ম্যাকডেভিড মহাশূন্য এবং প্রতিটা জন্মের মৃত্যু

ক)
এখন অদ্ভুত এক বাতাস বইছে। বাতাস নয়, অতীব পরিণতি
এই বিশ্রী সময়ে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গম হয় জীবনের
মৃত্যু বাড়ে, বেড়েই চলে সর্বনাশের মতো আয়ু
এখানে প্রভূত কষ্টে অন্ধকার গর্ভের ভেতর একাই নিঃশব্দ;
নির্জনতা
অথচ শরীরহীন স্বপ্নগুলো প্রতিদিনের কানাকড়ি নিয়ে বিস্মৃতির ভেতর ডুবে গেলে বুকের ড্রয়ার খুলে কেউ একজন
দেখে নিজের কঙ্কাল !
বেশ বিষজ্বালায় অনন্ত গভীর অতল, সেও মৃত অন্তহীন
অবুঝ- নির্বোধ
পরের বাক্যে কবিতার কাছাকাছি চোখ ভরা বহতী নীরবতা
সেটাও ইচ্ছে হলে ছুঁয়ে থেমে যায়—

খ)
নতুন স্মৃতিতে ছায়ারাও অবাক
শিকরের টানে শুরু হয় অলীক আক্রোশ
প্রতিটা জন্মের মৃত্যু মহাকাশ থেকে ম্যাকডেভিড মহাশূন্য
ছিমছাম অথচ সতত যন্ত্রণা ভোগে !
বেশ কিছু অভুক্ত চোখ দিনরাত কবিতার ভেতর সময় কাটায়
এই হোলো জীবন ; জরায়ুর মধ্যে খোঁজে
কবেকার প্রাচীন খোলস। যদি মরে যাই— অথবা
জ্বর, থুতু, শ্লেষ্মা— এদেরকে ভিখারি করে রেখে যাব
পথ পৃথিবীময়, গোপনতা আরও ভেতরে অনন্ত বিস্মৃত।

গ)
হয়তো সারারাত আত্মঘাতী স্মৃতিরা
নিজস্ব নিয়মে দিক চিহ্নহীন- ঘৃণা এবং অস্থিরতা
প্রতিদিন সিঁড়ির প্রতিটা ধাপে মধ্যরাতের চাঁদ চোখ চুপ প্রণয়ে
বুকের মধ্যে রাখে হাত !
অহর্নিশ এই দুর্দিন এই আমিত্ব ভরা নিঃশব্দ
স্বভাবতই ক্যালেন্ডারে দোল খেতে-খেতে অন্ধ হয়ে গেছে …
শেষ রাতে অভিমানের তালা খুলে যায়
ব্যক্তিগত স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয় মনে-মনে কথা বলাবলি,
এরপর কবিতা থেকে দু’চোখ তুলে নিয়ে নিজের
কপালে মাখি সর্বনাশী জ্যোৎস্না—
(এটা অবশ্য সখ করে নয়; আবার সান্ত্বনা পাব বলে নয় )
কিছু কিছু অপূর্ণতা ম্যাকডেভিড মহাশূন্য মনে হয়
সেজন্য দিকচিহ্ন মুছে অতীত স্মরণের পথে একা হেঁটে যাওয়া
পাগল বৃষ্টির দল অবুঝ শিকারী, সেখানে বিচ্ছেদ জ্বালায়
নির্জন হয়ে থাকে পূর্ব পরিচয়। (নির্ঘুমের উপাখ্যান )

ঘ)
বেঁচে থাকতে তোমার অতীব কাছে চোখ ছিল সততই ঈশ্বরীও
বুকের ভেতর এক সমুদ্র ঢেউ; নতুন আকাশ থেকে তারাদের
বিজ্ঞাপন অন্তর লজ্জায় ঘুমের মতন একদলা স্বপ্ন গন্ধে
বহতাময় ! কেমন সহজ সেই ছবি এঁকে ভাসমান সুখ দেখাতে
চেয়ে ওষধি স্মৃতির ভেতর চোখাচোখি;
চোখের মধ্যে ছুটে আসা স্পষ্ট ছায়া চুম্বনে মুছে- তুমি এই মৃত্যুর আগেও শ্মশান যাত্রীদের নাম বাতাসে লিখেছো
সেই সারাদিনের বৃষ্টি স্পষ্ট কথাগুলোকে ইস্ত্রিকরা পোশাক
পরিয়ে কবিতা করেছি !

