আয়েজ আজিজ ডাকবাংলোয় না ঢুকে এগিয়ে গেলো গ্রামের দিকে। এদিকে ছোট ছোট মাটির পাহাড় আছে বেশ। পাহাড়ে চাষাবাদ হচ্ছে। ফসল বাঁচিয়ে একটা পাহাড়র চূড়োয় উঠে গেলো আয়েজ। বেশ ফুরফুরে বাতাস। এদিকে চট্টগ্রাম পার্বত্য এলাকার মতো বন-বনানি না থাকায় পর্যটক তেমন আসে না। আয়েজ পাহাড়ের চূড়া থেকে তাকালো চারিদিকে। বসতি আছে সমতল ভূমিতে প্রচুর। বাড়িঘর দেখে মনে হচ্ছে বেশ সচ্ছল। সে পাহাড় থেকে নেমে এগিয়ে গেলো বসতির দিকে। ঠিক পাড়া গড়ে উঠেনি সমতল ভূমির গ্রাম-বাংলার মতো। কোথাও একটা বাড়ি, কোথাও দুটো, কোথাও দুই-এর অধিক। লটারির মতো একটা একক বাড়ি নির্বাচন করে আয়েজ এগিয়ে ঐ বাড়ির দিকে। বাড়ির আঙ্গিনায় ঢুকার সাথে সাথে কতগুলো পোকা উড়ে এলো ওর দিকে।
পোকাগুলো দেখে সে চিনতে পারলো-এগুলো জোনাকি পোকা।
মাছি ও মশা মারার মতো আয়েজ আজিজ দুই হাতে একটা জোনাকি পোকাকে মারবে তখন বাড়ির ভেতর থেকে একজন পৌঢ় ভদ্রলোক ছুটে এসে বললেন, ঐ পোকডারে মাইরেন না গো সাহেব। ঐডা জোনাকি পোকা। ঐডা কারো ক্ষতি করে না গো।
আয়েজ আজিজ দুই হাত নামিয়ে আনলো, আর জোনাকি পোকাটা বসে পড়লো আয়েজের মাথায়। থাকুক ওটা মাথায় বসে।
পৌঢ় ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন, আফনে কই থাইক্কা আইছুইন গো?
আয়েজ বললো, আমি এখানে বেড়াতে এসেছি কিশোরগঞ্জ থেকে। উঠেছি ঐ ডাকবাংলোতে। এই গ্রামের নাম কী চাচা মিয়া?
এই গেরামের নাম আটপাড়া।
আপনিও কি কনভার্টেড খৃষ্টান?
না বাবা। আমরা খেরেষ্টান হই নাই। বাপ-দাদার ধম্মডারে বিসর্জন দিতে পারি নাই।
আপনার বাড়ির অবস্থা দেখে তাই ভাবছিলাম। যারা খৃষ্টান হয়েছে, ওরা বেশ টাকা-পয়সা পেয়েছে সাহায্য হিসেবে। তাই না চাচা?
হ বেডা। পাক্কা বাড়ি বানায়া দিছে, চারকি দিছে, টাকা তো দিছেই।
আচ্ছা চাচা, আমি এখন যাই।
খালি মুহে যাইবাইন কেরে! আফনে নয়া আইছুইন আমার বাড়িতে। একটু নাস্তা-চা খায়া যাইবাইন। আইন আমার সাথে। বাংলা ঘরে আয়া বইন।
আয়েজ আজিজ না করতে পারলো না। সে পৌঢ় ভদ্রলোকের পিছু নিয়ে ঢুকলো বাংলোঘরে। ছোট হলেও সুন্দর করে সাজানো ঘরটা। মনে হচ্ছে ঘরটা কম ব্যবহৃত হয়।
পৌঢ় ভদ্রলোক আয়েজকে একটা চেয়ার দেখিয়ে বসতে বলে চলে গেলেন ভেতরে। আয়েজ না বসে ঘুরে ঘরটা দেখতে লাগলো। চার দেয়ালে চারটি হাতে গড়া সুই-সূতোর ওয়ালমেট টাঙানো আছে। কাজগুলো অনেক অনেক সুন্দর। যে এগুলো গড়েছে, না জানি সে কত সুন্দর! নিশ্চয়ই মেয়েটি এই ভদ্রলোকের!
