শিবির

আলো আমার মুক্ত দিনের বেহিসেবি ভুলের ফলাফল…
অস্পষ্ট অনাবিল তবুও অচেনা কথার ভৈরবী,
অঙ্গ সমূহ আর যত আছে রীপু অন্তর্হিত…
তবুও দিন রাত কোথাও কোথাও পড়ে থাকে কবন্ধ লাশ,
দিব্যি হাল্কা দিনের ভারী কথায় মর্গের ভতর অন্তর সহবাস।

নান্দিমুখের সঙ্গেযে কেন মহাকালের কথা শোনাও…
আমি শুধু চেয়ে ছিলাম রুদ্ধ দ্বারের চাবি,
বন্ধ ঘরের সামনে কে বা কারা নিশছিদ্র পাহারায়…
অথচ জীয়নকাঠি চাই… চাইনি চাবি হারানোর গল্প,
কদিন আগে শাসক শ্রেণি বলে গেল শোনার দরকার নেই ঘেউ ঘেউ।

এখন ফ্যাকাশে দরপোড়া সবুজ হারা মাঠের বুকে…
ক্ষতবিক্ষত ডিনামাইটের জরাগ্রস্ত উর্বর প্রসারতা,
গ্রাম জ্বললো মানুষ পুড়লো তবুও কপালে করাঘাত…
এখন দুচোখে হলুদ যন্ত্রনা দিশাহীন
প্রবাসী তকমা কপালে চিরকালের
বসতি এখন শরণার্থি শিবির।
…………………………………………..

ঋণ রাগ

প্রতি এপ্রিল পয়লা এলে ডেকে নেয় জন্মান্ধ সময়,
হয়তো কোথাও মোমবাতি গুলো গলে জল…
কত ছোট সময় ভিজে যায় চোখের কাজল,
অহেতুক খিদের যন্ত্রণায় হঠাৎ ভাতের গন্ধ…
আরও ক্ষিধে আরও খেলা ধূলা নির্লোভ বিশ্বাস।

আঙুলে পরিয়ে দিয়ে ছিল অনাম্নী অংগীকার,
কতবার কুয়াশা ভেজা রাস্তায় খুঁজেছি পায়ের দাগ…
অথচ বুকের ভেতর টনটন নির্বান্ধব হাহাকার,
শূন্য মাঠে মেতেছে সবুজ নীল খেসারি গালিচা…
কত বার ভাবনা ভেতরে নগ্ন শৈশব বিলীন বিশ্বাসে।

নির্ঘুম হাহাকার প্রতিদিন ঘুমের ভেতর জাগে,
কাঁড়া আকাঁড়া যা জোটে তা দিয়ে ভাতের সুগন্ধ…
তবুও বদ লোভ কামনা দাঁড়ায় কুমীরের দাঁত,
দুর্বিনীত পুরোহিত দেব দাসী কত না গল্প গাথা…
আমি ও বুঝি বিবর্ণ সময়ের ক্রোধ বেড়ে ওঠা ঋণ রাগ।
…………………………………………..

জননী নির্বাসন

দিব্যি হেঁটেছি চেনা রাস্তায় কতো না বন্ধুত্ব হাঁটে…
হঠাৎই দেখলাম কখন কে সরে গেছে চেনা পথ ধরে,
কে কার দায় নেয় পঁয়ষট্টির বেদনা কিংবা বিলাসের পথ…
একটা সময় ছিল নির্মেদ বেদ বিধি চতুর্বলয়,
দিব্যি ঋজু দাঁড়িয়ে না মানুষ না গাছ কেবল সানন্দে বাঁচা।

আমি বুঝিনি সমস্ত কথা মা বাবা কিংবা ঘনিষ্ট আত্মজন…
পরাণ্মুখ খণ্ডিত প্রশ্ন বিষয়ক মৃত্যুর যথেচ্ছ ব্যাবহার,
কখনো বুঝিনি মানুষের ভেতর সেঁধিয়ে ভয়ের ফারাক…
আজান উজালা সান্ধ্য গীতি উদাসীন সময়ের বিষাদ।

শিরীষ গাছের মাথায় বহু পখিদের নিশ্চিন্ত বিশ্বাস…
ঝরে ফুলেদের অনিন্দ্য পরাগ বসন্ত যেন নম্র বিবাগী,
কী কৌশলে গড়ে ওঠে ইমারত ঘি দুধ দই আরতি উৎসব…
মেলে না লুকোনো অন্তিম ইচ্ছা কেবল বদ রক্ত জমে,
কখনো আলিঙ্গনে বন্দী মানুষের গন্ধে বাঘের লালসা।

কখনও বুঝিনি বাস ভূমি জেনেছে জটিল নির্বাসন…
কোন দায় নেই শাসক সমূহের অটুট ফরমান,
কেবল ভালোবাসার বদলে হাসি মুখে হিংসে বীজ বোনে…
জন্মাধার বোঝে কেবল দীর্ঘশ্বাসে জননী নির্বাসন।
…………………………………………..

