ডাকবাংলোয় এসে ভূত দেখার মতোই চমকে গেলো আয়েজ আজিজ। সুস্মিতা বসে আছে বারান্দায়। ওকে দেখে পা নাচানোর গতি বাড়িয়ে হাসলো মুচকি।
আয়েজ আজিজ অনাবশ্যক চারদিকে তাকিয়ে হাতঘড়ির দিকে তাকালো: কিছুক্ষণের মধ্যেই নেমে আসবে সন্ধ্যা।
ও কি এখানে রাতে থাকার মতলব নিয়ে এসেছে? কী করে সম্ভব? মানসম্মানের কী হবে? কী করবে সে এখন?
রাগবে? নাকি মেনে নেবে যা হবার হোক?
মুখে কৃত্রিম হাসি ঝুলিয়ে বারান্দায় ঢুকে আয়েজ আজিজ জিজ্ঞেস করলো সুস্মিতাকে, কখন এলে তুমি?
সুস্মিতা ডান হাত উপরে তুলে লম্বা সুরে বললো, সে-ই দুপুরে!
কী বলছো! আমাকে ফোন দাও নাই কেনো?
তোমাকে টেনশনে ফেলতে চাই নি। দ্বিতীয়ত সারপ্রাইজ দেবার জন্য।
লাঞ্চ করেছো তো? নাকি?
পকেটে টাকা থাকলে লাঞ্চ করা যায় যে কোনো স্থানে।
এখন?
আয়েজ আজিজ একটা চেয়ার টেনে সুস্মিতার মুখোমুখি বসলো।
তোমার সাথে চা পানের জন্য বসে আছি। ডাকবাংলোর কেয়ারটেকারটা বেশ জেন্টল। চা দেবার জন্য একটু পরপর জিজ্ঞেস করেছে। রবার্ট সিধু, এবার চা নিয়া আসো। শুধু চা। মালাই মারকে!
জ্বি ম্যাডাম! বলে রবার্ট সিধু ছুটে চলে গেলো। একটু পর টি-টেবিলে দুই কাপ চা রেখে চলে গেলো।
সুস্মিতা চায়ের কাপ তুলে বললো, একটু আগে টিভির স্ক্রলবারে দেখলাম তোমার কেস নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। তুমি কখন কনফার্ম হলে যে ওসি ওবায়েদ আকাশ সাহেবের ছেলেই খুনি?
আয়েজ আজিজ চায়ের কাপে মৃদু চুমুক দিয়ে বললো, প্রথমে ভেবেছিলাম সুধেন-ই খুনি। কিন্তু সুধেন খুন হয়ে গেলে সন্দেহের তীরটা তাক হয়ে গেলো দস্তগীর ওবায়েদের দিকে।
কারণ?
কারণটা হলো এই যে তপতীর ডায়েরিতে ওর বিষয়ে ভালো কথা লেখা নেই। সন্দেহটা কনফার্ম হবার জন্য এসপি সাহেবের দুপুরের খাওয়ার দাওয়াতটা ত্যাগ করতে হয়েছে, যদিও পরে এসে খেয়েছি।
বুঝলাম না।
হতভাগ্য তপতীর লাশের সাথে পাওয়া চুল ও সুধেনের লাশে পাওয়া চুল একই জনের। এই জনটা কে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য একটা রিস্কি অভিযান আমাকে নিতে হয়েছে।
কী সেটা?
আমি দরবেশের ছদ্মবেশ ধরে দূর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়েদ আকাশের বাসায় যাই।
সুস্মিতা আঁতকে উঠে চায়ের কাপটা টি-টেবিলে রেখে বললো, কী বলছো তুমি!
যেকোন ইনভেস্টিগেশনে ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্য এক পর্যায়ে গোয়েন্দা বা ইনভেস্টিগেটরকে রিস্ক নিতেই হয়।
আমিও তাই করেছি।
খুলে বলো।
শুনো-
বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে আয়েজ আজিজ দূর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়েদ আকাশের সরকারি বাংলোর গেটের সামনে এসে দাঁড়ালো। পরনে গেরুয়া রঙের ধূতি ও ফতোয়া, পায়ে বৌলাঅলা খড়ম, হাতে ধবধবে শাদা স্টিলের লাঠি যার হাতল বাঁকানো এবং বাঁকানো প্রান্তে সাতটি ছোট রিং ঝুলছে; মাথায় জটাচুল বুক পর্যন্ত লম্বা! একজন পাক্কা দরবেশ আয়েজ আজিজ এখন।
হক মওলা।
দরবেশের উচ্চস্বরের ‘হক মওলা’ শুনে সেন্ট্রিবক্সে ঝিমুতে থাকা সেন্ট্রি সিপাই গফুর হাই তুলতে তুলতে এলো বেরিয়ে। কাঁধে ঝুলছে একটি শটগান। কিছুটা বিরক্তি নিয়েই গেটের দিকে তাকালো; কিন্তু দরবেশকে দেখে গিলে ফেললো বিরক্ত ভাবটা।
দরবেশের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো নম্র কণ্ঠে, কী চাই দরবেশ বাবা?