পৌঢ় ভদ্রলোক একটা ট্রে-তে এক গ্লাস পানি, একটা ছোট প্লেটে দুটো টোস্ট ও একটা পিরিচে ধূমায়িত চা-ভর্তি চা-এর কাপ। সোফাসেটের সামনের টি-টেবিলে রেখে বললেন, আইন বাজান, তাড়াতাড়ি বিস্কুট খাইয়া চা খাইন।চা ঠাণ্ডা হয়া গেলে মজা পাইবেন না।
আয়েজ সোফায় বসতে বসতে বললো, এতো কষ্ট করার কী দরকার ছিলো চাচা?
চা বানাইতে কোন কষ্ট অয় না বাবা। আপনি খাইন।
আয়েজ একটা টোস্ট তুলে বললো, এই হাতের কাজগুলো অনেক সুন্দর। নিশ্চয়ই এগুলো আপনার মেয়ের হাতের কাজ?
হ বাবা। বলেই একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লেন ভদ্রলোক।
দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লেন কেনো চাচা? আপনার মেয়ের নাম কী?
কষ্টের কথা বলতে চাই না বাবা। নামটা বলি। ওর নাম ছিলো তপতি, তপতি রারাং।
আপনার কষ্ট লাগলে বলার দরকার নাই।
কষ্ট বাবা, সারাজীবনের কষ্ট। একমাত্র সন্তান আমার। হারায়া গেলো একদিন।
লেখাপড়া করতো নিশ্চয়ই? কোন ক্লাশে?
কলেজে পড়তো। এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো।
কবে ঘটলো দূর্ঘটনাটা চাচা?
এক বছর আগে। আগামী পরশু দুই বছর পূরণ হইবো।
তপতীর বাবা ফুপিয়ে উঠলেন।
চা পান হলো না আর আয়েজ আজিজের। সে উঠে তপতীর বাবার পাশে গিয়ে পিঠে হাত রাখলো। দরদমাখা কণ্ঠে বললো, এতো কষ্ট পাবেন আগে বুঝতে পারলে কিছুই জিজ্ঞেস করতাম না চাচা। আপনার নামটা জানা হয় নাই চাচা। আপনার নামটা কি বললেন?
তপতীর বাবা একবার ফুপিয়ে হেচকি টেনে বললো, আমার নাম হৈমন্ত রারাং।

আয়েজ আজিজ হৈমন্ত রারাং-এর বাড়ির বাইরে গোহাটায় এসে মোবাইল ফোনে একজনকে ফোন করলো, রইস, দূর্গাপুর থানায় খোঁজ নাও এক বছর আগে আটপাড়া গ্রামের হৈমন্ত রারাং-এর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে তপতী রারাং-এর নিখোঁজ বিষয়ে।
ওদিক থেকে রইস বললো, তুই তো এখন দূর্গাপুর আছিস। তুই সরাসরি থানায় গেলেই পারিস।
একটু সমস্যা আছে। আর আমি যে এখন এখানে আছি তা থানাকে জানানোর দরকার নাই। সব তথ্য আমাকে ইমেইলে জানাবি বিকেলের মধ্যে। ওভার এন্ড আউট।
হৈমন্ত রারাং-এর বিষন্ন চেহারাটা আয়েজ আজিজকে স্বস্তি দিচ্ছে না একদণ্ড। বেড়ানোর ফুরফুরে মেজাজটা কেমন যেনো ঝুলে গেছে। হাটতে হাটতে চলে এলো দূর্গাপুর কলেজে। তপতী এইচএসসি পরীক্ষার্থীনী ছিলো। কাজেই ওর ক্লাশমেট কেউ নেই। ওর ব্যাপারে বলতে পারবে কলেজের কতিপয় শিক্ষক ও দপ্তরি। আয়েজ প্রথমে দপ্তরিদের জিজ্ঞেস করার সিদ্ধান্ত নিলো। সরাসরি চলে এলো মেয়েদের কমনরুমে। কিছু মেয়ে এখনো কমনরুমে খলবল করছে। এর মানে এদের এখন কোন ক্লাশ নেই।
আয়েজ আজিজ পায়ে পায়ে দরজায় প্লাস্টিকের টুলে বসে থাকা আয়ার কাছে গেলো। নিজ পরিচয় দেয়াতে হড়বড় করে যা জানে সব বলে দিলো। আয়া যা বললো তা এরকম:
