা না বললেই নয়
শুধু এখন টাকারই জয় জয়কার
ভিতর-বাহির মিথ্যেরই কারবার
বাস্তবতা রঙিন স্বপ্নময় ।

একটা কথা না বললেই নয় –
ভার্চুয়ালের বাড়াবাড়ি আর কতটা সয় ।
……………………………………………

কবি

কবি আমি গর্বে ভাসি
জুকারবার্গের জোরে
রাশি রাশি শব্দমালা
ছুটছে স্রোতের তোড়ে ৷

শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন
হৈ হৈ চারিদিকে
সত্যি তখন কবিই হই
আর বাকিসব ফিকে ৷

ভালোমন্দ মিলেমিশে
চলছে কবির মেলা
আগে চলেন বড় কবি
পিছে ছোটে চেলা ৷

ভাষার জয়গানে কবি
আপনমনে চলেন
ভূমি কিম্বা উঁচুতলা
সবার কথা বলেন ৷

ভাষার মাসে প্রার্থনা এই
লিখুন খুলে প্রাণ
কাব্যরসে মিশে গিয়ে
ছড়ুক ফুলের ঘ্রাণ ৷
……………………………………………

শুচির বদনা

মুরগী চোরার বিচার করে
গোডাউন চোরার দল
কষ্ট পেলেও মুখে বলি
হরি হরি বল ৷

ছোট চোরের ছোটো জাত
পেটের দায়ে চোর
বড় চোরের বড় মান
শক্ত খুঁটির জোর ৷

গলার জোরে মাইক ফাটায়ে
লম্বা লম্বা কথা
চোরের মায়ের বড় গলা
চলিত আছে প্রথা ৷

হাবাগোবা সেজে সবাই
বাইরে বাইরে মানে
সময় যেদিন আসবে সেদিন
ফেলবে একটানে ৷

ঘোর হতাশা কেটে যাবে
স্বপ্ন দেখে মদনা
ঘটি বাটি হারায় হারাক
থাকুক শুচির বদনা ৷
……………………………………………

বেপরোয়া সময়

বাপদাদার খুঁটি নাই
নাতি পাওয়ারফুল
ফুলস্পিডে মোটরবাইক
নাইরে দিশকুল-৷

উদ্ধত আর বেপরোয়া
ডেঞ্জারজোনে বাস
উড়ে চলে হাঁটুভাঙা
লাইভগ্রান্টি লাশ ৷

ভেঙে দেব মচকে দেব
জ্বালিয়ে দিব সব
মারলে ঝারি একদৌড়ে
ঠাণ্ডা কলরব ৷

মদনার বাপ বীর্য জ্ঞানী
ভাবেন খুলে ল্যাব
বীর্যে তেমন ক্লেম নেই
যন্ত্রে ছিলো ট্যাপ ৷

এক্সিডেন্টাল জন্ম এদের
নাইরে কাণ্ডজ্ঞান
বেটার হলো ডাবলডিক্স
বাপের কষ্ট ভ্যান ৷
……………………………………………

নাম্বার ওয়ান পাজী

দুঃসময়ে পাইনি তোরে
এখন ঘুরিস পিছে
লাভ নেইরে হাঁদা বলদ
মরবি ঘুরে মিছে ৷

সুসময়ের আভাষ পেয়ে
দৌড়ে আসিস কাছে
ফুলতা তোর ভাসবে জলে
টোপ খাবে তোর মাছে ৷

কাজের বেলায় খবর নাই
ভাবখানা তো কাজী
ঢেঁকির মতোন নড়াচড়া
নাম্বার ওয়ান পাজী ৷

তোর চেয়ে মদনা ভালো
সহজ সরল শাদা
এক-আধটু এদিকসেদিক
নাই মনে তার কাদা ৷

ভালো হওয়ার নাইরে সময়
বয়স গেলো ফুরে
বেকার জপিস ইষ্ট নাম
হেঁড়ে গলার সুরে ৷
……………………………………………

উল্টোরথে

উল্টে গেছে রথের চাকা
পাল্টে গেছে ঘোড়া
মানুষগুলো উল্টোমাথা
মনগুলো সব পোড়া ৷

জ্বলছে আগুন জলে জলে
ধোঁয়ার দেখা নেই
বনের ভেতর মরুর বালু
মদনা হারায় খেই ৷

নীল আকাশের হলুদ শোভা
বৃষ্টিরা সব নীল
মাটির বুকটা ঘাসশূন্য
দরজা ছাড়া খিল ৷

পা-গুলো সব ওপরদিকে
হাতে হাতে হাঁটা
স্বামীকে নয়, পরপুরুষে
মারছে কেমন ঝাঁটা ৷

এসব দেখে মদনা ভয়ে
পালিয়ে যায় দূরে
শাশুড়ী তার পিছ নিয়েছে
বউয়ের মাথা ঘুরে ৷