জন্মভূমি আজ

একবার মাটির দিকে তাকাও
একবার মানুষের দিকে।
এখনো রাত শেষ হয় নি;
অন্ধকার এখনো তোমার বুকের ওপর
কঠিন পাথরের মত, তুমি নি:শ্বাস নিতে পারছ না।
মাথার ওপর একটা ভয়ঙ্কর কালো আকাশ
এখনো বাঘের মত থাবা উঁচিয়ে বসে আছে।
তুমি যেভাবে পারো এই পাথরটাকে সরিয়ে দাও
আর আকাশের ভয়ঙ্করকে শান্ত গলায় এই কথাটা জানিয়ে দাও
তুমি ভয় পাওনি।

মাটি তো আগুনের মত হবেই
যদি তুমি ফসল ফলাতে না জানো
যদি তুমি বৃষ্টি আনার মন্ত্র ভুলে যাও
তোমার স্বদেশ তাহলে মরুভূমি।
যে মানুষ গান গাইতে জানে না
যখন প্রলয় আসে, সে বোবাও অন্ধ হয়ে যায়।
তুমি মাটির দিকে তাকাও, সে প্রতীক্ষা করছে,
তুমি মানুষের হাত ধরো, সে কিছু বলতে চায়।

শাশ্বত কবিতা কাকে বলে তার সংজ্ঞা খুঁজতে গেলে শাশ্বত মানবিক আবেদনের কাছেই পৌঁছাতে হয়। সেই কবির স্বরই মানবিক স্বর যাঁর কবিতায় সমকালীন আবেদনের উত্তরণ সর্বকালের প্রেক্ষিতে গ্রহণীয় হয়ে ওঠে। এই উচ্চারণ সত্তর দশকের আবহাওয়ায় হলেও এর সর্বব্যাপি প্রাসঙ্গিকতা কখনোই শেষ হয়ে যায় না। মাটি, মানুষ, আকাশ, স্বদেশ, গান সভ্যতারই আলোক উত্থানে যেমন গ্রন্থিত, তেমনি ভয়ঙ্কর কালো মেঘ, বাঘের থাবা, জড় পাথর শোষক ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসন বিরাজমান। কবি বিবেক চৈতন্যের অনুধাবক বলেই মাটি ও মানুষের দিকে তাকানোর ক্রিয়ায় সজাগ ও সক্রিয়। প্রতিবাদী চেতনায় জাগরণ আনতে চান প্রতিটি মানুষের মনে। এই সেই কবিতা যা প্রজ্ঞার বহুমুখী মন্ত্র হয়ে ওঠে।

যখন এই বাংলার মাটিতে দাঁড়াই, বাতাসের স্পর্শ নিই, মানুষের ক্রন্দনধ্বনি শুনি, যখন ক্লান্তদিন মিছিলের হাহাকারে ফেটে পড়ে —তখন কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে মনে পড়ে। বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২০—১৯৮৫) সেই কবি যিনি কষ্ট দেখেছেন, অনাহার ও শোষণ দেখেছেন, মৃত্যু ও পীড়ন দেখেছেন। কান্না ও রক্তপাত, দুর্ভিক্ষ ও দমন দেখেছেন। মাটির কাছাকাছি আর জীবনের কাছাকাছি, সর্বহারা আর অসহায়দের কাছাকাছি তিনি অবস্থান করেছিলেন বলেই কবিতায় কখনো কৃত্রিমতার আশ্রয় নেননি। ক্ষুধার্ত জীবন, উদ্বাস্তু জীবন, অধিকার কেড়ে নেওয়া মানুষের জীবন এবং সমাজের ক্ষয়, পচন ও বিমূঢ়তা সব নিয়েই তাঁর কবিতা। ঘুমহীন রাত্রির ভেতর জীবন হননের ক্লান্তি ও উদ্বেগ তিনি বহন করেছেন। মানবিকতাহীন রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি বিদ্রোহ জানিয়েছেন। শোষিত মানুষকে তার অধিকার আদায়ের জন্য জেগে উঠতে বলেছেন। মুখোশধারী ভণ্ড দেশপ্রেমিকের প্রকৃত রূপটি চিনিয়ে দিতে চেয়েছেন। সব মিলিয়েই তাঁর কবিতা মানবিক সভ্যতার মূল ভিত্তিকেই প্রতিস্থাপনের স্বপ্ন নিয়ে উপস্থিত হয়েছে।

বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন মূলত লিটিল ম্যাগাজিনের কবি। বিশেষ কোনো বাণিজ্যিক পত্রিকায় তিনি কবিতা লিখে খ্যাতিলাভ করেননি। বরং এই পত্রিকার মাধ্যমই তাঁকে বিপুল জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়। প্রতিটি কবিতা-ই সময় ও সমাজের দর্পণ হয়ে উঠেছে। সেগুলিতে অতিকথন নেই, বরং সংক্ষিপ্ত ও সংকেতয়। ভারতবর্ষের শাসকগোষ্ঠীর ভণ্ডামির মুখোশ খুলে দিতে পেরেছেন। স্বাধীনোত্তর ভারতবর্ষের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুতীক্ষ্ণ কাব্যিক কশাঘাত হেনেছেন “রাজা আসে রাজা যায়” কবিতায়। কবিতাটি প্রবাদবাক্যের মতো মুখে মুখে উচ্চারিত হত সেই সময়। কবিতাটির কয়েক পংক্তি এই রকম :

রাজা আসে যায় রাজা বদলায়
নীল জামা গায় লাল জামা গায়
এই রাজা আসে ওই রাজা যায়
জামা কাপড়ের রং বদলায়….
দিন বদলায় না!
গোটা পৃথিবীকে গিলে খেতে চায় সে-ই যে ন্যাংটো ছেলেটা
কুকুরের সাথে ভাত নিয়ে তার লড়াই চলছে, চলবে
পেটের ভিতর কবে যে আগুন জ্বলেছে এখনো জ্বলবে ।

রাজার আসা-যাওয়ার কখনো ছেদ পড়েনি, কিন্তু কখনোই কেউ পেটের খিদে নিয়ে ভাবেনি। এই দারিদ্র্য, সেই অনাহার ক্লিষ্ট জীবনের হাহাকার একই থেকে গেছে। প্রেম প্রকৃতির সঙ্গে চারপাশের জনজীবন, সামাজিক অবক্ষয়, মূল্যবোধহীনতা সবই তাঁর কবিতার বিষয় হয়ে উঠেছে। সাহিত্য যে তাঁর কাছে এক মানবিক দায়বদ্ধতার বিষয় তা তিনিও বিশ্বাস করতেন। সমাজতন্ত্র এবং প্রকৃত গণতন্ত্রই মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করতে পারে এবং সুশৃঙ্খলভাবে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তা তিনি জানতেন। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ : গ্রহচ্যুত(১৯৪২), রাণুর জন্য (১৯৫২), লখিন্দর (১৯৫৬), ভিসা অফিসের সামনে (১৯৬৭), মহাদেবের দুয়ার (১৯৬৭), মানুষের মুখ (১৯৬৯), ভিয়েতনাম : ভারতবর্ষ (১৯৭৪), আমার যজ্ঞের ঘোড়া (জানুয়ারি ১৯৮৫) প্রভৃতি এবং বেশ কয়েকটি অনুবাদ কাব্যগ্রন্থও আছে।

নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যখন জনগণের কথা ভাবেন না, নিজের স্বার্থটাই বড়ো করে দেখেন , তখন অর্থের বিনিময়ে দলত্যাগ বা বিরোধীপক্ষে যোগদান চলতেই থাকে । আজও তা চলছে । বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৯৬৭ ডিসেম্বরে “অথ মন্ত্রী কথা’য় লিখেছেন :

