প্রিয়তমা
তোমাকে লেখবো লেখবো করে কতটা সময় কাটিয়ে দিয়েছি, তা ভাবলে অবাক হই! কেউ না জানুক তুমিতো জানো আমার বিশ্বাসের পরিধির ব্যাপ্তিতা কতটুকু। কতটা সময় ধরে তুমি আমি আলোর মিছিলের ন্যায় নিজেদের ভাষায় বেড়ে ওঠা নিয়ে বাক্যবিনিময় করেছি। সুন্দর বাগান বিনির্মানের জন্যে আগাচাযুক্ত বনায়ন করেছি পরিস্কার। যে বাগানের মালি আর দারোয়ান নিয়ে আমার কোনকালে কোনো সংশয় ছিল না। যদিও তুমি প্রায় বলতে অতি বিশ্বাস আর অনিয়মের খেস্তিখেউড় যে কোনো সময়ের জন্য ক্ষতিকর! তোমার এমন ধারণাকে আমি কখনো মূল্য দেইনি, মানে কানে তুলেনি।
অথচ তুমি আমি কতোবার চিনেবাদাম ভাংতে ভাংতে একটা জিনিসের কথা প্রায় বলতাম। যেটি হলো, বাদামটা কতটুকু নরম অথবা কতটুকু মচমচে তার উপর নির্ভর করতে তার ভেতরের প্রলেপ এবং রসনাবিলাস। তুমি প্রায় বলতে – একটি বাদামের খোসাটাই মতানৈক্যআসল। খোসার দূর্বলতায় বাদামের অস্তিত্ব নড়েবড়ে।আবার প্রলেপের ক্রিয়ায় বাড়তো স্বাদের ভিন্নতা। এসব প্রায় তোমার আমার সিরিয়াস কথার অংশও ছিল। দুজনে কেনো জানি মুখোমুখি বসলে অতোসব নিমমের কথা ঠোঁট বেয়ে ফুটত। আবার দিজনের যে হতো না একদম তাও না। কিন্তু শেষে দুজনের চিন্তার মূলবিষয় নিয়ে ঠান্ডা চালে সমাপ্তি টানতে টানতে বাদামের প্যাকেটসহ উদ্যান থেকে কাঁচা পাতার ঘ্রাণ নিয়েই ভবিষ্যতের দিকে চোখ রেখে বিদায় নিতাম।
প্রিয়তমা ইতিমধ্যে তোমার আমার কিছু বন্ধু গ্রাজুয়েশন শেষ করে বাসায় বসে সময় কাটাচ্ছে আর কিছু বন্ধু পালতোলা নাওয়ের মত উড়তেই চায়! যদিও গোড়ার গিটটা ঠিকমতো দেয়ার চেষ্টা করা হয়নি।
প্রিয়তমা আজ সকালের কথাটুকু তোমাকেশুনাতে আমার এই লেখা। তুমি আমি চিরায়তর বাংলায় কণ্ঠপরিস্কার রাখতাম। আজ তোমার জ্ঞাতি ভাইদের অনিয়মে এবং মধ্যরাতে সিঁধকাটা কাকুদের মতো করে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসায় তাদের লজ্জাটিকু হারিয়ে গেছে কুয়াশার জলে ভেজা ফেটে যাওয়া ঠোঁটের মতো। অবাক হতে হয় তোমার ভাইদের বেতাল কাণ্ডে! ওরা শুধু লুঙ্গি ড্যান্সের মতো করে চেতনার ফেরি করতে করতে একেকটা বর্ণচোরা হয়ে উঠছে।কোথাও তেমন একটা মুখ দেখাতে পারছে না। লজ্জা শরমের তো কোন বালাই নেই। আছে শুধু গলা খাকড়িয়ে অপআইনের লেবাস ধরে মানুষ পকেট হাতড়াতে!
শুনো প্রিয়তমা, আজ সকালটা আমাকে মাটি করে দিয়েছে তোমার জ্ঞাতি বোনের সোনার ছেলেরা। যাদের সিস্টেমটাই আনতুরুজ। একটা লিমিট রাখতে বা থাকতে পারতো! প্রিয়তমা প্রভাতফেরী করতে কিছুটা সৌন্দর্যের মালাগাঁথার জন্য তোমার পাশাতো বাড়ির বোনটি এমন অর্ডার করেছে – আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কী ভুলিতে পারি!’ গানটির মাধ্যমে সম্মান প্রদর্শন করতে যেই মাত্র সর্বোচ্চা প্রশাসন দাদাদের প্রভাতফেরি শেষ হলো। খুব নির্মমতা আমাকে ভাবিয়েছে। আমার একপাশাতো ভাই আমাকে কৌতুহল বশত একটি ব্যানারের কিয়দাংশে কয়জন পুরুষের ছবি বসানো হয়েছে। তাদের দেখে তার মাথা খুব গরম হলেও আমাকে ডেকে যাস্ট দেখালেন। তবে ওখানেই তারা শান্ত হয়ে বিদায় নিলেও আবার তোমাকে বিশ্বাস করানোর জন্য দুটো স্নাপ মেরে ছবি তুলে দলিল করে রেখেছি। তোমার পাশাতো ভাইরা চাকুরিনামক রহস্যময়ী জায়গুলোর হাঁড়ে হাঁড়ি ভাঙ্গার মতো! তোমার কথা ভেবে ভেবে দিনের সময় অতিবাহিত করার পরও মনকে শান্তনা দিতে পরবর্তীতে জাতির ফেমইসবুকে কিছুটা ঢুঁ মারতেই কেল্লা ফতেহ। অন্য সময় লাইক কমেন্টের জন্য পিএস রাখার মতো অবস্থা হতো, অথচ আজ তারা ভোতা বাঙ্গালি হয়ে একটি ভুলকে স্বীকৃতি দিয়ে যাচ্ছে। তোমার সেই পাল তোলা বন্ধুরা আজ বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি দিয়ে ভাষা দিবসের ব্যানার বানিয়েছে। আর সেটি নিয়ে রেলিও করেছে। একটি উপজেলা পরিষদের ব্যানারও এটি! এমপি থেকে শুরু করে সব জাঁদরেল মেধাবি নেতারা সেটি নিয়ে প্রভাত ফেরী সফল করায় তোমার হারিয়ে যাওয়া ভাইগুলো কী ব্যথা পাইনি? তাদের এ আত্ম ত্যাগটাকে তোমার জ্ঞাতি ভাইয়েরা কেনো ভুলতে শুরু করেছে তা কী তুমি ভাববেনা! তোমাকে আরো বলতে বাধ্য হচ্ছি প্রিয়তমা। তোমার বাগান পাহারা দেয়া মালি করছে এমন কাজটি। অপর দিকে তোমার বাগানের পাহারাদার করেছে আরো জটিল করে। এই যদি হয় তোমার জ্ঞাতি ভাইদের কান্ডকারখানা, তাহলে তোমার ছেলে মেয়েদের কী হবে?
প্রিয়তমা, আমি ও আমরা আসলে ভেতো জাতিতে পরিণত হতে শুরু করেছি। তুমি খুব ভাল করে জান যে, শুদ্ধতা চর্চার জন্য নিয়মকানুন মানতে হয়। যদি তা না হয় তাহলে লঙ্গি ড্যান্সই হবে!

মোস্তফা হায়দার
চট্টগ্রাম