সর্ব ভূতেষু

আতিথ্যে বরণ করেছে গাছ মাটি ফল ফুল সব…
বুকেতে জড়িয়ে সে আদর সানন্দ মহোৎসব,
সেই সব কাল বিস্মৃত হও সাংঘাতিক বিবাদ…
ফুল না আতরে মন্ত্রে না শব্দ শরীরে প্রতিজ্ঞা সকল,
সব মায়েদের স্নেহ বাঁধা হলুদ মোছা আঁচলে…
সুগন্ধি কথার অসংযম চুরমার হয়ে যায় আর্তির আধার।

খুন আর খুনীদের রক্ত তফাৎ নেই জানে বিভাজন প্লাজমা…
এখন সকলে দাঁড়িয়ে মাথার ছাদের জন্য খাদের কিনারে,
চতুর্দিকের আবহাওয়া উড়িয়ে নিচ্ছে অক্ষর শব্দের মিনারে…
যে দিকে জলস্রোত গঙ্গা ভাগিরথী পদ্মা মেঘনার…
এপারের সবুজ গাছে ওপারের পাখিদের ভাষা গান
দিব্যি পূর্ণিমার চাঁদ জলছবি আঁকে স্নিগ্ধ এপার ওপার।

পৃথিবীর সব ঘরে ঘোরে ফেরে কিছু অগণ্য কথা…
না বোঝা কথাও আত্ম নির্মাণ প্রতি দিন অর্ঘ্য প্রত্যুষে,
জল পাহাড় সমুদ্র মরু ভূমি জেনে রাখে সকল মৃত্যুরা…
অনন্ত লীলা প্রেম অন্তর্লীন হৃদয়ে সকল সর্বভূতেষু।
…………………………………………..

মরেছি যন্ত্রনার শ্লোকে

এই তো বনবালা সারা শরীর জুড়ে বনফুল,
বসন্ত আসেনি ঝরা পাতা দেখে বকুল সই…
ফুলেরাই বেঁচে আছে সকল শরীরে বকুলের বেশে,
সোনাঝুরি বাবলা ফুল গাছ পাখি ঘিরে আছে…
অজানা লতায় পাতায় না মানুষ অবয়ব উইয়ের ঢিবি,
কখনও অজানা পথে চিৎকার ‘মা নিষাদ…’ জানে না শতাব্দী গণক।

অনিন্দ্য চৈতন্যের উদার পথে ভিন্ন হিংসা দ্বেষ…
জঙ্গল জঙ্গম জানে কত না জন্মান্তর বোধিবৃক্ষ বেশ,
সকল মায়ের চোখে একই সন্তান সুখ একটু তো শোক…
নিভু নিভু প্রদীপের আলোয় কে পড়ে জন্মান্তর শ্লোক।

বেল যুঁই অতসী গন্ধে মাতে শরীরী বনজ উল্লাস…
পাকে চক্রে ঘুরে ফেরে সমান্তরাল পথে গরমিল,
জল চক্রে গলে পড়ে মায়াবী মোমের অস্তমিত জ্যোতি…
বে পাড়ায় উঠে আসে কান্নার রোল জানে বনস্থলী,
টুকরো টুকরো ছড়ানো শরীর দেখে কার উঠোনের শোক…
আসলে ভেতরে ভেতরে মরেছি আমিও যন্ত্রনার শ্লোকে ।
…………………………………………..

