মহেঞ্জোদারোর স্নানঘর

স্নান সারতে গিয়ে দেখি
নদীগান ভাসতে ভাসতে স্বরধারায় মিশে যায়
নদীর বয়ে যাওয়া মানে দীর্ঘ পরিভ্রমন
ভ্রমন থকে বলেই জীবন এতো মধুময়

ভাবো, কোন নদী অতীতবেদনার পাড় ছুঁয়ে
এই বর্তমানে এসে বিশ্রাম নেয়
ক্ষত জুড়ানো ছাড়া হৃদয়ের কাজ নেই বেশী,কেবল
লাব্ডুব

সিন্ধু সভ্যতার মাঝে লুকিয়ে আছে মৃতের স্তূপ
আসলে, প্রতি সভ্যতায় প্রাচুর্যেই চাপা পড়ে যায় মহেঞ্জোদারো

এ মুহুর্তে ধরা যাক পথঘাট নিস্তব্ধ
অনন্ত নিঃশব্দ হতে চাইছে পথ
মুত্যু এবং শ্বাস ঘাড়ের কাছে

দূর হতে হতে দূরত্ব। প্রান্ত দিগন্ত শেষ
আমরা কাছে আসতে গিয়ে ভীড় করে ফেলি

ভিড়ে হারায় কথা
হাতে থাকে রিংটোন নদীগান মোবাইল
…………………………………………..

নকশি কথা

কত দেখা না দেখা ছবির ফুটে ওঠা দেখি
কাঁথার মাঠ জমিতে
পুরোনো কাপড়ের সুতোর রঙীন বান্ডিল নিয়ে প্রতিদিন বসতেন দিদিমা
ছেড়ে আসা গ্রাম, নদীজল, চেনামানুষজন
স্মৃতি তে আছে যারা স্মৃতিতে ভাসে যারা
মনে করা যায় নদীর ওপারে ভাসে যে নৌকা ও মাঝি, তারা ভেসে ভেসে

আগুন আঁকতে বড় ভালোবাসতেন দিদিমা, আগুনের মেয়ে, স্বাধীনতার আগুন
আমাদের ছাদ বাড়িতে নিভৃত আগুন
আগুনে জ্বলে বহুজনেই দিয়ে গেল
তিন রঙের উত্তরাধিকার

আঁকো, বলে মা ছুঁচে সুতো
কাঁথার ওপর বসে, আমি কাঁথাটা দেখলাম
ছবিদেখি, আগুনের ডিতরজল
এ ছবি যে আমি আঁকবো জানাছিল

রঙে ভিতর জল ছিল, জলের মধ্যে
কিছু বাঁচা শ্বাসবিশ্বাস

ফলসা রঙের শাড়ি পরে যে মেয়েটি
ভালবাসার জলে ভেসে গেল
সে গানে বিশ্বাসের মাঠ পুড়ে অনন্ত ফিনিক্স

আগুনে পুড়ে যাচ্ছে পৃথিবী
জলে ছবি, তবু তুলি শুকিয়ে যাচ্ছে

নকশিকাঁথার মাঠ প্রান্তরে হেঁটে যাচ্ছে
একটি হাত ছুঁয়ে আর একটি হাত

প্রতি হাতে শিশু গাছ
ধুসরতা মুছে যাও
যুগান্তের পোড়া ঘ্রাণ মুছে
সবুজ সবুজ বৃষ্টি নামল, পাতায় পাতায়
…………………………………………..

জল সম্বন্ধীয়

তোমাকে না দেখা অভ্যাস করছি প্রিয় জল। এতোদিন দরজা বন্ধ করিনি,
ভেজানো দরজা দিয়ে কখন যে ভুলভাল ঢুকে এলো মেলো করে দেয় সব। জানি না
সবাই বার বলছে জল সাবান।
আমার যে জল ছুঁতে ভয় করে বড়।
যদি ছুঁয়ে যাই ঘরবসত প্রকৃত শরীরী সংলাপ গড়েওঠে।
তুমিযে করোনা ভাইরাস।মরে যাই যদি, লেখা হলো না সংবেদী পুরাণ।
জলের কাব্য লিখেছি এতোদিন। জলেই প্রথম জীবন বলে বিজ্ঞান।
জলেই আগুন লাগে এজীবনে জেনেছি
ছেঁড়া ছেঁড়া বাড়ি ঘর লোকজন গাদাগাদি করে থাকে।
ওদের একটাই জল। খুব সরু জলের ধারা।
ওদের স্যানিটাইজার নেই জল সাবান খুবই কম
ওরা তেমন জল ছোঁয়ে না।আমার জল ছুঁতে ভয়
…………………………………………..

