পিয়াসী দৈত্য

নবদ্বীপে বিক্ষিপ্ত উৎসবে মত্ত একান্নবর্তী ঘাস গুল্মলতা
ঢেউয়ের দোলায় মহাসাগরের বাতাসে আর্তনাদ করে ওডিসিসের অভিলাষী অষ্টব্যঞ্জন।

ওহে বিস্মিত ঈশ্বর
বুকের ভেতর তুলির আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত ক্যানভাস
শরীরের অভ্যন্তরে ইন্দ্রিয়ের মৌন দ্বন্দ্ব
শিহরে নিদ্রাহারা পানকৌড়ি
হয়তোবা আরজনমে পানকৌড়ি ছিলাম।

সহস্র বৃক্ষের কোমল ছায়ায় প্রার্থনারত ছিলাম পৃথিবীর প্রথম যূগল
লঙ্ঘিত ফল খেয়ে হয়েছিলাম পবিত্রতার পরম্পরা।
তবুও
আমার মাতৃত্বে সহস্রাব্দের মূলধন
সুর লৌকিকে আজ স্রষ্টা’র গন্ধ পাই
পূর্ণতায় তৃপ্ত হয় অপূর্ণতার নিস্তব্ধ বিলাস।

মুক্তির চোখে চন্দ্র বিমূর্ত মুখ
আমার ভেতর অলৌকিকতার মনোলীন জগৎ
আনাড়ি স্বপ্নগুলো ভেঙে যাওয়া উদ্ভাসিত দু’কুল
বেখেয়ালি ভুল।

দেহের অধিক মনের যাতায়াত
চোখে নেশার লাটিম নিয়ে একান্ত প্রণয়ের অপেক্ষায় নিসর্গের প্রেমিক
ঠোঁটে ঠোঁট পড়তেই কিশোরীমিলন
ময়ূখমালী পিয়াসী দৈত্য
দেহের গন্ধে তখন আমরাই ঈশ্বর।
…………………………………………..

কায়াহীন অনন্ত আকাশ

গভীরপ্রেমের ক্ষত থেকে যায় অজেয় কুমারীকালবেলা
তুলসিগাছের সৌরভ ছড়িয়ে থাকে প্রিয়সন্ধ্যার শুভেচ্ছায়
মেষরাশি স্বৈরিনী মন ঘুরে বেড়াতে চায় সারা বিশ্বময়
গ্রামের ধীমান রইজ উদ্দীন ভালোই বলেছিল-
জবাফুল থাইক্যা পরাণ-পুতলিরে দূরে রাইখো
সারাদিন খাই-দাই,হাসি-কাঁদিঘুমাই তুমুল ব্যাপার
জবাফুলের রক্তক্ষরণ নিশ্চুপ কাতর অন্তর্জালে
অন্ধকারে ধী’রে ফুঁসে উঠছে অন্তরের মহা জলধি
দুঃখগুলো কী গভীরগম্ভীর ছদ্মবেশী স্থিরআলোর মত
মাতাল হাওয়ারা সর্বদা ছুটে চলে মনের বেখেয়ালে
বিচিত্র বেদনারা ধুকেধুকে ডুবে মরে মর্মস্পর্শী হৃদয়ে
মন এক কায়াহীন অনন্ত আকাশ
অবিরাম ছুটে চলে অসীম শূন্যপথে।।
…………………………………………..

জয় হোক নব-প্রভাতের

রাষ্ট্রের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দু’পায়ে দাঁড়িয়ে আছে
দূরের বিশ্বমোড়লের রয়েছে কেবল কথার ফানুস
বালুকাময়ও ক্রমাগত ক্ষীর হয়ে মাটিতে মিশে গেল
বহু ইতিহাস সাক্ষী দেয় সর্বহারাদের–রক্তের বিনাশ
আমাদের চোখ লোভে মূল্যের দর কষা-কষি করে
কিন্তু একজন বিপ্লবী নতশিরে তা করে না।
পাতি নেতা বলেন আর ঘাগু নেতা বলেন
যারা কেড়ে খায় শতকোটি মুখের গ্রাস
তাদের মুখে পড়েনা কোনকালে চুনকালি
আর ফাটাবাঁশ।
পৃথিবীর ভায়োলেন্সে ভারসাম্য আসুক
প্রাণে প্রাণে উত্থান হোক নবযুগের
কেঁদে কেঁদে আর বলতে চাই না
ঈশ্বর তুমি ওদের বিচার কোরো।
আমি এক ক্ষ্যাপাটে দুর্ধর্ষ বীরশৃঙ্গ
আমার ভেতরেই আছে মহাপ্রলয়ের তরুণ অরুণোদয়
ওরা আমার নাম দিয়েছে সুন্দরী-শ্যামা স্বর্ণ-অগ্নিলতা
একচ্ছত্র দানব শক্তি ভেঙে দাও
মুক্তকন্ঠে জেগে উঠুক কোটিপ্রাণে বিশ্বময়।
জয় হোক ঐক্যের
জয় হোক সাম্যের
জয় হোক ভ্রাতৃত্বের
জয় হোক নব-প্রভাতের।
…………………………………………..