ঙ)
এই একবারই বৃষ্টি এনেছি চোখে; তোমাকে দিয়েছি
অরণ্য উপহার- এই একবারই নরকের পথ ঘুরে লক্ষ্য শিরা-উপশিরায় জন্মঋণের রহস্য খুঁজেছি, অতলমন্ত্রে শূন্য
নামে পায়ের নীচে…
বৃষ্টির গোপন ধারায় এলোমেলো হয় আয়নার তেপান্তর—
তবুও এই একবারই শ্রাবণ এনেছি অন্তরীক্ষ ভেঙে!
বেশ কিছু মৃত্যু আমার চেনা হয়ে গেছে,
আমার প্রতিজন্মের মৃত্যু আক্ষরিক এবং ভালোবাসাহীন
এই জন্যেই মুছে দিতে হয় প্রতিটা মাতৃগর্ভের স্মৃতি
মনের ভেতর থেকে যাবতীয় স্তব্ধতা; আদেশ দেয় তুমি
পদবী ভুলে যাও!

চ)
ফের দুঃস্বপ্ন, ফের ঘুমন্ত অস্তিত্ব শরীরময়
সমস্ত আকাঙ্খার ঘ্রাণ নিছক অবহেলায় মুছে দেয়
কত পথ, কত প্রেম, কতই যন্ত্রণার অবুঝ অস্থিরতা
এসব আমাকে বোঝায়… আমি প্রাণহীন জীবন নিয়ে অতৃপ্তির জ্বালায় কত শত বছরের আকাশে ঘুরেছি…
এই একা-একা পোশাকহীন পছন্দ-অপছন্দ অথবা ছদ্ম
আদর্শ— আমাকে অহর্নিশ অনন্তকাল ঘোরায়-ফেরায়
ভাসায়…
কোথায় মৃত্যুর ছবি দর্পণে দেখা দিলে ফুল- চন্দনের গন্ধ
পাপমোচনে উৎসাহ পায়! কী এক দেবতার কাছে আমার
প্রতিটা মৃত্যু বিশ্লেষণ; অনেকটাই ভাসমান!

ছ)
এরপর যতদিন মনে পড়া পাতা খসা বিকালে
কে আমার কথা মনে করছে! সেকি প্রতিটা জন্মের চেনা মুখ,
চারপাশে অসুখের ভেতর চুপচাপ হয়ে থাকে হেমন্তের চাঁদ
ঘুম কাটে না দুঃখে-অভিমানে, স্বপ্নের পোশাক খুলে স্নান করে অশরীর স্মৃতি… কেউ একজন নতমুখে ঘরে বসে থাকে,
সেই কি প্রেত? হতে পারে!
এরমধ্যে মন ভেঙে গেলে সমস্ত নির্জনতা হয় খেলার সঙ্গী
কতদিন এভাবে আসি আর যাই
কতদিন রাত ডোবা ভোরে; মৃত্যুর এক ঘন্টা পরে আবার জন্মাই… তারপর নির্নিমেষ খুঁজি ফিরি পথ, যে পথে
দিক চিহ্নহীন দূরে আমার ঈশ্বর দাঁড়িয়ে!!
…………………………………………..

বুদ্ধি বৃক্ষ এবং কুচ আঁধার

ঘৃণা দীর্ঘ; পোশাকে মননের বিমর্ষ শব্দ
কপাল খেঁকো চারপাশ পাহাড় চূড়ায়
বদলে নেয় অঙ্ক দর্পণ—
আমাকে মাখতে হবে কলঙ্ক পাঁক
ঝুমঝুমির নরম কথায় বধির হবে পাতাল তক্ষক
রোজ সতত ইচ্ছায় ভাঙিয়ে নেই খুচরো পয়সা
অন্দরের ধূসর দেওয়ালে ফোটে অচেনা নারীর
লাস্য উপহাস…
পাৎলুন ভেজে ঠিক তখন – ই ঘুমন্ত স্বপ্নদোষে!

এই রাস্তায়
ভাগ হয়ে ছিল হৃদয়
কথা পথ নত ছিল বুদ্ধি বৃক্ষের নিচে
এই রাস্তায় নাটক হয়েছে অনেক; মনন চারণে—
ভেতর থেকে দুঃখ রোগের ফল পাকে
কুচ আঁধারে শাদা সকাল প্রতিদিন আমাকে ছোঁয়
অসভ্য ইচ্ছায়…
এখানে হাত পেতেছি পাথর হব বলে
তবুও প্রেম বস্তু হৃদয়ে এঁকেছে স্নান ঘরের নগ্নতা!

