ভাঙার নেশায় বুঁদ

ওরা ভাঙার নেশায় মত্ত হয়ে
করছে দলাদলি,
ভাঙছে পাহাড় নদী শহর
বাউল ভাটিয়ালি।

ভাঙার নেশায় বুঁদ ওরা
ওরা মত্ত অসুর,
ভাঙছে ভাওয়াইয়া
ভাঙছে ঝুমুর
ভাঙছে প্রাণের সুর।

ওরা সবার গায়ে দিচ্ছে লেপে
জাত পাতের ছাপ,
‘জাতের নামে বজ্জাতি’ আজ
বড় অভিশাপ।

ভাঙার নেশায় বুঁদ হয়েছে
ওরা তাই তো বেসুরা,
আমরা খুঁজি ভাওয়াইয়া ঝুমুর
প্রাণের গম্ভীরা।

ভাঙার মিছিল থামবে ওদের
আজ কিংবা কাল,
মানুষ হয়েই বুঝবে মানুষ,
ওদের মানুষ ভাঙার চাল।
…………………………………………..

রথ কথা

অকুলান হলুদের দূঃখে
কেউ কেউ যায় না
সোজা রথে,
অফুরান হলুদের সুখ মেখে গায়ে
রথের দড়ি টানে এক সাথে৷

সভ্যতার রথ চলে সোজা পথে
বৈজয়ন্তী পতাকা উড়ে পতপত
আকাশে৷

সব প্রেম এক হয়ে বাঁচে
সাগরে ফেলে দেওয়া নাভিতে,
দারুবৃক্ষ জগন্নাথ হয়ে আসে
শ্রীক্ষেত্রে৷

শ্মশানের কাপালিক মিছে রথ টানে
বিপরীতে,
ও পথে যাও না তুমি
যেখানে ভাগাড় শুধু আছে৷

আলোর বৃন্দাবন হয়ে যাক
হিংসার পৃথিবীটা
ভালোবাসায় ভরে থাক
মা যশোদার বুকটা৷
…………………………………………..

সাগর কিনারে

সাগরের জল উথলে উঠে
শুভ্র ফেনিল উচ্ছ্বাসে,
আকাশ মিশেছে সাগরের নীলে
বাতাস খুশির নিঃশ্বাসে।

বাতাস ভিজে সাগর চুমে
করছে আমায় আদর,
নোনা জলের মাদকতায়
মিহি বালির কদর।

সাগরের জল ফুল হয়ে ফুটে
ঢেউ গুলো পড়ে লুটিয়ে,
সৈকত ভিজে নোনা জলে
পায়ের পাতা ভিজিয়ে।

জলের ঘর বুনছে সাগর
জলের চাদর বিছিয়ে,
সুখ অসুখের সব গাঁথা আছে
সাগরের বুকে লুকিয়ে।

ঝাউয়ের বন দোলায় মাথা
বাতাস ছোটে মিছিলে,
আলোর মেঘ রঙ মেখেছে
আকাশ ঘন সুনীলে।

নোনা জলের গভীরতায়
জল পরীদের কল্পনা,
সাগর পাড়ে বসে আঁকি
নীলাম্বরীর আল্পনা।
…………………………………………..

অপেক্ষা

হুইশেল ফুকে ট্রেন ছুটে
লোহা বাঁধা অজগর পথে,
এক প্লাটফর্ম মানুষ ঘুমিয়ে আছে
অপেক্ষার রাতে।
ঘুমন্ত চোখে খুজিঁ মন তোমাকে,
থমকে যায় কখনও দুরন্ত পথের বাঁকে

ফুটন্ত সকাল ভিজে
বৃষ্টির আটপৌরে পোশাকে,
এক ঝাঁক রোদ্দুর নাচে
আকাশের বুকে।
…………………………………………..

স্বপ্নের উঠোনে

এক আকাশ রৌদ্দুরে
পুড়চ্ছে মাটি
ঘামে ভিজে বাতাস
হচ্ছে খাঁটি৷
রৌদ্দুর মেখে গায়ে
মেঘেরা এখন সাগর স্নানে
বাতাস বাঁধবে ঘর এখুনি
মেঘেদের বাথানে৷
আলোর ভালোবাসা দেখি
সিরাস মেঘের পালকে
প্রিয় মুখ খুঁজি আমি
আকাশের গোলকে৷
কিছু ব্যথা বৃষ্টি হয়ে ঝরবে
বাতাস ঘূর্ণী হবে যেখানে
জলজ মেঘ ফুল হয়ে ফুটবে
স্বপ্নের উঠোনে৷
…………………………………………..