নীল রঙ সম্বন্ধীয়

গন্ধের ভেতরই বোধহয় সম্পর্কে র অস্তিত্ব থাকে
আকাশ ও জলের রঙে নীল মিশে থাকলেওদুজনের ঘ্রাণের তফাৎ রয়েছে
আমার ছেলেবেলাটা সমুদ্রের সাথে কাটিয়েছি
নীল জল অনেকজল বিশুদ্ধ অপত্যঘ্রাণে
আমায় কাছে টেনে
বালি আর তটভূমির লাল কাঁকড়া চিনিয়েছে
জল আমার পরম আত্মীয় আকাক্ষিত
জলের ভেতর ভাসতে ভাসতে গর্ভ নামক মাটি
ঊনকোটি তীর্থের স্ব কায়া পরিভ্রমন
মাটিকে আমি মা বলে জেনেছি,যদি ডাক দিই দেশ জেগে ওঠে,
আরো তবে বিশ্ব সীমানা পেরিয়ে জেগে ওঠে ভূমি জেগে ওঠে ভূমা
সমুদ্র আমার আশ্রয়, রোদজ্বলা দুপুরে আমাকে বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে রূপকথা।
আমি সমুদ্রের ঘ্রাণ পেয়েছি আকাশের নীল রঙ ঘ্রাণ টি ভিন্ন
আকাশকে বাঁধা যায় না
মেয়েকে তাই আকাশ দিতে পারিনি
অচল নোটবন্দী গান নিয়ে সে অপত্যের ছায়া খোঁজে
…………………………………………..

কান্না কিশোরী

জল লুকোতে আমায় অরন্যেই যেতে হবে বোধহয়
পৃথিবী নিরালা পেয়ে ঘুরে বেড়ায় সুমেরীয় পাখি
অষ্ট্রেলিয়ার পথে পথে সপরিবারে ক্যাঙ্গারু
সকালের পাখায় আঁকে রোদ

একটু আড়াল চাই।নাহলে ঘেঁটে যাবে লাইনার ল্যাশ
সবাই বলে তুমি এলোমেলো দীর্ঘযাপন
অরন্যের নিবিড় আড়ালে কিছূ না হোক ছায়া আছে বেশ।
কতখানি কাঁদা পেলে কার্যকরী হয় বেদনার শীলমোহর, অবিবেচক বালিকা জানেনা

অরন্যে কাঁদতে গেলে নিবিড় হরিন ফিসফাস
আরও কাঁদলে পৃথিবী শুকিয়ে যায়
…………………………………………..

ব্লক

পরিযায়ী হাওয়ার সাথে উড়ন্ত দুপুর মেয়ে পুরুষেরদল
আধরঙা খুচরো বিষন্ন বিস্তার আধুলীতে বেঁধে রাজধানীর পারাপার ঘাট
স্যাটেলাইটীয় চোখে দেখে যায় টেলিভিশনের জমায়েত।

দুঃখের অনাদি গান লিখবে বলে যে অমিয়বালক
এখানে ওখানে ভুলভাল ঘোরাঘুরি করে,
সে ঠিক
আমারই মতো বেকুব উজবুক,
কত ভুল করছি
জীবনে হেসে অবহেলায় তার গুনতি সেরে ফেলি
মা লক্ষীর কুনকে কম পড়ে

তুমি খুব গুছিয়ে হিসাব করো রুনুদিদি, কবির ওয়ালেট
আমার কেবল পেঁজা পেজাঁ জল ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের মতন
একবার যদি দেখে নিতে মিতালী পুরান, তবে আমরা দুজন মিতে অম্লশূল সই

