ফাগুনের কাসিদা

ফাগুনের পাতাঝরা বৈকালিক ক্রমশ ক্রন্দন
বৈদিক ভাষার মতো ছুঁয়ে যায় আমার মনন
তৃষিত মন আমার জলহীন তরির মত থেমে যায়
অনড় আন্ধার হয়ে নেমে আসে শূন্য বাতায়ন।

পাখির উড়ন্ত ডানা কেবল ঝাপসা হয়ে আসে
দূরের দিগন্তে যেতে পাড়ি দেয় মেঘের বাড়ি
তবু নিরালা শূন্যতা কেবল পাতাঝরা মর্মর ধ্বনি
রোদেলা রক্তিম ফুল শিমুলেরা ঝরে যায়।

গোধূলী গগনে দেখি বিষণ্ণ বেলার অস্তরাগ
বিরহে বিরান হয় মোহিত বনের মাধবীলতা
ঝরে প্রবল প্রবীণ প্রকৃতির সবুজ স্বভাব
নস্টালজিক স্মরণে কষ্টের কর্পূর ছড়ায় ঘ্রাণ

সুখের পার্বণ শুধু প্রার্থিত হয় মানুষের মানসে
বিরহী বাতাসে ওড়ে ঝরাজগতের জীর্ণ যৌবন
শিমুলের পাপড়ি ঝরে মাটিতে মিশে যায়
মাটির এসিডে হবে জীবনের রক্তাভ ইতিহাস।
…………………………………………..

তর্জনী

হাতের পাঁচটা আঙুল আগের মতই আছে
খেলছে হাতের তালু মুঠোয় ভরছে কোষাগার
পকেটে পুরে রাস্তায় বাবুগিরি ষোলোআনা
বুকের ভেতর আছে পাহাড় সমান অহংকার

হাতুড়ি পেটানো হাত সবল শক্তি সাহস
সটান পিঠে দাঁড়ানো স্বপ্নবাজ সভ্য সাঁতারু
কৃষ্ণসাগরের বুকে প্রতিদ্বন্দ্বী তীব্র স্রোতে
ভেসে বেড়ানো তরুণ ডুবতে ডুবতে মরে যায়

একটা নিজস্ব স্বপন নিয়ে আমরা হাত চালাই
বাঁচার সুতীব্র ইচ্ছে স্বপ্নের ম্যানুতে তাই
আকাশচুম্বী অট্টালিকা সর্বাগ্রে রাখা সমীচীন
অর্থের কারণে পোষে প্রদীপ্ত হাতের ব্যায়াম

সব হাত আসলেই হাত হয় না কখনো
সব আঙুল আসলে পারে না রাখতে ট্রিগারে
সবার হাতেই আছে অনামিকা মধ্যমা তর্জনী
সবার তর্জনী তাই শেখ মুজিবের তর্জনী নয়

আমার একটা তর্জনী এই মুহূর্তে দরকার
সাত মার্চে উত্তলিত রেসকোর্সের সেই আঙ্গুল
টানটান উত্তেজনায় বেপরোয়া সেই তর্জনী
এই মুহূর্তে আমাকে সেই সাহসী তর্জনী দাও।
…………………………………………..

চলো ক্ষমা চাই

বসন্ত বসনে পোকা পুষ্পগায়ে কিরার পচন
গেরুয়া চাদর জুড়ে ভরে যাচ্ছে পাপের জীবানু
বসন্ত বাতাসে উড়ছে পাপবিম্বিত ধূসর ধোঁয়া
মানুষের নাক মুখ দখল করছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী

সারা পৃথিবী এখন করোনার একুরিয়াম
ব্রহ্মাণ্ড ভবনে দেখি আজব মাছের খেলা
অদৃশ্য এক অদ্ভূত জীবাণু উড়ছে বাতাসে
ভয়ে ভীষণ কাতর শক্তিধর মানুষের চোখ

অতি ক্ষুদ্র পরমাণু ভাইরাসে কাঁপে পৃথিবী
দম্ভে ফেটে পড়া সেই নরঘাতকের হুঙ্কার গেল কই
কোথায় গেল দাম্ভিক চৈনিক দৈত্য দানব
কোথায় সেই জীবাস্ত্র ধ্বংসের দুরন্ত দাবানল

