চেরাগীর নেভানো আলো

অনুভবের গহীনে শাহজালালের রূপসী কৈতর!
তোমারে শব্দের সুতোয় আর কতটুকু বাঁধি?
তুমিতো পক্ষি হয়ে উড়ে গেলা কলমীর ধারে
একা একা ঘুরি ফিরি খুদ পানি খোঁজে আড়ালে।
চেরাগে আলো জ্বেলে হাঁটতে থাকে শাহ বদর,
মাঝখানে কদম রাসুল- গভীর শান- পাত্থরে পাত্থর।
ঊমেদ খা’ ভেতর কিল্লা’র রেখে যায় বিজয়ী খঞ্জর,
আন্দরকিল্লার নীচে বয়ে যায় জাগতিক জ্ঞান-নহর।
বছর বছর শুধু হাঁটতেই থাকি,
ভাসাতেই থাকি জাগতিক বহর;
ভাসতে থাকি সিলসিলার মুসাফির নাদান কৈতর।
বদর পট্টি শোক তোলে-
হায় ইনসান… হায় ইনসান…
তুমি আমি ভুলে ভুলে চলে যায় ঊনত্রিশ রমজান
চাটিগা’র শোকের ক্বাসিদা জ্বলে অন্তরের ভেতর।
কোথায় গেলো মাহি আছোয়ার রক্ত?
কদল খান গাজী, হাজী খলিলের খ-লি-ল ধারা?
মোল্লা মৌলবী আজ মৌ-লোভী শুধু কোর্তা ওয়ালা;
কেবল খোঁজ মাংসের ফালু আর আলু,
সরুভাতে কাড়া নাকাড়া ।
ভুলেছে রাসুল-সুন্নাহ-দা’য়ী-সত্ব ধারা?
হায় রাসুল… হায় রাসুল… জিকিরে সারা,
এ কী শুধু জিকির- ফিকির… ফিকির…
জিকিরের লাহান শোনায় তাহা।
বাড়ে শাহ বদরের পাশে শাহ আমানতের রৌশনায়,
ওরশের ডেক বাড়ে, বাড়ে না চৈতন্য- হুশ নাই।
চাটির চেরাগে আলোতো বাড়ে না,
চেরাগী আলোয় মশা মাছি উড়ে,
ভনভন গন্ধ ছড়ায় মেথর পট্টীর রসালো,
আলোতো জ্বলে না, আলোতো জ্বলে না।
নিয়নের আলোয় সুবোধ তাড়ালে-
সাধুর মিষ্টি চলে কচুরির মিলালে,
মুদ্রায় মুদ্রায় চলে মুদ্রালয় চালে,
কেউ আজ বদর বদর বলে জিকির তোলে না।
চেরাগের আলো নিভে গেছে বহু আগে
মিডিয়ায় আলো আসে স্বার্থের সুযোগে ;
এখন চেরাগীর সেই আলো জ্বলজ্বল করে না।
কেউ বদর…বদর… ডাকে না, চেরাগ জ্বলে না।
…………………………………………..

রূপসের সেই পাখি

পুকুর ঘাটে জিরিয়ে কিছুটা যখন শান্ত,
পর্যটন ক্লান্তিতে রয়েছে কিছুটা দাগ- শ্রান্ত;
খাদেম দেখিয়ে দিলেন কুমিরের কবরটি নয়,
শাহ মাখদুম রূপস শুয়ে আছেন ভেতর কামরায়।
যেভাবে আমাদের ভেতর পশুরা লক লক করে যাপনে,
তবু আত্মার গভীরে ঘুমায় এক সাধক আবদুল কুদ্দুস।
সেখানে ইতর বিশেষও মুগ্ধ হয়ে ওঠে যাপন শুভ্র শুদ্ধতায়,
রাজশাহীর অন্তজ মানুষ চেয়েছিলো যা হৃদয় রেহালে,
কী আছে সেই মাখদুম রাহে? বাহে?

