সময়

সময় করছে শাসন,
বলছে -“সমঝে চলো “!
সময় করছে বারণ,
বলছে একটু ভেবে বলো!
সময় আঁকছে ছবি,
নিখাদ অস্থিরতার –
সময় দিচ্ছে ডাক,
ভাল করে ভাববার!
…………………………………………..

কথা দিলাম

আমার অভিমানের কবিতাগুলো
তোমাকে দিতে চাই!
অবজ্ঞার ঝুলিতে রেখো না,
পরাজয় হবে তোমার!
সব কবিতা তোমারই গন্ধমাখা –
অতীতের সরণী বেয়ে,
ভালবাসার আলাপন এঁকে,
তোমাকে লিখেছিলাম!
কবি ও কবিতার মৃত্যু হয় না,
কবিতাগুলোর গন্ধ নিও, মাঝেমাঝে…
নিরাশ হবে না, কথা দিলাম!
…………………………………………..

গভীর রাতে একদিন

এখন রাত গভীর-
ঝিঁ ঝিঁ পোকা ঝিমিয়ে,
বলতে পারছি কই-
“এই রাত তোমার আমার “!
এখন রাত গভীর-
কেউ বলছে না,
“জাগতে রহো”!
কবিতা জেগে আছে
একটু হাসি, একটু কথা
তোমাতে জড়িয়ে আছে
“এই শুনছ, তোমার কবিতা লিখছি
জানালা খুলে রেখো “!
…………………………………………..

মনে পড়ে

বর্ষার জমা জলে
কাগজের নৌকা-
আজও শিহরণ জাগায়!
খেলার মাঠে কাকভেজা বিকেল
টিউশানিতে মগ্ন!
লাটাই হাতে কিংবা কুমীরডাঙায়
চু কিত্ কিত্…
কেরিয়ার-শিল্পের আঙিনায়
প্রতিভার ছাঁচ তৈরী!
প্রতিধ্বনিত হয় না- “খোকা, মানুষ হ’! “
…………………………………………..

সময়ের ছবি

চলো, সময়ের ছবি আঁকি
ভাতফোটানো দুপুরের
রোদ্দুরমাখা ক্যানভাসে!
মহার্ঘভাতায় জীবন নেই
কাঁধে ঝোলানো ব্যাগে দু’চারটে রাত উঁকি দেয় মোমবাতি-র খোঁজে!
সময় আছে এখনও-
চলো, সময়ের ছবি আঁকি!
…………………………………………..

ওরা ঘুমায়

অনবরত পদচারণা ত্রস্তগতিতে,
এদিকওদিক চাউনি-
মুখগুলো কেমন যেন চিন্তার মোড়কে!
অস্বস্তিকর বাতাবরণ, চারিদিকে ফিসফাস, হিসেব বুঝে নেওয়ার ফরমূলা, শান্তি বিঘ্নিত!
স্বাধীনতার ক্যানভাসে হুকুমনামার বিভৎস আঁচড়! না, কেউ শব্দ করবেন না-
ওরা ঘুমচ্ছেন!
…………………………………………..

মা

স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে মা আসেন
ভাবনার ক্যানভাসে মা আসেন
কবিতার মলাটে মা আসেন
আমার ভাষা-মা, আমার তুলসীমঞ্চের মা, আমার রাতজাগা-মা!
শেকল-খোলা তোতাপাখি নয়
আমিই মা’কে খুঁজে বেড়াই
কবিতার নিউক্লিয়াসে!
…………………………………………..

চালচিত্র

সোহাগের কেন্দ্রবিন্দুতে ঝোড়ো বাতাস,
বিষাক্ত বায়ুমন্ডলে হেঁটে বেড়ায় পঙ্গপালের সারি!
পতাকা অর্দ্ধনমিত, বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাহিত! তোপধ্বনি, পাখি উড়ে গেল!
আড়ভাঙ্গা সকালে সংবাদের শিরোনামায় ঝলসানো বিজ্ঞাপন -মাদকদ্রব্য! নেশাগ্রস্ত সব!
ফসল নষ্ট, পঙ্গপালের ক্ষিদের চাবুকে!
আরও এক কৃষক শহীদ….
পতাকা উড়ছে -পত্ পত্, পত্ পত্!
…………………………………………..

আমার কবিতা

জীবন-নদীর ঢেউ আমার কবিতা
শ্লেট-পেনসিলে অ আ ক খ আমার কবিতা
মায়ের ব্রতকথাপাঠ আমার কবিতা
তুলসীমঞ্চের প্রদীপ আমার কবিতা
বাবা-মায়ের চিতার তাপ আমার কবিতা
আমার অন্তিমকাল আমার কবিতা

এই যে কে আছো, আমায় কবিতার কাছে নিয়ে চলো…
আমি কবিতার কাছে নতজানু থাকতে চাই!
…………………………………………..

কবিতার নীরবতা

চলো আকাশপথে…
এ বাতাস বিষাক্ত, এ বাতাস রক্তাক্ত
বাতাবরণে ভালবাসার আর্তনাদ!
সব শব্দের চিতার আগুনে কবিতা জ্বলছে –
কত মায়ের চোখে জল, কাঠগোলাপের গন্ধে বারুদের বিস্ফোরণ!
আমাকে তুলি দাও –
কবিতার নীরবতা আঁকব!