২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯। সকাল আট টা প্রায় বাজে বাজে করছে। আমাদের প্রাত:রাশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়ে গেছে। হোটেলের লবিতে বসে অপেক্ষায় আছি আমাদের গাড়ির জন্য। আজ আমাদের পুনাখা যাত্রার দিন। দারুণ উদ্দীপনা কাজ করছে মনের মাঝে। সিন গে জ্যাম এর মাঝে আমাদের জানিয়েছে মিস্টার দর্জির আসতে একটু সময় লাগবে। উনি আমাদের সেই পুনাখা পারমিট পাসের জন্য ইমিগ্রেশন অফিসে ঢুঁ মারতে গিয়েছেন। তাই একটু ধৈর্য ধরতে হবে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁচের ওপারে থিম্পুর রাস্তায় হুসহাস শব্দে দৌড়ে চলা গাড়ির ছুটোছুটি দেখছিলাম।সিন গে জ্যামের কাছে রুমের চাবি জমা দিতে যাই। সদা হাস্যজ্জ্বল চেহারার সিন গে কে দেখে মনের মাঝে কেন যেন আনন্দপাড়ার আনন্দ বান জেগে উঠে।
: গুড মর্ণিং
: মর্ণিং

হেসে শুভেচ্ছা বিনিময় করি
: সো অল আর লিভিং?
: ইয়া! ইউ গাইজ লেফট অনলি
: রিয়েলি!
: ইয়া। সো ইউ এনজয়েড থিম্পু?
: ও। ইয়েস! ইট ওয়জ গ্রেইট।লাভলি ভুটান!
: থ্যাংকস!

একটু থেমে প্রশ্ন করি
: সো, জ্যাম! ডু ইউ নো এ্যানিথিং এ্যাবাউট বাংলাদেশ?
: নট সো মাচ! বাট ভুটান হ্যাজ ইটস ভেরি স্ট্রং ফ্রেন্ডশিপ রিলেশন উইথ বাংলাদেশ। আই অলসো নো ইওর প্রাইমিনিস্টার’ স নেইম শেখ হাসিনা।
: রিয়েলি! গুড টু নো! সো…
: প্লিজ টেল মি সম এ্যাবাউট ইওর কান্ট্রি।
: ডিড ইউ হিয়ার এ্যাবাউ1952এন্ড 1971?
: নো! হোয়াই?
: ওয়েল ইউ মাস্ট নো এ্যাবাউট ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে?
: হুম। আই নো!
: সো ইন টুয়েন্টি ফার্স্ট ফেব্রুয়ারি নাইনটিন ফিফটি টু, উই ওয়্যার ফট ফর আওয়ার মাদার টাং, আওয়ার গ্রেইট ফাইটারস ফট ফর আওয়ার মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ, বাংলা।এন্ড ইউ নো! উই আর দ্য অনলি নেশন হু ডিড দিস ফর দেয়ার মাদার টাং।

সংক্ষেপে আমাদের উত্তাল, উদ্দাম ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরি সামনে, বলার পর মুখ তুলে তাকিয়ে দেখি সিন গে জ্যামের মুখে বিস্ময়,ভয় আর শ্রদ্ধাবোধের এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া! শান্ত মুখে সে বলে উঠে
: রিয়েলি! ইউ ফট ফর দ্য ল্যাঙ্গুয়েজ! ইউ গাইজ আর এ্যামাজিং! ট্রুলি এ্যামাজিং! দেন লেট মি নো অ্যাবাউট 1971।

উৎসাহ পেয়ে বলতে আরাম্ভ করি ইন টু নো অ্যাবাউট 71। ফারস্ট ইউ হ্যাভ টু নো, অ্যাবাউট হিস্টোরি অফ পাকিস্তান! আই হোপ ইউ নো এ্যাবাউট পাকিস্তান!

মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক ইশারা করে জ্যাম। তখন বলি

: গুড। বিফোর 71…

সিন গে জ্যামের গভীর আগ্রহে ছেদ পড়ল। আমাদের গাড়ি এসে পড়েছে। দর্জি গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়িয়ে হাত নাড়াচ্ছে। অগত্যা নিচে নেমে যেতে হল। সিন গে আমাদের পিছনে দাঁড়িয়ে ছিল, হাত নেড়ে আমাদের বিদায় জানাল। বলল
: বাই। হ্যাভ সেইফ জার্নি। আর্জলি ওয়েটিং টু নো ইওর হিস্টোরি।
: শিওর! উইল লভ টু টেল ইউ। বাই।

গাড়িতে উঠে বসি। দর্জি সকালের শুভকামনা জানিয়ে গাড়ি চালু করল পুনাখার উদ্দেশ্যে। প্রবল উত্সাহে আমরা অপেক্ষা করতে থাকলাম পুনাখার সৌন্দর্য দর্শনের জন্য। চলুন একটু জানি পুনাখা সম্পর্কে!

পারো হয়ে থিম্পু এরপর পুনাখা। পুনাখা (জংখা) জেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র। ১৯৬৫ খ্রী: পর্যন্ত ভুটানের রাজধানী এবং সরকারের আসন ছিল। থিম্পু থেকে এর দূরত্ব ৭২ কিমি। সমুদ্রতল থেকে এর উচ্চতা ১৩১০ মিটার। পুনাখা যেতে পারমিট পাসের প্রয়োজন পড়ে কারণ থিম্পু থেকে পুনাখা যাবার যে মহাসড়ক তা দেশের ষোলটি জেলার দিকে ধাবিত হয়েছে সেই সাথে এটি আসাম বর্ডারের সাথে সংযুক্ত।

গাড়ি চলছে এঁকে বেঁকে পাহাড়ি কন্যার সুশ্রী তনুর কটিদেশ অতিক্রম করে। যথারীতি আরও ট্যুরিস্ট ভেকাইল নজরে পড়ল। বেশ কতক ট্যুরিস্ট বাসও দেখতে পেলাম। ভেতরে একজন ট্যুরিস্ট গাইড হাত নেড়ে কি যেন বলছে, সম্ভবত জায়গাগুলোর সরস প্রতিবেদন উপস্থাপন করছেন। পাহাড়ি নানা নাম না জানা ফুল সমেত ফুল গাছের বর্ণিল সমারোহ মনকে স্বর্গীয় আবেশে ভরে তুলছিল। এরমাঝে চায়ের তেষ্টা বেশ ভোগাচ্ছিল। দর্জি কে বললাম আশেপাশের কোন চায়ের টং এ গাড়ির লাগাম একটু থামাতে। দর্জি ছোট করে মাথা নেড়ে কথাটি টুকে নিল আর কিছুক্ষনের মাঝেই ছোটখাট এক চায়ের দোকানের সামনে আমরা নেমে দাঁড়ালাম। দু’ টি চায়ের অর্ডার দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। ততক্ষণে চোখ পড়ল দোকানের ক্যাশ কাউন্টারের পাশে। আরে! এ যে বম্বে সুইটসের পটেটো ক্র্যাকার্সের সেই চকচকে সবুজ মোড়ক! আমাদের বাংলাদেশের ফ্লেভার! চিপসের প্যাকেটটা হাতে নিয়ে যেন স্বদেশের গন্ধটা নাকে পেলাম। আসলে যত যেমন হোক না কেন নিজের জন্মভূমির জন্য আবেগটাই যে আলাদা। হাসিমুখ দোকানিকে বলি
: আওয়ার কান্ট্রি প্রোডাক্ট। জাস্ট ফিলিং নস্টালজিক।