দরবেশ শরীর খানিকটা নেতিয়ে বললো, হাটতে হাটতে বেশ পরিশ্রান্ত বাবা। ঐ বারান্দায় একটু বিশ্রাম নিতে দিবা? খুব ভালো লাগবে যদি এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি পান করাতে পারো। মহান আল্লাহ তোমাদের মঙ্গল করবেন।
পাপী সিপাই। ঘুষ খেয়ে পাপের ঘড়া পূর্ণ করছে। তাই দরবেশ বা মাঝার দেখলে হয়ে পড়ে বিগলিত। পাপের কামাই নিয়ে এবং পাপের কামাই অব্যাহত রেখে শর্টকাটে যেতে চায় বেহেশতে! সিপাই গফুর গেট খুলে দরবেশকে ভেতরে ঢুকতে দিলো। দরবেশের পা ছুঁয়ে সালাম করে এগিয়ে গেলো সামনে। দরবেশ বারান্দায় উঠে একটা চেয়ারে বসে অনুচ্চস্বরে হক মওলা, হক মওলা জপতে লাগলো।
ঠাণ্ডা পানি সেন্ট্রিরুমে না থাকায় দরজার কলবেল টিপে থাকলো অপেক্ষায়।
গৃহসহায়িকা রুবিনা দরজা খুলে জিজ্ঞেস করলো, কী দরকার সিপাই ভাই?
সিপাহি গফুর ডান হাতের তর্জনি দিয়ে পেছনে দেখিয়ে বললো, এক দরবেশ বাবা আইছেন। উনি ঠাণ্ডা পানি চাইতাছেন খাওয়ার জন্য।
তখন ভেতর থেকে আইভি জান্নাত জিজ্ঞেস করলো, কী চায় গফুর?
রুবিনা কণ্ঠ উঁচিয়ে বললো, একজন দরবেশ আইছে। গফুর ভাই উনার লাইগা ঠাণ্ডা পানি চাইতাছে।
দরবেশ শব্দ শুনে আইভি জান্নাত দরজার কাছে এসে বাইরে উঁকি দিয়ে মাথা ভেতরে ঢুকিয়ে ঘোমটা টেনে বললো, দরবেশ বাবাকে বারান্দায় বসিয়েছো কেনো? ওঁকে ভেতরে এনে বসাও গফুর।
আয়েজ জানে এমনটাই হবে। তাই সে ভেতরের কথা শোনার জন্য খাড়া করে রেখেছিলো কান। সাথে সাথে বললো, দরবেশের ঘরের ভেতর কী, বাহির কী! আমি এখানেই ঠিক আছি। এক বোতল পানি ঘরের কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দাও মাগো। আমি পবিত্র আল্লাহর কালাম তেলাওয়াত করে ফু দেবো। ঐ পানি নিয়ম করে পান করলে রোগ-বালাই দূরে থাকবে! হক মওলা!
কিছুক্ষণ পর একটা ট্রে হাতে বারান্দায় এলো দস্তগীর ওবায়েদ। কাছে এসে সালাম জানিয়ে ট্রে-টা রাখলো টেবিলের উপর।
আয়েজ আজিজ দস্তগীর ওবায়েদের মাথার চুলে একবার হাত বুলিয়ে ‘হক মওলা’ বলে বললো, বস বাবু।
তোমার নাম দস্তগীর। ঠিক?
জ্বী দরবেশ নানা।
বাহ! বেশ চৌকস তো তুমি! তোমার মাকে মা বলায় তুমি আমাকে নানা ডেকেছে।
আয়েজ আজিজ গ্লাসের পানিটা পান করে চোখ বুজে বিরবির করে আবোলতাবোল পড়ে বোতলের পানিতে একবার ফু দিয়ে বোতলের কর্ক এটে রেখে দিলো ট্রে-তে।
‘হক মওলা’ বলে বারান্দা থেকে নেমে আয়েজ আজিজ বেরিয়ে এলো বাড়ির বাইরে।

সুস্মিতা কৃত্রিম আঁতকে উঠে বললো, রিস্ক বাট সাকসিডেড। খুব বড় রিস্ক নিয়েছো তুমি আয়েজ।
তখন আয়েজের মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলে পকেট থেকে বের করে নম্বরটা দেখে সাড়া দিলো, হ্যালো স্যার!
নুতন কোন কেস?