প্রাচ্য প্রতীচ্য যখন তোমার ক্ষমতার বলয়ে
কামান গোলার গর্বে ভুলে গেছো আল্লাহর গজব
এবার ফেরাও ওহে দাম্ভিক গোলন্দাজ
খুদে করোনার ভয়ে কোথায় পালাবে বল

পৃথিবী যেমন কাঁপে মানুষও কাঁপছে ভয়ে
মানুষের নেই জানি দম্ভের কোন অধিকার
স্রষ্টার পায়ের তলে সেজদায় নত হও হে নিষ্ঠুর
চলো প্রার্থনায় বসি ক্ষমা চাই আল্লাহর কাছে।
…………………………………………..

হলুদ খামের ভোর

তোমার মনে মেইল করেছি বিরাট কাশবন
নীলাভ ধূসর শাদা রঙের হলুদ খামের ভোর
বৃষ্টিভেজা দূর্বাহাসি সুখ মোড়ানো ঘর
তুলে নিয়ো ঐ আঁচলে সবুজ ধানের ঢেউ

এই সকালে দিলাম ছেড়ে মাটির মধুর ঘ্রাণ
কাঁচা রোদের আদর দিলাম তোমার ঠিকানায়
ভিজিয়ে নিয়ো এই আদরে তোমার বুকের উম
ওপেন করো ইমেইল তোমার জলদি করে খুলো

তোমার কাছে পাঠিয়ে দিলাম আমার অভিমান
হার্টের মত নরম ছন্দ প্রেমের নতুন আলাপন
এক সেকেন্ডের এই দূরত্বের এই তো গেলো মেইল
পেলেই কিন্তু রিপ্লে দিয়ো আজব ঠিকানায়।
…………………………………………..

প্রার্থনা

পৃথিবীতে যে আতঙ্ক ধাওয়া করছে মনে দেহে
ধ্বংসের দোর গোড়ায় দাঁড়িয়েছে অদম্য মানুষ
সমস্ত সুন্দর খেতে হা করেছে যে দানব
মানুষ তাড়ানো দৈত্য তার আস্ফালনে
বড্ড অসহায় হয়ে আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি
হে প্রভু তোমার কাছে কেবল আমাদের আশ্রয়।

সৃষ্টির সুন্দরে তুমি আনন্দে উদ্বেল হও
সমুদ্র ঢেউয়ে নেচে উঠে তোমার করুণার উচ্ছ্বাস
সবুজ অরণ্যে শুধু মূখরিত হয় তোমার মহিমা
শঙ্খের গভীরে রাখো অমূল্য গুপ্তধন

পাপের পাহাড়ে চড়ে আমরা ঘুরেছি এতকাল
তাই পাঠিয়ে দিয়েছো আজাবের অজগর
তুমি মহাশক্তিধর তোমাকে চিনেছি আজ
করোনার কাঁটাবিষ তুলে নাও প্রভু
প্রশান্তিতে পূর্ণ করো পুনরায় মানুষের বাড়িঘর

আদমের মতো আমরা তোমার দরবারে তুলি হাত
মাপ করো দাও প্রভু ক্ষমা করো অসীম অনাচার
আমরা খুব অসহায় তোমার রহম দাও প্রভু
করোনার বিষে আর ধ্বংস করো না বিশ্বচরাচর।
…………………………………………..

আমার আইডল

আমি কারো আইকন কিংবা আইডল নই
নিজেই কষ্টের খোঁয়াড়ে কঠিন কবর রচনা করি
মাটির দলায় লিখি বেদনায় নিষিক্ত কষ্টকাব্য
ধূলোয় বিছিয়ে দেই আমার যত অহংকার

আমার সংস্কারে আমি দ্বিধান্বিত হই
এক অংকের স্বপনে ভাসিয়ে দেই একক জীবন
তবুও জড়িয়ে যাই স্বজনের সুখ নির্মাণে
আহত পাখির মত আমি তখন কাঙাল হয়ে যাই

আপন দুঃখে এভাবে দূরে চলে গেলে
তারা আমাকে বারবার বুকের ভেতর গেঁথে নেয়
আমি উম পেতে থাকি স্বজনের স্বর্গালয়ে
ভেতরে ভেতরে ভাবি ওরাই তো আমার আইডল

জীবনের অন্ধদ্বীপে ওরাই আমার প্রদীপ্ত শিখা
আমার সজল চোখে জ্বেলে দেয় সুখের সূর্য
সুখে আমি কাঁদতে থাকি অনর্গল কেঁদে যাই
শতাব্দির শত স্বপ্নে আমি উড়ে যাই সুখের সাগরে।
…………………………………………..