হাসিমুখে লোকটি বলে
: উই হ্যাভ সো ম্যানি প্রোডাক্ট ফ্রম বাংলাদেশ। বেশ ভাল আচে।

অনভ্যস্ত নড়বড়ে বাংলা শুনে হেসে ফেলি। তবুও এই গহীণ অরণ্যে নাম পরিচয় না জানা এই ভিনদেশির মুখে প্রিয় বাংলা ভাষার শ্রুতিমধুর বাক্যালাপ মনকে আরও ভাবুক করে তুলল। বিদায় জানিয়ে আবারও গাড়িতে যেয়ে বসি। পথের জাদুকরী নির্যাস নিতে নিতে একসময় পৌঁছে যাই দোচুলা পাসে।

দোচুলা পাস:
এটা একটি মাউন্টেইন পাস। বরফে আচ্ছাদিত হিমালয়ের নজরকাড়া রূপ এখানে দৃষ্টিগোচর হয়। এখানে ১০৮টি মেমোরিয়ান কর্টেন অথবা স্টুপা স্থাপন করা হয়েছে যেগুলো “Druk Wangyal Chorten” বলে পরিচিত। এগুলো তৈরীর প্রস্তাব করা হয়েছিল অশি দর্জি ওয়াঙ্গো ওয়াংচুক কর্তৃক যিনি কিনা রাণী মাতা বলে পরিচিত। এগুলো আসলে স্মৃতিস্তম্ভ। ভূটানের তৃতীয় রাজা জিগমে দর্জি ওয়াংচুকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৭৪ সালে এ স্মৃতিস্তম্ভ তৈরী হয়। এগুলোর উচ্চতা গড়পড়তায় ৩,১০০ মিটার। থিম্পু থেকে দোচুলা পাস প্রায় ৮৫ মিটার দূরত্বে অবস্থিত।

দোচুলা পাসে নামতেই হিমেল বাতাসের ধাক্কা। এটি বেশীরভাগ সময়ের কুয়াশাবৃত থাকে। আকাশ পরিস্কার থাকলে মাউন্ট এভারেস্টের মুখ দর্শন করার বিরল সৌভাগ্য অর্জন করা যায়। আর সেই সাথে উপভোগ করা যায় নেপালের এভারেস্ট। কিন্তু আজ মনে হয় হিমালয় পর্বতরাজির মুখ ভার! অভিমানের ঘনঘটার মেঘের আড়ালে মুখ লুকিয়ে ফেলেছেন অনায়াসে। কুয়াশার ধোঁয়াশা আর মেঘেদের দল রাজ্যের ভিড়ে অনেক চেষ্টা করেও এভারেস্ট দর্শন করা গেল না। তাই মেমোরিয়াল কর্টেন গুলোর সাথে নিতে থাকি দুরন্ত সব স্ন্যাপ শট। এদিকে ঠান্ডায় কিন্তু প্রায় ফ্রিজিং হবার উপক্রম। আধ ঘন্টাখানেক সময় অতিবাহিত করবার পর আবার যাত্রা করি সামনের দিকে। আরেকবার পিছু ফিরি যদি অভিমানী বাদল হঠাৎ হেসে ফেলে। কিন্তু না! আজ মনে হয় কঠিণ মান ধরেছে। অভিমান ভাঙার কোন লক্ষণ নেই একেবারে।

গাড়ি চলতেশুরু করল আবার। অনেক জায়গায় পাহাড়ের ঢালে দেখলাম চাষযোগ্য চারণভূমি তৈরী করে তাকে অবারিত শষ্যক্ষেত্রে রূপান্তর করতে। সোনালী সব খড়ের গাঁদা গম্ভীর বয়োজ্যেষ্ঠদের মত চুপচাপ দাঁড়ানো। পাহাড়ের ঢালে কোমলমতি শিশুদের আদুরে টিপটপ। পাঠশালা নজর এড়াল না কিছুই। এমন করেই একসময় এই পাহাড়ের কোলেই নাম না জানা এক ছিমছাম রেস্তোরায় লান্চের জন্য দাঁড়াই। আর অত্যন্ত সুস্বাদু সবজি, ডিম কারি সহযোগে ভাতের স্বাদটা আরও চারগুণ বৃদ্ধি করে নেই। লান্চ শেষ এবার যাব পুনাখা ডি জং।