ফকরোল আমিন বললেন, একটা বাজে খবর আছে।
কী খবর স্যার?
ওসি ওবায়েদের ছেলে দস্তগীর পালিয়ে গেছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি ওকে আমরা এরেস্ট করতে পারবো।
আয়েজ আজিজ নিরুদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললো, ওকে স্যার।
আপনি একটু সাবধানে থাকবেন। নেত্রকোণা থেকে স্পেশাল ফোর্স পাঠাচ্ছি আপনার সিকিউরিটির জন্য।
এর কি কোন প্রয়োজন আছে স্যার?
মিসক্রিয়েন্ট দ্বারা ফেলুদাও আক্রান্ত হতো। সো, বি এওয়ার।
থ্যাঙ্ক ইউ স্যার।
মোবাইল ফোনের লাইন কেটে সুস্মিতার দিকে তাকাতে যাবে, তখন দূর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়েদ আকাশের জিপটা এসে থামলো ডাকবাংলোর সামনে। শব্দ করে জিপের দরজা খুলে জিপ থেকে নেমে ওবায়েদ আকাশ ওর দিকে আসতে থাকলে আয়েজ আজিজ দাঁড়িয়ে সালাম জানালো।
ওবায়েদ আকাশ আয়েজের সামনে এসে রাগ সামলে রেখে বললো, শুধুমাত্র ফরেনসিক রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে আপনি আমার একমাত্র ছেলেটাকে খুনি সাব্যস্ত করে ফেললেন আয়েজ সাহেব? কোনো খুনের ঘটনার ইনভেস্টিগেশন কি এতোই সহজ?
আয়েজ আজিজ ভড়কে না গিয়ে বললো, আপনি যে কথাগুলো বললেন, তা আপনি নিজেও বিশ্বাস করছেন না-
আপনার ছেলে অভিযুক্ত হওয়ায় বলার জন্যই বললেন।
কী বলছেন আপনি মিস্টার আয়েজ?
আমার ইনভেস্টিগেশন একুরেট বিধায় এসপি সাহেব মেনে নিয়েছেন। আর আমার বিশ্বাস আমার এখানে আসার আগে এসপি সাহেবের সাথে কথা বলে এসেছেন। সম্ভবতঃ ভাবির কান্নায় বাসায় টিকতে না পেরে এসেছেন।
তখন একটি পিকাপ এসে থামলো জিপের পাশে এবং ঝটপট এক সাব-ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে পাঁচজন সিপাই নেমে এগিয়ে এলো ওদের দিকে। ওবায়েদ আকাশকে একবার দেখে আয়েজ আজিজের সামনে দাঁড়িয়ে সামান্য বুট ঠুকে স্যালুট জানিয়ে সাব-ইন্সপেক্টর ফরহাদ বললো, সাব-ইন্সপেক্টর ফরহাদ রিপোর্টিং আয়েজ ভাই। আমরা আপনার সিকিউরিটির জন্য নেত্রকোণা থেকে এসেছি।
ওসি ওবায়েদ আকাশ বিস্মিত হয়ে বললো, প্রাইেভট ডিটেক্টিভ আয়েজ আজিজের সিকিউরিটির জন্য নেত্রকোণা থেকে পুলিশ ফোর্স এলো, আর আমি জানি না!
সাথে সাথে আয়েজ আজিজ বললো, আমি চাই নাই ওবায়েদ ভাই! এসপি সাহেব স্বউদ্যোগে পাঠিয়েছেন। ওয়াবেদ ভাই, আমি এই সিকিউরিটি নিয়ে এখনই নেত্রকোণা চলে যাচ্ছি।
সেটাই ভালো। ও আপনার ওয়াইফ বুঝি?
গোয়িং টু বি!
লিভিং-টুগেদার করছেন?
আরে নাহ! আজকেই এসেছে। চলেও যাবে। ভাবছি আমিও চলে যাবো। সিকিউরিটির সাথে নেত্রকোণা চলে যাই। সেখান থেকে একটা কার ভাড়া করে চলে যাবো কিশোরগঞ্জ।
সেটাই ভালো। এখানে থাকলে নানান কথা হতে পারে।
আয়েজ আজিজ সুস্মিতার দিকে তাকালে সুস্মিতা কক্ষে ঢুকে সাথে সাথে একটা আর্তচিৎকার করে উঠলো, আ-য়ে-জ…!
সাথে সাথে আয়েজসহ সবাই দ্রুত কক্ষে ঢুকে হয়ে গেলো হতবাক। দস্তগীর ওবায়েদ সুস্মিতাকে বাম হাতে জড়িয়ে ধরে ডান হাতে ওর গলায় একটা ছুড়ি ধরে রেখেছে। ভয়ে সুস্মিতার চোখ দুটো ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে, ও কাঁপছে মৃদু।
ওবায়েদ আকাশ কথা বললো প্রথম, তুমি এখানে কখন এলে দস্তগীর?