সর্ষের ক্ষেতে ছবি আঁকে হলুদপাখি গান
পরিয়ায়ী শব্দের ভারে কেঁপে যায় বুক

একটি পরিযায়ী পাখিকে মেয়ে বন্ধু বলে ডেকেছিল
সামাজিকতার লাল রেখা আঁকা যায়নি বলে
গুঁড়োগুড়ো দেড়দিনের সাজানো সাংসার

সাংসার সাজাবে হাঁড়িকুড়ি বাসনীয় গান
আমার আর কবিতার মাঝে ঘুমিয়ে আছে
আমাদের মেয়ে পরিজাত ঘোর স্বপ্ন প্যাস্টেল

নির্জন পৃথিবীর পথে এখন লগডাউন। সবটাই ব্লগ
প্রতি সকালের মাদকতা জল।টাইমলাইন দেখি কবিতা ভাইরাস।

আতঙ্কে থাকি উন্মাদিনী রাই ডুবে যাই যদি কোলাজ রঙ জল
তার চেয়ে ব্লক করে দিই কবিতার প্রোফাইল

রুনুদিদি, আমি ডুবে যাচ্ছি গভীর গভীরে
ভয় করছে আমার
দিদিভাই তোমায় কি এ বার ডাকা যায়
…………………………………………..

ফুল

ফুলকে ভয় পায়না কেউ
ফুল্ল কুসুমিত দলে নেচে প্রজাপতি
মিলনের পরাগ গান গায় যখন
আমার মনে পড়ে যায়
অর্থকারী সেই লোকটার কথা
লোকে যাকে দালাল বলে

মার পেয়িংবেডের জন্য, সরকারী বিকাশের দাম পাওয়ার জন্যে
সেও প্রজাপতির মতো
গ্রাহক ও প্রাপ্তির ফুলে বসে
পরাগমিলন ঘটায়

মৃত্যু এখন চায়না মেড
এই তুমুল বাচালতা
ফেসবুকের পাদপ্রান্তে হাঁচি কাশির টাইমলাইনে

একটি ফুলে ঢেকে যাচ্ছে পৃথিবী

এই ঘোষনায় যিশু ভগবান আল্লা
সান্ধ্যভ্রমণে যখন তখন
এ ভ্রমণে বিভ্রম ঘটতে পারে

আর রঙ দেখা যাচ্ছে না পতাকার
চটি ও চায়ের গ্লাস এখন আশ্বাস

এখন আর অনৈতিকতা নৈতিকতা দেখিনা
কেবল বোতল দেখি
সেখানে দুদু অথবা মদ্য
যেকোনো টাই থাকতে পারে

কোকিল ডাকছে
ঘুম চোখে নিজের বিছানাকে
ভালো বাসতে ইচ্ছা করে

ফুল তুমি দুরন্ত ভাইরাস
চুমু খেলে মৃত্যু নির্ঘাত

বিন্দুখাতের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে
মানুষ ওসভ্যতা জীবন পাপ পূণ্য দেখছে
ফুল তোমাকে বড্ড ভয় করছে
…………………………………………..

আত্মজা
(জন্মদিনের আগের রাতে)

এখন আমাদের ঘাড়ের কাছে মৃত্যু এবং শ্বাস
প্রতিদিন আমাদের কাছে অমূল্য
মূল্যের অতীত বলে খুঁজে পেতে বাঁচার আকাক্ষা
সভ্যতাও শ্বাস গুনছে,
একথা কোনো ভবিষ্যতদর্শকের পুঁথিতে লেখা ছিল না
লেখা ছিল না বলেই বেহিসাবী বাঁচা হল খুব
খোলাম কুচির মতো মরে যাওয়া দেখছে সভ্যতা

সেদিন এমন চাদরে ঢেকে রাত্রি এবং আমি
বসে একটিও প্রেমালাপ করিনি

বালকের প্রিয় ফুটবলের চেয়ে বড়
আমার স্ফিত পেটটি নিয়ে আমি বিব্রত
স্ফিত পেটটির মধ্যে যে একটি প্রাণ জায়গা করে নেবে
এমন সম্ডাবনার কথা জানা ছিল না এমনটাও নয়