পুনাখা জং:
এটি ভুটানের প্রশাষণিক কেন্দ্র। প্রাসাদটি নির্মাণকাল ১৯৩৭-৩৮। এটি জং ( দুর্গ) স্থাপত্যশিল্পের দ্বিতীয় পুরাতনতম এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাসাদ। এটি প্যু চ্যু নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত। শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে এর গুরুগম্ভীর উপস্থিতি প্রাচীর কালের স্থাপত্য শিল্পের এক দৃঢ স্বাক্ষ্য বহন করে চলছে। এর অভ্যন্তরে এক অতিকায় প্রাচীণ, প্রবীণ বৃক্ষ তার শিকড়ের মূল বিন্যাস ছড়িয়ে নিয়েছে প্যু চ্যু নদীর গভীর তলদেশ পর্যন্ত। এই আশ্চর্য নিদর্শণ আসলেই ভ্রমণ প্রেমিদের জন্য এক দুনির্বার আকর্ষণ বটে।

পুনাখা সাসপেনশন ব্রিজ:
নামখ্যাত প্যু চ্যু নদীর ওপর এর দৃঢ উপস্থিতি। ভুটানের এটি দীর্ঘতম ব্রীজ। যার দৈর্ঘ্য ১৬০ মিটার। প্রচুর দর্শনার্থীর জন্য এক অনন্য আকর্ষণ এটি।

প্যু চ্যু / ম্যু চ্যু নদী (পুনাখা নদী):
এবার আসি পুনাখার অপার সৌন্দর্যের মুকুটে চার চাঁদ যোগ করা সেই জাদুর স্রোতধারার কাহিনী কথায়। হ্যাঁ, বলছি প্যু চ্যু আর ম্যু চ্যু নদীর কথা। পুনাখার হৃদস্পন্দন যাতে গেঁথে রয়েছে। ভূটানিজ ভাষায় প্যু শব্দের অর্থ ছেলে আর ম্যু শব্দের অর্থ হলো মেয়ে আর অবশ্যই চ্যু শব্দ বলতে বুঝে নেব নদী। মানে দাঁড়াল ছেলে নদী আর মেয়ে নদী। কেমন অদ্ভুত না? নদীর আবার ছেলে মেয়ে কি? কিন্তু হ্যাঁ। এখানে এমনটাই জানলাম। ভূটানিজদের এই পুনাখা রিভার প্যু আর ম্যু নদীর মিলন গাঁথায় প্রবাহিত। অটল ব্যক্তিত্বের অধিকারী প্যু নদীর স্বচ্ছ সুনীল জলের স্রোতের সঙ্গ দিয়ে চলেছে প্রলংকয়ী চন্চল কিছুটা গভীর বর্ণের ক্রুদ্ধ সঙ্গিনী ম্যু চ্যু নদী। শান্ত অশান্ত দু বিপরীত ধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্যের অধিকারী স্রোতধারার পাশাপাশি সহাবস্থান। প্যু নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম অপরূপ পুনাখার চোখ ধাঁধাঁনো রূপ। শান্ত নদীর স্বচ্ছ শান্ত সৌম্য জল স্রোতের কলকল ছন্দ। যেন লাস্যময়ী তরুণী তার ভীরু পায়ে মল পড়ে ছন্দের মূর্ছনাজাল বুনে চলেছে। অদূরে দৃষ্টি আটকে পড়ে পুনাখা জং এ। নদী মানে জন্ম। নদী মানেই তো সৃষ্টি। পুনাখা নদের তীরে প্রকৃতির সৌন্দর্যগাঁথার এই সৃষ্টযজ্ঞ যেন এই কথাটি আবারও প্রমাণ করে দিল।

