শপথ

তোমাকে আমি দেখেছি গভীর সুখে
ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছি তোমার চোখে মুখে

হাত বাড়িয়ে টেনে নিও তোমার হৃদয় মাঝে
অন্তরেতে রাখবো তোমায় আমার কাছে কাছে

ভুল করে দিওনা কষ্ট দিওনা দূরে ফেলে
ছোট্ট থেকে কেউ আমাকে ভালোবাসেনি বলে

বুঝেছি তোমারও আমার মতো কষ্ট অনেক আছে
তাই তো বলি তুমি আমি থাকবো কাছে কাছে

বাধা আসবে জেনেও সামলে তুমি নেবে
তোমার মতো আদব কায়দা শিখিয়ে তুমি দেবে

পরস্পরের এই শপথটি দুটি হৃদয়ে যদি থাকে
রক্তের সম্পর্ক ছাড়া এই শপথ টিকে রাখে।
…………………………………………..

পান্তা ভাতের গন্ধ আসে

পুকুরপাড়ে মায়ের শরীর ঘিরে গোবরের দাগ
মাঝেমধ্যে বাতাস গিলে
ছেঁড়া কাপড়খানা পরে বাড়ি -পুকুর হেঁটে চলে ভাতের খোঁজে।

পান্তা ভাতের টক গন্ধ বারান্দা থেকে ভেসে আসে
মাটির দেওয়ালের পাশে অলৌকিক হাত
যে হাত স্নেহময় আদরের।

দুঃখ মহাকাল হয়ে জন্ম -মৃত্যুর নিজস্ব চিহ্ন মাখে
যেখানে জন্মের পর
পৃথিবীর জাগতিক নিয়মে পরিচিত
সেখানে মৃত্যুতে শেষ হয়ে যায়

এই জন্ম -মৃত্যুর নিজস্ব প্রেম কি করে পাবে?
এই রহস্যময় ঘেরা পৃথিবীর কিনারে
আজও পান্তা ভাতের গন্ধ আসে।
…………………………………………..

তুমি

তুমি যখন আমার কাছে এলে
তোমার দুচোখে দেখেছি সীমার মাঝে অসীম
আমার হৃদয়ে তুমি ভালোবাসা দিলে
রাত্রিময় আকাশে তোমার দান অপরিসীম।

বেদনা আর কষ্টে গড়া তোমার শরীর
চিন্তার মাঝে খুঁজে পেয়েছো আমায়
তুমিই প্রতীক আমার পৃথিবীর
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আমি শরীরের অর্ধেক দেবো তোমায়।

কতবার তুমি আঘাত খেয়েছো কাঁটার
কতবার তুমি ধরেছো বেদনার গান
হৃদয়ে শূণ্যতার সুর পেয়েছো কতবার
তোমার সান্নিধ্যে আজ পেয়েছি অপরূপ ঘ্রাণ।

জীবনে ধরে রাখো জয়ের সাক্ষর
এ তোমার সব চেয়ে বড়ো পাওয়া
আমি তোমার হয়ে করবো ঝঙ্কারমুখর
তোমার কাছে শুধু এই টুকু চাওয়া ।

অন্ধকার থেকে আলোর পথে এলে
তোমার মুখে তবুও মধুর অস্ফুট সুরে
অস্থির অবগাহনে ডুব দিয়ে তুমি গেলে
চিরকাল তুমি যেন আমাকে ছেড়ে যাবে না দূরে।

যা কিছু তুমি- আমি ভাগ করে নেবো
আমার ভালোবাসায় খাদ নেই জানো
তাই আমি তোমায় সাথে পত্রপুটে খুঁজে যাবো
যেখানে তুমি, তোমার স্পর্শে ভালোবাসা দেবে।
…………………………………………..

হিসেব

জন্মে মায়ের সাথে
হিসাব হাতে হাতে
কৈশোরে পড়াশোনা
হিসেব হয়ে যায় জানা
পড়ার শেষে একটা চাকরি
হিসেব কষাটা একদম জরুরি

সম্পর্ক ঠিক কি রক্তের?
এটা বলা একেবারে শক্তের

বিয়ের পরে বৌয়ের হাতে
হিসেব তুলে দেয় সাথে সাথে
মা, বাবাকে ছেড়ে শহরে
চলে গেল বৌয়ের হাত ধরে

সম্পর্ক তো ছিল রক্তের!
সারা গায়ে দাগ এখন ক্ষতের

আত্মার টানে ভালোবাসা ফেরে
রক্ত সেখানে মিলবে না একেবারে
সারজীবন এই ভালোবাসা
তোমার আমার মেটাবে আশা

ভুল করে আঘাত দেবে না মোটে
চিরকাল যেন তোমাকে নিয়ে কাটে

আপন যদি হিসেবে আপন হয়
পর তবে হিসেবহীন পর নয়।
…………………………………………..

