ইসলামী জীবন-দর্শনে তাকওয়াই সকল সৎগুণের মূল। তাকওয়া একটি মহৎ চারিত্রক বৈশিষ্ট্য। মানুষের ব্যক্তি ও সামাজিক চরিত্র গঠনে তাকওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তি চরিত্র গঠনে তাকওয়া একটি সুদৃঢ় দুর্গস্বরূপ। যার মধ্যে তাকওয়া বিদ্যমান সে সর্বদা আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব করে। আর যে আল্লাহকে হাজির-নাজির মনে করে, সে কোনো পাপ কাজে জড়াতে পারে না। অপর পক্ষে যে তাকওয়া শূন্য তার দ্বারা সকল অপকর্ম করাই সম্ভব। সুতরাং তাকওয়া সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, পরিশুদ্ধ ও সৎ জীবনযাপনের মূল কথা।
তাকওয়ার আভিধানিক অর্থ ভয় করা, বিরত থাকা, রক্ষা করা, সাবধান হওয়া, আত্মশুদ্ধি, পরহেযগারী।
ইসলামী শরীআতের পরিভাষায় তাকওয়া অর্থ হল,আল্লাহ্ তা‘আলার ভয়ে নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ হতে দূরে থেকে ইসলাম নির্ধারিত পথে চলার আপ্রাণ চেষ্টা করা। অথবা,যে কাজ করার কারণে মানুষকে আল্লাহ্র শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে, তা থেকে নিজেকে রক্ষা করা হচ্ছে তাকওয়া।
মুত্তাকীর পারিভাষিক সংজ্ঞায় কাযী নাসিরুদ্দীন বায়যাবী (র) বলেন,
শরীয়তের পরিভাষায় মুত্তাকী বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে যিনি নিজেকে এমন সব কিছু থেকে রক্ষা করেন,বাঁচিয়ে রাখেন,যা তাকে পরকালে ক্ষতির সম্মুখিন করবেঅ”(কাযী নাসির উদ্দীন আবদুল্লাহ্ ইবন ওমর ইবন মুহাম্মদ আল-বায়যাবী) ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তার উম্মতকে তাকওয়া গ্রহণ করার ‎নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন হাদীসে এসেছে :‎ আবু উমামা সুদাই ইব্ন আজলান আল-বাহেলী বলেন : আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিদায়ী হজে খুতবা ‎দিতে শুনেছি।
তিনি বলেন : “তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অর্জন কর।
অনুরূপভাবে তিনি যখন কাউকে যুদ্ধাভিযানের দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করতেন, তাকে তিনি বিশেষভাবে নিজের ব্যাপারে আল্লাহর তাকওয়া গ্রহণ করা ও মুসলিমদের ব্যাপারে কল্যাণ ‎কামনা করার অসিয়ত করতেন।‎
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হেদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা চাই।” [সহীহ মুসলিম]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই খুতবা শুরু করতেন, তাকওয়া সম্বলিত আয়াতসমূহ প্রথমে পাঠ করতেন।
হযরত আলী (রা.) খুব সুন্দর ও সহজভাবে তাকওয়ার সংজ্ঞা দিয়েছেন, যা বোঝা এবং আমল করা খুব সহজ। তাঁর মতে তাকওয়া হল চারটি বিষয়; এক : আল্লাহর ভয়, দুই : কুরআনে যা নাযিল হয়েছে তদানুযায়ী আমল, তিন : অল্পে তুষ্টি, চার : শেষ দিবসের জন্য সদা প্রস্তুতি।
তাফসির ইবনে কাসির এর মতে তাকওয়ার মূল অর্থ হল কোনটি আল্লাহ অপছন্দ করেন তা এড়ানো।
তাকওয়া এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-আল্লাহ তা‘আলা যার নির্দেশ-উপদেশ পূর্বের ও পরের সকল জাতিকেই দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, “আর তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমি নির্দেশ দিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর।” [সূরা আন-নিসা :১৩১]
তাকওয়া হলো নবীদের দাওয়াতের বিষয়। আল্লাহর ওলীদের শিআর বা নির্দশন। প্রত্যেক নবীই তার কাওমকে বলেছেন, “তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না?” [সূরা আশ-শুআরা : ১০৬]
আর আল্লাহর ওলী তো তারাই যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে ও তাকওয়া অবলম্বন করেছে।

মুত্তাকীদের গুণাবলী
“আলিফ-লাম-মীম। এটি (আল্লাহর) কিতাব, এতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হিদায়েত। যারা গায়েবের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে এবং যারা ঈমান আনে, যা তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যা তোমার পূর্বে নাযিল করা হয়েছে তৎপ্রতি। আর আখিরাতের প্রতি তারা ইয়াকীন রাখে। তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের উপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।” [সূরা আল বাকারা : ১-৫]

তাকওয়ার ফযীলত
১. মুত্তাকিদের সাথে আল্লাহ তা‘আলা রয়েছেন। “নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাথে, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল।” [সূরা আন নাহল : ১২৮]