পৈশাচিক শৃঙ্গার

বক্ষদেশ জুড়ে ভয়ঙ্কর প্রলয়
জীবন এখন মরুভাস্কর্য জমিময়
মূহুর্তে পৌরাণিক দেবী হেঁটে গেল
বিকট নরকে ব্যস্ত শরীরি সৌরভ
জঘন্য স্বৈরাচার ক্রোধে দাঁড়িয়ে নির্জনে
কাননে দেহলতা উন্মুক্ত নৈসর্গিক যৌবন
দস্যুরা কালীবর্ণ যুবতীকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল
মাতৃজঠরে স্নান সেরে নিচ্ছে নিজেরই রক্তে
হা ঈশ্বর,
ওরা পৈশাচিক শৃঙ্গারে অর্গাজম করে নিল।।
…………………………………………..

প্রিয় বন্ধুর কোমল হৃদয়

প্রফুল্ল মুখমন্ডলে মনোভূমি আলোময়
পরিপাটি অধরপল্লব ভাস্কর্যদেহ নিটোল গড়ন
পিতলরঙা জটা অন্তরে আনন্দ শৃঙ্গমালা
মহাযজ্ঞে বসে আছেন বসুমতি বিনিন্দিয়া
প্রাণে দেবি সালাঙ্কারা ঘুরে বেড়ায় মাছের ডিমের মত
রসোময় সরোবরে পীত শরীর টলমলো
প্রিয়বন্ধুর কোমল হৃদয়ে বাজে যোগ-বিয়োগের হাহাকার
বড় সুখময় আলোর সে ভোর দেখিনা কতকাল।।
…………………………………………..

হরিজন বউ

পরাজিত সভ্যতায় অসভ্য হাসছিল হরিজন বউ
সোয়ামীর গ্লাসে বাংলা রস
ব্লাউজের হুক আলতো খোলা
সমাজ হোঁচট খাচ্ছিল তীব্র প্রণয়ে
বউয়ের ঠোঁটে বিষাক্ত হাসি-
“পরাণ পোড়ে রে গোপাল
ধুঁয়া উঠা দুই মুঠ গরম ভাতে দুই চামুচ মদ ঢাল মাগির পোলা
ঘরে ভাত ছাড়া আর কোন বালই নাই
ওই যে দেখ”
আলেয়ার ছেনালি সমাজ
কত ঘুম লুট করে যাত্রার দল
কেউ কি জানে মেথরপট্টির হরিজন বউয়ের বিলাপ!
সভ্যতার আড়ালে ফিঙ্গে বউ
রাতভর খালি পেটে লাঙ্গলের চাষ
এ বুক চাইটা তুমি চাতকের মত তৃষ্ণা মেটাও
কৃষ্ণকলি রাতে দুরাচার দৈত্য।
কেউ কেউ তখন তরকারির দামে স্বাধীনতা ফেরি করে
আর গণতন্ত্রের হাট বসে সেই বউ মাগীর নিতম্বে।।
রি-পোস্ট …!
…………………………………………..

গাঢ় আলিঙ্গন

আমাদের এই জীবন তো স্বর্গ-নরক আঁধারের এক যন্ত্রণা
তবুও প্রণয়ী হৃদয়ে প্রেম আসে ভ্রমণে জুড়াই প্রাণ
হঠাৎ বিদীর্ণ বাতাস শান্তি হরণ করে জলে-স্থলে খেলা করছে
বৃক্ষদেহ দিগ্বিদিক উর্ধ্বমুখে-নিন্মমুখে কে যেন আলোর ধারাপাত চেনায়
ধূ ধূ বালির ভেতরের নদী বিষন্ন, মস্তবড় মেদবহুল কারখানা
কঠিন ঢেউয়ের তরঙ্গের কোন ঠিকানা ছিলো না
মাতালের মত বিকৃত নয়নে ঢেউগুলো আমার মাথায় এসে বজ্রাঘাত করলো
এক পশলার অস্থিরতায় বুকটা স্বচ্ছ বরফের মত জমে গেল
সেদিন নরকের রাতে থরথর কাঁপছিল সমাজ-সংস্থান
তারপর বুঝলাম ; তোমার অহংকার বিনয়ে পরিণত হলো
জেনে রেখো,
ফলবতী পৃথিবী আবারও নতুন নতুন সাফল্য সম্পাদনা করে বিজয়িনী হবে
সেদিন আমাদের প্রাণের আলো গাঢ় আলিঙ্গনে ডুবে থাকুক।।
…………………………………………..