বাঁধন

এক দিকে শ্মশানে ঝোলানো সাদা মশারি
অন্য পারে সুনন্দ সমাধি লীলাক্ষেত্র শেষে
অদূরে নাগ চম্পার গন্ধ বিলাসে পরাগ পিরিতি
জানে মৌণ বাতাসী স্রোত…
পরাগ প্রতিমা বোঝে মৌমাছি রানী।

অবরুদ্ধ বিহান বেলা গরুর পায়ে পায়ে গোধূলি গেরুয়া…
মাছি আঁধরা ভোরে সামনে দাঁড়িয়ে দয়াময়ী হৃদয় রানী,
ঘরে ফেরা পথে প্রতিদিন জাগে চেনা নক্ষত্র লাল…
পৃথিবীর যত সুখ অনেক গভীরে তবুও বুকে স্পর্শ সুখ।

অযথা অনৃত বিষণ্ণতা পাখিদের নরম বুকের ঘনিষ্ট উষ্ণতা…
আয় তবে অঙ্গরাগ মাখি চেনা সই কুসুম পরাগে,
বেঁচে থাকা প্রিয়তম সুখের গহীনে জাত গোত্র রোষ…
আসলে মানুষই শেষের সাথি কেন তবে রুদ্ধ অভিসার!

জবা রক্ত বদলে গেছে কবে সে অমৃত সুধায়…
বিষণ্ণ বসুধা ভিন্ন রক্ত রাগে উগরে দেয় লাল লাভা স্রোত,
তবুও কাঁদতে কাঁদতে এক হয়ে যায় ভিটে মাটি চাটি…
কপালে মায়া চুম্বন শস্যবতি জমিন মায়ার বাঁধনে।
…………………………………………..

বেঁচে থাকার গল্প

কিছুতেই আটকানো গেলোনা অযথা রক্তক্ষরণ
বিহ্বলতা চোখে মুখে জাগিয়ে রাখার কঠিন উচ্চারণ
কামনার নীল বিষে মাখামাখি যত চেনা পরিজন
অজরা সময় কালে আঁজলা ভরে জল ঢালে গৃহস্ত রমনী।

শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম ত্রিশূল আদি জানে সংহার সংহিতা
যারা পারে তারা উপযোগী স্থানে নিপুণ ভজন লীলায়
ঘরের রাজ্য জানে কেন্দ্রাতিগ বিষময় টান রাজেশ্বরী
চিরকাল দুঃখ জ্বালা স্নেহ ময় কাতরতা নিঃস্ব ও প্রাণ পায়।

উৎসবে মত্ততা জল ছাড়াই মদ গেলে যুবা
চুলের আদব কায়দা জানে বন মুরগীর লড়াই ছুরি
যেমন মাতাল মৃগ টেনে আনে বাঘ গন্ধে ব্যাকুল কস্তুরি
এভাবেই খুনিরা বুকের উপর বসে কড়া ক্রান্তি হিসেব বুঝে নেয়।

ওপরের জল স্রোতে গড়িয়ে নামে আকাট কিছু পাথর
জহ্লাদের কোন পরিচয় নেই যতটা জানে প্যাঁচানো ছুরি
যে মানুষগুলো প্রতিবাদী এখনো সুতীব্র চিৎকারে দাস্যবৃত্তি
খসে পড়েছে লজ্জা আবরণ লেখা হবে বেঁচে থাকার গল্প।
…………………………………………..

নিজের মধ্যে নিজেকে হারায়

ফেলে এসেছি যা কিছু সম্ভার কোন ক্ষণে ডাকে কুগ্রহ
যদি ও জেনেছি আকাশ জমি মাটি সব থাকে
তবুও ঘটনা ব্যাথাতুর শ্বাসরোধী সকল কথকতা
এতো কাল ছিল স্বাধীন পাখিদের মতো গাছেদের মতো
মানুষের মতো কপাল ঠুকে নিজস্ব ভুমি প্রণাম
এখনতো ভিটে মাটি রান্না বাটি উৎখাত ঠিকানা বিহীন।

লাল শীমূল কৃষ্ণ চূড়া পলাশ রাঙা ভোর…
বলে গেলো এসব তোদের নয় শরীর বিহীন কেউ
চাঁদ সূর্যের ভাবনা কথায় প্রেম প্রীতি প্রণয়ের দলিল
হঠাৎ ভোকাট্টা জ্যান্ত সব ঠিকানা বিহীন ঘুড়ি
পাক খেতে খেতে দেখে যাওয়া চাঁদের আলোয়
জ্বলতে থাকে পুড়তে থাকে জন্মান্ধ কি জানে আলোর অধিকার।

যুক্ত নাকি খণ্ড খণ্ড রাষ্ট্রীয় কণা ভাঙচুর সাম্রাজ্য লীলা
মাটি গর্ভ ছিঁড়ে হঠাৎই ভেস্তে দেবে আগ্নেয় লাভা ভয় ভয়
সব কাল বাদ দিয়ে অন্য ঋতুস্রাব ভেসেছে জাত কুল মান
শুধু হাতের মুঠোয় চেপে ধরা প্রাণ দে দৌড় দে দৌড়
বেজে উঠেছিল অচেনা বিষাণ সতর্ক সোহাগ
বোবা হয়ে বসে আছে শতাব্দী কেবল নিজের মধ্যে নিজেকে হারায়।
…………………………………………..