আয় বৃষ্টি হেনে
মন্ত্রী দেবো কিনে
বাজার থেকে সস্তা
এক পয়সায় দশটা।

কটা মন্ত্রী কিনলি বাছা?' তিনটে পাকা সাতটা কাঁচা!’
মন্ত্রী পড়ে টুপটাপ
সোনা গেলে গুপ্ গাপ্।

মন্ত্রী কেনাবেচার প্রক্রিয়া আজও সমানভাবে অব্যাহত। আজও গণতন্ত্রকে টাকার খেলায় পরিণত করেছে রাজনৈতিক দলগুলি। কবি সেই চিরন্তন বাস্তবকেই ব্যাঙ্গাত্মকভাবে প্রকাশ করেছেন কবিতায়। বুঝিয়ে দিয়েছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আসল চরিত্র। প্যারোডি হিসেবে এবং এর বাস্তব ভিত্তির আয়রনি আজও সমানভাবে প্রযোজ্য। তাঁর ১৯৭০ সালের অক্টোবরে লেখা “ওলাবিবি” কবিতার কতরকম আয়রনিও চাবুকের মতো। বহুরূপের ছলনায় মানুষের চরিত্র কতরকম অভিনয় করতে পারে তারই দৃষ্টান্ত। কবিতার শেষ দুটি পংক্তি এরকম :

হাসলে তিনি দারুণ উপোসে
উলঙ্গ দেশ খিলখিলিয়ে হাসে!

উলঙ্গ দেশ আমাদের ইতিহাস ও সমাজজীবনেও ছায়া ফেলেছে। এই উলঙ্গতা আসলে অর্থনীতির যেমন বিনাশ, তেমনি মানবিক সম্পর্কেও ভয়ঙ্কর আঘাত। আমাদের অন্তরের দহনকে কিছুতেই নিবৃত্ত করতে পারব না। “রাণুর জন্য” কাব্যগ্রন্থের “মুখোশ” কবিতায় মানুষের জীবনের লুকানো কান্নার কথা বলেছেন কবি। কান্নাকে শরীরে নিয়ে যারা রাত জাগে, রাত্রির লেপের নিচে নিয়ে খেলা করে, তারাও কখনো কখনো রেস্তোরাঁয় চা দিয়ে বিস্কুট খেতে খেতে আকাশের দিকে কল্পনার ঢেলা ছোঁড়ে। আশ্বাস খোঁজে। তবুও জীবনের খেলা থেকে তারা আউট হয়ে যায়। দিনগুলি বাসি, বিবর্ণ, একাকী । প্রেমিকও উদ্বাস্তুর মতো। কবি তুড়ি মেরে একজামিনে ফাঁকি দিয়ে যাবেন। উত্তরণ কি তবে আসবে না তা না হলে? কবির সংকল্প :

অথবা কবিতা দিয়ে সমর্থন জানাবো তোমাকে,
হে প্রেমিক, হে উদ্বাস্তু, তোমাদের দুঃখে আমি গলে হব নদী !

হে দিন, হে কালরাত্রি,
না হয় আগলাবো আমি তোমাদের দুর্দিনের গলি ।
তোমরা নির্বোধ হাতে স্মৃতিমুখ খুঁজে-খুঁজে প’ড়ে যাবে যখন অসুখে,
তোমাদের দুঃখে আমি ম’রে যেতে রাজি আছি—কারো দুঃখে মরা যায় যদি ।

যে সমস্যা নিয়ে ব্যক্তিজীবনেও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়, তার প্রভাব তো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং দেশভাগেও দায়ী। সেইসব অধ্যায়গুলিই তাঁর কবিতায় ফিরে ফিরে আসে। কবি সমস্ত ছিন্নমূল দুঃখী মানুষের মর্ম বেদনা আপন হৃদয়ে ধারণ করেই তাদের সমবর্তী হন। কবি তাদের কথা বলতে বলতেই প্রশ্ন তোলেন :

হে যুবক, যুবতী, পৃথিবীতে তোমাদের কতটুকু দাম?

