অসহায়েরা-ই অদৃষ্টের পুত্রকন্যাবৃন্দ

দৃশ্য
আর অদৃশ্যের
দূরত্বের পরিমাপ করেই আমি
সুদূর প্রসারি
অদৃষ্টের দিকে তাকিয়ে থেকেছিলাম
আর;
অন্ধকারে উজ্জ্বল
নরম তারাগুলোর
মুখ মন্ডল পড়ে নিচ্ছিলাম
আমার-ই
সুনির্দিষ্ট মৃত্যুমুহূর্তের পুর্বে আওড়ানো
শেষ শব্দ
শেষ কথা
শেষ বাক্যটির মত
দুর্বল উচ্চারণে

মৌচাকে জমানো—
মধু আহরণের কষ্টের গল্পগুলো
কারোর-ই শুনার সময় নেই,
সবাই যাচাই করছে
খাঁটিরমানদণ্ডে
দ্রব্যেরগুণ,

আমার আত্মাগ্নিহুতির দৃশ্যটি
যে-কোন শব্দ ই বহনে অসমর্থ
তাই;
হারিয়ে যাচ্ছি
ইচ্ছে কী অনিচ্ছায়!
জানি না।
…………………………………………..

একটি হারানো বিজ্ঞপ্তির এনাউন্সমেন্ট

আমি, হারিয়ে যাচ্ছি
লালাখালের সারি নদীটির তেমূখী ডহরে জলস্রোতের কুন্ডলীতে,
গহীনেরে ভালবেসে
জলজমন্ত্র ভালবেসে
সন্তের সান্নিধ্য ভালবেসে
খোয়াজ খিজির ভালবেসে
শ্বাসহীন সময় ভালবেসে
হিম ও হিমাচল ভালবেসে

তোমাদের জন্য নিরুদ্ভিগ্ন ও নিরুদ্বেগ
একটি পৃথিবী প্রার্থনা করে
আমি যাচ্ছি
হারিয়ে যাচ্ছি
চলে যাচ্ছি
নেটওয়ার্ক এর বাইরে
প্রেম কাম লোভ ক্রোধ হিংসা নিন্দা
ক্রয় বিক্রয়, লেনদেন, দেনমোহর
বায়নামা ও কাবিনসত্ব
যেখানে যে-অবস্তায় আছে, রেখে –
চলে যাচ্ছি

সামান্য নগদ দেনাপানা ও দাবীদাওয়া
রেখেই হয়তো চলে যেতে বাধ্য আমি
পুনরায় পুনর্গঠিত হলে
জান্নাতুল ফেরদৌস তোমাদেরকে সমপ্রদান করে, আমি –
“জাহান্নামের আগুনে বসি “
হাসিব পুষ্পের হাসি

চোখ ও শব্দের সীমানা, আর ;
নির্লজ্জ বেপারী অংকের উপদ্রব
মলমুত্রত্যাগ ও দিনরাত্রির ধারাবাহিক
নাটুকেপনার বাইরে চলে যাচ্ছি
স্বেচ্ছায় ফ্রীমিসনারীদের মত
অন্যত্র, অন্যতায়
বেস্যার দালাল অভিদায় অভিসিক্ত হবো
তোমাদের যোনিয়ো গ্রামে
যেখানে পুরুষবেস্যা
নারীবেস্যা পাল্লা দিচ্ছে সংখ্যাধিক্কের
শেয়ার বাজার এর দরপতন ও
উর্ধ্বগতির অস্হির
নতুন কাঁচা টংকার মার্কেটের মত
হুহু ও হাহা করছে

যেখানে মায়ের অভাব
জন্মযোনি আক্রান্ত স্টারভাইরাসে
তাহারা সকলেই নিশিতা
নিষিদ্ধ ইয়াবার কাঁচামাল
আমি দ্বিধান্বিত, দ্বিধাগ্রস্ত
বিধায়;
অনতিবিলম্বে চলে যাচ্ছি
হারিয়ে যাচ্ছি
পদতলে
পোকামাকড়ের
নির্ভেদ রাজ্যে…
…………………………………………..