যেই হাত

যে হাত হাতের জন্য হাতিয়ে নিতো নির্জন সময় খুঁজে নিতো নিরাপদ নির্জনতার সুখ
সে হাত গুটিয়ে নেবো অছোঁয়া অন্দরে
ঝুলিয়ে রাখি কন্দরে কেবল শত্রু সোয়ার মত

যেই হাতে স্পর্শ করি তোমার গালের তিল
হাজার আদর এই হাতে স্বর্গসুখের ছোঁয়া
হাতের আঙুল ছিলো ব্যথিত মাথার দাওয়া
এমন সুখের হাত কেমনতরো শত্রু হয়ে গেলো

সময়টা আজ এমন হাতের মানুষ নাই হাতে
কেমন যেন দূরের আহা ভীষণ দূরের কেহ
বুকে আছে আকুলতা মনের মাঝে প্রেম
চোখে শুধু দেখাদেখি নির্জনে ক্রন্দন

মহামারি এ সময়ে ভয় বিছানার কোল
বাঁচতে চাই ও দয়াময় বাঁচার তৌফিক দাও।
…………………………………………..

এই যুদ্ধের কোন শত্রুপক্ষ নেই

পৃথিবীর সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দাবিয়ে বেড়ানো
ছোঁয়াচে সংক্রামক খেয়ে ফেলছে মানবজীবন
জার্মান ইতালি চীন আমেরিকার জাত্যাভিমান
সাম্রাজ্যবাদীর রক্ত খেয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেশে
দুরন্ত খ্যাপার মত গলা চেপে হরণ করছে প্রাণ

আর কোথায় পালাবে অসহায় মানব জাতি
ভরসার সব আশা ছিন্ন করে নিরাশায় নিদ্রাহীন
সংকটে দাঁড়িয়ে আছে তাবৎ পৃথিবীর বণি আদম

এটাও তো একযুদ্ধ এই যুদ্ধের কোন শত্রুপক্ষ নেই
কার বিরুদ্ধে দাগাবে আনবিক যুদ্ধ কামান
মানুষ মারার অস্ত্র কোন কাজে লাগলো না আর
অকেজো সেই অস্ত্রের দোকানিরা বড় অসহায়

অতিশয় সেই অক্ষম দানবের দঙ্গলেরা
কী আর বলবে এখন উপায়হীন সময়ে
কোন মহাশক্তির কাছে বাঁচার প্রার্থনা করবে
সব পরাশক্তি পরাজয়ের গ্লানিতে কোন গুহায়
লোকাবে তাদের মুখ? আহারে জীবন!

আকাশ বিদীর্ণ হলে আকাশের পথ জানা নেই
অনন্ত সড়ক পথে ড্রোন থেমে যাবে অনায়াসে
মঙ্গলগ্রহে কেনা নেই অবকাশ অবসরভবন
অসহায় হয়ে গেছো আমাদের মত সাধারণ তুমি

এবার থামো এখানে ভেবে দ্যাখো
তোমার সোনালি চোখে ঈর্ষার আগুন নেভাও
ভেঙ্গে ফেলো দম্ভঘর
মিথ্যার ফানুসে ওড়ে আর দিয়ো না ধ্বংসের হুঙ্কার

সামান্য ভাইরাসের কাছে বারবার হেরে গেলে প্রভু
মানুষের শ্রেষ্ঠতর উপমা খুব ছোট হয়ে যাবে
এই পৃথিবীর কাছে
মানুষ শ্রেষ্ঠ থাকুক আঠারো হাজার সৃষ্টির কাছে।
…………………………………………..