দাম যে নেই তা আমরাও বুঝতে পারি। তবু এই বেঁচেবর্তে থাকার প্রয়াস কখনো ফুরিয়ে যায় না। কবি দেখেন সেইসব চিত্রই :

হলুদ মানুষ, কালো মানুষ, সমস্তদিন
সমস্ত রাত ক্ষুধায় জ্বলতে-থাকা মানুষ
যাদের পায়ের তলায় মাটি, মাথার ওপর আকাশ
কিছুই নেই নিজের, যারা ক্রীতদাসের অধম, যাদের জন্মভূমি
অপরের স্ফূর্তি জোগায় দু-মুঠো ভাতের জন্য ;
(এশিয়া : ভিসা অফিসের সামনে : ১৩৭৪)

মানুষের বিলাপ ও হাহাকার শুনতে শুনতেই একটা যুগ কেটে যায়, তবু সমাধান আসে না। আমাদের দেখতে হয় :

১. একাকী যুবতী চাঁদ মাঝরাতে ফাঁকা ট্রেনে চুরি করে দুর্ভিক্ষের চাল।
২. এখন চারিদিকে শত্রু, মন্ত্রীদের চোখে ঘুম নেই।
এসময় রক্তবমি করা পাপ ;
৩. দেশের মানুষ না খেয়ে দেয় ট্যাক্স, গুলি কিনতে, পুলিশ ভাড়া করতে, গুণ্ডা পুষতে ফুরিয়ে যায় তাই
একেই বলে গণতন্ত্র ;
৪. গুলিবিদ্ধ রক্তে ভাসে আমার ঘরের বোন, আমার ভাই।
৫. রক্ত রক্ত শুধু রক্ত, দেখতে দেখতে দুই চোখ অন্ধ হয়ে যায়।

এত অত্যাচার, এত শোষণ, রক্তপাত, মৃত্যুর পরও জীবনের অমৃতবাণী তাঁর কলমে উঠে এসেছে, যার দ্বারা স্বপ্নময় পৃথিবী আবার যে মানবিক হয়ে উঠবে সে প্রত্যাশা তিনি রেখেছেন। মুখোশের ভেতর থেকে একদিন সত্যিকারের মানুষ বেরিয়ে আসবে। যে মানুষের বুকের ভেতর তিনি নবজন্ম লাভ করবেন এবং সেটাই হবে অমরত্ব। যে নগররাষ্ট্র বেশ্যালয় সৃষ্টি করেছে, জন্মনিয়ন্ত্রণ সভার জন্য আয়োজন করেছে, হিংসার জন্ম দিয়েছে, দুর্ভিক্ষের পীড়নে সংঘাত নিয়ে এসেছে —সেই অন্নহীন বিকর্ণ স্বদেশ যে শস্য-শ্যামলায় ও সম্প্রীতির আলোয় ভরে উঠতে পারে সেই আকাঙ্ক্ষা কবিরও ছিল। তাই লিখতে পেরেছেন :

কোথাও ভালোমানুষ রয়ে গেছে বলে
আজও তার নিঃশ্বাসের বাতাস নির্মল

যদিও শাসকগোষ্ঠীর লোকেরা বিষাক্ত ধুলো ছড়ায়, তবু মানুষ এখনো মানুষকে দয়া করে। উপোসীকে খাবার দেয়। শিশুর চোখের জল মুছিয়ে দেয়। এইজন্য কবি বলেন :

এসো আমরা প্রেমের গান গাই
এই প্রেম আবহমান মানবপ্রেম, যা কবিকেও জন্ম-জন্মান্তরে সঞ্চারিত করবে :
আমি তোদের বুকের মধ্যে জেগে উঠতে চাই।
সুতরাং দুর্ভিক্ষ, প্রলয় যতই আসুক, কবির অস্তিবাদী চেতনা পরাজিত হতে জানে না।
“অনেক দূরে মাটির দেশ, স্বপ্নের চাষীরা সেখানে বীজ বোনে, ভালোবাসার শিশুরা গান গায়…..”

