রাতের ফোন লুৎফা-উন-নাহার ধরে থাকে। তখন রাত ন’টা। ল্যান্ড ফোনটা ড্রয়িংরুমেই। ল্যান্ডফোনটা বাজতেই লুৎফা ছুটে গেলো পড়ার টেবিল ছেড়ে ড্রয়িংরুমের দিকে। ড্রয়িংরুমে ঢুকে রিসিভার তুলে কানে ঠেকিয়ে বললো, আসসালামু আলাইকুম, বড় ভাইয়া। কেমন আছো?
আয়েজ জবাব দিলো, ভালো আছি। তুই কেমন আছিস? মা-বাবা কেমন আছেন?
আমি ভালো আছি বড় ভাইয়া। মা-বাবা পাশেই আছে। ওদের জিজ্ঞেস করো কেমন আছে।
পরিবারের সবাই আয়েজ আজিজের সাথে কথা বলে সেখানেই বসে থাকলো।
আছিয়া হাকিম বিষন্ন কণ্ঠে বললেন, ছেলেটা ওখানে কী খাচ্ছে আল্লাহই জানেন।
লুৎফা আফসোসের স্বরে বললো, আমার পরীক্ষা না থাকলে এবার আমি বড় ভাইয়ার সাথে বেড়াতে যাইতাম।
বায়েস বললো, আমারও দূর্গাপুর যাওয়ার খুব ইচ্ছা আছে। এসএসসি পরীক্ষার পর চলে যাবো।
আছিয়া হাকিম বললেন, আয়েজের বিয়ে দিয়ে দেই। কী বলো তুমি আয়েজের আব্বু?
আজিজুল হাকিম একটু ক্ষোভ নিয়েই বললেন, তোমার ঐ ছেলেকে কে মেয়ে দেবে?
কী বলছো তুমি! আমাদের আয়েজ কম কিসে?
শুধু গায়েগতরে সুঠাম থাকলেই হয় না। আয়-উপার্জনের ফ্লো থাকতে হয়। কত বললাম একটা চাকরি নে।
সরকারি চাকরি পছন্দ না হলে কোনো কোম্পানিতে নে। ফেলুদা দেখে শখের গোয়েন্দা হয়েছে! এই গোয়েন্দাগিরিতে কি ভাত জুটবে?
কী যে কও না তুমি! তোমার এতো প্রোপার্টি কী জন্য আছে? তোমার কোম্পানির অন্যতম ডিরেক্টর ও। টাকার কোনো অভাব হবে ওর?
মা-বাবার এই তর্কাতর্কি বন্ধ করার জন্য লুৎফা-উন-নাহার ঢুকে গেলো দু’জনের কথার মধ্যে। বললো, বড় ভাইয়া একটা মেয়েকে ভালোবাসে। বড় ভাইয়া ওকেই বিয়ে করবে।
লুৎফার বুদ্ধি কাজে এলো। আজিজুল হাকিম ঐ তর্ক ভুলে জিজ্ঞেস করলেন, মেয়েটা কি ওকে ভালোবাসে?
জ্বি আব্বু। ওরা পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসে।লাইলি-মজনুর মতো!
আছিয়া হাকিম অবাক কণ্ঠে বললেন, কী কাণ্ড! আমি এর কিছুই জানি না! মেয়েটা দেখতে কেমন রে? তুই কি দেখেছিস? কী করে মেয়েটা?
আজিজুল হাকিম বললেন, এতো প্রশ্ন! উত্তর দেবে কে?
লুৎফা-উন-নাহার বললো, আমি দেবো আব্বু। আমি দেখেছি। কথাও বলেছি।
ক্রেডিট নেবার জন্য সাথে সাথে বায়েস বললো, আমিও দেখেছি আব্বু আম্মু। কিন্তু কথা বলি নাই-লজ্জা লাগছিলো।
আছিয়া হাকিম বললেন, বাহ! তোরা সব জানিস। শুধু আমরা বুড়া-বুড়ি জানি না।
আজিজুল হাকিম খানিকটা উষ্মা প্রকাশ করে বললেন, আহ হা! তুমি আবার ঢুকলে কেনো! বায়েস, তোকেও বলছি। কোনো কথা বলবি না। আগে লুৎফা কথা শেষ করবে।
লুৎফা নড়েচড়ে একবার গলা খাকাড়ি দিয়ে মা ও ছোটভাইকে দেখে যা বললো তা এরকম:
হঠাৎ একদিন আয়েজ আজিজের মোবাইল ফোনে মেয়েটার ছবি দেখে আয়েজকে জিজ্ঞেস করলে আয়েজ ধমক দিয়ে ওকে থামিয়ে দেয়। কিন্তু লুৎফা থাকে তক্কেতক্কে। আরেকদিন কলেজ থেকে হেটে ফেরার সময় নরসুন্দা নদীর পাড়ে আয়েজ ও ঐ মেয়েটিকে পাশাপাশি বসে থাকতে দেখে লুৎফা চুপিচুপি এগিয়ে যায় ওদের দিকে। ওদের সামনে দাঁড়ালে আয়েজ ভূত দেখার মতো চমকে উঠলে মেয়েটি ভ্রু কুচকে জানতে চায় মেয়েটি কে।
লুৎফা-উন-নাহার বললো, আর যায় কোথায় বড় ভাইয়া। মেয়েটির নাম সুস্মিতা। আর দেখতেও খুব সুন্দর-মুম্বাই-এর নায়িকা সুস্মিতার মতোই। আমাদের কলেজেই পড়ছে ইংরেজিতে অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে। ভাবি ভাবির বাবা রাজনীতিবিদ। কিশোরগঞ্জ সদরের ক্ষমতাসীন দলের মাননীয় সাংসদ। নাম আতহার মোকাদ্দেম।
আজিজুল হাকিম একটু হতাশ স্বরে বললেন, কাম সারছে!
আছিয়া হাকিম হতবাক হয়ে বললেন, কী বললে তুমি?
পলিটিশিয়ান! তাও আবার পাওয়ার পার্টির। যত বদগুণ সব এই পাওয়ার পার্টির এমপি-দের মধ্যে আছে। ওসব তোমাদের শোনার দরকার নেই।
ওকে! নিজকে মাননীয় এমপি সাহেবের বেয়াই হবার জন্য তৈরি করতে থাকো! এই সম্পর্ক নিয়া আমার আয়েজের সাথে উল্টাপাল্টা কিছু বলবে না।
বায়েস উৎফুল্ল কণ্ঠে বললো, তার মানে সুস্মিতা নামের মেয়েটাকে ভাবি ডাকতে পারবো! আমি আগামীকাল কলেজে গিয়ে সুস্মিতা আপাকে খুঁজে বের করে ভাবি ডেকে দেবো!
লুৎফা বললো, তুই চিনবি কিভাবে সুস্মিতা আপাকে? তুই কি ওকে দেখেছিস কখনো?
নিশ্চয়ই তোর মোবাইল ফোনে সুস্মিতা আপার ছবি আছে। আমাকে দেখিয়ে দিস।