অভিশাপ

যেই দেশে মাজলুমের আহাজারি গগনবিদারে,
জালেম ঘুরে সহস্য বদন, মাজলুম কারাগারে।
জ্ঞানীরা দৌড়ঝাঁপ করে ঠাঁই নেয় ঘরে,
অজ্ঞরা চাকরিটা পেয়ে যায় টাকার জোরে।
খবিশ পিচাশের গলে সুশোভিত জয়মাল্য,
জ্ঞানীগণে করা হয় লাঞ্চিত পশুতুল্য।
বিচার ফায়সালা চলে মুখ পানে চেয়ে,
বড়লোক হওয়া যায় বড়দের সাফাই গেয়ে।
যে দেশে সত্যটা প্রকাশ করা বিষম দায়,
সৎলোকে লেপন করা হয় পঙ্কিল কালিমায়।
মামার নাম ভাঙ্গিয়ে দেয়া যায় সাত সাগর পাড়ি,
স্বার্থের ব্যাঘাতে নিষ্পাপ জনের গলে লাগে দড়ি।
যেই দেশে ভালো-মন্দের নাই কোন ব্যবধান,
জ্ঞানীগণ লাঞ্চিত ,অজ্ঞরাই করে সেবাদান।
ওই জাতির তরেই বিধাতার অভিশাপ,
সভ্যতার দাবিদার তারা, নিজেকে ভাবে নিষ্পাপ।
আকাশে ঠেকে তবে মাজলুমের বাণী,
জাতির ভাগ্যে জোটে তখন পরাধীনতার গ্লানি।
……………………………………………

শৈশবের স্মৃতি

কোথায় হারিয়ে গেছে মোর সেই শৈশবকাল,
মাছ ধরিবার চুতায় স্কুল কামাই করিতে খুজিতাম জাল।
বনে বনে খুঁজিতে পাখির ছানা খুড়াতাম বোণোজাম,
খবর থাকিত না বেলা পাটে গিয়ে কখন যে হত শাম।
চরের ভূমিতে পাড়ার ছেলেদের সাথে খেলাটি জমিত বেশ,
গোধূলিতে গা-ঢাকা দিয়ে ফিরিতাম ঘরে যখন খেলা শেষ।
যদি কোন ভুল ত্রুুটি পড়িত ধরা পাড়ার বড়দের কাছে,
ধমকেই চলিত শাসন, বলিত বোকা এমন করিতে কি আছে।
ভরা নদে নাহিবার কালে লাই খেলে কাটাতাম বেলা,
কখনো বা কলাগাছ কেটে পানিতে ভাসাতাম ভেলা।
পায়ে হেঁটে দূর গ্রামের সাথীদের লইতাম খবর,
এখন তো জানিনা কে আছে কোথায়, কোথায় কার ঘর।
বৈশাখী মেলায় বাঁশির বায়নাটি ধরিতাম মায়ের কাছে,
বাজানেরে করিতাম ভয়, কি জানি ধমক দিয়ে বসে পাছে।
হত না তাতে, দুমুঠো চাল করিতাম চুরি, ফাঁকি দিয়ে মায়ের আখী,
তবুও হতো না শেষ শখের মালাটি থেকে যেত বাকি।
বাবার হোটেলে খেয়ে দেয়ে মায়ের রান্নার খুত,
ধরেছি যে কত, তখন তো আসে নাই ঘরে গিন্নি যমদূত।
আজ ক্ষণে ক্ষণে জেগে উঠে মনে শৈশবের সেই স্মৃতি,
মায়ের সেই আদর বোনের স্নেহ পড়শির ভালোবাসা প্রীতি।
……………………………………………