ফাগুন হাওয়ায়

দুরন্ত ফাগুনে প্রকৃতির আবেশ
পোশাকে মোড়া লাল পলাশের
বসন্তও মেতেছে বিচিত্র রঙে
সারা শরীরে লেগেছে রঙ গাছেদের বুকে
একবুক ভরসা শুধু বসন্ত প্রেমের

অথচ,
আকাশে গাঢ় মেঘ সেজেছে ঘন কালো রঙের
তুমি হীনতায় ভেসে নতুন স্বপ্ন দরিয়ায়
শীতের কাছে আসবে না বলে
তবুও শীত আবার ফিরে আসে
তোমার বুকের ভেতর
শুধু একরাশ উষ্ণতার অভিনন্দন
আমার নিঃশ্বাসে ঘুরেফিরে আসে
এলোমেলো ভাবে
এখনও খুঁজে বেড়াই লাল পলাশের ঝোপে
নেচে উঠেছে আমার শরীরী প্রেমে
রংবেরঙের আতসবাজি

ফাগুন হাওয়ায় খেলছি রঙে
প্রেমের শরীর জ্বলছে পুড়ে
তুমিহীনতায় এখনো বিনিদ্র রাত কাটে ।
…………………………………………..

দুঃসময়

দু’দিন আগে ভালোবাসার
কথা হলো
রাতের চাঁদ আড়িপাতে
সমস্ত কাজ ফেলে গনতন্ত্রকে ভালোবেসে
রাতে পৌঁছেদেয় নির্বিবাদে

সকাল হতেনা হতে বেলপাতা আসে ভেসে
সব ভুলে ধরি এক এক করে
সহসা ঝড় ওঠে অজানা বাতাসে
নিজ চেষ্টায় নির্ভয়ে সরে যায় একটু দূরে

লুটিয়ে পড়ে তাজাতাজা রক্তে ভেসে
স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে আকাশে চেয়ে ভাত মাগে
তিন টুকরো হয় শরীরের অবয়ব
এই কাজ কি আজ গনতন্ত্রে লাগে?
…………………………………………..

আঘাত

-সেই ছোটো থেকেই
অভাব, অনটন , দৈন্যতা
আমাকে গাছ হতে ভাবিয়েছে
-আমার মায়ের আঁচল মায়ের হাঁটা মায়ের অভাব
আমাকে সমুদ্র হতে শিখিয়েছে
-আমার শিক্ষা, আমার নীতি , আমার ভাগ্য
আমাকে মানুষ হতে শিখিয়েছে

আসলে এসবের পেছনে আমার মা, আমার চেষ্টা আমার শিক্ষা

সব পেয়েও আঘাত, বেদনা আমাকে ক্ষত বিক্ষত করেছে

তারপর তোমার স্পর্শ
মুহূর্তে ভালোবাসতে শিক্ষা দিলে
কাছে অনেক কাছে
হৃদের গভীরে আমার শেকড় তোমাকে ঘিরে

শুধু ভয়ে ভয়ে থাকি আঘাতের

ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছে দুজনের শক্ত শেকড়।
…………………………………………..

হৃদয়

আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ
রাতে সব পথ চেনা চেনা লাগে
মায়াবী ভালোবাসা কিছুটা চেনা যায় কিছুটা যায়না
রাতের সবুজবীথি হৃদয় ঘিরে
জ্যোৎস্নার গভীর আলোকে অস্পষ্ট হয় ভালোবাসা
চাওয়া পাওয়ার আবর্তে ঘুরপাক
আদর, অনাদর মাখা হৃদয় থেকে ভালোবাসা সরে যায়

রাত কেটে ভোর আসীন
হৃদয়ে ভুল ভাঙে
ক্রমশ হৃদয়ে হৃদয় মেশে
দূরত্ব আর বাড়ে না

আসলে আমার হৃদয় তোমাকে দিয়েছি
আজীবন ভরে ।
…………………………………………..

অভিজ্ঞান

রাতের সংকেত গ্রাম যতখানি শহরে যায়
আপনার অভিজ্ঞান নিয়ে
আমারও মনে আশা জ্বলে
মনেহয় লোকশ্রুত হবে তোমার মাধ্যম
আমার সবিনয় নিবেদন
আপনার ভূমিকা ঢের বেশি হবে
আমার মধ্যে নিস্তব্ধতা ভেঙে দিয়ে
অভিজ্ঞানের আলো তুলে ধরুন
পৃথিবীতে বেঁচে থেকে অনাবিল অভিজ্ঞান

যা শুধু স্থির মোম হয়ে জ্বলে
আমার আনাচে, কানাচে ।
…………………………………………..

বৃত্তের ভেতরে

অক্ষরে-অক্ষরে সাজিয়েছি অভিনব করে
তুমি তখন এলে আমার অন্তরে
উড়ালে হাওয়ায় হাওয়ায়

আশ্বাসবাণী তোমার চোখে মুখে
তাকিয়ে তুমি আমার মুখের দিকে

বৃত্তের ভেতরে তুমি কাছে যদি ডাকো
তোমার স্বপ্ন স্বাদ পূরণ হবে দেখো।
…………………………………………..