২.
নিপিড়ীত মানুষ খুঁজে তাদের যোগ্য নৃপতি,
নৌযুদ্ধ, অশ্বযুদ্ধ, হৃদয় যুদ্ধে জিতে রূপসের সৌম্য পুরুষ,
সাম্যের বাণী হৃদয় জুড়ানি গেয়ে ওঠে বাঘার কৃষাণী-কৃষাণ;
পদ্মার তীর ঘেষে তরঙ্গিত হয় আত্মার গান।
শাহ দীঘির প্রশান্ত ঢেউ খেলে বেঁচে আছেন শতবর্ষী সেই সব আম্রকানন।

৩.
সালাম ও তাসবিহ্ জপে ধীর পায়ে এগোতে থাকি কুমিরের পথচিহ্ন খুঁজে,
যে পথ বেয়ে শাহ মাখদুম ডাঙ্গায় উঠেছেন;
পর্যটনের ব্যঞ্চিগুলো মাড়িয়ে যেই
পদ্মার ধূ ধূ বালুচরে কদম ফেলি,
দেখি একটি ছোট্ট পাখি নিয়েছে পিছু…
হাঁটতে হাঁটতে যখন বাঁধা নৌকায় পা রাখি,
অকস্মাৎ দুলে ওঠে সমস্ত পদ্ম চরাচর,
দুলতে থাকে নৌকো,
দুলতে থাকে আমাদের স্থির মনস্তত্ত্ব জগৎ-
পাখিটা তখন নৌকোর গলুইয়ের ‘পর।

৪.
সখ্য হয়েছিল এক আবাবিল ছানার সাথে বছর দুয়েক আগে- এক প্রাচীন নগরীতে,
যার পূর্বপুরুষ সম্রাট আবরাহারকে ধ্বংস করেছিলো অলৌকিক উপল অস্ত্রে,
সেই পাখি আবার কেনো আমার নিয়েছে পিছু পিছু ?
আহত সে পাখির ছানার ডানায় আবে জমজম ঢেলে আমিতো করেছি শুশ্রূষা,
ও মায়ার প্রলেপ লেগে আছে কি পাখির হৃদয়ে?
নাকি শাহ রূপস দিয়েছে কোনো বাড়তি নির্দেশ-
আমাকে কোনো এক রহস্যের বার্তা শোনানোর?
অথচ এখনও আমি রপ্ত করিনি তাসাউফ,
শব্দের মোচড় শিখতে শুধু হাত বাড়িয়েছি অলি-গাজীর দরগায়,
দেখতে বের হয়েছি শুধু প্রবল প্রতাপি রাজাদের কীভাবে উড়েয়ে দিলেন তখতে তাউস-
ঘোড়ামারা, বাঘারের দেউরাজ সামন্তদের দোর্দণ্ড মহড়ায়।
ও পাখি! তোর ভাষাটা আমাকে বুঝিয়ে দে…

৫.
পাখি আমার পিছু ছাড়ে না,
কূই কূই করে কি যেন শোনায় আর চলে আমার পিছু পিছু।
দুপুর গড়িয়ে যখন সন্ধ্যা,
প্যারিস রোড ধরে হাঁটতে থাকি, হাঁটতে থাকি… ;
বিশাল দেবদারু ও ইউক্যালিপ্টাস হাওয়ার দুলুনি দিয়ে ছায়া দিতে থাকে শহীদ মতিউর কবর।
আমি হাঁটতে হাঁটতে শুনি আবার সেই ছোট্ট পাখির ডাক,
কূই কূই করা রহস্য গীত,
দেখতে থাকি ফুড়ুৎ করে কানের পাশে দিয়ে উড়ে যাওয়া একখণ্ড সাহস।
অবোধ্য এক বার্তা শুনিয়ে যায় সে পাখি।
আমি সেই থেকে পাখি ভাষা বোঝার আশায়
নবী সোলেমান আ. এর সহীফা খুঁজে বেড়াই সমস্ত গ্রন্থপাড়ায়।
এবং শেষ বেলায়,
দেখা পাই এক বিস্ময় মানুষ সাদেকুল ইসলাম-
বুকে যার একখণ্ড হীরক নিয়ে রাবির ক্যাম্পাসে নীরবে আড়াল রয়।
যে কিনা আয়ের প্রায় টাকা বিলিয়ে দেন গ্রামীণ লাইব্রেরিতে- স্থানিক ইতিহাসের বই বিলিয়ে বিলিয়ে;
এই ভেবে, একদিন ওখানে থেকে প্রাণিত হয়ে
বিশাল উত্থান হবে এ বঙ্গ জনপদের লুপ্ত ইতিহাস।
পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় মহল্লায় লিখিত হবে গাজীদের জীবনগাথা, প্রত্ন ইতিহাস।
বিপুল বিস্ময়ে গড়ে তুলবে প্রজন্মের কেউ
প্রাকৃত মানুষের সাম্যের সেই লুপ্ত জনপদ, জনগাথা- মাখদুম জনপদ।
…………………………………………..