পৃথিবী থেকে দূরে মহাভয় পথ
শূন্য উড়িয়ে থেমে গেছে নির্জন চরাচর ,
অলৌকিক ভয়-ভয় কঠিনতম মনের ভেতর
বুকের মধ্যে একটাই রাত— বহু কষ্টে কিনেই দেখি
ব্যক্তিগত রাস্তাটাও চাঁদ হারানো রোমাঞ্চকর;
বিচ্ছিরি প্রান্তর!

হাত ঘড়ি ঠিক ছিল পঁচিশটা জন্মের পর
তবুও মুছে নিতে হয় স্মৃতি সময়ের ছায়াবহ মুখ…
এই ভাবে ছেঁনে নিতে হয় অন্যমনস্ক অসুখ!
আমিতো সঠিক ছিলাম তিন হাত মাটির ভেতর—
সেখানে নির্ঘুম ছিল আমার কেনা একটা আকাশ!
দেওয়ালে কথার দাগ কেটে বাতিল হয়ে ছিল
এক থালা কবিতার লাইন…
ভেতর গুণিনের বাণে ক্ষত হতে – হতে উষ্ণ হই
নরম দেহের চারপাশে।

এ কি কথা, কাল গুণে স্বরান্তরে মৃত্যুর দিনাঙ্ক হিসেব
এ কি মন, হাত পেতে সাড়ে দশটায় পাই প্রথাময়
মলাট হীন ভাসমান সুখ…
অথচ সমস্ত ভেতরে চুপ হয়ে জেগে থাকে নীরবতা!

শেষ বেলায় যজ্ঞে বসে সোজা রাস্তায় মুক্তিমূল্য পাইনি
বেমালুম নির্ঘুম ক্ষণকাল, বুক বেঁধে চলছে ঈশ্বর—
এমনি ভাসমান; তবু উচ্চারণে অনেক জ্বালা
কি হবে অন্য কোনো প্রার্থনা! পায়ে-পায়ে ঘুরে আসা
জমিন আশমান…
ছুঁয়েছি আদী সত্য স্পষ্টতর আঁকাবাঁকা সিঁড়ির উপমা !

কী চোখে দেখছো আমায় অপ্রতিভ আরশিতে
প্রথমবার সয়ে-সয়ে গেছে জন্মের স্বাক্ষর, মননের
মুন্ডুহীন মন্ত্রণা…
রক্তের ভেতর ঘোরে প্রাচীন ব্যথার অনুরাগ
এটাও প্রাপ্য ছিল; যেটা বজ্রপাতে ঘরময় আলো করে
আমার নগ্নতাকে সাক্ষী রাখে ঘুমের গভীরে।
শুদ্ধভাবে অভিশাপও হেসে ওঠে বিবর্ণবাহারে
এই যে এই ভাবে চলি; সেটাই দীর্ঘতর হয় মনের
গুপ্ত আড়ালে!
হাত পেতে চেয়ে নেব কাল প্রবাহে অমোঘ নিয়ম
সমস্ত স্বপ্নের চিরন্তন অসুখ; সেটাও লুকিয়ে থাকার
পরও ব্যাপ্ত নির্নিমেষে!!
…………………………………………..

ঘুম সাঁতার এবং নষ্ট রাত

কথা লজ্জার দরজায় টানা পর্দা, অলস স্বপ্নে পাশান গলেছে
বুকে— দিন-রাত শুধু প্রণয়ীর কথা ভেবে
অতলান্তের স্মৃতিমন থাকে সুখে !
আমি ও আমি দর্পণে ডুবি কত; নির্ঘুম রাত অস্থির করে মারে ,
কবিতার কাছে নিবেদিত প্রাণটুকু
আদিগন্তে চুম্বনে ছবি আঁকে…
এই যে আমি তোমার কাছে আছি
অথচ যেন আছোঁয়া নানান কথা,
এই যে আমার প্রশ্বাসে মাখা প্রেম
অতলান্তে হয়ে আছে নীরবতা!!
…………………………………………..

