ভিন গ্রহে এলিয়েন খোঁজার জন্য পৃথিবী থেকে একটা স্পেস পাঠিয়েছিল বহু বহু বছর আগে। সেই স্পেসে ছিল পৃথিবীর গাছপালা, জীবজন্তুর ছবি ও পৃথিবীতে আসার একটা সহজ মানচিত্র। তাতে আরো ছিল সুরের জাদুকর বেটোফেনের মায়াময় সুরের মূর্ছনা। একদিন সন্ধ্যায় লুইপা তাদের দোতলা বাসার ছাদে বসে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র লুব্ধকের দিকে তাকিয়েছিল। হঠাৎ একটা গোলাকার ফ্লাইং সসার চোখে পড়ল। সসারটা একটা উঁচুবিল্ডিয়ের ছাদে একটু থেমে আবার শাঁ শাঁ করে ওপরে ওঠে, চোখের পলকে হারিয়ে গেল। খানিকপরে মানুষের মত কি যেন একটা লুইপার মাথার ওপর দিয়ে লাফিয়ে চলে গেল। সে শুনেছে এলিয়েনরাএক লাফে এক কিলোমিটার যেতে পারে। লুইপা কিছুটা ভয় পেয়ে গেল। দ্রুত নেমে গেল ছাদ থেকে। রাতের খাবার খেতে খেতে বাবাকে জিজ্ঞেস করল, কেবল আমরাই কি এই মহাবিশ্বের একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণি? নাকি আমাদের মত আরো প্রাণি আছে ভিনগ্রহে? বাবা বলে, এই প্রশ্নের জাবাব দেবার জন্য নাসা কেপলার স্পেস পাঠিয়েছে মহাশূন্যে। তাতে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে আমাদের গ্যালাক্সিতেই (ছায়াপথ) ১ হাজার কোটি পৃথিবীর মত গ্রহ রয়েছে। ওইসব গ্রহে তরলপানি থাকার সম্ভাবনাও আছে। যদি পানির সন্ধান পাওয়া যায় সেখানে প্রাণের সন্ধানও পাওয়া যাবে। তবে ওইসব গ্রহে পৌঁছানো কিন্তু সহজ কথা নয়। কোন একটা সংকেত যদি পাঠানো যায়।সেটা যদি আলোর গতিতেও যায় তাতেও সময় লেগে যাবে ধরো ৫০০ বছর। আবার তাদের পাঠানো সংকেত ফিরে আসতে সময় লাগবে আরো ৫০০ বছর, কিংবা আরো বেশি।লুইপা বলে আলোর গতিতে যদি যাওয়া যায় তাহলে আমাদের পৃথিবী ঘুরে আসতে কত সময় লাগবে বাবা? উত্তরে বাবা বলে, আলো প্রতি সেকেন্ডে যায় তিন লক্ষ কিলোমিটার। আলোর এই গতিতে গেলে ১ সেকেণ্ডে সাড়ে সাত বার পৃথিবী ঘুরে আসা যাবে। চাঁদে যাওয়া যাবে দেড় সেকেন্ডের ভেতর আর সূর্যে যেতে সময় লাগবে ৮ মিনিটের একটু বেশি সময়। তাহলে তো একবার চোখের পলক ফেলা সময়ের মধ্যেই পৃথিবী সাতপাক দেয়া যাবে তাই না বাবা? উত্তরে বাবা বলে, হ্যাঁ রে হ্যাঁ। তাহলে তো অনেক গতি! জানিস এ গতিতে গেলেও আমাদের গ্যাল্যাক্সি বা ছায়াপথ পার হতে সময় লেগে যাবে দেড় লাখ বছর। আর পুরো মহাবিশ্ব পার হতে সময় লাগবে ৯৩০০ কোটি বছর। তাহলে তো মহাবিশ্ব বিশাল বিশাল বড় বাবা! শোনো আমরা যে গ্যাল্যাক্সিতে বসবাস করছি যেখানে দশ হাজার কোটি নক্ষত্র আছে। গ্রহ উপগ্রহ আছে আরো অনেক অনেক বেশি। সারা মহাবিশ্বে গ্যাল্যাক্সি সংখ্যা জানলে অবাক হবে। তা কত হবে বাবা? তা হবে ১০০-২০০ লাখ কোটি, তাদের আছে আরো কোটি কোটি নক্ষত্র গ্রহ উপগ্রহ। বাবা নক্ষত্র আর গ্রহের মধ্যে পার্থক্য কী? শোনো নক্ষত্রের নিজের আলো