সেপ্টেম্বরের ইলশে রোদ ঘিয়ে বিষ্টি

এবঙ হলুদ রৌদ্রের পালানো থামলে
ঘিয়ে রোদে ইলশে বিষ্টি চুপচাপ ঝুপঝাপ;
তরুণী ভিজিতেছে সিড়িতেই এবঙ ভিতরে ।
ভিজছে সেপ্টেম্বরের প্রাণ ইউক্যালিপটাস ট্রি;
ফতুয়াটা ভাঁজ করছে একা- ভিতরে বাইরে ;
আড়চোখে দেখছে তাহারা এই ইউক্যালিপটাস ট্রি ;
শিশির কুড়াচ্ছে একা এবঙ তরুণী ভিজছে ;
মুখটিপে হাসছে তরুণী কিংবা এ ইউক্যালিপটাস,
এবং বিষ্টিতে ভিজিতেছে সে একজন ভেতরেই।
আশলে সেপ্টেম্বরের রৌদ্র পালিয়ে বিষ্টি হচ্ছে…
আশলে সেপ্টেম্বরের বিষ্টি হচ্ছে সবাই ভিজে…
আশলে কাঁপে ফতুয়া উড়ণী ভাঁজের আড়ালে…
এবঙ তুমুলভাবে ভিজতে ভিজতে রোদময়
ঘিয়ে বিষ্টির সাথে এ ঝুপঝাপ- চুপচাপ সময় ।।
…………………………………………..

যে তুমি বাঙলাদেশ

বেয়াড়া হাসির মতো বুক ত্যক্ত করে
আগলে রেখে নিজেকে যৈবতী ফ্রেমে,
পেছন পৃথিবীর সে অভিভাজ্য শুন্য-
আগলেই আছো তুমি তো বাচ্চা হাতি-শুড়ে।
চুয়ে পড়ছে নীল স্বপ্ন দৃষ্টি এন্টেনায় ,
আরামের সিঁড়ি বেয়ে সোনালি চাদরে।
ক্লান্ত… ক্লান্ত… প্রাণ কেউ স্বপ্ন গাঢ় দ্যাখে;
উপমা ছুঁড়ে জীবনে- নিত্য এ কাঁকরে।
এপাশ-ওপাশ শুধু, ঝরে দৈহী লালা;
কে শে? মানুষ না রঙ পাল্টানো আরশোলা?
ভেসে আসে সে স্লোগান, ভাঙার আহবান।
চৌর্যবৃত্তিতে কাটে এ আরশোলা জীবন;
কী হবে তা অতো ভেঙে, ভেঙে যায় মন,
এই বাঙলাদেশ ভোগী- টিকটিকি যাপন।
…………………………………………..

দেয়াঙ পাহাড়ের মৌনতায়

দেয়াঙ পাহাড়ের মৌনতায়-
কেটে যায় সুনসান সন্ধ্যা নীরব রাত কুয়াশা ঢাকা ভোর;
যতটুকু কোলাহল তাও নগর ছাপিয়ে নয়,
মাঝে মাঝে ডাকে কয়েকটা কুকুর- শেয়ালের হুক্কাহুয়া।
যেভাবে সবুজ শ্যামল বঙ্গদেশে কতিপয় পিশাচের হানায়-
কালের মুয়াজ্জিনের কাটে দিন আঁধার প্রকোষ্ঠে সিজদায়।

তেমন নীরব বেদনায়-
নিস্তব্ধ পাহাড় ডাকে আমাকে তোমাকে ;
ওখানে মৌনব্রত সেবাস্টিন শিষ্য থাকে ,
রামানুজ আঁকে দেবপ্রাসাদের রঙিন চিত্রাঙ্গদা।
লোকালয় থেকে দূরে, অনেক দূরে-
নীরব শুভ্রতায় শাহ্ সুজার ঈদ গাঁ তোমাকে ডাকে,
খোদাকে ডাকে গিফারীর কতিপয় অনুসারী।
মরিয়ম ভাস্কর্য হয়ে ফুল বাগানে জীবনের অন্য রূপ নিয়ে থাকে।
দেয়াঙ মৌনতায় বাংলাদেশ কাঁদে মরিয়মের প্রভুর কাছে।

কেনো তুমি অমন বেচঈন দিল দিলে প্রভু?
কেনো তুমি সন্ধ্যা রাগে এ হৃদয় সাজালে?
দেয়াঙ মৌনতায় দিন যায় রাত্রি গভীর হয়,
নিশিতে বাজে শুধু করুণ করুণতম গীর্জার ঘন্টা;
দেয়াঙে মৌনতা ভাঙ্গে,
ভাঙ্গে রক্তেগড়া হৃদয় চিত্রের মৌল সম্বন্ধ গরিমা;
হায় বাংলাদেশ, তোমাকে কে শেখাবে মানবিক ইতিহাসের সীমা?
…………………………………………..