একটি চলমান শুক্রানু বেছে নেয় গর্ভজল
জলের ভিতর জীবন যাপন
সেদিন অন্ধকার রাতে মৃত্যু বিশ্বাসীপ্রেমিকের মতো একটি মাত্রবার চুম্বন দিতে চেয়েছিল
চুম্বনের এক অপার্থিব স্বাদ, ব্রহ্মআস্বাদ
মৃত্যু তোমায় একটি ঠোঁট দিতে পারিনি
আমি গর্ভজলের ভিতর ছোট ছোট পাদুটির
দাপাদাপি শুনেছি

ঠিক এমুহুর্তে পৃথিবী মরে যাচ্ছে
ঠিক এমুহুর্তে পৃথিবী বাঁচার জন্যে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে
ঠিক এ মুহুর্তে ই আমি তোর জন্য
জন্মদিনের পায়েস রেঁধেছি
…………………………………………..

পাখি

তোমাকে ভিজতে দেখলেই মনে হয়
বূকের মাঝে রাখি
বৃষ্টি ঝরছে
যেমন তোমার চোখের ছোট ছোট ধারা
অবিশ্রান্ত ধারাপাতে নেমে আসে
মাটি ছোঁয়া বিলম্বী গাছের শ্রদ্ধাবনত পাতা

বৃষ্টিতে তোমার বুকের পালক ভিজে,
হৃদিওম দিয়ে ফিরিয়ে দিই শুকনো তাত

অভিমানে ভেঙে যেতে যেতে কখন যে মিশে যাও কাজশেষ বিকেলের পুকুরের ঘাটে
পড়ন্ত বিকেল রোদ এক চিলতে কলম
তোমার ভেঙে পড়া খোঁপায় গুঁজে

টুকরো দুঃখ যেন শুকনো তাল পাতার ভূর্জপত্র
রাতের আকাশের চাঁদতারা পেতে ঘুমিয়ে পড়ো

লেখা না লেখা কথকতা গান জড়ো করে
ঘুমের মধ্যে তাতওমে জড়িয়ে ধরে
পদ্মপাতায় লেখা গানও জীবন
তুমি ঘুমোও খুকুমনি,
ক্লান্তি নূপুর খুলে
তোমায় অনেকটা পথ যেতে হবে
…………………………………………..

রঙ

চাঁদ, দোলের চাঁদ. বড় ভয় করে তোমায়
তোমার পূর্ণ গোলক আলোর ছটায় এক
পাগল বের হয়ে আসে, ঢুকে পড়ে আমার ভেতর
দ্রাক্ষালতার মতো তার চুল;
ঢুকে পড়তে চায় পলাশের বনে;
আমি বৃন্দাবনের বৃন্দগান দেখি
আগুনের আঁচ পাই
পোড়া গন্ধে ভরা যমুনা তটে ও ভালো লাগে ভালবাসাবাসি গান,
রাধার পরণের বাস ছিঁড়ে গেছে,
এখনও গান অপেক্ষা করে,
সময়ের নদীজলে গানঘ্রাণ ভেসে গেলেও
পলাশ, আজই হোরি
…………………………………………..

আগুন

কার ঘর পুড়ছে কারা আগুন দিচ্ছে
তা না জেনেই
আগুন জ্বলে ওঠে।
আগুনের ধর্মই দাহ্যতা,
আগুনকে কারা কিভাবে ব্যবহার করবো তা আমাদের দায়
মসজিদে আগুন লাগালে তার এক টুকরো ফুলকি মন্দিরকেও পোড়ায়
পাশাপাশি আছে যে মানুষ তাদের হাতে শান্তি জল আছে বলেই , এখনও এপৃথিবী বাসযোগ্য
ক্ষমতা র রাজপথে কুকুর শেয়াল ঘুরে বেড়াতো
এখন হায়না নেকড়ে দাঁত নখ বের করে আমাদের শান্তি খেতে আসে,আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে
ধর্মের আফিমে মুড়ে একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়

ধর্ম কোনো আফিম নয়, ধর্ম ধারনের কথকথা
ভালবাসার আরেক নাম

সিংহাসনে বসে যে রক্তখেকোরাজা ভাবছো
দাঙ্গা তোমার খেলাধুলো, রক্তাক্ত মানুষ তোমার
এক এক গ্রাস
তাকে সাবধান করে বলি, আমরা সবাই পাশাপাশি থাকি, আছি, থাকবো,আমাদের ভাঙা যায় না