এক উজ্জীবনের হাতছানি যাবতীয় ক্লান্তি দূর করে মানবীয় প্রবৃত্তির উৎসবে কবিকে টেনে নিয়ে যায়। কবি আশ্চর্য ভাতের গন্ধ উপলব্ধি করেন। জীবনমন্ত্র উচ্চারণ করেন কবিতায় :

অন্ন বাক্য অন্ন প্রাণ অন্নই চেতনা;
অন্ন ধ্বনি অন্ন মন্ত্র অন্ন আরাধনা।
অন্ন চিন্তা অন্ন গান অন্নই কবিতা,
অন্ন অগ্নি বায়ু জল নক্ষত্র সবিতা।

অন্ন আলো অন্ন জ্যোতি সর্বধর্মসার
অন্ন আদি অন্ন অন্ত অন্নই ওঙ্কার।
সে অন্নে যে বিষ দেয় কিংবা তাকে কাড়ে
ধ্বংস করো, ধ্বংস করো, ধ্বংস করো তারে।

অন্নই যে একমাত্র শক্তি, বেঁচে থাকার, কথা বলার, আনন্দ প্রকাশ করার, আলোময় পৃথিবী সৃজন করার, সবকিছু ভালো লাগার সব সুখের চাবি কবি তা জেনেছিলেন। আর সে কারণেই এই অন্নে যে বিষ দেয়, অথবা কেড়ে নেয় —তাকেই ধ্বংস করতে হবে। উপনিষদের ভাবনা থেকেই জীবনের প্রত্যয়কে তিনি দৃঢ়তায় উত্তরণ ঘটিয়েছেন। অধিকার আদায় ও বেঁচে থাকার দুর্মর সমর্থনে এই মন্ত্রই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে তাঁর কাব্যে।

বাংলা কবিতায় একান্ত আত্মস্বর শোনা যায় বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কবিতায়। দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংগতি রেখেই সংগ্রামী আলোকবৃত্তের ভেতর বাঙালির উত্থান ও অভিমুখ খুঁজে পাই। বামপন্থী আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেও ব্যক্তিনিভৃতির পর্যটনটি তিনি উপেক্ষা করেননি। বলেই কবিতাগুলি শ্লোগান নয়, প্রাণধর্মের অন্বয়ী প্রকাশ হয়ে উঠেছে। জীবনের গতিময় ক্রিয়ায় যে ক্ষয় ও ক্ষরণ ঘটেছে তার ছলনাহীন প্রকাশ করেছেন। শিল্পনৈপুণ্যের কৌশলী আঁধারে প্রবেশ করেননি। ফলে প্রতিটি সৃষ্টিতেই এক সারল্যের মুগ্ধতা ও উচ্চারণ হৃদয়কে স্পর্শ করে। প্রেমের ফুলও আগুনের রঙে রঙিন হয়ে ফুটুক কবি চান, তা তো আগুনেরই রক্তজবা। তারুণ্যের স্পর্ধায় উপোসী মুখেও কবি হাসি দেখতে পেয়েছেন। শুধু নিজের কবিতা নয়, অন্যের কাব্যগ্রন্থও তিনি কখনো কখনো ফেরি করেছেন। একদিকে কবি ও কবিতাকে ভালোবেসে নিজেকে উৎসর্গ করা, অপরদিকে প্রিয় স্বদেশ ও মানুষের জন্য প্রাণপাত তাঁর ভাবনার মূল প্রবাহ। কবিতার ঊর্বর ক্ষেত্র তৈরি করতে, লিটিল ম্যাগাজিনের মর্যাদা ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে তাঁর অবদান কখনোই ভোলার নয়। এক পৃষ্ঠার ফোল্ডারও তাঁর কাছে আদরনীয় ছিল। বাংলা কবিতার সাহসী ও সংগ্রামী পথপ্রদর্শক রূপে তিনি চিরদিন চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।