ঘুমের মধ্যে মা আসে

নিশিরাতে ঝড়ো হাওয়া জানালা দিয়ে হুহু করে বইছে
মায়াময় বিষাদে পূর্ণ রাতের আকাশে চুপচাপ বসে চাঁদ
আমি ঘুমের ঘোরে স্বপ্নের ভেতর মা কে দেখি সারারাত

অন্ধকারে মায়ের মুখ স্পষ্ট বোঝা যায় না
তবে আগের মতো বুকে সর্দি বসে। বেশ খারাপ হয়ে গেছে শরীর।
দীর্ঘ কথাবার্তায় কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ

হটাৎ জোর হাওয়ায়
মিলিয়ে যায় মা আর কথাগুলো

চঞ্চল হয়ে বিছানা ছেড়ে মা’কে ডাকি
কারা যেন অন্ধকার জানালা ধরে বাতাসে বলে যায়-

মায়ের ভালোবাসা
আর হাতের আদর ঘুমের মধ্যে মায়ের স্বপ্ন বাতাসে ছড়িয়ে।
…………………………………………..

চাঁদের পেছনে লুকিয়ে মা

অন্ধকারে বাবলা ফুলের গন্ধ ভেসে আসে
আমার মাটির ঘরের পাসে
আমি তখন চাঁদের আলোয় মা কে খুঁজছি বসে

গভীর রাতে নক্ষত্রেরা গুনগুন সুর ধরে
চেয়ে দেখি চাঁদের পেছনে
লুকিয়ে বসে মা
বলছে আমায় মা যে শুধু –
“তোর পাশেই আছি চিরকাল”।

এই আনন্দে ঘুমিয়ে পড়ি
সকাল হয়ে যায়।
…………………………………………..

মায়ের রান্নাঘর

বৃষ্টি ভেজা খড়ের কুঁড়ে ঘর
উপর থেকে জল চুঁয়েচুঁয়ে
মায়ের রান্নাঘরে পচাগন্ধ ছড়ায় আর উনুনের সামনে জল ঘিরে রাখে
সারা ঘরময় বঙ্কিম ধোঁয়া
মায়ের শরীরে ঢোকে

সংশয় থেকে দুঃখ বারে বারে চোখে মুখে ধরা পড়ে
কেরোসিনের লম্ফ
ঝড়ো হাওয়ায় নিভে যায়
নাক দিয়ে সর্দির স্রোত

সারা শরীরে ধোঁয়ার কলঙ্ক আঁকা
উদ্বেগ নিয়ে বাইরে যখন মা,
তখন সবাই ভুখা পেটে মাটিতে শুয়ে

চিৎকারে করে ডাকে
পরম আদরে ফ্যান ভাত
থালা সাজিয়ে

মা কাঁদে রান্নাঘরে ডুকরে ডুকরে ।
…………………………………………..

তোমার মুখে হাসি দেখে

কতগুলো ঝড় সামলে
ফণী ঝড়ের সামনে পড়েছিলে একেবারে
চোখে মুখে বিষাক্ত বিষের ছোবল যেন

সারাদিন দূরন্ত ঝড়ের তান্ডবে তোমার শরীরে গভীর বিষন্নতার ছাপ

যা আমার আরশিতে মেঘের ছায়ায় ধরা পড়ে
বিপন্ন-বিস্ময়ে সারারাত প্রদীপ জ্বালিয়ে বসে থাকা

এইসব শুধু তোমার সাথে শেয়ার করে নেবো বলে
তোমার ভালোটা একান্ত ভাবে চেয়েছি

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে
একটা সাহসের গন্ধ ফোনে ভেসে আসে
সারাদিন আমলকী রোদে তোমার বিষাদময়তা কেটে যায়
তোমার চোখে মুখে সূর্যমুখীর দীপ্তি
শরীরে এক নতুন প্রেমের আবেদন

কতদিন পরে
তোমার মুখে হাসি
আবার সেই আগের মতো

কতগুলো আনন্দ তোমার হাসিতে আমি খুঁজে পাই
আজ…৪ঠা মে।
…………………………………………..

মায়ের মৃত্যুতে পাখিরাও কেঁদেছিল

শীতের এক ভোরে
মায়ের মৃত্যুতে সবাই যে যার মতো শেষ নিবেদন জানায়।
পুকুর থাকে কুয়াশা মাখা আশঁটে গন্ধ পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে
মা শুয়ে উত্তর -দক্ষিনে
সহসা শীতের মধ্যে জমে যায় ভীড়
খালি গায়ে মায়ের পা চোখের জলে ভিজে যায়
মেয়েরা , বৌমারা শীতভোরে কেঁদে যায়
গাছে গাছে পাখিরা জেগে ওঠে
যারা এতোদিন খেলা করেছিলো মাঠে, বাগানে আর বাজারে
উঠানে মুড়ি ছড়িয়ে মনের কথা বলতো
তারাও কুয়াশার ভোরে কেঁদে ছিল সেদিন
সে দিন মা উত্তর – দক্ষিণে শুয়ে চিরনিদ্রায় ।