বেইমান প্রিয়া

কেমন করে যে ভুলবো তোমায়
আবারও নতুন স্বপ্ন জাগে,
উতলা অন্তর আজ গুমরে মরছে
চিরস্থায়ী মৃদু সোহাগে।

ভিন্ন ভূমিকায় তোমার প্রেম ছিল
ললাটে ভূমিহীন ফেনা,
দ্রুত তরঙ্গের শাপলা ফুল গলিত
হাতের তালুতে বিষাক্ত হেনা।

ছন্দ আঙিনায় মন সাজাতে গিয়ে
আজ হঠাৎ রক্তের অভাব!
চঞ্চল ছলনা আঁখি খুবই বেইমান
তাই ছিলনা কোনো জবাব।

মনের কূল কিনারে রক্তিম আবীরে
সাজিয়ে নিয়েছো সিঁথি,
অসহায় প্রেমিক আজ উত্তপ্ত পিচে
ছ্যাঁকা খেয়ে, মারণ বীথি।

চাহিদা পূরণে, নিরট প্রেমের শপথে
হারিয়েছো শ্রাবণ,
তবুও অবাধ্য মন বড়োই ব্যাকুলতা
কেমন করে বলো বাঁচায় জীবন?
…………………………………………..

সজনী

স্বপ্ন পরীদের মতো আগমন তোমার ,তাই রজনীর ক্লান্ত ঘুম আজ রাতচরা;
সময়ের ছলে ছলে কখন যে ভাঙা মন তোমায় ছুঁয়ে নিয়েছে তা অজানা তথ্য।
লাল শাড়িতে বেশ মানিয়েছে তোমায়;
আর কাজল বিহীন চোখে যেন অপরূপা।
আজ তোমার কপালের কালো টিপ যেন পূর্নিমার পরিপূর্ণ চাঁদ,
মৃদু ঠোঁট লাজুকে ও রক্তজবা,
আলতো পায়ের পদধ্বনি যেন হৃৎপিন্ড গতিবেগে ঊর্ধ্বগামী।
শুষ্ক লম্বা কালো চুলে আমি প্রেমিক সাজতে চেয়েছি,
বাহুডরে যে লাল সুতো বরাবর রয়েছে তা দিয়ে বেঁধে দিতে চেয়েছি এক জন্মের সোহাগী রাত,
কিন্তু তুমি হয়তো বারবার মেনে নিতে পারোনি আমায়,
মেনে নিতে পারোনি আমার দামাল চোখের অবাধ্য ভাষা,
আমার মনের আনমনা কথা,
মেনে নিতে পারোনি আমার ব্যর্থতা গুলো,
আরও হয়তো অনেক কিছু..
সব কিছু ভেদ করে তোমায় একটু ভালোবাসতে চেয়েছি,
তোমার কাছ থেকে একটু জীবন পেতে চেয়েছি,
কিন্তু তুমি কোথায়?
মন কে প্রশ্ন করে তোমার বিচিত্র প্রভাব রাখতে পারো আমার বুকে।
আমি তাকিয়ে আছি তোমার গৌরব রেখায়..
…………………………………………..

বিষাক্ত ছোবল

কাঁচা উনুনের তাপে তোমাকে অচেনা মানচিত্রে আজ ঝাপসা দেখি,
রক্তাক্ত ডাইরির পাতা আজ শেষ ঠিকানায় রোজ অপেক্ষা করে তোমার জন্য।
সবুজ ছায়া জঙ্গল ভয় পায় তোমার বিষাক্ত ছোবল,
আর তোমার পদধ্বনি যেন কলিকালের বসন্ত প্রেম।
পাঁচ বছরের প্রেমের থেকে পাঁচ দিনের পরিচয় ধ্বংস করেছে প্রেমিকের ঋজু অন্তর।
জানি তুমি আসবে না,
তুমি আসতেই পারনা,
তবুও ক্ষমতাহীন অনুরাগে ভালোবাসি তোমায়।
কিন্তু মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণা ব্যক্তিগত দুই পৃথিবী,
ভুবন ত্রিভুবন কেঁপে ওঠে তোমার চিরুণদাঁতী হাসিতে।
চোখের ভাষা আজ সর্বনাশা,
জানি তোমার মনের ভেতরে বেগমাত্রায় জেগে উঠেছে অবহেলা আর হিংসা।
অভিনয় রুটিন বাতাসের কোলে ভেসে বেড়ায়,
বারবার ঠোঁট নাড়াচাড়ায় শব্দ তৈরি হয়, আর কালো তালিকায় ছড়িয়ে যায় আমার নাম।
তোমার মৃদু প্রভাব আজ মরুভূমির ফণিমনসা,
আর শব্দভাণ্ডারে যতো সব কথামালা সবই মারণরোগ..
…………………………………………..