সেপ্টেম্বর: আগুনের বানে তুমি, ফাগুনের বানে

সেপ্টেম্বর আসে যায় সেপ্টেম্বর আগুন
এবং এই সেপ্টেম্বরে দেখেছি ও আগুন।
তুমি তো আগুন নও তুমি সেই ফাগুন,
জয় শ্রী…
জয় গুণ…
তোমার ছুয়েছি আমি- অহংকার বাদামী;
তোমার ছোঁবনা আমি- যাপনের ভাঁড়ামী;
পাশকাটি, পাশফিরে যায় পাশবিক উল্লাসে;
রাত যায় জেগে জেগে- এ বোধের বিন্যাসে-
জয় শ্রী…
জয় গুণ…
সেলাম কুটুম…
বিজয়ী ফাগুন…
বােধ ও ক্রোধ আমার-তোমার মাঝে মাঝে,
নিয়ত জ্বলেই ওঠে তুষের সে আগুন;
সেপ্টেম্বর আসে যায়; সেপ্টেম্বর ফাগুন।
…………………………………………..

সেপ্টেম্বরের মেঘরৌদ্র

সেপ্টেম্বরের আকাশ মেঘলা হলে,
তাকে কাদম্বরী ডাকলে মন্দ হয় না;
তবে যে দ্বন্দ্ব হয়; সন্ধ্যে লয়।
রবীন্দ্রনাথতো তেড়ে আসতে পারেন-
তাঁর ও গোপন চিঠি ফাঁস হবে বলে
কবিতা ক্লাস থেকে তাড়িয়ে দেন;
গদ্যের বারান্দায় তো বেশি বেমানান ;
তোমাকে তাই ইরা ডাকবো আমি।

তোমাকে নীরাও যদি ডাকি নিনাদি;
ব্যঞ্জনের চমৎকার অন্বয় এতে;
কিন্তু ঐ যে সুনীল নীরা… চিৎকারে-
ওতো পুরানো প্রেম; কথা পঞ্চাশে
তোমাকে তাই ডাকবো ইরাই বলে
তুমিতো কবিতা- স্বপ্ন মগ্ন সে চাওয়া-
সারগামের চমৎকার আবৃত্তি হওয়া ।
ইরা! স্বরব্যঞ্জনের প্রেম- স্বপ্নীলা
এবঙ তুমি মেঘরৌদ্র সেপ্টেম্বরের
ইরা…ইরা…ইরা…রৌদ্র হৃৎ বিন্যাসের।
…………………………………………..

সেপ্টেম্বর ছুঁয়েছে যাকে

সেপ্টেম্বর ছোঁয় যাকে হৃদয় ছিড়েছে তার,
গিন্সবার্গ হেঁটে যায় হৃদয়ের পথে পথে;
কুয়াকাটা সূর্য ওঠে, সূর্য ডোবে মনো মাঝে
জীবনের আছে বুঝি নানা রূপময় কার ।

শিমূলেরা গান গায় তখন কার্তিক সন্ধ্যা।
সেপ্টেম্বর ছুঁয়ে যায়, ছুঁয়ে ছুঁয়ে শুয়ে যায়;
গিন্সবার্গ হেঁটে হেঁটে স্বপ্নের ভিড়ে ও মীরে
পায়ে পায়ে ছড়ানো যা বিস্তার তৃষার ভীড়ে;
জীবনের নানা রঙ; রঙ বেরঙ তন্দ্রা ।
…………………………………………..

দোহাগুচ্ছ

১.
শারাবে কিছু নেই, আছে প্রণয়ীকে ভুলে থাকা বাহানা,
চিনি ছাড়া চাও শারাব, তেতোকে মিঠা বলে চালনা।
২.
ঐ পানসে তেতো গন্ধে কী আছে- চূর হয়ে চরম গিলতে?
তার চেয়ে বিরহ ভালো, কিছু দেয় সে তোমা নিয়ে খেলতে।
৩.
এসো পানের চাইতে পান্না খোঁজার তালেই থাকি প্রিয়,
পাই বা নাপাই লোকেতো বলবে জহুরী ছিলো পূজনীয়।
৪.
এ কোন মদিরা শুধু লিখতে সময়ের ইতিবৃত্ত- করে অধীরা,
মহাকাল নিষ্ঠুর ছাড় পায়না রাজা মহারাজা, শাহজাদিরা।
৫.
নেশাতুর সবাই কেউ এটা কেউ ওটা- বন্দী নিজস্ব কিংখাবে,
নেশা নেই শুধু যে নেই আমাদের এ লৌকিক যাপন উৎসবে।
…………………………………………..