মৃত্যুর মহড়া

নেই আর কোন পথ খোলা নেই কারো দরজা
প্রেম আর ভালোবাসা অবশিষ্ট নেই আর
কারো হাতে নেই আর অপেক্ষমান চাবি
সবার চোখ ছুঁয়েছে অচেনা এক কঠিন মাস্ক

সলাজ নয়নে নেই আর আপন জনের খোঁজ
একে একে বন্ধ হচ্ছে মায়ার বাঁধন
জীবনের শ্রেষ্ঠ দৃশ্য চিত্রায়িত হবে বিশ্বমঞ্চে
এ করুণ ট্রাজেডির কান্নায় স্তব্ধ পৃথিবী

ঘরে ঘরে আহাজারি কেবল মৃত্যুর অপেক্ষায়
ভয়ানক অন্ধকারে ক্রমান্বয়ে ডুবে যাচ্ছি আমরা
রাব্বি নাফসি রাব্বি নাফসি বলে নীরব কান্নায়
ভেসে যাচ্ছে অজানায় যেন কেয়ামতের মাঠে
কেবল ভেসে বেড়ানো অস্থির অসহায় জীবন

দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে মানুষের আর্তনাদ
কেউ কি দেখার নেই? মহাসংকটে উদ্ধার করো
বিজ্ঞান পারে না দিতে সংকটে আশু সমাধান
কেবল তোমার কাছে ফিরে ফিরে আসা প্রভু

আদ সামুদের মতো বিরান করো না এ পৃথিবী
সংকটে পড়েছি প্রভু তোমার অফুরান দয়া চাই
নিমিষে মিটিয়ে দাও তোমার কুদরতি হাতে
মৃত্যুর মহড়া আর ভালো লাগে না ভালো লাগে না।
…………………………………………..

এই পরিচয়ে

আমি ধারণ করেছি এই বুকের ভেতরে
লাল সবুজের রঙে লালন করেছি প্রেম
পদ্মার জলে নেয়েছি যমুনায় কেটেছি সাঁতার
আমার হৃদয়ে বাংলা স্বপ্নের স্বাধীনতা

বীর স্রোতে রক্ত দোলে করুণ স্রোতে ইতিহাস
লক্ষবীরের সাহস আর বীরাঙ্গনার ত্যাগে
আমি ধারণ করেছি শহিদের মাটি
রক্তিম যুদ্ধে পেয়েছি আমার ঠিকানা

সোনালি স্বাধীন আমি উড়াই পতাকা এক
লাল সবুজের রঙে গড়েছি আমার নিশ্চিত নিশানা
বঙ্গোপসাগরের ঢেউ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ি দেশে
সাহসের সাথে চলি অটল পাহাড় আমি

অনন্ত সাহসে থাকি বিশ্বে বিহার করি এইভাবে
এই পরিচয়ে ঘুরি স্বাধীন বাংলার সুখে
এই ভূমিতে আমার জন্মপরিচয়
এই পরিচয় দিয়ে দাঁড়াতে পারি সারা বিশ্বময়।
…………………………………………..

যদি বেঁচে যাই

আমরা এখন কী করি আমাদের কী করা উচিত
সামনে অপেক্ষমান বাঘ পিছনে মৃত্যু
মেঘের ভেতরে তোলপাড় করছে গায়েবি তুফান
চোখের সামনে দাঁড়ানো নিকষ কালো অন্ধকার

হাতে হাতে মৃত্যুছোঁয়া আগুনের মতো উত্তাপ
এই লগ্নে কে দাঁড়ায় চৌরাস্তার মোড়ে
কে এসে ভীড় জমায় মৃত্যুফেরির পয়েন্টে

হাত রাখার সময় এটা নয় এখন কেবল দূরে থাকা
বেঁচে থাকলে হাতে রাখবো প্রেম যমুনার স্রোত
মোহনায় দেখা হবে কোন এক সুবর্ণ বিকেলে
কিনব্রিজে দাঁড়াবো ফের গহীন রাতের আড্ডায়

ঘরে যাও ঘরে থাকো প্রিয় স্বজন বন্ধু আমার
মনের ভেতরে নদী সেই নদীতে ভেসে যাও
মনে মনে ভেসে যাও ভাবনায় ঢেউ ভাঙ্গো কিছুদিন
একাকী জীবন এই মেনে নাও মেনে নাও

মৃত্যুর এই সময়ে নিজেকে নিজের পাহাড় বানাও
আঁকো প্রাচীরঘেরা রাত নিজের মাঝে তলিয়ে যাও

বাঘের থাবায় আছি যদি বেঁচে যাই তবে
গরম চায়ের কাপে দেখা হবে মোহনবাবুর দোকানে
সরাগে সজাগ হবো স্বাধীন জীবনে
আত্মার আকুতি নিয়ে আবার মেতে উঠবো আমাদের ঐ আড্ডায়।
…………………………………………..