আলোর আরামে

রোদে পুড়ে পিচ্ছিল
ঘর্মাক্ত পিঠে
শীতল বাতাস বয়,
অলস দুপুর বুড়িয়ে হয়
আলোর ক্ষয়।
প্রজাপতি বসেছে সবুজ মখমলে
পাখিরা ফিরেছে ঘরে,
সাজিয়ে থরে থরে
রাতের প্রহর।
সাদা ধব ধবে এক ঝাঁক বক
উড়ে যায়, সুনীল আকাশে,
পা ফেলে কবুতর,
ভাঙা কার্নিশে নির্ভয়ে

এয়োতি দিয়েছে ফুঁ শাঁকে
শব্দ উড়ে যায় হেসে
ফুঁয়ের বাতাসে।
তারাদের আলো খুঁজি
মেঘেদের বৈয়ামে।
ক্লান্ত চোখ দুটো মুদে আসে,
সান্ধ্য প্রদীপের আভা মেখে
আলোর আরামে।
…………………………………………..

এ ভূগোল আমার ছিল

এ সবুজ আমার ছিল
ছিল রাঙা ভোর
এ পাহাড় আমার ছিল
মেঘে ঘন ঘোর।

এ আকাশ আমার ছিল
রঙের মহল,
এ মেঘ আমার ছিল
বৃষ্টি পাগল।
এ নদী আমার ছিল
স্রোতে টইটম্বুর,
এ সাগর আমার ছিল
ঢেউে ভরপুর।

এ বাতাস আমার ছিল
বাঁচার স্তর,
এ ভূগোল আমার ছিল
সবুজ ঘর।
এ মাটি আমার ছিল
মনের গান,
এ বৃষ্টি আমার ছিল
সৃষ্টির প্রাণ।
এ শীত আমার ছিল
ঋতুর কদর,
এ ফাগুন আমার ছিল
প্রিয়ার আদর।

এ পথ আমার ছিল
ঘাসের শিশির,
এ চাঁদ আমার ছিল
আলোর ক্ষীর।

এ নদী , পাহাড় এ আকাশ, এ বাতাস
হয়ে গেছে আজ পর,
সব কিছু ভেঙ্গেছি বিষাক্ত নিঃশ্বাসে
গড়েছি শখের ঘর।
…………………………………………..

রোদ্দুর

নিঃশব্দে নর্তকী হয়েছে
রোদ্দুর,
পথে পথে নির্জনতা পুষেছে
দুপুর।

প্রিয় মানুষের নাম লিখেছি
ফুলেদের সজ্জায়,
তোমার শরীর ঢেকেছে তখন
রমণীয় লজ্জায়।

এক বন সবুজে করেছি
এক নদী গণ্ডূষ,
আলোর ছায়ায় করেছি
রোদের ধুরমুস।

এক ফালি রোদ যত্নে রেখেছি
মেঘেদের ঝুলিতে,
কিছু স্মৃতি হয়ে যাক রোদ্দুর
সূর্যের আলোতে।
…………………………………………..

জীবাশ্ম প্রাণ পায়

তোমার জন্মের ঠিকুজি খুঁজি
মাটি চাপা পাথরের জঠরে,
যন্ত্রণায় লাল হয় শরীর
ম্যাগমার গহ্বরে।

একটা টেথিস চাপা পড়া পলিতে
ফুল হয়ে ফুটছে,
সাগরের ঢেউ যেন সব
পাহাড়ের ঢেউ হয়ে খেলছে।
ঢেউ ভেঙে জল আজ
পাহাড়ের বুক ধরে হাসছে
ভোরের পাখিরা অবসরে
কতো গান গায়ছে ।

মেঘেদের নীল খামে
সাগরের বাস্প ঝরছে,
নদী হয়ে সব স্রোত
যেন ঝুঁটি বাঁধছে।

বোবা কান্নার নোনা জল
ইতিহাস লিখেছে সাহসে,
জীবাশ্ব প্রাণ পায় সহজে
পাথরের বয়েসে।
…………………………………………..

চাকরির মুখটা

সাধারণ জ্ঞান ভরে
মগজের খুলিতে,
প্রশ্নেরও ঘর ভরি
ঘন কালো কালিতে।

প্রশ্নের বাণ ধরি
নিজ নিজ তালুতে,
চাকরির ফল পাকে
জানি চোরা গলিতে!

যন্ত্রণায় নীল হয়
বেকারের বুকটা,
হিম পড়ে জমে গেছে
চাকরির মুখটা।