কাশ্মির

কবিতায় কাশ্মিরের অনাথ শিশুটির- বালিকা কন্যাটির- বেওয়া নারীটির- গুলিবিদ্ধ যুবকটির- শহিদ সন্তানের বৃদ্ধপিতাটির কথা বলার কথা- গতরাত্রে স্বপ্নে আমাকে গুন্টার গ্রাস ইশারায় বলেছেন,
আমি সেই স্বপ্নের তাবির করছি এভাবে; নরপিশাচ নরেন্দ্র মোদি, ড্রাকুলা ইমরান খাঁন আর আরব্য শকুন নাথানিয়াহুর নামে পৃথিবীর তাবৎ শিশুসন্তানের জন্য হাগুমুতোর ন্যেপি বানাবো, বিনামূল্যে শিশুসন্তানেরা মলমূত্র ত্যাগের জন্য নরমনরম ন্যেপি পাবে চাহিবা মাত্র। কবিতায় কাশ্মির আমার ভূস্বর্গের জান্নাত, আর; মোদি, ইমরান, নাথানিয়াহু- আমার ঘৃণা প্রকাশিত একদলা থু …
আমাকে ক্ষমা করুন গুন্টার গ্রাস, আমার স্বপ্নের তাবিরের এমন অনাকাঙ্খিত ব্যাখ্যাটির জন্য।
…………………………………………..

অন্ধকার ও আলোর সংমিশ্রণ

শঙ্কাতুর সন্ধ্যায়- না দর্জায় না ভেতরে না বাহিরে ! সুখাভিভূত আমি নিদ্রার ওষধি আফিমগ্রস্ত আদিম পুরুষ-
আরও যৌনিক হয়ে ওঠি স্বভাবে, আমাকে দিও না গালি, আমাকে দিও না দোষ।
কে হে নিদ্রাহরণ- কে হে অবিস্মরণ?
কেন হে যোগাসনে এসে সম্মুখে উপনিত হও
অযাচিতভাবে
জানোইতো আমি প্রেমিক ও পুরুষ
রাত্রির নেকাব খুলে দেখি অনাগত পুত্রের পবিত্র মুখ
দয়াপরবসত: আমাকে দিও না গালি
দোহাই ; আমাকে দিও না দোষ।
এমন সন্ত্রস্ত কালে ভোগে-উপভোগে জ্ঞানে-অজ্ঞানে
বিলিন করেছি ধুপের ধোঁয়াঞ্জলির মাঝে নিজের কীর্তি নিজের পৌরুষ,
এই নাদানজনেরে তুমি গালি দিও-
প্রেমিক মানুষনামে, দায়ভার বহনে
চাপিয়ে দিও না কোনো অলীক দোষ
আমাকে দিও না গালি
আমাকে দিও না কোনো অযাচিত দোষ।
…………………………………………..

সহজপাঠ

১.
বারবনিতার চটকিল হাসিতে ভনিতা নেই, আমি নিই তারই বিমুগ্ধ শুভাশীষ, কবে-যে প্রেম হারিয়েছিলো খেই!
যদি পারিস, সেই ছেনালি মুগ্ধতাটুকু আমাকে
আর-একটি-বার এনে দিস।

২.
ভাবছি, কামুক গ্রীবায়- কে তাঁর
প্রথম দিয়েছিলো
ওষ্ঠে আদর!
নিতম্বে হাত
খেলিয়ে বলেছিলো,
আরও আরও ভিতরে যে নিষিক্ত কুয়ো—
ওখানেই প্রেমের পোনাগুলো
ঘুমে আছে
যথারীতি,
কে সেই কৃষ্ণ পুরুষ— কঞ্চুলে মুখ গোঁজে বলেছিলো,
এমনই সুগন্ধি হয়
আগরবৃক্ষবুকে …

৩.
যে আমাকে দেখেনি, পাঠোগ্রস্হ
সেই বিমোহিত মূক মহিলাটির মুখমন্ডলে
স্হাপিত যে কথা, নীরবতা
সবই আমি,
শব্দবিপথগামী
গান্ডিবধারী, আমি
কবি, তদ্ভাবি-
আমি অনর্জুন।
…………………………………………..

স্পর্শেই জ্বলে ওঠে দিবাকর

বিস্মৃত-জন্মস্মৃতি
সিঁথিভর
তুমি সিঁদুরের লালরংটুকটুক
একবুক জ্বালা
পালাক্রমে গেয়ে যায়
বেদনার গীত,
হায় স্মৃতি- দুখের গীতি
তবু অমৃত।

জন্মস্হানেরপ্রতি
সকলেরই আত্মটান,
কী পুরুষ কী নারী!
সকলেই দ্বিধাহীন
ভালোবাসে জন্মস্হান।

দৈবমন্ত্র জানে- জন্মস্হানে
এযে প্রকৃত- এযে প্রকৃতি,
এযে বিস্ময়কর এক দৈবিক টান
আহা জন্মস্থান!