আশা-আকাঙ্ক্ষাই সুখ

উজ্জ্বল আশার আলোতেই ফোটে সুখের কলি,
নিরাশ হৃদয় ঘুরে, লইয়া হতাশার ঝুলি।
আশার আলো যতদিন জ্বলে সুখ ঠিকে ততদিন,
হতাশ হৃদয়ে করুণ স্বরে বাজে দুঃখের বীন।
বৃক্ষ যখন বেড়ে ধীরে ধীরে পৌছে তার শেষ প্রান্তে,
গতি ব্যাহত, ধীরে ধীরে হয় খাটো নিজেরই অজান্তে।
মানুষ যখন করে নিজ লক্ষ্যের পর্বত শিখরে আরোহন,
চলার গতি থামিতে না থামিতে চলে দুঃখের আগ্রাসন।
আশাতেই সুখের সূচন, আলো জ্বলে যতকাল,
হতাশায় দুঃখের সূচন, যবে না কাটে নিরাশ জঞ্জাল।
আশা আর বিশ্বাস মূলেই মানব জীবনের উন্নয়ন,
ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে, তাতেই ভর করে মানুষের বিদেশ গমন।
যতদিন চলে শ্বাস তত দিন ফুরাবে না মনের আশা,
নিরাশ হৃদয়ে জুড়ে বসে দুঃখ, বাধে বাসা।
মানুষ জনম ভর করে যায় আকাঙ্কার বীজ বপন,
ফসল ঘরে উঠিতে না উঠতেই এসে যায় সমন।
……………………………………………

সখ্যতা

বহুদিন পরে মনে পড়ে আজি তোমারি স্মৃতি,
আমিতো তোমাকে ভুলেই গিয়েছিলাম যথারীতি।
এমন দিন গেছে তোমার আমার ছিল বেশ মাখামাখি,
রাতের গল্প সকালে চলিত থাকিলে তা বাকি।
বাজান দেখিতো যবে আমারি সখ্যতা তোমারি সনে,
পূরণ করিত আবদার আমার যা ধরিত মনে।
তোমায় নিয়ে নিশি জেগে করেছি কতই না গল্প,
তবুও মা বলিতো গত রাত জেগে রয়েছিস অল্প।
তোমাতে দিয়েছি মন যেই পড়িল বড় আপার চোখে,
সেদিন কি যে আদর করেছিল টেনে নিয়ে বুকে।
আপার আদরে, তোমার প্রতি বেড়েছিল মোর কদর,
আমিতো তোমাকে নিয়েই থাকিতাম প্রায় দিনভর।
কালের বিভাজনে তোমাতে আমি যোজন দূর,
আমি তো ভুলেই গিয়েছি, তোমাতে শেখা যত সুর।
এখন তো তুমি আর আমি কেউ কারো কিছু নই,
সখ্যতা গড়া তোমারি কাজ, কারণ তুমি তো বই।
……………………………………………

সাথী

জ্ঞান আহরণে আমিও চলিব তোমার সাথে,
মুচিবাতি হেন থাকিব সাথে, আঁধার রাতে।
তুমি ফুল হলে আমি গন্ধ হয়ে থাকিব তোমারি পাশে,
তোমার মান বাড়াবো আমি, তোমারি ব্রুতে কাজল বেশে।
তুমি পাখি হয়ে উড়াল দিয়ে যদি কোথাও চাও যেতে,
যথায় যাও, ছায়া হয়ে থাকিবো তোমারি সাথে।
তুমি যদি চাঁদ হয়ে ভুবনে চড়াও তোমার কিরণ,
নদী হয়ে আমারি হৃদয়ে তোমায় করিব ধারণ।
আলো হয়ে যদি ফুটিতে চাও আকাশের পূর্ব কোনে,
তোমারি চারপাশ রাঙ্গাতে বাধ্য হব রক্তিম রং ধারণে।
তুমি সূর্য হয়ে দেখা দিলে কোন এক শীতের ভোরে,
আমি তাপ হয়ে তব গুনোগান চড়াবো দূর বহুদূরে।
তুমি সন্ধ্যা হলে আমি গুধুলি হয় বাড়াবো তোমার মান,
তোমারি স্মরণে পাখি হয়ে গাইবো কিচিরমিচির গান।
তুমি মৌমাচি হয়ে যদি ঘুরাও বনে বনে মধু আহরণে,
আমিতো মধু হয়ে লুকাবো ফুল ফুলে কুঞ্জবনে।
ঘন কালো রাতি হয়ে যদি দাও মোরে দর্শন,
তোমারি লাগি মেঘমালা হয়ে আমি করিব বারি বর্ষণ।
সৈন্য হয়ে যদি কারেও করো যুদ্ধে আহবান,
ধারাল তলোয়ার আমি ওড়াবো তোমারি শত্রুর গর্দান।
তুমি যদি হতে পারো চপলা পাহাড়ি ঝরনা ধারা,
কুলুকুলু রবে আমি চারপাশে জাগাতে পারি সাড়া।
যদি তোমার মন চায় বাড়াতে দেশের মান,
প্রয়োজনে তোমারি পাশে থেকে দিতে পারি প্রাণ।
……………………………………………

