আছেন বাবা সুখে

রহিম কাকা প্রশ্ন করলো
তোমার বাবা কোথায় আছে
আছেন তিনি কেমন,
দোকানপাটে থাকতো বসা
ডেকে ডেকে বলতো কথা
দেখছি না যে তেমন?

বয়স ভারে নুয়ে পড়ে
এখন ঘরে থাকেন বেশি
আছেন তবে ভালো,
সবাই মিলে মাথায় রাখি
হাকে ডাকে সামনে থাকি
সে যে জগৎ আলো।

কোন ঘরে তার ভোজন আহার
কে করে তার খেয়াল বেশি
প্রশ্ন আবার কাকার,
কি যে বলে কাকা আমার
দুই ভাই মিলে দেখছি তাহার
নেই সমস্যা টাকার।

কাকা মশাই আবার শুধায়
কার ঘরে তে রাখছো তারে
ঘর তো সবার পাকা,
কি যে বলো তুমি কাকা
এমন নোংরা মানুষ কভু
যায় কি ঘরে রাখা!

কপ থুথু আর ইস্তেনজাতে
ঘর বাড়ি সব নষ্ট করে
আলাদা সেই দূঃখে,
গোয়াল ঘরের পাশে তাহার
সময় মতো পায় সে আহার
আছেন বাবা সুখে।
…………………………………………..

আজ পহেলা বৈশাখ

মৌলভীদের পাঞ্জাবী গায়ে জড়িয়ে
সাজতে সবে নতুনের সাজ,
চাষাভুষোর লুঙ্গিতে কোমর মড়িয়ে
চলতে আজ নাই কোন লাজ।

সাহেবের নিত্য দিনের কোর্ট প্যান্ট টাই
আলমিরাতেই শোভা পাক,
ষোল আনায় তার বাঙালি হওয়া চাই
আজ যে পহেলা বৈশাখ।

লাল বেনারসি হলুদ আর সাফেদ শাড়ি
অঙ্গে জড়িয়ে বাংলার রমনী,
ছোটখাট পোশাকের সাথে তার আড়ি
বোঝাতে ব্লাউজে ঢাকে ধমনী।

তিন শত চৌষট্টি দিনের উলঙ্গতা ছেড়ে
একদিনের রুচিশীল পোশাক,
মা ভগ্নির পরিবর্তন যেন এসেছে তেড়ে
আজ যে বাংলা পহেলা বৈশাখ।

একটু বাসি হলেই যার ডাস্টবিনেতে ঠাই
বিশেষ দিনে তাকেও সবাই,
মাথায় নিয়ে তাক-ধিনা-ধিন নেচে হায়
কদর করে পান্তা নামে খাই।

বাঘ ভাল্লুক হুতুমপেচার মুখোশ পরে
উচ্চস্বরে বাজায় তবলার ঢাক,
বাংলায় শুরু হয়ে হিন্দিতে শেষ করে
আজ যে বাংলার পহেলা বৈশাখ।
…………………………………………..

আসছে বৃথা পাঙ্গপালে

আসছে নাকি পঙ্গপালে
ধেয়ে বাংলাদেশে,
বঙ্গপালে তথ্য শুনে
দাঁত কেলিয়ে হাসে।

পঙ্গপালের গুরু ঠাকুর
এই দেশে যে আছে,
বঙ্গপালের তথ্য গুলো
নাই বুঝি তার কাছে।

আসছে বৃথা পঙ্গপালে
দেশের শস্য খেতে,
তার আগে যে বঙ্গপালে
দিয়েছে সব বেটে।

বঙ্গপালে সব খেয়েছে
নাইকো কিছু বাকি,
চাল হতে তেল সোনার ফসল
দিয়ে দিয়ে ঝাঁকি।
…………………………………………..

ঈদের খুশি কার?

ঈদের অর্থ হাঁসি খুশি
আমরা সবাই মানি,
সেই খুশিটা কাদের জন্য
ধারার ক’জন জানি?

আমরা ভাবি ঈদের খুশি
বিত্ত যাদের আছে,
নতুন পোশাক গায় সাঁটিয়ে
ময়ূর সাজে পাছে।

আসলে কি ধারণা ঠিক
সবাই যেটা করি,
রোজার সাথে ঈদের মিলন
ক’জন সেটা স্মরি!