স্পন্দিত দুটি হাতে

ঠিক বুকের মধ্যে বাঁদিকে খাবলা মেরে তুলে নিচ্ছে কেউ
শুকনো মাটিতে হঠাৎ হড়পা বান বেসামাল…
আহা, বোঝনা কেন সকল সংসারে জন্মানো সুখ,
কারুর ঘরে উচ্ছ্বাস উদ্বেল অন্য ঘরে জন্ম সিদ্ধ পাপ।

কুৎসিত রাতের চেহারায় বুনো পশুদের অচেনা গন্ধ,
সকালে নীল সাদা অপরাজিতা জানে সেতো নির্বাক
সকল জীবনের ধর্ম গতিময় স্রোতস্বিনী নিজস্ব ঘরানা,
হেঁড়ে গলায় ছাতি ফুলিয়ে বলে গেলো এ সব আর না…
অতৃপ্ত খিদের যোগাড় করতে হিমশিম তায় পরমান্ন,
বোকা স্বপ্নেরা কাল আসেনি বলে নীরব ভর্তসনা।

অনেকটা বড় ভেবেছি এ বিশ্ব এ চরাচর যা কিছু
মানুষই গড়ে পিটে রেখেছে সমূহ সংসার বৃত্ত,
হঠাৎই কেউ কেউ চেনা মুখের আড়ালে ধূর্ত ধর্মখোর…
সমস্ত হাত পা বুক মাথা ঠিক কেবল থমকে দীর্ঘশ্বাস,
ছড়িয়ে টুকরো টুকরো লাল পাথর জমাই হৃদয়ের কোষে…
শিরা উপশিরায় বিনিময় নন্দিত স্পন্দিত দুটি হাতে।

প্রতিদিন আসে যায় জৈবিক ক্ষুধা তৃষ্ণায় ঘুমের বোধ…
তবুও জানিনা কিছু থাকে বাধা ভয়ে বিশ্বাসে গড়ে প্রতিরোধ।
…………………………………………..

মাটি ছুঁলে আনন্দ বারোয়ারী

গঙ্গা মেঘনা পদ্মা যমুনা এখনো শোনে কি বদর বদর
ত্রিকাল পেরিয়ে গেছে বহু দিন বৃদ্ধ কপাল জানে,
এখনো ভরা জোয়ারের শব্দে শরীর কেঁপে ওঠে…
কেরোসিন ল্যাম্প হাতে উঠোনে দাঁড়িয়ে কেউ ঘরে ফেরা অপেক্ষায়।

এ তো সোজা ছিলনা কখনো সহাস্যে এসেছে যৌবন
আমগাছ নদীর পাড় ঘেঁষে এক নাগাড়ে ডাকে বৌ কথা কও পাখি,
গ্লানি হীন অভ্যাসে এসেছে অন্য শরীরের মগ্ন উত্তাপ…
সৃষ্টি খেলার দুর্মতি আসেনি কেতকী গুলঞ্চা ফুল জানে।

বিশ্বাসে বিপ্লবে ভাষার স্মিত গৌরবে চলে বৈঠা…
খুশী খুশী জলের হাসি বোঝে সকল মাঝি মাল্লা,
পাড়ে সার সার মৎস্য কন্যা হাত নাড়ে ডাকে আঙিনায়
ব্যথিত মুখে অন্য যন্ত্রণা কপালে সিঁদুর সিঁথির যন্ত্রনা।

উঠোনের চারদিকে লতা গুল্ম গাছে পাতার কথা…
অমনোযোগী শালিক দোয়েল বুলবুলি গানে মাতায়,
আঁধার এলে ঘোমটা ঢাকে নান্দিমুখ আর হাসি
মাটি জল বাতাস আর নদী নারী মাটি ছুঁলে আনন্দ বারোয়ারী।