মৃত-সময়ের দাগ

চৈত্রের চৌচির বুকে প্রবল বৃষ্টি নামুক
ধূসর জমিন হোক ছায়া সবুজের অপরাহ্ণ
নদীর শোকার্ত স্রোত সজোরে বইতে থাকুক
ফেরাও মাঝির প্রাণ বৈঠায় ভাঙ্গুক বেগবান জল

জানি এই দুঃসময়ে খরায় কাঁপে মানুষের জীবন
সিপাহির চোখে জ্বলে মৃত-মর্তের আগুন
বৃষ্টির বদলে ওরা স্প্রে করে দোষণ তাড়ানো জল
চৈতালি ধূলোয় আজ মৃত্যুর কী সুন্দর বসবাস!

এখন বৃষ্টি নামুক ধূয়ে নিক মৃত-সময়ের দাগ
নাগরিক কোলাহলে জেগে উঠুক মানুষ
বৃষ্টিতে ভিজতে আসুক কিনব্রিজের রিক্সাঅলা
আবার হুঁইসেল বাজুক বাস টার্মিনালে।
…………………………………………..

এই সময়ের হাহাকার

সশব্দ এই সংসারে বাজার সদাই নেই বলে
হাড়িতে দিয়েছি কাল সময়ের উত্তপ্ত ঘড়ি
ধোঁয়ার ধূর্ত কুণ্ডলি ভূতের মতোন উড়ে উড়ে যায়
ক্ষুধার্ত ভ্যানচালকের চাকায় ঘুরছে উপোস উদর

রাজমিস্ত্রির হাতে গড়ে স্বকালের বহুতল ইতিহাস
কষ্টরকম উঠোনে বপন করছি বেদনার ঝাউবন
শ্রমিকের বেহালায় করুণ সুরের হাহাকার ধ্বনি
অভোগ্য এই জীবনে কেউ দাঁড়াতে পারে না

অফিস পাড়ায় তালা স্যারের বাড়িতে লকডাউন
বেতন ভাতায় ঝরে পৃথিবীর সমস্ত অভিশাপ
কর্মহীন কর্পোরেট চলে গেছে হাঙরের পেটে

অনিষ্ট এই সময়ে পাখির কাকলি থেমে গেছে
সুখের বালিশে আজ মাথা রাখে কষ্টের রাত
পেটের পায়চারি দেখে ঘেউ ঘেউ করে না ত আর
এই বাড়ির আপন বহু পুরাতন ভৃত্য পালিত কুকুর।
…………………………………………..

মুখের মদিরা

মুখের সুপেয় মধু হৃদয় বৃক্ষে বেঁধেছে চাক
ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে মধুময় কথার রেণু
ঠোঁটের দীঘিতে ফোটে কাশবিকেলের ফুল
মায়াবী চোখের নদী ঝিলিমিলি তারার সবক

রোদের আলাপে খোলে মন গহীনের চোখ
শিশির মাড়ানো সুখে শিহরিত কথার শরীর
প্রেমের প্রলেপে প্রাণ জেগে উঠে মেঘের পাহাড়
ঘুমন্ত রাতের চোখ চেয়ে থাকে চোখের নাটকে

হাতের তালুতে নাচে ঘরনির গৃহ মন্দির
বইয়ের পাতায় আঁকে আগামীর ইহকাল
এই ঘর হয়ে যায় সোনায় মোড়ানো স্বর্গের নূপুর
কথা বলো পাখি ওগো ঢেলে দাও মুখের মদিরা।
…………………………………………..