শুধু ৩১৩ জন আল্লাহর সিপাহী…

তেল-নুনের চেয়ে মানুষের দাম কম,
এর চেয়ে বেশী মূল্য পোড়া মাটির;
মাটি নয়, এতো মোহ দণ্ডমুণ্ড তখতের,
এতো অর্থনীতি রাজনীতি সভ্যতার সূত্রের;
এতো লোহিত সাগরে তেলের যত সওদার।
সব কিছু ছাপিয়ে মূল্যহীন হয়ে আছে
ইয়েমেনের নারী-শিশু-হাড় জিরজিরে লাশের,
সন্তান সম্ভাবা কাশ্মীরী মায়ের,
ভাই হারা হাজারো লাদাখের বোনের,
ইজ্জতের লাল খুন বয়ে যাওয়া পরাধীন কাশ্মীরের।

হে রাষ্ট্র, কে তোমাকে সীমানা ঠিক করে দিয়েছে?
রাষ্ট্র কাঠামোর ব্যর্থতা ছুড়ে দিয়েছে ইয়েমেন, কাশ্মীর, আরকান-
আধুনিক রাষ্ট্র চিন্তুকদের চোয়ালে চোয়ালে।
উম্মা… উম্মা… করে কাঁদে সানার জনগন, শালিমার বাগের শুঁকিয়ে যাওয়া ফুল।
লাদাখের চেরিগুলো আরো লাল হয়ে আছে একটি রক্তাক্ত পতাকার পবিত্র হবে তার রুধির ভিজিয়ে।
সোনালু আভায়ার ভেতর থেকে শয়তান জাতিসংঘ উঁকি মারে।

সানা- মানব সভ্যতার হৃদয়ের নাম,
রাব আল খালী শেবার রাণীর সে সুরম্য রাজধানী।
মদিনার আনসারী সাহাবী তুব্বারই অভিবাসী,
আসসাহাবী কান্নুজুম-
সাহবীরা আমাদের ভালোবাসার নক্ষত্র মণ্ডলী।
কাশ্মীর শুধু একটি গজওয়ার ইংগিত হয়ে কাঁদাতে থাকে কতিপয় মানবিক মানুষের।
আর নামানুষেরা যুক্তি ও সূত্র খোঁজে তখতের খুঁটি শক্ত করার।

আহা, ভালোবাসার কোনো রাষ্ট্র সীমা থাকে? থাকে না।
শাহজালাল ইয়েমেনী রাষ্ট্রের সীমা মানলে-
আজ বাঙালি মুসলমান শব্দটি হতো না,
গৌড়গোবিন্দের আত্যাচারে থেমে যেতো বঙ্গজনপদ।

মজলুমের কোনো গোত্র পরিচয় থাকে না,
আজও গৌড়গোবিন্দের শকুনডানা ছায়া হয়ে বিস্তারে বঙ্গ মুলুকে।
আর ক্ষুধার্ত মানুষের কী কোনো রাষ্ট্র সীমা থাকে?
তাদের কাছে বছরের প্রতিটি দিনই রামাদান,
প্রতিটি দিনই গজওয়ায়ে বদর।
আর কাশ্মীরীদের কাছে প্রতিদিনই গজওয়ায়ে হিন্দ।

বদরের আর্তনাদ আজ প্রতিটি মজলুম জনপদে-
হকের নিশান হয়ে উড়ে- রক্তাক্ত নারীর সম্ভ্রমের ওড়না।
হকের লড়াইয়ে শুধু ৩১৩ জন আল্লাহ’র সিপাহী প্রয়োজন,
বাকী সব উদ্বৃত্ত আয়োজন-
এসবের নেই প্রয়োজন।

কে আছো? কে আছো?
সিরিয়া-ইয়েমেন-ফিলিস্তিন-কাশ্মীর-আরকান-মিন্দানাও…
প্রতিটি জনপদে মজলুমের আর্তনাদ থামাতে,
ক্ষুধার্ত শিশুর মুখে রুটি ও সুরুয়া তুলে দিতে,
এবং
জোব্বাধারী কথিত খাদেমুলদের গালে থাপ্পোর লাগাতে-
যারা মদিনা সনদ বিক্রি করে ক্ষমতার গন্ধ মোহে।

কে আছো?
কে আছো?

এসো ঐ ৩১৩ সওয়ারীর কাফেলায় দি’ যোগ।
বদরের নিশ্চিত বিজয় শেষে
তবেই আমাদের কদর রাত্রি হোক-
রহমত বরকতময় অনিঃশেষ।