একটু দূরে থাকতে হবে

একটু দূরে থাকতে হবে যদি ছোঁয়া লাগে জটিল সর্বনাশের
অশেষ আপত্তি ছিল এই আলো জ্বেলে দিলে
দেখা হবে চোখের গভীরে পাগল আবেগ!
এ সময় কী করা উচিত; স্নানটুকু হলে পরে নগ্নতার উদয়াস্ত
ইচ্ছা দর্পণে মগ্ন হয় শরীর ঢাকতে…
একটু দূরেই থাকতে হবে বৃষ্টি যদি আচম্বিতে
ভেজায় তোমার পা— চতুর্দিকের আকাশ তবে
চোখ ঢাকবে শ্রাবণ মেঘে! সাত~সকালের স্বপ্ন যেন একসাথে
সব বেড়িয়েছিল; ঘুম ভাঙাতে বকুল ফুলের!
পেছন ফিরে তাকিয়ে বয়স-পাখি। কী বলছো সত্যি নাকি?
সেই সেদিনের ঘুমের ভেতর মনটা ছিল শান্ত সরল…
অবাক করা আলিঙ্গনে স্তব্ধ নীরব চোখের কাজল
ভেতর শুদ্ধু ভিজে ছিল, একা একা!!
…………………………………………..

অন্য কোন নীরবতা এবং আজীবনের কবিতা

হাতঘড়ি ঠিক ছিল পঁচিশটা জন্মের পর
তবুও মুছে নিতে হয় স্মৃতি সময়ের ছায়াবহ মুখ
এই ভাবে ছেনে নিতে পারি অন্যমনস্ক অসুখ—
আমিতো সঠিক তিন হাত মাটির ভেতর, সেখানে নির্ঘুম
আমার কেনা একটা পারভাঙা আকাশ!
দেওয়ালে কথার দাগ কেটে বাতিল হয়ে ছিল এক থালা
কবিতার লাইন…
ভেতর গুণিনের বাণে ক্ষত হতে – হতে উষ্ণ হই নরম
দেহের চারপাশে।
এ কী কথা, কাল গুনে স্বরান্তরে মৃত্যুর দিনাঙ্ক হিসেবে
এ কী মন, হাত পেতে সাড়ে দশটায় পাই প্রথাগত
ভাসমান পট !
অথচ সমস্ত ভেতরে চুপ হয়ে জেগে থাকে
অন্য কোন নীরবতা ।

শেষ বেলায় যজ্ঞে বসে সোজা রাস্তায় মুক্তিমূল্য পাইনি
বেমালুম নির্ঘুম ক্ষণকাল, বুক বেঁধে চলেছে ঈশ্বর—
এমনই ভাসমান ; তবু উচ্চারণে অনেক জ্বালা
কি হবে অন্য কোনো প্রার্থনা!
পায়ে-পায়ে ঘুরে আসা জমিন- আসমান
ছুঁয়েছি আদী সত্য স্পষ্টতর আঁকাবাঁকা সিঁড়ির উপমা…

তবুও মৃত্যু, ছুঁয়ে নাও শীর্ণ নদী একবার
এপার ওপার কৃতজ্ঞতা ফিরিয়ে দিয়েছি
দর্পণে তোমায়!
কাল যেন আদর করেছি ; তরঙ্গ তবু চিনতে পারিনি
এই চুপ নিঃশ্চুপ চোখে তুমিতো স্নান করেছো
জমিন- আসমান ছেড়ে…
কাল স্বপ্ন ছিল সঙ্ঘ হয়ে
ভেতর কেড়ে খায় চিন্তার জট—
এভাবে মৃত্যু কী শরীরহীন দূরে চলে যায়
মুক্তিফল পেকেছে জন্মদুয়ারে
কিছু চোখ অবিকল ভাসে অলৌকিক যের- যার
সমস্তক্ষণ প্রশ্বাস শব্দে ভ্রাম্যমাণ স্মৃতিরা
নদীকে প্রাচীন নামে ডাকেনি একবারও!

সুড়ঙ্গ ডোবে, সব কথা পোড়ানো তেষট্টিবার
একলা প্রদক্ষিণ করে নিজের শেষ দেহ ছাই হতে দেখি-
তবুও নিশ্চিত মরি, মরে যেতে-যেতে
নতুন জন্মের চিঠি গৃহস্থের ঘরে শঙ্খধ্বনি
তবুও বন্ধ ঘড়ির কাঁটা নড়ে— টিক-টিক-টিক
অসম একক !

সাতাশটা বছর শুধু যোগভ্রষ্ট একা নির্নিমেষ
তিন হাত মাটি ছুঁতেই স্মৃতি পলাতক
রাস্তার প্রবেশ পথে চৌখুপ্পি আমিও একজন
ঘুমহীন নির্ঘুমে অথই নির্জন…
বেশ ভালো সঞ্জীবনী অস্ফুট আঁধার
সেখানে পুড়িয়ে ফিরি নিজের আঁকার
কোথাকার পায়ের ধুলো আশির্বাদ ফিরিয়েছে
ত্রিপাদ ভূমিতে—
সমস্তক্ষণ নির্বাসনে মন ওড়ে বিড়ল আকাশে
ও কি মৃত্যু ? না কি স্বপ্নের প্রত্যন্ত শিহরণ
নবীন দর্পণে দোলে একুশ ভাগ সর্বনাশ এবং
যোগভ্রষ্ট বিনাশ!