ইরশাদ হয়েছে, “যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দেবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।” [সূরা আত-তালাক : ২-৩]
২. ইলম হাসিল হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আল্লাহ তোমাদেরকে শেখাবেন।” [সূরা আল বাকারা : ২৮২]
৩. পাপ-পূণ্যের মাঝে পার্থক্য করার যোগ্যতা দান করেন। পাশাপাশি তিনি তার গুনাহসমূহও ক্ষমা করে দেন। ইরশাদ হয়েছে, “হে মুমিনগণ, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তাহলে তিনি তোমাদের জন্য ফুরকান প্রদান করবেন, তোমাদের থেকে তোমাদের পাপসমূহ দূর করবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।” [সূরা আল-আনফাল : ২৯]
৪. আল্লাহ তা‘আলা আমল কবুল করেন। ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন।” [সূরা আল মায়েদা : ২৭]
৫. তাকওয়া অবলম্বনকারী ব্যক্তির মর্যাদা বেড়ে যায়। ইরশাদ হয়েছে, “নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত সে যে তোমাদের মধ্যে অধিক পরহেযগার।” [সূরা আল হুজুরাত : ১৩]
৬. তাকওয়া অবলম্বনকারী ব্যক্তি পরকালে নাজাত পেয়ে ধন্য হবে। ইরশাদ হয়েছে, “আর তোমাদের প্রত্যেককেই তা অতিক্রম করতে হবে, এটি তোমার রবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তারপর আমি তাদেরকে মুক্তি দেব যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে। আর যালিমদেরকে আমি সেখানে রেখে দেব নতজানু অবস্থায়।” [সূরা মারয়াম :৭১-৭২]
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, “আর আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে তাদের সাফল্যসহ নাজাত দেবেন। কোন অমঙ্গল তাদেরকে স্পর্শ করবে না। আর তারা চিন্তিতও হবে না।” [সূরা আয যুমার : ৬১]
৭. জান্নাতের অধিকারী হওয়া। ইরশাদ হয়েছে, “সেই জান্নাত, আমি যার উত্তরাধিকারী বানাব আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে যারা মুত্তাকী।” [সূরা মারয়াম : ৬৩]

তাকওয়ার দৃষ্টান্ত
সাহাবায়ে কেরামের জীবন ছিল তাকওয়ার জীবন। হারাম জিনিস থেকে সতর্ক থাকার অসংখ্য ঘটনা রয়েছে তাঁদের জীবনে। আবু বকর রা.-এর ঘটনা আমরা অনেকেই জানি। আয়েশা রা. বলেন, আবু বকর রা. এর একজন গোলাম ছিল। সে তার উপার্জনের একটি অংশ আবু বকর রা.-কে দিত। আবু বকর রা. তা খেতেন। একদিন সে কিছু (খাবার) নিয়ে এল। আবু বকর রা. তা থেকে কিছু খেলেন। তখন সে বলল, আপনার কি জানা আছে, এই খাবার আমি কীভাবে লাভ করেছি? আবু বকর রা. জানতে চাইলে সে বলল, জাহেলী যুগে আমি এক ব্যক্তির জন্য গণকের কাজ করেছিলাম। (অর্থাৎ গণকের মত ভবিষ্যতের বিষয় বলেছিলাম।) আমি তো গণকের কাজ পারি না; (তার কাছে গণক সেজেছিলাম) তাকে ধোঁকা দিয়েছিলাম। আজ তার সাথে দেখা হলে সে তার বিনিময়ে এ খাবার দিয়েছে। একথা শোনার সাথে সাথে আবু বকর রা. তার গলার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিলেন এবং যা খেয়েছিলেন বমি করে সব বের করে দিলেন।” [সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৮৪২; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৫৩৮৬]
হযরত ওমর রা. তাঁর খেলাফতকালে লোকজনের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য রাতের বেলা মদীনা মুনাওয়ারায় টহল দিতেন। এক রাতে তাহাজ্জুদের পর টহল দিচ্ছিলেন। হঠাৎ লক্ষ করলেন, একটি ঘর থেকে কথাবার্তার শব্দ শোনা যাচ্ছে। সাধারণ অবস্থায় কারো ব্যক্তিগত কথা আড়ি পেতে শোনা জায়েয নয়। কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে অনুমতি আছে। তো কথাবার্তার ধরন শুনে তাঁর কৌতূহল হল। তিনি ঘরের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ালেন এবং শুনতে পেলেন, এক বৃদ্ধা তার মেয়েকে বলছে, ‘বেটি! আজ তো উটের দুধ কম হয়েছে। এত অল্প দুধ বিক্রি করে দিন গুজরান করা কষ্ট হবে। তাই দুধের সাথে একটু পানি মিশিয়ে দাও।’
মেয়ে উত্তরে বলল, ‘মা! আমীরুল মুমিনীন তো দুধের সাথে পানি মেশাতে নিষেধ করেছেন?’ বৃদ্ধা বললেন, ‘আমীরুল মুমিনীন কি আমাদের দেখছেন? তিনি হয়তো নিজ ঘরে ঘুমিয়ে আছেন। তুমি নিশ্চিন্তে পানি মেশাতে পার।’
এবার মেয়ে বলল, ‘মা, আমীরুল মুমিনীন এখানে নেই এবং তার কোনো লোকও নেই। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তো আছেন! তিনি তো দেখছেন! তাঁর কাছে আমরা কী জবাব দেব?’
