মা

এক অক্ষরেই লেখা শুধু
একটি শব্দ- মা,
সে মায়ের বুকে লক্ষ সাগর
ভালবাসা জমা।

মায়ের মতোন এত আপন
নেই পৃথিবীর বুকে,
নিজে না খেয়ে খাবার
দেন সন্তানের মুখে।

আপন সুখটা কুরবানি দেন
সন্তানেরই জন্য,
মা দিয়ে রব করলে তুমি
এই পৃথিবী ধন্য।
……………………………………………

জীবনের লক্ষ্য

কেউ হতে চায় পাইলট
কেউ হতে চায় ডাক্তার,
কেউবা আবার প্রকৌশলী
কেউ হতে চায় মাস্টার।

কেউ হতে চায় এডভোকেট
কেউ হতে চায় ব্যারিস্টার,
কেউ হতে চায় জর্জ সাহেবা
কেউ হতে চায় মিনিস্টার।

সবাই ভাবে বড় হব
পাব দেশের তক্ত,
আমি ভাবি মানুষ হব
মানুষ হওয়ায় শক্ত।
……………………………………………

রক্ত দিয়ে

রক্ত দিয়ে লেখা আছে
বাংলাদেশের বুকের পাশে
একটি ভাষার নাম,

শোধ হবে না, শোধ হবে না
জীবন দিয়েও শোধ হবে না
সেই রক্তের দাম।

রক্তনদী বইল সেদিন
ওরা খুনি, ওরা বেদিন
করতে চাইল মূক,

কৃষ্ণচূড়া, পলাশ, বকুল
ফুটল সকল কথারই ফুল
ফুটল কথার মুখ।

প্রতি বছর আসে ফিরে
এই পৃথিবীর হৃদয় ঘিরে
এমন একটি দিন,

যেদিন হবে কথার মেলা
কথাই হবে সারাবেলা
কথাতেই রঙিন।
……………………………………………

ফেব্রুয়ারির একুশে

সে উনিশ’শো বায়ান্ন
নেমেছে এক সায়াহ্ন
তপ্ত দুপুর বেলা,

মানুষ নামের হিংস্র কুকুর
রক্ত দিয়ে বানিয়ে পুকুর
তাতেই করল খেলা।

সে ফেব্রুয়ারির একুশে
জীবন গেল কোন দোষে
আমার আপন ভাইয়ের?

শুধু বলায় বাংলা বুলি
চালিয়ে দিলো তারা গুলি
বক্ষে আমার মায়ের।
……………………………………………

খোকার খাবার

দেখতে লাগে শান্ত যেন
ভীষণ দুষ্টু ছেলে,
খেতে দিলে খায় না কিছুই
সবটুকু দেয় ফেলে।

খায় না এটা খায় না ওটা
কেবল কান্না করে,
মা যে খোকার পায় না ভেবে
কী যে রান্না করে!

রান্না হলো মাছের মুড়ো
সেই খুশিতে মাতে,
আজকে খোকা খাবার খাবে
বসে সবার সাথে।
……………………………………………

ছুটির ঘণ্টা

কখন বাজে ছুটির ঘণ্টা
থাকি যে সে অপেক্ষাতে,
বই খাতা সব গুছিয়ে নিয়ে
দাঁড়িয়ে থাকি ব্যাগ হাতে।

বাজে কখন ঢঙ ঢঙা ঢঙ
প্রিয় ছুটির ঘণ্টা যে,
আমার তখন এক লাফেতে
নেচে ওঠে মনটা যে!

এক ছুটেতেই চলে আসি
বাড়িটার উঠানটাতে,
কী দারুণ এক সুখ যে আছে
প্রিয় ছুটির ঘণ্টাতে।
……………………………………………

মশার তাবিজ

একটা তাবিজ পিচ্ছি নাবিজ
দিল আমার হাতে
দেওয়ার কালে ফিসিয়ে বলে
রাখবে তোমার সাথে।

কামড়াবে না চুম্বাবে না
এডিস মেডিস মশা,
শুনে সে কথা ধরল মাথা
একী আজগুবি দশা!

মনের ভুলে তাবিজ খুলে
হলাম যে দিশারী,
লেখাটা তাতে বড় উৎপাতে
মশার ওষুধ মশারি।
……………………………………………

শিশুমন

শিশুমন সারাক্ষণ
খুঁজে ফেরে নানা রঙ,
শিশু চায় সাজুগুজু
মনরঙা নানা সঙ।

রঙ মেখে সঙ সেজে
ঢঙ দেখে হাসতে,
শিশু চায় পাখি হয়ে
নীলাকাশে ভাসতে।

শিশুমন ছুটে যায়
পাখি-ফুল বাগিচায়
ছুটে যায় নিরালায়
কিবা জনারণ্যে,
ভালো কিছু রেখে যাব
শিশুদের জন্যে।
……………………………………………

গরমের ছড়া

পড়ছে গরম ভীষণ চরম
খোকার মুখটা ঘামছে,
আকাশ বেয়ে তরল আগুন
খুব দাপটে নামছে।

সেই আগুনে পুড়ছে শহর
পুড়ছে আরো গ্রামটা,
হঠাৎ হঠাৎ গরম হাওয়া
যাচ্ছে দিয়ে ঝামটা।

সূর্যমামা ঢালছে আগুন
পুড়ছে সারা দেশটা
পুড়ছে যেন এক পৃথিবী
নেই তবু এর শেষটা।
……………………………………………

পণ

মহৎ কাজে সকাল সাঁঝে
থাকব সারাক্ষণ,
চলব সুপথ, যাব না কুপথ
রাখব সবার মন।

সদা সকলে থাকব মিলে
করব ভালো কাজ
শান্তিধারায় সুখের ছোঁয়ায়
গড়ব এ সমাজ।

দেহে ও মনে সব গুরুজনে
রাখব সুভক্তি,
পাব যে তখন সদা সারাক্ষণ
অন্তরে শক্তি।

সব মেয়ে-ছেলে যাব হেসে খেলে
তুলব আলোড়ন,
আজকে সবাই একসাথে তাই
করছি ভীষণ পণ।