বিরান শ্মশান-গোরস্তান

রাঙাচোখ মেলে চারিদিকে দেখছি অশনি ধ্বনি
ঝুরঝুরে ধুলির স্ফুলিঙ্গে ঘুরছে ছোট্ট জীবাণুবীজ
অনাহারীর শোকে কেন হবেন মহাশয় কাতর ?
রাজার খাদেমগণ চিরকালই স্ট্যান্টবাজী লোক
রাতজাগা কুকুরগুলোর আর বীরত্ব দেখিনা
পেটের ক্ষুধায় রাক্ষসও নিরন্তর অনুচর হয়
উন্মাদ মানুষ জানেনা ব্যথা ও অমঙ্গল জ্ঞান
চারিদিকে হাহাকার দলে দলে নিরন্ন লোক
জানালার শার্সিতে বিন্দু বিন্দু ঠান্ডা জল
আঙুলের আঁচড়ে ফুটে ওঠে দুর্ভিক্ষ-দুরাশা
এ যেন এক কঠিন স্বার্থপর সমর সময়
সকলেই ব্যস্ত নিদানের একমাত্র অভিজ্ঞান-সম্বল
হায় সখি, অবশেষে বিভীষিকাময় !
এই ধরনিতলে, বিরান শ্মশান- গোরস্তান
লাবণ্য-কিরণে-তারুণ্যে হেসে হেসে মহাখুশি।।
…………………………………………..

মানচিত্রের মুখ

আমার মায়ের হাত
শক্ত মুষ্টিতে বিপ্লবী জননী
‘আনা ফ্রাংক’ এর প্রতিলিপি।
সোনালী ধানের মৌতাত গন্ধ
বুকে পালতোলা লাটিমের অবিরাম ঝড়
মধ্যরাতের মদির চোখ
সাদা বক পক্ষির ঢুলুঢুলু ঘুম
মায়ের জমানো পদ্মা কালো চুলে
নাটাই জড়ানো সুখ
নিটোল মানচিত্রের মুখ।
আমার মায়ের দুচোখ মঞ্চে
জেগে ওঠে সোনালু শস্যক্ষেত
রুপালী ইলিশ্ ঝাঁক
বিশ্ব কাঁপানো মমতায় মাখা
সহস্র মাইল বাঁক
সবুজ আঁচলে কোমল ষোড়শী রূপ
আমার মা সে-
পৃথিবীর পথে স্নেহের শীতল বুক
আমার মা’ই সরোবরে থাকা
মানচিত্রের কালজয়ী এক মুখ।।
…………………………………………..

স্বর্ণলিঙ্গম

কিশোরী মনের যে দুটি চোখে
অবনত না পাওয়া স্বপ্ন
সজিনা ডাটার মত বাকী কথা
সবুজ সবুজ পাতায় অন্যভাষা
জৈষ্ঠ্যের রস পরিপুষ্ট-
ফলশ্রীতে আঁকা তার মুখখানি
কুমুদ ফুলের সৌরভ নিয়ে
অপত্য ফুটে থাকে তার দেহলতা
মন পুড়ে যায় মনোপরিতাপে
সপ্তাহের প্রতি রোববার
তৃষ্ণার্ত কলমের জলোরস
শুকিয়ে যায় নিঁদ বেদনায়
নিঃসঙ্গ ধুলির পথ একা
বেখেয়ালে ভেঙ্গে পড়ে আছে
গমের স্বর্ণলিঙ্গম~
বাতাসের বন্দনায় বেজে ওঠে
ঝুন-ঝুন-ঝুন, ঝুনঝুননন ।।
…………………………………………..

চোখদুটি লাল

ইশকবন্দি প্রেমরথি আমজনতা তা-ও বন্দি
ঠোঙায় ভরা তেলেসমাতি শহর কিংবা নগরী
বাতাসের সাঁকোয় অসংখ্য মৃতের খুলি সারপ্রাইজ
প্রিয়বন্ধুর নাম লেখা আছে অবশিষ্ট সাদা কাগজে
কেশবতী কন্যার চুল দু’বেনুনী দোলায়
সৈকতের সাগর লতা আবার হল যে দেখা
কাঁকড়ার চলা রেলগাড়ি ওয়াগন সারিসারি
ঝিনুকের বাড়ি যাচ্ছে ধীরে নৌকা বাওয়া গাড়ি
ইচ্ছে গুলো হরেক রকম
হাজার একশো কুড়ি
নাম না জানা ইচ্ছে গুলো
খায় যত ডিগবাজি
পৃথিবীর চাকা চলছে একা
মারছে চিলিক দুর্দার-চুরমার
আক্রোশে যত ভ্রমণ চ’লে মহাচক্র যানে
অবাধ্য সে তো স্ফটিক জলে দুরন্ত ফেনিলে
তবুও তুমি পলায়নপরা
তোমাকে যায় না ধরা
সকালে ঘুম ভাঙলে তবে
চোখদুটি লাল রক্ত ছানাবড়া।।

Mashrura Lucky মাশরুরা লাকী। শিক্ষাগত বিবরণ : স্নাতকোত্তর। জন্ম : ১০ এপ্রিল। জন্মস্থান : টাঙ্গাইল। বর্তমান ঠিকানা : আজিমপুর, লালবাগ, ঢাকা। বৈবাহিক অবস্থান : অবিবাহিত। পেশা : নারী উদ্যোক্তা। রক্তের গ্রুপ : O+. সৃজন ক্রিয়া : আবৃত্তি/উপস্থাপনা, কবিতা লিখা। ই-মেইল : mashruralucky@gmail.com