দস্তগীর বললো, কিছুক্ষণ আগে ড্যাডি।
তোমার পালানো ঠিক হয় নাই বেটা। তুমি মেয়েটাকে ছেড়ে দিয়ে সারেন্ডার করো।
ওবায়েদ আকাশের কথা শুনে বিস্মিত হয়ে ওর দিকে তাকালো আয়েজ আজিজ।
দস্তগীর বললো, তা হয় না ড্যাডি!
কেনো হয় না? তুমি কী চাও?
প্রাইভেট ডিটেকটিভ একটা চিঠি লিখে দিক এসপি আঙ্কলকে যে আমি নির্দোষ।
আয়েজ আজিজ বললো, তোমার অপকর্মের প্রমাণ তুমিই রেখে গেছো দস্তগীর। আমি কেবল সেগুলো বের করে এনেছি!
খুলে বলেন!
তপতী তোমার প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হয় নাই। তপতী ভালোবাসতো সুধেনকে। সুধেনও ভালোবাসতো তপতীকে।তুমি সুধেনের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে তপতীর কাছাকাছি গিয়ে ওকে প্রভাবিত করতে চাইলে; কিন্তু সেটা তপতীর পছন্দ হয় নি। কারণ তুমি অশ্লিল কথা বলতে ও অশ্লিল ইঙ্গিত করতে।
বিস্মিত ওবায়েদ আকাশ জিজ্ঞেস করলো, আপনি ওদের হাড়ির খবর জানলেন কিভাবে?
আয়েজ আজিজ ওবায়েদ আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো, আমি তপতীর ডায়েরিটা পড়েছি। তবুও তপতী তোমার প্রতি অনুরক্ত না হলে তুমি ওকে নষ্ট করার প্ল্যান করলে। শক্তিটা ছিলো তোমার বাবার পিস্তল। এই পিস্তল দেখিয়ে সুধেনের মুখ বন্ধ করে তপতীকে কিডন্যাপ করে রেপ করার পর হত্যা করে এই ডাকবাংলোর পেছনে মাটিচাপা দিলে এবং কিছু আলামত রয়ে গেলো হতভাগী তপতীর লাশের সাথে।
দস্তগীর দৃঢ়তার সাথে এদিকওদিক মাথা নেড়ে বললো, না তো! আমি কোনো আলামত রাখি নাই।
তোমার অজান্তেই তোমার চুল রয়ে যায় তপতীর হাতের মুঠোয়। তারপর? তারপর আমি ঘাটাঘাটি শুরু করলে তোমার সন্দেহ হলো সুধেন সব বলে দিতে পারে। প্রথমে তুমি আমাকে মারপিট করে এবং পরে হুমকি দিয় সরাতে চাইলে। না পেরে মেরে ফেললে সুধেনকে। আগের মতো ওর হাতের মুঠোয় রয়ে গেলো তোমার চুল এবং নখে তোমার বুকের চামড়ার খানিকটা।
ইস! এই দিকটা কখনো ভাবি নাই যে ওদের হাতে আমার মাথার চুল থাকতে পারে! সুধেনর হাতের নখে আমার বুকের চামড়া থাকতে পারে!
আয়েজ আজিজ পকেট থেকে মোবাইল ফোনটা বের করে দস্তগীরকে দেখিয়ে বললো, প্রমাণ আরো পাকাপোক্ত হলো। তোমার স্বীকারোক্তি রেকর্ড হয়ে গেলো এখানে।
চিটার! তুই আমার সাথে ভাঁওতাবাজি করেছিস! তোর সুখ আমি নষ্ট করবো!
দস্তগীর ওবায়েদ সুস্মিতার গলায় ছুড়ির পোচ মারার সাথে সাথে ওবায়েদ আকাশ গুলি ছুড়লো ওর দিকে। গুলিটা লাগলো দস্তগীরের ডান কাঁধে। ওর হাত থেকে ছুড়ি পড়ে যাবার আগেই সুস্মিতা গলা চেপে পড়ে গেলো মেঝেতে। গলা থেকে রক্ত ঝরছে গলগল করে। এক চিৎকার দিয়ে আয়েজ ছুটে গেলো সুস্মিতার দিকে।
নেত্রকেণার পুলিশ সুপার ফকরোল আমিনের সহায়তায় সুস্মিতাকে পাঠানো হলো ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। দূর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়েদ আকাশ নিজপুত্র দস্তগীরকে গ্রেফতার করার পর পুলিশ হেফাজতে ভর্তি করা হলো নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে।