বিগত সংগ্রাম

কত ভালোবাসলে চাঁদ ভাসে জলে
কত আপন করলে মেঘ ঝোলে উঠোনের তারে
সংগ্রামী কলম ঝরায় মহেঞ্জোদাড়ো লিপি !
লাল নৌকায় ভরে হলুদ ফুল
ভাসিয়েছো সেদিন—
সেগুলো আমার টুকরো টুকরো হৃদয়।
আনন্দে মসগুল্ কবি যাপন
আসলে লক্ষ্যই করনি—
কত রক্ত ঝরলো দু চোখের হিমবাহে
কতটা ঝাপসা হলো আগত ভবিষ্যত !
শরীরের গন্ধ হারিয়ে
বিপন্ন হলো বিগত সংগ্রাম।
…………………………………………..

প্রত্যাশা

হাজার উদ্বেগ দিয়ে সাজাও প্রেম ও পূজা
প্রতিটি প্রতীক্ষা
চঞ্চল ভ্রমরের মতো উড়ে
প্রস্ফুটিত ফুল টির পাশে।
অস্থির চোখে
মন্দির পাশে খোঁজো কাঙ্খিত রাই
অসংখ্য জনতার মাঝে ফল্গু ধারার মতো
পথ হারা দুটি নদী—
অনতিদূরে সঙ্গম স্হল
অথচ স্পর্শ প্রত্যাশী হয়ে
কেটে যায় অস্পৃশ্য গোধুলী।
…………………………………………..

নোঙর

পৃথিবীর নীল প্রান্তে দাঁড়িয়ে
যাচঞা করি অনন্ত প্রেম
যাকে ছুঁয়ে যায় স্বচ্ছন্দ স্রোত
অগাধ গরিমা মাথায়
মজুত এজন্মের প্রনয়।
খোলা আকাশের নীচে বুনি
আগামী ভবিষ্যত।
একটা জন্ম খুলে রেখে পাশে
প্রস্তুত নতুন নোঙর
প্রিয় আভরনে সেজে
শালুক নয়নে ঝরে বৃষ্টি অঝোর।
…………………………………………..

রেস্তোরাঁ

কাঠ ছাতু খুন হয় রোজ
লাশ কাটা ঘর থেকে
লোহিত কণিকা বয়।
টেবিলে সাজানো বিদেশী ডিস্
ফিস্ ফিস্ শব্দে ভাঙা নীরবতা।

কাঁটা চামচ গুটি কয়
ওঁত পেতে বসে দেখে
পায়ে ঘুঙুর বদলের অজস্র দাগ।

আবার কাঠ ছাতু খুন হয়
লোহিত কণিকা বয়।
…………………………………………..

অনন্যা

ঢেউ ভাঙা সাগর তীরে
মুক্তো মালায় বাঁধা
ভবিষ্যত অভিমান।

যুবতী চাঁদ দেখে
রক্তিম সাগর সঙ্গম।
আকাশের বুক চিরে
ঝুলে পড়া নক্ষত্রের
আস্বাদী আলোয়
ঝিনুক গড়া বেলাভূমি ঘর।
শঙ্খ মিথুন শেষে
শুয়ে থাকে সাগর পুরুষ।
…………………………………………..

একটি নদীর জন্য

নদী আমার খুব দরকার
তাই একটা নদী কিনে ফেলতে চাই
সে শিলাই হোক বা রুপনারায়ন।

যদি শিলাই হয়—
বইয়ে দেবো আমার শরীরের ভেতর দিয়ে
সমস্ত অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি খুলে দেব
কুড়িয়ে আনবে মুক্তো সম্ভাবনা ময় ঝিনুক
তুমি ডুব সাঁতারে ক্লান্তি জুড়োবে।

যদি রুপনারায়ন হয়—
সমস্ত অঙ্গে যে শোভা ঢালা আছে সবই ভাসিয়ে দেবো
অবন্তিকার গহন চোখ থেকে টলটলে জল গড়িয়ে
ভরিয়ে দেবো কানায় কনায়।

যে কোন একটা নদী আমার চাই—
সে শিলাই হোক বা রুপনারায়ন
কারন—
দুটি তৃষিত মরু এক হলে নদী হয়ে যায়।
…………………………………………..

খোঁজ

স্বচ্ছ হৃদয়ে
ঠাঁই এর লোভে
কখনো কখনো ভুলে যাই
কতটা অধিকার পেলে
আপন হওয়া যায় !
কতটা ঘি ঢাললে তাকে
আত্মাহুতি বলে!
কতটা পুড়লে
ধূপ হওয়া যায় !

সীমান্ত রেখা পার হওয়া
কঠিন তবুও
ভরসা করি ওপারের ধানক্ষেত,
খুঁজি শিশির ভোর
প্রত্যাশিত বিপন্ন জীবনে।
…………………………………………..

পত্র বিভাব

শাল মেখলা পেতে খেলি
লুকোচুরি
উন্মুক্ত কোলে টেনে নেয় সে তৃষিত হৃদয়
অগাধ আবেগে ঢেকে রাখি মুখ তার।
অগনিত চুম্বনে ভাসে মন্দাকিনী
অবসরে, প্রকৃতি নারী দু’হাতে
ভরে পত্র বিভাব।
অবলোকন প্রিয় কবিতা পুরুষ
ব্যাস্ত কারিগর হয়ে
এঁকে ফেলে শত শত শব্দ কোলাজ।
…………………………………………..

চোখ

অরন্য গভীরে চোরা পথে
অচেনা সঙ্গম স্থল।
সারি সারি শালের অট্টহাসির মাঝে
সিটিয়ে যাওয়া বুকে যে কোনো আঘাত
বড় নির্মম।
নগ্ন সূর্য ঠিকরে পড়ে পাথরের গায়
চলি সন্তর্পণে
ভয়ে অথচ সাহসী পদক্ষেপ
অরন্যের বুক চিরে কয়েকটি ঝোরা
ছোটো পাহাড়ে যার আধিপত্য
তবু প্রত্যাশী চোখ খোঁজে
নিরাপদ আশ্রয়।
…………………………………………..

একটু বৃষ্টির জন্য

এ বছর বৃষ্টি হয় নি ভালো
মাঠ ঘাট শুকিয়ে চৌচির
চারিদিক জলহীন
অন্য বছর স্কুল ধারের মাঠ ফসলে থৈ থৈ করতো
ধানগাছ গুলো মাথা নাড়িয়ে কত বার যে ডাকতো প্রতিদিন।
শ্রাবণের কালো মেঘ যখন আছড়ে পড়তো ধানক্ষেতে
তখন আমি আর বোন আমাদের বারান্দা থেকে
মেঘ ধরবার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়তাম
সাদা মেঘ উড়ে বেড়াতো কালো মেঘে
দুজনে গাইতাম রবি ঠাকুরের গান
তারপর ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি।

গাছ পাড়ায় তখন ঝড়ের মাতন
লম্বা মেহগনি গাছ গুলো মাথা নুইয়ে
বারান্দায় এসে আমার পায়ে চুম্বন করেছে কত বার
মেহগনি ফুলের নাকছাবি পরতাম যখন তখন
অয়ন আসলে কচি মেহগনি ফলের মাদুলি পরাতাম ওর গলায়
ও জড়িয়ে ধরতো আমায়
ঠিক বৃষ্টির মতন।

এবছর বৃষ্টি হয়নি
মেঘ জমেছে অনেকবার
বোন এখন শ্বশুর বাড়ীতে
তাই বারান্দায় যেতে ভালোলাগে না
মেহগনি ফুলের নাকছাবি পরিনি আর কখনো
অয়ন এলে চলে যাই ধান ক্ষেতে
হাতে হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকি
একটু ভিজবো বলে।