প্রিয় মানুষটার হাতে হাত রেখে কেন যেন জানি না কি কথা খুব বলতে ইচ্ছা হচ্ছিল। মনে হাজারো কথার রত্ন রাজি জমে উঠলেও মুখে কেন যেন কিছু বলতে পারলাম না। হাতের পরে হাত রেখে মনের শত বন্ধ প্রকোষ্ঠ তার সকল রুদ্ধ দ্বার যেন অবারিত করে দিল। মনের মাঝে ভালবাসার স্রোত তার কলতান যেন তাকে মিশিয়ে নিল পুনাখা নদীর জলধারায়। আমার মনের না বলা কথার নীরব স্বাক্ষী হয়ে রইল পুনাখা নদী।

আশেপাশের কিছু দূরত্বে জনা কয়েককে রাফটিং এর জন্য প্রস্তুতি নিতে দেখলাম। খুব ইচ্ছা হচ্ছিল নিজেরাও নেমে পড়ি কিন্তু বাচ্চাদের নিরাপত্তার কারণে পিছিয়ে যাই। অগত্যা কতক্ষণ দাঁড়িয়ে অন্যদের রাফটিং এর মজা নেওয়া উপভোগ করি। এবার থিম্পু ফিরে যাবার পালা। দর্জি ইশারা করলে দাঁড়িয়ে পড়ি। গাড়ি যখন বিপরীতে ছুটছে তখন মনটা কেন যেন হঠাৎ খারাপ হয়ে গেল।দিনের শেষে ঢলে পড়া সূর্যটাও কেমন মলিন ভাবে আমাদের সাথে সাথে ছুটে যাচ্ছিল।যাওয়া আসা জগতের এই তো নিয়ম। পুনাখাকে পেছনে ফেলে একসময় থিম্পু তে চলে আসি।

হোটেলে পৌঁছে ডিনার সময় দিলাম সেই আটটায়। মেন্যুতে রাখতে বললাম ট্র্যাডিশনাল ভূটানিজ খাবার। আমাদের কথায় সিন গে কেমন ফ্যাকাশে হাসি দিল যার অর্থ একটু পরে টের পেলাম। রুম হিটারের গরমে যখন পোহাচ্ছি ততক্ষণে ডিনার সার্ভ করা শেষ। মুখে যখন ভাতের সাথে কর্ণফ্লাওয়ারের সাগরে ডুবে থাকা সবজি তুলেছি ততক্ষণে সিন গে জ্যামের ফ্যাকাশে হাসির অর্থ বুঝে গেছি। আবারও ফিকে হাসি মুখে টেনে বলে
: আই নো। ইউ নেভার লাইক দ্যট!

খাওয়া শেষ করে চারজনে গেলাম পাশের একটা দোকানে। এই জিনিষ সেই জিনিষ দেখছিলাম। আচমকা পরিচিত কন্ঠ কানে আসে
: ডু ইউ হ্যাভ স্লিপারস?
: সরি স্যার!

ঘাড় ঘুরাতেই চেনা মুখ। আমার সাহেবের বন্ধু উনিও ফ্যামিলি সহ এখানে ঘুরতে এসেছেন। এই নিয়ে যে কতবার ওনাদের সাথে দেখা হল তার কোন হিসেব নেই। মনে মনে ভাবি পৃথিবী নয় বুঝি ভূটানই গোল! যেখানেই যাই মোটামুটি প্রায় সবার সাথেই দেখা হয়ে যাচ্ছে। পরক্ষণে মনে মনে একটা হিসেব কষে হেসে ফেলি। আসলেই ভূ-গোলক আর ভূ-টান। ভূ-এ ভূ-এ কাটাকাটি । বেশ মজার না? যাহোক হোটেলে ফিরতে হবে। কাল ছুটব পারো-র পথে।