ও তপতীর ব্যাপারে তেমন কিছু জানে না। তপতী কমনরুমে বেশ হৈ চৈ করতো-সবাইকে মাতিয়ে রাখতো বলা যায়। গানও গাইতো বেশ। অনেক মিষ্টি গলা ছিলো ওর। ক্লাশে কেমন ছিলো বা ওর কোন ছেলে বন্ধু ছিলো কিনা বলতে পারবে না। ওর এই কমনরুমের দরজা ছেড়ে যাওয়া নিষেধ; আর ছেলেদেরও এদিকে আসা নিষেধ।
আয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে ও এক শত টাকা বখশিশ দিয়ে আয়েজ আজিজ চলে এলো কলেজ চত্বরে। কমনরুমের বাইরে তপতী কেমন ছিলো সে বিষয়ে কিছুই জানতে পারলো না। হতাশার কিছু নেই। শ্রেনীকক্ষের পিয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক তথ্য জানা যাবে। একে ওকে জিজ্ঞেস করে উচ্চমাধ্যমিক শেষ বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেনীকক্ষের সামনে চলে এলো। এখন একটা ক্লাশ চলছে। পিয়ন বসে আছে দরকার কাছে একটি টুলে। আয়েজ আজিজ কাছে গিয়ে পরিচয় দিতেই ও টুল ছেড়ে সটান গেলো দাঁড়িয়ে।
তপতীর বিষয়ে জানতে চাইলে পিয়ন যা বললো তা এই:
তপতী সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতো। প্রথম প্রথম সিরাজেরও মনে হয়েছিলো যে তপতী বোধ হয় ওকে ভালোবাসে। ক্লাশের বাইরে কোন ছেলের সাথে একা বাইরে যেতে দেখে নি। মেয়েদের সাথেই বেশি চলাফেরা করতো। বাইরের কোন ছেলে এসে ওকে ডিস্টার্ব করতো কিনা মনে পড়ছে না। এইচএসসি পরীক্ষার আগে এভাবে মেয়েটা গায়েব হয়ে যাবে কখনো ভাবে নি সিরাজ।
তপতীর সৌন্দর্য ও ভালো গুণের কীর্তন ছাড়া আর কিছুই জানতে পারলো আয়েজ আজিজ। আয়েজ আজিজ ভাবছে আর হাটছে। ক্লাশমেটদের তালিকা দরকার। এর জন্য প্রয়োজন কলেজের অধ্যক্ষের সাথে আলোচনা।
কলেজের অধ্যক্ষের নাম জাহিদুর রহিম। জেষ্ঠ অধ্যাপক। অধ্যক্ষের খাসকামরায় ঢুকে পরিচয় দিলে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানালেন। চা ও টোস্ট বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়ন করে জানতে চাইলেন আয়েজ আজিজের সাক্ষাতের উদ্দেশ্য।
আয়েজ উদ্দেশ্য বলার পর আফসোস করে অধ্যাপক জাহিদুর রহিম বললেন, তপতী নামের মেয়েটাকে হয়তোবা দেখেছি অনেকবার; চেহারা মনে করতে পারছি না। আমার কলেজের একটা মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার আগে গায়েব হয়ে গেলো, কেউ আমাকে বলে নাই-আজই আপনার কাছ থেকে জানতে পারলাম। মেয়েটার গায়েবের রহস্য বের করতে সব রকম সাহায্য আমি আপনাকে করবো। আপনি চা পান শেষ করার আগেই স্টুডেন্টদের তালিকা আপনার হাতে চলে আসবে।
প্রফেসর জাহিদুর রহিম ইন্টারকমে বিগত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তালিকা আনার জন্য একজনকে নির্দেশ দিলেন। আয়েজ আজিজ চায়ে শেষ চুমুক দিতেই এক অফিস সহায়ক ছাত্রছাত্রীদের তালিকা নিয়ে ঢুকলো ভেতরে।
কলেজের অধ্যক্ষ তালিকাটা হাতে নিয়ে একবার চোখ বুলিয়ে আয়েজের দিকে বাড়িয়ে ধরে বললেন, এই নিন। আশা করছি আপনি মেয়েটার গায়েব হবার রহস্য উদ্ঘাটনে সফল হবেন।