দীর্ঘ মাসের সিয়াম সাধন
করছে যাদের খাঁটি,
ঈদের খুশি শুধুই তাদের
ঈদগাহ তাদের ঘাঁটি।
…………………………………………..

কবর বাসীর ফরিয়াদ

শাবান মাসের শেষ তারিখে
বাঁকা চাঁদের হাসি,
কবর বাসীর মনের কোণে
বাজায় সুখের বাঁশি।

শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে
খোদার কাছে বলে,
কি কারণে এমন সুযোগ
দিলে হাতের তলে।

ডেকে তখন বলে খোদা
ভুলে গেছো নাকি,
রমজান মাসে শোধ করে নিই
অন্য মাসের বাকি?

রহমত বরকত নাজাত নিয়ে
মাস ব্যাপী সে সাজে,
মুক্ত করেই যাবে ফিরে
লাগায় যারা কাজে।

আক্ষেপ করে আবার তখন
বলে মাওলার কাছে,
শেষ করো না রমজান টাকে
সাধ্য তোমার আছে।
…………………………………………..

করোনায় করনীয়

যত সম্ভব সতর্ক হও
না হয়ে কেউ আতঙ্ক,
উপর থেকে আসলে ডাক
মিলবে না কোন অঙ্ক।

কোন জিনিসে ঘাটতি ছিল
চীন ইতালি ব্রিটেনে,
সবার কাছে আইকন তাঁরা
আছেও তাই রিটেনে।

হিসাব নিকাষ পাকা তাদের
কি করবে কি করবে না,
তবু তাঁরা পায় না ছাড়া
কারণটা নয় অজানা।

আবার দেখ পথ শিশু
অনুন্নত সব দেশে,
ভাইরাস যেন বন্ধু তাদের
আড্ডা ভাঙে দিন শেষে।

মহামারি খোদার বালা
রুখতে পারি কে ধারায়,
দাম্ভিকতা ত্যাগ করে তাই
প্রার্থনা তে দাঁড়াই।
…………………………………………..

খেতাব চাই

গঞ্জের হাঁটে গেলাম সেদিন
করতে সদয় হাঁট,
দেখি লকব বিক্রেতাও এসেছে-
সেথা বেঁধে আটঘাট।

কারো কাছে জনক উপাধি
কারো কাছে জননী,
উপচে পড়া ক্রেতার মাঝে
আমারটা আর মেলেনি।

দেখলাম চেয়ে একেক জনে
কিনছে খেতাব কত,
সাধুর খেতাব পরছে মাথায়
অসাধু কত শত।

একই মাথায় উঠছে যখন
দ্বীন-বেদ্বীনের তাজ,
মূর্খ সুরখ্য আমি অধম
দেখে পেলাম লাজ।

দুঃখ ক্ষোভে বাজার ছেড়ে
ফিরে এলাম আঙিনায়,
সব কিছুই এত স্বস্তা যখন
আমরাও একটা খেতাব চাই।
…………………………………………..

চাপা আর্তনাদ

যে সব কথা কেউ জানেনা
সে কথা কি বলতে মানা,
কলমটা যে আর শোনে না
লিখি না আজ দুএক খানা!

এই যে দেখুন হাসিমুখে
আছেন বাবা কত সুখে,
অভিনয়ের বাঁশি ফুঁকে
দিচ্ছে তুলে অন্যের বুকে।

মা জননী ঘরের কোনে
ভাবছে যেন কি আপন মনে,
স্মৃতিচারণ ক্ষণে ক্ষণে
লটকানো যা মেয়ের সনে।

এত গুলো বছর ধরে
নিশ্চিত বিপদ যায়নি সরে,
গায়ের রক্ত পানি করে
গড়েছে যেন নেশার ঘোরে।

তিলে তিলে গড়ে শেষে
চাপা কান্না ভালোবেসে,
বিদায় দিলো খেলে হেসে
কেউ বোঝেনি দিনের শেষে।

পরিবারের সবাই কাঁদে
প্রস্তুত প্রাপ্তির এই যে ফাঁদে,
চাপা কান্না আর্তনাদে
বর পক্ষ আর কাকে সাধে!

ছেলে পক্ষ বউটি পেয়ে
কত আবদার উঠল গেয়ে,
কন্যার বাবা দেখে যেয়ে
কি আর করার তার তো মেয়ে!