আছে কিন্তু গ্রহের তা নেই। তাহলে সূর্য তো নক্ষত্র? আর পৃথিবী গ্রহ তাই না বাবা? হ্যাঁ ঠিক বলেছো। বাবা তুমি কি এলিয়েনে বিশ্বাস কর? বাবা বলে এখনও করি না। তবে মানুষ এলিয়েন সম্পর্কে নানা রকম মুখরোচক গল্প বানিয়ে বলে থাকে। লুইপা আর কোন কথা বাড়ালো না। কিছুক্ষণ আগে যে ইউএফও দেখল সেটার কথা বেমালুম চেপে গেল। সসার ও এলিয়েনের কথা বললে হয়ত বাবা হেসে উড়িয়ে দেবে। তাই বাবাকে এ ব্যাপারে কিছুই বলল না। একটা লোমহর্ষক অনুভূতি নিয়ে ঘুমাতে গেল। পরের দিন অন্ধকারাচ্ছন্ন ছাদে বিশাল আকাশের দিকে তাকিয়ে লুইপা কি যেন ভাবতে ছিল। আচমকা দেখল আকাশ থেকে লম্বা আগুনের গোলা তীরের মত নিচের দিকে পড়তে পড়তে হঠাৎ হাওয়ায় হারিয়ে গেল। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে দাদা দাঁড়িয়ে আছে,দাদা বলে তুমি তো আকাশ থেকে পড়া আগুনের কথা ভাবছো? হ্যাঁ, সেটা তুমি জানলে কি করে? কথার উত্তর না দিয়েই বলল, এটাকে ধূমকেতু বলে রে পাগলী। শোনো পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণে দ্রুত নিচে পড়ার সময় পৃথিবীর বায়ুস্তরের বাঁধার কারণে তাতে আগুন ধরে যায়। তা না হলে, মাথার ওপর প্রতিনিয়ত বিশাল বিশাল পাথরখণ্ড পড়ত। মাঝে মধ্যে দুই একটা পাথর পৃথিবীতে সজোরে আঘাতও হানে। এই উজ্জ্বল তারাকে কি বলে দাদু? এটার নাম শুকতারা এটাকে বেশ উজ্জ্বল দেখায়। এই শুকতারাকে মানুষেরা আবার শুক্রগ্রহও বলে। সৌরজগতের ৮টি গ্রহ ও ১৩৭টি প্রাকৃতিক উপগ্রহ আছে। জানো তো নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘোরে এসব গ্রহ আর গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘোরে উপগ্রহ। বুঝেছি দাদু, আর দাদীকে কেন্দ্র করে আমার দাদা ঘোরে, তাই না দাদু? এই কৌতূক কথাতেও কর্ণপাত করলো না দাদা। বিন্দুমাত্র হাসলো না, ব্যাপারটা দেখে লুইপা অবাক হলো। দাদা কোন উত্তর না দিয়ে বলে চলল, এই যে দেখছো না চাঁদ? এটি পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। মঙ্গলের দুটি চাঁদ(উপগ্রহ)আছে ডিমোস, ফোবোস আর বৃহস্পতির ৬৭টি উপগ্রহ আছে। সূর্যের কাছের গ্রহ বুধ এটি ৮৮ দিনে একবার সূর্যকে ঘুরে আসে। সূর্যকে ঘুরে আসতে আমাদের পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেণ্ড। সূর্য নিজেও সেকেণ্ডে ২৫০ কিলোমিটার বেগে মিল্কওয়েকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রতি সেকেণ্ডে ৩০ কি.মি গতিতে ঘুরছে। কথাগুলো দাদা গড়গড়া মুখস্তের মত বলে গেল। পৃথিবী কি ঘড়ির কাটার মতই ঘোরে? হ্যাঁ, পৃথিবী ও ঘড়ির কাটা পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে।সূর্য কবে মরে যাবে দাদু? কথার কোন উত্তর নেই। পিছন ফিরে দেখে দাদু নেই। হঠাৎ হাওয়া হয়ে গেল। ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি ছাদ থেকে নেমে পড়ল লুইপা। দাদুর কাছে যেয়ে বলল, দাদু তুমি আমাকে না বলে ছাদ থেকে নেমে এলে কেন? দাদু বলে আমি তো আজ ছাদেই ওঠেনি।ভয়ে কেঁপে ওঠল লুইপার সারা শরীর। আর কথা না বাড়িয়ে নিরবে নিজের রুমের দিকে চলে গেল। পরের দিন বিকেলে লুইপা নির্জন পথের পাশে বড় এক পাথরের ওপর বসে গত রাতের কথা ভাবতে ছিল। দেখল তার সমবয়সী এক ছেলে সাবলীলভাবে কাছে এলো, যেন পরিচিত কেউ। অনুমতি চাইল পাশের পাথরটায় বসার। বসেই বিজ্ঞের মত বলল, যে গ্রহে পাথর আছে সেখানেই প্রাণের সম্ভাবনা আছে, যেমন মঙ্গল গ্রহে। আর গ্যাসীয় গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা তেমন নেই, যেমন বৃহস্পতি গ্রহে। তুমি তো ভাবছো আমি কে? তুমি আমাকে তোমার বন্ধু মনে করতে পারো। আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না। জানো তো বহু দূরের গ্রহে এলিয়েনরা বসবাস করে। তাদের সে গ্রহের তাপমাত্রা আজকাল অনেক বেড়ে গেছে। বাতাসে ভেসে বেড়ায় ধূলিকণা, বৃষ্টির বদলে সেখানে এসিড বৃষ্টি হয়। উষ্ণ হয়ে গ্রহটা ধীরে ধীরে পানির নিচে ডুবে যাচ্ছে। তাই তারা বাসযোগ্য ভিন্নগ্রহ খোঁজার জন্য পৃথিবী নামক গ্রহে এসেছে। আসার পথে নাসার ম্যাপ হাতে পেয়েছে। তাতে তারা আরো দ্রুত পৃথিবীতে পৌঁছাতে পেরেছে। লুইপা জিজ্ঞেস করল তুমি জানলে কীভাবে? আমার এক বন্ধুর সাথে নাকি এলিয়েনের সাক্ষাৎ হয়েছে। জানো আমিও দেখেছি কিন্তু কেউ বিশ্বাস করবে না বলে, কাউকে বলেনি কথাটি লুইপা নিচু গলায় বলল। আমার কাছে বলতে পারো কোন সমস্যা নেই। ছেলেটি কাঁঠালগাছ দেখিয়ে প্রশ্ন করল এ গাছে ফুল হয়, নাকি ফল হয়? প্রশ্ন শুনে অবাক হয়ে তাকাল লুইপা বন্ধুটির দিকে। ভাবল নিশ্চয় পাগল টাগল হবে হয়তো। আরেকদিন পথে লুইপা দেখল সে বিছুটি গাছের হুলওয়ালা বীজে হাত দিচ্ছে। লুইপা নিষেধ করার আগেই আঁতকে ওঠে হাত পা চুলকাতে লাগল সেই ছেলেটি। লুইপা কাছে এসে বলল এ গাছে হাত দিতে হয় না বন্ধু। ওই সাদা ধূতরার ফুল দেখছো না? এ গুলোতেও হাত দিও না। এলিয়েন জিজ্ঞেস করল কেন? লুইপা বলে ওটি বিষাক্ত হার্মফুল ফুল। তারপরে লুইপা আবার প্রশ্ন করল এখানে কি তুমি নতুন এসেছো? হাঁ। কোথায় থাকো? এলিয়েন হাত ইশারায় দেখালো জঙ্গলের ভেতরের পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ি। ভয়ে কেঁপে ওঠল লুইপা, তারপরেও সাহস করে জিজ্ঞেস করল ওখানে কে কে থাকো। বলে আমি আর আমার এক বন্ধু। সে অবশ্য রাতে থাকে না, কেবল দিনে থাকে। জেনেছি সে সন্ধ্যা লাগলেই তালগাছে তেঁতুলগাছে তার বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে বেড়ায়। আর মানুষ পেলেই ভয় দেখায়। অবশ্য এই বাড়িতে আমার আর খুব বেশি দিন হয়ত থাকা হবে না। আমরা তো বহু দূরের গ্রহে থাকি। তুমি কি এলিয়েন? এলিয়েন ফিসফিসিয়ে বলল- “ইশ! রে, মুখ ফসকে বলে ফেললাম, ধরা খেয়ে গেলাম।” হঠাৎ দেখে সামনে বাবা, বাবা বলে তুমি দাঁড়িয়ে কার সঙ্গে কথা বলছো? বাবা এই ছেলেটি আমার নতুন বন্ধু, দাঁড়াও তোমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। পাশে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই। বাবা লুইপার মাথায় হাত দিয়ে বলল, আমার মা-মনির পড়ালেখার চাপটা মনে হয় একটু বেশি হয়ে গেছে। বাসায় ফিরেই একটা ফ্রেস ঘুম দেবে। সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। মাথাটা ফ্রেস করার জন্য দাদা লুইপাকে নিয়ে বিকেলে বাহিরে ঘুরতে বের হলো। আকাশে চামচিকা উড়ছে, দুই একটা বক উড়ে যাচ্ছে দূরের গ্রামে। লুইপা বারে বারে আকাশের দিকে তাকাচ্ছে। দাদা বলে জানো তো আজ রাতে আকাশে হ্যালির ধুমকেতু দেখা যাবে। এই হ্যালির ধুমকেতু খুব ভাগ্যবান ছাড়া দুইবার কেউ দেখতে পারে না।কেন দাদু? কারণ এটি ৭৬ বছর পর পর দেখা যায়। মানুষ তো আর বেশি দিন বাঁচতে পারে না। দাদু আমাদের এই পৃথিবী কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে? বিজ্ঞানীরা বলে বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে। কতদিন আগে? আমাদের এই পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে। সূর্য কবে মরে যাবে। ধরো আরো ৫০০ কোটি বছর পরে। তারপরে পৃথিবী তখন আর বাসযোগ্য থাকবে না। কেন দাদু? পৃথিবীর সকল শক্তির উৎস হলো সূর্য। এই সূর্য না থাকলে গাছপালা ফসল কিছুই জন্মাবে না। ধীরে ধীরে পৃথিবী প্রাণি শূণ্য হয়ে পড়বে। তার আগেই মানুষকে সৌরজগতের বাহিরে বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। রাত হয়ে এলো,চল দাদু বাড়ি ফিরে যায়। তা না হলে তোর দাদী আবার ভাববে নাতনীর হাত ধরে ভেগে গেছে। দাদু, তুমি না খুবই নটি। তিন তিনেক পরে আবার এলিয়েনের সাথে লুইপার দেখা হল।লুইপা বলল আমার একটা প্রশ্নের জবাব দাও তো। এলিয়েন বলল, তুমি আগে আমার প্রশ্নের জবাব দাও। লুইপার হাতে বাল্যশিক্ষা বই। টাইগারের ছবি দেখিয়ে এলিয়েন প্রশ্ন করল, এটা কিসের ছবি? লুইপা বলল বাঘের, আবার ছারপোকা দেখিয়ে প্রশ্ন করল এটা কিসের ছবি? লুইপা বলল, বাঘের। দুই প্রাণির একই নাম বাঘ শুনে এলিয়েন তো হতবাক হয়ে গেল! বলল এ আবার কি? ভিন্নধর্মী দুই প্রাণির একই নাম? লুইপার স্কুলের ঘন্টা পড়ে গেল। লুইপা দ্রুত পা চালালো স্কুলের দিকে। আরো কিছুদিন পরে পথে আবার দেখা এলিয়েনের সঙ্গে লুইপার। একটা রিমোটের মত যন্ত্র হাতে নিয়ে এলিয়েন পথের পাশে দাঁড়িয়ে যন্ত্রটি টিপাটিপি করছিলো। নীলাভ রঙের বৃত্তাকার ঘড়ির মত দেখতে যন্ত্রটি। এই যন্ত্রের সাহায্যে লুইপাকে তাদের গ্রহের প্রাণি ও প্রকৃতি দেখালো। কেমন যেন অদ্ভূত প্রাণিদের গঠন। ভেড়ার মত মাথা ফুটবলের মত পেট আর হাতীর কানের মত লেজ। সব মিলিয়ে কিম্ভূতকিমাকার এক প্রাণি। ছাগলের মত আর এক ধরনের প্রাণিরা সাগরে সাঁতার কাটছে। গাছপালা খুবই কম শুধু চোখ ধাঁধানো প্রাসাদ-অট্টালিকা। ধুলিকণা বাতাস জুড়ে, কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন আকাশ বাতাস। প্রাণিরা ধুঁকছেনানা রোগে। এলিয়েন বলল লুইপা তোমাদের গ্রহেরও তো প্রায় একই দশা। ঠিক ধরেছো বন্ধু,আমাদের পৃথিবীও ধীরে ধীরে অবাসযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। আচ্ছা বলো তো তোমার তেঁতুলগাছের বন্ধু কী করছে এখন? সে আগে মানুষকে ভয় দেখিয়ে মজা লুটত। তারে আমি বুঝিয়ে বললাম, অন্যের পিছে সময় ব্যয় করে তোমার কী লাভ? বলেছিল আনন্দের জন্য করি। তারে বললাম ভালো কাজ করে, আরো বেশি আনন্দ পাওয়া যায়। এদানিং সে অনেক ভালো কাজ করছে। সে আজকাল রাস্তার ধারে ধারে গাছ লাগায়, দেখবে? এখন সে কি করছে, তাই বলে ০১০১০-৩৬৯-৯৬৩ ভূতের নাম্বারে ডায়াল করে যন্ত্রটা আবার লুইপার দিকে তাক করে ধরল। ভয়ংকর ভূতের চেহারা দেখে ভয়ে শরীর কাটা দিয়ে ওঠল। এবড়ো তেবড়ো মুখ সাদা সাদা বড় বড় লোম ভয়ার্ত চোখ মস্ত বড় দেহ। দেখা গেল ভূত বেটা বাচ্চাদের স্কুলের আসা যাওয়ার সাঁকোটা মেরামত করছে। এলিয়েন বলল, শোনো বন্ধু লুইপা। তোমাদের এখনও হাতে সময় আছে। পৃথিবীটা গাছে গাছে সবুজ সাগর বানিয়ে দাও। তা না হলে একদিন আমাদের মতই বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে তোমাদের এই সুন্দর ধরণী। তোমার সাথে আর হয়ত দেখা হবেনা, রাতেই রওনা দেব নিজ গ্রহের দিকে। আনমনে গল্পে গল্পে তারা ভূতের বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেছে। বাবা লুইপাকে ভূতের বাড়ির দিকে যেতে দেখেই পিছু নিয়েছিল। বাবাকে আসতে দেখে এলিয়েন ঝটপট বিদায় নিয়ে নিল। বন্ধু বিদায়,লুইপাও হাত নেড়ে এলিয়েনকে বিদায় জানালো। পিছনে তাকিয়ে দেখে বাবা দাঁড়িয়ে। বাবার এবার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মালো, তার মেয়েকে ভূতেই পেয়েছে। তা না হলে ভূতের বাড়িতে আসবে কেন? শক্ত করে হাত ধরে বাড়িতে নিয়ে এলো। রাতে ভূত তাড়ানোর ওঝা এলো, অশ্রাব্য ভাষায় ভূতকে গালি পাড়তে লাগল। যেই লুইপাকে ডালিমের ডাল দিয়ে মারতে উদ্যত হলো,ওমনি তুলোর মত ওপরে ওঠে গেলো ওঝা। ঝুলে রইল গাছের ডালে, মস্তকটা নিচে পদযুগল ওপরে। ওঝা কান্না করে বলতে লাগল,আমার লুঙ্গিটা ঠিক করে দাও, ভূত ভাই। ইজ্জতটা যে গেল। উৎসুক জনতা ভয়ে দৌড় দিল যে যার বাড়ি। বাবা বিস্ময়ে বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে থাকল লুইপার দিকে। হাতের রিমোটটা বাবাকে দেখিয়ে লুইপা বলল,বাবা সব এই যন্ত্রটার শক্তি। এটি আমার এলিয়েন বন্ধু যাবার সময় আমাকে দিয়ে গেছে।