আসবো না আর ফিরে

হঠাৎ করেই যাবো চলে
আসবো না আর ফিরে,
পর্দা জুড়ে আবছা আলো
আসবে সেদিন ঘিরে।

অজানা পথ,অজানা মাঠ
আপন করবো আমি,
সাথী হারা পাগল প্রেমিক
বুঝবে কতো দামি।

তোমার তরে, তোমার চোখে
মায়ার নেশা বন্দী,
কাল্পনিক প্রেম আসবে কাছে
পারলে করো সন্ধি।

সোনার খাটে উঠবো সেদিন
মৃত্যু হবে সাথী,
অহংকারের শেষ ঠিকানায়
জ্বালবে একটা বাতি।

স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আশায়
গুমরে মরি আজ,
আর কিছু দিন পরেই দেখবে
যাত্রা পথের সাজ।

…………………………………………..

মনের সংগ্ৰাম

সে কবেই হয়েছে দূরত্ব;
মনের কালিমায় ব্যর্থতা গুলো আজও রক্ত জবা,
তোমার খোলা চুল আমার সাহসী চওড়া বুকে ঝাপটা দেওয়ার জন্যই হয়তো এলোমেলো..
তোমার মনে মন ছুঁতে চাইলেও হাজার হাজার পর্বত স্তূপের বুক ভরা যন্ত্রনা;
আর তোমার দৃষ্টির আঙিনা আজও আকাশ রাঙাতে চাই।
বাজ পড়ার সশব্দে যখন রাতে ঘুম ভেঙে যায়,
তখন তোমাকে বাহু ডরে বেঁধে রাখার জন্য হৃদয় জুড়ে শুধুই অস্থিরতা আর অস্থিরতা..
আর বৃষ্টি শুরু হয় কোলাহলে।
মহাজাগতিক টানপোড়েনে যদি প্রেমিকের আর্তনাদ শুনতে পাও,
তাহলে একবার আমার প্রেমিকা হয়ে যাও..
…………………………………………..

কিসের টানে?

মনটা দেখো শান্ত ভারী
তুমি কেন বিবশ?
যতোই করো টলমল তুমি
পাবে না যে দিবস।

এই রজনী বিষাক্ত প্রেম
বাহুডরে বন্দী,
মনে রক্ত জমায়েত আজ
হাজার হাজার গন্ডি।

পাহাড় তুমি কেন উঁচু?
কেন চোখে বৃষ্টি?
তোমার হৃদয় কোন আঙিনায়
কোন আকাশে সৃষ্টি?

এই শতদল ক্ষমতাশীল
আসবে নতুন প্রভাত,
নাটক খানি যতোই করো
মানুষ পাবে আঘাত।

অনুভূতি সবার মনে
পশু হোক বা মানুষ,
ভ্রমর ফুলে বসে কেন
জানলে হবে বেহুশ।

অনায়াসে সুখের জীবন
হেসে খেলে কাটে,
উত্তাল ঢেউয়ে মাঝে মাঝে
দুর্দম হিয়া ফাটে।
…………………………………………..

নতুন স্বপ্ন

প্রেম আসক্ত ওই রজনী
তোর জীবনে এলে,
কষ্ট ব্যাথা শুধুই পাবি
বাস্তব যাবি ভুলে।

মন বাঁধা যায় মনের জোরে
নয়ন বড়োই বেইমান,
নগ্ন স্মৃতি আসবে ভেসে
স্বর্গ হবে সমান।

অভিশপ্ত চিত্র কান্ড
নিঃস্ব হবে আবেগ,
প্রেমের পথে সাফল্য নেই
উড়ে যাবে বিবেক।

অন্যায় কাজে প্রতিবাদ কর
সঠিক মানুষ হোবি,
যতোই বছর এগিয়ে যাক
পুবে উঠবে রবি।

স্মৃতি ভুলে আলো এনে
নতুন জীবন গড়,
বাঁচার মতো বাঁচাতে চাইলে
সাফল্যের হাত ধর।
…………………………………………..