অধ্যক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে আয়েজ আজিজ তালিকা নিয়ে অধ্যক্ষের খাসকামরার বাইরে এস একবার চোখ বুলালো পুরো তালিকায়। নাম দেখে মনে হচ্ছে একজন ছাত্র ছিলো আটপাড়া গ্রামের-নাম সুধেন রারাং। তালিকাটা ব্যাগে ঢুকিয়ে আয়েজ মনে মনে বললো: আজ আর অনুসন্ধান না-বাকি বেলা চলবে সাইট সিয়িং।
দূর্গাপুরে অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। ব্যাগপ্যাক থেকে তালিকাটা বের করলো আয়েজ আজিজ। দূর্গাপুর ও নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১০টি দর্শনীয় স্থানের নাম আছে এই তালিকায়। আজ সাদা মাটির পাহাড় দেখতে যাবে। এটা দূর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুরে অবস্থিত। একটা ইজিবাইকে চড়ে চলে এলো বিজয়পুর। সোমেশ্বরি নদীতে বৃজ থাকায় কোনো সমস্যা হলো না বিজয়পুর আসতে।
বিজয়পুর এসে বিস্মিত ও মুগ্ধ আয়েজ আজিজ৷ চারিদিকে সাদা মাটি৷ এখানে আসার আগে আয়েজ ইন্টারনেটে দেখেছে-
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে সাদা মাটির অন্যতম বৃহৎ খনিজ অঞ্চল এটি। ছোট বড় টিলা-পাহাড় ও সমতল ভূমি জুড়ে প্রায় ১৫.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬০০ মিটার প্রস্থ এই খনিজ অঞ্চল। খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ১৯৫৭ খৃষ্টাব্দে এই অঞ্চলে সাদামাটির পরিমাণ ধরা হয় ২৪ লক্ষ ৭০ হাজার মেট্রিক টন, যা বাংলাদেশের ৩ শত বৎসরের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। ১৯৫৭ খৃষ্টাব্দ হতেই এখান থেকে সাদা মাটি উত্তোলনের কাজ শুরু হয়। ১৯৬০ খৃষ্টাব্দে সর্বপ্রথম কোহিনুর এলুমিনিয়াম ওয়ার্কস নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই সাদামাটি উত্তোলনের কাজ শুরু করে। পরে ১৯৭৩ খৃষ্টাব্দে বিসিআইসি সাদামাটি উত্তোলনে যোগ দেয়।বর্তমানে ৯টি কোম্পানি এই সাদামাটি উত্তোলন করছে। প্রায় ৩০০ জন শ্রমিক এই মাটি উত্তোলনের সাথে জড়িত।
আয়েজ আজিজ বিমুগ্ধ চোখে ঘুরছে এলাকায়। বিভিন্ন রংয়ের মাটি, পানি ও প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখে ওর মন বিমোহিত। অনেক পাহাড় এলাকায় এবং পাহাড়গুলো বিভিন্ন বর্ণের-সাদা, গোলাপি, হলুদ, বেগুনি, খয়েরি, নীলাভ, ইত্যাদি। আয়েজ আজিজ ক্লান্তি উপেক্ষা করে একে একে সবগুলো পাহাড়ে শুধু উঠলোই না, নমুনা স্বরূপ প্রত্যেক পাহাড় থেকে মাটিও সংগ্রহ করলো। এই পাহাড়গুলোকে চিনামাটির পাহাড়ও বলে। এই সাদামাটি সিরামিকের তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই চিনামাটির পাহাড়ের বুক চিড়ে পানি বেয়ে জন্ম হয়েছে নীলচে-সবুজ পানির হ্রদ।
এই সাদামাটি এলাকা জুড়ে আদিবাসিদের বসতি। অনেক আদিবাসির সাথে আলাপও করলো আয়েজ। সন্ধ্যার আগে ফিরে এলো ডাকবাংলোয়। সাথে সাথে হাজির রবার্ট সিধু। বললো, সারাদিন কই ছিলেন ছার? দুফুরে খাইছেন কই? কী খাইছেন?