জান্নাতে সুসংবাদ

আল্লাহই মোদের প্রভু, ও স্বীকৃতিতে যারা দৃঢ় অবিচল,
হতাশায় ভোগে না তারা হয়না কভু হীনবল।
পাহাড় পড়ে না ভেঙ্গে বাতাসের ঝাপটায়,
সাগরের জল স্বচ্ছ, হয়না দূষিত আবর্জনায়।
আসমানী দূত সদা থাকিয়া ওদের পাশে,
হিম্মত যোগায় প্রাণে, ভীতির বেদনা নাশে।
হৃদয়ের কোটরে গচ্ছিত ঈমান নামের ধন,
ও দূত তারি পাহারায় নিয়োজিত সারাক্ষণ,
ও স্বীকৃতিতে ওরা পায় খুজে নিজের পরিচয়,
থাকে না দীলে এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো ভয়।
আল্লাহর ভয়ে ভীত প্রাণ, মরনের কাল সুসময়,
ওরাই জানে পরপারে ওদের নাহি ক্ষয়।
জলের মাছ, ডাঙায় কাটে তার দুঃসহ জীবন,
তাইতো অবিচল প্রাণে করে পরপারের আবেদন।
সদা স্বচ্ছ মনে থাকে না চিন্তার লেশ,
কেউ থাকিবে না ভবে, ওপারে যাত্রা সবিশেষ।
আল্লাহই রব, তাতে দৃঢ়পদ অবিচল প্রাণ,
মরণের ক্ষণে দেখিবে সে,মরণের পরের স্থান।
সান্তনা দিবে দূতে,এতকাল করেছিলে যার আবেদন,
দেখো, চেয়ে দেখো ঐ জান্নাত, তাতেই তুমি করিবে গমণ।
……………………………………………

আহ্বান

ওঠো ওঠো শিশুগণ ঘুমাইওনা আর,
ঐ শোনো হাঁকিছে আজান আল্লাহু আকবার।
মসজিদেরি মিনারে ঐ আজানেরি সুর
নীশা পোহাইয়া এখন হইয়াছে গো ভোর।
অজু কর নামাজ পড়ো মসজিদে তে যাও,
দুহাত তুলে রবের কাছে চাহিবার যা চাও।
বল, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি,
গুরুজনে কটুকথা নাহি যেন বলি।
সাথীদের কারো মনে যেন, নাহি দেই ব্যাথা,
ভুলেও যেন নাহি বলি কভূ মিছে কথা।
নামাজ পড়ো কোরআন পড়ো পাঠে দাও মন,
সময়ের কাজ সময়ে করিতে করো পণ।
পাঠের সময় কভু করিও না হেলা,
খেলাধুলা করিতে হয় বিকালের বেলা।
সদাই মনে মনে বল, আয় প্রভু দয়াময়,
আমার এ জীবন তুমি করো কল্যাণময়।
……………………………………………