কোথায় নিয়েছো ডেকে, চিনবো না অক্ষয় বিকেল
মাটির প্রণাম আঁকা চোখ ঢাকা নিভৃত সময়
আজ কি সময় হবে অঞ্জলি দিতে
ঘুমোচ্ছে ভেতরের শত শত কবিতার লাইন। ঘুমোচ্ছি
আমি…
শুধু জাগরণে চেয়ে আছে বিমূর্ত শয়তান!!
…………………………………………..

একমাত্র তোমাকেই

দুহাতের রেখায় জোড়বদ্ধ করমর্দন ছাপ;
বন্ধু, তুমি চলে যাবে?
অনেককালের জন্মঋণ ছিঁড়ে দেওয়ালের ক্যালেন্ডার
ভাসমান স্মৃতির ভেতর কোথাকার ৯-টা থেকে সন্ধ্যা
৬-টায় অতলান্ত দুঃখ বোধের বোঝা নিয়ে দুলে চলে!

হাতের কাছে সেই গ্লাস, সেই এ্যাস্ট্রে, টুকরো টুকরো
সিগারেট, পেপার ওয়েট, টেলিফোন রিসিভারে বাম –
হাতের পাঁচ আঙুলের স্পর্শ; এসব যেন তোমাকে
ভুলতেই দিচ্ছে না! বন্ধু…
এভাবে পেছনে যেতে-যেতে-যেতে প্রত্যন্তে ফুরিয়ে
যায় হাসি মুখের একান্নবর্তী বহুমুখী মানুষের শরীর—
নীল ফুল, টক-ঝাল স্বপ্ন, ছদ্ম আদর্শ, কিম্বা
রূঢ় অস্বীকারে বিমুখ প্রেম, এসব নিয়ে কথা হয় কিম্বা
না হয় কবিতার
তাই মনের ক্যানভাসে দাগ কাটি বহতা নিঃশব্দে…

বন্ধু আমার বুকের মধ্যে হাত রেখে দেখো; শুনতে
পাবে জল নূপুরের ধ্বনি…
চলে যাবে তুমি, কিন্তু গল্প তো শেষ করে গেলেন বন্ধু?
এই যে শিমূল শাখার ভেতর ভেতর কত কান্নার ভেজা
পাতারা ওই আকাশটায় তোমার নামে উড়িয়ে দিয়েছে
বিদায় সংগীত! তুমিকি আজও আমাদের পাশে চুপ
বসে আছো!!
…………………………………………..

তুলনা না করে

শেষ ঘুম অরণ্য জেনে গেছে
স্বপ্ন ফের চালু হলে; মহা প্রলয়ের মেঘ কথা মন খুলে
বৃষ্টি নামায় চোখের পাতায় !
এই ছবিটাই ক্যানভাসের ভেতর পাপ পাপ ব্যথায়
ভীষণ আরক্ত ও হীম…
তবুও গুপ্ত লজ্জায় নির্ঘুম ছিলনা জ্যোৎস্নার আবেগ
এইখানে মন পাতে হৃদয়ের সমস্ত কথা
এইখানে আজন্মের ঋণ পুড়ে ছাই হয়
অথচ শেষ পর্যন্ত ঘুমন্ত ঘুমে সজাগ থাকে নিরীহ বয়স!
এই দিনটার নামে আমি সুতো বেঁধে রাখলাম
পরবর্তী জন্মের পর থেকেই এর দিন গোনা সুরু হবে;
একথা আত্মার প্রত্যন্তে থাকা প্রাণী জেনে গেছে…
এই দেখ শেষ পর্যন্ত আমি মৃত্যুর মত নীরব হয়ে গেছি—
এখানে নামহীন পৃথিবীর কত লোকজন
এখানে স্পষ্ট না হওয়া দৃশ্য গুলো আমার বিভিন্ন
মুহুর্তের ছবি এঁকে আমাকেই দেখাবে বলে উদগ্রীব!
মোহনার মাটি ভিজে না থাকলে
কবিতার হৃদয় গোলতো কিভাবে?