দুঃসময়ের কবিতা

সকালে চোখের জলে সূর্যকে রান্না করে খেয়েছি
একপ্লেট বাদামি রোদ চিবিয়ে চিবিয়ে খেলাম
ঘাসের শিশির কণা শাদা দুধের মত পান করেছি
মাছের মতো ভেজেছি বাতাবিলেবুর পাতা

দুপুরে দোহন করি নদীর বিশীর্ণ উলান
চৈতালি মাটির ঘামে বিরান করি বুকের পাঁজর
বাতাস থেকে নিয়েছি একবোতল সরিষার তেল
আঙুল কপাল বুক চুলোর আগুনে ভাজি হবে

এক পৃথিবী সমান এই ডাইনিং টেবিলে
কাঁচা মরিচের ঝালে রাতের খাবার খেতে এসো
এখানে প্রচুর সুখ কেবল চোখের জলে ভেসে যায়
আকাশের নীলে ভাসে হৃদয়ের একান্ত কথন

সলাজ চোখের কোণে লুকিয়ে রাখে লোকের শরম
রাতের আঁধার নামে মানুষের ঘরে ঘরে
মানুষও রাত হয় নিশ্চুপ রাতের মতো
এই রাতের সংসারে আমিও গেলাম বন্ধু অনশন অবসরে।
…………………………………………..

গরিবের এই মালে

চাল আর গমে বস্তার আটা
রিলিপের মাল পেয়ে
গরিবের চাল খেয়ে
চোরম্যান চেরম্যান হাত দেয় ছাটা

রাষ্ট্রীয় চাল পেঁয়াজ আর ডাল
কার খানা কে খায়
কার দানা কার দায়
ওই দ্যাখো চুরি যায় গরিবের মাল

একসের চালে আর আধাসের ডাল
কিঞ্চিৎ আলু আর তেল
এই খেয়ে একমাস জেল
বাকি সব মেম্বার খেয়ে খেয়ে লাল

মেম্বার চেরম্যান শুনো পেতে কান
করোনার এই কালে
গরিবের এই মালে
দুদক খোঁজে দ্যাখো ইহাদের মান।
…………………………………………..

আহা বেশ

ডাল চুরিতে চাল চুরিতে
কার চেয়ে কে ফাস্ট
পরের ধনে লোভ বেশি যার
সেই তো হবে মাস্ট

এই চোরেরা নয়তো ছোট
মস্ত একখান ভুড়ি
মনে পড়ে রাতের বেলায়
ভোট করেছে চুরি

চোরের হাতে লিল্লায়ি মাল
চান কি নিরাপদ
ঘুমান ঘুমান দেশের মানুষ
আহ্লাদে গদ গদ।

দেশ দিয়েছে দশের খাবার
ওদের হাতেই শেষ
আম জনতা আঙ্গুল চুষে
বলেন আহা বেশ।
…………………………………………..

আমাদের বিকেলগুলো ফিকে হয়ে গেলো

বিক্ষত বটের তলে আজও হলো না বসা
আমাদের বিকেলগুলো ফিকে হয়ে গেলো
বরণের শাড়ি না পরেই নীল হলো আকাশ
লালফেড়ে শাদা দুপুরে পান্তাইলিশের পড়েনি ধুম

নির্জলা হলদে দুপুরে
আকাশে উড়েছিলো ঠিকই পানকৌড়ির ঝাঁক
ঠোঁটে ঠোঁটে খুলেছিলো দিগন্ত দুয়ার
আমরাই কেবল চুপ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আতঙ্কে

বটের সবুজ ছায়া বিষণ্ণ হয়ে আমাদের প্রতীক্ষায়
তোমার খোলা চুলের মাতাল গন্ধে
নাক ডুবিয়ে গুনগুন করতো বৈশাখী হাওয়া
চোখের দীঘিতে নামতো একঝাঁক বুনোহাঁস

বাটামেহিদির রঙে কারুকাজ তোলা হাত
সাবানের পানি নিয়ে বারবার যাচ্ছো ঘরেরভেসিনে

হাত ধুতে ধুতে চলে গেলো বর্ষবরণের ভোর
তোমার কাজল চোখ আর নতুন শাড়ির ভাঁজ
অদেখায় রয়ে গেলো…

আবার কখন ফিরবে উচ্ছ্বসিত জীবনের তরঙ?