আয়েজ আজিজ সোফায় বসে গা ছেড়ে দিয়ে বললো, খাওয়ার চিন্তা করলে ঘুরাফেরা করা যায় না সিধু। তুমি এক কাপ চা নিয়ে এসো।
আফনে বাথরুম থাইকা হাতমুখ ধুইতে ধুইতে আমি চা নিয়া আসতাছি।
সিধু বেরিয়ে গেলো কক্ষ থেকে আর আয়েজ ঢুকলো ওয়াশরুমে। আছে জোনাকি পোকা। আয়েজ আজিজ মনে মনে বললো: এ এক রহস্য নিশ্চয়ই; এই রহস্য মূল রহস্য উদ্ঘাটনে সাহায্য করবে। সে হাত বাড়ালো একটা জোনাকি পোকার দিকে। সাথে সাথে ভোজবাজির মতো কয়েকটি জোনাকি পোকা উড়ে এসে বসলো ওর হাতে।
আয়েজ গুণলো: দশটি।
আয়েজ আজিজ ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো জোনাকি পোকাগুলোর দিকে তাকিয়ে, কি হে? কী খবর? তোমরা আমার পেছনে ঘুরঘুর করছো কেনো? আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করবা তোমরা?
চমক অপেক্ষা করছিলো আয়েজ আজিজের জন্য। জোনাকি পোকাগুলো উড়ে গেলো ওর হাত থেকে। সারি ধরে সামনে একবার পাক খেয়ে ফের ওর হাতে এসে বসলো।
তোমরা মানুষের কথা বুঝতে পারো! দেখতে তো পারোই। কী সাংঘাতিক! এতোদিন তোমাদের সামনে প্রাইভেট সব কাজ সেরেছি। কী লজ্জা! এখন থেকে আর না। তোমরা বাইরে যাও, আমি এখন প্রাইভেট কাজ সারবো।
সুবোধের মতো জোনাকি পোকাগুলো চলে গেলো ওয়াশরুমের বাইরে। কাজ সেরে ওয়াশরুম থেকে বের হবার সাথে সাথে সিধু ঢুকলো চা-নাস্তা নিয়ে।
পুড়ি চিবুতে চিবুতে আয়েজ জিজ্ঞেস করলো সিধুকে, রাতে কী আয়োজন হচ্ছে সিধু?
সিধু বললো, শোল মাছ। মুরগি তো থাকছেই।
মাংস বাদ আজ রাতে। তুমি আলুভর্তা আর ডাল রাখো সাথে। তাতেই হবে।
চা পান শেষ হলে সিধু এঁটো প্লেট নিয়ে চলে গেলে আয়েজ বসলো ল্যাপটপ নিয়ে। ইন্টারনেট খুলে ই-মেইলে ঢুকবে তখন ফোন এলো সুস্মিতার। এই ফোন তো আর এড়ানো যায় না! ইয়েস বাটন টিপে কানে ঠেকিয়ে সাড়া দিলো, হ্যালো! কী খবর? কেমন আছো?
সুস্মিতা বললো, ভালো আছি গলাকাটা মুর্গির মতো!
বাহবা! বহুদিন গলাকাটা মুর্গি দেখি না! তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে খুব!
তাহলে চলে আসছি আগামীকাল।
সেকি! না না! এভাবে তুমি এখানে এলে লোকে নানান কথা বলবে।
সুস্মিতা বললো, লোকের নিন্দার পরোয়া করি না।
বাংলাদেশে করতে হবে ডার্লিং!
তাহলে তুমি চলে এসো।
তা তো আসবোই। কাজ শেষ হোক আগে। এখন রাখছি। ভালো থেকো। আল্লাহ হাফেজ।
মোবাইল ফোন নামিয়ে মেইলে ঢুকলো আয়েজ আজিজ। মেইলটা এসেছে। তবে আশাব্যাঞ্জক কিছু নেই।
তপতীর নিঁখোজের বিষয়ে থানায় একটা জিডি এন্ট্রি হয়েছিলো। পুলিশ কিছুদিন খোঁজাখুঁজি করে তপতীকে না পেয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট দিয়েছে।
আয়েজ মনে মনে বললো, গ্রামে একটা মেয়ে নিখোঁজ হয়ে গেলো, আর পুলিশ ওকে খুঁজে বের করতে পারলো না? এর পেছনে কোন রহস্য আছে নাকি? থাকতেও পারে। পুলিশ সৎ কাজ খুব কম করে! এবার মা বাবার সাথে কথা বলি।