ওমর রা. দেয়ালের ওপাশ থেকে সব কথা শুনতে পাচ্ছিলেন। এতটুকু শুনেই তিনি চলে এলেন এবং পরদিন লোক পাঠিয়ে সে ঘরের খোঁজখবর নিলেন। তারপর বৃদ্ধার কাছে পয়গাম পাঠালেন যে, ‘আপনি সম্মত হলে আপনার মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিয়ে দিতে চাই।’
এভাবে তাকওয়ার বদৌলতে মেয়েটি আমীরুল মুমিনীনের পুত্রবধু হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করল। এই বরকতময় ঘরের তৃতীয় পুরুষে জন্মগ্রহণ করলেন খলীফা ওমর বিন আবদুল আযীয রাহ., যাকে পঞ্চম খলীফায়ে রাশেদ বলা হয়।
তো মানুষের অন্তরে সর্বক্ষণ এই ধ্যান জাগরুক থাকা যে, ‘আল্লাহ তা‘আলা আমাকে দেখছেন’-এর নামই তাকওয়া।
তাকওয়া কীভাবে অবলম্বন করতে হয়, এর একটি উদাহরণ আমরা নিবো সত্যের মাপকাঠি সাহাবিদের থেকে। একদা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে তাকওয়ার সম্পকে প্রশ্ন করলেন। হে উবাই ইবনে কাব! তাকওয়া কী? এর উত্তরে হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) বললো হে আমাদের খলিফা আপনি কী কখনো কাঁটাযুক্ত পথে হেঁটেছেন?
হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হ্যাঁ, হেঁটেছি
: কীভাবে হেঁটেছেন?
: অতি সতর্কতার সঙ্গে।
: কীভাবে ওই রাস্তা পার হয়েছেন?
: জামার হাতা গুছিয়ে সাবধানতা অবলম্বন করে বহু পরিশ্রমের সঙ্গে সেই রাস্তা পার হয়েছি।
তখন উবাই ইবনে কাব (রা.) বললো এটাই হচ্ছে ‘তাকওয়া’।
সকল প্রকার গোনাহ থেকে সর্বদা নিজেকে গুটিয়ে শরীর ও মনকে পাপ থেকে অক্ষত রেখে দুনিয়ার জীবন পাড়ি দেওয়াই তাকওয়া।
পবিত্র কুরআনের বিশেষ রীতি হলো, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিধান নাজিলের পরই তাকওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। এর কারণ হলো শত আইনকানুন, কলাকৌশল, পুলিশি পাহারা, চৌকিদার দিয়েও অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না অপরাধী মানসিকভাবে সেই অপরাধ বর্জনে অঙ্গীকারবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়। বর্তমান সমাজের দিকে তাকালে এর সত্যতার সপক্ষে অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই ইসলাম অপরাধ দমনের সদিচ্ছা নিয়ে মানুষকে প্রথমে অপরাধ পরিত্যাগ করতে বলেছে, তারপর অপরাধের পার্থিব-অপার্থিব শাস্তি ঘোষণা করেছে। এরই সঙ্গে মানুষকে আল্লাহর ভয় ও তাকওয়া অর্জন করতে বলেছে। এটাই মূলত অপরাধ ও পাপাচার ত্যাগ করার মূলমন্ত্র।
তাইতো আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ করে দেবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।” [সূরা আল আহযাব : ৭০]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যথাযথ ভয়। আর তোমরা মুসলমান হওয়া ছাড়া মারা যেও না।” [সূরা আলে ইমরান : ১০২]
তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি মানুষের সবচেয়ে বড় গুণ। আর যে সমাজের মানুষের মধ্যে এ গুণ অর্জিত হয়, সে সমাজ হয় সুখী ও সমৃদ্ধশীল। তাকওয়াবান মানুষ কখনও ব্যক্তি ও সমাজকে ফাঁকি দেয় না। তাই মানুষ ব্যক্তি জীবনে যেমন হয় সৎ, তেমনি সমাজ জীবনে হয় কর্তব্যনিষ্ঠ। এ জন্য সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠা একমাত্র তাকওয়া দ্বারাই সম্ভব।