উপায় নাই

সম্পর্ক আজ টাকা দিয়ে
মায়া দিয়ে নয়,
প্রয়োজন শেষ হলেই তবে
নানান কথা কয়।

ভালোবাসা চুলোয় গেছে
নীল নগরের জল,
ফাঁদে পড়া পাখির মতো
হারিয়েছে বল।

নয়ন থাকতেও অন্ধ মানুষ
কুসংস্কারে ধ্যান,
সত্য মিথ্যা বিচার করো
তারপরে দাও জ্ঞ্যান।

অহংকারের ছোট্ট বাসায়
কাল কোলাহল পাই,
টাকার লোভে লোলুপ হয়ে
আঘাত করে ভাই।

ভবের মাঝে সাত সমুদ্রে
বেপাত্তা আজ প্রেম,
মানুষ হয়ে এলাম যখন
খেলতে হবে গেম।
…………………………………………..

অনুবল

তাকিয়ে দেখে সংসার জীবন
অভাব বড়োই সঙ্গী সাথী,
জীবনের লড়াই লড়ছেন যিনি
তাদের বুকে মারছে লাথি।

আঁধার কেটে আলো যখন
নিয়মমাফিক নেমে আসে,
পেটের খিদে না মিটিয়ে তিনি
অর্থের পেছনে চিৎকার ভাসে।

লাল সিগন্যাল ভাঙতে ভাঙতে
নেই কোন জয়ের সন্ধান,
কষ্ট, ব্যথা আসে শরীর জুড়ে
তবুও যথাসময়ে দেবে যোগদান।

মাথার ঘাম সব পা’য়ে ফেলে
সত্য জীবনের নোঙর চলন্ত,
হোঁচট খাওয়ার পরেও এখন
অভাব রয়ে গেছে ঝুলন্ত।

মানসিক চিন্তা বড়োই ক্ষতিকর
মন গলে যায় উষ্ণ আঁচে,
যতোই শতাব্দী যাক পেরিয়ে
শ্রমিক শ্রেণী একটু একটু বাঁচে।
…………………………………………..

প্রত্যাশা

প্রেমের মানে বড্ড কঠিন
সহজ ব্যাপার নয়,
রুপের মায়া থাকলে পরে
পরিপূর্ণ হয়।

দিক দিগন্ত মালভূমি আজ
হয়েছে এক খাল,
প্রেমিক যুগল অসহায় আজ
অনাগ্ৰহ জাল।

মনের কান্না বুঝবে না আজ
এই পৃথিবীর লোক,
সুযোগ পেলে অভিনয়ে
পাল্টে দেবে ঝোঁক।

নিরত মন ক্লান্ত ভীষণ
তাহার দেখা চাই,
হাজার ভিড়ের মাঝে গিয়েও
সন্ধান পেলাম নাই।

ভ্রান্তি কোথায় মিলিয়ে দাও
নাকি ছিল ছল?
স্বর্গ পাতাল সুখের রথে
দিও একটু জল।
…………………………………………..

অবাধ্য বৃষ্টি

ময়ূর নাচে পেখম তুলে
অবাধ্য আজ বৃষ্টি,
মনের মধ্যে প্রেম জেগেছে
তীক্ষ্ণ তাহার দৃষ্টি।

গাছ গুলো সব দুলছে ভারী
উষ্ণ রেখায় পানি,
বাবুই পাখির সুখের ঘরে
হয়েছে আজ হানি।

গুড়ুম গুড়ুম বজ্রপাতে
মানুষ ভয়ে কাঁপে,
শ্রাবণ ধারায় বর্ষা রে ভাই
ভিজবে সকল ধাপে ।

সকল ভুলে বৃষ্টি ভিজে
মন মেতেছে ক্ষেতে,
মনের সুখে গাইব গান আজ
পথে যেতে যেতে।
…………………………………………..

অমর প্রেম

হলুদ পাখির চোখের জলে
হয়েছে কি কষ্ট?
কিছু দিনের পরিচয়ে
সুখ নীলিমা নষ্ট।

মন কালিমা আগের মতোই
কিসের চিন্তায় মগ্ন?
বিশ্বাস আশ্বাস পুড়ে ছারকার
দেহখন্ড নগ্ন।

বছর বছর যাবে চলে..
প্রেমিক করবে হায় হায়,
মরীচিকা আসবে ভেসে
কাছে থেকেও কোথায়…?

মনের জোরে চোখের কোণে
ভালোবাসে মানুষ,
ব্যর্থ ভাগ্যের কি পরিহাস!
জীবনটা হয় ফানুস।

নিয়মমাফিক যাবে চলে
শান্তির জন্য সমর,
মৃত্যু শয্যায় উঠবে দেহ
প্রেমটা হবে অমর।