ক’দিন বাদে পাল্টে ধরণ
ছেলেটাও হয় যে হরণ,
বধুর কাছে হয়ে বরণ
যায় ভূলে সে মায়ের স্মরণ।

বলির পাঁঠা হয়ে ছেলে
কাকে রাখে কাকে ফেলে,
ঘুরতে পারে হেসে খেলে
আবদ্ধ আজ সে যে জেলে!
…………………………………………..

নেতার শুভ জন্মদিন

সালাম তোমায় প্রিয় নেতা
স্যালুট তোমার ভাষণ,
সাত তারিখের ডাকে তোমার
হৃদয় মাঝে আসন।

সেদিনের সেই কড়া কথা
ঐতিহাসিক ভাষণ,
রুখে দেয়া খান সেনাদের
অত্যাচারী শাসন।

গায়ের জামা বিলায় দেয়া
অভাব দূঃখির মাঝে,
অন্যায় দেখে ঝাপায় পড়া
সন্ধ্যা সকাল সাঁঝে।

বীরের বেশে কারা বরন
উঁচু করে মাথা,
ত্যাগ মহিমার গল্প তোমার
ইতিহাসে গাঁথা।

জন্মে তোমার স্বাধীনতা
পাই বাঙালি জাতি,
তাইতো তোমার জন্মদিনে
একটু খানি মাতি।
…………………………………………..

প্রধানমন্ত্রী সমীপে

মাননীয়া নেত্রী দেশের
সালাম নিবেন আগে,
চেয়ে নিবো একটু সময়
দিবেন আমার ভাগে।

দেখে আপনার তৎপরতা
আশা মনে জাগে,
দেশটা বুঝি সাজবে এবার
ফুঁসবে না কেউ রাগে।

গৃহ হীনে গৃহ পাবে
বছর শেষের আগে,
মুজিব বর্ষের এই ঘোষণা
সৌভাগ্যে পাই ভাগে।

ইতিহাসের সাক্ষী হবো
মনে বাঁধি আশা,
গরীব চাষীর ঘর দেখে আজ
আশায় বাঁধে ফাসা।

বুলবুলিতে ঘর খেয়েছে
বেশ কিছু মাস আগে,
মেরামতের যোগ্যতা তার
নেই কো আজও বাগে।

ঘর হবে ঘর হবে বলে
কৃষক স্বপ্নে জাগে,
কত ছবি নিলো সবাই
ঘর নেই তবে ভাগে।

আজকে নাকি বলছে তাঁকে
দাও ছেড়ে দাও আশা,
অন্য কোন পথ খোঁজ ভাই
ঠিক করিতে বাসা।

মাননীয়া নেত্রী সবার
প্রশ্ন এখন জাগে,
আপনি কি ঘর দেননি তবে
এই কৃষকের ভাগে!
…………………………………………..

প্রতিবন্ধী

এই সমাজে বাস করি ভাই
কত রকম মানুষ,
তাদের সাবার গল্প জেনে
থাকেনা আর জ্ঞান হুশ।

এই যে দেখুন কারণ ছাড়াই
হাসছে মানুষ খিলখিল,
কত সুন্দর দেখতে তাহার শুধু-
মাথায় একটু গড়মিল।

সবাই তাকে পাগল বলে
ছুঁড়ে মারি ইট ঢিল,
একটু হাসে একটু কাঁদে
সয়ে নিয়ে সব কিল।

বিচার বুদ্ধি সবি আছে
নেই যে চোখে আলো,
কানা বলে গালি শোনে
তবু থাকে ভালো।

প্রভুর দেয়া কান দুটি তার
কুলোর মতো খাড়া,
ডাকতে ডাকতে হয়রান তবু
দেয় না কোনো সাড়া।

দন্ত ভরা গালটিও বেশ
মুখটি ভরা হাসি,
হাজার চেষ্টা তবু মুখে
নেইকো কথার বাঁশি।

বুদ্ধি বিদ্যা চক্ষু কর্ণ
সাজানো সব আছে,
চলতে ফিরতে অক্ষম বলে
পঙ্গু বলি পাছে।

স্রষ্টার সৃষ্টি মানুষ সবে
কিন্তু তাঁরা বন্দী,
নিজের সাথে যুদ্ধ করে
নিজেই নিজের দ্বন্দী ।

একটুখানি ভেবে দেখি
কষ্ট তাদের কত,
প্রতিবন্ধী গালি দিয়ে
কেমনে জাগায় ক্ষত!
…………………………………………..