বৈশাখী ঝড়ে

আকাশ জুড়ে মেঘ জমেছে
ডাকছে দেয়া কর কর,
এমন দিনে বাইরে কে যায়
উঠেছে যখন ঝড়।
আধার রাতে ঝড়ের মাঝে
বিজলী যে চমকায়,
বিজলীর চমক বিনে
পথটি চলা দায়।
শ্মশানে পেত্নী নাচে
পিচাশে দেয় শিষ,
শেওরার বনে নাচে
শয়তান খবিস।
বিলের মোহনার খালে
ঢলের পানিতে ডাঙ্গায়,
কই মাগুর শিং টেংরা
গড়াগড়ি যায়।
খাড়ু জলে বোয়াল গজার
শোল মাছের মেলা,
দেয়ার করকর ডাকে
মৎস্য কূলের খেলা।
এ রাতে জলা তার সম্পদ
দিয়েছে উজার করে,
জুংলা ভরিতে নাই বাধা
যে যত পারে।
টুটা হাতে শিকারি সজল
ও পথে বেদম দায়,
এসময় বিজলিটি তার
মাথার ওপরেই চমকায়।
ভয়-ভীতি গেছে উবে তার
মাছ শিকারের লোভে,
নতুবা ও পথ মাড়ায়নি ও
বেলা গেলে ডুবে।
বৈশাখের ঐ মৎস্য চাওর
হাওরবাসীর চিরচেনা,
এমন দিনে বাইরে যায়
শিকারি হাতে গুনা।
……………………………………………

ঈমানের পথে

যত মুশরিক গণে জিজ্ঞাসিলে,
নিখিল ভুবন কে করেছে সৃজন,
রবি শশী অতি কল্যাণকর,
সৃজিলো কে সে জন।
আকাশের বারি বরিষণে জমিন উগরে
ফল কমল, সবি কার দান,
অবশ্যই বলিবে তারা সবের স্রষ্টাই
মহান আল্লাহ সুবহান।
মুসলিম গণে ও তাই বলে, তিনি বিনে
স্রষ্টা কে আছে আর।
এ স্বীকৃতি জ্ঞাপনেও মুশরিক তারা,
বোঝা ভারী ভার।
উভয়ের কালিমার মর্ম তো একই,
তাতে নাই গরমিল আর।
ও কালেমার দাওয়াতেই রোচে,
কাঙ্খিত অর্গ উপহার।
সৃষ্টি যার হুকুম তার, এ কালামের তরে,
কাটে না কারো অভিমত,
স্রষ্টা বিনে অন্যের হুকুমের তাবেদারী,
তা তো শিরকী রীতিমত।

স্রষ্টার হুকুমেই চলিবে কর্ম যত,এই তাবলীগে,
পিতা-পুত্রে ভাইয়ে ভাইয়ে বৈরী,
এতেই শেষ নয় কয়েদখানায়
ফাঁসির রজ্জু থাকে সদা তৈরি।
……………………………………………

ধর্ম আর দল

ধর্ম আর দল যেন শোলমাছ আর কদু
পৌষের দিনে জিভে অমৃতই জাগে শুধু
শোল আর কদু না,রে দুধ আর মধু
দুয়ে মিলে বানায় তহুর লক্ষ্মী কুলবধু
দুধ আর মধু নারে, গাছ আর ফল
ফল বিনে গাছ, আগাছ তরু তূল
গাছ আর ফল না,রে নদী আর জল
জলের অভাবে নদী বহে না কুল্ কল্
নদী আর জল নারে মাছ আর জল
মরা খাল ভরে মাছে নামিলে বাদল
জল আর মাছ না,রে তীর আর তূণী
কে জানে এই দুয়ে কে বেশি গুণী
তীর আর তূণীর গুণে বীর বাহুবল
তীর বিনে তূণী,তূণী বিণে তীর উভয়ে অচল
তীর আর তূণী না,রে বই আর পাতা
একই মলাটে তারা একসূত্রে গাঁথা
পাতা বিনা নাহি বই, বই বিনে পাতা
হবে না লিখা অতীতের স্মৃতি গাঁথা কথা।