তোমার মাঝে- এই অনাদিকাজে
খোঁজকরে সকলেই
পেয়ে যায়-
ঐশীক পরিত্রাণ,
সাধনালব্ধ তুমি
তুমিই কামরূপ নেশার নগর
নিশা-রাত্রিরঘর
যাদুকরি জন্মস্হান।
…………………………………………..

সকলের হয়ে যায়

যে-পরের অধীন হয়ে যায়, যে-সকলের হয়ে যায়, যে-সবাইকে ধরে নিজের বুকে, তাঁর ঘর থাকেনা, তাঁর; ঘরে ফেরা হয় না আর। তাঁর; ঘর বলে থাকেনা কোনো নিদৃষ্ট ঠিকানাচিহ্ন। সে-বিলিন হয় হাজার নামের ভিড়ে স্রষ্টার মতো। মিশে যায় অন্যদের দলে- কচুরিপানার ঝাকের মতো ভাসতে ভাসতে। তাঁর আপন বলতে কিছুই থাকেনা- কিছুই সুনির্দিষ্ট নেই। ঘরের চেয়ে গোরের খোঁজে- সে- ভ্রমান্ড ঘুরে গাড়োয়াল জিপসির দলে-দলে। মাতৃ-উদরই ছিলো তাঁর সামান্য ঘর, এখন; তাঁর মাও নেই- ঘরেরও নেই কোনো তোয়াক্কা। যে পরের হয়ে যায়, তাঁর; আসলেই কিন্তু ঘর থাকে না আর। শুধু ; অস্তিত্ব বিদ্ধমান থাকে ঘূর্ণিয়োমান পেন্ডুলামের মতো হৃৎকম্পনের মৌনমন্দিরে।
…………………………………………..

সবই অনিচ্ছেকৃত

ইচ্ছের বিরুদ্ধেই জীবনের অবস্থান, ইচ্ছের বিরুদ্ধেই জেগে থাকি, ঘুমাই, খাচ্ছিদাচ্ছি, ইচ্ছের বিরুদ্ধেই কবিতা লিখছি, শিরোনাম দিচ্ছি, ইচ্ছের বিরুদ্ধেই ঘর-সংসার, স্বামীস্ত্রীপনা, সঙ্গমকার্যসম্পাদন, বিরক্তিকর তবু গর্ভধারণ, মাতৃত্ব-পিতৃত্বের দায়ভারবহন, ইচ্ছের বিরুদ্ধেই প্রেম এবং বিবমিষা রোগ, স্বাধীনতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে ইচ্ছের বিরুদ্ধেই ধর্মাচার ও অনুশাসন ছাড়াই অতিক্লান্তদেহে রাত কাটিয়ে ভোরের প্রত্যাশা করা, আবারো নতুন করে একে অন্যের মুখাপেক্ষি এভাবেই ইচ্ছের বিরুদ্ধে বেঁচে আছি বাঁদুরের মতো
নিম্নমুখ আর ঠ্যাং উপরের দিকে মহাশূন্যতার দিকে তাক করা। ইচ্ছের বিরুদ্ধেই প্রতিদিন দিনলিপি লেখি- না-হয় কবিতা না-হয় জন্মক্রন্দনের আর্তস্বর। ইচ্ছের বিরুদ্ধেই বেঁচে আছি অনিচ্ছাকৃত- শুধু ইচ্ছে হয় ভালোবাসি আর ; ভালোবাসতে-বাসতে নি:শেষ হই আগরবাতির মতো- গন্ধ বিলেয়ে নিজেকে পুড়িয়ে।
…………………………………………..

আত্মপক্ষ সমর্থন

যেভাবে বরফেরা জলে আত্মাহুতি দেয়, জলের কণাগুলো বাষ্পেই হারায় অস্তিত্ব, বাষ্পের ঠিকানা হয় মেঘের কোলে, মেঘেরা বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায় বিলিন হয় গড়ানের স্রোতে! এভাবেই নিপাট নি:সঙ্গতায় আমার অস্তিত্ব কোথায়যে ভেসে যাচ্ছে, উড়ে যাচ্ছে, জমাট হচ্ছে- তার এতটুকু সংবাদও আমার জানা নেই।
কেবলই বাতাসে সোর উঠে, মাতম উঠে, মৃত্যুর মর্সিয়া গেয়ে যায় নদীভাঙনের শব্দের বৈদিক অজ্ঞাত গান, বিলিনবন্দনার শেষ বাক্যটি যেন আমার অন্তিম উচ্চারণ। চারদিকে অথৈই সমুদ্র, অস্তিত্ব নি:চিহ্ন হবার সামান্য ধুলিকণাও অবশিষ্ট নেই- দৃশ্য ও অদৃষ্টসীমায়।