প্রার্থনা

বিশ্ব প্রতিপালকের তরে গুণকীর্তন সব
রহিম রহমান যিনি বিচার দিবসের রব।
তোমার তরে দাসত্ব করি সাহায্যও চাই
সরল সঠিক পথের যেন দিশা খুঁজে পাই।

সেই সমস্ত লোকের পথ অনুগ্রহ প্রাপ্ত যাঁরা
তাঁদের পথেই চালাও মোদের আমরা সর্বহারা।
অভিশপ্ত ভ্রষ্ট পথে তোমার যে জন চলে
সে পথ থেকে মুক্ত করো তোমার স্বীয় বলে।
…………………………………………..

বন্ধ কর তামাশা

বাহ্! কতই না সুন্দর
আমাদের নীতি,
গরীবের থাকতে নেই
করোনা ভীতি।

একত্রে একাধিক
হওয়া নয় বৈধ,
বাজার ঘাট দোকান পাট
সব কিছু শৈত্য।

বাহিনীর ভয়ে গোটা-
দেশ কাঁপে থরথর,
বুক ফাটে তবুও
ছাড়ে না কেউ ঘর।

স্তব্ধ গোটা দেশ
রাস্তা ঘাট ফাঁকা,
তবুও কারখানায়
শ্রমিকদের ডাকা।

এ কেমন দ্বি-নীতি
সবাইতো মানুষ,
বন্ধ কর তামাশা
না হয়ে বেহুঁশ।
…………………………………………..

বাঘ মামা ও মৌমাছির গল্প

বনের রাজা বাঘা মামা
বিশাল বড় দেহ,
হুংকারে তার জঙ্গল কাঁপে
মুখ খোলে না কেহ।

হালুম ডাকে হরিণ ছোটে
বাঁদর ওঠে গাছে,
মৌয়াল বাওয়াল নায়ে ওঠে
জীবন যাতে বাঁচে।

সবাই যখন মামার ভয়ে
ছুটোছুটি করে,
চৈত্র মাসের ভর দুপুরে
মামা ডুবে মরে।

নায়ে বসে হাশেম জেলে
চেয়ে দেখে দূরে,
ঝপাত ঝপাত খালের পানি
নাচছে মধুর সুরে।

বড় মাছের কথা ভেবে
সামনে গেল ধেয়ে,
মৌমাছি আর বাঘা মামা
খেলছে দেখে যেয়ে।

পানির উপর গুনগুনাগুন
মাছি খেলা করে,
উঠলে ভেসে মামার মাথা
সবাই মিলে ধরে।

বনের রাজা হলো সারা
ছোট্ট মাছির কাছে,
মামা মাছির খেলা দেখে
আনন্দে সব নাচে।
…………………………………………..

রূপবতীর প্রেমে

তোর সোনালী অঙ্গে দেখেছিনু
আমি শিল্পীর কারুকাজ,
সোনা মোড়ানো দেহে বিমোহিত
আমি খেয়েছিনু মাথা লাজ।

উচু-নীচু পাহাড় পর্বত সমতল বক্ষ
প্রকৃতির সাজানো বাহারি সাজ,
এঁকেবেঁকে বয়ে চলা তের শত নদী
সমুদ্রে ঢেউ খেলা স্রোতের ভাজ।

দিগন্ত জোড়া সবুজের সমারোহ
বিস্তৃর্ণ ফসলি মাঠের সাজ,
গগনচুম্বী ইট পাথরের নগরী ভবন
দাড়িয়ে মাথায় কংক্রিট তাজ।

সাম্যের বন্ধনে বহু জাতি একত্র করে
করানো কত শত সহস্র কাজ,
এক সুরে এক কন্ঠে সোনার বাংলা
গাইতে তাদের ছিল না লাজ।

সমুদ্র সৈকত সুন্দরবন পাহাড়ি ক্ষেতে
যেন সাজানো বিশ্ব প্রকৃতির রাজ,
তোর ডাগর চোখের সোনালী কাজলে
স্থবির হয়ে যায় আমার কাজ।